গ্রীসে কৃষকদের বিক্ষোভে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস হামলা

4bk1236a3d663f333v_620C350

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বিক্ষোভরত কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে। দেশটিতে অবসর ভাতার কৃচ্ছতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময়ে কৃষকরা গ্রিসের কৃষি মন্ত্রণালয়ে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকলে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের উপর এই হামলা চালায়।

এ বিক্ষোভে প্রায় আটশ’ কৃষক অংশ নিয়েছে। এসময় কৃষকরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ভবনটির জানালাগুলো ভেঙ্গে দেয়। এদিকে আজ শেষ বেলায় কৃচ্ছতার বিরুদ্ধে এথেন্সে বিশাল বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি সিপার্স’এর সরকার দেশটিতে অবসর ভাতার খাতে দেয়া চাঁদা এবং অবসর ভাতার ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তার এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজধানীতে সমবেত হয়ে বিশাল বিক্ষোভ করবে দেশটির কৃষকরা।


বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘Germinal’

উনিশ শতকের মাঝামাঝি উত্তর ফ্রান্সের একটি কয়লা খনি শহরের শ্রমিকরা খনি মালিক দ্বারা শোষিত হতে থাকে, একদিন তারা ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে করে কর্তৃপক্ষ তাদের দমন করে। চলচ্চিত্রটি Emile Zola এর উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত।

download

Germinal-Original-Soundtrack-cover

Streaming Link:
Full Movie from Vidzi.tv


তুরস্কের মাওবাদীরা ক্ষমতাসীন AKP সরকারের পার্টি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে

1

এরদোগানের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র এবং তার দল AKP-র বিরুদ্ধে তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি(মাওবাদী)’র সশস্ত্র শাখা TIKKO এর চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে মাওবাদীরা গত ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২.৩০ মিনিটে ইস্তাম্বুলে AKP পার্টির অফিস ভবন পুড়িয়ে দিয়েছে। কুর্দি জনগণের উপর তুর্কি সরকারের চলমান গনহত্যা, বিশেষ করে সিজরে তুর্কি পুলিশ কর্তৃক ৬০ জন কুর্দি জনগণকে হত্যার প্রতিবাদে এই অগ্নিসংযোগের হামলাটি চালানো হয়েছে। এদিকে গত কিছুদিন ধরেই ইস্তাম্বুলের রাস্তায় পুলিশের সাথে মাওবাদীদের সংঘর্ষ চলছে।

2

হামলার উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মাওবাদীরা স্প্যানিশ ভাষায় বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে মাওবাদীরা বলেন, “আমরা কুর্দি জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো সকল হামলার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলব, আমরা এই বিষয় নিয়ে নীরব থাকব না। কায়পাক্কায়া’র উত্তরাধিকারী হিসেবে, আমরা কুর্দি জনগণের ওপর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করব এবং ফ্যাসিস্ট AKP শক্তির প্রতিনিধিত্বমূলক সব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে থাকবে!”।

3

উল্লেখ্য যে, তুরস্কের দমনবাদী ফ্যাসিস্ট সরকারী বাহিনী পেন্দিক জেলায় প্রবেশ করে জনগনের উপর নির্যাতন চালায় এবং অনেককেই তাদের হেফাজতে নিয়েছে। এসময় সরকারী কয়েক ডজন সাঁজোয়া গাড়ি ও  বিশেষ বাহিনীর শত শত সদস্য এলাকায় একযোগে হামলা চালায় এবং প্রকাশ্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে জনগণকে জেরা এবং ভয় দেখাতে চেষ্টা করে।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.ozgurgelecek.org/manset-haberler/18958-tkko-militanlar-kuerdistan-icin-akp-binasn-atee-verdi.html


পশ্চিমবঙ্গঃ শালবনিতে উদ্ধার ল্যান্ডমাইন

2_1454933410

জঙ্গলমহলে যে মাওবাদীরা ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে সেই খবর মিডিয়াতে আসছিল। তবে শুক্রবার শালবনির সেঁজুয়াতে শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের চিন্তা বাড়িয়েছে।

মাওবাদী পোস্টারের পরে এবার মিলল শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন। চলতি মাসেই জনৈক মাওবাদী স্কোয়াড সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে চিন্তা ছড়াচ্ছে রাজ্যের জঙ্গলমহলে।

ঠিক দু’দিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জঙ্গলের পাশে রাস্তায় উদ্ধার হয়েছিল মাওবাদীদের বেশ কিছু পোস্টার৷ এবারে শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার হল কতোয়ালি থানার বেড়াবাগঘরার রাস্তার পাশের জঙ্গলে৷ গোয়ান্দা-সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী শির্ষী এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে এই মাইনের সন্ধান পায়৷

image (1)

রাস্তার পাশে মাটির তলায় পেতে রাখা ছিল শক্তিশালী ডিরেক্সনাল মাইনটি। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অংশুমান সাহার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ও ২০৭ নম্বর কোবরা ব্যাটালিয়নের বম্‌ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ওই এলাকায় যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় মাইনটিকে দু’বার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

মাইনটি সিআরপিএফ বা পুলিশের টহল বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাতা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এটির বিস্ফোরণ হলে বড় রকমের ক্ষতি হতে পারত। নিষ্ক্রিয় করার সময়ে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের আড়াই ফুট লম্বা মাইনটির বিস্ফোরণে কেঁপে যায় জঙ্গল এলাকা৷ মাওবাদীরাই এই শক্তিশালী মাইনটি পুঁতে রেখেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

দেখুন ভিডিও

সূত্রঃ http://ebela.in/state/landmine-found-at-west-midnapur-dgtl-1.307635


মাইলআরা পুলিশ ফাঁড়ি লুটের স্মৃতিচারণ-

garila-0120140327185742

মাইলআরা ফাঁড়ি লুট

                                                             মতিন

(৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালে বরিশাল অঞ্চলে কমরেড শাহিন আলমের নেতৃত্বে এই এ্যাকশনটি হয়েছিল। ৮০-দশকের প্রথম দিকে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি, ঢাকা কারাগার শাখার উদ্যোগে প্রকাশিত সাংস্কৃতিক মুখপত্র “প্রেরণা”য় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।)

ভোর রাত থেকেই টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। আকাশটা এখনো মেঘাচ্ছন্ন। ভোর হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ হলো। কিন্তু সূর্যটা এখনো মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেনি। কেমন অন্ধকার অন্ধকার ভাব। মাঝে মাঝে পিলে চমকানো মেঘের গুরু- গম্ভীর গর্জন। সাথে সাথে বিদ্যুতের চমকানী চোখকে যেন ঝলসে দিতে চায়। এরই মাঝে আলম তার সাথীদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লো ক্যাম্প থেকে। সকলের লুঙ্গি মালকোঁচা দেয়া; খালি পা, একজনের হাতে রাইফেল।

হোসনাবাদ বাজারের নিকটেই একটা এক মাল্লাই নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিল মজিবর। আলমদেরকে দেখতে পেয়ে ডাক দিল, এই যে কমরেড, এদিকে। তার আহ্বানকে অনুসরণ করে নৌকায় এসে উঠলো আলম আর তার দু’সাথী মাসুম ও ফারুক। ডালপালা শোভিত বড় বড় গাছ আর ঝোপ-ঝাড় ঘেরা খাল দিয়ে এগুতে শুরু করলো নৌকা। শরিকল বাজারকে ডানে রেখে কিছুদূর এগুবার পরেই মজিবর সোল্লাসে বলে উঠলো, ঐ যে দেখা যাচ্ছে শামছুকে। উঁকি দিয়ে দেখলো সবাই। প্রশ্ন করলো আলম, সব ঠিক আছে তো কমরেড? হ্যাঁ, ঠিক আছে, জবাব দিল শামছু। একইসাথে তাড়া দিয়ে বললো, দ্রুত যান।

গৌরনদী থানাকে বেশ কিছুটা ডাইনে রেখে বাঁ-দিকে এগিয়ে চললো নৌকা। পথিমধ্যে নৌকায় এসে উঠলো সত্য। তাকে জিজ্ঞাসা করলো আলম, আরফান কিছু পুলিশকে সরাতে পারবে তো? এরই মধ্যে সরাইয়া ফেলছে, জবাব দিল সত্য। কই সরাইছে? চায়ের দোকানে চা খাইতাছে দেইখ্যা আইলাম। তা’হলে আরো জোরে চালান কমরেড, মজিবরকে তাড়া দিল আলম।।

এসে গেছি, আস্তে আস্তে উচ্চারণ করলো মজিবর। ছইয়ের মধ্য থেকে মাথাটা বের করে চারিদিকে একবার দেখলো আলম। চোখ দিয়ে ইশারা করলো মাসুম ও সত্যকে। নৌকাটা বাজারে ভিড়বার সাথে সাথেই নেমে পড়লো মাসুম ও সত্য। বাকিরা থেকে গেলো নৌকায়।

ছোট বাজার। লোকজনের সমাগম কম। চারিদিকে থমথমে ভাব। কিছু দূরেই পুলিশ ক্যাম্প। ক্যাম্প থেকে কিছু দূরেই থানা। মাঝেমাঝে পাক-সেনা ও রাজাকাররা আসে বাজারে। এদের লুটতরাজ, মারপিট আর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার জন্য সকলে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পের পুলিশরাও কম যায় না। এদের নিত্যনতুন বায়না আর অত্যাচারে বাজার এবং গ্রামসমূহের বেশির ভাগ লোক চলে গেছে ভিতরের গ্রামগুলোতে। অনেকে চলে গেছে সীমান্ত পেরিয়ে একেবারে ভারতে। সামান্য কয়েকজন লোক বাজারে। এদের সাথেই মিশে গেলো মাসুম ও সত্য।

গুটি গুটি বৃষ্টির মাঝে হাঁটতে হাঁটতে পুলিশ ক্যাম্পের নিকটে পৌঁছলো দু’জনে। কোমরে গোঁজা চাকুটাকে কাপড়ের ওপর দিয়ে একবার স্পর্শ করলো মাসুম। গা-টা কেমন শির শির করছে- মনে হলো তার। সিগারেটের গোড়াটাকে লম্বা টান দিয়ে ছুঁড়ে ফেললো সত্য। পানি-কাদায় পড়ে ধপ্ করে নিভে গেলো সেটা। তাদেরকে দেখতে পেয়ে রাইফেল হাতে কয়েক পা এগিয়ে এলো পুলিশ সেন্ট্রি। একরাশ প্রশ্ন ছুঁড়ে মারলো সে। এই তোগো বাড়ি কই? এই হানে কি চাও? চকিতে চোখে চোখে মিলন হলো মাসুম ও সত্য’র। পরক্ষণেই চক্চকে ধারালো একটুকরো ইস্পাত ঝলসে উঠলো আলো-আঁধারি ভেদ ক’রে। পেটে হাত দিয়ে মাটিতে গড়িয়ে পড়লো সেন্ট্রি। তার রাইফেলটা কেড়ে নিলো মাসুম। “কমরেড”, চিৎকার দিলো সত্য।

বুম! বুম! সত্য’র চিৎকারের সাথে সাথে বিস্ফোরণে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো ছোট্ট মাইলআরা বাজার। চকিতে দেখা গেলো রাইফেল হাতে ধাবমান আলমকে। ক্যাম্পের ভিতর থেকে মাসুমের বজ্র হুংকার শোনা গেলো “হ্যান্ডস আপ”। পলায়নরত পুলিশদেরকে রুদ্ররোষে তাড়া করে চললো জনতা; এতদিনের অত্যাচারের শোধ তারা তুলবেই। গৌরনদী থানা থেকে অজস্র গুলি উড়তে লাগলো আকাশকে লক্ষ্য করে; হয়তো পাখী শিকারের আশায়।

পরদিন রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে আমরা শুনলাম, “দুষ্কৃতিকারীদের অতর্কিত আক্রমণে মাইলআরা ফাঁড়ি লুট”।

এপ্রিল, ’৮১


বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত এবং রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ

images (6)

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত এবং রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ

চার্বাক

 

রবীন্দ্রনাথের দেড়শ’তম জন্মবার্ষিকী মহাসাড়ম্বরে পালন করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। যাকে শুদ্ধ ভাষায় ডাকা হচ্ছে “সার্ধশততম” বলে। আওয়ামী লীগ সরকার নিজেকে বেশী বেশী করে বাঙালী জাতীয়তাবাদের রক্ষক, এবং কাজে কাজেই অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রবক্তা বলে প্রমাণ করার জন্য যেন বেশী করে এই জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে একত্রে যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ এই গণবিরোধী শাসকদের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার বিরাট সাহিত্যিক। বলা চলে এখনো পর্যন্ত প্রধানতম ব্যক্তি। তিনি বেঁচে ছিলেন প্রায় ৮০ বছর, যার মাঝে ৬০ বছরের বেশী সময় তিনি সাহিত্য চর্চা করেছেন। তদুপরি তিনি ছিলেন জমিদার পরিবারের সন্তান এবং নিজে জমিদার। ফলে নির্বিঘ্ন সাহিত্য চর্চার পথে দারিদ্রের কোন সমস্যা তাকে মোকাবেলা করতে হয়নি। এ কারণে তার পক্ষে আরো ব্যাপক আকারে সাহিত্য সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ছিলেন মূলত কবি, সঙ্গীতকার। অসংখ্য কবিতা এবং প্রায় ৩ হাজার সঙ্গীত তিনি রচনা করেন। কিন্তু এছাড়াও প্রচুর ছোটগল্প, বেশ কিছু উপন্যাস এবং বহু নিবন্ধ তিনি রচনা করেছেন। সুতরাং তার এই বিরাট বপুর সাহিত্য, তার দীর্ঘ জীবন এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সার্বিক আলোচনা বা মূল্যায়ন করা শুধু বিশেষজ্ঞদের পক্ষেই সম্ভব। তদুপরি বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম পুরুষ হবার কারণে ভাষা, সাহিত্য, শিল্পরূপ ইত্যাদিতে তার যে বিরাট অবদান সেটাও রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনীতির নির্মোহ মূল্যায়নে একটা বড় বোঝা হিসেবে সামনে আসে। প্রায় সর্বদাই রবীন্দ্রনাথের ঐসব ভূমিকার ইতিবাচক দিকগুলো তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির

বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখতে সক্ষম হয়।

সুতরাং এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য খুব সংক্ষেপে শুধু একটিমাত্র বিষয়ে রবীন্দ্রনাথকে কিছুটা আলোচনা করা, যাকিনা বর্তমান বাংলাদেশের শাসকশ্রেণী ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে সংগ্রাম করার সাথে সরাসরিভাবে যুক্ত। সেটা হলো বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ।

বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ এটা প্রায় সবাই জানেন। দেশের শাসকশ্রেণী, রাষ্ট্র ও বিশেষত আওয়ামী লীগ সরকার ও সেই ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা বাঙালী জাতীয়তাবাদ বলতে আবেগে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আর সেই রকম আবেগ নিয়ে আসে জাতীয় সঙ্গীতটির ও তার রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ আলোচনায়।

জাতীয় সঙ্গীত বুর্জোয়া জাতি রাষ্ট্রে জাতির আবেগের সাথে জড়িত। সেই আবেগ খুব একটা ভাল জিনিস নয়, বিশেষত সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ক্ষেত্রে-তো বটেই। কারণ বাস্তবে জাতির আবেগের আড়ালে এটা বুর্জোয়া শ্রেণীর আবেগকে ধারণ করে। বর্তমানের তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেও এই জাতীয়তাবাদী আবেগ প্রায় ক্ষেত্রেই ভাল নয়। তথাপি অনেক ক্ষেত্রেই জাতির সংগ্রামের ইতিহাস, শৌর্য-বীর্য, অহংকারগুলো জাতীয় সঙ্গীত ধারণ করে যার কিছু কিছু অন্তত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জনগণের মননে সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকাও রেখে থাকে।

কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত সেরকম কিছুকেই ধারণ করেনা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদির ইতিহাস যেমন শাসক শ্রেণী বিশেষত আওয়ামী লীগ মিথ্যা দিয়ে ভরে রেখেছে, তেমনি এর জাতীয় সঙ্গীতটিকে ঘিরেও তারা করেছে এক জঘন্য প্রতারণা।

রবীন্দ্র সাহিত্যের শ্রেণী চরিত্র অনুযায়ীই এই সঙ্গীতে শুধু আকাশ-বাতাস-গাছপালা ব্যতীত অন্য কিছু নেই; মানুষ নেই। সাহিত্যে, মানুষের আবেগ ও মননে, প্রকৃতির অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেসবই মানুষকে কেন্দ্র করে। মানুষ না থাকলে, তার সংগ্রাম না থাকলে, সেসবকে ঘিরে না হলে প্রকৃতি-সংক্রান্ত আবেগ অর্থহীন। প্রকৃতি ও মনুষ্য জাতির শত্র“, তার সমাজ ও উৎপাদন প্রভৃতির সাথে বা তার জন্য সংগ্রামের মধ্য দিয়েই মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য ও প্রয়োজনকে উপলব্ধি করে। মানুষের বা জাতির থাকে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ইতিহাস। রবীন্দ্রনাথের এ সঙ্গীতে সেসব নেই। ফলে এটা বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী অবস্থান থেকেও জীবন-ঘনিষ্ঠ কোন জাতিগত আবেগ সৃষ্টিতে সক্ষম নয়। এটা উৎপাদন বিচ্ছিন্ন, ব্যাপক জনসাধারণের জীবন ও সংগ্রাম বিচ্ছিন্ন, আয়েশী জমিদার নন্দনের নিরাপদ বড়লোকী দেশপ্রেম ছাড়া আর কিছুকেই ধারণ করে না। আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিব এই গানকে যে জাতীয় সঙ্গীত করেছে সেটা তাদের গণবিরোধী শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এসেছে।

এই সঙ্গীতের ইতিহাসটা যদি কিছুটা আলোচনা করা যায় তাহলে বোঝা সম্ভব যে এর জাতীয়তাবাদ বর্তমান বাংলাদেশের বাঙালী জাতীয়তাবাদকেও কোনক্রমেই ধারণ করে না। শাসকরা যে এটা চালিয়ে যাচ্ছে সেটা একটা প্রতারণা বৈ কিছু নয়।

বৃটিশ ভারতে ১৯০৫ সালে বৃটিশরা বিবিধ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে তৎকালীন বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা বানাতে চেয়েছিল। যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। কিন্তু সেটা তারা অব্যাহত রাখতে পারেনি। কারণ, কলকাতা ভিত্তিক মূলত হিন্দু বাঙালী উঠতি বুর্জোয়ারা ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা তার তীব্র বিরোধিতা করে। সেসময় বাঙালী মুসলমানরা তেমন একটা শিক্ষিত ছিল না। শিক্ষিত বাঙালী বলতে হিন্দুদেরকেই বোঝাতো। তারাই বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রথম সারির লোক ছিল।

প্রশ্ন হলো তারা কেন বাঙলা বিভক্তিকে এত বিরোধিতা করেছিল? এর আর্থ-সামাজিক কারণকে গভীরভাবে বুঝতে হলে পৃথক গবেষণা প্রয়োজন। তবে একটি কারণ এটা ছিল যে, পূর্ব বাংলায় বুর্জোয়া বিকাশকে বিরোধিতা করা। পূর্ব বাংলাভিত্তিক বুর্জোয়া বিকাশের অর্থ ছিল কোলকাতা-কেন্দ্রীক উঠতি বুর্জোয়া, জমিদার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তদেরÑ যারা মূলত ছিল হিন্দু, তাদের বিকাশের একচেটিয়াত্ব ভেঙে পড়া। বিপরীতে ঢাকা শহরকে ভিত্তি করে পৃথক বিকাশ হওয়া, যাকে প্রতিনিধিত্ব করছিল ঢাকা-কেন্দ্রীক মুসলিম সামন্ত-জমিদাররা। রবীন্দ্রনাথের জমিদারীর প্রধান অংশ ছিল পূর্ব বাংলায়। তাই পৃথক প্রদেশ হলে তাতে তার নিজের জমিদারী স্বার্থেরও অসুবিধা হতে পারতো। সেটাও হয়তো তিনি চাইতেন না, আরো সব কোলকাতা ভিত্তিক শিক্ষিত হিন্দু বাঙালীদের মতোই।

১৯৪৭ সালে বৃটিশ চক্রান্তে এবং প্রতিক্রিয়াশীল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের যোগসাজশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে বাংলা বিভক্তির বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনাপ্রবাহের একটা সম্পর্ক ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ঘটনার সাথে থাকতে পারে বটে। কিন্তু ১৯৪৭-এর বাংলা বিভক্তির প্রতিক্রিয়াশীলতা, আর ১৯০৪ সালের বঙ্গভঙ্গ একই রকম ব্যাপার ছিলনা।

যাই হোক না কেন, আমরা যা আলোচনা করতে চাচ্ছি তাহলো এই জাতীয় সঙ্গীত প্রসঙ্গ। যখন বৃটিশের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের জোয়ার চলছে কলকাতাইয়্যা বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে, সেসময়ই রবীন্দ্রনাথ এই সঙ্গীতটি রচনা করেছিলেন। এটা দ্বারা তিনি বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতার জন্য অখন্ড বাংলার বাঙালী জাতীয়তাবাদকে তুলে ধরেছিলেন, যা সেসময়ে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের একটা আবেগকেও অবশ্য তুলে ধরে।

প্রশ্ন হলো অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদের এই সঙ্গীত কীভাবে বর্তমান বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হয়? বর্তমান বাংলাদেশের সংবিধানে এরা জাতীয়তাবাদ যুক্ত করেছে। প্রশ্ন হলো কোন জাতীয়তাবাদ?

আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিব বোঝাতে চেয়েছে বাঙালী জাতীয়তাবাদ। “সবাই বাঙালী হয়ে যাও”- পাহাড়ের সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বাগুলোর প্রতি শেখ মুজিবের নির্দেশ এ থেকেই এসেছিল। কিন্তু যেহেতু বাঙালী জাতিকে সেই ১৯৪৭ সালেই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল, তাই বাংলাদেশ রাষ্ট্র যদি কোন বিশেষ জাতীয়তাবাদ তুলে ধরেই সেটা হতে পারে পূর্ববাংলার জাতীয়তাবাদ, অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদ নয়। এই বিপদে পড়ে শাসকশ্রেণী জিয়ার নেতৃত্বে নিয়ে এলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। কিন্তু বাংলাদেশীরা তো কোন একক জাতি নয়। বাংলাদেশের নাগরিকরা বাংলাদেশী পরিচয় দিতে পারে বটে, কিন্তু জাতিসত্ত্বা পরিচয় তো প্রতিদিন বদলে যেতে পারে না। ৬৫ বছরের উর্ধ বয়সী একজন লোকের জাতিসত্ত্বা কি রাষ্ট্রের বদলের সাথে সাথে তার জীবনে তিনবার বদলে যেতে পারে? (বৃটিশ আমলে ভারতীয়, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানী, আর এখন বাংলাদেশী?!)

যাহোক আমাদের আলোচনা ছিল রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। তার এই সঙ্গীতটি অখন্ড বাংলাকে তুলে ধরেছিল, তাই তার অন্তর্নিহিত জাতীয়তাবাদ ছিল অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদ। ১৯৪৭ সালেই যার পরিসমাপ্তির শুরু হয়েছিল। সেই জাতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কথা বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদীরাও কেউ এখন আর বলে না- না ভারতীয় বাঙালী, না বাংলাদেশের বাঙালী। ফলে সেই মৃত আবেগসম্পন্ন সঙ্গীতকে কেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত করা হলো? হলো আর কোন পথ না পেয়ে, রবীন্দ্রনাথকে গৌরবান্বিত করার জন্য, রবীন্দ্র-ভাবমানসের প্রতিক্রিয়াশীলতা দ্বারা জনগণকে প্রভাবিত করার জন্য, যাকিনা এই প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণীর কাজে লাগে।

বর্তমান বাংলাদেশে বাঙালী ছাড়াও যে অন্যান্য অনেক সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বার বাস তাদেরকে এই ‘জাতীয়’ সঙ্গীতে পাওয়া যাবে না। জাতীয়তাবাদের প্রতিক্রিয়াশীল আদর্শে এটাই স্বাভাবিক। পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যালঘু জাতিদের মাটি গাছ আকাশ বাতাস রবীন্দ্রনাথের এই জাতীয় সঙ্গীতের মতো মোটেও নয়। তারা কেন এ গান গাইবেন?

* আবারো আসতে হবে রবীন্দ্রনাথে। সেটাই আমাদের আলোচনার আরেকটি মূল বিষয়।

রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছেন, তিনি নিজে বাঙালী ছিলেন, তিনি বাংলায় থেকেছেন আজীবন, তাই বাংলা ও তার মানুষ তার লেখায় এসেছে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কি নির্ভেজাল বাঙালী জাতীয়তাবাদের ধারক ছিলেন? যেমনটা বাঙালী বুর্জোয়া শাসক ও বুদ্ধিজীবীরা বোঝাতে চান?

সেটা ভাবলে ঠিক হবে না। একটা উদাহরণই যথেষ্ট। সবাই জানেন যে, বর্তমান ভারতের জাতীয় সঙ্গীতটির রচয়িতাও রবীন্দ্রনাথ। বর্তমান ভারত আর বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ কি এক? দুটো দেশের জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এক হয় কিকরে ? সেটা অসম্ভব। তাহলে রবীন্দ্রনাথ আসলে কোন জাতীয়তাবাদকে ধারণ করতেন?

রবীন্দ্রনাথের প্রকৃত জাতীয়তাবাদ ছিল ভারতীয়। কিন্তু সেটা বাস্তব নয়, কারণ, ভারত কখনোই একটি জাতিভিত্তিক দেশ নয়। ভারতকে ভিত্তি করে একটা দেশপ্রেম, অখন্ড ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম এসবের একটা ভিত্তি থাকলেও যখনই কেউ জাতীয়তাবাদে যেতে চাইবে তখনই তাকে স্বীকার করতে হবে যে, ভারত ছিল একটি বহুজাতিক দেশ। বহু জাতির দেশের জাতি-জনগণ একত্রে স্বাধীনতার জন্য অভিন্ন বৃটিশ বিরোধী সংগ্রাম করেছেন এবং দীর্ঘ ঐতিহাসিক বন্ধন ও সম্পর্কের কারণে সেসময়ে একটি অখন্ড স্বাধীন ভারতের চিন্তা করেছেন- এটা বহু জাতির অস্তিত্ব ও জাতিভিত্তিক বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদকে বাতিল করতে পারে না। শুধুমাত্র জাতিগত সমতার ভিত্তিতে এবং বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আন্তর্জাতিকতার ভিত্তিতে জাতিগুলো একত্রে থাকতে পারে, নতুবা সেগুলোকে একত্রে রাখার জন্য কৃত্রিম কোন আদর্শ উপর থেকে চাপাতে হয়। রবীন্দ্রনাথ বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদের বিরোধী, শোষণহীন সমাজ ও সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিকতাবাদের ধারক ছিলেন না। ফলে তিনি অখন্ড ভারতের জন্য প্রাচীন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদকে ভিত্তি করতে চেয়েছেন। সমগ্র রবীন্দ্র সাহিত্যে এই হিন্দুত্ববাদকে আমরা ব্যাপকভাবেই পাবো। যে বাঙালী জাতির প্রধান অংশ ছিল মুসলিম, তাদের সংস্কৃতি রবীন্দ্র সাহিত্যে খুবই কম, নেই বললে চলে। এটাও প্রমাণ করে রবীন্দ্রনাথ বাঙালী জাতীয়তাবাদকে প্রতিনিধিত্ব করতেন না।

প্রকৃতপক্ষে রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ মূলত ছিল সর্বভারতীয় হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ। আর সাহিত্যচর্চায় তারই আওতায় মাঝে মাঝে এসেছিল অখন্ড বাঙালী জাতীয়তাবাদ। নিশ্চয়ই এ দুয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল যার ভাল আলোচনা হতে পারে এ বিষয়ে গভীর গবেষণার মধ্য দিয়ে। তবে এটা তো আজ পরিস্কার যে, বর্তমান ভারতে যারা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করছে সেই বিজেপি রবীন্দ্রনাথকে উর্ধে তুলে-যে ধরে তা বিনা কারণে নয়।

উপরের আলোচনা থেকে পরিস্কারভাবেই বোঝা সম্ভব যে, বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদকে সাংবিধানিক আদর্শ করে শাসক শ্রেণী ও রাষ্ট্র যে গোঁজামিল চালিয়ে যাচ্ছে তার মাঝে একটা বড় অঙ্গ হলো রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্র সাহিত্যে প্রকাশিত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিক্রিয়াশীলতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় জায়গাতেই তিনি গণশত্র“ শাসকশ্রেণী ও রাষ্ট্রের কাছে স্মরণীয় বরণীয়। ভাষা ও শিল্প-সাহিত্যের রূপের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের বড় অবদান থাকলেও সেসবও বিরাটভাবে কিভাবে শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী-দরিদ্র মানুষ নয়, বরং সুখে থাকা মানুষদের সংস্কৃতিকে প্রকাশিত ও প্রতিনিধিত্ব করে তার ভাল বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন ভবিষ্যতে বিপ্লবীদেরকে অবশ্যই করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ বিশাল বৃক্ষ, তাই তার প্রভাবও বড় এবং তাকে আলোচনা করাটাও বিরাট কাজ। কিন্তু সেকাজকে শুরু করা যায় অল্প থেকেইÑ শুধু যদি তার অচল হয়ে পড়া ও প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদটিকে আমরা বুঝি তাহলেই। প্রথমত বাংলাদেশী জাতীয় সঙ্গীতের এই গোঁজামিলের জাতীয়তাবাদকে এবং সেই সাথে রবীন্দ্রনাথের প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদকে বর্জন করার মধ্যেই এক্ষেত্রে একটা বড় অগ্রগতি ঘটতে পারে। #

লেখাটির রচনাকাল – ২০১১ইং

[ “কাদের জন্য লিখব?… …। যত দীর্ঘ সময়ই লাগুকনা কেন, এ প্রশ্নের সমাধান আমাদের করতেই হবে এবং এর স্পষ্ট ও পরিপূর্ণ সমাধানই করতে হবে। আমাদের সাহিত্য ও শিল্পকলার কর্মীদের অবশ্যই এ কর্তব্য সম্পাদন করতে হবে এবং নিজেদের অবস্থানের পরিবর্তন সাধন করতে হবে; শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের মধ্যে গভীরভাবে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া ও বাস্তব সংগ্রামের গভীরে যাবার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং মার্কসবাদ ও সমাজকে অধ্যয়ন করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অবশ্যই ক্রমে ক্রমে এগিয়ে আসতে হবে এবং এসে দাঁড়াতে হবে শ্রমিক, কৃষক ও সৈনিকদের পক্ষে, সর্বহারা শ্রেণীর পক্ষে।

মাও সে তুঙ

সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কে ইয়েনানের আলোচনা সভায় প্রদত্ত ভাষণ (মে, ১৯৪২), পৃষ্ঠা- ৮৯-৯০ ]