২৩শে ডিসেম্বর ২০১৫ – ৩রা জানুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত ফিলিপিনের মাওবাদীদের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা

ফিলিপিন মাওবাদী

ফিলিপিন মাওবাদী

ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব ফিলিপিন (NDFP) এর আলোচনা প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে, ফিলিপাইন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এতদ্বারা সব কমান্ড এবং নিউ পিপলস আর্মি (এনপিএ) ইউনিট এবং জনগণের মিলিশিয়াদের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা ২৩শে ডিসেম্বর ২০১৫ – ৩রা জানুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এই যুদ্ধবিরতি ফিলিপিনো মানুষের ঐতিহ্যগত বড়দিন এবং নতুন বছরের ছুটি  পালনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে বিপ্লবী বাহিনী গণভাবে মিলিত হতে সক্ষম হবে এবং সিপিপি এর ৪৭তম বার্ষিকীতে জনগণের ক্ষোভ গুলোকে চিহ্নিত করা এবং গত বছরের বিপ্লবী বিজয় উদযাপন করতে পারবে বলে NDFP এর কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আলোচনা প্যানেলের চেয়ারপার্সন লুইস জি জালান্ধনি এক বিবৃতিতে জানান।

অনুবাদ সূত্রঃ 

http://www.philippinerevolution.net/statements/20151215_declaration-of-ceasefire-from-23-december-2015-to-03-january-2016

Advertisements

বাংলাদেশঃ টাঙ্গাইলে র‍্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি(লাল পতাকা)-র তিন সদস্য নিহত

Tangail_BG_491375829

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের ওমরপুর গ্রামে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন কমিউনিস্ট সদস্য নিহত হয়েছেন। র‍্যাব বলছে, নিহত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকা এলিট ফোর্স র‍্যাব গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটায়।

নিহত কমিউনিস্টরা হলেন, সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ওমর (৩০), ঢালানগোপালপুর গ্রামের কাশেম (২৫) এবং খোর্দজুগনি গ্রামের সাদ্দাম (২৬)।

ওমর পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এম এল-লাল পতাকা) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি, কাশেম সংগঠনের এমপি ও সাদ্দাম স্কোয়াড কমান্ডার।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি বিদেশী পিস্তল, সাতটি গুলিসহ দুটি ম্যাগাজিন ও দুটি দোনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

র‍্যাব-১২ এর তিন নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকি বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র‍্যাবের একটি দল পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের ঘেরাও করে। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে তিনজন আহত হয়। তাঁদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তিদের লাশ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

ওমরপুর গ্রামে নিহত কমিউনিস্ট সদস্যদের দেখতে উপস্থিত জনগণ

ওমরপুর গ্রামে নিহত কমিউনিস্ট সদস্যদের দেখতে উপস্থিত জনগণ

সূত্রঃ http://www.thedailystar.net/country/3-%E2%80%98pbcp-outlaws%E2%80%99-killed-%E2%80%98gunfight%E2%80%99-tangail-rab-191956


মেক্সিকোর বামপন্থী বিপ্লবী গেরিলা সংগঠন-জাপাতিস্তা’র মুখপাত্র মার্কোস’র সাক্ষাৎকার

সহপাঠীদের বেশীরভাগ আমাকে খুব কমই বলেছে যে আমি একটা লালমূলো ছিলাম, লালমূলো- বাইরে লাল ভেতরে সাদা।” –  মার্কোস


985388406_850215_0000000000_sumario_normal-290x180


জাপাতিস্তার পাঠ তালিকা

[এই কথোপকথনটি জাপাতিস্তা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির নেতা সাবকমান্ডান্ট মার্কোসের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের অংশ (নেটওয়ার্ক সংস্করণ)। মেক্সিকোর ‘কামবিও’ পত্রিকার তরফে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন বিশ্ববিশ্রুত সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
জাতিসত্তার সংগ্রাম এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে প্রচারের আলোয় আসা এই সংগঠনের অন্যতম নেতা মার্কোসের সঙ্গে এই আলাপচারিতায় গেরিলা জীবনের খন্ডচিত্র পাই আমরা। মার্কোস এখানে ধরা দিয়েছেন একজন বিপ্লবী কবি সাহিত্যিক এবং পাঠক হিসেবে। বিপ্লবী রোমান্টিসিজম লাতিন আমেরিকার অঙ্গ, এখনই তাই অনেকেই মার্কোসকে তুলনা করতে শুরু করেছেন চে গুয়েভারার সঙ্গে। মার্কসবাদের সাথে তাঁদের একাত্মতা আছে, আবার নিজেদের তাঁরা অ্যানার্কিস্ট জাতীয়তাবাদী বলে মনে করেন, সুতরাং বিরোধও আছে। সব জটিলতা নিয়েই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে জাপাতিস্তা একটি নাম। এই অনুবাদটি অর্ধ দশকেরও আগের, কিন্তু এখনও প্রয়োজনীয়। ]

images-2 copy

ছবি: Tova Snyder: Mexican Landscape


মুখপাত্র সাবকমান্ডান্ট মার্কোজ

মুখপাত্র সাবকমান্ডান্ট মার্কোজ

গার্সিয়া মার্কেজ ( কামবিও): এত বিশৃঙ্খলার ভেতর আপনি এখনও কি পড়ার সময় পান?

মার্কোস: হ্যাঁ, কারণ তা নাহলে… কি করতাম তবে আমরা? সেনাবাহিনীর যারা আমাদের মুখোমুখি হয়, সেই সৈন্যরা অস্ত্র পরিষ্কার রাখে প্যারেড করে। একইরকমভাবে আমাদের অস্ত্র হলো আমাদের শব্দ, তাই আমরা আমাদের অস্ত্রাগারের উপর নির্ভর করি।

গার্সিয়া: যা আপনি বললেন- আঙ্গিক এবং বিষয়বস্তুর নিরিখে- সেটি তুলে ধরে যে এক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যগত প্রেক্ষাপট রয়েছে আপনার। এটা কোথা থেকে আসে আর কেমন করেই বা আপনি এটা পান?

মার্কোস: এটা আমার শৈশবের হৈচৈ ভরা সময় থেকেই রয়েছে। আমার পরিবারে শব্দের খুবই বিশেষ মূল্য ছিল। আর এই পথেই আমরা ভাষাকে মাধ্যম করে পৃথিবী পর্যটনে বেড়িয়ে পড়তাম। আমরা স্কুলে পড়তে শিখিনি, সংবাদপত্র পড়তে পড়তেই পড়তে শিখেছি ।

আমাদের বাবা মা আমাদের বই পড়তে শিখিয়েছিলেন, যা খুব দ্রুতই আমাদের নতুন জিনিসের দিকে এগিয়ে যাওয়া সুগম করেছিল। অভ্যস্ত এই পথে বা অন্যভাবে আমরা অর্জন করেছিলাম ভাষা সচেতনতা, কেবল একে অপরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয় বরং কিছু নির্মাণের মাধ্যম হিসেবেও। যেন এটা ছিল কোনো কাজ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল প্রাপ্তির চেয়েও আনন্দদায়ক কিছু। যখন ভান্ডারের মতো বয়স এসে দাঁড়াল, শব্দরা বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের জন্য উচ্চমূল্যের রইলনা। এটাকে নিচুপদে অপসারিত করা হলো। এটা হলো তখন যখন স্বদেশী সম্প্রদায়ের আমরা যাদের ভাষা হয়ে দাঁড়াল পাথর ছোঁড়া গুলতির মত। আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন শব্দরা আপনাকে কোনো ব্যাপার ব্যাখ্যা করতে পারছেনা, আপনাকে বাধ্য করছে ভাষা দক্ষতা বাড়ানোর কাজ করতে, অনুশীলন করতে এবং শব্দগুলোকে সশস্ত্র আর নিরস্ত্র করতে।

মার্কেজ: এটা আর অন্য কোনো উপায়ে হতে পারতনা?  ভাষার উপর এই নিয়ন্ত্রণ এই নব্যযুগে কি মঞ্জুর হতে পারতনা?

মার্কোস: এটা একটা মিশ্রণের মত, আপনি জানেননা কোনটিকে আপনি প্রথমে ছুড়ে ফেলেন, আর শেষ করেন কোনটি দিয়ে, যা শেষমেশ হয়ে দাঁড়ায় একটা ককটেল।

মার্কেজ: আমরা কি সেই পরিবারটির ব্যাপারে কথা বলতে পারি?

মার্কোস: সেটি ছিল একটি মধ্যবিত্ত পরিবার। আমার বাবা ছিলেন পরিবারের প্রধান, একজন স্কুল শিক্ষক ( লাজারো) কার্দেনাসের আমলের, তাঁর কথা অনুযায়ী যে সময়ে কমিউনিস্ট হবার কারণে শিক্ষকদের কান কেটে নিত ওরা। আমার মা’ও একজন গ্রামীণ শিক্ষক, অবশেষে বদলাল, আর আমরা পরিণত হলাম একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে, আমি বলতে চাইছি যে একটি পরিবার যার সত্যিকারের কোনো অভাব নেই। সেই প্রাদেশিক অঞ্চলে সবকিছুই, যেখানে সাংস্কৃতিক দিগন্তের দেখা মেলে স্থানীয় সংবাদপত্রের ‘ সমাজ’ পাতায়।

এর বাইরের দুনিয়া, অথবা বিরাট শহর মেক্সিকো সিটি ছিল বড় আকর্ষণ, বইদোকানগুলো ছিল আসল কারণ। আসলে সেখানে ছিল প্রদেশগুলির বাইরের বইমেলাগুলো, আর সেখানে আমরা কিছু বই পেতে পারতাম। গার্সিয়া মার্কেজ, ফুয়েন্তেস, মনসিভায়েজ, ভার্গাস য়োসা –স্বাধীনভাবে যেভাবে তাঁরা ভেবেছেন এ তার সামান্য উল্লেখ, তাঁদের সবাইকে পেয়েছি আমার বাবা মা’র মাধ্যমে। তাঁদের পড়ার জন্য তাঁরা আমাদের তৈরি করেছিলেন। ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচিউড’ মানে ছিল সে সময় সেই প্রদেশটি কেমন ছিল তার ব্যাখ্যা, আর ‘দ্য ডেথ অব আরতিমেও ক্রুজ’ ব্যাখ্যা করত বিপ্লবের দিনগুলোতে কী ঘটেছিল। ( কার্লোস মনসিভায়েজ) ‘ দিয়াস দে গুয়ারদার ‘ হলো মধ্যবিত্ত পরিবারে কী ঘটত তার ব্যাখ্যা।  আরো একধাপ এগিয়ে যদিও নগ্ন, আমাদের ছবি ছিল ‘ দ্য সিটি এন্ড দ্য ডগস’ এ। সমস্ত কিছুই ছিল সেখানে। আমরা এভাবেই বাইরের দুনিয়ায় এলাম, এলাম সাহিত্যকে জানার ফলে। আর আমার বিশ্বাস এটাই আমাদের সাকার করেছে। আমরা দুনিয়াকে সংবাদ নিবন্ধের মাধ্যমে জানতে পারিনি, কিন্তু জেনেছি একটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধ, অথবা একটি কবিতার মাধ্যমে। আর এসবই আমাদের খুবই স্বতন্ত্র করেছে। এগুলো একটা যা আমাদের বাবা মা দিয়েছিলেন, অন্যদের মত মাসমিডিয়া হলেও হতে পারত একটি লুকিং গ্লাস অথবা একটি অসচ্ছ কাঁচ, যা দিয়ে কি ঘটে চলেছে তা কেউ দেখতে পায়না।

মার্কেজ: এসব পাঠ্যের মাঝে ‘ডন কুইকজোটে’র জায়গা কোথায়?

মার্কোস: তাঁরা আমাকে একটি সুন্দর বই উপহার দিয়েছিলেন, যখন আমার ১২ বছর বয়স–একটি হার্ডকভারের বই। সেটি ছিল ‘ডন কুইকজোট দে লা মাঞ্চা’। সেটি আমার আগে পড়া ছিল কিন্তু সেটা ছিল কিশোর সংস্করণ। এটা ছিল দামী বই, খুবই দারুণ উপহার আমি যার অপেক্ষায় ছিলাম। এরপরে এলেন শেক্সপিয়র। কিন্তু আমি যদি বলতে পারতাম যে ক্রমপর্যায়ে বইগুলি এসেছিল, সেটি ছিল প্রথম ” বিস্ফোরণ ” লাতিন আমেরিকার সাহিত্যে সার্ভেন্তিসের চেয়েও, গার্সিয়া লোরকার চেয়েও,সেই সময়ের সমস্ত কবিতার চেয়েও, এই আপনি ( গার্সিয়া মার্কেজকে উদ্দেশ্য করে)  অংশত দায়ী তার জন্য।”

মার্কেজ: এসবের মধ্যে অস্তিত্ববাদীরা আর সার্ত্রেও কি ছিলেন?

মার্কোস: না। আমরা ওগুলোয় পৌঁছেছি দেরীতে। স্পষ্টত অস্তিত্ববাদী আর তার আগে বিপ্লবী সাহিত্য যাতে আমরা পৌঁছেছিলাম তা ছিল খুব “ছাঁচে ঢালা”- বলা যেত গোঁড়া। তাই সেইসময় আমরা পেয়েছিলাম মার্কস এবং এঙ্গেলসকে, আমরা ছিলাম সাহিত্যের রসিকতা আর বক্রোক্তির প্রভাবে দূষিত।

মার্কেজ: রাজনৈতিক তত্ত্বের কোনো পড়াশুনো ছিলনা সেখানে?

মার্কোস: প্রথম স্তরে ছিলনা। ABC পড়ার সময় থেকেই আমরা সাহিত্যের পাঠে প্রবেশ করেছি এবং তারপর তাত্ত্বিক আর রাজনৈতিক পাঠে, যখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলাম।

মার্কেজ: আপনার সহপাঠীরা কি আপনার মত ভাবত বা কমিউনিস্ট হতে পারত?

মার্কোস: না আমি তা ভাবিনা। তবে তাদের মধ্যে বেশীরভাগই আমাকে খুব কমই বলেছে যে আমি একটা লালমূলো ছিলাম, লালমূলো- বাইরে লাল ভেতরে সাদা।

মার্কেজ: এখন আপনি কী পড়ছেন?

মার্কোস: আমার শয্যার পাশে থাকে ‘ডন কুইকজোট’, আর আমি সবসময় কাছে রাখি গার্সিয়া লোরকার ‘রোমান্সেরো গিতানো’।  ‘ডন কুইকজোট’ রাজনৈতিক তত্ত্বের বাইরে সবচেয়ে সেরা বই তারপর ‘ হ্যামলেট’ আর ‘ ম্যাকবেথ’। মেক্সিকোর রাজনৈতিক ব্যাবস্থার ট্র‍্যাজেডি আর কমেডি বোঝার জন্য আর কোনো ভাল পথ নেই ‘ হ্যামলেট’,’ম্যাকবেথ’,আর ‘ডন কুইকজোট’ ছাড়া। এগুলো অনেক বেশী ভালো যেকোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কলামের তুলনায়।

মার্কেজ: আপনি হাতে লেখেন না কম্পিউটারের সাহায্যে লেখেন ?

মার্কোস: কম্পিউটারে। যখন চলমান থাকি তখন হাতেই লিখতে হয় কারণ আমার কাজ করবার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। আমি একটার পর একটা খসড়া লিখি। আপনি ভাবছেন আমি মজা করছি, কিন্তু এটা হল সপ্তম খসড়া যা সেইসময় আমি লিখেছি।

মার্কেজ: কোন বইয়ের উপর আপনি কাজ করছেন?

মার্কোস: আমি যা লিখতে চাইছি তা এবসার্ড বিষয়ক, এটা হলো আমরা নিজেরা নিজেদের প্রতি কেমন তা ব্যাখ্যার প্রচেষ্টা, যা প্রায় অসম্ভব। আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা আত্মবিরোধী হলেও সত্যবিরোধী নই, কারন একটা বিপ্লবী বাহিনী ক্ষমতা দখলের জন্য বিবেচনার প্রস্তাব দিতে পারেনা..

সমস্ত প্যারাডক্সদের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষ রয়েছে  যে, আমরা বেড়ে উঠেছি শক্তি অর্জন করেছি একটি সংগঠন হিসেবে সম্পূর্ণই সারিবদ্ধ সাংস্কৃতিক সূত্রের সৌজন্যে।

মার্কেজ: এই মুখোসের আড়াল কেন, যদি সবাই জেনে যায় আপনি কে তাই?

মার্কোস: চূড়ান্ত বিজয়ের উপরে থেকে যাওয়া এটা একটা টুকরো কাপড়। তারা জানেনা আমি কে আর তারা তা পরোয়াও করেনা। কি ঘটেছে এখানে সাবকমান্ডান্ট মার্কোসটা কে কিংবা কে ছিল এসবও না ।

(সংক্ষেপিত)

images

ইংরেজি থেকে বাংলায় ভাষান্তর : মৃন্ময় চক্রবর্তী


প্রতিদিন কমরেড সিরাজ সিকদারের কবিতা- (৩) ‘চিম্বুক পাহাড়’

poster, siraj sikder, 17 X 22 inch, 2 colour, 2005

চিম্বুক পাহাড়

ঝরণার কলতান-

পাথরের নুড়ি

বড় বড় টুকরো;

বনপোকার গান;

নিশ্ছিদ্র আকাশ-

হাজার বছরে গাছ গাছালিতে ঢাকা-

   দিনের বেলায়

আবছা অন্ধকার।

গেরিলাযুদ্ধের স্বর্গ দিয়ে

চলেছি আমরা।

ঝর্ণা ছেড়ে খাড়া উঠতে হয়।

সামনে চিম্বুক।

সমতটের পা-

ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়ে।

সেদিনের মত পথ চলা শেষ।

চিম্বুক-

কত উঁচু!

সামনে সবুজ

পাহাড়ের ঢেউ

মিলিয়ে গেছে সমতলে-

খাল-নদী-পুকুর-

পথ-ঘর বাড়ি-

ছবির মত।

তারপর-

দূরে সাতকানিয়া পার হয়ে

বিকেলের রোদে

সাগর ঝলমল।

পিছনে-

পাহাড়ের সারি-

উঁচু হতে হতে

প্রাচীর গড়েছে দিগন্তে।

নির্মল হাওয়ায়

গা জুড়িয়ে যায়।

সমতলের মানুষ আমরা-

দেখিনি এমন!

আবার যাত্রা শুরু।

ভোরের কুয়াশায়

হারিয়ে গেছে

নীচের পৃথিবী।

চারিদিকে পেঁজা তুলোর

আচ্ছাদন-

সূর্যচ্ছটায় ঝলমল।

ঝর্ণা-পাহাড়-জঙ্গল।

কত পথ ভেঙ্গে দেখা

ভ্রাতৃপ্রতিম পাহাড়ীদের সাথে।

আত্মীয়তা-

নিবিড় আতিথেয়তা-

সহজ-সরল।

এখনও তারা শোষকের

কপটতা-প্রতারণা

শেখে নাই।

এখনও রয়ে গেছে তারা-

আদি সাম্যবাদের কাছে-

সমাজতান্ত্রিক সমাজের যেন ছবি।

এই বন-পাহাড়

বাঁশের কোঁড়, আলু-

ঝর্ণার মিষ্টি পানি-

মাছ বন্যজন্তু-

নিপীড়িত পাহাড়ী।

গেরিলাদের স্বর্গ ভূমি।

মনে হয়-

ভিয়েতনামের হাইপ্লাটেস্কে

রয়েছি আমি।

পাহাড়ের

ঢাল বেয়ে

নেমে যায়

মুরং মেয়ে।

অঙ্গে তার ছোট্ট আবরণী!

কী নিটোল স্বাস্থ্যবতী!

কবে তার কাঁধে-

শোভা পাবে

রাইফেল একখানি!

সুদখোর মহাজন

অত্যাচারী বাঙালী

তার সাথে সরকার।

অনেক কাল

হয়ে গেছে পার।

পাক-সামরিক দস্যুরা

উৎখাত হলো-

এলো ভারত

আর তার তাবেদার।

আরো নির্মম হলো

শোষণ-লুণ্ঠন।

অবশেষে খবর পেলাম

চেতনার হয়েছে উন্মেষ।

পাহাড়ের ভ্রাতৃপ্রতিম

জাতিসত্তাগুলো-

লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জাতীয় নিপীড়ন তারা

দূর করবেই।

আমরাও একাত্ম-

তোমাদের সংগ্রামে।

নিপীড়িত বাঙালী-পাহাড়ী মিলি

শত্রুদের উৎখাত করবোই।

পাহাড়-বন

ঝর্ণার দেশ

লাল হবে

শত্রুর রক্তে।

বাঙালী আর পাহাড়ী

মুক্ত হবে

কায়েম হবে

জনগণের শাসন-

গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব।

 

 

(নোটঃ হাইপ্লাটেক্সঃ ভিয়েতনামের  জাতিগত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পাহাড়-জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চল। ভিয়েতনামের পুরোনো মুক্ত অঞ্চল)

 


ভারতঃ সিপিআই(মাওবাদী)-র ‘প্রতিবাদ সপ্তাহ’ শুরু

maoists_plga

সিপিআই(মাওবাদী)-র ডাকা বক্সাইট খনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সপ্তাহের প্রথম দিন, মঙ্গলবার বিশাখা এজেন্সিতে শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ও সিআরপিএফের বর্ধিত সাঁড়াশি অপারেশন সত্বেও মাওবাদীরা গত সোমবার এক “চর”কে খতম করে তাদের প্রাধান্য অব্যাহত রেখেছে। চলমান সপ্তাহে স্থানীয়রা বেশী সহিংস ঘটনার আশঙ্কা করছে। প্রধান রাস্তায় যানবাহন ও যাত্রীদের নিবিড় ও অবাধ তল্লাশির জন্যে এজেন্সি থানায় গ্রে হাউন্ড ও প্রশিক্ষিত SIS পাঠানো হয়েছে।

অনুবাদ সূত্রঃ

http://www.thehindu.com/todays-paper/tp-national/tp-andhrapradesh/protest-week-begins/article8020697.ece


কলকাতাঃ RADICAL এর গণসংযোগ- “নকশাল বাড়ী এক হি রাস্তা”

1

 

2

3

4

5

7


বাংলাদেশঃ নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা জাতীয় কমিটির বিবৃতি

12360093_10207388390286850_7213180172363690027_n

নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা জাতীয় কমিটি বিবৃতি

ডানকান ব্রাদার্সের চা শ্রমিকদের আন্দোলনকে সমর্থন করুন,চা শ্রমিকদের আন্দোলনকে সামগ্রিক শোষণ মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিন।’

গত কয়েকদিন ধরেই চান্দপুর ডানকান ব্রাদার্সের চা শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন।এই আন্দোলনের মূল কারণ খুব পরিষ্কার।তারা তাদের বাপ দাদার জমি অর্থাৎ তারা তাদের অস্তিত্বকে বিলীন করতে চান না। ১৮৯০ সাল থেকে যারা এই ৫১১ দশমিক ৮৩ একর জমিতে ফসল ফলিয়ে আসছেন,তাদের স্পেশাল ইকনোমিক জোনের নাম করে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।এটা একটি অগণতান্ত্রিক জুলুমবাজ সরকারের ‘সাধারণ’ সিদ্ধান্ত বটে।এই গণবিরোধী সরকার গত কয়েক বছর ধরে উন্নয়নের নামে যা শুরু করেছে এই চা বাগান থেকে জনগণকে উচ্ছেদ তার একটি নমুনা।এর আগে আমরা দেখেছি কয়লা খনি বানানোর নাম করে ফুলবাড়ির জনগণকে উচ্ছেদের চেষ্টা,যা এখনো চলমান।এছাড়াও রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম করে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার যে উৎসবে মেতেছে এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র তাতে বাঁচার জন্য জনগণের জঙ্গি হয়ে ওঠার শর্ত সৃষ্টি করছে। আমরা এই স্পেশাল ইকনোমিক জোনের নাম করে জনগণকে তার জমি থেকে উচ্ছেদের তীব্র বিরোধিতা করি ও অবিলম্বে সেখান থেকে ফ্যাসিবাদী সরকারকে হাত গুটানোর দাবি জানাই। জনগণের প্রতি আহবান জানাই আন্দোলনকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার এবং এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তোলায় অংশ নেয়ার আহবান জানাই।

বার্তা প্রেরক

বিপ্লব ভট্টাচার্য্য

13516