ভারতের মাওবাদী গেরিলা দল PLFI প্রধানের একটি সাক্ষাৎকার

1

সিপিআই (মাওবাদী) এর সাথে পিএলএফআই এর মতাদর্শের দিক থেকে মিল আছে তবে কার্যক্রমে ভিন্নতা রয়েছে 

ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, বিহার ও ছত্তিসগড়ে সক্রিয় রাষ্ট্র কর্তৃক একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পিএলএফআই (People’s Liberation Front of India-PLFI)। সিপিআই (মাওবাদী) এর পর ঝাড়খণ্ডে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম বাম ধারার সশস্ত্র দল। ১২টি রাজ্যের ২৪টি জেলায় এ সংগঠনটি সক্রিয়। রাষ্ট্র কর্তৃক এ ধরনের অন্তত ১৭টি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল রয়েছে।  

গত বছরের ৮ মার্চ  AJSU(All Jharkhand Students` Union )এর নেতা তিলেশ্বর সাহুকে গুলি করে হত্যা করে পিএলএফআই এর ক্যাডাররা।

উড়িষ্যার সুন্দরগড় ও রাউরকেল্লা জেলায় এ দলটি সক্রিয়। ২০১২ সালে সুন্দরগড় জেলায় ঠিকাদার হরদীপ সিং ও রাজ্যসভা সদস্য মঙ্গলা কিষণকে চাঁদার জন্য হত্যা করে পিএলএফআই।

২০১৪ সালে রাউরকেল্লাতে পিএলএফআই এর জোনাল কমান্ডার জয়নাথ গোপকে এক বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করে পুলিশ।

গত ৩০শে মার্চ বিহারের রাজধানী পাটনায় একটি ফ্ল্যাটে বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে পিএলএফআই।

ছত্তিসগড়ের জশপুর অঞ্চলে পিএলএফআই সক্রিয় রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী অধ্যুষিত বেল্টগুলোতে এর ভিত্তি তৈরি হতে শুরু করেছে।

পিএলএফআই এর সশস্ত্র স্কোয়াডে রয়েছে তরুণদের দল ও এর নেতৃত্বে রয়েছে একজন যুবক।

পিএলএফআই এর অস্ত্র ভান্ডারে রয়েছে একে ৪৭, একে ৫৬ এসল্ট রাইফেল, এলএমজি, আমেরিকায় তৈরি এম ১৬ রাইফেল, কারবাইন, গ্রেনেড লাঞ্চার ও মর্টার।

2

প্রাক্তন সৈনিক দীনেশ গোপ (৩৩) ভারতীয় আর্মিতে যোগ দেয়ার তিন বছর পর ২০০৩ সালে আর্মি ত্যাগ করেন ও বিদ্রোহী দল গঠন করেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, লাদাখে তার উচু স্তরের এক আর্মি সদস্যকে একজন নারীকে ধর্ষণ করতে দেখেছিলেন।

স্বাস্থ্যবান গোঁফধারী ছয় ফিট লম্বা দীনেশ ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি দশটির বেশী ভাষায় কথা বলতে পারেন। তার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে ৩৫টির মতো মোবাইল ফোন থাকে এবং দলের সশস্ত্র কর্মীদের সাথে মোটরসাইকেল বহরে চলাফেরা করেন।

গোপের সাথে সাক্ষাতের জন্য ঝাড়খণ্ড-উড়িষ্যা সীমান্তের কাছে অপ্রকাশিত একটি স্থানে হিন্দুস্তান টাইমসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। জাতীয় দৈনিকে দেয়া তার প্রথম সাক্ষাৎকারে গোপ বেশ কিছু বাঁকা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

আপনারা নিরীহ লোকদের হত্যা করেন কেন?

আমরা কেবল তাদের হত্যা করি যারা সমাজ বিরোধী ও যারা গরীব ও নিরীহ মানুষদের শোষণ করে। শান্তি সেনার মতো প্রতিপক্ষের কিছু গোষ্ঠী যারা পুলিশের ছত্রছায়ায় কর্মকাণ্ড চালায় তারাই এসমস্ত কর্মকাণ্ড করে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপায়। পুলিশ যা বলে গণমাধ্যম তাই প্রচার করে। আমাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তাই লোকজন আমাদের দলের নাম ব্যবহার করছে।

সিপিআই (মাওবাদী) এর সাথে পিএলএফআই পার্থক্য কী?

আমাদের মতাদর্শে মিল আছে কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ড তাদের থেকে আলাদা। আমরা শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিই না, তারা দেয়। আমরা স্কুল তৈরী করি, তারা স্কুল উড়িয়ে দেয়। আমরা শিশুদের স্কুলে ভর্তি করাই, তারা তাদের সশস্ত্র স্কোয়াড ও শিশু ইউনিটের সদস্য সংগ্রহের জন্য শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।

আপনাদের সশস্ত্র স্কোয়াডের শক্তি কী?

পাঁচটি রাজ্যে আমাদের ৭০০০ থেকে ৮০০০ যোদ্ধা আছে।

বন্দুক আর রক্তপাত কি কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে?

ইতিহাস বলে রক্তপাত ব্যতীত কোন বিপ্লব ঘটেনি। বন্দুক হল সমাজে আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার একটি মাধ্যম মাত্র।

পিএলএফআই এর মধ্যে প্রচুর স্ববিরোধীতা আছে। আপনি বলছেন আপনারা রাষ্ট্রের বিরোধী অথচ আপনাদের নেতারা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে  ও সাংবিধানিক পদে বসে আছে।                                                                                  

সময়ে সময়ে সিস্টেমকে ভালোভাবে বুঝতে হলে আপনাকে সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আপনার শক্তিশালী রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে আপনি এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার হননি                                                                                       

আমি রাষ্ট্রের (রাজনীতিবিদদের জন্যেও) সবচেয়ে বড় শত্রু। আমাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা থেকে পুলিশ ও রাজনীতিবিদেরা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে থাকে।

 

পিএলএফআই বিপুল অংকের চাঁদা আদায় করে থাকে। হিসাবের বাইরের অর্থগুলো কোথায় যায়?                                                                                         

আমাদের অর্থের হিসাব অডিট করা হয় এবং এ অর্থ সংগঠনের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। অর্থের অধিকাংশ যায় জনগণের কল্যাণে।

আপনাদের জন্য যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে তাদের জন্য আপনারা কী করেছেন?

ওরা আমার মত জন্ম থেকে বিপ্লবী। ওরা অর্থ বা কোন কিছু পাওয়ার আশায় আসেনি। আমরা সবাই মিলে সেই অধরা সমাজের বীজ বপন করছি যেখানে গরীবদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আপনারা নারী ও শিশুদের কেন দলে ঢোকান?

আমরা ওদের দলে ঢোকাই না। যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক কোন কিশো বা কিশোরী স্বেচ্ছায় আসতে চায়, তাহলে আমরা তাকে বাধা দিই না।

আপনাদের মূল লক্ষ্য কী?

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের মতাদর্শকে ছড়িয়ে দেয়া আমাদের লক্ষ্য। আকসাম ভিত্তিক চা বাগানের শ্রমিকদের একটি সংগঠনের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা উত্তরখণ্ড ও হরিয়ানাতেও আমাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছি। বর্তমানে আমাদের বাহিনীর ক্যাডাররা শ্রীলংকা, মরিশাস, চীন ও নেপালের সমমনা সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামবাসীদের জন্যে PLFI কর্তৃক নির্মিত মন্দির

গ্রামবাসীদের জন্যে PLFI কর্তৃক নির্মিত মন্দির

অনুবাদ সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/ranchi/plfi-maoists-interview/article1-1346169.aspx


পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি/১ নভেম্বর, ২০১৫

Maoist-Flag

প্রগতিশীল প্রকাশক হত্যার নিন্দা

(পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি/১ নভেম্বর, ২০১৫)

সাহসের সাথে সংগঠিত হোন! রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুনএকটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে ব্রতী হোন!

গতকাল, ৩১ অক্টোবর ঢাকায় প্রায় একই সময়ে দু’জন প্রগতিশীল পুস্তক প্রকাশকের উপর সশস্ত্র সন্ত্রাসী আক্রমণ, জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক দীপনকে হত্যা ও শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিক টুটুলসহ তিনজনকে গুরুতর আহত করার বর্বরোচিত ঘটনায় আমরা তীব্র ও নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। দৃশ্যত এটা ধর্মীয় মৌলবাদী তৎপরতা বলেই ধারণা করা যায়।
এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়। এর সাথে বিশ্ব ও দেশিয় শাসকশ্রেণির সম্পর্ককেও অবশ্যই উন্মোচন করতে হবে, জনগণের প্রগতি ও মুক্তির বাধাকে সমগ্রভাবে বিরোধিতা করতে হবে এবং মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে।
বিগত এক বছরের কম সময়ে অভিজিত রায়সহ বেশ কয়েকজন বিজ্ঞান-লেখক ও ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে এখানে ধর্মীয় মৌলবাদীদের সশস্ত্র তৎপরতার বিকাশ লক্ষ করা যায়। যারা জনগণের মূল শত্রুদের উপর আক্রমণের বদলে জনগণকে হত্যা করার প্রতিক্রিয়াশীল গণবিরোধী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। গণবিরোধী রাষ্ট্রযন্ত্র ও শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার বুর্জোয়া রাজনীতিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামাতকে দমন করে নিজেদের কুক্ষিগত ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আর এ অভিপ্রায়ে এসবের জন্য বিএনপি-জামাতকে দায়ী করার মধ্য দিয়ে প্রকৃত মৌলবাদী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে রক্ষা করে চলেছে। এভাবে তারা প্রগতিশীল জনগণকে এই ধর্মীয় ফ্যাসিস্টদের আক্রমণের সহজ টার্গেটে পরিণত হতে কার্যত সহায়তা করছে। এদের কাছে ফ্যাসিবাদী আক্রমণের বিচার ও প্রতিকার চাওয়া অর্থহীন। কারণ, এরাও গণশত্রু ও ফ্যাসিস্ট। এদের সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলীয় কেডার বাহিনী একইভাবে অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে ও বর্বরভাবে হত্যা করেছে ও করে চলেছে।
দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির লালিত, পালিত ও বর্ধিত হওয়ার এক উর্বর ক্ষেত্র। যা গণশত্রু সাম্রাজ্যবাদের দালাল এখনকার শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকারসহ প্রতিটি সরকার প্রতিপালন ও রক্ষা করে চলেছে।
বৈশ্বিক পরিসরে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীরা, যারা হাসিনা সরকারসহ শাসকশ্রেণির প্রভু, তারাই ৮০-দশকে এই মৌলবাদীদেরকে সৃষ্টি করেছিল। তাই বিশ্বজুড়ে চাড়া দেয়া ধর্মীয় মৌলবাদী সশস্ত্র শক্তির সাথে বিশ্ব ও দেশিয় ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণির রয়েছে প্রকাশ্য ও গোপন সম্পর্ক।
একইসাথে মধ্যযুগীয় সামন্তবাদী আদর্শের জেরে আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও দালাল বুর্জোয়া শ্রেণির সাথে তাদের দ্বন্দ্বও রয়েছে। বৈশ্বিক পরিসরে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদের তথাকথিত “সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ”-র নামে বিশ্বব্যাপী বিশেষত মুসলিম জনগণের উপর বর্বর যুদ্ধাভিযান এই অপশক্তিকে বিকশিত হতেই ভূমিকা রাখছে। একইভাবে দেশে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের মদদে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনও একে বিকশিত হবার শক্তি যোগাচ্ছে।
একদিকে বিদেশি সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত বর্তমান হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের নির্লজ্জ দালাল শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ, এবং অন্যদিকে সশস্ত্র প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল তৎপরতাকে সংগ্রাম করতে হলে বিপ্লবী গণস্বার্থ সম্পন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনগণের নিজেদের সশস্ত্র হতেই হবে। কারণ, একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে হলে চলমান ব্যবস্থাকে ও তার প্রতিপালকদেরকে সমূলে ও সবলে উচ্ছেদ করা ব্যতীত অন্য কোন পথ নেই।
চলমান রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ ও দালাল শাসকশ্রেণিকে বিরোধিতার নামে ধর্মীয় মৌলবাদে আশ্রয় নেয়া হলো এক বিভ্রান্ত ও পশ্চাদমুখী মধ্যযুগীয় ফ্যাসিবাদী পথ। তেমনি এইসব মৌলবাদকে বিরোধিতার নামে চলমান বিশ্ব ও দেশিয় ব্যবস্থার রক্ষকদের পক্ষাবলম্বন হলো আরো বড় মুর্খতা, গণবিরোধিতা ও প্রগতি বিরোধিতা।
সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের আদর্শ আজ সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যাবার কারণেই দেশ ও বিশ্ব আজ এই দুর্যোগের সম্মুখীন। যারা আজ বুর্জোয়া গণতন্ত্রের নামে সাম্রাজ্যবাদ ও মুৎসুদ্দি ফ্যাসিবাদের পক্ষে দালালী করছে তাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা, প্রতারণা, ভণ্ডামি ও ব্যর্থতা তুলে ধরাটাই এখনকার মূল কর্তব্য। সেজন্য জনগণকে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের আদর্শে এই ব্যবস্থা উচ্ছেদের বিপ্লবী রাজনীতি ও সংগ্রামে সামিল হতে হবে। তাহলেই ধর্মীয় মৌলবাদী ফ্রাঙ্কেনস্টাইন থেকেও জনগণ মুক্ত হতে পারবেন। নতুবা দেশ ও জনগণকে আফগানিস্তান, সিরিয়ার ভাগ্য বরণ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এবং মধ্যযুগীয় ধর্মীয় মৌলবাদী ফ্যাসিবাদ – একই মুদ্রার দুই পিঠ

বুর্জোয়া গণতন্ত্রের মোহ ত্যাগ করুন! সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ ও দালাল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণি ও তার ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রযন্ত্রকে উচ্ছেদ করুন!

সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের বিশ্বব্যবস্থার লক্ষে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরুন!

বিপ্লবী রাজনীতির ভিত্তিতে জনগণকে সশস্ত্র করুন! মাওবাদী গণযুদ্ধ’র পথে এগিয়ে চলুন!

সূত্রঃ http://pbsp-cc.blogspot.com/


প্রতিদিন কমরেড সিরাজ সিকদারের কবিতা- (১৮) ‘সন্ধ্যা’

poster, siraj sikder, 17 X 22 inch, 2 colour, 2005

সন্ধ্যা

জলে ভরা মাঠ-

ডুবে যাওয়া পাটের মাথা

ঝোপ-ঝাড় কচুরিপানা।

কালো জলে-

শাখা-পাতা-গুঁড়ির ছায়া মিলে

সন্ধ্যার অন্ধকারে

রহস্য গড়েছে।

ওপারে গ্রামগুলো

কালো বনের রেখা-

তারপরে শেষ সূর্যচ্ছটায়

রঙীন আকাশ।

শোঁ-শোঁ-শন-শন

দখিনা বাতাস।

গুরু গুরু মেঘের ডাক।

ব্যস্ত গৃহিনীরা

পাট তোলে ঘরে-

ছোট্ট মেয়েরাও কি কর্মব্যস্ত-

প্রাণভরা জীবনের ছবি।

আম-কাঁঠালের সারি

কুমড়োর ঝাঁকা-

ঘরের ছায়া

ত্বরায় ডেকে আনে

সন্ধ্যার অন্ধকার।

ক্লান্ত গৃহিনীরা

রাতের আহার যোগায়-

বেড়ার খোলা পাকের ঘরে

রুটি বেলা আর সেঁকা-

কাঠের চুলো-

পাতার আগুন

ধোঁয়ায় ভরা।

তবুও তারা কষ্ট করে যায়।

আসন্ন মুক্তির সংগ্রামে

কষ্টের শোধ তারা তুলবেই-

সুখময় জীবন তারা গড়বেই।

 


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘পাঁচটি ভাঙা ক্যামেরা/Five Broken Cameras’

সীমালঙ্ঘনকারী ইহুদিবাদী দখলদারদের বিরুদ্ধে একটি ফিলিস্তিনি গ্রামের প্রতিরোধের গল্প

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এমাদ বুরনাত পাঁচ বছর ভাঙা ক্যামেরা কাঁধে করে বেরিয়েছেন – ‘‘পাঁচটি ভাঙা ক্যামেরা” – এবং ছবি তুলেছেন৷ কিসের? অধিকৃত পশ্চিম তীরে বুরনাতের নিজের গ্রাম বিল’ইন-এ সাপ্তাহিক প্রতিবাদের ছবি৷ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও ইহুদি বসতি যেভাবে তাদের জমি গ্রাস করছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ৷

বুরনাত দেখাচ্ছেন, তাঁর ছোট্ট ছেলেটা কিভাবে ফিলিস্তিনি বাস্তবকে চিনতে শিখছে, কিভাবে সেই ছেলে প্রথম যে দু’টি শব্দ বলতে শিখল, সে দু’টি হল ‘‘প্রাচীর” এবং ‘‘সেনাবাহিনী”৷ বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে বুরনাতের প্রতিবেশিরা প্রাণ হারাচ্ছেন৷ পটভূমিতে রয়েছে বাড়ি ভাঙার বুলডোজার৷

‘‘এই ছবিটা হলো যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের জন্য৷ সেটা আমার চেয়ে, বিল’ইন-এর চেয়েও বড়৷ পৃথিবী এখন আমাদের সংগ্রামের কথা জানতে পারবে,” বলেছেন বুরনাত৷

এক ইসরায়েলি আলোকচিত্রশিল্পী বুরনাত-কে তাঁর পাঁচটি ক্যামেরার মধ্যে একটি দেন৷ ছবি তোলার পাঁচ বছরে বুরনাতের ক্যামেরাগুলি প্রতিবাদ চলার সময় গুলিতে কিংবা ধাক্কা খেয়ে গুঁড়ো হয়ে গেছে – তা-ই ‘‘পাঁচটি ভাঙা ক্যামেরা”৷

চলচ্চিত্রটি নিয়ে ফিলিস্তিনিদের আশা, দুনিয়া এবার দেখবে এবং বুঝবে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য তাদের সংগ্রামের কথা৷

5_Broken_Cameras_v5

Streaming Link:
Full Movie (warning: ads)


মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যৌন সহিংসতার মাত্রা ৫৫ ভাগ বেড়েছে

131539_600

আমেরিকার তিনটি সামরিক একাডেমিতে যৌন নির্যাতনের মাত্রা গত বছরের চেয়ে ৫০ ভাগের বেশি বেড়েছে বলে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন মিলিটারি একাডেমি, নৌ একাডেমি এবং বিমান বাহিনী একাডেমিতে যৌন হয়রানি এবং সহিংসতা বিষয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।  

নিউইয়র্কের ওয়েস্ট পয়েন্টের মার্কিন মিলিটারি একাডেমি, মেরিল্যান্ডের এনাপুলিসের নৌ একাডেমি, কলোর‍্যাডের কোলোর‍্যাডো স্প্রিংসে অবস্থিত বিমান বাহিনীর একাডেমিতে পেন্টাগনের চালানো এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ২০১৪-২০১৫ সালে ‘যৌন হয়রানি এবং সহিংসতা’ বিষয়ে  ৯১টি মামলা হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) মার্কিন ‘মিলিটারি টাইমস’ এ খবর দিয়েছে।

যৌন হয়রানির ৫৪টি মামলার ওপর কোন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়নি। মার্কিন কমান্ডার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এসব মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে পারবে বলে মার্কিন সামরিক একাডেমিতে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের লেখকরা এ কথা জানিয়েছেন।

২০১১ সালের পর থেকে বিমান বাহিনী একাডেমিতে সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪-২০১৫ সালে ৪৯টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে ২৭টি মামলার ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয় নি বা এগুলো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পাবার যোগ্য বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমির ক্যাডেটরা ১৭টি মামলা দায়ের করেছেন যার মধ্যে ১৫টি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পাবার যোগ্য। অন্যদিকে নৌ একাডেমিতে ২৫টি মামলা হয়েছে যার অর্ধেক মামলা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়ার যোগ্য বা কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয় নি।

মার্কিন সামরিক একাডেমিতে নারীরাই বেশিভাগ যৌন হামলার মামলা দায়ের করেছেন।তবে ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারে একাডেমিতে ১২ ভাগ এবং নৌ ও বিমান বাহিনীতে যথাক্রমে ১৬ এবং ১০ ভাগ পুরুষের ওপর যৌন হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক একাডেমিতে ২০১৪-২০১৫ সালে যৌন হয়রানির মাত্রা বেড়েছে।ওই বছর ২৮টি যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ২০টি।


ভারতঃ বিচার ব্যবস্থা আদিবাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করছে

justice-graph.jpg

১৯ বছর বয়সী ভীম কাদাতিকে ১২টি বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বস্তারের এই আদিবাসীর বিরুদ্ধে আদালতে ৪ বছর ধরে মামলা চলেছে। যদিও তিনি এই সব মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন, কিন্তু জীবিত অবস্থায় তিনি তা দেখে যেতে পারেননি। কারণ বস্তার জেলার একটি কারাগারে তিনি চিকিৎসার কারণে মারা যান। ছত্তিসগড়ের নকশাল অধ্যুষিত বস্তার অঞ্চলে পরিচালিত প্রথম গবেষণায় ভীম কাদাতির একটি বিয়োগান্তক গল্প এবং ভয়ানক সত্য প্রকাশ করেছে – আদিবাসীদের গড়ে ৯৬% গ্রেফতার আদালত থেকে খালাস পায়্‌ ……………

অনুবাদ সূত্রঃ http://economictimes.indiatimes.com/news/politics-and-nation/justice-system-works-against-tribals-in-bastar/articleshow/50490694.cms


নেপালঃ অগ্নিসংযোগের জন্য সিপিএন মাওবাদীর ৪ ক্যাডার গ্রেফতার

Biplab1

ঝাপদা পুলিশ গতকাল নেত্র বিক্রম চাঁদ নেতৃত্বাধীন সিপিএন মাওবাদীর ৪ ক্যাডারকে অগ্নিসংযোগের জন্য গ্রেফতার করেছে, এর মধ্যে পার্টির জেলা সম্পাদক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২১শে ডিসেম্বর দুওাগাধি-৯ জেলার  প্রগতিটোল এ সাকাম্বারি প্রোডাক্টে(একটি গুটকা ফ্যাক্টরি) অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জেলা পুলিশের এসপি ঠাকুর প্রসাদ গিইয়াওয়ালি’র জানায়, জেলা সম্পাদক বিবাস কিরাতি, জেলা সদস্য চমন লাল মাঝি ও পুষ্প অধিকারী এবং ছাত্রনেতা নবীন অধিকারীকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পার্টির জেলা নেতা সুমন সিং পৌদেল জানান- তাদের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য লক্ষ্মী ইয়াক্বা’র বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের জেলা পুলিশ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে ।

অনুবাদ সূত্রঃ http://thehimalayantimes.com/nepal/four-cpn-maoist-cadres-arrested-for-arson/


আমেরিকানদের ৭ম শীর্ষ সম্মেলনের তাৎপর্য ও আন্তঃসাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব

expanding america

১০-১১ এপ্রিল পানামার রাজধানী পানামা সিটিতে আমেরিকানদের ৭ম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে কিউবার উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ও বিরোধিতার কারণে এতদিন কিউবা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা তাদের মধ্যকার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এ প্রেক্ষিতে কিউবার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান মার্কিন বিরোধিতার ফলে যুক্তরাষ্ট্র এতদঞ্চলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত এই সংস্থার ৬ষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে ‘আমেরিকার জনগণের বলিভারিয়ান বিকল্প’(ALBA) দেশগুলো কিউবাকে অংশগ্রহণ করতে না দিলে শীর্ষ সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয়। এখানে উল্লেখ্য ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে জন্মগ্রহণকারী সাইমন বলিভার দক্ষিণ আমেরিকার স্বাধীনতার লড়াই-এ নেতৃত্ব প্রদান করেন। তার নাম অনুসারে বলিভারিয়ান শব্দটি সামনে আসে। ভেনিজুয়েলার সাবেক নেতা হুগো শ্যাভেজ ও কিউবার ফিদেল ক্যাষ্ট্রোর নেতৃত্বে ২০০৪ সালে ১৪ ডিসেম্বর ভেনিজুয়েলা-কিউবার চুক্তির মধ্যে দিয়ে মার্কিন নেতৃত্বে আমেরিকানদের জন্য মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল(FTAA)-এর বিকল্প হিসেবে এই সংস্থা গঠিত হয়। বর্তমানে এই সংস্থার সদস্য হচ্ছে ১১টি দেশ। এই সংস্থায় মার্কিন বিরোধিতা করে প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীনের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে অগ্রসর করে চলে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে বাদ দিয়ে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর গোষ্ঠী সিলাক (CELAC) গঠিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ল্যাটিন আমেরিকায় তার অবস্থান, শক্তি বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কৌশল পরিবর্তন করে কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ১৯৫৯ সালে মার্কিনের দালাল বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করে ফিদেল ক্যাষ্ট্রো ও চে গুয়েভরার নেতৃত্বে কিউবার ক্ষমতা দখল করে। ১৯৬১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কিউবার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। ১৯৬২ সালে কিউবায় রাশিয়ান মিসাইল স্থাপনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে যুদ্ধের বিপদ দেখা দিলে সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটে। কিউবার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি ও কিউবার সরকারকে উৎখাত করার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী কার্যক্রম সফল না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। এ প্রেক্ষাপটে সকল সদস্য তথা ৩৫টি দেশের উপস্থিতিতে এবারের সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট ওবামা ও রাউল ক্যাষ্ট্রোর করমর্দনের বিষয়টা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এদিকে ভেনিজুয়েলার উপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এ প্রেক্ষিতে ভেনিজুয়েলা বড় আকারে ১০ দিনের সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত করে। সঙ্কট প্রশমনে শীর্ষ সম্মেলনে আগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চীনা প্রধানমন্ত্রীর ল্যাটিন আমেরিকার ৪টি দেশ সফর:
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়ান তার ল্যাটিন আমেরিকা সফরের প্রাক্কালে আয়ারল্যান্ড থেকে ১৮ মে ব্রাজিল পৌঁছান। ১৮ থেকে ২৬ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু ও চিলি সফর করেন। ল্যাটিন আমেরিকা সফরের শুরুতে ব্রাজিল সফরকালে লি কেকিয়ান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রসৈফের সাথে শীর্ষবৈঠক করেন। চীনের সাথে ব্রাজিলের ২৭ বিলিয়ন (২ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার মূল্যের ৩টি চুক্তি ও যৌথ একসান প্লান স্বাক্ষরিত হয়। চীনের সাথে ব্রাজিলের বাণিজ্যের পরিমাণ ১৮.৯৪ বিলিয়ন (১ হাজার ৮৯৪ কোটি) ডলার। আগামী ৬ বছরে চীন ব্রাজিলে ৫৩ বিলিয়ন (৫ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ করবে। ব্রাজিল থেকে চীন ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের প্যাসেঞ্জার বিমান ক্রয় করবে।

২১ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়ান কলম্বিয়া সফর করে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়াল স্যান্তোসের সাথে শীর্ষবৈঠকে মিলিত হন। চীনের সাথে কলম্বিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫.৬৪ বিলিয়ন (১ হাজার ৫৬৪ কোটি) ডলার। ২২ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়ান পেরু সফর করেন। তিনি পেরুর প্রেসিডেন্ট ওলান্টা হুমালার সাথে শীর্ষ বৈঠক করেন। ২৩ মে উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপর প্রথম রণনীতিগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। চীনের সাথে পেরুর বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪.৩২ বিলিয়ন (১ হাজার ৪৩২ কোটি) ডলার। পেরুতে চীনের বিনিয়োগ হচ্ছে ১৪.২৪ বিলিয়ন (১ হাজার ৪২৪ কোটি) ডলার।

২৪ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী চিলি সফর করেন। ২৫ মে চিলির প্রেসিডেন্ট মিসেলি ব্যাসিলেটের সাথে চীনের প্রথানমন্ত্রী লি কেকিয়ানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুদেশের ৩.৬ বিলিয়ন (৩৬০ কোটি) ডলার কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে শান্তিয়াগো দক্ষিণ আমেরিকায় চীনা মুদ্রা রেন মিনবি’র লেনদেনের ১ম স্থানে পরিণত হয়। চীন চিলিকে ৮.১ বিলিয়ন (৮১০ কোটি) ডলার অনুদান মঞ্জুর করে যা যোগ্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের চিলিতে বিনিয়োগ করার জন্য দেওয়া হবে। চিলির সাথে চীনের বাণিজ্য ৩৪.১ বিলিয়ন (৩ হাজার ১০০ কোটি) ডলার। চিলির বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হচ্ছে চীন। চিলির বাণিজ্যের ২৪% হয় চীনের সাথে।

ল্যাটিন আমেরিকার সাথে চীনের বাণিজ্যের ৫৭% হয় এই ৪টি দেশের সাথে। ব্রাজিল থেকে শুরু করে পেরু পর্যন্ত তথা আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সংযুক্ত করার জন্য ট্রান্স-কন্টিনেন্টাল রেল লাইন স্থাপন করবে চীন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য চীন নিকারাগুয়ায় আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) ডলার ব্যায়ে পানামা খালের বিকল্প খাল নির্মাণ কর্মসূচি গুরুত্ব বহন করে। ২০১৬ সালে অ্যাপেক শীর্ষ সম্মেলন পেরুতে অনুষ্ঠিত হবে। এই শীর্ষ সম্মেলন সফল করতে চীন ভূমিকা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। জানুয়ারি মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিন আগামী দশকে ল্যাটিন আমেরিকায় ২৫০ বিলিয়ন (২৫ হাজার কোটি) ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেয়। ২০১৪ সালে শেষে ল্যাটিন আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগ প্রায় ৯৯ বিলিয়ন (৯ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার। ২০১৪ সালের শেষ সময়ে চীন ল্যাটিন আমেরিকার সাথে প্রকৃতিক গ্যাস, পাইপ লাইন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, হাইওয়ে, বন্দর, আবাসন, টেলি যোগাযোগ ও রেলওয়ে খাতে ১১০ বিলিয়ন (১০ হাজার ১০০ কোটি) ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে।

নয়া ঔপনিবেশিক-আধা সামন্তবাদী ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশের উপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার প্রাধান্য হারায় এবং প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীন তাদের প্রভাব ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন বিরোধিতাকে সামনে রেখে ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভা মোরালেস-এর নেতৃত্বে আমেরিকা ও কানাডাকে বাদ দিয়ে সিলাক সংস্থা গড়ে তোলা হয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কৌশল পরিবর্তন করে কিউবার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনস্থাপন করে পানামায় আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করে তার অবস্থান ও প্রভাব বৃদ্ধিতে তৎপর থাকে। অপরদিকে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীন ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সাথে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক সম্পর্ক অগ্রসর করে তাদের বাজার ও প্রভাববলয় সম্প্রসারিত করে চলেছে।

সূত্র:  সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৫।।সংখ্যা-০৯, রোববার।। ২০ ডিসেম্বর ২০১৫।।


বিশ্বব্যাপী শ্রমিক-কৃষক-জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে

turkey-anti-mining-protest-juoly-8-2015

সাম্রাজ্যবাদীরা মন্দা থেকে বের হওয়ার জন্য একদিকে শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণের অর্থে উদ্ধার ও উদ্দীপক কর্মসূচি, কৃচ্ছতা সাধনের কর্মসূচির নামে সঙ্কটের বোঝা আরও বেশি বেশি করে জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে মজুরি, বেতন, পেনশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণ খাতে ব্যয় বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে ছাঁটাই, বেকারত্ব, করের বোঝা বৃদ্ধি করে শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণকে নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট, আরও দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তার মধ্যে নিক্ষেপ করছে। শ্রম-পুঁজির দ্বন্দ্ব সুতীব্র হওয়া এবং একচেটিয়া পুঁজির তীব্রতর আক্রমণ মোকাবেলায় আমেরিকা, ইউরোপসহ পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোসহ বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমিক, যুবক, জনতা বিভিন্ন রূপে আন্দোলন, বিক্ষোভ-সমাবেশ, ধর্মঘট-সাধারণ ধর্মঘট তীব্রতর করে চলেছে। দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাসমূহের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২৩ মে বিশ্বের বৃহত্তম বীজ কোম্পানি মনসান্তোর বিরুদ্ধে ৪৮টি দেশের ৪৫২টি শহরে প্রচন্ড বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। মনসান্তো হচ্ছে জিএম ফুড, হাইব্রিড বীজ, পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের বৃহত্তম উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণকারী যুক্তরাষ্ট্রের একটি একচেটিয়া কোম্পানি। এ প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম কৃষিভিত্তিক বায়োটেক কোম্পানির জনগণ ও প্রকৃতি বিধ্বংসী ও দুষণকারী ক্ষতিকর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হয় দেশে দেশের লক্ষ লক্ষ কৃষক, শ্রমিক, জনগণ।

যুক্তরাষ্ট্রে তেল শোধনাগারের শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ১৯৮০ সালের পর বৃহত্তম ধর্মঘট ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘটিত করে। ৯টি শোধনাগারের শ্রমিকরা ছাঁটাই ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ২ মার্চ থেকে সফল ধর্মঘট চালিয়ে যায়। ইস্পাত শ্রমিকরা মজুরি নিয়ে নতুন চুক্তির দাবিতে ধর্মঘট সংগঠিত করে। ম্যাগডোনালসহ ফাস্ট ফুডের কর্মচারীরা ঘণ্টায় ১৫ ডলারের দাবিতে ১৫ এপ্রিল সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী ধর্মঘট করে। হাজার হাজার শ্রমিক এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দা, একচেটিয়া পুঁজির শোষণ-লুন্ঠন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বৃদ্ধি, বর্ণবৈষম্যবাদ ইত্যাদির বিরুদ্ধে গোটা আমেরিকাব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘটিত হয়ে চলেছে। ফার্গুসন শহরে মাইকেল ব্রাউন পুলিশের গুলিতে এবং মেরিল্যান্ড স্টেটের বাল্টিমোর শহরে ফ্রেডি গ্রে পুলিশের কাস্টিডিউতে নিহত হলে পুলিশ কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ফেটে পড়ে। বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ এত তীব্র আকার ধারণ করে যে তা দমনে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী দমন পীড়ন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আরও প্রচন্ড বিক্ষোভের লক্ষণসমূহ সামনে আসায় তা দমনের জন্য পুলিশ, প্রশাসন, ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবসে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমাবেশ, র‌্যালি, বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। কোথাও কোথাও বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে হতাহত ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। একই দিন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিন জু অ্যাবের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় লস এঞ্জেলসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

৮ মার্চ ব্রাজিলে সরকারের দুর্নীতি ও গণবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রাজধানী ব্রাসিরিয়ায় ১০ লক্ষ লোকের বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। তাছাড়া ৭ এপ্রিল পুলিশের গুলিতে এক বালক নিহত হলে ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। মার্চ মাসে ইসরাইলে লে-অফের প্রতিবাদে ট্রেড ইউনিয়ন সাধারণ ধর্মঘট সংগঠিত করে। ইসরাইলের ডাক, বিমান বন্দর, বিদ্যুৎ, পানি শ্রমিকরা এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে। ফ্রান্সের ফেরি শ্রমিকরা ধর্মঘট করলে বন্দর অচল হয়ে যায়। আফ্রিকায় নাইজেরিয়ার আবুজা স্টিল মিলের ৪ জন শ্রমিককে চাকুরীচ্যুত করলে শ্রমিকরা ধর্মঘট সংগঠিত করে। নাইজেরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ধর্মঘট পালন করে। আরব আমিরাতের দুবাই-এ দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত অভিবাসী শ্রমিকরা দুবাইভিত্তিক এমার প্রপার্টিস-এর শ্রমিকরা অধিকতর মজুরির দাবিতে ধর্মঘট সংঘটিত করে। জার্মানিতে ২টা বিমান বন্দরের গ্রাউন্ড ক্রু’রা ৬ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করে। ১ এপ্রিল পূর্ব ইউরোপের ৬টি দেশ এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া, ল্যাটভিয়া, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্রের উপর দিয়ে ১২০টি সামরিক যান নিয়ে ন্যাটো বাহিনী জার্মানির অভিমুখে মার্চ করার সময় কোন কোন জায়গায় জনগণ ‘ফিরে যাও’, ‘ট্যাংক নয়, শান্তি’ ইত্যাদি শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ৫ এপ্রিল জার্মানিতে ন্যাটোর যুদ্ধোন্মোদনার বিরুদ্ধে রাজধানী বার্লিনসহ বিভিন্ন শহরে ৮০টির বেশি র‌্যালী ও সমাবেশ সংঘটিত হয়। ২২ এপ্রিল ইউক্রেনের কয়লা শ্রমিকরা রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ১ ও ২ মে আয়ারল্যান্ডের বাস শ্রমিকরা বাস সার্ভিস ব্যাক্তি মালিকানাকরণের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট করে এবং আরও ৫ দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। গ্রিস, স্পেনসহ ইউরোপের দেশে দেশে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, সমাবেশ, ধর্মঘট সংঘটিত হয়। বিনা বেতনে শিক্ষার দাবিতে ২৯ মে চিলিতে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ সংঘঠিত হয়।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৫।।সংখ্যা-০৯, রোববার।। ২০ ডিসেম্বর ২০১৫।।