ভারতের মাওবাদী গেরিলা দল PLFI প্রধানের একটি সাক্ষাৎকার

1

সিপিআই (মাওবাদী) এর সাথে পিএলএফআই এর মতাদর্শের দিক থেকে মিল আছে তবে কার্যক্রমে ভিন্নতা রয়েছে 

ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, বিহার ও ছত্তিসগড়ে সক্রিয় রাষ্ট্র কর্তৃক একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পিএলএফআই (People’s Liberation Front of India-PLFI)। সিপিআই (মাওবাদী) এর পর ঝাড়খণ্ডে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম বাম ধারার সশস্ত্র দল। ১২টি রাজ্যের ২৪টি জেলায় এ সংগঠনটি সক্রিয়। রাষ্ট্র কর্তৃক এ ধরনের অন্তত ১৭টি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল রয়েছে।  

গত বছরের ৮ মার্চ  AJSU(All Jharkhand Students` Union )এর নেতা তিলেশ্বর সাহুকে গুলি করে হত্যা করে পিএলএফআই এর ক্যাডাররা।

উড়িষ্যার সুন্দরগড় ও রাউরকেল্লা জেলায় এ দলটি সক্রিয়। ২০১২ সালে সুন্দরগড় জেলায় ঠিকাদার হরদীপ সিং ও রাজ্যসভা সদস্য মঙ্গলা কিষণকে চাঁদার জন্য হত্যা করে পিএলএফআই।

২০১৪ সালে রাউরকেল্লাতে পিএলএফআই এর জোনাল কমান্ডার জয়নাথ গোপকে এক বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করে পুলিশ।

গত ৩০শে মার্চ বিহারের রাজধানী পাটনায় একটি ফ্ল্যাটে বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে পিএলএফআই।

ছত্তিসগড়ের জশপুর অঞ্চলে পিএলএফআই সক্রিয় রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী অধ্যুষিত বেল্টগুলোতে এর ভিত্তি তৈরি হতে শুরু করেছে।

পিএলএফআই এর সশস্ত্র স্কোয়াডে রয়েছে তরুণদের দল ও এর নেতৃত্বে রয়েছে একজন যুবক।

পিএলএফআই এর অস্ত্র ভান্ডারে রয়েছে একে ৪৭, একে ৫৬ এসল্ট রাইফেল, এলএমজি, আমেরিকায় তৈরি এম ১৬ রাইফেল, কারবাইন, গ্রেনেড লাঞ্চার ও মর্টার।

2

প্রাক্তন সৈনিক দীনেশ গোপ (৩৩) ভারতীয় আর্মিতে যোগ দেয়ার তিন বছর পর ২০০৩ সালে আর্মি ত্যাগ করেন ও বিদ্রোহী দল গঠন করেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, লাদাখে তার উচু স্তরের এক আর্মি সদস্যকে একজন নারীকে ধর্ষণ করতে দেখেছিলেন।

স্বাস্থ্যবান গোঁফধারী ছয় ফিট লম্বা দীনেশ ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি দশটির বেশী ভাষায় কথা বলতে পারেন। তার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে ৩৫টির মতো মোবাইল ফোন থাকে এবং দলের সশস্ত্র কর্মীদের সাথে মোটরসাইকেল বহরে চলাফেরা করেন।

গোপের সাথে সাক্ষাতের জন্য ঝাড়খণ্ড-উড়িষ্যা সীমান্তের কাছে অপ্রকাশিত একটি স্থানে হিন্দুস্তান টাইমসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। জাতীয় দৈনিকে দেয়া তার প্রথম সাক্ষাৎকারে গোপ বেশ কিছু বাঁকা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

আপনারা নিরীহ লোকদের হত্যা করেন কেন?

আমরা কেবল তাদের হত্যা করি যারা সমাজ বিরোধী ও যারা গরীব ও নিরীহ মানুষদের শোষণ করে। শান্তি সেনার মতো প্রতিপক্ষের কিছু গোষ্ঠী যারা পুলিশের ছত্রছায়ায় কর্মকাণ্ড চালায় তারাই এসমস্ত কর্মকাণ্ড করে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপায়। পুলিশ যা বলে গণমাধ্যম তাই প্রচার করে। আমাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তাই লোকজন আমাদের দলের নাম ব্যবহার করছে।

সিপিআই (মাওবাদী) এর সাথে পিএলএফআই পার্থক্য কী?

আমাদের মতাদর্শে মিল আছে কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ড তাদের থেকে আলাদা। আমরা শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিই না, তারা দেয়। আমরা স্কুল তৈরী করি, তারা স্কুল উড়িয়ে দেয়। আমরা শিশুদের স্কুলে ভর্তি করাই, তারা তাদের সশস্ত্র স্কোয়াড ও শিশু ইউনিটের সদস্য সংগ্রহের জন্য শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।

আপনাদের সশস্ত্র স্কোয়াডের শক্তি কী?

পাঁচটি রাজ্যে আমাদের ৭০০০ থেকে ৮০০০ যোদ্ধা আছে।

বন্দুক আর রক্তপাত কি কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে?

ইতিহাস বলে রক্তপাত ব্যতীত কোন বিপ্লব ঘটেনি। বন্দুক হল সমাজে আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার একটি মাধ্যম মাত্র।

পিএলএফআই এর মধ্যে প্রচুর স্ববিরোধীতা আছে। আপনি বলছেন আপনারা রাষ্ট্রের বিরোধী অথচ আপনাদের নেতারা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে  ও সাংবিধানিক পদে বসে আছে।                                                                                  

সময়ে সময়ে সিস্টেমকে ভালোভাবে বুঝতে হলে আপনাকে সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আপনার শক্তিশালী রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে আপনি এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার হননি                                                                                       

আমি রাষ্ট্রের (রাজনীতিবিদদের জন্যেও) সবচেয়ে বড় শত্রু। আমাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা থেকে পুলিশ ও রাজনীতিবিদেরা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে থাকে।

 

পিএলএফআই বিপুল অংকের চাঁদা আদায় করে থাকে। হিসাবের বাইরের অর্থগুলো কোথায় যায়?                                                                                         

আমাদের অর্থের হিসাব অডিট করা হয় এবং এ অর্থ সংগঠনের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। অর্থের অধিকাংশ যায় জনগণের কল্যাণে।

আপনাদের জন্য যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে তাদের জন্য আপনারা কী করেছেন?

ওরা আমার মত জন্ম থেকে বিপ্লবী। ওরা অর্থ বা কোন কিছু পাওয়ার আশায় আসেনি। আমরা সবাই মিলে সেই অধরা সমাজের বীজ বপন করছি যেখানে গরীবদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আপনারা নারী ও শিশুদের কেন দলে ঢোকান?

আমরা ওদের দলে ঢোকাই না। যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক কোন কিশো বা কিশোরী স্বেচ্ছায় আসতে চায়, তাহলে আমরা তাকে বাধা দিই না।

আপনাদের মূল লক্ষ্য কী?

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের মতাদর্শকে ছড়িয়ে দেয়া আমাদের লক্ষ্য। আকসাম ভিত্তিক চা বাগানের শ্রমিকদের একটি সংগঠনের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা উত্তরখণ্ড ও হরিয়ানাতেও আমাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছি। বর্তমানে আমাদের বাহিনীর ক্যাডাররা শ্রীলংকা, মরিশাস, চীন ও নেপালের সমমনা সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

গ্রামবাসীদের জন্যে PLFI কর্তৃক নির্মিত মন্দির

গ্রামবাসীদের জন্যে PLFI কর্তৃক নির্মিত মন্দির

অনুবাদ সূত্রঃ

http://www.hindustantimes.com/ranchi/plfi-maoists-interview/article1-1346169.aspx

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.