অনন্য বিপ্লবী রাষ্ট্রনায়ক কমরেড স্তালিন

stalin_5001

আজ ১৮ই ডিসেম্বর, কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান কমরেড জে ভি স্তালিনের জন্মদিবস। দুনিয়ার সর্বত্র এই দিনটিতে মেহনতী জনগণ কমরেড স্তালিনের মহান অবদানগুলোকে স্মরণ করে শ্রেণী সংগ্রামকে তীব্র করে তোলবার শপথ নিচ্ছেন। এই অবসরে কমরেড স্তালিনের জীবন ও শিক্ষাকে আরও একবার অনুশীলনের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে ক্রমশ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যে‍‌তে হবে।

রুশ বিপ্লবের অন্যতম প্রধান রূপকার কমরেড লেনিন বলেছেন : কোন ব্যক্তি, বিষয়, আন্দোলন অথবা কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন পর্যালোচনা করতে হলে তৎকালীন বাস্তব পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অবস্থা, শ্রমিকশ্রেণীর অবস্থান, শোষকশ্রেণী ও শোষিত শ্রেণীগুলোর পারস্পরিক শক্তির অবস্থা এবং সর্বহারা শ্রেণীর চরম লক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা বিষয়ের তৎকালীন আশু কর্মসূচীর বিশ্লেষণ করতে হবে। এই ধরনের বিচারেই সঠিক মার্কসবাদী মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা বেরিয়ে আসে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক কতগুলি ঘটনার যোগ ও বিয়োগ ফলের দ্বারা তা হয় না। মার্কসবাদী দৃষ্টিতে একটা সামগ্রিক, সার্বিক ও অখণ্ড চিন্তা বেরিয়ে আসবে, নতুবা খণ্ডিত বা আংশিক বিচার হয়ে যায়।

কমরেড লেনিনের এই শিক্ষার আলোতেই তাঁর সুযোগ্য সহকারী কমরেড স্তালিনের বিপ্লবী জীবনের শিক্ষাগুলোকে আয়ত্ত করতে হবে। এবং শ্রেণী আন্দোলন ও গণ-আন্দোলন বিকাশের ক্ষেত্রে তার সঠিক প্রয়োগ ঘটাতে হবে।

রাশিয়ার বুকে জার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলশেভিক পার্টি গড়ে তোলা, শোষিত শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সফল করে তোলবার জন্য সংগ্রাম, ট্রটস্কিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র আদর্শগত সংগ্রাম, বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে সোভিয়েত সমাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখবার সংগ্রাম, কমরেড লেনিনের জীবনাবসানের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখবার সংগ্রাম এবং সর্বোপরি হিংস্র উন্মত্ত ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মানবজাতিকে রক্ষার সংগ্রামে ব্যাপৃত ছিল কমরেড স্তালিনের সমগ্র জীবন। শুধু তাই নয়, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে অটুট রাখতে তিনি পুঁজিবাদী ও ঔপনিবেশিক দেশগুলোতে কমিউনিস্ট পার্টি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

কমরেড স্তালিনই সর্বপ্রথম কমরেড লেনিনের শিক্ষা ও তত্ত্বগুলোকে সূত্রবদ্ধ করে সৃষ্টি করেন — ‘লেনিনবাদ’। এর সংজ্ঞা নির্ধারিত করে তিনি বলেছিলেন : লেনিনবাদ হলো সাম্রাজ্যবাদ ও শ্রমিক-বিপ্লবের যু‍‌গের মার্কসবাদ। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, লেনিনবাদ হলো সাধারণভাবে শ্রমিক-বিপ্লবের মতবাদ ও রণকৌশল এবং বিশেষভাবে এ হলো শ্রমিকশ্রেণীর মতবাদ ও রণকৌশল।

লেনিনবাদকে মার্কসবাদের আরও বিকশিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করে তার অসামান্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন কমরেড স্তালিন। সর্বহারারা যখন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, শ্রমিক-বিপ্লব যখন কার্যক্ষেত্রে আশু ও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠেনি সেই প্রাক্‌-বিপ্লব যুগে মার্কস আর এঙ্গেলস তাঁদের কার্যকলাপ চালাতেন। আর মার্কস-এঙ্গেলসের উত্তরসূরি কমরেড লেনিন তাঁর কাজ চালিয়েছেন বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যুগে, শ্রমিক বিপ্লবের বিকাশের যুগে — যখন শ্রমিক বিপ্লব একটি দেশে ইতোমধ্যেই জয়যুক্ত হয়েছে, বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে চূর্ণ করে, শ্রমিকশ্রেণীর গণতন্ত্রের, সোভিয়েততন্ত্রের যুগের সূত্রপাত করেছে।

এইভাবে মার্কসবাদ-এর তত্ত্বকে বিকশিত করে তুলে‍‌ছিলেন কমরেড স্তালিন। তিনিই লেনিনবাদের প্রবক্তা। ১৯২৪-এ প্রকাশিত কমরেড স্তালিনের ‘লেনিনবাদের ভিত্তি’ এবং ১৯২৬-এ ‘লেনিনবাদের সমস্যা’ পুস্তক দুটিতে লেনিনবাদের আরও ব্যাপক বিস্তৃত আদর্শগত ব্যাখ্যা রয়েছে।

দুনিয়ার মুক্তিকামী মানুষের প্রিয় নেতা, শিক্ষক কমরেড লেনিনের জীবনাবসানের পর সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র মতাদর্শগত বিরোধ দেখা দেয়। কমরেড লেনিনের ‍‌জীবদ্দশাতেই ১৯২২ সালের ৩রা এপ্রিল পার্টি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কমরেড লেনিনের প্রস্তাবে কমরেড স্তালিন পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, একই বছরে গঠিত হয়েছিল ‘ইউনাইটেড সোভিয়েত সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ সংক্ষেপে ইউ এস এস আর। কমরেড লেনিন নেই। একদিকে নবগঠিত সোভিয়েতে সমাজতান্ত্রিক নির্মাণকাজকে চালু রাখা, অন্যদিকে পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ট্রট‍‌স্কি-বুখারিন-জিনোভিয়েভ-কামেনেভ-রাডেক চক্রের পার্টি, কমরেড স্তালিন ও সোভিয়েত সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই চলতে থাকা কার্যকলাপ নবগঠিত এই সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পক্ষে চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির এই কার্যকলাপ কমরেড স্তালিনকে এতটুকু বিচলিত করতে পারেনি। এই সঙ্কটের মধ্যেই তিনি লেনিনবাদের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করে তীব্র আন্তঃপার্টি সংগ্রাম গড়ে তুলে তাঁর সমস্ত বিরোধীদের তত্ত্বগতভাবে ধরাশায়ী করেছিলেন। যার পরিণতিতে পরবর্তীকালে ট্রটস্কি ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা পার্টির কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

কমরেড স্তালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েতে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯২৮-৩২) ছিল সার্বিক অগ্রগতির এক উৎসমুখ। পুঁজিবাদী দুনিয়ার মাতব্বর সংবাদপত্রগুলো কমরেড স্তালিনের এই পরিকল্পনাকে নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছিল। অথচ এই পরিকল্পনার প্রথম চার বছরেই কৃষি, শিল্প, শিক্ষাসহ সবকটি মৌলিক ক্ষেত্রেই গড়পড়তা ৯৩ শতাংশ সাফল্য দেখা দিয়েছিল। এককথায় দুরন্ত অগ্রগতি। তখন ঐসব কুৎসা রটনাকারী সংবাদপত্রগুলো তার প্রশংসায় সরব হতে বাধ্য হয়েছিল। এই সময়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো পুঁজিবাদী দুনিয়ার তীব্র সঙ্কট। প্রথম পরিকল্পনার চার বছরে সোভিয়েতে যখন শিল্পোৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে তখন পুঁজিবাদী দেশ যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তা কমেছে শতকরা ৫৭ ভাগ, ব্রিটেনে কমেছে শতকরা ১৮ ভাগ, জার্মানিতে কমেছে শতকরা ৪০ ভাগ এবং ফ্রান্সে কমেছে শতকরা ৩০ ভাগ। পুঁজিবাদের এই সর্বব্যাপী সঙ্কটের যুগে কমরেড স্তালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েতে সমাজতন্ত্রের জয়যাত্রা অব্যাহত ছিল। প্রথম পরিকল্পনায় রাশিয়ার কৃষি সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান না হওয়াতে দ্বিতীয় পরিকল্পনায় (১৯৩৩-৩৭) কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল যাতে ১৯৩৫ সালের গোড়াতেই শতকরা ৮৫ ভাগ জমি যৌথ খামারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং উৎপাদিত পণ্য বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল শতকরা ২৬৯ ভাগ।

১৯৩৬ সালে সোভিয়েতের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে এক আমূল পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল। শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সর্বক্ষেত্রেই উন্নতির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এই ব্যাপক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবিধান-এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় ১৯২৪ সালে সোভিয়েত প্রণীত সংবিধানকে নতুন রূপ দেওয়া হয়। কমরেড স্তালিনের সভাপতিত্বে মোট ৩১ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল ১৯৩৬ সালে রচনা করেন সোভিয়েতের নতুন সংবিধান। এই সংবিধানে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের তুলনায় আরও অনেক বেশি গণতান্ত্রিক অধিকার দেওয়া হলো। এই সংবিধানে ঘোষণা করা হয়েছিল গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র অজেয়। মনীষী রোঁমা রোলাঁ এই সংবিধানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছিলেন : ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শ এতকাল ছিল মানুষের স্বপ্নের বস্তু মাত্র। এই সংবিধান থেকে তারা প্রাণ পেল।’ চীন থেকে সান ইয়াৎ সেনও অভিনন্দিত করেছিলেন এই সংবিধানকে। ইতিহাসে এই সংবিধান স্তালিন সংবিধান নামে পরিচিত হয়ে আছে। ১৯৩৮ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনক্রমে কমরেড স্তালিন রচনা করেন ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি (বলশেভিক)-র ইতিহাস — সংক্ষিপ্ত পাঠ’। ঐ একই বছরে তিনি লেখেন ‘দ্বন্দ্বমূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ’ যা মার্কসীয় দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এক অমূল্য দলিল।

২২শে জুন, ১৯৪১। হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করলো। কমরেড স্তালিন ঘোষণা করলেন : . . . কেবল আমাদের দেশকেই মুক্ত করা নয়, ফ্যাসিস্ত প্রভুত্বে নিপীড়িত জনগণকেও আমরা মুক্ত হতে সাহায্য করব। . . . এ যুদ্ধ সমগ্র মানবজাতির মুক্তি ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপান্তরিত হবে।

কমরেড স্তালিনের আহ্বানে নাৎসি জল্লাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লেনিনগ্রাদে ৩ লক্ষ লালফৌজের পাশে এসে সমবেত হয় সমগ্র লেনিনগ্রাদের জনসাধারণ। প্রবল প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে হয়েছিল হিটলারের ২ লক্ষ সেনা, ৮৪৬টি বিমান এবং ৪০০টি ট্যাঙ্ককে। হিটলারের মস্কো দখলের পরিকল্পনা ‘অপারেশন টাইফুন’ মুখ থুবড়ে পড়েছিল। লালফৌজের সবচেয়ে গৌরবজনক লড়াই ছিল স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ। এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্শাল জুকভ। শুরুতে নাৎসিরা স্তালিনগ্রাদের শতকরা ৭৫ ভাগ অংশই দখল করে ফেলেছিল। স্তালিনগ্রাদের জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধভাবে বীরত্বপূর্ণ লড়াই-এর মধ্য দিয়ে পুরোটাই তাদের হাত থেকে কেড়ে নেয়। লেনিনগ্রাদ, মস্কো, স্তালিনগ্রাদের লড়াইতে লালফৌজের কাছে আত্মসমর্পণ হিটলারের কাছে খুব বড় আঘাত হয়ে উঠেছিল। ১লা মে, ১৯৪৫ কমরেড স্তালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত লালফৌজ বার্লিনের রাইখ্‌স্ট্যাগে রক্তপতাকা উড়িয়ে মানবজাতির চরমতম শত্রু ফ্যাসিবাদের পরাজয় ঘোষণা করেছিলেন।

ফ্যাসি-বিরোধী যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল প্রথম স্থানে। এই যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন ২ কোটি সোভিয়েত জনগণ। যুদ্ধের সময় শিশুসহ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে জার্মানিতে দাস শ্রমিক হিসেবে বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালীন সোভিয়েতে ৫৩ লক্ষ যুদ্ধবন্দীর মধ্যে যুদ্ধের শেষে মাত্র ১০ লক্ষকে জীবিত পাওয়া গিয়েছিল। ফ্যাসিস্তদের আক্রমণে চরম ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছিল সোভিয়েতের ছোট-বড় মিলিয়ে ১ হাজারেরও বেশি শহরকে, ৭০ হাজার গ্রামকে, ৩২ হাজার শিল্প সংস্থাকে এবং ৯৮ হাজার যৌথ ও রাষ্ট্রীয় খামারকে। যুদ্ধ যখন চলছে, মিত্রশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েতকে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়। তখন রুজভেল্ট ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রুজভেল্টে’র জীবনাবসানের পর ট্রুম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েই সেই প্রতিশ্রুতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ে। অবশ্য কমরেড স্তালিন তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে সমস্ত যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রমাণ করে দিয়েছিল তার সমাজতান্ত্রিক দৃ‌ঢ়তা। শুধু তাই নয়, পূর্ব ইউরোপের সদ্য মুক্ত হওয়া দেশগুলোতে সমাজতান্ত্রিক গঠনকার্যেও সোভিয়েত তার সমগ্র শক্তিকে ব্যবহার করেছিল। এইভাবে যুদ্ধে বীভৎসা কাটিয়ে কমরেড স্তালিনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে দুনিয়ার তাবৎ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছিল।

অক্টোবর, ১৯৫২-তে সোভিয়েত বলশেভিক পার্টির ঊনবিংশতম কংগ্রেসের ভাষণে কমরেড স্তালিন বলেছিলেন : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান ও জাপানী ফ্যাসিস্ত বর্বরতাকে চূর্ণ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ইউরোপ এবং এশিয়ার জনগণকে ফ্যাসিস্ত দাসত্বের বিপদ থেকে মুক্ত করেছে। . . . যে সকল কমিউনিস্ট শ্রমিক-কৃষক ও গণতান্ত্রিক পার্টি আজও বুর্জোয়া শাসনের চাপে শোষিত ও বঞ্চিত, তাদের দিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

এই পার্টি কংগ্রেস ভবিষ্যতে সোভিয়েতকে যেকোন বিপদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ মোকাবিলার আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে তুলেছিল। এটাই ছিল কমরেড স্তালিনের জীবনের শেষ পার্টি কংগ্রেস। ৫ই মার্চ, ১৯৫৩ সোভিয়েত তথা সমগ্র দুনিয়ার শোষিত জনগণের মুক্তিকামী নেতা কমরেড স্তালিন চিরনিদ্রামগ্ন হন।

তবে, জীবনের শেষপর্বে কমরেড স্তালিনের কিছু ভুল হয়েছিল যা একজন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী হিসেবে সতর্কভাবে তাঁর এড়িয়ে চলা উচিত ছিল। কিন্তু এই মহান বিপ্লবীর সমগ্র জীবনচর্চায় দেখা যায় মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মৌলিক তত্ত্ব ও তার বিকাশ তথা শোষণহীন সমাজ গঠনে শোষিত মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে জয়ী করতে কমরেড স্তালিনের নিরলস প্রয়াস তাঁর এই ভুলগুলোর তুলনায় বহুগুণ বড় হয়ে উঠেছে। কমরেড স্তালিনের এইসব ভুলগুলোকে বিশ্লেষণ করতে হবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে।

দুনিয়ায় শ্রেণীহীন সমাজ গঠনের সংগ্রাম যতদিন ধরে চলবে, নিপীড়িত হৃদয়ের প্রতি স্পন্দনে অনুপ্রেরণার স্ফূলিঙ্গ হয়ে রইবেন কমরেড স্তালিন।

সূত্রঃ http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=17898
Advertisements

One Comment on “অনন্য বিপ্লবী রাষ্ট্রনায়ক কমরেড স্তালিন”

  1. Nabakumar Biswas says:

    বয়সটা একবছর তিন দিন কমালেন কেন ১৯২২ সালে , পার্টির জি এস হবার পর? সব জায়গায় ২১শে ডিসেম্বর পালন করা হয় ।

    Like


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.