ভারতঃ ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের বিস্ফোরণ, জখম SSB-র ২ জওয়ান

LAT_PTI6_10_2011_00_669986f

মাওবাদীদের নিশানায় এবার এসএসবি (সশস্ত্র সীমা বল)। মাওবাদীদের পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হল SSB/এসএসবি-র দুই জওয়ান। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায়। পুলিশ জানায়, আইইডি বিস্ফোরণে গুরুতর জখম দুই এসএসবি জওয়ান হলেন, অয়ন মন্ডল এবং পরমানন্দ মৌর্য।

পুলিশ জানাচ্ছে, এদিন সকালে কাঙ্কের জেলার ভানুপ্রতাপপুরের রেল প্রকল্পের কাছে নিয়মমাফিক টহল চালাচ্ছিল এসএসবি-র জওয়ানেরা। টহল দেওয়ার সময় কাচ্চে এবং ভাইসমুদি গ্রামের মধ্যে জওয়ানেরা এলে আচমকা সজোরে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন এসএসবি-র দুই জওয়ান। ঘটনার বৃত্তান্ত দিয়ে ভানুপ্রতাপপুরের এসপি বলেন, মাওবাদীরাই মাটির ৩০ মিটার নীচে একটি প্রেসার কুকারের ভিতর আইইডি বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিল। তার জেরেই এই বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণে কনস্টেবল অয়ন মন্ডল এবং পরমানন্দ মৌর্য গুরুতর জখম হয়েছেন বলেও তিনি জানান। বর্তমানে এঁরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পরই মাওবাদীদের খোঁজে এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/2-ssb-jawans-hurt-in-ied-blast-by-naxals.html

Advertisements

ভারতঃ গত ৬ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম মাওবাদী হামলা হয়েছে ২০১৫ সালে

hh

গত ছ’বছরের মধ্যে ২০১৫ সালেই সবচেয়ে কম মাওবাদী হামলা হয়েছে। ২০১৬ সালের শুরুতেই ১০টি রাজ্যের উপর সমীক্ষা করে এমনই রিপোর্ট পেশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে মাওবাদী হামলা তুলনামূলক কম হলেও নিরাপত্তায় ঘাটতি রাখতে চায় না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাই পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ মাওবাদী অধ্যুষিত ১০টি রাজ্যে এখনও ১ লক্ষ আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন রেখেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক দশকে মূলত ১০টি রাজ্যে মাওবাদী হামলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই ১০টি রাজ্য হল, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং তেলেঙ্গনা। এই সমস্ত রাজ্যগুলিতে গত ছ’বছরের মাওবাদী হামলার সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালে কম হামলা হয়েছে। এই ১০টি রাজ্যে গত বছর মোট ২২৬টি মাওবাদী হামলা হয়েছে এবং ১ হাজার ৮৮ জনের নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ ছিল ৫৮ জন। যেখানে ২০১৪ সালে ১ হাজার ৯১টি হামলা হয়েছিল এবং ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে রিপোর্ট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। নিহতদের মধ্যে পুলিশ ছিল ৮৮ জন। এছাড়া ২০১০ সালে ২ হাজার ২১৩ টি মাওবাদী হামলায় ১ হাজার ৫ জন এবং ২০১১ সালে ১ হাজার ৭৬০টি হামলায় ৬১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

মাওবাদী হামলার পরিমাণ কম হওয়ার পাশাপাশি মাওবাদীদের অস্ত্র বাজেয়াপ্তের পরিমাণ বেড়েছে বলেও রিপোর্টে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই রিপোর্ট অনুসারে, গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে সেনা জওয়ানেরা মাওবাদীদের থেকে ৭২৩টি অস্ত্র উদ্ধার করেছিল এবং ১৮টি অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল মাওবাদীরা। এছাড়া মাওবাদীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে হানা দিয়ে আরও ১৮টি অস্ত্র উদ্ধার করেছিল। অর্থাৎ মোট ৭৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যেখানে ২০১৪ সালে ৬৪০টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। যার মধ্যে সেনা জওয়ানেরা উদ্ধার করেছিল ৫৪৮টি অস্ত্র। আর মাওবাদীরা ছিনিয়ে নিয়েছে ৫৮টি অস্ত্র। আর প্রশিক্ষণ শিবির থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৩৪টি অস্ত্র।

অনুবাদ সূত্রঃ

http://www.livemint.com/Politics/qbuwek1cQouP1ok9CeLXjJ/2015-saw-lowest-Naxal-violence-in-6-years.html


গত কয়েকদিনের ভারতের গণযুদ্ধের সংবাদ সমূহ-

যোধান মাহাতো ওরফে চিরাগ

যোধান মাহাতো ওরফে চিরাগ

0_1454145662

112_1454144803

পুলিশের কথিত এনকাউন্টারের নামে হত্যা করা হয়েছে সিপিআই(মাওবাদী) বিহার-ঝাড়খণ্ড জোনাল কমিটির সামরিক বিভাগের প্রধান যোধান মাহাতো ওরফে চিরাগ’কে। গত ৩০শে জানুয়ারি গভীর রাতে বিহারের জামুই জেলার চরকাপাথর থানা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, বিহার-ঝা়ড়খণ্ডের বেশিরভাগ মাওবাদী গেরিলা হামলায় নেতৃত্ব দিতেন চিরাগ। লখিসরাই, মুঙ্গের, বাঁকা, জামুই-সহ বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে নতুন ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বও ছিল তার হাতে। সংগঠনের সামরিক শাখার কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিল চিরাগ। ২০১২-র ৯ নভেম্বর গিরিডির জেল ভেঙে আট মাওবাদী-সহ ২১৯ জন পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তিন পুলিশকর্মীরও মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, সেই ঘটনার পিছনেও নায়ক ছিল বোকারোর বাসিন্দা চিরাগ। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে। মাওবাদী সংগঠনে বিহার-ঝাড়খণ্ড এরিয়া কমিটির প্রধান অরবিন্দ চৌহানের পরেই স্থান ছিল চিরাগের। চিরাগকে ধরে দেওয়ার জন্য বিহার সরকার ৫ লক্ষ এবং ঝাড়খণ্ড সরকার ২৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

জামুইয়ের পুলিশ সুপার জয়ন্তকান্ত বলেন, ‘‘গত কাল বিকেলে থেকে রাত পর্যন্ত গুলির লড়াই চলে। রাতে ওই মাওবাদী নেতার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বেশ কিছু আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়। সম্ভবত আরও দু’জন মাওবাদী মারা গিয়েছে। তাদের দেহ উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চলছে।’’

চিরাগের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পলামুর মাইন বিস্ফোরণের পরে ঝাড়খণ্ড পুলিশ লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। বেশ কিছু মাওবাদী বিহারের দিকে চলে গিয়েছে বলে ঝাড়খণ্ড পুলিশের একাংশের দাবি। ঝাড়খণ্ড-বিহারের সীমানাও সিল করে দেওয়া হয়েছে।

30_01_2016-naxali01

অন্য দিকে, মুঙ্গের, লখিসরাই ও জামুই জেলা সহ মুঙ্গেরের ধরধরা থানার বাঙালি বাঁধ এলাকায় মাওবাদী সন্দেহে ললন কোড়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করার সময়ে আদিবাসীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তির-ধনুক নিয়ে পিড়িবাজার থানায় ঢুকে প়ড়েন তাঁরা। চলে ভাঙচুর। পুলিশকর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে চম্পট দেন। পুলিশ পরে বিশাল বাহিনী নিয়ে এলে পুলিশের সাথে মাওবাদী সমর্থকদের সঙ্গে লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ হন এস আই ভবেশ সিং। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই ভবেশ সিংয়ের মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি বেগুসরাইয়ের সাহেবপুরে। মুঙ্গেরের এই এলাকা মাওবাদীদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ২০০৫ সালে এই এলাকাতেই মুঙ্গেরের তৎকালীন এসপি কে সুরেন্দ্রবাবু-সহ ছয় পুলিশকর্মী বিস্ফোরণে মারা গিয়েছিলেন। অবশ্য জনগণের চাপের মুখে ললন কোড়াকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, গত ৩০শে জানুয়ারি ছত্তিসগড়ের বস্তারে দুই নারী সহ তিন মাওবাদী গেরিলাকে হত্যা করেছে পুলিশ।

অনুবাদ সূত্রঃ

http://www.newindianexpress.com/nation/ASI-Killed-in-Encounter-With-Maoist-Supporters/2016/01/30/article3253151.ece

http://news.webindia123.com/news/Articles/India/20160130/2782284.html

http://timesofindia.indiatimes.com/city/patna/Major-encounter-in-Jamui-CPIM-member-killed-in-shootout/articleshow/50783919.cms

http://www.newindianexpress.com/nation/Two-Women-Among-3-Naxals-Killed-in-Chhattisgarh/2016/01/30/article3252989.ece


শান্তি চুক্তি সই হলে প্রকাশ্য রাজনীতিতে প্রবেশ করবে মার্কসবাদী গেরিলা দল ‘ফার্ক’

রোডিগো লন্ডোনো

রোডিগো লন্ডোনো

কলম্বিয়ার বামপন্থী ফার্ক গেরিলা দল ‘ফার্ক’ বলেছে, শান্তি চুক্তি সই হলে তারা দেশটির প্রকাশ্য রাজনীতিতে প্রবেশ করবে এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করবে। বোগোটা সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে রাজি হওয়ার পর এ ঘোষণা দেন ফার্কের প্রধান রোডিগো লন্ডোনো। কলাম্বিয়ার স্থানীয় সাময়িকী সেমানা’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অস্ত্র তুলে রেখে প্রকাশ্য রাজনীতিতে ঢুকবে ফার্ক। চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য দেশটির সর্বাধিক সংখ্যক দলকে একত্রিত করার বিষয়টি মৌলিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে বলেও জানান তিনি

লন্ডেনো আরো বলেন, চুক্তি সই হওয়ার পর অস্ত্র নামিয়ে রাজনৈতিক সংগ্রামে নামবে ফার্ক। এ ছাড়া, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় কলাম্বিয়ার সংসদ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও হয়ত অংশ গ্রহণ নেবে তার সংগঠন।

কিউবার রাজধানী হাভানায় কলম্বিয়া সরকার এবং ফার্ক প্রতিনিধি দল শান্তি আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দু’পক্ষ।

১৯৬০-এর দশক থেকে ল্যাতিন আমেরিকার এ দেশটির বুর্জোয়া সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে আসছে মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলারা।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.semana.com/nacion/articulo/timochenko-vamos-a-hacer-politica-sin-armas/458573


বলিভিয়াতে জাতীয় পরিষদের বাইরে সশস্ত্র বামপন্থীদের অ্যাকশন-

FBL

1380712

3

বলিভারিয়ান বামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ফুয়েরযাস বলিভারিয়ানাস দে লিবেরাসিওন গত ২৬শে জানুয়ারি কারাকাসে জাতীয় পরিষদের বাইরে চারটি বই বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

সশস্ত্র বামপন্থীরা এই অ্যাকশনের সময় জারীকৃত ইশতেহারে, জনগণের “লাল অধিকার” প্রশ্নে মাদুরো সরকারের সমর্থকদের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমদের সকল মায়া ত্যাগ করে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়া প্রয়োজন, সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ কোন সমাধান নেই এবং তারা এটা জানেন… শুধুমাত্র জনগণই জনগণকে রক্ষা করতে পারে, কোন যিশু খ্রিস্ট(সৃষ্টিকর্তা) নয়। একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক হাতিয়ার সাথে একটি যৌথ নেতৃত্ব এবং একটি শ্রেণী কর্মসূচীই কেবল নতুন কাজকে এগিয়ে নিতে পারে। এটাই আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। এই সঙ্কটটি বামপন্থী, শ্রমিক এবং আমাদের জনগণের প্রতি একটি নতুন সুযোগের প্রস্তাব”।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.cedema.org/ver.php?id=7065


স্পেনে আন্তর্জাতিকতাবাদীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন

12645039_10153225997805997_1638356754574030734_n

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং তারবার্তার রিপোর্টের মাধ্যমে জানা গেছে- স্পেনের পুলিশ- মাদ্রিদ, ভেলেন্সিয়া এবং বিলবাওয়ের ১১টি স্থানে ভোরের দিকে অভিযান চালিয়ে স্প্যানিশ মার্কসবাদী-লেনিনবাদী সংগঠন Reconstrucción Comunista এর সাথে যুক্ত ৯ জন সহ একজন তুর্কিকে গ্রেফতার করেছে।

এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল, রোজাভার ফ্যাসিবাদ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিরুদ্ধে। রয়টার্সের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি অনুসারে বলা হয়েছে যে, এই সব গ্রেফতারকৃতরা- “জনগণের নিরাপত্তা বাহিনী(YPG) বা প্রতিষ্ঠানটির সশস্ত্র শাখায় যোগ দিতে মানুষ পাঠানোর জন্যে তারা অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহ করত।”


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘Stop Genocide’

জহির রায়হান নির্মিত ১৯ মিনিটের ডকুমেন্টারি Stop Genocide ১৯৭১ সালে তাৎক্ষণিক ফুটেজ স্বল্পতার মধ্যেও অপূর্ব নির্মাণে তৈরি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার এক তীব্র প্রতিবাদ। চিত্রনাট্যে জহির রায়হানের সঙ্গী ছিলেন আরেক অসাধারণ নির্মাতা আলমগীর কবির। আলমগীর কবির ইংরেজী ধারাবিবরণী লিখেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন এতে। আর ক্যামেরায় ছিলেন অরুণ রায়।

শুরুতে দেখা যায় গ্রামের এক হাসিখুশী চপল কিশোরী ঢেকিতে ধান ভানছে। তার আগে লেনিনের কিছু উদ্ধৃতি শোনা যায় নেপথ্যে। দৃশ্য বদলে যায় গুলির শব্দ আর গগনবিদারী আর্ত চিৎকারে। চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর এক নারকীয় দৃশ্য। শুধু লাশ আর লাশ। চোখ উপড়ানো, মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মগজ বেরিয়ে যাওয়া গুলিবিদ্ধ লাশ। সামনে, পেছনে, সারিসারি। সাউন্ডট্র্যাকে ব্রাশফায়ারের শব্দ। এরপর একটি প্রাচীর ধ্বসে পড়ে আর পর্দায় ভেসে ওঠে স্টপ জেনোসাইড লেখাটা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সামনে রেখে পাকিস্তানীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনকেই তুলে ধরেছেন জহির রায়হান স্টপ জেনোসাইডে। মাত্র তিনটি দৃশ্য দিয়ে সাজানো তা। প্রথম দৃশ্যে জাতিসংঘের সদর দপ্তর। সুশীল আলোচনা হচ্ছে সেখানে, গৎবাধা ভালো কথা। পরের দৃশ্য ভিয়েতনামে মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমানের গোলাবর্ষণ। নারী-পুরুষ-শিশুদের গণহত্যা। যুদ্ধাপরাধে বিচারাধীন এক মার্কিন লেফট্যানেন্টের পক্ষে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সাফাই। পরের দৃশ্যে সেই বাংলাদেশ। লাশের স্তুপ আর হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য। নেপথ্যে শোনা যায় জাতিসংঘের মানবাধিকার লঙঘনের ঘোষণা- তবে কি কেবল পরিহাস? মুক্তিযুদ্ধের এই ক্লাসিক ডকুমেন্টারিটি একাধিক পুরষ্কার জিতেছে বিভিন্ন চলচিত্র উৎসবে। তবে তার চেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়ে সোচ্চার হতে বাধ্য করে।

চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, “জহির রায়হান জানতেন বাঙলার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রচারই যথেষ্ট নয়। বিশ্বের সকল পরাধীন শোষিত মানুষের সংগ্রামের সাথে বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের একাত্মতা বোঝাতে হবে এই ছবির মাধ্যমে।”

২৫ মার্চের সময়গুলোতে তিনি দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের কথা ভাবতেন। ওই সময় পার্টির সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি কলকাতা চলে যান এবং সেখানে আওয়ামী লীগ প্রধান সরকারের রোষানলে পড়েন, তার সেক্টরে যাতায়াত সীমিত করা হয়। এই সরকারের নেতৃবর্গ পশ্চিমবঙ্গে সেন্সর বোর্ডকে ‘স্টপ জেনোসাইড’-এর ছাড়পত্র না দিতে অনুরোধ করেন। কারণ প্রথমত এ ছবিটি লেনিনের কোটেশন দিয়ে শুরু এবং আন্তর্জাতিকতা গানের সুরে শেষ। দ্বিতীয়ত এ ছবিটিতে সরাসরি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা রয়েছে- এ দিকে আওয়ামী নেতারা তখনো কামনা করছেন মার্কিন সাহায্য।

film4_2