EDSA’র ৩০তম বার্ষিকীতে ফিলিপিনের মাওবাদীরা সমন্বিত ও সংগঠিত কৌশলী আক্রমণ শুরু করেছে

ফিলিপিনের মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি(NPA)

ফিলিপিনের মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি(NPA)

ফিলিপিনের সুরিগাও দেল সুরে’র হান-আয়ান লিয়াঙ্গাতে ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বরের গণহত্যা থেকে এখন পর্যন্ত উত্তর পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চলে ফিলিপিন আর্মড ফোর্স-AFP বিপ্লবী আন্দোলন ও জনগণের বিরুদ্ধে একটানা তীব্রতর ও ব্যাপক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বেশ কিছু মাওবাদী কর্মী, নেতা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, জোরপূর্বক হাজার হাজার বাড়ী ঘর এবং বিদ্যালয় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত আঘাত করা হয়েছে।

এতে ৮নং AFP  ব্যাটালিয়ন ও ২ PNP রণকৌশল ব্যাটালিয়ন, CAFGU,  Magahat এর মত প্যারামিলিটারি গ্রুপের বাহিনী সহ আরো অনেকে মিলে একটি বিশাল সংখ্যক বাহিনী এই অন্যায় কাজে সংগঠিত হয়েছে। এছাড়াও COPD-র ছদ্মাবরণে Psywar অপারেশন এবং হয়রানি ও হুমকির বিভিন্ন মাত্রা ব্যাপকতর হচ্ছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে, AFP, PNP এবং CAFGU ক্যাম্প এবং AFP এর হামলার বিরুদ্ধে ফিলিপিনের মাওবাদী নিউ পিপলস আর্মি(NPA), উত্তর পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চল গত ২৫শে জানুয়ারি থেকে গ্রামাঞ্চলে একটি সমন্বিত ও সুসংগঠিত হামলা শুরু করেছে।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.signalfire.org/2016/02/28/npa-nemr-launches-coordinated-and-synchronized-tactical-offensives-on-the-30th-anniversary-of-edsa/

Advertisements

বাংলাদেশঃ বিপ্লবী সংগঠন সমূহের সংবাদ

e

২ জানুয়ারি ’১৬ জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপন

এ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ’ ও ‘নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা’ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। পোস্টার, লিফলেট সারাদেশে প্রচার করে। ঐদিন সকালে শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদারের কবরে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। বিকাল ৩ টায় নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার সুসজ্জিত একটি মিছিল ঢাকার টিএসটি ও শাহবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। বিকাল ৪ টায় ‘শহীদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ’ শাহবাগ যাদুঘরের সামনে আলোচনা সভা করে। এ ছাড়া সারাদেশে নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার বিভিন্ন শাখা যথাযথ মর্যদার সাথে দিবসটি উপলক্ষে মিছিল-মিটিং এবং ঘরোয়া আলোচনা সভা করে।

“কৃষক মুক্তি সংগ্রাম”-এর হাওর আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৪ আগস্ট ’১৫ কৃষক মুক্তি সংগ্রামের হাওর আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মোস্তাক আহমেদ মনিকে সভাপতি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট হাওরাঞ্চল কমিটি গঠন করা হয়।

“কৃষক মুক্তি সংগ্রাম”-এর রাজবাড়ী জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৬ অক্টোবর ’১৫ কৃষক মুক্তি সংগ্রাম-এর রাজবাড়ী শাখার প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ইসহাক সরদারকে সভাপতি করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

“নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা”র ময়মনসিংহ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন

২০ নভেম্বর ’১৫-এ  নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার ময়মনসিংহ জেলা শাখার প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আবুবক্কর সিদ্দিক রুমেলকে আহবায়ক করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়।

“বিপ্লবী  ছাত্র-যুব আন্দোলন”-এর ঢাকা মহানগর কমিটি গঠন

৪ সেপ্টেম্বর ’১৫ বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন-এর এক কর্মী সভায় ঢাকা মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। কমরেড আহনাফ আতিফ অনিককে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট মহানগর কমিটি গঠন করা হয়।

মাওলানা ভাসানীর ৩৯-তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি পোস্টার সারাদেশে প্রচার করে। মোর্চা’র সিরাজগঞ্জ, চাটমোহর প্রভৃতি শাখাও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। এছাড়া রাজবাড়ী, হাওরাঞ্চল, নড়াইল, দিনাজপুর, রাজশাহীতে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম-এর বিভিন্ন শাখা প্রচারপত্র প্রকাশ, মিছিল-মিটিং, আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে।

শহীদ কমরেড আসাদ দিবস পালিত

সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ২০ জানুয়ারি ’১৬ শহীদ কমরেড আসাদ দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে ঐদিন বিকাল ৪টায় ঢাকার শাহবাগ যাদুঘরের সামনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এবং সভার পূর্বে একটি মিছিল মধুর ক্যান্টিন থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, ফেব্রুয়ারী ‘১৬ সংখ্যা


আন্দোলন পত্রিকা, ফেব্রুয়ারী ‘১৬ সংখ্যাঃ সিরিয়ায় আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠছে

download

সম্প্রতি সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তথা আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠছে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে। সাম্রাজ্যবাদ মানেই যুদ্ধ-ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত-প্রতারণা তা-ও সকলে পুনরায় প্রত্যক্ষ করছে। সিরিয়ায় রুশপন্থি আসাদ সরকারকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে আইএস তথা দায়েস উচ্ছেদের ছুতায় মার্কিন আগ্রাসনের পর এই বহুমাত্রিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। তার পর রাশিয়া আইএস উচ্ছেদে (মূলত আমেরিকার বিরুদ্ধে) সিরিয়ায় সামরিক হামলা করলে আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ফলে একবিশ্ব ব্যবস্থার মোড়ল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পড়ে মহাসংকটে।

মধ্যপ্রাচ্যে তেলের উপর একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ইরাক-আফগানিস্তান-লিবিয়া দখলের পর আমেরিকা সিরিয়া আক্রমণের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইতিমধ্যে দজলা-ফোরাত নদী দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ইউক্রেনে রুশ বিরোধী শক্তিকে আমেরিকা মদদ দিতে থাকে। বহুবিধ সংকটের কারণে আমেরিকাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া নতুনভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিশ্ব পরিসরে মার্কিনের সাথে দ্বন্দ্বমান চীন ইরানের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে। অতি সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর ইরান সফর সেটাই তুলে ধরছে। উল্লেখ্য এই সফরে দু দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাঝে হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যিক চুক্তিও রয়েছে। এ ছাড়া কৌশলগত সম্পর্কের ব্যপারে ২৫ বছরের একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টা খ্বুই গুরুত্বপূর্ণ।

এবারে জাতিসংঘে সিরিয়া আক্রমণে মার্কিন প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো প্রদান করে। ৯০-এর দশকের প্রথম দিকে রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ স্তিমিত হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় মুখোমুখি হয় এই দুই পরাশক্তি। আমেরিকা পিছু হঠতে বাধ্য হলেও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত অব্যাহত রাখে। আমেরিকা আসাদ বিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করে “ফ্রি সিরিয়ান আর্মি” গড়ে তোলে। অন্যদিকে ইরাক-সিরিয়ায় হতাশাগ্রস্ত সুন্নীদের মার্কিনীরা মদদ দিয়ে গড়ে তোলে আইএস। এ জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বকে মার্কিন ব্যবহার করে। আইএসও বিভিন্ন কারণে এক পর্যায়ে লাদেনের মতো আমেরিকার অবাধ্য হয় কখনো কখনো। তাই আইএস উচ্ছেদের উছিলায় আমেরিকা সিরিয়ায় সৈন্য পাঠায়। প্রচার আছে যে, মার্কিনীরা আইএসকে যত না আক্রমণ করে, তার চেয়ে বেশি আক্রমণ করে বাশারের সৈন্যদের উপর। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ৩৫টি দেশের জোট থাকা সত্ত্বেও নতুন করে মার্কিনের পা-চাটা সৌদি আরবের নেতৃত্বে ৩৪টি মুসলিম দেশ নিয়ে আইএস বিরোধী জোট গঠন করেছে। মজার বিষয় হচ্ছে এই জোটে আইএস-এর কট্টর বিরোধী ইরান নেই। এসব হচ্ছে মার্কিনের আধিপত্য বজায় রাখা ও প্রতিক্রিয়াশীল গণবিরোধী যুদ্ধ-পরিকল্পনার অংশ। এই প্রতিক্রিয়াশীল যুদ্ধের  মধ্য দিয়ে তারা তাদের অস্ত্র ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছে।

এই আমেরিকান জোট আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না তা পরিষ্কার। তুরস্ক হচ্ছে এই জোটের অংশীদার। অথচ আইএস-এ যোগদান করতে ইচ্ছুক বহির্বিশ্বের গেরিলারা অনেকেই তুরস্কের সীমান্ত দিয়েই আইএস-এর ঘাঁটিতে প্রবেশ করছে। শুধু তাই নয়, তুরস্কসহ অনেক জোট সদস্য দেশই আইএস অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে সস্তায় চোরাই পথে তেল কিনে নিচ্ছে। অন্যদিকে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিদার আইএস মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিমদের সাধারণ শত্রু ইসরাইলের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করছে না।

সুতরাং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে যুদ্ধ আইএস উচ্ছেদের যুদ্ধ নয়। এর রয়েছে দ্বিমুখী তৎপরতা। আইএসকে রক্ষা করে কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরদ্ধে অদৃশ্য যুদ্ধকে জিইয়ে রাখা এবং যখন আইএস সীমা লংঘন করে তখন অবাধ্য সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিছু যুদ্ধ করা। এই মার্কিনী ছকে বাধ সেধেছে রাশিয়া, আইএস উচ্ছেদে অংশ নিয়ে। সৃষ্টি হয়েছে বহুমাত্রিক দ্বন্দ্ব।

রাশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব আধিপত্যের এ খুঁটিকে রক্ষা করা। অন্যদিকে আমেরিকা চাইছে বাশার সরকারকে উচ্ছেদ করে মধ্যপ্রাচ্যে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। এখানকার আঞ্চলিক শক্তি সৌদি আরব মার্কিনের সাথে জোটবদ্ধ থেকে রাজতন্ত্র রক্ষায় ব্যস্ত। ইরানের কর্মসূচি হচ্ছে একটা বৃহৎ শিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তোলা। আর তুরস্কের এরদোগান সরকার চাচ্ছে মার্কিনী জোটে থেকে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে তা ছড়িয়ে দিতে। যেজন্য তারা আইএস-এর সাথে গোপন সম্পর্ক রক্ষা করে। এরা প্রকাশ্যে মার্কিন-রুশ জোটে থাকলেও যার যার সুবিধা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত-প্রতারণা-কামড়াকামড়ি করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে কুর্দী জাতি ছিল বিখ্যাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাম্রাজ্যবাদীরা এই বিশাল কুর্দী জাতিকে ইরান-ইরাক-তুরস্ক-সিরিয়ার মধ্যে মধ্যে ভাগ করে দেয়। সেই কুর্দী জাতি এখন আবার স্বাধীনতার জন্য ফুঁসে উঠেছে। পিকেকে নামক পেটি-বুর্জোয়া সংগঠন সশস্ত্র সংগ্রাম করছে। তাদের সংগ্রামের প্রধান ক্ষেত্র তুরস্কের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চল। এখানে ইব্রাহীম কায়াপাক্কায়া প্রতিষ্ঠিত মাওবাদী সংগঠনও সক্রিয়। এরাও আইএস নামের দায়েসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তুরস্ক সরকার পিকেকে এবং মাওবাদীদের উপর আক্রমণ করে আইএসকেই সহায়তা করছে। মাওবাদীদের লক্ষ্য হচ্ছে আইএস উচ্ছেদের পরও নয়া গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিপ্লব অব্যাহত রাখা।

সাম্রাজ্যবাদ ও সকল দেশের দালাল শাসকশ্রেণির কার্যক্রম হচ্ছে গণবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল। তারা তাদের শোষণ-নিয়ন্ত্রণ-আধিপত্য বজায় রাখার জন্য জনগণের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে। এই বহুবিধ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ-এর ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এবং আজ আওয়াজ তুলতে হবে- সকল সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলরা সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাত গুটাও।

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, ফেব্রুয়ারী ‘১৬ সংখ্যা


JNU ছাত্রনেতা কানহাইয়ার মুক্তির দাবী জানিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)

kanhaiya kumar

চলতি মাসে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা JNU ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কানহাইয়া কুমারের মুক্তির দাবিতে একটি প্রেসনোট জারি করেছে ভারত কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী)’র উত্তর-দক্ষিণ গাদচিরোলির পশ্চিম সাব-জোনাল ব্যুরো।

এতে বলা হয়েছে, মাওবাদী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠ দমন করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার উচ্চ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো অভিযোগ করা হয়, আরএসএস এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) মতো প্রতিষ্ঠান সমাজে দ্রুত  তাদের ইমেজ হারাচ্ছে।

মাওবাদীরা মিডিয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিভাগগুলোর প্রতি আবেদন জানিয়ে এই বিষয়ে তাদের নিশ্চিত হতে বলেন যে বর্তমানে হিন্দু মতাদর্শ চালিত সরকারের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে তারা যেন প্রলোভিত না হন ।

অনুবাদ সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/nagpur/Naxals-comes-out-in-support-of-Kanhaiya/articleshow/51173036.cms


‘মাওবাদী সহানুভূতিশীল’ সাইবাবার স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ণঃ মহারাষ্ট্র সরকার

freesaibabaredstar

দেবেন্দ্র ফডনবিশ সরকার হুইলচেয়ারে আবদ্ধ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কথিত মাওবাদী সহানুভূতিশীল সাইবাবার  নাগপুর জেল থেকে গাদচিরোলিতে জেলায় স্থানান্তরের বিষয়ে বিরোধিতা করেছে, সরকারের ধারণা মাওবাদী অধ্যুষিত এই এলাকার মাওবাদীরা সাইবাবাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি সাইবাবার নির্জন কারাবাসের বিষয়ে মহারাষ্ট্র সরকারকে সাইবাবার জন্যে গাদচিরোলিতে বিকল্প আবাসনের কথা বলেন, কারণ নিষিদ্ধ নকশাল সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি মামলা সেখানে অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

২০১৪ সালের মে মাসে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে গ্রেফতার হওয়া অধ্যাপক সাইবাবা নাগপুর জেলেই বন্দী আছেন। গাদচিরোলিতে তার মামলার কার্যক্রম জন্যে প্রতিবার তাঁকে ১৭০কিমি ভ্রমন করতে হয়।

শীর্ষ আদালতের আগে দেয়া এক হলফনামায় মহারাষ্ট্রের সরকার বলছে, ‘তাদের কাছে গোয়েন্দা তত্থ্য রয়েছে যে মাওবাদীরা সাইবাবাকে মুক্ত করতে একটি প্রচারণা শুরু করেছে। সাইবাবাকে যদি গাদচিরোলিতে কারাগারের বাইরে রাখা হয়, তবে মাওবাদীরা তাঁকে মুক্ত করতে পুলিশের উপর হামলা করতে পারে।’

এটা একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয় যে সাইবাবার মুক্তির জন্য একটি দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি করতে ক্যাডারদের আহবান জানানো হয়।

একটি বেঞ্চ, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিশান্ত কাটনেসরকারকে বলেন, “আমরা চাই আপনারা(রাজ্য সরকার) তাঁকে আরামদায়ক অবস্থানে রাখবেন, আমাদের বলুন আপনারা তাকে কিভাবে স্বস্তিপূর্ণ রাখবেন, আপনারা তাঁকে নির্জন কারাবাসে রাখতে পারেননা।”

অনুবাদ সূত্রঃ hindustantimes


পশ্চিমবঙ্গঃ লালগড়ের জঙ্গলে ১১টি রাইফেল উদ্ধার

image

লালগড় থানার ঝিটকার জঙ্গলে গাছের নীচে গর্ত থেকে ১১টি রাইফেল উদ্ধার করল সিআরপিএফের ৬৬ নম্বর ব্যাটালিয়ন৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি চালিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় সেগুলি উদ্ধার করে৷ জোড়াব্রিজের কাছে একটি গাছের প্রায় চার ফুট গভীর গর্তে সেগুলি রাখা ছিল৷ কয়েকদিন আগে ল্যান্ডমাইন, মাওবাদী পোস্টারের পরে এবার অস্ত্র৷

২০১১ সালের পর থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের দল মাওবাদীদের রেখে যাওয়া বা লুকিয়ে রাখা বিভিন্ন রকম অস্ত্র, বিস্ফোরক একাধিকবার উদ্ধার করেছে৷ মাওবাদীদের সবচেয়ে সহজ আক্রমণের জায়গা ছিল লালগড়ে ঝিটকার জঙ্গলের একমাত্র সরু পিচ রাস্তা৷

ইতিপুর্বে একাধিকবার সেখানে অভিযান চালিয়ে মাইন এবং বন্দুক উদ্ধার হয়েছে৷ ২০০৬ সালে মাইন উদ্ধার করতে গিয়ে এই জঙ্গলেই জওয়ানরা মারা যান। এবারও সেই জঙ্গলেই মাওবাদীদের রাখা অস্ত্র ভাণ্ডারের সন্ধান মিলল।

শনিবার ঝিটকার জঙ্গলে সিআরপিএফের ৬৬ নম্বর ব্যটালিয়নের জাওয়ানরা অভিযান চালান৷ জঙ্গলের ভিতরে জোড়া ব্রিজের কাছে মাটির তলায় পুঁতে রাখা ১১টি রাইফেল-এর সন্ধান মেলে। এগুলি .৩১৫ বোরের রাইফেল৷ তবে সেগুলি নতুন করে লুকানো নাকি পুরনো তা খতিয়ে দেখছে বাহিনী৷

মাত্র দু সপ্তাহ আগেই শালবনীর শিরশিতে বাহিনীর তল্লাশীতে শক্তিশালী মাইন উদ্ধার হয়েছিল, তার পরে ফের মাওবাদীদের নাম করে দু’বার পোস্টার মিলেছে। নির্বাচনের আগে পর পর এই ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশ-প্রশাসনকে।

সূত্রঃ http://ebela.in/state/arms-recovered-at-west-midnapore-dgtl-1.319973

 


ফিলিস্তিনি PFLP কমরেড ওমর নায়েফ জায়েদকে হত্যা করা হয়েছে

zayed (1)

বুলগেরিয়ার সোফিয়াস্থ ফিলিস্তিন দুতাবাসে গত শুক্রবার সকালে ফিলিস্তিনের বামপন্থি দল ‘পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন’ এর কর্মী, কমরেড ওমর নায়েফ জায়েদেকে আততায়ীরা হত্যা করেছে। তিনি ছিলেন ফিলিস্তিনি মুক্তি সংগ্রামের আজীবন সংগ্রামী।

কমরেড ওমর নায়েফ জায়েদ, ১৯৯০ সালে ৪০দিনের অনশন চালিয়ে ইহুদিবাদী জেলখানা থেকে পালিয়ে  ফিলিস্তিনি দূতাবাসে আশ্রয় গ্রহণ করেন। গত ২৫ বছর ধরে ইহুদিবাদী ও বুলগেরিয় বাহিনী তাকে হত্যা উদ্দেশ্যে তাদের কাছে হস্তান্তর করার জন্যে চেষ্টা করে গিয়েছিল।

জেরুজালেমে অবৈধ ইহুদিবাদী বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে একটি অপারেশন চালানোর অভিযোগে তার ভাই সহ তাকে ও সাম্প্রতিক সময়ে আবারো কারাবন্দী হওয়া কমরেড সামি মাহরোমকে ইহুদিবাদী বাহিনী বন্দী করেছিল।

ইহুদিবাদী বাহিনী তাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।