ইথিওপিয়ায় সেনা-পুলিশের গুলিতে ৭৫ জনের মৃত্যু

CWWm-oRWUAAoHSz

কৃষি জমিতে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত বছর থেকেই আন্দোলন করে আসছে ইথিওপিয়ার জনগণ। এ আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় কৃষিজমি ইজারা দেয়ার পর। আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায়।

গত কয়েক সপ্তাহে সেনা-পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৭৫ জনের। আহত হয়েছেন শতাধিক। তবুও বন্ধ হয়নি ইথিওপিয়ার বিক্ষোভ। শনিবার এমনই দাবি জানাল মানবাধিকার পর্যবেক্ষক (এইচআরডব্লিউ)। যে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তারা সকলেই বিক্ষোভকারী এবং এতজনের মৃত্যুর পরেও আদ্দিস আবাবা নীরব বলে এইচআরডব্লিউ-এর তরফে জানানো হয়েছে।

সেনা-পুলিশের গুলিতে যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেকথা ইথিওপিয়া সরকারও স্বীকার করে নিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা ‘সন্ত্রাসী নাগরিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইথিওপিয়া সরকারের মুখপাত্র গেটাচিউ রেডা। তিনি বলেন, গত মাসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে সেটি হিংসার রূপ নেয়। এই বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, গত নভেম্বরে দেশের একটি জঙ্গল কাটা নিয়েই এই বিক্ষোভের শুরু। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার দক্ষিণে ৮০ কিলোমিটার দূরে ছোট শহর গিঞ্চিতে একটি প্রকল্প করার কথা ভেবেছিল ইথিওপিয়া সরকার। সেই প্রকল্পের জন্য গিঞ্চি শহরের বিরাট জঙ্গল সাফ করতে যায় সরকারের প্রতিনিধিরা। কিন্তু গিঞ্চির বাসিন্দারা জঙ্গল কাটার ব্যাপারে সরকারকে বাধা দেয়। যদিও ইথিওপিয়া সরকার জনগণের কথায় তোয়াক্কা করেনি। তখনই বিক্ষোভের পথ বেছে নেন গিঞ্চির বাসিন্দারা। তারপর অল্প সময়ের মধ্যে পুরো ওরোমিয়া অঞ্চলে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই এই বিক্ষোভে শামিল হন। দক্ষিণ আদ্দিস আবাবা থেকে পশ্চিমাঞ্চলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে সেনা নামায় আদ্দিস আবাবা সরকার। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সেনা-পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে বলেও এইচআরডব্লিউ-র তরফে জানানো হয়েছে। এই গুলিতেই গত দু’মাসে ৭৫ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। কেবল শেওয়া এবং ওল্লেগা এক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। কিন্তু এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এতটুকু অনুশোচনা নেই ইথিওপিয়া সরকারের। বরং তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিংসায় পরিণত হয়েছে এবং এর পিছনে জঙ্গিদের হাত রয়েছে। এর তীব্র নিন্দা করেছে এইচআরডব্লিউ।

 12_15

Advertisements

“আমার জন্ম হয় পার্টিতে” : মাওবাদী নারীরা

13TH_WOMAN_NAXAL-2_2655198f

সিপিআই (মাওবাদী) এ যোগদানকারী অন্ধ্র প্রদেশের প্রথম নারী কুরসেঙ্গা মোতিবাই ওরফে রাধাক্কা গত ১২ই ডিসেম্বর ২০১৫ জামিনে মুক্তি পান। তেলেঙ্গানা রাজ্যের আদিলাবাদের আদিবাসী গোন্ডি এই নারী ২৮ বছর আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন। খাম্মাম জেলায় গ্রেফতার হবার সময় তিনি বস্তারের বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। মাওবাদীরা নিজেরাই তাদের অভ্যন্তরীণ একটি দলিলে স্বীকার করেছে যে খুব বেশী নারী দলে নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে পারেননি; সেদিক থেকে রাধাক্কা ব্যতিক্রম। আরো বড় ব্যতিক্রম ছিলেন অনুরাধা গান্ধী যিনি শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত ক্ষমতাধর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

সিপিআই (মাওবাদী) এর অভ্যন্তরীণ একটি দলিল থেকে অংশ বিশেষ নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

নারী ফ্রন্টে আমাদের কার্যক্রম এখনো সন্তোষজনক নয়। অনেক রাজ্যে নিয়োগের হার ভাল নয়, নারী ক্যাডারদের বাছাই-পদমর্যাদা-পদোন্নতি এখনো নিয়মানুগ পরিকল্পনা মাফিক নয়। নারীদের আন্দোলন গড়ে তোলা, ক্যাডার নিয়োগ দেয়া ও নারীদের থেকে নেতৃত্ব পর্যায়ে পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয়তা এবং বিশাল সম্ভাবনার তুলনায় আমাদের প্রচেষ্টা অপ্রতুল। এই ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে পিতৃতন্ত্র।  

সিপিআই (মাওবাদী) এর পূর্ববর্তী সিপিআই মার্কসবাদী-লেনিনবাদী (গণযুদ্ধ)/Communist Party of India –– Marxist-Leninist (People’s War) এর সময়ে নারী আন্দোলন গড়ে তোলা ও নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নানাবিধ উদ্যোগ চিহ্নিত করেছিল মাওবাদীরা।

সেগুলো হলঃ

কৃষি শ্রমিক ও দরিদ্র খামারি নারীদেরকে ভূমি বন্টনের ক্ষেত্রে সমানাধিকার প্রদান।

স্বচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ও নিজে রোজগারকৃত সম্পত্তিতে সমানাধিকার।

সমান শ্রমের জন্য সমান মজুরী প্রদান।

নারীদের উপর শারীরিক নির্যাতন দূরীকরণ ও পতিতাবৃত্তির সম্পূর্ণ বিলোপসাধন।

নারীদের উপর অত্যাচার দূরীকরণ ও অপরাধীকে চরম শাস্তি প্রদান।

যৌতুক প্রথার বিলুপ্তি সাধন।

জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহ অনুষ্ঠানের বিলুপ্তি ও সাদাসিধে, অসবর্ণ বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজনে উৎসাহ প্রদানের দাবী।

সরকারী চাকুরীতে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা বরাদ্দকরণ।

বালিকা ও সহশিক্ষা বিদ্যালয়গুলোতে বিনা বেতনে, বাধ্যতামূলক শিক্ষার জন্য সংগ্রাম করা।

শিক্ষা পদ্ধতিতে মেয়েদের প্রতি বৈষম্যের/বিকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করা।

লিঙ্গ নির্ণয় পরীক্ষা ও কন্যা ভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে লড়াই করা।

কিশোর ও কিশোরীদের মধ্যকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

নারীদের প্রতি অবমাননাকর ধর্মীয় প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করা।

‘ব্যক্তিগত আইন’ এর বিরুদ্ধে লড়াই করা।

গণমাধ্যম সহ সকল পর্যায়ে নারীদের মর্যাদাহানিকর উপস্থাপনের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

একইভাবে, নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের আগমন ঘোষণা করার পর নারী আন্দোলন যে সকল দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম হাতে নেবে সেগুলোও মাওবাদীরা চিহ্নিত করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

সামাজিক উৎপাদনে নারীদের পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব; যেমন, উৎপাদনে নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্কের রূপান্তর।

গৃহস্থালী কর্মকাণ্ডে যৌথ ভূমিকা পালন।

গৃহস্থালী কাজে নারী ও পুরুষের যৌথ সম্পৃক্ততা।

রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার যৌথ অনুশীলন।

ব্যক্তিগত সম্পদের/সম্পত্তির যৌথ সম্পদে/সম্পত্তিতে রূপান্তর ও পিতৃতন্ত্রের বিলোপ সাধনের সংগ্রাম।

ব্যক্তিগত, পারিবারিক ব্যবসা/কারখানার বিলুপ্তি সাধন করে যৌথ উৎপাদন ও মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা।

ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও বিশ্ব জুড়ে নারী আন্দোলনসমূহকে সমর্থন প্রদান।

images

আন্ডারগ্রাউন্ডে নারীদের যোগদানের পিছনে প্রায়শঃ যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয় তা হল, মাওবাদীদের বিভিন্ন স্কোয়াড গ্রামে ঘুরে ঘুরে বক্তব্য রাখে ও সাংস্কৃতিক দলগুলো বিপ্লবী গান শোনায়। এই অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও গান সংবেদনশীল বয়সে তাদের মনে দাগ কাটে। ২০০২ সালের বসন্তকালে সারিথা নামের ছটফটে মেয়েটি এই প্রতিবেদককে বলেছিল, “আমার গ্রামে ঘুরতে আসা মাওবাদী স্কোয়াডের উদ্দীপনামূলক ও জ্বালাময়ী গান আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছিল”।

নারীদের কেউ কেউ তার পরিবারের সদস্যদের (স্বামী, ভাই, চাচা) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েও মাওবাদী আন্দোলনে যোগদান করে। যেমন, উত্তর তেলেঙ্গানা বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য অনসূয়া। কোলের ছেলেকে শাশুরির কাছে রেখে এসে স্বামী কোমারাইয়াকে অনুসরণ করে তিনি মাওবাদী আন্দোলনে যোগদান করেন।

নেলাকোন্দা রাজিথার গল্পটা আবার ভিন্ন। তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীনেত্রী রাজিথা উত্তর তেলেঙ্গানা বিশেষ জোনাল কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন। আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকাকালীন তিনি সান্ডে রাজামৌলির সান্নিধ্যে আসেন এবং তাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে রাজামৌলি কেন্দ্রীয় কমিটি ও কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশনের সদস্য পদ লাভ করেন। ২০০২ সালের জুলাই মাসে একটি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাজিথা নিহত হন এবং রাজামৌলি নিহত হন ২০০৭ সালের জুন মাসে। ৯০ এর দশক থেকে বর্তমান দশকে মাওবাদীদের ভেতরে নারী ক্যাডারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

Anuradha_Ghandy

মাওবাদীদের মাঝে প্রায় ৪০ শতাংশ নারীদের বড় অংশই এসেছে ভারতের গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকা থেকে এবং তারা যোদ্ধা। কেউ কেউ আছেন শহর থেকে আসা উচ্চশিক্ষিত তাত্ত্বিক নেতা। এই শ্রেণীর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে বলতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক অনুরাধা গান্ধীর নাম। সেরেব্রাল ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুবরণ করার আগে সর্ব ভারতীয় নারী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অনুরাধা ছিলেন সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। তিনি ছিলেন ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি থেকে গ্রেফতার হওয়া সিপিআই (মাওবাদী) এর পলিটব্যুরো্র সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচারণা ব্যুরোর (Central Propaganda Bureau) প্রধান কোবাদ গান্ধীর স্ত্রী।

মাওবাদী পদে নারীদের যোগদানের পিছনে কোন একটি বিশেষ কারণ নেই। কেউ কেউ আন্ডারগ্রাউন্ডে যোগ দিয়েছেন হতাশা থেকে। গ্রামের উঁচু ও ক্ষমতাশালীদের কাছে নির্যাতিত হওয়াও আরেকটি কারণ। একটি পরিবারের সব বোনদের কিংবা একটি পরিবারের সকল সদস্যের বিপ্লবে যোগদানের উদাহরণও রয়েছে।

এই প্রতিবেদককে একজন নারী ক্যাডার বলেছিলেন, “পার্টিতে আমার জন্ম হয়”। তার বাবা মায়ের পরিচয় হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে, এরপর বিয়ে। কয়েক বছর পর তার জন্ম হয়। কল্যাণ অধিদপ্তর পরিচালিত একটি স্কুলে তিনি পড়তেন আর ছুটিতে বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে যেতেন। পরবর্তীতে তিনিও পার্টিতে যোগদান করেন ও আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। দণ্ডকারণ্যতে নানা ভাবে পিতৃতন্ত্রের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে মাওবাদীদের সচেতন প্রচেষ্টা নারীদেরকে আন্ডারগ্রাউন্ডে কিংবা গণ সংগঠনে যোগদান করতে সহযোগিতা করেছে।

জোরপূর্বক বিয়ে এবং আত্মীয়দের (খালাতো/মামাতো/চাচাতো/ফুপাতো ভাই বোন) মধ্যে বিয়ে বন্ধ করার ক্ষেত্রে মাওবাদীরা বেশ সফল হয়েছে। বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নারীরা মাওবাদে যোগদান করে। তারা মনে করে না যে পার্টিতে যোগদান করে তারা কোন ভুল করেছে। মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, তৎকালীন সামাজিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সমস্যা, আত্মীয় পরিবারের প্রভাব ও মতাদর্শগত অনুপ্রেরণা থেকে নারীরা মাওবাদে যোগদান করে। সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এতটা শক্তিশালী আকার ধারণ করে যে একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা মাওবাদে যোগদান না করে পারে না।

maoists-chhattisgarh_edfc50c8-6ffa-11e5-9358-ce0f694bc37c

লিখেছেন পি ভি রামানা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৫

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.idsa.in/idsacomments/women-in-maoist-ranks_pvramana_151215


‘বক্সাইট খনি খননের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত’

11vzgss03-Triba_13_2616972fজেররিলা ও চিন্তাপল্লীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২১২ হেক্টর জমিতে বক্সাইট খনির প্রস্তাবিত কাজ শুরুর জন্য সরকার জঙ্গলের জমি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রায় ৮,০০০ আদিবাসী যারা সক্রিয়ভাবে সরকারের এই নির্দেশের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের ক্ষোভ ও বিরোধীতা বেড়েই চলেছে। বক্সাইট খনি উত্তোলনের বিরোধীতার প্রশ্নে নারী, পুরুষ, তরুণ সকলেই সহমত; তারা কেউই নিজেদের এলাকায় বক্সাইট খনি খননের কাজ করতে দেবেন না। ৫ নভেম্বর সরকারের জারীকৃত GO 97 বাতিলের দাবীতে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। বক্সাইট খনির খননকাজের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন ৭৩টি স্থান থেকে আদিবাসীরা এ সভায় উপস্থিত হন।

জেররিলা পঞ্চায়েতের জনসভায় নারী, পুরুষ, যুবা সকলে তাদের প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্র সাথে নিয়ে জমায়েত হয়ে বলেন, “বক্সাইট খনিতে কিছু হলে এর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

বক্সাইট খনন কাজের ফলশ্রুতিতে খোন্ড, নুকা, দোরা, বাগাতা ও মান্নে আদিবাসী গোষ্ঠীর জনগণ বাস্তুচ্যুত হবে। এই সব আদিবাসী গোষ্ঠীর কিছু কিছু বিলুপ্তপ্রায়। সরকারের কাছে এজেন্সি এলাকায় বক্সাইট খনির কাজ বাতিলের দাবী জানিয়ে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানার মানবাধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ভি এস কৃষ্ণ বলেন, “আদিবাসীদের অনেকে একাধিকবার বাস্ত্যচ্যুত হয়েছে। এর ফলে তারা পুনরায় তাদের জমি, জল ও জঙ্গল থেকে বাস্তুচ্যুত হবে।”

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/cities/Visakhapatnam/ready-for-armed-struggle-against-bauxite-mining/article7867803.ece


ভারতঃ পুলিশের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের জিজ্ঞাসাবাদকে মতাদর্শিক প্রচারণায় রূপান্তরিত করলেন মাওবাদী নেতা রূপেশ

ru

কেরালার সিপিআই (মাওবাদী) নেতা রূপেশ

নাদাপুরমঃ গ্রেফতারকৃত মাওবাদী নেতা রূপেশ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত প্রমাণ সংগ্রহের জিজ্ঞাসাবাদটিকে আদিবাসীদের জন্য প্রশিক্ষণমূলক সেশনে পরিণত করেন বলে জানা গেছে।

রূপেশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুযায়ী, মাওবাদী মতাদর্শ প্রচারণার লক্ষ্যে তিনি আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় ওয়েনাদ ও কোজিকোদের আদিবাসী গ্রামে যান।

পুলিশ রূপেশকে ওয়েনাদে আদিবাসীদের তিনটি বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানকার লোকেরা তাকে চিনতে পারে। পুলিশ রূপেশকে এ গ্রামে তার বিগত সময়ে আগমনের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে তার গ্রামে আসার কারণ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন যাতে করে অন্যরা তা শুনতে পারে। তিনি প্রায় এক ঘন্টা ধরে আদিবাসীদের কাছে মাওবাদী মতাদর্শ প্রচার করে যান; এ সময় পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। মাওবাদী স্লোগান ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উচ্চারণের মাধ্যমে পুলিশের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের জিজ্ঞাসাবাদকে তিনি মাওবাদী মতাদর্শ প্রচারণায় পরিণত করেন।

অনুবাদ সূত্রঃ http://english.manoramaonline.com/news/just-in/arrested-kerala-maoist-leader-roopesh-evidence-collection-campaign.html

 


‘সেলাম শর্মিলা’ – ডাঃ বিনায়ক সেন

irom-sharmila

ইরম শর্মিলা চানুকে আমার সেলাম। তাঁর লাগাতার ১১ বছরের এই সত্যাগ্রহ যতটা গর্বের ঠিক ততটাই লজ্জার। সার্বিক ভাবে এই পরিস্থিতিতে ৩টি ভয়ঙ্কর লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।

প্রথমত, এটা সত্য যে ইরম শর্মিলার ১১ বছরের অভিযানে আমাদের সরকার এতটুকু মন দেয়নি। দেশের কোনও পলিসি বদলেছে বলে আমি অন্তত জানিনা। বিন্দুমাত্র টনক নড়েনি সরকারের।

দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রশক্তির ইম্পুনিটি স্থাপিত হচ্ছে। এটা একটা মারাত্মক আইন যা আমাদের দেশে কার্যকরী আছে। এর প্রতি আমাদের অবিলম্বে নজর দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন।

তৃতিয়ত, যখন আমাদের সংবিধান তৈরি হয়েছিল, তখন এমন একটা আইন আমাদের দেশে কার্যকরী হবে বলে আমরা কল্পনা করতে পারিনি। আমার বয়স এখন ৬১। যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের দেশের একটা বিস্তীর্ন অংশ জুড়ে লাগু হয়েছে আফস্পা। এই আইন দুর্বিসহ করে তুলেছে মানুষের জীবন। আমাদের দেশে যে মণিপুরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, কখনও তা ভাবিনি। ওই সব অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রত্যক্ষ করছে জরুরি অবস্থা।

সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন মেনে নেওয়ার যোগ্য নয়। আমি আমার মতো করে আজও এই আইনটি বহাল রাখার কোনও যুক্তি খুঁজে পাইনা।

আমি কখনও শর্মিলাকে চাক্ষুষ দেখিনি, তবে শুনতে পাই – তিনি অসম্ভব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ১১ বছর টানা না খেতে খেতে তাঁর ওজন ৩৫ কিলো হয়ে গেছে শুনেছি। এটা খুব দুশ্চিন্তার বিষয়।

১১ বছর হয়ে গেল – যন্ত্রণা বাড়ছেই।

বিনায়ক সেন

বিনায়ক সেন


ভারতঃ ছত্তিশগড়ে ২৬ মাওবাদীর সাজানো আত্মসমর্পণ ?

article-lpqdkrnwru-1450337645

সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের সুকমায় ২৬জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এরা কি আদৌ মাওবাদী? নাকি ভয় দেখিয়ে সাজিয়ে আত্মসমর্পণ করিয়েছে পুলিস। scroll.in এ প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, অন্য পুরনো মামলায় থানায় ডেকে এনে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে এদের অনেকেই আত্মসমপর্ণ করিয়েছে পুলিস।

বিস্তারিত রিপোর্টের জন্য পড়ুন scroll.in


‘রাতে থেকে যান না’ … মাওবাদী নেতা কিষেনজি

কিষেনজি

কিষেনজি

আমন্ত্রণ ছিল খোদ কিষেনজির! রাত পৌনে দশটা। বুড়িশোলের জঙ্গলে। মৃত্যুর ঠিক এক বছর আগে।পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁকরাইল থানার ওসিকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে গেছে মাওবাদিরা। ভরদুপুরে টিভিতে দেশ কাঁপানো ‘ব্রেকিং’।  রাজ্য পুলিসের কর্তাদের টিকি খাঁড়া হয়ে গেছে। শুধু তাই না। থানা আক্রমণ। দু জন পুলিস কর্মীকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে লুট। ব্যাঙ্ক লুট। কয়েক মিনিটের অপারেশন। গাড়ি ছুঁটিয়ে পৌছলাম। দূর কম না। ভয়ঙ্কর কান্ড ঘটিয়ে গেছে মাওবাদিরা। গোটা রাজ্যের মানুষের চোখ টিভিতে। রাইটার্সে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। টান টান উত্তেজনা। সাঁকরাইল থানার ভেতর তখন চাপ চাপ রক্ত মোছা হচ্ছে। ফাইলে ছিটকে লেগেছে রক্তের ধারা। মোছা হচ্ছে চেয়ারের রক্তমাখা হাতল। বুলেটের দাগ থানার দেয়ালে।

অফিসের নির্দেশ— ওখানে পড়ে থাকো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফেরার চিন্তা কোরো না। খুব স্বাভাবিক নির্দেশ। জানাই ছিল। তিনদিন ঝাড়গ্রামে পড়ে আছি। ওসি অতীন্দ্রনাথ দত্তের খোঁজ নেই। খবরের কাগজে ওই রক্তাক্ত বছরগুলো দখল নিয়েছে, রোজই মাওবাদীদের আক্রমণের খবর। বিস্ফোরণের খবর। রাস্তা কাটা, পুলিসকে অক্রমণ, অবরুদ্ধ জঙ্গলমহল। টানা ৬ বছর ।

একদিন সকাল ৯টা। কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেনজির বার্তা এল, অতীন্দ্রনাথ দত্তকে মুক্তি দেওয়া হবে। খুব ভাল কথা। তবে, মুক্তি দেওয়া হবে, তার নির্দেশিত স্থানে। তার নির্দেশেই সংবাদ মাধ্যমের প্রতেনিধিরা কী করবেন, আর কী করবেন না—তা ঠিক হবে। যথারীতি দুপুরের পর বার্তা এল নির্দিষ্ট ওই এলাকায় সাংবাদিকরা জমায়েত হোন। এবার সত্যিই শুরু হল অনির্দিষ্ট এক প্রহর গোনার পালা। আমরা হাতে গোনা কয়েক জন গাড়িতে ঠাসাঠাসি করে যাচ্ছি। কোথাই যাচ্ছি? ওই তো ওদিকে। ঐদিকটা কোনদিক? ওইতো ঐদিকে…. এ সব আলোচনার বিষয়। কয়েকটা গাড়ি সার দিয়ে দাড়িয়ে গেল। প্রাথমিক স্কুলে পড়ান সম্ভবত, দেখতে একদম এক গ্রামীন শিক্ষকের মতো চেহারাধারী বিনীত কন্ঠে বললেন— এখানে অপেক্ষা করুন। সব জানতে পারবেন। অর এই ব্যাগে মোবাইল সুইচ অফ করে রেখে  দিন।

সন্ধ্যে নামছে। এবার আসেন। ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে প্রায় দু-আড়াই কিলোমিটার হাঁটি। ছোট একটা মাঠ। কয়েকটা ঘড়বাড়ি। নির্মীয়মান বিদ্যালয়। অন্ধকারে ঘোলাটে আলোয় যা দেখা যায় ।এখানে সবাই অপেক্ষা করুন। ঘুরঘুটি  অন্ধকার। পোকা। ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়। বিশ্বপৃথিবীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। জোনাকি। পেছন ফিরে দেখি স্কোয়াড সদস্যরা সশস্ত্র। চারিদিক ঘিরে দাড়িয়ে। নেতার নেতা কিষেনজি আসবেন বলে কথা। লেবু পাতা দেওয়া চা। প্রবল মশার উৎপাত।

আচ্ছা কমরেড এখানে সিগারেট পাওয়া যাবে? উঠে দাড়িয়ে অন্ধকারে কাকে জিজ্ঞেস করলাম।

আসুন আমার সঙ্গে। সরু গলি দিয়ে যাচ্ছি। ওই তো দোকান। উহুঁ ও পথে কেন যাচ্ছেন, ল্যান্ডমাইন পোঁতা আছে। আমার সঙ্গে আসুন।

সিগারেট নেই, বিড়ির তাড়া কিেন মাঠে পড়ে থাকি। পৌনে আটটা। আটটা চল্লিশ… নটা দশ….। একটা হ্যাজাক… দুপাশে ৬জন মহিলা কম্যান্ডো বাহিনী। স্কোয়াড লিডাররা মৃদু জয়ধ্বনি দিলেন, কিষেনজি এসে গেছেন। হাল্কা নীল ফুল শার্ট। গামছা বাঁধা মুখ, টুিপ,কাঁধে সেল্ফ লোডিং রাইফেল, কোমরে পিস্তল। পায়ে হাওয়াই চটি।

যুদ্ধবন্দী অতীন্দ্রনাথকে মুক্ত করল তারা। রাজ্যে প্রথম ঘটনা। এক হাত দূরে দাড়িয়ে স্বয়ং কিষেনজি! নানা কথা। নানা উত্তর। বাংলাটা খারাপ শেখেন নি । প্রযুক্তি বিদ্যা কৃতী চাত্র বললেন-এখন লালগড় লিবারেট জোন। আমরাই পারি। পৌনে দশটা সন্তর্পনে জঙ্গল পথ ধরে মাওবাদী কম্যান্ড পাহারায় ফিরছি। আবার দেখা হবে কখনও? করমর্দন করে ফিরছি।

কিষেনজি মৃদু স্বরে বললেন, অনেক কথা আছে। থেকে যান আমাদের সাথে আজ রাতে….।

সূত্রঃ http://aajkaal.in/blogbokom/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BE/