সিপিএমএলএম ফ্রান্স দলিলঃ রণনীতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত

সিপিএমএলএম ফ্রান্স দলিলঃ

(জানুয়ারি ২০১৪)

রণনীতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত

ob_63a49f79da2251519a32f20833e1b21a_en-tete-grand-2

ফ্রান্সের পরিস্থিতিঃ
সঙ্কটের দিকে প্রতিক্রিয়াশীল এগিয়ে চলা, আর একটি সামরিক ক্যু এর মতাদর্শ এর উদ্ভব।
পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট এবং ফ্রান্সে এর প্রকাশ
ইউরোপীয় সংবিধানের ওপর ২০০৫-এর গণভোটে “না” ভোটের মতাদর্শতগত ভুমিকা।
একটা “ডানপন্থী মে’৬৮”: সমকামী বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সুরসিক দ্যদন্নে এবং “লাল উলের টুপি”
ফ্যাসিবিরোধিতা, প্রগতিশীলদের জন্য একটা প্রয়োজনীয় ফ্রন্ট
এক প্রতিক্রিয়াশীল ক্যু-এর সম্ভাবনা

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য সংগ্রাম
আমাদের মতাদর্শিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করা, প্রগতির আদর্শকে তুলে ধরা
আমাদের প্রচলিত অবস্থানে জোর দেয়া এবং দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের প্রতি অনুগত থাকা
দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদে পরিবেশবাদকে অন্তর্ভুক্ত করা।
সংগঠনের প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ইস্যু
নেপালী সংশোধনবাদ সম্পর্কে
কমিউনিস্টদের আন্তুর্জাতিক ঐক্য এবং মতাদর্শেরপ্রশ্ন

ফ্রান্সের পরিস্থিতিঃ
সঙ্কটের দিকে প্রতিক্রিয়াশীল এগিয়ে চলা, আর একটি সামরিক ক্যু এর মতাদর্শ এর উদ্ভব।

। পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট এবং ফ্রান্সে এর প্রকাশ
সিপিএমএলএম একটি বিপ্লবী নিউক্লিয়াস হিসাবে জন্ম নিয়েছিল দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ এর থিসিস এর পূর্ণ প্রযোজ্য্যতা প্রমান ও প্রতিষ্ঠার জন্য। এই থিসিসগুলোর একটি নিশ্চিত করে পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট-এর অনিবার্যতাকে।
এই থিসিসের গুরুত্বকে হেলাফেলা করা উচিৎ নয়। এর অর্থ হলো, ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রাম বিপ্লবীদের জন্য অনুসরণীয় পথ–এই বক্তবের মত পুঁজিবাদের উত্থান পতন স্বাভাবিক পন্থায় হবে না ।
বিপরীতে, এটা একটি স্পষ্ট বিষয় যে পুঁজিবাদের বিনাশ হবে। এর ওপর দাঁড়ানো সমাজ পঁচে যাবে। আর সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের দিকে প্রবণতা শক্তিশালি হবে, অতঃপর যা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে সাধারণ যুদ্ধে পর্যবসিত হবে।
আর সেই জন্যই সিপিএমএলএম শ্রেণী সংগ্রামকে কোন একটি নির্দিস্ট সময়ের জন্য ঘোষনা করেনা। বরং সমগ্র সময়ের জন্য তা করে। আমরা জানি, আজ আমাদের থিসিসকে বোঝা না গেলে আগামীকাল বোঝা যাবে। এটা আমাদের আরো এমন অনেক থিসিসের মতই যা গতকাল পরিত্যাগ করা হয়েছিলো কিন্তু আজ আর তাকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
২০০৬ সালে সিপিএমএলএম বলেছিলো ‘জাতীয় ফ্রন্ট’ খুব দ্রুত ভরবেগ পেতে যাচ্ছে। তখন তাকে কেউ কানে না দিলেও আজ ঐ বিশ্লেষণের সঠিকতা সম্পর্কে কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না ।
একইভাবে, আমরা এও জানি যে, ‘বুর্জোয়ারা নানা দলে বিভক্ত হবে’ – আমাদের আজকের এই বক্তব্য ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে গৃহীত হবে। বুর্জোয়াদের উগ্র অংশটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব গ্রহন করতে এগিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেবে গতানুগতিক বুর্জোয়াদের হটিয়ে দিয়ে। পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট ক্রমহ্রাসমান মুনাফার হারের ওপর দাঁড়িয়ে। একচেটিয়াগুলো অতি অবশ্যই শোষণকে গভীরতর করবে তার সর্বগ্রাসী মুনাফার ক্ষুধা মেটাতে।
পরিনামে যা আরও ঘটতে যাচ্ছে তা হলো, সামাজে অভূতপূর্ব আরো বেকারত্ব, আরো অস্থিরতা; এর কোন নিরাময় নেই এবং সাধারণ মানুষকে ঘিরে ধরবে অসহনীয় দারিদ্রতা । আর অন্য দিকে, সংখ্যায় ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর মানুষ সমাজের সকল উৎপন্ন সম্পদের দখল নেবে।
আরো যা ঘটবে তা হলোঃ পুঁজিবাদ সমাজের উচু শ্রেনীর মানুষের জন্য অধিকতর গুণাগুণ সম্পন্ন পন্য দ্রব্যাদি উৎপাদন করবে – প্রাথমিক ভাবে নিরাপদ আপেলের কথা বলা যায় – পক্ষান্তরে, নিম্ন মানের পন্য সাধারণ মানুষের জন্য বেশি বেশি উৎপাদন চলবে। যেমন- শর্করা, মাংশ ও রাসায়নিকে পুর্ণ দ্রব্যাদি, পরিকল্পিত বাতিল হয়ে যাওয়া এবং আরো অনেক কিছু।
আজ এর শীর্ষে একটি সাম্রাজ্যবাদী যুদ্বের দিকে প্রবনতা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ওলান্দের নিয়ন্ত্রনাধীন সামরিক হস্তক্ষেপ প্রেসিডেন্ট সার্কোজির সময়ের গুলোর থেকে ভিন্ন কিছু নয়। পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের দিকে ধাবমান, আর এর কোন থামাথামি নেই।

. ইউরোপীয়ান সংবিধানের ওপর ২০০৫ সালের গনভোটে ‘না’ ভোট এর মতাদর্শিক ভূমিকা।
২০০৫ সালে ইউরোপীয় সংবিধানের ওপর গণভোটে ‘না’ ভোটের পাল্লা ভারী হওয়ায় বাম ও এমনকি অতিবামেরা একে বিশাল বিজয় হিসাবে বিবেচনা করেছে।
সেই সময় বিজয়বাদের অতি উচ্ছাস প্রকাশ করায় অতিবাম দল গুলোর প্রতি সিপিএমএলএম ব্যাপক সমালোচনা করেছিল। ( “জনগণের সেবা নাকি মধ্যবিত্তদের সেবা?” গণভোটের প্রাক্কালে ‘না’ শিবিরের অবস্থান বিশ্লেষণ করে এই বক্তব্য দেয়া হয়েছিল)।
কিন্তু অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয় রয়েছে যা আমাদের হিসেব নিকেশের মৌলিক অংশ। সিপিএমএলএম গণভোটের পূর্বেই “না” শিবিরের সামাজিক গঠন বিশ্লেষণ করে। ২০০৫ সালের আমাদের দলিল “আসুন গণভোট বর্জন করি” ফ্রান্সের ঘটে চলা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরসমূহে একটি অন্তদৃষ্টি প্রদান করে তাতেঃ
“ফ্রান্সের বুর্জোয়াদের একটি অংশ ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ গঠনে বিশ্বাসী নয়, তারা ব্রিটেন, ইতালী ও স্পেনকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দাবড়ানো ঘোড়া মনে করে। তুরস্কের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা চলে”।
বুর্জোয়াদের এই অংশটি ফ্রান্স, জার্মানী ও রাশিয়ার মাঝে একটি বিশেষ অংশীদারিত্ব সহকারে জাতিসমূহের এক ইউরোপের পক্ষে। তারা এমন সংবিধানের বিরোধিতা করেন যা ফরাসী সাম্রাজ্যবাদকে খুশি করতে দেবেনা, বিশেষ করে আফ্রিকায়।
এই নীতিতে সমর্থনকারী সাম্রাজ্যবাদী অংশটি আবার লি পেন ও দ্য ভেলিয়ার ইত্যাদির ‘না’ শিবির সমর্থনও করে থাকে। তারা মধ্যবিত্ত শ্রেনীসমূহের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে তাদের এই বলে যে, ইউরোপীয় বৃহৎ একচেটিয়াদের হাতে ক্ষমতা দেবে যে একীভূতকরণ তা থেকে তারা সবকিছু হারাবে, আর ফরাসী একচেটিয়াদের (…) সাথে পাশবিক জোট থেকে জয় করার জন্য আছে সবকিছু।
সত্য হলো এই যে, ‘না’ শিবিরে ক্ষুদে বুর্জোয়া মধ্যবিত্ত শ্রেণীসমূহের স্বার্থই হচ্ছে একমাত্র রাজনৈতিক পথনির্দেশক নীতি।
ফ্রান্সে ব্যাপক সেমিটিক বিরোধিতা ও বর্ণবাদের বর্তমান পরিবেশে ‘না’ শিবিরের সকল বক্তব্যের মধ্যে জাতীয়তাবাদ আধিপত্য করে প্রজাতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্বর মত মতধারাসহযোগে, নেপলিয়ান, দ্য গল ও পিতেইনই এদের পরিণতি।
তাই, আমাদেরকে কি করিতে হইবে? মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যকার ডানপন্থী মতাদর্শের অধীন পপুলিস্ট “না” কে সমর্থন করা সম্ভব?
না, অবশ্যই সম্ভব নয় ।
সিপিএমএলএম তার বিশ্লেষণের বৈজ্ঞানিক চরিত্র দেখিয়েছে। তার সঠিক অবস্থান তাকে অনুমোদন দিয়েছে আমাদের দেশের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ওলান্দের নির্বাচন পরবর্তী প্রধান প্রধান ঘটনাসমূহকে আত্মস্থ করতে।

. এক “ডানপন্থী মে-৬৮”: সমকামী বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সুরসিক দ্যদনে এবং “লাল উলের টুপি”
আমাদের সংঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট ওলান্দের নির্বাচন ইস্যুটি পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণের উপরিতল (“ফ্রাংকো ওলান্দে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেণ্ট”)।
আমাদের দৃষ্টিতে এটি একটি অতি গুরুত্বপুর্ণ দলিল। যাতে বর্ণিত হয়েছে সমাজ গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, যার দুর্নীতিগ্রস্থ চরিত্র ফ্যাসিবাদের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে (“দুর্নীতিগ্রস্থ কাহুজাক, ক্ষয়িষ্ণু বুর্জোয়া উপরিকাঠামোর এক প্রকাশ”)।
এটা আলোক সম্পাত করে তার উপর আমরা যাকে বলি “ডানপন্থী মে’ ৬৮” ( দলিল–৩৫, সিপিএমএলএম)
ক্ষয়িষ্ণু পজিবাদ ও ক্ষয়িষ্ণু বুর্জোয়া শ্রেণী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিসমূহের বিরাট ইতিকরণকে অনিবার্য করেছে। আমরা অবাক হইনা সমকামি বিয়ের বিরুদ্ধে বিপুল র‍্যালীর ওপর কোন বিশ্লেষণ না দেখে, বিশেষত দুঃখজনকভাবে অতি বামরা বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সীমায় থাকে।
এই সামাজিক পরিস্থিতিতে যে বেশী বেশী “রক্ষনশীল বিপ্লব” কার্যকরী করা হচ্ছে তা ভয়াবহ, আর তা মারাত্মক ফল ডেকে আনবে। মিরাহ হত্যা বা রসিক দেদ্যনের জনপ্রিয়তা এবং “লাল উলের টুপি” সম্পর্কে একই কথা খাটে, যা হচ্ছে ভূয়া তৃনমূলের জনপ্রিয় প্রতিবাদের ভন্ডামির এক উদাহারণ, বস্তুত যা উপর থেকে পরিচালিত ।
সিপিএমএলএম এর শ্লোগান হলো “আমরা ত্রিশের দশকের দোরগোড়ায়”। মোট কথা আমরা ঝড়ের চোখের মধ্যে।

. ফ্যাসিবিরোধতাঃ প্রগতিশীলদের জন্য এক প্রয়োজনীয় ফ্রন্ট
ফ্যাসিবাদের অনিবার্য বিকাশ সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি থেকে ২১ শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রগতিশীলদের মধ্যে ঐক্যভিত্তিক ফ্যাসিবিরোধিতা গড়তে চেষ্টা করেছিলাম।
আমরা আমাদের এই কর্মসূচির ভবিষ্যত নিয়ে অতিআশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম দুই কারণে। প্রথমতঃ ট্রটস্কিবাদীরা এক ফ্যাসিস্ট হুমকির ব্যাপারটা অস্বীকার করে আর নৈরাজ্যবাদী শাখাটি এর সাথে মিত্রতাবদ্ধ হয়। দ্বিতীয়তঃ নৈরাজ্যবাদীদের দ্বারা তখন ব্যাপক পাশবিক সাম্যবাদ বিরোধী প্রচার চলছিলো।
ঘটনাক্রমে, ফাসিবিরোধী কর্মসূচির ঐক্যের আমাদের আহবান ও প্রচেষ্টা সেই সময়ে ফলপ্রসু হতে পারেনি। এর মানে কিন্তু এই নয় যে সেটা আমাদের রাজনৈতিক পরাজয়; বরং বিপরীতে আমরা জনগণের সামনে একটি ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার রাজনীতি পছন্দের সুযোগ দিয়েছিলাম। এটা ছিলো আমাদের ছকেরই একটি আবশ্যকীয় অংশ।
আমাদের জন্য হতাশা আসেনি এই দিক থেকেও যে অনেক ফ্যাসিবিরোধী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, প্রধানত নৈরাজ্যবাদীদের তরফ থেকে, যারা ফ্যাসিবিরোধী ঐক্যের নীতিমালায় এক বিরাট দিক পরিবর্তন করে এ কর্মসূচির সাথে একীভূত হয়েছে।
আমরা কিন্তু সাথে সাথে সত্যিকার ফ্যাসিবাদ বিরোধীদেরকে এই বলে সতর্কও করেছি যে, আমাদের মত আপনারা যদি গভীর বিশ্লেষণ না করে এগিয়ে যান তবে নিজেদের তৈরী করা কার্যক্রম নিজেরাই সামাল দিতে পারবেন না।
ফ্যাসিবাদ হলো এক খুনি। এটা বিপুল সামাজিক শক্তিসমূহের সমর্থন নিয়ে হত্যা করে; এটা মুস্টিমেয় অস্ত্রধারী ডাকাত ও গ্যাংস্টার দলের মত নয়; এটা কোন রোগও নয় যে তা চিকিৎসা করে সারিয়ে নেয়া যাবে।
ফ্যাসিবাদ সাধারণ জনগণকে সমাবেশিত করতে চেষ্টা করে থাকে; আর কেবল রোমান্টিক পুঁজিবাদবিরোধী একটি পূর্ণ মতাদর্শিক উপলব্ধিই পারে প্রতিশোধ সম্ভব করে তুলতে, এই সচেতনতাসহকারে যে এটা একটা গৃহযুদ্ধে গড়াবে।
আর সেই কারনেই আবারো আমরা একটি প্রগতিশীল ফ্রন্টের ডাক দেই, এবং ফ্যাসিবিরোধী ঐক্যটি যটটুক সম্ভব ব্যাপকভিত্তিক একটা ফ্রেম ওয়ার্ক হবে যাতে জনগণ হবেন এর মূলভিত্তি, সকল সংস্কৃতিকে সম্মান করা হবে, জাতিদম্ভিতাকে প্রত্যাখ্যান করা হবে, এবং এর গভীরতম স্থান থেকে সামাজিক বিপ্লবের সুর বেজে উঠবে।
একটি প্রগতিশীল ফ্রন্ট কোনভাবেই সমাজ গণতন্ত্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিৎ নয়। কোন মিডিয়া বা ট্রেড ইউনিয়নকে একে নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবেনা। সকল প্রতিষ্ঠান থেকে এটা স্বাধীন হবে। পরিবেশবাদ থাকবে এর মর্মে, ধারণ করবে শ্রমিক শ্রেনীর চেতনা আর সামাজিক বিপ্লবের প্রত্যয়।
এই ধরনের ফ্যাসিবিরোধিতাই কেবল জনগণকে সাথে নিয়ে পিছু না হঠে যে কোন ধরনের ফ্যাসিবাদের ভবিষ্যত উত্থান ঠেকাতে পারে, যাতে পেটি বুর্জোয়া “ফ্যাসবিরোধিতা” প্রত্যুত্তর দিতে পারেনা।

. একটি প্রতিক্রিয়াশীল ক্যুর সম্ভাবনা
দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ আমাদের শিক্ষা দেয় যে, পুঁজির সর্বাধিক আগ্রাসী অংশ একচেটিয়া অংশটি ক্ষমতা গ্রহণ করে সমাজকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের দিকে চালিত করার জন্য।
ফ্রান্সে এটা কিভাবে ঘটবে ? আমরা মনে করি, কেন্দ্রীয় মনোযোগ এক ক্যু এর প্রকল্প (হাইপোথিসিস) এর দিকে দিতে হবে, যেমনটা আমরা এ সম্পর্কে ‘ফ্রান্সঃ সামরিক ক্যু ও ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে’ প্রবন্দ্বে আলোচনা করেছি।
আমাদের দেশের ইতিহাসে সামরিক শাসনের এক দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। চরম দক্ষিণপন্থীদের কাছে এর বিরাট গুরুত্ব রয়েছে যেমনটা ১৯৩৪ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারীর ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যা পেটি বুর্জোয়া চরম বাম “ব্লাঙ্কিবাদী”দের ঐতিহ্যেরও অংশ।
১৯৫৮ সালে শার্ল দ্য গলও সামরিক ক্যুর মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসে। তখন সে হাতুড়ে ৫ম প্রজাতন্ত্র (প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে হয় সংসদ নির্বাচন, প্লেবিসাইট ধরণের রেফেরেন্ডাম, প্রভৃতি) জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল।
ফ্রান্সের ইতিহাস থেকে আরো একই ধরণের ঘটনা উল্লেখ করা উচিত। ১৭৯৯ সালে নেপোলিয়ান বোনাপার্টের ১৮ই ব্রুমেয়ার ক্যু দে’তা, ১৮৩০ ও ১৮৪৮ সালের বিদ্রোহ, ২রা ডিসেম্বর ১৮৫১ সালে তৃতীয় নেপলিয়ানের ক্যু।
ফ্রান্সে প্লেবিসাইট ধরণের গণতন্ত্রবিরোধী একটা ঐতিহ্য আছে, আর এটা কোন কাকতালীয় বিষয় ছিলো না যে ফরাসী একচেটিয়াবাদী শার্ল দ্য গল এই স্টাইলের ক্ষমতা কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতিগুলিতে মেরিন ল্য প্যান এর জাতীয় ফ্রন্ট নয়া গলবাদকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং তা সামরিক ক্যুর রাজনৈতিক ভারকেন্দ্র। আর সকল চরম ডানপন্থীরা ক্যু আহবান করছে ও এভাবে এর মতাদর্শিক শাঁস গঠন করছে।
সমাজে “ভারসাম্য” আনয়নের জন্য সামরিক ও পুলিশী হস্তক্ষেপের ধারণা ফ্রান্সে ভরবেগ প্রাপ্ত হচ্ছে ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিসমূহের সমর্থন পাচ্ছে, যারা এই বাস্তবতার ব্যাপারে সচেতন যে তাদেরকে শ্রেণী সংগ্রামকে স্তব্ধ করে দিতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্বের তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন করতে হবে।
সিপিএমএলএম আহবান জানায় উক্ত বিষয়ে সকলকে সর্বাধিক সতর্ক থাকার জন্য। এই বিষয়ে সর্বদা আমাদেরকে আরো বেশি বেশি জানতে বুঝতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য সংগ্রাম
আমাদের মতাদর্শিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করা, প্রগতির আদর্শকে এগিয়ে নেয়া!

. সত্য পথে থাকা ও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের আমাদের প্রচলিত অবস্থান বজায় রাখা
সিপিএমএলএম বলছে, প্রাসঙ্গিক সবকিছুতে মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্তালিন ও মাওসেতুঙ এর শিক্ষার উপর দৃঢ় থাকুন। তারা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব সেই জন্য নয়, বরং যেহেতু চিন্তাধারার গতিধারা একত্রিত হয়ে গঠন করেছে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের বিজ্ঞান।
ফরাসী চেতনা বুর্জোয়াদের দ্বারা আকৃতিপ্রাপ্ত, নিয়মের বিপরীত, কোন কিছু গ্রহন করা, বর্জন করা, সংশোধন করা আনন্দ দিলে তা করে, তারা চায় এটা যেন ভাবধারার একটা সমুদ্র গড়ে। সিপিএমএলএম এসব কিছুর বিরুদ্ধে একটি বিপরীত প্রতিপাদ্য।
বিজ্ঞান হলো একটি ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ার নাম, তা মহাবিশ্বের মত। সেখানে কোন বিশৃংখলা নেই, নেই বিচ্ছিন্ন কোন অংশ। এর মধ্যকার কোন কিছু যা নিজে নিজে পরিপূর্ণ ঐক্যবদ্ধভাবে বিরাজ করে তাকে আত্মস্থ করতে দরকার এক সর্বব্যাপী শৃংখলা।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় যে, সিপিএমএলএম ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মার্কসবাদ সম্পর্কে যে সামঞ্জস্যহীন ও বিকৃত ধারণা গড়ে উঠেছে তা চূর্ণ করতে চায়। মার্কসবাদ কোন পদ্ধতি নয়, এটা একটি বিজ্ঞান, আর একটি বিজ্ঞান হিসেবে বিকাশের কতিপয় স্তর অতিক্রম করেছেঃ লেনিনবাদ এবং মাওবাদ।
সিপিএমএলএম সাম্যবাদের ঐতিহ্যের এক দুষন নিরাময়কারী। আর এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া; কিন্তু এখনই এটা বলা সম্ভব যে ভিত্তি আমাদের কাটা ছকে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান আছে, “দুর্গ তৈরি করা হয়েছে”।

. পরিবেশবাদকে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদে অন্তুর্ভুক্তকরন
স্তালিন বলেছেন, সর্বাধিক শক্তি ও সামর্থ বৃদ্ধি পায় ভেতর থেকে, আর মাও সেতুঙ এর পুনসূত্রায়ন করেন অগ্রবাহিনীর মধ্যে দুই লাইনের সংগ্রাম নিয়ে কথা বলার সময়।
ফ্রান্সের ইতিহাস ও আমাদের সংঠনের দুর্বলতার প্রেক্ষিতে, এই দুই লাইনের সংগ্রাম ভেতর থেকে এবং বাহির থেকে পরিচালিত হয়েছে, যার কেন্দ্রে ছিলো পরিবেশবাদ।
পরিহাস হচ্ছে, আমাদের সংগঠনকে কতিপয় দল বা ব্যাক্তির দিক থেকে সর্বদাই এক অসুস্থ অথবা সুবিধাবাদি পথে, কখনো এমনকি চরম সেমিটিকবিরোধী স্বরে আসা আক্রমণ মোকাবেলা করতে হয়েছে, কিন্তু কখনোই পরিবেশবাদের বিষয়ে নয়।
এর কারণ হচ্ছে, সিপিএমএলএম কর্তৃক তুলে ধরা ও এগিয়ে নেয়া পরিবেশবাদ প্রশ্নটি মূর্তভাবে সেটাই যা “কালো” লাইন খণ্ডন করতে চায়। বুর্জোয়া কুসংস্কারে বাঁধা, তারা পরিবেশবাদকে অস্বীকার করে, এতে তারা দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকেও নিশানা করছে, যেখনে বিজ্ঞান আমাদের গ্রহকে জীবের আবাসভুমি হিসেবে ও একটি ক্রিয়াশীল সামগ্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপলব্ধি করতে শেখায়।
এখানে আমরা দেখতে পাই যে, প্রক্রিয়াগত ভাবে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের সাথে যে সুসংবদ্ধ চেতনা রয়েছে তাকে বর্জনের এক পাতি বুর্জোয়া প্রবণতা রয়েছে। এরা বুর্জোয়াদের শাসনের অধীনে নিজেদের ঐতিহ্য ও উৎপাদন রক্ষায় বিপদ্গ্রস্থ।
যেকোন প্রগতিশীল ব্যক্তি মাত্রই এটা মেনে নেবেন না যে, সাম্যবাদী সংস্কৃতির আওতায় আণবিক শক্তি কেন্দ্র এবং মানুষ খুনের কারখানা এক সাথে চলতে পারে। অধিকন্তু, যুগে যুগে জীবন্ত বস্তু যাকিছু গড়ে তুলেছে তথা চলমান পরিবেশ ধ্বংসের উপর একটা সঠিক বিশ্লেষণ ছাড়া পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতির উপর উপলব্ধি অসম্ভব।

. সংগঠন প্রশ্ন
সিপিএমএলএম একটি বিপ্লবী সংঠন। এটা কোন “কট্টর” ট্রেড ইউনিয়নবাদের রাজনৈতিক অঙ্গ সংগঠন নয়। আমরা মতাদর্শকে ভিত্তি করে আর বাস্তব অবস্থার বিশ্লেষণ করে কোনটা প্রাধান্য দেব তা পছন্দ করি।
আমাদের সংঠন বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে যে সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক লড়াইকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় সেই প্রেক্ষিতে এটাই হলো সেই সঠিক পথ। সিপিএমএলএম প্যারা ইউনিয়নবাদী কর্মকান্ড বর্জন করে, বরং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আদর্শে জনগণের বিভিন্ন সেক্টরকে জয় করে সত্যকার রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে আগ্রহী।
আর সেই জন্যই সর্বদাই আমাদের সংগঠন প্রতিটি কর্মীর বক্তিগত সাংস্কৃতিক মান, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগত করণীয়র সাথে যুক্ত করার দিকে প্রভূত মনোযোগ প্রদান করে যাতে এই সকল বিষয় আমাদের রাজনৈতিক তৎপরতাকে পরিপুর্ণতা দান করে।
এই জন্য উচ্চ মানের শৃংখলা ও উন্নত মতাদর্শিক স্তর থাকা দরকার, আর কোন কোন ক্ষেত্রে শ্রেণীগত কারণে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়না। ফ্যাসিবাদ, পরিবেশধ্বংস প্রতিদিন ভিত্তি অর্জন করছে। আমাদের এই সকল দিককে অবশ্যই তুলে ধরতে হবে ।
নির্দেশনার প্রতি বিরাট মনোযোগ প্রদান করতে হবে স্বল্পমেয়াদী নয় বরং আগামী দিন গুলোয় জেগে উঠবে যে হাজার হাজার বিপ্লবী তারা যাতে শিখতে, শুষে নিতে এবং প্রচুর কাজ করতে পারে। আমাদের ভাবতে হবে আমরা একটি যুগের সৃজন কর্ম করছি তা কোন ব্যক্তিগত বিষয় বা সময়ের জন্য নয়।

আন্তর্জাতিক ইস্যূ সমূহ
. নেপালের সংশোধনবাদ সম্পর্কে
২১ শতকের প্রথম দশকের শুরুর দিকে নেপালে বিরাট বিপ্লবী বিকাশ সংঘটিত হয়, সেই সময় আমাদের সংগঠন এর প্রতি যথাযথ মনোযোগ প্রদান করে। গণযুদ্ধ সত্যিই বিরাট সফলতা লাভ করছিল, আর সেট একটা প্রচলিত মার্কসবাদী-লেনিনবাদ-মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি কর্তৃক জ্বালানী প্রাপ্ত হয়েছিল।
সেই সময়ে নেপালী কম্যুনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)র বিশাল দায়িত্ব ছিলঃ সত্যিকার সাম্যবাদী মতাদর্শকে কেন্দ্র করে বিশ্বের সকল প্রগতিশীলদের ঐক্যবদ্ধ করা।
যাহোক, নেপালী কমিউনিস্ট পার্টি এই কর্তব্য পর্যন্ত যায়নি, বরং এর নেতা প্রচন্ড এক ভ্রান্ত থিসিস বিকশিত করল যা শীঘ্রই তার সংশোধনবাদী চরিত্র উন্মোচিত করল । পরিস্থিতি ছিল জটিলঃ যেমন নেপালের গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমর্থন করা দরকার ছিল এক ইঞ্চিও সংশোধনবাদের দিকে না গড়িয়ে।
কোন কোন ক্ষেত্রে এটা অনেক দূর এগোয়। কেবল গনযুদ্বের আদর্শকেই বিসর্জন দেওয়া হল শুধু তাই নয় বরং ভূয়া মাওবাদী সংশোধনবাদী শক্তিসমূহ অগ্র পদক্ষেপ ফেলতে সক্ষম হয়, যেমনটা করেছিল ক্যানাডার বিপ্লবী কম্যুনিস্ট পার্টি, সেসময় নেপালের কম্যুনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)র খুব কাছাকাছি আসতে ও তার চরম সুবিধাবাদী প্রচার চালাতে।
তাই ২০০৫-২০০৬ সালে সিপিএমএলএম মনে করে নেপালের সংশোধনবাদী মতধারার একটা সমালোচনা প্রকাশ করা প্রাসঙ্গিক, আর এটাই প্রথম মালেমা সংগঠন যে এটা করে। (“নেপালঃ বিপ্লবকে কি এগিয় নেবে নাকি মিস্টি প্রলেপযুক্ত বুলেটের আঘাতে মৃত্যুবরন করবে?”/“নেপালী বিপ্লব একটি মোহনায় দাঁড়িয়েঃ নতুন কিছু করতে চেষ্টা কর অথবা দেশ কে ‘সংস্কার কর’?”/ “প্রচন্ড আধুনিক সংশোধনবাদের পথিক”/”নেপালী সংশোধনবাদ এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন”)
সিপিএমএলএম এর সমালোচনা যে একদম সঠিক ও মূল্যবাণ ছিল নেপালী বিপ্লবের পতন তা প্রমান করে দিয়েছে। আমরা সঠিক ভাবেই দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের নীতিমালা ও মার্কসবাদ-লেনিনবাদ–মাওবাদকে রক্ষা করেছি।
এই সমলোচনা যে জাতীয় ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ তাকে উপেক্ষা করা কারো উচিৎ নয়। আমরা প্রচণ্ডের থিসিস তথাকথিত “প্রচণ্ডবাদ”কে বর্জন করে ফরাসী সংশোধনবাদকেও বর্জন করেছি। ফ্রান্সে মরিস থিওরেজ একই থিসিস হাজির করেছিলঃ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে সর্বহারার একনায়কত্ব বর্জন, এবং প্রজাতন্ত্রবাদ ও একটা “বিপ্লবী” প্রেক্ষিত হিসেবে গণতন্ত্রকে “ব্যাপকতরকরণ”।
আমরা সকলেই জানি ফরাসী “কম্যুনিস্ট” পার্টি সর্বহারা একনাকত্বকে বিসর্জন দিয়েছিলো। সেই পার্টির সাধারণ সম্পাদক হোর্হে মার্কেজ এক টেলিভিশন ভাষনে এই বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন ১৯৭৬ সালের জানুয়ারী মাসে যে একে তাদের দলীয় সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে।
১৯৬৪ সালে ফরাসী “কম্যুনিস্ট” পার্টির ১৭তম পার্টি কংগ্রেসে সেই একই হোর্হে মার্কেজ তার বক্তব্যে তখনো “সর্বহারা একনায়কত্ব” এর নীতিমালাকে রক্ষা করেছিলেন। তবে তিনি আরো বলেনঃ
“আমাদের বিগত কংগ্রেসে আমাদের পার্টি পরিস্কার করে বলেছে যে কম্যুনিস্ট ও সমাজতান্ত্রীদের মাঝে একটা অংশীদারিত্ব সম্ভব ও দরকার, আর তা কেবল বর্তমান সমস্যারই সমাধানের জন্যই নয় বরং আগামী দিনে সমাজতন্ত্র বিনির্মানে তা ভূমিকা রাখবে।
পাশাপাশি আমাদের সিদ্ধান্তের জন্য পরিকল্পনা পুননিশ্চিত করছে যে ‘আমাদের পার্টি সমাজতন্ত্র বিনির্মানের জন্য এক দলীয় ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক আবশ্যকতাকে বর্জন করে’।
কিন্তু আমরা এমনকি আরো অনেক দূর এগিয়েছি। আমরা বিবেচনা করি, সত্যিই, সমাজতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থকে সেবাকারী শ্রমিক শ্রেণীর একটা ঐক্যবদ্ধ পার্টির পাশাপাশি সমাজতন্ত্র বিনির্মাণে অন্যান্য পার্টিও অস্তিত্বশীল হতে ও সহযোগিতা করতে পারে, একটা প্রক্রিয়া যা শ্রমিক শ্রেণী, মেহনতি কৃষক, বুদ্ধিজীবি ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীসমূহের এক বিরাট জোট কর্তৃক বিরাটাকারে উন্নতিপ্রাপ্ত হবে।”
একটি কমিউনিস্ট পার্টিতে সংগঠিত একটি নেতৃত্বকারী অগ্রগামী সংক্রান্ত নীতির এই বর্জন অনিবার্যভাবেই বিলোপের দিকে নিয়ে যায়। সিপিএমএলএম একটা সাধারণ স্তরে আবশ্যকীয় নীতিমালাকে রক্ষা করেছে, এগুলো আরো বেশি গূরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে যখন প্রচণ্ডবাদের ধ্বজাধারীরা ফলতঃ এক আন্তর্জাতিক দলে যোগ দেয়, সংশোধনবাদী নেপালী আন্দোলনের মধ্যকার এক লাল দলকে সমর্থনের ভাণ করে।
সিপিএমএলএম এক গুরুত্বপূর্ণ দলিলসহযোগে জবাব দেয়ঃ “লাইন, প্রবণতা, দল ও নেপাল প্রশ্ন।”।
পার্টি উক্ত সুবিধাবাদী ধারার বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেয়, যে ধারাটিকে “মধ্যপন্থী” নাম দেওয়া হয়েছে সংশোধনবাদের অংশ হতে এর অস্বীকৃতির কারণে।

১০. কম্যুনিস্টদের আন্তর্জাতিক ঐক্য এবং মতাদর্শের প্রশ্ন
আমাদের সংগঠন কিছু যৌথ ঘোষণায় অংশ গ্রহন করেছে বিগত বছরগুলিতে, বিশেষত প্রত্যেক মে দিবসে।
– ২০০৯ সালেঃ সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদ সংকটে নিপতিত – সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম দীর্ঘজীবি হোক !
– ২০১০ সালেঃ দুনিয়ার সর্বহারা ও নিপীড়িত জনগণ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন !
– ২০১২ সালেঃ আসুন বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বিজয়ের জন্য লড়াই করি!
আমরা মধ্যপন্থা প্রশ্নেও একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিঃ
– ২০১১ সালেঃ কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক ঐক্যের জন্য প্রয়োজন সংশোধনবাদ ও মধ্যপন্থার পরাজয়!
আমাদের বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের কমরেডদের সাথে একইভাবেঃ
– ২০১১ সালেঃ একদিন মুক্ত ভারত জেগে উঠবে দুনিয়ায়!
– আবারো ২০১১ সালেঃ আসুন জলবায়ু পরিবর্তনকে মোকাবেলা করি!
– ২০১৩ সালেঃ ইবাহীম কায়াপাক্কায়ার চিন্তাধারা দির্ঘজিবী হোক!
সর্বশেষ, আমরা বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, আফগানিস্তানের আমাদের কমরেডদের সাথে পথনির্দেশক চিন্তাধারা নিয়ে এক যৌথ দলিল প্রকাশ করেছি (পথনির্দেশক চিন্তাধারাঃ মাওবাদের মর্ম)। ১লা মে ২০১৩ সালে তা প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষিত আমাদের বিবেচনায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে ভাল পথ। বর্তমানে এক পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন ও মতাদর্শগত প্রশ্নসমূহের সিরিয়াস আলোচনা ব্যতিরেকে একটা আন্তর্জাতিক ঐক্যের দিকে আগানো অসম্ভব। অস্পস্টতা হচ্ছে এক মতাদর্শিক বিষ। সেই জন্যই সিপিএমএলএম আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের “লাল দল” হিসেবে অবস্থান নেয় না, বরং এমন একটি সংগঠন হিসেবে অবস্থান নেয় যে কিনা অন্যান্য সংগঠনসমূহের সাথে মিলে এক লাল লাইন বিকশিত করার জন্য কাজ করছে।

মার্কসবাদী–লেনিনবাদী- মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (ফ্রান্স)
জানুয়ারী, ২০১৪

সুত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1009

Advertisements

ইসরায়েল কর্তৃক যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত ১১ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু ‘আলী আলকাম’

আলী আলকাম

আলী আলকাম

শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নৃশংসতা নিয়ে কখনও কখনও বিশ্বে তোলপাড় বা উদ্বেগ দেখা যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশ্বের শোষক শাসক-গোষ্ঠী বিশ্ব-সমাজের নীরবতার সুযোগে এবং কখনওবা মানবাধিকারের তথাকথিত সমর্থকদের সহায়তা নিয়েই শিশু হত্যা ও শিশু-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে ইসরাইল সরকারের নৃশংসতা লোমহর্ষক হলেও তা নিয়ে খুব-একটা জোরালো প্রতিবাদ বা নিন্দা বিশ্ব সমাজে দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি বর্ণবাদী ইসরাইল চলমান ইন্তিফাদা আন্দোলনে অংশ নেয়ার ‘মহা-অপরাধে’ ১১ বছরের এক বিপ্লবী ফিলিস্তিনি শিশুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আলী আলকাম নামের এই ফিলিস্তিনি শিশু হচ্ছে এখন বিশ্বের সবচেয়ে কম-বয়সী কারাবন্দি। ইসরাইলি সেনারা তাকে বন্দি করার সময় তার হাতে ও পেটে তিনটি গুলি বিদ্ধ করে। বন্দি আলীকে দেখতে আসে তার বাবা-মা। কিন্তু তাদেরকে মাত্র বিশ মিনিট সময় দেয় ইসরাইলি সেনারা।

শত শত ফিলিস্তিনি শিশু ইসরাইলি কারাগারে বন্দি রয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই শিশুদেরকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় রেখেছে দখলদার ইসরাইল।
ইহুদিবাদী ইসরাইল শিশুদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার করতে অভ্যস্ত এবং শিশু বন্দীদেরকে পরীক্ষাগারের ইঁদুরের মত ব্যবহার করে বলেও শোনা গেছে।

ইসরাইলের এসব নৃশংসতা নিয়ে তেমন জোরালো প্রতিবাদ শোনা যায় না। অথচ ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের কারণে ইহুদিবাদী ইসরাইলের কেবল একটি শিশুরও যদি কোনো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হত তাহলে তা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের নেতারাও সরব হয়ে উঠতেন এবং পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমগুলোও নিন্দাবাদের ঝড় বইয়ে দিত।


বাংলাদেশঃ ব্রাহ্মন্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সমর্থনে ‘বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন’-র পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠি

12562831364_915523f563_b

‘ভারতের হিন্দু ব্রাহ্মন্যবাদ আর বাংলাদেশের ধর্মীয় মৌলবাদী ফ্যাসিবাদ একসূত্রে গাঁথা।’ তাই আমাদের দেশের মৌলবাদ আর ভারতের হিন্দু মৌলবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই তাও একই পথে হবে। আমরা এপার থেকে বলতে চাই,কমরেড রহিতের জন্য গড়ে ওঠা আজকের এই আন্দোলন আমাদেরও আন্দোলন।আমরা মনে করি ভারতের জনগনের মৌলিক শত্রু আমাদের দেশের জনগনেরও মৌলিক শত্রু।আর মৌলিক শত্রুর বিরুদ্ধে যে লড়াই সে লড়াই কাঁধে কাধ মিলিয়েই করতে হবে।ভারতের কমরেডগন ও আজকের আন্দোলনে সামিল জনগণকে,আমরা আমাদের সংগঠন ‘বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের’ জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে লাল সালাম জানায় এবং জনগনের ব্রাহ্মন্যবাদের বিরদ্ধে যে লড়াই সে লড়াইকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের সাথে যুক্ত করার আহবান জানাই। তারসাথে,যে আন্দোলন আজ সমগ্র ভারতব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে অর্থাৎ ভারতের মাওবাদীদের আন্দোলন দমনের নামে আদিবাসি ও দলিতের ওপর যে দমন নিপীড়ন চলছে আমরা এই বার্তার মাধ্যমে সেই দমন-নিপীড়নেরও তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

বার্তা প্রেরক
আহনাফ আতিফ অনিক
সহ-আহ্বায়ক
বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন’, বাংলাদেশ।

২৫/০১/২০১৬


ভারতঃ উড়িষ্যায় মাওবাদী সহযোদ্ধা স্বামী-স্ত্রীকে একত্রে হত্যা করল পুলিশ

Iuhgfbdt--621x414

গত রবিবার উড়িষ্যা রাজ্যের আঙ্গুল ও দেওগর জেলার সীমান্তের জঙ্গলে মাওবাদী নেতা সুশীল এবং তার স্ত্রী সনিকে কথিত এনকাউন্টারের নামে হত্যা করেছে পুলিশ। সুশীল ওরফে বসন্ত ওরফে পুত্তাপাকা ছিলেন ওয়ারাঙ্গাল জেলার কুমারাস্বামী’র এবং তার স্ত্রী সনি ওরফে সিন্দ্রি লিঙ্গ বিশাখাপত্তনম থেকে আগত। পুলিশ বরাবরের মত এবারো সাজানো হত্যার ঘটনাটিকে এনকাউন্টারের নামে চালিয়ে দিয়েছে।

পুলিশের আইজি সৌমেন্দ্র প্রিয়দর্শী(anti-Maoist operations) জানাচ্ছে, ‘গোয়েন্দা সুত্রে খবর পেয়ে ঐ দিন বিকেলে আঙ্গুল ও দেওগর জেলার সীমান্তের জঙ্গলে মাওবাদী বিরোধী বিশেষ বাহিনী অভিযানে গেলে, SOG ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বিত বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে এনকাউন্টারের ঘটনায় সুশীল ও তার স্ত্রী মারা যায়, একে তারা তাদের বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে। ঘটনাস্থলে মৃতদেহের পাশ থেকে ইনসাস রাইফেল, স্টেন কারবাইন ও প্রচুর গোলাবারুদ পাওয়া যায়। ‘

পুলিশ আরো জানায়, ” নিহত সুশীল একজন উচ্চ পর্যায়ের মাওবাদী নেতা ছিল, তার মাথার দাম ২০ লক্ষ এবং তার স্ত্রীর মাথার দাম ৫ লক্ষ রূপী ঘোষণা করেছিল পুলিশ। সুশীলের নামে গত ১৫ বছর ধরে অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যায় মাওবাদী সহিংসতা চালানোর অভিযোগে ৭৮টি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে ৩০টি হত্যা মামলা রয়েছে।”

সুশীল, উড়িষ্যা রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন, যা এক সময়ে সব্যসাচী পাণ্ডার নেতৃত্বে করা হয়েছিল । ২০০৮-২০০৯ সালে তিনি সিপিআই(মাওবাদী) বাসধারা বিভাগীয় কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ত্বে ছিলেন। পরে জয়পুর, কেওঞ্ঝার, ঢেঙ্কানল ও আঙ্গুলের শিল্প ও খনিজ সমৃদ্ধ জেলায় মাওবাদী কার্যক্রম শুরু করার জন্য তাকে কলিঙ্গ নগর বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক করা হয়।

জয়পুর জেলা কলিঙ্গ নগর এলাকায় টাটা স্টিল এর গ্রিন ফিল্ড স্টিল প্ল্যান্ট জন্য আদিবাসীদের স্থানচ্যুতের প্রতিবাদ করার সময় পুলিশের গুলিতে ১৩জন আদিবাসী নিহত হওয়ার পর মাওবাদীরা কলিঙ্গ নগর বিভাগ শুরু করে।

 

অনুবাদ সুত্রঃ 

http://indianexpress.com/article/india/india-news-india/odisha-police-kill-dreaded-maoist-sushil-wife-in-encounter-inside-forest/


কলকাতাঃ আগামীকাল ২৬শে জানুয়ারি ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অনুষ্ঠানে যোগ দিন

রোহিত নক্ষত্র ভালোবেসেছিল, রোহিত আকাশে উড়তে চেয়েছিল। উচ্চবর্ণের রেজিমেন্টেড আকাশে দলিত রোহিতের জন্য শুধু ফাঁসির দড়ি ও একটা চিঠি।

গল্পটা শুরু আজ না, সেই কোন পুরানে উঁকিঝুঁকি মারে একলব্যের কাহিনি। আর্য প্রবেশের কিছুকালের মধ্যেই শ্রমের হিসেবে শ্রেণীবিভাগ রূপান্তরিত হয় জন্মগত বর্ণবাদে। ব্রাহ্মণ পুজো পাবে আর শূদ্ররা বইবে বোঝা। তাদেরে অত্যাচার করা হবে, উৎপাদিত সম্পদ কেড়ে নেওয়া হবে, মানবেতর জীবন উপহার পাবে তারা,দিনশেষে আফিমের মত গেলানো হবে ঈশ্বরের ইচ্ছা। এক বিশাল সংখ্যক সর্বহারা বংশানুক্রমে জন্ম নেবে দিনের পর দিন। কী দুর্দান্ত আইডিয়া। আরামসে একদল ক্রীতদাস পেয়ে যাচ্ছে মুষ্ঠিমেয় উচ্চবর্ণের দল। বিপরীতে ভিন্নস্বর দাবিয়ে রাখার জন্য মনুসংহিতা রচিত হল। পা থেকে যাদের জন্ম তারা যে দিনরাত পদদলিত এবং গায়ে অস্পৃশ্যতার হলমার্ক সেঁটে দেওয়া হবে তাতে আর আশ্চর্য কী?
তবে যোনি অস্পৃশ্য হয় না, তাই মাঝরাতে দলিত নারীদের তুলে এনে ধর্ষণ করা যেতেই পারে, স্বগ্গে যাবে গো!!!
এই জঘন্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আদি ও মধ্যযুগে কিছু ভক্তিবাদী ও যুক্তিবাদী আন্দোলন হলেও শাসকশ্রেণীর সহায়তায় তা দমন করে ব্রাহ্মণ্যবাদীর দল। স্বাধীনতার পর আড়াই হাজার বছরের দমিয়ে রাখা শ্রেণীকে কিছু সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হয়। যদিও ভারতের আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন বিভাগে উচ্চবর্ণের নচ্ছারদের রমরমা, বিরাট অংশের দলিত শ্রেণী যদি কোনোদিন তার হক্ বুঝতে রাস্তায় নামে সেই ভয়ে উচ্চবর্ণের প্রভুরা এখনো কুমির ছানা দেখিয়ে চলেছে। ভারতের হিন্দু ফ্যাসিবাদী সংগঠন আরএসএস নিজেদের ব্রাহ্মণ্যবাদের মৌরসীপাট্টা জারি রাখতে সেই সংরক্ষণটুকুও কেড়ে নিতে চায়, বেহুলার বাসরঘরে কোনো ফাঁক রাখা যায় কি! তাই তো মোহন ভাগবত ফতোয়া দেয় সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার। আর পুঁজীবাদের দালাল এবং ব্রাহ্মণ্যবাদের চামচা বিজেপি সরকার তোল্লাই দিয়ে যায় ‘কুকুর’ হত্যার এই ফতোয়াকে। কারণ বংশগত ক্রীতদাস থাকলে পুঁজিবাদী প্রভুরা এট্টু পিঠ চাপড়ে দেবে,সেটাই কম কী!!!
আর সেই অ্যাজেন্ডার অঙ্গ হিসেবে আর এস এসের ছাত্র সংগঠন শুরু করেছে কিছু সুদূরপ্রসারী প্রক্রিয়া। বারবার দলিতদের পরিচিতির প্রান্তিকীকরণ করে চলেছে তারা। এই অবক্ষয়ের যুগে একসময় রোহিতরা একা হয়ে যায়, একদম একা। শেষে পড়ে থাকে আত্মহত্যার অধিকার।
যদিও রোহিতের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বা খুন বলতে রাজী নই। রোহিত প্রতিবাদ করে গেছে নিজের মৃত্যু দিয়ে, আর আমাদের দিকে একগুচ্ছ প্রশ্ন। আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর জানি তো?

——————————————————————————————————————————————
বিঃদ্রঃ– জাতিবর্ণ ব্যবস্থার বিরোধী এবং শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষনের পক্ষে যেকোনো সংগঠন ও ব্যক্তি তাদের সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে বা না নিয়ে আসতে পারেন।

12321227_984599674940733_4760161989374849927_n

12540602_984603714940329_4944714576552308360_n


তুরস্কের গণযুদ্ধের সংবাদ

12626077_197976653890280_580258196_n

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গত ২৪শে জানুয়ারি রাত ১.৩০টার দিকে মাওবাদী TKP/MLTIKKO গেরিলারা ক্ষমতাসীন AKP পার্টির সমর্থকদের ব্যবহার করা একটি ভবনে অগ্নি-বোমা হামলা চালিয়েছে। AKP পার্টির সমর্থকরা- আল নুসরা ফ্রন্ট (সিরিয়ার আল কায়েদা) ও শাম আল আহরার সহ সিরিয়ার সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট দলগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে ঐ ভবনটি ব্যবহার করে থাকে।

মাওবাদীরা এক ইশতেহারে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা রাষ্ট্র ও অপরাধীদের জন্য প্রয়োজনীয় শাস্তি প্রয়োগ করে যাব “।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.nouvelleturquie.com/fr/guerilla/a-istanbul-les-militants-du-tikko-ont-brule-un-local-soutenant-les-djihadistes-en-syrie/

http://www.ozgurgelecek.net/manset-haberler/18725.html?task=view