পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর উদ্দেশ্যে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি)’র খোলাচিঠি

Maoist-Flag

পূবাকপা (এম-এল)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী-জনগণের উদ্দেশ্যে পূবাসপা (সিসি)’র খোলাচিঠি

কমরেডগণ,

লাল সালাম।

বিগত শতাব্দীর ’৬০-এর দশকের শেষ দিকে রুশ-চীন মহাবির্তক, চেয়ারম্যান মাওয়ের নেতৃত্বে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব (জিপিসিআর) এবং কমরেড চারু মজুমদারের নেতৃত্বে ভারতের নকশালবাড়ীর সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানের প্রভাবে আমাদের দেশে মাওবাদী (তখন “মাও চিন্তাধারা” বলা হতো) আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। সেই আন্দোলনের অংশ হচ্ছে আপনাদের পার্টি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এবং আমাদের পার্টি পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর রুশ-ভারতের দালাল শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী-বাকশালী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ’৭১-’৭৪ সালে এই দুই পার্টিসহ অন্যান্য মাওবাদী পার্টি ও সংগঠনসমূহ গৌরবময় সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করেছিল। এই সংগ্রামেই আমাদের ও আপনাদের পার্টি-নেতা কমরেড সিরাজ সিকদার ও কমরেড মনিরুজ্জামান তারাসহ অনেক মাওবাদী শহীদ হন।

’৭৬ সালে চেয়ারম্যান মাওয়ের মৃত্যুর পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের মহাসংকটকালে মাওবাদ অনুসারী কোন কোন সংগঠন ও বেশিরভাগ নেতা সংশোধনবাদে গড়িয়ে পড়ে। কোন কোন সংগঠন বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু আপনাদের ও আমাদের এই দুই পার্টিসহ কমরেড ননী দত্ত (ক. মোশতাক)-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মা-লে) মাওবাদী পতাকা, বিশেষত মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। এই প্রক্রিয়ায়

’৮০-র দশকে আমাদের পার্টি মাদারীপুর-শরীয়তপুর-নরসিংদী-ময়মনসিংহ-রাজবাড়ী-উত্তরাঞ্চলসহ ২৪টি জেলায় এবং ’৯০-এর দশকে আপনাদের পার্টি দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দৃষ্টিকাড়া সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলে। যদিও শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দমন-নির্যাতন এবং মাওবাদী আন্দোলনের মধ্যে বিরাজমান ভুল-ত্রুটির কারণে সেই সংগ্রাম পরাজিত হয়।

’৭৯ সাল থেকেই রাজনীতি ও মতাদর্শকে কেন্দ্রে রেখে আমাদের সংগঠন ধাপে ধাপে তত্ত্ব-অনুশীলন-তত্ত্ব- এই মালেমা প্রক্রিয়ায় অতীত সংগ্রামের সারসংকলন চালাতে থাকে। ইতিপূর্বে ’৮০-র দশকেই আমাদের পার্টি বিশ্ব মাওবাদীদের ঐক্য-কেন্দ্র আর.আই.এম. (রিম) এবং দক্ষিণ এশিয়ার মাওবাদীদের সমন্বয় কমিটি কমপোসা’র সদস্য হয়েছিল। এই আন্তর্জাতিকতাবাদী নতুন ভূমিকাও আমাদের সারসংকলন কাজকে বিরাটভাবে প্রভাবিত করে।

 স্বাভাবিকভাবে এই সারসংকলনকে কেন্দ্র করে পার্টিতে দুই লাইনের সংগ্রামও চলে। একবার পার্টি বড় আকারে বিভক্তও হয়। এসবেরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির একটি জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে “মাওবাদী আন্দোলনের চার দশকের সারসংকলন” নামে একটি “নতুন থিসিস” আমাদের পার্টি গ্রহণ করেছে। যার ভিত্তিতে এখন দেশের সমগ্র মাওবাদী আন্দোলনকে পুনর্গঠন করে একটি নতুন ধরনের ঐক্যবদ্ধ মাওবাদী পার্টি গঠন এবং নতুন ধরনের গণযুদ্ধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আমাদের পার্টি চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আপনাদের পার্টি পশ্চিম অঞ্চলের সংগ্রাম, বিপর্যয় ও পরাজয়ের পরবর্তীতে বিভিন্ন বিতর্কের প্রক্রিয়ায় তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ বিভক্তিতে লাইনগত সংগ্রাম খুব একটা স্পষ্টভাবে উঠে আসেনি বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক-মতাদর্শগত লাইনগত প্রশ্নাবলীর পার্থক্য কিছু কিছু স্পষ্ট হতে থাকে।

এই বিভক্ত অংশগুলোর মধ্যে ক. রাকেশ কামাল (ক. রাকা)-এর নেতৃত্বাধীন “লাল পতাকা” গ্রুপ নামের অংশটি কমপোসা’য় যোগদান করে এবং পূবাকপা’র বিগত সংগ্রামের সারসংকলন প্রক্রিয়া শুরু করে। সে প্রক্রিয়ায় ক. রাকা “সারসংকলন প্রতিবেদন (প্রাথমিক) খসড়া রূপরেখা” নামক একটি দলিল প্রণয়ন করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দলিলটি সিসি কর্তৃক অনুমোদন এবং পার্টি-ব্যাপী ব্যাপক কোন আলোচনার পূর্বেই তিনি র‌্যাবের ভুয়া ক্রসফায়ারে শহীদ হন। এর আগেই ক. মোফাখ্খার চেীধুরী এবং ক. তপন একইভাবে শহীদ হন। শুধু এই নেতৃত্বগণই নন, আপনাদের পার্টির তিনটি কেন্দ্রের অধিকাংশ নেতৃত্বই শত্রুর হাতে শহীদ হন অথবা গ্রেফতার হন। এভাবে, আমরা ধারণা করি যে, তিনটি কেন্দ্রই অকার্যকর হয়ে যায়।

এভাবে আপনাদের পার্টি গুরুতর সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। কর্মী-জনগণ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন ও দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। কোন কেন্দ্রই পার্টির নেতৃত্বাধীন সংগ্রামকে অব্যাহত রাখতে পারেনি বা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও সুসংগঠিত কোন সাংগঠনিক কাঠামো পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

 পার্টি-পুনর্গঠনের বিষয়ে আমাদের জানা কিছু পর্যবেক্ষণ এখানে তুলে ধরছি

– ক. চেীধুরী শহীদ হওয়ার পর সেই কেন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং এখনও তার লাইনের অনুসারী দাবিদার একটি ধারাকে ক্রিয়াশীল দেখা যায়। আমাদের জানামতে এই ধারাটি এখনো পর্যন্ত পার্টির কোন দলিলপত্র-পত্রিকা-লিফলেট কিছুই প্রকাশ করেনি। এরা সাংস্কৃতিক গণসংগঠনসহ বিভিন্ন ধরনের গণসংগঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালান। যা কমরেড চেীধুরীর লাইনের সাথে মেলে না। আবার তারা চেীধুরী-লাইনের কোন সারসংকলনের কথাও বলছেন না।

-ক. রাকেশ কামাল এবং তার পরবর্তী নেতৃত্ব ক. এনামুল শহীদ হওয়ার পর তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন কয়েকজন কমরেড শত্রুর দমন থেকে আত্মরক্ষার জন্য কৌশল হিসেবে পার্র্র্টির নাম পরিবর্তন করে “বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)” নামে সংগঠন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একটা বৈঠকের পর তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকেনি। এই ধারাতেই অন্য একটি অংশ ২০১১ সালে “২২ মে শহীদ দিবসে” (ক. তারার মৃত্যুবার্ষিকীতে) “পূর্ব বাংলার মাওবাদী” নাম দিয়ে সংগঠনের একটি পোস্টার প্রকাশ করেছিল। পরে আর এই নামে কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। এই ধারারই অন্য একটি অংশ ১৯/০৩/’১১ তারিখে সার্কুলার- ১ নামে একটি দলিল প্রকাশ করেছিল যাদের কেন্দ্র পূবাকপা (মা-লে) (লাল পতাকা) নামটি উল্লেখ করেছে। এতে ক. রাকা’র সারসংকলনের ভিত্তিতে পার্টি পুনর্গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তব অনুশীলনে সেই লাইনের কোন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে আমাদের মনে হয়। এই সার্কুলার অনুসারীরা এখনো সক্রিয়। এরা এখনো খতম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন। তাদের কৌশল হচ্ছে, শত্রুর চাপ এড়ানোর জন্য কিছু অনিবার্য খতম করলেও তা প্রচার করেন না। পার্টির দায় স্বীকার করেন না।

-সম্প্রতি আরো একজন নেতৃত্ব যিনি অতীতে জনযুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি পার্টি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন বলে শোনা যায়। যতদূর জানা যায় তিনিও মতাদর্শগত-রাজনৈতিক লাইনকে কেন্দ্রবিন্দু করছেন না। বরং পূর্বের ধারাতেই সামরিক এ্যাকশন, তথা খতমকে কেন্দ্রবিন্দু করছেন। তার বা তার অনুসারীদের পক্ষ থেকে এখনো কোন দলিলপত্র প্রকাশ হয়েছে বলে আমরা জানি না।

এইসব উদ্যোগে বিপ্লবের প্রতি গভীর আন্তরিকতা থাকলেও সেগুলো মাওবাদী রাজনীতি ও মতাদর্শকে চাবিকাঠি হিসেবে আঁকড়ে ধরছে না বলেই আমাদের ধারণা। পার্টি-গঠনের ৪০ বছর পর পার্টির আজকের বিপর্যস্ত ও ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার কারণ অনুসন্ধানের জন্য লাইনগত সারসংকলনের ভিত্তিতে পার্টি-পুনর্গঠনকে কেউই কেন্দ্রবিন্দু করছেন না।

মনে রাখতে হবে পূবাকপা একটা মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ছিল। যার রাজনীতিক লক্ষ্য ছিল নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রধান ধরনের সংগ্রাম ছিলো সশস্ত্র সংগ্রাম। তার মতবাদ ছিল মালেমা। সেই পার্টি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে শত্রু-দমনে। এ অবস্থায় প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে সেই পার্টিকে গঠন বা পুনর্গঠন করা। যেহেতু সশস্ত্র সংগ্রামের পার্টি তাই আজকের বাস্তব ও আত্মগত অবস্থা বিবেচনা করে পার্টি পুনর্গঠন করতে হবে। এখন লাইন বিনির্মাণ তথা লাইনগত সারসংকলন না করে এই পার্টির পক্ষে আর ইতিবাচকভাবে এগুনো সম্ভব নয় বলেই আমরা মনেকরি। ঠিক যে কাজটিতে হাত দিয়েছিলেন ক. রাকা ৫ বছর আগেই। এবং তার একটি বড় ও মৌলিক কাজ তিনি সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন। অথচ বিগত ৫ বছরে সেকাজে আর কোন অগ্রগতি দূরের কথা, সে কাজটিকেই প্রায় বিস্মৃত করে দিয়ে পুরনো ধারায় বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত এ্যাকশনের প্রচেষ্টা এই পার্টিকে কোন অগ্রগতিই এনে দিতে পারে না।

আজকে সংগ্রামের/এ্যাকশনের নেতৃত্ব কে দিবে? নিশ্চয়ই পার্টি। সেই পার্টি কোথায়? চেয়ারম্যান মাও সেতুঙ বলেছিলেন, “যদি বিপ্লব করতে হয়, তাহলে অবশ্যই একটা বিপ্লবী পার্টি থাকতে হবে। একটা বিপ্লবী পার্টি ছাড়া, মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিপ্লবী তত্ত্ব এবং বিপ্লবী রীতিতে গড়ে ওঠা একটা বিপ্লবী পার্টি ছাড়া, শ্রমিক শ্রেণি ও ব্যাপক জনসাধারণকে সা¤্রাজ্যবাদ ও তার পদলেহী কুকুরদের পরাজিত করতে নেতৃত্বদান করা অসম্ভব।” (উদ্ধৃতি পৃঃ ২-৩)। কয়েকটি ব্যক্তি হলেই পার্টি হয় না। প্রথমত একটি সামগ্রিক লাইন তার থাকতে হবে, তার একটি কেন্দ্র ও গঠন কাঠামো থাকতে হবে। একটি পরিকল্পনা থাকতে হবে। সেগুলো সুদূর অতীতে আপনাদের ছিল। তার ভিত্তিতে সংগ্রামও হয়েছে। কিন্তু তার ভাল-মন্দ সবই প্রকাশিত হয়ে সেসব অতীতের বিষয় হয়ে গেছে। এখন পরিবর্তিত বাস্তব ও আত্মগত অবস্থার প্রেক্ষিতে সেসবকেই নতুন করে নির্মাণ না করলে পার্টির কার্যত কোন সঠিক লাইন থাকতে পারে না। আর এ অবস্থায় কোন পার্টিও গড়ে উঠতে পারে না। তাহলে কে করবে এ্যাকশনের নেতৃত্বদান?

কমরেডগণ,

এটা খুবই জটিল পরিস্থিতি। একটা বিকাশমান সংগ্রাম পরাজিত হয়েছে। পার্টি যখন সংগ্রামে ছিল তখনকার কৌশল-পরিকল্পনা আজকের বিপর্যয়ের বাস্তবতায় আর কার্যকর করা সম্ভব নয়। আজকের আত্মগত অবস্থা মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন করে কৌশল-পরিকল্পনাও করতে হবে।

পূবাকপা’র বিচ্ছিন্ন কমরেডদেরকে আমরা মনে করি এ দেশের মাওবাদী আন্দোলনেরই অংশ। আমরা ভিন্ন ভিন্ন পার্টি থেকে চল্লিশ বছরের বেশি এই ভূখণ্ডে সংগ্রাম করছি। পূবাকপা এখন শত্রুর দমনে বিপর্যস্ত। আমাদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শত্রুপক্ষ এই দেশ থেকে মাওবাদী আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আন্দোলনকে রক্ষা ও বিকশিত করতে হবে। সেজন্য আমাদের অতীত সংগ্রামের পর্যালোচনা-সারসংকলনের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনার ভিত্তিতে আগাতে হবে। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে পূবাকপা’র বিচ্ছিন্ন-বিপর্যস্ত কমরেডদেরকে পরামর্শ দেয়া, সহযোগিতা করার দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই খোলাচিঠি প্রকাশ করছি, যাতে আমরা কিছু পরামর্শও উল্লেখ করতে চাই। আমরা এসব পরামর্শ আপনাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাই না। লাইন-নীতি-পরিকল্পনা নির্ধারণ করা প্রধানত আপনাদেরই দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ যদি কোন সহায়তা করে সে আশাতেই আমরা এসব কথা বলছি।

কমরেডদেরকে মনে রাখতে হবে নানান জায়গা থেকে নানান ধরনের মতামত আসবে। সুবিধাবাদী-বিলোপবাদী মতও আসবে। মালেমা’র বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার-বিশ্লেষণ করে তা গ্রহণ বা বর্জন করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না সেক্ষেত্রে আপনাদের বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গিই আপনাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে, অন্য কেউ নয়।

* সংকীর্ণতাবাদী চেতনা থেকে বিভক্ত কোন কেন্দ্র নয়- সমগ্র পূবাকপা-কে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে, যা কিনা হবে বাস্তবে এদেশের সামগ্রিক মাওবাদী আন্দোলনের পুনর্গঠনেরই অংশ।

* পুনর্গঠনের জন্য প্রথম আঁকড়ে ধরতে হবে লাইন বিনির্মাণকে, যার মতাদর্শগত ভিত্তি হবে মালেমা।

আরও নির্দিষ্টভাবে এজন্য-

– বিগত শতকে শেষাংশে আন্তর্জাতিক মাওবাদীদের ঐক্যকেন্দ্র “রিম” (যা এখন কার্যত বিলুপ্ত) ও তার সদস্য

   গুরুত্বপূর্ণ পার্টিগুলোর মূল্যায়ন ও সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;

– ক. সিএম প্রতিষ্ঠিত ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;

– পূবাকপা’র সংগ্রাম সম্পর্কে পূবাসপা’র পর্যালোচনাকে বিবেচনায় নেয়া;

– ক. রাকেশ কামালের সারসংকলনকে বিবেচনায় নেয়া;

– অন্য যে কোন মত আসলে সেগুলোকেও বিবেচনায় নেয়া।

* এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নি¤œতমভাবে নি¤েœর মৌলিক বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা-

– মতবাদগত;

– গণযুদ্ধ;

– আর্থ-সামাজিক;

– আন্তর্জাতিক লাইন।

* লাইন-বিনির্মাণ ও সারসংকলনকে কেন্দ্রবিন্দু করার জন্য ও তার স্বার্থে পুরনো ধারার সকল অনুশীলনকে স্থগিত করা উচিত বলে আমরা মনেকরি। যার মাধ্যমে শত্রুর দমনকে এড়িয়ে নিজেদের অবশিষ্ট শক্তিকে সংরক্ষণ করা যায় এবং তাকে সুসংগঠিত করা যায়।

যারা এভাবে পার্টিকে পুনর্গঠনে আগ্রহী তাদের মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা। এজন্য নিম্নতম পাঠ্যসূচি ঠিক করা। পাঠ্যসূচির লক্ষ্য হবে- মৌলিক মালেমা-কে আত্মস্থ করা এবং তার ভিত্তিতে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোতে অধ্যয়ন, আলোচনা, পর্যালোচনাকে বিকশিত করা এবং একটি একটি করে বিষয়গুলোতে মতাবস্থান গ্রহণ করা।

* লাইন-বিনির্মাণের প্রক্রিয়ায় বাস্তব সাংগঠনিক-সাংগ্রামিক অনুশীলন কী হবে তাও নির্ধারিত থাকতে হবে। এজন্য যা যা করা যেতে পারে বলে আমাদের ধারণা-

– অবিলম্বে একটি কেন্দ্রীয় পরিচালনা সেল গঠন করে সমগ্র কাজের সূচনা করা। পরবর্তীতে কোন প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে তাকে কমিটিতে রূপ দেয়া যেতে পারে।

– একটি বা দু’টি অঞ্চলকে নির্দিষ্ট করে সেখানে শক্তি কেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে ঘাসমূলের সংগঠন গড়ার প্রক্রিয়া চালানো।

– উপরোক্ত কাজকে ভিত্তি করে দেশব্যাপী বিচ্ছিন্ন যোগাযোগগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করা। যতটা সম্ভব সেটা করা। কিন্তু তাকে কেন্দ্রবিন্দু না করা।

– রাজনৈতিক প্রচারকে গুরুত্ব দিয়ে পার্টিজান ও গেরিলা ধরনের কর্মী গড়ে তোলা।

– আর্থিক সামর্থ্য ও যোগ্যতা বিচার করে একজন একজন করে সার্বক্ষণিক কর্মী গড়ে তোলা; সার্বক্ষণিক কর্মীদের নিয়োগদানে সংগঠন-সংগ্রামের রণনৈতিক পরিকল্পনাকে ভিত্তি করায় গুরুত্ব দান।

– শ্রেণি লাইনকে আঁকড়ে ধরে আর্থিক পলিসি নির্ধারণ করা। পেশা, চাঁদা ও ব্যক্তিগত সম্পদের উপর নির্ভর করা। জরিমানা, শত্রুর সম্পত্তি দখল- ইত্যাকার সামরিক যুগের পদ্ধতিকে এড়ানো।

– নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার উপর অত্যধিক জোর দেয়া। শত্রুর অনুপ্রবেশকে ঠেকানো, আবার বেহুদা কাউকে শত্রু মনে না করা।

* উপরোক্ত কাজগুলোকে ভিত্তি করে এগুলে সামরিক এ্যাকশনের স্থানটি কী হবে সেটা বাইরে থেকে আমাদের পক্ষে নির্ধারণ করা সম্ভব নয় ও উচিত নয়। একটি সশস্ত্র সংগ্রামের পার্টি হিসেবে কোন কোন অঞ্চল/এলাকায় নিরস্ত্র কাজ আত্মঘাতী হতে পারে। আবার বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত সামরিক এ্যাকশন আরো বড় বিপর্যয়কর হতে পারে।

তবে এটা সহজবোধ্য যে, লাইন-বিনির্মাণ ও পার্টি-পুনর্গঠনের কাজ একটা পর্যায় পর্যন্ত সম্পন্ন না করে সামরিক কাজ/এ্যাকশনকে কেন্দ্রবিন্দু করাটা সঠিক হবে না বলেই আমরা মনে করি। কারণ, একবার শুরু করলে তা থেকে পিছন ফেরা যাবে না। সর্বোপরি, সংগ্রাম ও এ্যাকশনের মতাদর্শগত-রাজনৈতিক লাইন ও রণনৈতিক পরিকল্পনা কী হবে, যুদ্ধের/সশস্ত্র সংগ্রামের সামরিক লাইনের রূপরেখাটি কী হবে তা খুবই সুবিবেচিতভাবে নির্ধারণ না করে এখন আর আপনাদের পক্ষে কোন ইতিবাচক সংগ্রাম গড়া সম্ভব হবে না বলেই আমরা মনেকরি। তাই, আজকের পরিস্থিতিতে কোন্ অঞ্চল/এলাকাকে আপনারা কেন্দ্রীভূত করার জন্য বেছে নেবেন, এবং সেখানে কী ধরনের কাজ করবেন সেটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে।

উপরোক্ত অনেক বিষয়েই আমরা আরো সুনির্দিষ্ট কথা বলতে পারি, আলোচনা করতে পারি, যা এই খোলাচিঠিতে সম্ভব নয়। আমরা মনেকরি, শুধু আমাদের সাথেই নয়, অন্য সকল আন্তরিক মাওবাদী সংগঠন, ব্যক্তি ও শক্তির সাথেই এসব বিষয়েও আপনাদের প্রচুর আলোচনা ও মত বিনিময় করা উচিত। যাতে করে আপনারা সবচাইতে সঠিক নীতি-পরিকল্পনা ও পদ্ধতিগুলো অনুশীলনে নিয়ে আসতে পারেন।

** পরিশেষে বলতে চাই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর প্রায় ৪২ বছর পার হয়েছে। এই সময়ে দেশ শাসন করেছে বাঙালি বড় ধনী শ্রেণির প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাত এবং সেনা-আমলারা। এরা ধনীক শ্রেণি এবং তাদের প্রভু মার্কিনের নেতৃত্বে সা¤্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণের জন্য কোন কিছুই করেনি। বরং সব সরকারই বিপ্লবীদের, প্রতিবাদকারীদের হত্যা করে বিপ্লবী আন্দোলন দমন করে চলেছে। তাই, বিপ্লবীদের বিগত সংগ্রামের সারসংকলনের ভিত্তিতে নতুনভাবে সংগঠিত হতে হবে। উচ্চতর একটি লাইন, ঐক্যবদ্ধ ও নতুন ধরনের একটি পার্টির নেতৃত্বে একটা সত্যিকার সফল গণযুদ্ধ গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

পিবিএসপি/সিসি

তৃতীয় সপ্তাহ, নভেম্বর, ২০১৪

নোট– পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-[পূবাকপা (এম-এল)

           পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি) [পূবাসপা (সিসি)]

সূত্রঃ http://pbsp-cc.blogspot.com/2016/03/blog-post_6.html

Advertisements

ভারতঃ বস্তারে ভুয়া এনকাউন্টারে কৃষককে হত্যা করেছে পুলিশ, অভিযোগ পরিবারের

17bm_IMG_201602_17_2740042f

পুলিশের  ভুয়া এনকাউন্টারের শিকার হলেন বস্তারের এক কৃষক। পুলিশের দাবী, গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি মাওবাদী সংযোগকারী হাদ্মা বাতদি কাশ্যপ বস্তার পুলিশের সাথে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে, কিন্তু তার পরিবার দাবী করেছেন,  হাদ্মা কোন মাওবাদী সংযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁকে ভুয়া এনকাউন্টারের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

বাস্তার ইন্সপেক্টর জেনারেল কাল্লুরি বলেছিলেন,  বাস্তার জেলার মারদুম পুলিশ থানার শুঙ্গ গ্রামে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সকালে প্রচণ্ড এনকাউন্টার পরবর্তী নিহত হাদ্মার পাশ থেকে একটি দেশী তৈরি বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

যদিও তবে হাদ্মা কাশ্যপের পরিবার বলেছেন, ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হাদ্মাকে বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়।

হাদ্মার স্ত্রী গোলা কাশ্যপ বলেন “প্রায় ২৫জন পুলিশ আমাদের বাড়ীটা ঘেরাও করল, তাদের মধ্যে ছয় জন ঘরে প্রবেশ করে এবং আমার স্বামীর কাছে জানতে চায় – তাদেরকে গ্রামের বাইরে বেরুতে একটি পথ দেখানোর জন্য। কিন্তু আমার স্বামী যখন অস্বীকৃতি জানাল তখন তারা তাঁকে তুলে নিয়ে যায় “।

অনুবাদ সূত্রঃ 

http://www.thehindu.com/news/cities/mumbai/business/bastar-farmers-kin-allege-fake-encounter/article8247009.ece


মিয়ানমারে স্বাধীনতাকামী আদিবাসী গেরিলা-সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত

ট্যা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন (TNLA)

ট্যা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন (TNLA)

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সান এবং কাচিন প্রদেশে আদিবাসী গেরিলাদের সাথে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। কাচিন বিদ্রোহী এবং “ট্যা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন” “টি এন এল এ” এই অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্যে ১০ বছর ধরে লড়াই করছে।

এদিকে, দুই বিদ্রোহী দলের বিপক্ষে ধরে নিয়ে জোর করে যুদ্ধ যোগ দেয়ানোর অভিযোগ করছে সরকারী বাহিনী। তবে “টি এন এল এ” প্রতিষ্ঠাতা বলছেন তারা কখনোই এই ধরনের কাজ করেন না, এই অঞ্চলের আদিবাসীরা স্বাধীনভাবে তাদের সমর্থন দেন। মিয়ানমারের আদিবাসীদের নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন তাদের মূল লক্ষ্য।
কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি

কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি(KNLA)

এদিকে, ঐ অঞ্চলে বেশ কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মিয়ানমারের বিগত সেনা সরকার। তবে “কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি” এবং “টি এন এল এ” এই চুক্তির বিরোধিতা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় গেরিলাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। সরকারের পক্ষ থেকে শান রাজ্যের কোকাং এলাকায় গেরিলাদের হামলায় কয়েক ডজন সরকারি সেনা নিহত হওয়ার বিরল ঘোষণা দেয়ার পর এ বিমান হামলার খবর এলো।প্রায় ছয় বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি কোকাং এলাকায় আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েকটি জাতিগত গোষ্ঠীর তরুণদের নিয়ে গঠিত গেরিলারা অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে বহু সৈন্যকে হতাহত করে। এ সংঘর্ষ গত (শনিবার) সকাল পর্যন্ত চলছিল।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ টিএনএলএ’র মুখপাত্র ‘তার পার্ন লা’ জানিয়েছেন, দু’টি জঙ্গি বিমান ও দু’টি হেলিকপ্টার তাদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।

এর আগে মিয়ানামের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছিল, ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বিদ্রোহীরা কোকাং-এর মূল শহর দখল করার জন্য কয়েক দফা  হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫০ জন সৈন্য নিহত এবং আরো বহু সরকারি সেনা আহত হয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের হামলার জবাব হিসেবে তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

মিয়ানমারের তথ্যমন্ত্রী ‘ইয়ে হোতুত’ চলমান সংঘর্ষের জন্য স্থানীয় কোকাং নেতা ‘কিয়া শিন’কে দায়ী করেছেন।

কোকাং-এর সংঘর্ষ থেকে প্রাণে বাঁচতে বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে চীনে আশ্রয় নিয়েছে।  মিয়ানমার সরকার দেশটির বিদ্রোহী নেতাদের আশ্রয় না দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ওদিকে টিএনএলএ’র মুখপাত্র ‘তার পার্ন লা’ বলেছেন, অনেকে লাশিও প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় শান শহরে চলে গেছে। তিনি জানান, টিএনএলএ এবং শক্তিশালী কাচিন স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা কোকাং বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। টিএনএলএ এবং কাচিন গেরিলারা শান ও কাচিন অধ্যুষিত প্রদেশগুলোর স্বাধীনতার দাবিতে বহুদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।


ভারত: ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন!

12743539_772163779580661_2033174242506121764_n


ভারতঃ মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় জখম দুই জওয়ান

MAo

মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় জখম হয়েছে দুই জওয়ান৷ বুধবার ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত রাজনন্দগাঁও জেলায়  পুলিশ জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় মাওবাদী গেরিলারা৷

এদিন সকালে টহল দেওয়ার সময় সুমন যাদব ও শঙ্কর মান্ধবীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে মাওবাদীরা৷ গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশবাহিনী৷ আহত জওয়ানদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ পায়ে গুলি লেগেছে তাঁদের৷ দুই জওয়ানেরই অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে৷ মাওবাদীদের খোঁজে এলাকায় কম্বিং চালাচ্ছে পুলিশ৷

অনুবাদ সূত্রঃ

http://news.webindia123.com/news/Articles/India/20160217/2796730.html


মনিপুরের মাওবাদীরা ২১শে ফেব্রুয়ারী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে

MCP_Manipur

মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি মণিপুর (MCPM), ২০০৯ সালে সঞ্জিত এবং রাবিনা হত্যার প্রতিবাদে ২১শে ফেব্রুয়ারি পুরো মনিপুর রাজ্যে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডটি ঠান্ডা মাথায় এবং ভুয়া এনকাউন্টার হিসেবে হত্যাকারী নিজেই দায় স্বীকার করেছে। MCPM এর প্রচার ও প্রচারণা সম্পাদক কমরেড নন গ্লেন মেইতেই কর্তৃক ইস্যুকৃত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ ধর্মঘট ভোর ৫টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পালিত হবে এবং বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, মিডিয়া, চিকিৎসা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান মত অপরিহার্য পরিষেবাগুলি সাধারণ ধর্মঘটের আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে ।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.thesangaiexpress.com/mcpm-calls-general-strike/


একজন মাওবাদী বিপ্লবীর স্মৃতিচারণ –

Cops on Maoist

বিপ্লবী দৃঢ়তা

-অনীল

ছোট্ট একটি রেল ষ্টেশন। দু’দিকে বহুতল বিশিষ্ট মনোরম আধুনিক ভবন। ভবনের এক পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে জরাজীর্ণ ব্রহ্মপুত্র। অন্যদিকে বিশাল সবুজ মাঠ। পড়ন্ত বিকেল। ট্রেনের অপেক্ষায় কয়েকজন যাত্রী ইতস্ততঃ ঘোরাফেরা করছে। আমরাও এসে দাঁড়ালাম টিকিট ঘরটির পাশে। আমি আর কামাল ভাই। অপেক্ষা করছি। একজন কমরেড আসার কথা। এখনো আসেনি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। পিছন থেকে একটি লোক এসে আমার হাত চেপে ধরলো। কি খবর অনীল ভাই? ভাল আছেন? এক রাশ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো আগন্তুক। কন্ঠস্বরেই চিনতে পারছি। একটা শীতল স্রোত বয়ে চললো আমার শিরা-উপশিরায়। নিজেকে অত্যন্ত স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করলাম। উত্তর দিলাম সংক্ষিপ্ত দু’টো বাক্যে। ভাল আছি। আপনার খবর কি?

বিপদটা আমার চেহারা দেখেই বুঝতে পারলেন কামাল ভাই। সরে যাচ্ছেন তিনি। তার চলে যাওয়ার ভাবটি দেখে মনে হচ্ছে আমাদের মাঝে কোন কালেও যেন পরিচয় ছিল না। নিরাপদ দূরত্বে চলে গেছেন কামাল ভাই। কিছুটা আশ্বস্থ হলাম। নিজেকে বেশ হালকা মনে হচ্ছে। ঘুরে দাঁড়ালাম। তাকালাম সরাসরি। আমার নির্লিপ্ততা দেখে নিজের পরিচয় দিতে শুরু করলো লোকটা। আমাকে চিনতে পারছেন না? আমি মন্টু। চিনতে পারবো না কেন? মনে মনে বললাম আমি। সব কিছুই ছবির মতো ভেসে উঠছে আমার মস্তিষ্কে। এই মন্টুও একদিন আমার মতো সার্বক্ষণিক কর্মী ছিল। ব্যক্তিস্বার্থ ও সুবিধাবাদের কারণেই পার্টি আর বিপ্লব ত্যাগ করে পালিয়েছিল। এক বৎসর পূর্বে তার সাথে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বসেই অনেক আলোচনা হয়েছিল। তার পর সে আর পার্টির সাথে সংযোগ রাখেনি। পরবর্তীতে তার সন্দেহজনক গতিবিধির জন্য নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্থানীয় পার্টি-শাখাও আর সংযোগের চেষ্টা চালায়নি। কত দিন হয়ে গেল। এত দিনে সে শত্রুচর, বিশ্বাসঘাতক — কত কিছুই তো হতে পারে। কামাল ভাই সরে পড়েছেন। আমারও সরে পড়া দরকার।। মামুলী দু’একটা কুশল বার্তা বিনিময় করে ব্যস্ততা দেখিয়ে দ্রুত বিদায় নিলাম।

পথেই পেলাম কামাল ভাইকে। এগিয়ে চলছি গ্রামের দিকে। পশ্চিম আকাশে সূর্যের রক্তিম আভার শেষ কণাটুকুও মিলিয়ে যাচ্ছে অসীম দিগন্তে। নেমে আসছে ছোপ ছোপ অন্ধকার। একটু দ্রুতই হাঁটছি। সংক্ষেপে বলে চলেছি ষ্টেশনের ঘটনাটা। কিন্তু মঞ্জু ভাই প্রোগ্রামে আসলেন না কেন? প্রশ্ন করলেন কামাল ভাই। আমিও তো তাই ভাবছি। জবাব  দিলাম আমি। তার সাথে পরবর্তী কোন প্রোগ্রামও নেই। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে গাফেলতি লক্ষ্য করিনি কোন দিন।। ওদিককার যা অবস্থা — তাতে খোঁজ নিতে লোক পাঠানোও মুশকিল। আপনার কি মনে হয়? পুনরায় প্রশ্ন করলেন কামাল ভাই। হয়তো কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে তাই . . . . . . . । দাঁড়ান। আর এগুবেন না। অন্ধকার ভেদ করে ঘোষিত হলো একটি নির্দেশ। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়লাম দু’জনে। গাছ আর ঝোপটার আড়াল থেকে অস্ত্রসহ বেরিয়ে এলো দু’জন লোক। পরিচয় দিলাম। চিনতে পারলো। ছেড়ে দিল। প্রবেশ করলাম প্রায় মুক্ত এলাকায়। পথে পথে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পাহারা দিচ্ছেন সশস্ত্র গেরিলা কমরেডগণ। এই এলাকাটা উৎখাত করার জন্য কয়েকবারই চেষ্টা চালিয়েছিল রক্ষী বাহিনী। কিন্তু পারেনি। স্থানীয় নারী-পুরুষ-বালক-বৃদ্ধ সবাই পার্টির সাথে যুক্ত। গেরিলা আর কর্মীদের সাথে রয়েছে তাদের নাড়ীর যোগ। এলাকাটা প্রায় শত্রু মুক্ত। ফলে সকল আঘাতই ব্যর্থ হয় শত্রু পক্ষের।

নিস্তব্ধ রাতের জমাট বাঁধা অন্ধকারে হোঁচট খেতে খেতে এসে পৌঁছলাম শেল্টারে। মেঝের ওপর পাতা খড়ের বিছানাটাতে এলিয়ে দিলাম ক্লান্ত শরীরটা। ভেবেছিলাম শুয়ে পড়বার সাথে সাথেই ঘুম আসবে। কিন্তু না। আসছেনা। এলোমেলো একরাশ চিন্তা এসে ভীড় করছে মাথার মধ্যে। মঞ্জু ভাই আসলেন না কেন? কি হয়েছে তার? কোন বিপদ নয় তো? আর এগুতে পারলাম না। চিন্তার গতিটা ব্যহত হলো আমার। ঘরে ঢুকছেন একজন কমরেড। প্রশ্ন করলাম। কি খবর কমরেড? নদীর ওপাড় থেকে কমরেড শফিক এসেছিলেন। জবাব দিলেন তিনি। দ্রুত উঠে বসলাম। সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করলাম। কোন খবর দিয়ে গেছে? হ্যাঁ। কি খবর? কমরেড মঞ্জু, স্বপনদা এবং আরো দু’জন নাকি রক্ষীর হাতে ধরা পড়েছে। চমকে উঠলাম আমি। নিজের অজান্তেই আমার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো দু’টো প্রশ্ন। কোথায়? কিভাবে? চন্নপাড়ার কাছাকাছি ধরা পড়েছে। কিভাবে ধরা পড়েছে তা জানা যায়নি। বিষন্ন কণ্ঠে জবাব দিলেন কমরেড।

আঘাতটা খুব তীব্রই মনে হলো আমার কাছে। কথা  বলতে পারছি না। উত্তেজনার স্রোত বইছে মস্তিষ্কে। প্রচণ্ড ঝড়ের তান্ডবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে স্নায়ুগুলো। কাঁপা কাঁপা হাতে পকেট থেকে বের করলাম সিগারেট। কুপির আগুনে ধরালাম সেটা। জোর দম দিচ্ছি সিগারেটটাতে। গলগল করে ধুঁয়া বের হচ্ছে আমার নাক-মুখ থেকে। ধীরে ধীরে ধাতস্থ  হয়ে উঠছি। এখন কিছুটা চিন্তা করতে পারছি। চারজন ধরা পড়েছে একসাথে। চারজনের মাঝে কি কেউ . . . . .। না। বিশ্বাসঘাতকতা করবে কে? আচ্ছা, এলাকাগুলোর সাথে সংযোগের  ব্যবস্থা করতে পারলেই সব কিছু জানা যাবে। কিছু কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে। অস্ত্র, গুলি আর সম্পদও নিরাপদ করা প্রয়োজন। আগে কামাল ভাইকে সংবাদটা জানানো প্রয়োজন। কমরেড। না, নেই। কখন চলে গেছেন টেরও পাইনি। তা’হলে আমাকেই যেতে হবে। বেরিয়ে পড়লাম।

ঘুটঘুটে অন্ধকার। আকাশে মিট্ মিট্ করে জ্বলছে তারকাগুলো। মৃদু লয়ে বয়ে চলছে হিমেল বাতাস। বেশ কিছুটা মুক্ত বাতাস বুক ভরে নিলাম স্বার্থপরের মতো। ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছি। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে আলোটা। তা’হলে এখনো ঘুমাননি কামাল ভাই।

 এতো রাতে আসতে দেখে কিছুটা বিস্মিতই হলেন কামাল ভাই। জানালাম তাকে সব কিছু। একটু এগিয়ে এসে আমার হাতটা ধরলেন তিনি। কঠিন চাপ অনুভব করছি হাতে। অন্যান্য দিনের মতো মামুলী হাত মেলানো নয়।  আবেগে পূর্ণ উষ্ণ আর তীব্র চাপ। মুখমন্ডলের পেশীগুলো শক্ত হয়ে উঠছে তার। থমথমে মুখমন্ডলে দৃঢ় কণ্ঠে এক নিঃশ্বাসে বুঝিয়ে দিলেন —জরুরী ভিত্তিতে কি কি করতে হবে আমাকে।

দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ফিরে এসেছি শেল্টারে। বসে আছি খড়ের বিছানায়। রাত প্রায় শেষ হয়ে আসছে। ঘুম আসছে না। শুধু ভেবেই চলেছি। ভাবনার কোন কূল-কিনারা  নেই। তিন মাইল দূরে দূরে ক্যাম্প করে ঈশ্বরগঞ্জ-নান্দাইল আর ত্রিশাল থানাকে ঘিরে ফেলেছে রক্ষী বাহিনী। এখানে অবশ্য রাতে গ্রামে ঢুকতে সাহস পাচ্ছে না ওরা। ইশ্বরগঞ্জ আর নান্দাইলের বহু এলাকায় মুখে মুখে ঘুরতো মঞ্জু ভাইয়ের নাম। তাকে যমের মতো ভয় করতো রক্ষী আর পুলিশরা। বহু পুরানো অভিজ্ঞ আর পরিশ্রমী কমরেড স্বপনদা। তাদের অনুপস্থিতিতে কিভাবে প্রতিরোধ গড়ে উঠবে ইশ্বরগঞ্জ আর নান্দাইলে? কি মারাত্মক ক্ষতিই না হয়ে গেল! এখন কেমন আছে কমরেডরা? কি করছে তারা? দেখতে পাচ্ছি মানস চোখে। নরপশুদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে চারজন। হাত-পা বাঁধা। রক্তাক্ত শরীর। নিরস্ত্র। অসহায়।

ভোর হয়ে আসছে, রাতের অন্ধকারকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে জেগে উঠছে সূর্য। তার আলোয় আলোকিত হয়ে যাচ্ছে চারিদিক। নিজস্ব নিয়মেই এগিয়ে চলছে সময়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আসছে খবর। নতুন, গরম, বীভৎস সব সংবাদ।

চন্নপাড়ার খবির মিয়ার বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছিল চারজন। মঞ্জু ভাই, স্বপনদা, উজ্জ্বল ভাই এবং আরো একজন। দু’মাইল দূরের রক্ষী ক্যাম্পে রাতেই খবরটা পৌঁছে দিয়েছিল খবির মিয়া। মধ্য রাতেই সমগ্র গ্রামটা ঘেরাও করে ফেললো রক্ষী বাহিনী। নিরস্ত্র, ঘুমন্ত, অসহায় অবস্থায় গ্রেফতার হলেন চারজন। সকালে একটি উঁচু জমিতে গ্রামবাসীদেরকে জড়ো হতে বাধ্য করেছিল রক্ষীরা। সেখানে হাত বাঁধা অবস্থায় হাজির করা হয়েছিল মঞ্জু ভাই এবং তার সাথী কমরেডদেরকে। তাদেরকে ভুল স্বীকার করে বক্তব্য রাখার নির্দেশ দিয়েছিল রক্ষী লিডার। ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মঞ্জু ভাই। সাথে সাথে তার পিঠের ওপর পড়েছিল কয়েকটি রাইফেলের বাট। শেষ পর্যন্ত বক্তব্য রেখেছিলেন মঞ্জু ভাই। টান টান হয়ে দাঁড়িয়ে রক্তমাখা শরীরে দীপ্ত কণ্ঠে বর্ণনা দিয়েছিলেন দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক মুজিব সরকারের কীর্তিকলাপের। আর জ্বালাময়ী ভাষায় তুলে ধরেছিলেন রক্ষী বাহিনীর বর্বরতার নারকীয় কাহিনী। জনগণের কাছে উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। তার বক্তব্য শেষ না হতেই ঘেউ ঘেউ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জলপাই রং-এর অনেকগুলো কুকুর। তারা চেষ্টা করেছিল মঞ্জু ভাইয়ের জীবন্ত দেহটাকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলতে। জ্ঞান না হারানো পর্যন্ত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন মঞ্জু ভাই। রক্তের ঢল নেমেছিল তার মাথা, মুখ আর শরীর থেকে। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়বার পরও তার ওপর পড়েছিল বুটের লাথি আর বেয়নেটের খোঁচা। সহ্য করতে না পেরে জায়গা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন অনেক গ্রামবাসী। অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিল অনেকের চোখ।

একের পর এক আসছে খবর। শুনছি। শিউরে উঠছি। ক্রোধে আর ঘৃণায় টগবগিয়ে উঠছে আমার রক্ত কণিকাগুলো। দাঁতে দাঁত পিষে শপথ নিলাম। বদলা আমরা নেবোই।

এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্প। এভাবে একটানা দশ দিন মঞ্জু ভাই’র অর্ধচেতন দেহটিকে টানা-হেঁচড়া করেছিল রক্ষী বাহিনী। চালিয়েছিল হাজারো  নির্যাতন। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা থেকে জানা যায় — শরীরের এক ইঞ্চি জায়গাও অক্ষত ছিল না মঞ্জু ভাইয়ের। ইঞ্চি ইঞ্চি করে শরীরের প্রতিটি অংশকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল দস্যুরা। কিন্তু একটুও অবনত করাতে পারেনি মঞ্জু ভাইয়ের সুউচ্চ মনোবল আর বিপ্লবী দৃঢ়তাকে। শেষ পর্যন্ত তার স্পন্দনহীন দেহটাকেও টুকরো টুকরো করে ফেলেছিল ক্ষিপ্ত জল্লাদেরা। দেহটাকে তারা ধ্বংস করতে পেরেছিল ঠিকই; কিন্তু তাদেরই অগোচরে মধুপুরের উর্বর মাটিতে বীজ হয়ে ঝরে পড়েছিল অজস্র লোহিত রক্ত কণিকা। আগামী দিনে অসংখ্য মঞ্জুর জন্ম নেবার প্রত্যাশায়।

[নোটঃ কমরেড মঞ্জু ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার সেনবাড়ী গ্রাম থেকে ’৭২-এ সার্বক্ষণিক হন। কর্মরত থাকাকালীন অবস্থায় ’৭৪-এর মার্চ মাসে ঈশ্বরগঞ্জ থানার মধুপুর বাজারের নিকট থেকে তিনজন সহকর্মীসহ তিনি রক্ষী বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হন। মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বর্বরতম মধ্যযুগীয় নিপীড়ন চালিয়ে তাকে হত্যা করে রক্ষী বাহিনী। এবং জনগণের মাঝে শ্বেতসন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ ফেলে রাখে সেনবাড়ী রক্ষী ক্যাম্পের নিকটে — রেল লাইনের পাশে।