পূর্ববাংলার বীর জনগণ, আমাদের সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি, পূর্ববাংলার অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার মহান সংগ্রাম চালিয়ে যান!

সিরাজ সিকদার রচনাঃ

পূর্ববাংলার বীর জনগণ, আমাদের সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি, পূর্ববাংলার অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার মহান সংগ্রাম চালিয়ে যান!

(মার্চ ১৯৭২ সংশোধিত ও পুনমুদ্রিত, মে ১৯৭২, সংশোধিত ও পুনঃমুদ্রিত, মার্চ ১৯৭৪)

 

sikder

পূর্ববাংলার জনগণ বৃটিশ উপনিবেশিক দস্যু, তাদের উপর নির্ভরশীল প্রতিক্রিয়াশীল জমিদার-জোতদার, পুঁজিপতি ও বুদ্ধিজীবীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এবং এ শোষণ-নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তির জন্য পাকিস্তানে যোগদান করে।

পাকিস্তানের সামরিক ফ্যাসিস্টরা পূর্ববাংলার জনগণের জাতীয় বিকাশ অবাধে চলতে দেয়ার পরিবর্তে পূর্ববাংলাকে শোষণ ও লুন্ঠনের ক্ষেত্রে পরিণত করে, একে তার উপনিবেশে পরিণত করে।

পূর্ববাংলার জনগণ এ উপনিবেশিক শোষণ ও লুন্ঠনের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তির জন্য মহান সংগ্রাম পরিচালনা করে, লক্ষ লক্ষ জনগণ এ সংগ্রামে প্রাণ বিসর্জন দেয়।

পূর্ববাংলার জনগণের এ মহান সংগ্রামে সর্বহারা শ্রেণী মনিসিং-মোজাফফর সংশোধনবাদী, পূর্ববাংলার লিউশাওচী-ক্রুশ্চেভ হক-তোয়াহা, পূর্ববাংলার নাম্বুদ্রিপদ-জ্যোতি বসু দেবেন-বাসার, কাজী-রণো, পুর্ববাংলার ট্রটস্কী-চে মতিন-আলাউদ্দিন প্রভৃতি বিভিন্ন আকৃতির সংশোধনবাদীদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়। এরা সকলেই পূর্ববাংলার সর্বহারা শ্রেণী ও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

ফলে পূর্ববাংলার প্রতিক্রিয়াশীল আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া, সামন্তবাদী ও বুদ্ধিজীবীদের সংগঠন আওয়ামী লীগ পূর্ববাংলার জাতীয় সংগ্রামের নেতৃত্ব গ্রহণ করে। তারা এ সংগ্রামকে বিপথে পরিচালনা করে। প্রথমে তারা পার্লামেন্টারী নির্বাচনের কানা গলিপথে জনগণকে পরিচালনা করে, এ পথের দেউলিয়াত্ব প্রমাণিত হলে তারা জনগণকে অহিংস-অসহযোগের ভুল পথে পরিচালনা করে, পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টরা জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে এ পথেরও দেউলিয়াত্ব প্রমাণিত হয়, জনগণ সশস্ত্র বিদ্রোহ করে। তারা বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কোনো স্থানে এ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়, কিন্তু তাও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত পূর্ববাংলার জনগণকে অসহায়ভাবে রেখে তারা ভারতে পলায়ন করে।

মীরজাফর ক্ষমতার লোভে বৃটিশ দস্যুদের নিয়ে আসে, তাদের হাতে শেষ পর্যন্ত তুলে দেয় বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা। এই ইতিহাস পরিবর্তিত অবস্থায় পুনরাবৃত্তি লাভ করে ১৯৭১ সালে। পূর্ববাংলার প্রতিক্রিয়াশীল আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া, বুদ্ধিজীবী ও সামন্তবাদীদের প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ ও মনিসিং-মোজাফফর বিশ্বাসঘাতক চক্র নিজেদের শক্তির ওপর নির্ভর করে পূর্ববাংলা মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতার লোভে সাড়ে সাত কোটি জনগণের জাতীয় স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে; বাঙালী জাতির আত্ম-মর্যাদাকে পদদলিত করে পূর্ববাংলাকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের নিকট বিক্রি করে দেয়, পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের উৎখাতের জন্য তাদেরকে ডেকে আনে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদীদের সহায়তা ও সমর্থনে এ সুযোগ গ্রহণ করে। তারা পূর্ববাংলা দখল করার জন্য বাংলাদেশ পুতুল সরকার গঠন করে একে শিখণ্ডী হিসেবে দাঁড় করায়, কামানের খোরাক হিসেবে ব্যবহারের জন্য তার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে তাবেদার মুক্তি বাহিনী গড়ে তোলে, তাদেরকে পূর্ববাংলায় নাশকতামূলক তৎপরতা চালাবার জন্য প্রেরণ করে। শেষ পর্যন্ত তারা পাকিস্তান আক্রমণ করে এবং সশস্ত্র আগ্রাসী বাহিনী দ্বারা পূর্ববাংলা দখল করে নেয় এবং আওয়ামী লীগ বিশ্বাসঘাতকতদের দ্বারা পুতুল সরকার কায়েম করে।

এভাবে পূর্ববাংলা ভারতের উপনিবেশে রূপান্তরিত হয় এবং পূর্ববাংলার জনগণ ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়। পূর্ববাংলার লক্ষ লক্ষ দেশপ্রেমিক জনগণের রক্তপাত বৃথা যায়।

আওয়ামী লীগ, তার নেতৃত্বাধীন মুক্তি বাহিনী ও অন্যান্য সংগঠন, মোজাফফর ন্যাপ, মনিসিং-মোজাফফর কমিউনিস্ট নামধারী সংশোধনবাদী বুর্জোয়া উপদল, এর নেতৃত্বাধীন সংগঠনসমূহের মধ্যকার প্রতিক্রিয়াশীল আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া, বুদ্ধিজীবী ও সামন্তবাদীরা সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ, সামন্তবাদ এবং পূর্ববাংলার আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদ এ ছয় পাহাড়ের স্বার্থ রক্ষা করছে। এরা এই ছয় পাহাড়ের দালাল। বাংলাদেশ পুতুল সরকার এই ছয় পাহাড়ের স্বার্থ রক্ষা করছে। দেবেন-বাসার, কাজী-রণো জ্যোতিবসু-নাম্বুদ্রিপদ উপদল ছয় পাহাড়ের দালালদের তাবেদারে পরিণত হয়েছে এবং ছয় পাহাড়ের দালালী করছে।

পূর্ববাংলায় ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের উপনিবেশ স্থাপনের একটি উদ্দেশ্য হলো পূর্ববাংলার পাট, চা, চামড়া ও অন্যান্য কাঁচামাল, মাছ, মাংস, ডিম, চাল, তরিতরকারী ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য, সাড়ে সাত কোটি লোকের বাজার, সস্তা শ্রমশক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, পূর্ববাংলার গ্যাস, বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক সম্পদ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশাসন ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা অর্থাৎ পূর্ববাংলার সকল ক্ষেত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও তা লুন্ঠন করা; ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট হ্রাস করা।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের পূর্ববাংলায় উপনিবেশ স্থাপনের অপর এক উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় শ্রমিক-কৃষকের সংগ্রাম, নাগা-মিজো, কাশ্মিরীদের মুক্তি সংগ্রাম ধ্বংস করা, ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভুত্ব করা।

সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতীয় সম্প্রসারণবাদকে সহায়তা ও সমর্থন করেছে ভারতের ওপর তার আধিপত্য জোরদার করা, পূর্ববাংলা লুন্ঠনের বখরা নেয়া, ভারত মহাসাগরে কর্তৃত্ব করা, এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং চীন ও কমিউনিজম প্রতিহত করার জন্য।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা নির্মম শোষণ ও লুন্ঠন শুরু করে দিয়েছে। এ শোষণ ও লুন্ঠন আরো জোরদার করার জন্য তারা সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করছে।

পূর্ববাংলার মাছ-মাংস-ডিম, তরিতরকারী, ধান-চাল ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য প্রত্যহ ট্রাক, ট্রেন, জাহাজে ভারতে যাচ্ছে। বাজার করার জন্য কলিকাতা থেকে ভারতীয় নাগরিকেরা পূর্ববাংলার সীমান্ত শহরগুলোতে আসছে। এভাবে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা পূর্ববাংলার খাদ্যদ্রব্য লুন্ঠন করছে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা পূর্ববাংলা দখলের সময় শতসহস্র মণ পাট, চা, চামড়া ও অন্যান্য শিল্পীয় কাঁচামাল লুট করে। ভারত কর্তৃক কাঁচামাল, বিশেষ করে পাট ক্রয়ের ওপর থেকে বাংলাদেশ পুতুল সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার করে। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অবাধে পূর্ববাংলার শিল্পীয় কাঁচামাল, পাট ক্রয় করা এবং বিদেশে রপ্তানীর সুযোগ পাচ্ছে। এভাবে পূর্ববাংলার কাঁচামাল বিশেষ করে পাটের ওপর ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ ও লুন্ঠন প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের সাথে পূর্ববাংলার পাটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবসান হয়েছে। পূর্ববাংলার জনগণ কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা পূর্ববাংলার বহু গোটা শিল্প-প্রতিষ্ঠান, যন্ত্রপাতি, খুচরা অংশ ভারতে পাচার করছে। পূর্ববাংলার অসংখ্য গাড়ী, স্বর্ণ, রৌপ্য, পূর্ববাংলার বাজারের বৈদেশিক দ্রব্যাদিও তারা পাচার করছে। এর ফলে বহু শিল্প-কারখানা চালু করা বা পুরো উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

তারা পূর্ববাংলার বিদ্যুত-গ্যাস ভারতীয় শিল্পে ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাচ্ছে।

এ সকলের উদ্দেশ্য হলো পূর্ববাংলার শিল্প-কারখানা ধ্বংস করা; এর বিকাশ ব্যাহত করা এবং ভারতীয় শিল্পের সাথে পূর্ববাংলার শিল্প যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

তাদের অপর এক উদ্দেশ্য হলো পূর্ববাংলার শিল্পকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা। এ উদ্দেশ্যে তারা ভারত থেকে বিদ্যুৎ, তৈল, কাঁচামাল ইত্যাদির ওপর নির্ভরশীল করে পূর্ববাংলার সীমান্ত এলাকার শিল্পসমূহ চালু করার চেষ্টা করছে।

ভারতীয় পণ্যে বাজার ছেয়ে গেছে। এ সকল পণ্যদ্রব্য নিম্নমানের কিন্তু উঁচু মূল্যের। পূর্ববাংলার জনগণ বাধ্য হচ্ছে এগুলো কেনার জন্য। এভাবে পূর্ববাংলার সাড়ে সাতকোটি জনগণের বাজার দখল করছে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা এবং কোটি কোটি টাকার মুনাফা লুটছে।

ভারত থেকে পণ্যদ্রব্য আমদানী, তা বাজারে বিক্রয় করা এবং পূর্ববাংলার অভ্যন্তর থেকে দ্রব্যাদি সংগ্রহ ও ভারতে রপ্তানীর বিরাট প্রক্রিয়ার ফলে পূর্ববাংলার গোটা ব্যবসা-বাণিজ্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং ভারতীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা আত্মসমর্পণকারী পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের শত শত কোটি টাকার অস্ত্র ও অন্যান্য দ্রব্যাদি ভারতে নিয়ে যায়। এভাবে পূর্ববাংলার জনগণ তাদের ন্যায্য পাওনা অস্ত্র ও অন্যান্য দ্রব্য থেকে বঞ্চিত হয়।

পূর্ববাংলার পুনর্গঠনের বিরাটাকার কাজগুলো ভারতীয় কোম্পানীসমূহ লাভ করছে। ফলে পূর্ববাংলার প্রতিষ্ঠানসমূহ বঞ্চিত হচ্ছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র, সাহিত্য, শিল্পকলা, পাঠ্যপুস্তক পূর্ববাংলার বাজার দখল করছে এবং এসকল ক্ষেত্রে নিয়োজিত পূর্ববাংলার প্রতিষ্ঠানসমূহ এর ফলে মারাত্মক সংকটে পড়ছে।

তার বৃটিশ উপনিবেশবাদ, সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিক্রিয়াশীল বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধি রবীন্দ্রনাথের জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে এবং ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি-সাহিত্য দ্বারা পূর্ববাংলার বাজার দখলের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যাতে তাদের শোষণ ও লুন্ঠন মেনে নেয়ার পক্ষে জনমত সৃষ্টি হয়। পূর্ববাংলার জাতীয় গণতান্ত্রিক সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ ব্যাহত হয় এবং তাদের আর্থিক লাভ হয়।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা বাংলাদেশ পুতুল সরকার দ্বারা মুদ্রামান হ্রাস করে এবং ভারতীয় মুদ্রা অবাধে চালু করে পূর্ববাংলার মুদ্রাকে ভারতীয় মুদ্রার ওপর নির্ভরশীল করে ফেলেছে এবং বিরাটাকার মুনাফা লুটছে।

যৌথভাবে কাজকরা, পরামর্শদাতা, উপদেষ্টা, সাহায্যদাতা প্রভৃতির ছদ্মবেশে তারা উদ্বৃত্ত কর্মচারি ও বেকার যুবকদের পূর্ববাংলার সরকারী-আধা সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থাসমূহে নিয়োগ করে তা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট ভারতীয় বিভাগের অধীনস্ত সংস্থায় রূপান্তরিত করছে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা শরনার্থীর বেশে ভারতীয় নাগরিক, যুব কংগ্রেসের সশস্ত্র গুণ্ডা-গোয়েন্দাদের বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। তারা ছাত্রলীগ, মুক্তি বাহিনী, মুজিব বাহিনী, ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট, পুলিশদের মধ্যে তার এজেন্ট অনুপ্রবেশ করিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে।

ভারতে যায়নি এ অজুহাতে দেশপ্রেমিক কর্মচারীদের তারা পুতুল সরকারের মাধ্যমে ছাঁটাই করাচ্ছে। দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সাহিত্যিক, শিল্পী এবং বিভিন্ন পেশার লোকদের হয়রানী করছে। তাদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। তারা পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের প্রাক্তন দালাল যারা ভারতের তাবেদার হতে ইচ্ছুক তাদেরকে চাকুরী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।

অতীতে পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টরা ঊর্দু ভাষাভাষীদের মধ্যকার প্রতিক্রিয়াশীলদের মাধ্যমে সাধারণ ঊর্দুভাষী জনগণকে প্রতারিত করে, তাদের কিছু অংশকে হাত করে এবং বাঙালী জনগণের ওপর অত্যাচার চালায়।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরাও একইভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী জমিদার-জোতদার, পুঁজিপতি, বুদ্ধিজীবীদের প্রতিক্রিয়াশীল অংশ এবং টাউটদের ওপর নির্ভর করে সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণকে প্রতারত করে, পূর্ববাংলার হিন্দু-মুসলিম জনগণের ঐক্যকে বিনষ্ট করে জনগণের এক অংশকে হাত করে অন্য অংশের শোষণ ও লুন্ঠন চালাবার চক্রান্ত করছে।

পূর্ববাংলার কোথাও কোথাও হিন্দু ধর্মাবলম্বী জমিদার-জোতদার, পুঁজিপতি, বুদ্ধিজীবীদের মধ্যকার ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের দালাল প্রতিক্রিয়াশীল অংশ এবং টাউটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ধর্মাবলম্বী জনগণের সংস্কৃতি ও আচার-ব্যবহারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে, জোর করে তাদের বিক্রয় করা সম্পত্তি দখল করছে।

এভাবে পূর্ববাংলায় ধর্মীয় বৈষম্য এবং কোথাও কোথাও মুসলিম জনগণের ওপর ধর্মীয় নিপীড়নের ষড়যন্ত্র চলছে।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ এবং পূর্ববাংলার মুসলিম ধর্মাবলম্বী প্রতিক্রিয়াশীল জমিদার-জোতদার, পুঁজিপতি ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যকার তার দালাল অংশ (পিডিপি, জামাত, মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগের একাংশ) এ ধর্মীয় নিপীড়নের সুযোগ গ্রহণ করে সাধারণ দেশপ্রেমিক হিন্দু জনগণ বিরোধী দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাধাবার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে এবং এর সহায়তায় পূর্ববাংলায় তার উপনিবেশ স্থাপনের চক্রান্ত করছে। তথাকথিত মুসলিম বাংলার দাবী এ ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

১৯৪৭ সালের পূর্বে ভারতের সংশোধনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি শ্রেণী নিপীড়নের একটি রূপ ধর্মীয় নিপীড়নের বিরোধিতা করেনি।

ফলে পূর্ববাংলার মুসলিম জনগণ বৃটিশ উপনিবেশিক দস্যু ও তাদের ওপর নির্ভরশীল হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রতিক্রিয়াশীল জমিদার-জোতদার, পুঁজিপতি ও বুদ্ধিজীবীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিশেষ করে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে সাম্রাজ্যবাদ সমর্থক মুসলিম সামন্তবাদী, বুর্জোয়া ও বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান দাবী সমর্থন করে এবং পাকিস্তানে যোগদান করে।

এর ফলে পাক-ভারত উপমহাদেশকে বিভক্ত করে তার সমর্থকদের দ্বারা শোষণ ও লুন্ঠন করার বৃটিশ দস্যুদের চক্রান্ত সফল হয়।

বর্তমানেও পূর্ববাংলায় ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তার দালালদের ধর্মীয় নিপীড়ন এবং এর সুযোগ গ্রহণ করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের দাঙ্গা, রায়ট বাধানো এবং পূর্ববাংলায় তার উপনিবেশ স্থাপনের চক্রান্তকে পূর্ববাংলার জনগণ যদি বিরোধিতা না করেন, তবে পূর্ববাংলায় দাঙ্গা, রায়ট এবং সাম্রাজ্যবাদীদের উপনিবেশ স্থাপনের সম্ভাবনা জোরদার হবে।

অতীতের মতো বর্তমানেও বিভিন্ন আকৃতির সংশোধনবাদী বিশ্বাসঘাতকরা এ প্রশ্নে নীরব থেকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের সাম্প্রদায়িক ও উপনিবেশিক চক্রান্তকে সহায়তা করছে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা প্রচার করছে তাদের আগ্রাসী বাহিনী যে উদ্দেশ্যে এসেছিল তা সম্পন্ন হওয়ায় তারা ভারতে ফিরে গেছে। তারা যে উদ্দেশ্যে এসেছিল তা হলো পূর্ববাংলায় তার উপনিবেশ স্থাপন করা, তার তাবেদার ছয় পাহাড়ের দালালদের ক্ষমতায় বসানো। তার তাবেদার বাহিনী ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট, রক্ষীবাহিনী, পুলিশ তার স্বার্থ রক্ষার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সৈন্য রাখা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তারা বাঙ্গালীদের দ্বারা বাঙ্গালী দমন করে শোষণ ও লুন্ঠন চালাতে চায়।

তারা শিক্ষাদাতা, উপদেষ্টা, গোয়েন্দা এবং তাবেদারদের মাধ্যমে পূর্ববাংলার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। উপরন্তু পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ভারতের ওপর নির্ভরশীল অর্থাৎ পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ভারতের নিয়ন্ত্রণে এ সত্য বাংলাদেশ পুতুল সরকার বহু বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। পূর্ববাংলার জনগণ ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের বিপ্লবী সংগ্রাম দমনের জন্য বহু সৈন্য প্রেরণ করেছে, এমনকি বিমান বাহিনী পর্যন্ত ব্যবহার করেছে।

এভাবে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা পূর্ববাংলার সকল ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, লুন্ঠন, শোষণ ও নির্যাতন প্রতিষ্ঠা করেছে, পূর্ববাংলাকে তার উপনিবেশে পরিণত করেছে এবং পূর্ববাংলাকে তাদের পশ্চাদভূমিতে রূপান্ততরিত করেছে। বাংলাদেশ সরকার তার পুতুল সরকার ব্যতীত আর কিছুই নয়। ছয় পাহাড়ের দালালরা প্রকাশ্য ও গোপন চুক্তির মাধ্যমে এ শোষণ ও লুন্ঠন-নিয়ন্ত্রণ, নির্যাতনের সুযোগ করে দিয়েছে, পূর্ববাংলাকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের নিকট বিক্রী করে দিয়েছে।

অতীতে জাপানী ফ্যাসিস্টরা এশিয়াসহ উন্নত অঞ্চল গড়ে তোলার শ্লোগানকে উপনিবেশ স্থাপনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। বর্তমানে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরাও তাদের অনুকরণে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার শ্লোগানকে তার উপনিবেশ স্থাপনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের এ উপনিবেশে লুটের ভাগ বসাচ্ছে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী এবং মার্কিনের নেতৃত্বে অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদীরা। তারা ঋণ প্রদান, অসম বাণিজ্যচুক্তি প্রভৃতির মাধ্যমে তাদের লুন্ঠন চালাচ্ছে।

এভাবে পূর্ববাংলার জাতীয় বিপ্লব অর্থাৎ পূর্ববাংলা থেকে বৈদেশিক শোষণ ও লুন্ঠনের অবসান ও স্বাধীন-সার্বভৌম পূর্ববাংলা প্রতিষ্ঠা অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

সামন্ত জমিদার-জোতদারদের উৎখাত করে কৃষকদের মাঝে ভূমি বিতরণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার মহান দায়িত্বও অসমাপ্ত রয়ে গেছে। গ্রামে গ্রামে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা প্রবর্তন করে ছয় পাহাড়ের দালালরা প্রতিক্রিয়াশীল গ্রাম্য সামন্ত জমিদার-জোতদার-মহাজন, টাউট ও অত্যাচারীদের শাসন কায়েম করেছে। এদেরকে পাহাড়া দেয়ার জন্য গঠণ করা হয়েছে ডাকাত দল গ্রামরক্ষী বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

এভাবে পূর্ববাংলার জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

পূর্ববাংলার ঘটনাবলী প্রমাণ করছে পূর্ববাংলার বুর্জোয়া, বুদ্ধিজীবী বা সামন্তবাদী কোনো শ্রেণীর পক্ষেই পূর্ববাংলার জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এরা নিজেদের ও জাতীয় স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, বিদেশের কাছে দেশ ও জাতিকে বিক্রী করে দেয় এবং দেশের মধ্যকার সামন্তবাদের সাথে আপোষ করে।

কাজেই অনিবার্যভাবেই পূর্ববাংলার অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে পূর্ববাংলার সর্বহারা শ্রেণী ও তার রাজনৈতিক পার্টির ওপর। পূর্ববাংলার কিছু সংখ্যক মীরজাফর বিশ্বাসঘাতক ব্যতীত পূর্ববাংলার শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-বুদ্ধিজীবী-ব্যবসায়ী-শিল্পপতি-চাকুরীজীবী অর্থাৎ পূর্ববাংলার সমগ্র বাঙ্গালী জাতি অচিরেই ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের উপনিবেশিক শোষোণ ও লুন্ঠন, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী, সাম্রাজ্যবাদী শোষণ-লুন্ঠন ও তাদের তাবেদারদের শোষণ ও লুন্ঠনের বিরুদ্ধে বিরাটাকার সংগ্রাম পরিচালনা করবে। পূর্ববাংলার সর্বহারা শ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টির মহান ঐতিহাসিক দায়িত্ব হলো এ সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করা ও তাকে সঠিক পথে পরিচালনা ও সম্পন্ন করা।

পূর্ববাংলায় ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের দখল কায়েম হওয়ার ফলে পাকিস্তানের সামরিক ফ্যাসিস্টদের সাথে পূর্ববাংলার জনগণের জাতীয় দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। পূর্ববাংলার সমাজের বিকাশের জন্য বর্তমানে নিম্নলিখিত মৌলিক দ্বন্দ্বসমূহ দায়ীঃ

। ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের সাথে পূর্ববাংলার জনগণের জাতীয় দ্বন্দ্ব।

। সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের সাথে পূর্ববাংলার জনগণের জাতীয় দ্বন্দ্ব।

। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের সাথে পূর্ববাংলার জনগণের জাতীয় দ্বন্দ্ব।

। মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের সাথে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তাদের দালালদের দ্বন্দ্ব।

। পূর্ববাংলার সামন্তবাদের সাথে কৃষক জনতার দ্বন্দ্ব।

। পূর্ববাংলার বুর্জোয়া শ্রেণীর সাথে শ্রমিক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীরা তার সেনাবাহিনীর সাহায্যে আগ্রাসী যুদ্ধ চালিয়ে পূর্ববাংলায় তার উপনিবেশ কায়েম করেছে, এ কারণে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের সাথে পূর্ববাংলার জনগণের জাতীয় দ্বন্দ্ব উপরোক্ত দ্বন্দ্বসমূহের মাঝে প্রধান দ্বন্দ্ব।

এ দ্বন্দ্ব সমাধানের উপায় হচ্ছে সশস্ত্র জাতীয় বিপ্লব পরিচালনার মাধ্যমে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তার পদলেহী কুকুর ছয় পাহাড়ের দালাল জাতীয় শত্রুদের খতম ও উৎখাত করা, বাংলাদেশ পুতুল সরকারকে উৎখাত করা, পূর্ববাংলাকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের উপনিবেশিক শৃংখল থেকে মুক্ত ও স্বাধীন করা।

এ বিপ্লবের অপর এক লক্ষ্য হবে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের উৎখাতের সাথে সাত্থে পূর্ববাংলা থেকে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদকে উৎখাত করা, এদের সাথে পূর্ববাংলার জনগণের জাতীয় দ্বন্দ্বের সমাধান করা।

ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ সমর্থক সামন্ত জমিদার-জোতদারদের জাতীয় শত্রু হিসেবে খতম ও উৎখাত করা, তাদের ভূ-সম্পত্তি ভূমিহীন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা, জাতীয় বিপ্লব সমর্থক সামন্তবাদীদের সামন্ত শোষণ কমানো, শেষ পর্যন্ত সামন্তবাদ উৎখাত করা। এভাবে পর্যায়ক্রমে গণতান্ত্রিক বিপ্লব পরিচালনা ও সম্পন্ন করা।

এ জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরশীল আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল বুদ্ধিজীবীদের জাতীয় শত্রু হিসেবে উৎখাত করা।

এ জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সময় এ বিপ্লব সমর্থক বুর্জোয়াদের রক্ষা করা, শ্রমিকদের আট ঘন্টা শ্রম সময় নির্ধারণ এবং তাদেরকে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা।

এ জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় পূর্ববাংলার দেশপ্রেমিক মুসলিম, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী জনগণ অবশ্যই তাদের ঐক্যকে দৃঢ়তর করবেন। ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তার দালাল প্রতিক্রিয়াশীল জমিদার-জোতদার-পুঁজিপতি ও বুদ্ধিজীবী, টাউটদের মুসলিম জনগণের ওপর ধর্মীয় নিপীড়নের এবং সম্প্রসারণবাদী স্বার্থে হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণকে ব্যবহার করার চক্রান্তকে বিরোধিতা করবেন। একই সাথে এ ধর্মীয় নিপীড়নের সুযোগ গ্রহণ করে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও তার মুসলিম ধর্মাবলম্বী দালাল জমিদার-জোতদার, পুঁজিপতি ও বুদ্ধিজীবী (পিডিপি, জামাত, মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের একাংশ) এবং টাউটদের দেশপ্রেমিক হিন্দু জনগণ বিরোধী সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত এবং পূর্ববাংলায় মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের উপনিবেশ স্থাপনের ষড়যন্ত্রকে বিরোধিতা করবেন। সকল প্রকার ধর্মীয় নিপীড়নের অবসান করবেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, অধিকার, সমতা ও সম্প্রীতি রক্ষা করবেন।

পূর্ববাংলার এই অসমাপ্ত গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মৌলিক পরিচালক শক্তি হচ্ছে শ্রমিক-কৃষক-ক্ষুদে বুর্জোয়া শ্রেণী। সর্বহারা শ্রেণী হচ্ছে এ বিপ্লবের নেতা।

পূর্ববাংলার জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব পরিচালনা ও সম্পন্ন করা সম্ভব দীর্ঘস্থায়ী নির্মম গণযুদ্ধের রণনীতি ও রণকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। এ জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সূচনা করতে হবে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে, শ্রমিক-কৃষক বিপ্লবীদের সমন্বয়ে শুন্য থেকে গেরিলাগ্রুপ গঠন করতে হবে, হাতের কাছে যা কিছু পাওয়া যায় তাই দিয়ে ছয় পাহাড়ের দালাল জাতীয় শত্রুদের খতম করতে হবে, শত্রুর অস্ত্রে সজ্জিত হতে হবে, গেরিলা যুদ্ধকে পূর্ববাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে, গেরিলা যুদ্ধের প্রক্রিয়ায় জাতীয় মুক্তিযুদ্ধকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, গ্রাম্য এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন, নিয়মিত বাহিনী, স্থানীয় গেরিলা, গ্রাম্য আত্মরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত উন্নত পর্যায়ের সচল যুদ্ধ, বড় রকমের ঘেরাও ও অবস্থান যুদ্ধ পরিচালনা করে শহরসমূহ দখল করতে হবে এবং সমগ্র পূর্ববাংলাকে মুক্ত করতে হবে।

সর্বহারা শ্রেণী কৃষক-শ্রমিক মৈত্রীর ভিত্তিতে জাতীয় বুর্জোয়া এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক ব্যক্তি, গোষ্ঠী,দল, ধর্মীয়, ভাষাগত ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট গঠন করবে। একই সময়ে বুর্জোয়া সামন্তবাদী ও বুদ্ধিজীবীদের আপোষমুখীতা, দোদুল্যমানতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার মনোভাব ও কার্যকলাপকে সমালোচনা ও বিরোধিতা করবে।

এ বিপ্লব পরিচালনা করে সমগ্র পূর্ববাংলা মুক্ত করে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ, প্রগতিশীল পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র ব্যবস্থা হবে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক মৈত্রীর ভিত্তিতে সকল দেশপ্রেমিক শ্রেণীর যৌথ গণতান্ত্রিক একনায়কত্বমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা।

এই বিপ্লব পরচালনার প্রক্রিয়ায় মুক্ত এলাকায় স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ, প্রগতিশীল পূর্ববাংলার প্রজাতান্ত্রিক সরকার কায়েম করতে হবে।

পূর্ববাংলার জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব পরিচালনা ও সম্পন্ন করে পূর্ববাংলার জনগণের অধিকাংশের আশা-আকাঙ্খার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে পাকিস্তানের সাথে পূর্ববাংলার সম্পর্কের সমস্যার (পাকিস্তানের সাথে পূর্ববাংলার রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, পশ্চিম পাকিস্তানস্থ বাঙালীদের ফিরিয়ে আনা, পূর্ববাংলার গণহত্যা ও ফ্যাসিস্ট ধ্বংসযজ্ঞের অপরাধে অপরাধী পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচার ও শাস্তি প্রদান করা, পূর্ববাংলা থেকে গত ২৪ বৎসরে পশ্চিম পাকিস্তানে যে পুঁজি ও মূল্যবান সম্পদ পাচার হয়েছে তা সুদসহ ফেরত আনা, পূর্ববাংলা থেকে পাচার করা ঐতিহাসিক দ্রব্যাদি ফেরত আনা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সমস্যা, পূর্ববাংলায় তারা যে নির্মম ধংসযজ্ঞ, হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন চালিয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায় করা ইত্যাদি সমস্যা) সমাধান করা।

এভাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব পরিচালনা ও সম্পন্ন করে পূর্ববাংলার বুর্জোয়া শ্রেণীর সাথে শ্রমিক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা ও পরিচালনা করা।

পূর্ববাংলার জনগণের মুক্তি সংগ্রাম সঠিক পথে পরিচালনার জন্য সর্বহারা শ্রেণীর একটি নির্ভুল রাজনৈতিক পার্টি প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে ১৯৬৮ সালে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারাকে পথ প্রদর্শক তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে নিয়ে প্রস্তুতি সংগঠন পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়।

পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন তার প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকেই পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের উপনিবেশিক শোষণ ও লুন্ঠনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করে। পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের কর্মী ও গেরিলারা পাকিস্তান কাউন্সিল, মার্কিন তথ্যকেন্দ্র, বিএনআর-এ বোমা বর্ষণ করে, চট্রগ্রামের ফটিকছড়িতে জাতীয় শত্রু খতমের মাধ্যমে সর্বপ্রথম জাতীয় মুক্তির গেরিলা যুদ্ধ সূচনা করে।

পঁচিশে মার্চ ও তার পরবর্তী সময়কার পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের চরমতম ফ্যাসিস্ট নির্যাতনের মুখেও পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের কর্মীরা ভারতে পলায়ন না করে জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করে জনগণকে পাক সামরিক ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সঠিক পথে মুক্তিযুদ্ধে পরিচালনা করে। পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের গেরিলারা জাতীয় শত্রু ও পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের নিকট থেকে কেড়ে নেয়া অস্ত্র দ্বারা গেরিলা যুদ্ধ চালায়। অচিরেই বরিশাল, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, ঢাকা, পাবনা, টাঙ্গাইল প্রভৃতি জেলায় আটটিরও বেশী গেরিলা ফ্রন্ট, মুক্ত অঞ্চল ও নিয়মিত বাহিনী গড়ে ওঠে, গেরিলা যুদ্ধ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

এভাবে আত্মনির্ভরতার ভিত্তিতে পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন সশস্ত্র জাতীয় মুক্তি যুদ্ধ সঠিক পথে পরিচালনা করে সমগ্র বাঙালী জাতির সামনে সঠিক পথের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের কামানের গোলার শব্দের মাঝে গড়ে ওঠে ৩রা জুন, ১৯৭১ সালে পূর্ববাংলার জনগণকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য পূর্ববাংলার সর্বহারা শ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টি “পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি”।

ছয় পাহাড়ের দালালরা পূর্ববাংলায় ছয় পাহাড়ের শোষণ ও লুন্ঠন কায়েম এবং অব্যাহতভাবে তা পরিচালনার পথে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টিকে একমাত্র বাধা বলে গণ্য করে। তারা আমাদের আক্রমণ করে, আলোচনার ভাওতা দিয়ে আমাদের বহু গেরিলা, কর্মী, সহানুভূতিশীল ও জনগণকে নির্মমভাবে হত্যা করে, তাঁদের রক্তে হাত কলঙ্কিত করে, আমাদের মুক্ত অঞ্চলসমূহ তারা দখল করে নেয়। এভাবে তারা সঠিক পথে পরিচালিত মুক্তি সংগ্রামকে অস্থায়ীভাবে ব্যাহত করে।

পূর্ববাংলার প্রতিবিপ্লবী ক্ষমতা দখলের পর তারা তাদের নির্যাতন ও লুন্ঠন জোরদার করেছে। তার যত্রতত্র লুটতরাজ, হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, অর্থ সংগ্রহ, অগ্নিসংযোগ করছে। পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের মতো তারাও ‘বধ্যভূমি’ তৈরী করেছে। তারা সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণ করছে। এভাবে তার মগের মুল্লুক কায়েম করেছে।

তারা অপরাধী-নিরপরাধী নির্বিশেষে ঊর্দু ভাষাভাষী শিশু-যুবক, বৃদ্ধ-নারীদের হিটলারের ইহুদী নিধনের অনুরূভাবে নির্মুল করছে।

তাদের প্রভু ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তাদের শোষণ ও লুন্ঠনের ফলে পূর্ববাংলার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অগ্নিমূল্য হয়েছে, শত-সহস্র লোক বেকার হয়ে পড়েছে। জনগণ অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন ধারণ করছে।

অসংখ্য ঘটনা প্রমাণ করছে, ছয় পাহাড়ের দালালরা যে গণতন্ত্র চায় তা হচ্ছে ছয় পাহাড়ের দালালদের ফ্যাসিস্ট একনায়কত্ব, তারা যে সমাজতন্ত্র চায় তা হচ্ছে ছয় পাহাড়ের শোষণ ও লুন্ঠন, তারা যে ধর্ম নিরপেক্ষতা চায় তা হচ্ছে মুসলিম জনগণের ওপর ধর্মীয় নিপীড়ন, পূর্ববাংলায় ভারতের উপনিবেশ বজায় রাখার পথে মুসলিম ধর্মের প্রতিবন্ধকতাকে দাবিয়ে রাখা, তারা যে জাতীয়তাবাদের কথা বলছে তা হচ্ছে জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা ও জাতীয় পরাধীনতা এবং পূর্ববাংলার জাতিগত সংখ্যালঘু ও ঊর্দু ভাষাভাষীদের নির্মূল করা।

মুজিববাদ হচ্ছে জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা ও ফ্যাসিবাদ।

পূর্ববাংলার জনগণের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ উপলব্ধি করছেন পাক-সামরিক ফ্যসিস্ট ও ছয় পাহাড়ের দালালদের মাঝে কোন তফাৎ নেই, তাঁরা সাপের মুখ থেকে বাঘের মুখে পড়েছেন।

গত নয় মাসের বিপ্লবী ঝড়-তরঙ্গে পূর্ববাংলার জনগণের চেতনা খুবই উচ্চস্তরে পৌঁছেছে। তাঁরা উন্নত রাজনৈতিক মান অর্জন করেছেন, মৃত্যুকে তাঁরা ভয় করেন না।

তাঁরা ছয় পাহাড়ের দালাল ও তাদের প্রভুদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছেন।

পূর্ববাংলার শ্রমিকরা ধর্মঘট, মিছিল, ঘেরাও সংগ্রাম শুরু করে দিয়েছেন।

ছোট চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র, বুদ্ধিজীবীরাও সংগ্রাম শুরু করেছেন।

কৃষকরা ছয় পাহাড়ের দালাল জোতদার-জমিদার-টাউটদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেছেন।

এভাবে ছয় পাহাড়ের দালালরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, তাদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে, জনগণ তাদের ভাওতা ও মীরজাফরী বুঝতে পারছেন।

ছয় পাহাড়ের দালাল, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ উৎখাতের প্রচণ্ড গণসংগ্রাম শুরু হয়েছে।

ছয় পাহাড়ের দালালদের নিজেদের মধ্যকার কামড়াকামড়ি প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি নিজেদের মাঝে সশস্ত্র সংঘর্ষ, হত্যা, অপহরণ চলছে।

তারা সংকট এড়ানোর উদ্দেশ্যে ভিক্ষার ঝুলি হাতে বৈদেশিক সাহায্যের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে।

কিন্তু কোন কিছুই তাদের পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। জনগণ পাক-সামরিক ফ্যাসিস্টদের মতো এদেরকেও এদের প্রভুদেরসহ চূড়ান্তভাবে কবরস্ত করবে।

আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্টদের জনপ্রিয়তাহীনতা এবং সমাজতন্ত্রের জনপ্রিয়তার সুযোগ গ্রহণ করে এককালের মুজিববাদের প্রণেতা রব গ্রুপ (বর্তমানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) তথাকথিত শ্রেণীসংগ্রাম, সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র কায়েমের কথা বলে পূর্ববাংলার ক্ষমতা দখল করে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের উপনিবেশ স্থাপনের চক্রান্ত করছে। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্টদের মতো তাদের পতনও অনিবার্য।

আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট ও তার তাবেদাররা জনগণের ওপর নির্যাতন জোরদার করার সাথে সাথে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের ‘নকশাল’ দমন অভিযান, চীন ও কমিউনিজম প্রতিহত করা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপ করার প্রতিক্রিয়াশীল কার্যকলাপে অংশগ্রহণ জোরদার করছে।

কাজেই পূর্ববাংলার সর্বহারা বিপ্লবীদের গোপনভাবে কার্য পরিচালনা করতে হবে। পার্টি পরিচিতি গোপন রেখে প্রকাশ্য কাজের সুযোগকে সশস্ত্র সংগ্রামে সহায়তার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হবে।

পূর্ববাংলার বিপ্লবীদের অবশ্যই ভারতের সর্বহারা বিপ্লবীদের সাথে ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগিতা স্থাপন ও দৃঢ়করণ, ভারতের সর্বহারা বিপ্লবীদের নেতৃত্বে জনগণের মহান সংগ্রাম, নাগা, মিজো, কাশ্মিরীদের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সাথে একাত্ম হতে হবে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্র ভারতীয় সম্প্রসারণবাদকে উৎখাত করতে হবে।

আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্টদের হাতে নিহত পূর্ববাংলার জনগণের রক্তের রক্ত, মাংসের মাংস পূর্ববাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান চুন্নু যিনি মৃত্যু পর্যন্ত ধ্বনি দিয়েছেন স্বাধীন পূর্ববাংলা জিন্দাবাদ, পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি জিন্দাবাদ, কমরেড সিরাজ সিকদার জিন্দাবাদ; কমরেড হিরু, নজরুল, আনিস, শশাঙ্ক, জিল্লু, তাহের, পলাশ, সাঈদ, রইস এবং অন্যান্যদের; গেরিলা মান্নান, মজিদ ও অন্যান্যদের; পাক সামরিক ফ্যাসিস্টদের হাতে নিহত কমরেড পিন্টু ও অন্যান্যদের; দুর্ঘটনায় নিহত কমরেড শাহিন ও অন্যান্যদের; নিখোঁজ কমরেড ও গেরিলা এবং পূর্ববাংলার মুক্তি সংগ্রামে শহীদ লক্ষ জনতার কথা স্মরণ রেখে আসুন আমরা এগিয়ে যাই, পূর্ববাংলার সর্বহারা শ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টি পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি গড়ে তুলি, ৩০শে এপ্রিল ১৯৭১ সালে পেয়ারা বাগানে পূর্ববাংলার ইতিহাসে সর্বপ্রথম সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে যে নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে ওঠে তার পথ অনুসরণ করে পার্টির অধীন প্রধান ধরণের সংগঠন হিসেবে পূর্ববাংলার সশস্ত্র দেশপ্রেমিক বাহিনী গড়ে তুলি, কৃষক-শ্রমিক মৈত্রীর ভিত্তিতে সকল দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তুলি পূর্ববাংলার জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট, ছয় পাহাড়ের দালাল জাতীয় শত্রু খতমের মাধ্যমে জাতীয় মুক্তির গেরিলা যুদ্ধ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাই, শহীদ কমরেড গেরিলা ও বন্ধুদের রক্তের বদলা রক্ত নেই, সশস্ত্র সংগ্রামে লেগে থাকি। এর মাধ্যমে পার্টি, সশস্ত্র দেশপ্রেমিক বাহিনী ও জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট গড়ে তুলি, বন্দুকের নলের মাধ্যমে গড়ে তুলি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ, প্রগতিশীল পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্র, সম্পন্ন করি পূর্ববাংলার অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব।

পূর্ববাংলার লিউশাওচী-ক্রুশ্চেভ হক-তোয়াহা, জ্যোতিবসু-নাম্বুদ্রিপদ দেবেন-বাসার, কাজী-রণো-অমল সেন, ট্রটস্কি-চে মতিন-আলাউদ্দিন বিশ্বাসঘাতক চক্র – নিপাত যাক!

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি জিন্দাবাদ!

কমরেড সিরাজ সিকদার জিন্দাবাদ!

পূর্ববাংলার অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করুন!

পূর্ববাংলার জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট জিন্দাবাদ!

পূর্ববাংলার সশস্ত্র দেশপ্রেমিক বাহিনী জিন্দাবাদ!

স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ, প্রগতিশীল পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্র কায়েম করুন!

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=767

Advertisements