বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘গুলাব গ্যাং/Gulaab Gang’

Support-My-School-Gulaab-Gang13

ভারতের মতো দেশেও যে নারীরা কতো অসহায় তা অনেক স্পষ্টরূপেই ‘গুলাব গ্যাং’র মাধ্যমে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন পরিচালক সৌমিক সেন। সমাজের নানা অন্যায় যেমন যৌতুক, ঘুষ, শস্য মজুদ ব্যবসায়ীদের শোষণ এবং ধর্ষণের মতো ঘটনাকে নিজ হাতে দমন করে রাজ্জের ‘গুলাব গ্যাং’। আর এই দলের প্রধান রাজ্জের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাধুরী দীক্ষিত।

সৌমিক সেন পরিচালিত ‘গুলাব গ্যাং’ সিনেমার মূল আকর্ষণ উচ্চাকাঙ্খী রাজনীতিবিদ জুহি চাওলা।
গ্রামের যোদ্ধা ‘রাজ্জ’ চরিত্রের উপর কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘গুলাব গ্যাং’ সিনেমার কাহিনী। গ্রামের অশিক্ষিত দুর্বল নারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে প্রশিক্ষণের কাজ করে থাকেন নারী জাতির সিম্বোলিক রাজ্জ।

Advertisements

চিনে মাওয়ের বিশাল মূর্তি বানাল উদ্বৃত্ত মূল্যভোজীরা

মধ্য চীনের হেনান প্রদেশের কাইফেং শহরের কাছে টংজু কাউন্টির এক ক্ষেতের মধ্যে কিংবদন্তি এই কমিউনিস্ট নেতার মূর্তিটি বসানো হচ্ছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

‘বিশ্ববিপ্লবের কর্ণধার’ মাও সে তুং মৃত্যুর প্রায় ৪০ বছর পর তাঁর বিশালাকার মূর্তি তৈরি করছে কমিউনিস্ট নাম সর্বস্ব পুঁজিবাদী চিন। এই মূর্তিটি তৈরি হয়েছে স্টিল এবং কংক্রিট দিয়ে৷ মূর্তির গায়ে রয়েছে সোনালি রংয়ের প্রলেপ৷ জানা গিয়েছে, এই মূর্তি নির্মাণের খরচ জুগিয়েছেন চিনের শিল্পপতিরা তথা উদ্বৃত্ত মূল্যভোজীরা৷

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত গণচিনের প্রধান ছিলেন কমরেড মাও সে তুং৷

উল্লেখ্য যে, বিবিসি বলেছে, মূর্তিটি যে প্রদেশে বসানো হচ্ছে, সেখানে বিপ্লব পরবর্তী ১৯৫০ এর দশকে দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

পুঁজিবাদে যেখানে সব কিছুই পণ্য, সেখানে মাওয়ের মূর্তি বানিয়ে চীনের উদ্বৃত্ত মূল্যভোজীরা কি ব্যবসা করবেন তাই দেখার অপেক্ষায় থাকবে বিশ্ব !


প্রতিদিন কমরেড সিরাজ সিকদারের কবিতা- (১৫) ‘সন্ধ্যা’

poster, siraj sikder, 17 X 22 inch, 2 colour, 2005

         সন্ধ্যা             

শেষ বিকেলে-

বাতায়ন পথে

শিশুদের কোলাহল

শোনা যায়।

মাঠের শিশুদের মাতামাতি

ছাড়িয়ে-

কলোনির হলদে বাড়িগুলোর

খোলা জানালা

তারপর

আবছা আঁধার ঘর-

এখনো বাতিগুলো জ্বলেনি।

হয়ত গৃহিনীরা

সারাদিনের খাটুনি

আর-

স্বাধীনতার ব্যর্থ পরিহাস-

অভাব-অনটন

নিরাপত্তার চিন্তার ক্লেশ সেরে

বারান্দায় দাঁড়িয়েছে,

দিগন্তের পানে চেয়ে।

হয়ত ক্ষণিকের জন্য

থেমে গেছে তারা।

সন্ধ্যার আগমনে

কালো হয়ে আসা জগৎটা-

নীড়ে ফেরা পাখীর কাকলি;

শিশুদের কোলাহল।

তারপর-

জ্বলে ওঠে বাতিগুলো।

ঘরে ঘরে আলো।

শিশুরা ফিরে আসে।

শেষ সন্ধ্যায় শূন্য মাঠ।

গৃহিনীরা ফিরে আসে

কষ্টকর জীবনের মাঝে।

তাদেরও মনে জেগে উঠে

স্বাধীনতার পরিহাস থেকে

মুক্তির আকুতি।

(নোটঃ কবি এ কবিতাটিকে গানে রূপ দিয়েছেন)


মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতা আরও বেড়েছে

4bhkb9ede309b81j3a_620C350

মার্কিন সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার হার গত বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে আশংকাজনকভাবে বেড়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। মার্কিন ডিফেন্স সুইসাইড প্রিভেনশন অফিস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে দেখা যায়, রিজার্ভ ইউনিটসহ মার্কিন সেনাবাহিনীর সব শাখায় গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেড়েছে। ২০১৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এ হার বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে চাকরিতে সক্রিয় সেনা সদস্যদের মধ্যে ৫৭ জন আত্মহত্যা করেছিল। কিন্তু গত বছর এ সংখ্যা বেড়ে ৭২-এ পৌঁছেছে। অন্যদিকে একই সময়ে রিজার্ভে সেনাদের আত্মহত্যার সংখ্যা ৪৮ থেকে বেড়ে ৭০-এ গিয়ে ঠেকেছে।

একই সময়ে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে মেরিন কোরে। এ বাহিনীতে ২০১৪ সালে ৬ জনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেও ২০১৫ সালে তা এক লাফে ১৩-তে গিয়ে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয় নি।

অবশ্য বিদেশে দীর্ঘদিন মোতায়েন রাখা এবং যুদ্ধ ফেরত সেনাদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করাকে দেশটির সেনা সদস্যদের আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে।


ভারতঃ অপহৃত ছাত্ররা জানিয়েছে নকশাল ও গ্রামবাসীরা কোন দুর্ব্যবহার করেনি

pune-youth-759

ছত্তিশগড়ে গত মাসে নকশালদের দ্বারা অপহরণের পাঁচদিন পর মুক্তি প্রাপ্ত পুনের তিন ছাত্র গতকাল জানিয়েছে নকশালরা তাদের সাথে কোন প্রকার দুর্ব্যবহার করেনি। তারা গাদচিরোলিতে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপ পাতিলের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় কঠোর জীবন সম্পর্কে জানতে এসে বন্দিদশার সময় তাদের অভিজ্ঞতা বলেন। অপহৃত ৩ ছাত্র- আদর্শ পাতিল, বিলাস ভালাকে ও শ্রীকৃষ্ণ শেওয়ালে-কে বিজাপুর জেলার বাসাগুদা গ্রাম থেকে গত ২৯শে ডিসেম্বর অপহরণ করে ২রা জানুয়ারি নকশালরা মুক্তি দেয়।

ছাত্ররা জানান, নকশালদের কাছে বন্দী থাকা অবস্থায় তাদের সাথে কোনরূপ দুর্ব্যবহার করা হয়নি। এই ছাত্ররা বিজাপুরে নকশাল অধ্যুষিত এলাকায় একটি পিস সাইকেল র‍্যালিতে যোগ দিয়েছিলেন। গত ২০শে ডিসেম্বর শুরু করা এই যাত্রায় পুনে থেকে ওডিশা পর্যন্ত ছিল তাদের এই র‍্যালি। ‘ভারত জোড়ো’ অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় ও ওডিশায় শান্তির বার্তা দিতেই তাদের এই অভিযান ছিল।

ছাত্ররা বলেন, “আমরা আমাদের অভিযানের অংশ হিসাবে দূরবর্তী এবং মাওবাদী প্রভাবিত আদিবাসী অঞ্চলে মানুষের জীবন অধ্যয়ন করতে গিয়েছিলাম এবং আমরা সম্পূর্ণরূপে তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতাম। কিন্তু নকশালরা অপহরণ করবে, এটা আশা করিনি”।

“গত ২৯শে ডিসেম্বর আমরা ছত্তিসগড়ের বাসাগুদা গ্রামে বিরতি দেই, ওই সময় সাধারণ পোশাক পড়া কিছু লোক এসে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে হাত বেঁধে ফেলে, তখনি আমরা বুঝতে পারলাম যে অপহৃত হয়েছি। যদিও গ্রামবাসী আমাদের খাবার দিয়েছিল।”

“পরের দিন নকশাল ইউনিফর্ম পড়া একজন লোক আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমাদের সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন”। আমাদের মানিব্যাগে কিছু টাকা ছিল, কিন্তু নকশালরা ও গ্রামবাসীরা সেগুলো স্পর্শ করেনি। তারা আমাদের ব্যাগ, ক্যামেরা, মোবাইল ইত্যাদি চেক করেছিল। জানুয়ারির ২ তারিখে আমরা ছাড়া পাই।”

পুনের ছাত্ররা বলেন, “আমরা সম্পূর্ণরূপে একটি ভিন্ন পৃথিবী দেখেছি, যেখানে মানুষ এখনও বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করছেন। তারা বিদ্যুৎ, পুষ্টিকর খাবার বা ভাল জামাকাপড় থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে “।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.business-standard.com/article/pti-stories/students-say-they-weren-t-ill-treated-by-naxals-in-captivity-116010501134_1.html


ভারতঃ ছত্তিশগড়ের কোন্দগাঁওতে ভুয়া সংঘর্ষে ২ মাওবাদীকে হত্যা

কোন্দগাঁওতে ভুয়া সংঘর্ষে ২ মাওবাদীকে হত্যা করার স্থান

কোন্দগাঁওতে ভুয়া সংঘর্ষে ২ মাওবাদীকে হত্যা করার স্থান

ছত্তিশগড়ের কোন্দাগাঁও জেলায় পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২ মাওবাদী। মিডিয়ার কাছে অন্তত এমনটাই দাবি করেছে পুলিস। অন্যদিকে সুকমায় পুলিস গ্রেফতার করেছে ১ মাওবাদীকে। মানবাধীকার কর্মীদের অভিযোগ একদিকে ভুয়ো আত্মসমর্পণের ঘোষণা অন্যদিকে মাওবাদীদের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করার মাধ্যমে পুলিস আসলে ছত্তিশগড়ে খনিজ সম্পদ লুটের করপোরেটদের নীল নকশাকে রূপ দিতে চাইছে।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/other-states/naxals-gunned-down-in-chhattisgarhs-kondagaon-district/article8068849.ece