ফিলিপিনের কমিউনিস্ট পার্টি’র শহীদ মুখপাত্র ‘কা রজার’ লাল সালাম

tumblr_lsu93uUSE01qesnz6o1_1280-1-791x1024

ফিলিপাইন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (NDFP), নিউ পিপলস আর্মি (এনপিএ) এর ৪৭তম বার্ষিকীতে কমরেড ‘কা রজার’ এর প্রতি আবারো সর্বোচ্চ সন্মান জানিয়েছে।

কা রজার ছিলেন এনপিএ’র একজন দৃষ্টান্তমূলক কমান্ডার ও ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র। ফিলিপিনে ৪৭ বছর ব্যাপী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সশস্ত্র সংগ্রামে ও ফিলিপিনের জনগণের প্রতি তিনি অকৃত্রিম সেবা করে গেছেন। তার নেতৃত্বে এনপিএ, প্রতিক্রিয়াশীল শাসকগোষ্ঠীর সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক কৌশলী অভিযান পরিচালনা করেছিল। বহু বছর ধরে মার্কোস স্বৈরতন্ত্রের সময় থেকে কা রজার বিপ্লবী আন্দোলনের প্রাণবন্ত মুখ হিসেবে ফিলিপিন জনগণের ভালোবাসার ও পছন্দের পাত্র ছিলেন। তিনি একজন চমৎকার যোগাযোগ বিনিময়কারী ছিলেন,  জনগণের আন্দোলনের লাইনকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে সম্প্রচার, বিভিন্ন বিষয়, এমনকি সবচেয়ে কঠিন কিছুকে সহজ ব্যাখ্যা এবং খুব বোধগম্য ভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করতেন। শ্রমজীবি জনগণের কাছ থেকে আসা তাদের অবস্থা, জীবন ও সংগ্রামের গভীরতম অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষা তিনি সহজেই বুঝতে পারতেন। গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেও তিনি বেশ প্রিয় ছিলেন। তারাও ভালোবেসে তার সাক্ষাৎকার নিতেন।

তার স্মৃতি এবং অনুপ্রেরণা সমগ্র জনগণের মধ্যে বেঁচে থাকবে। প্রকৃত ভূমি সংস্কার এবং জাতীয় শিল্পায়ন, মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য এবং শুধু মাত্র দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য তাঁর অবিরাম সংগ্রামের জীবন ও সেবা জনগণের হৃদয়ে আঁকা থাকবে।

কমরেড ‘কা রজার‘ এর প্রতি রইল ‘লাল সংবাদ‘ এর লাল সালাম।।

(অনূদিত)


ব্রাজিলঃ ০২-০৯ এপ্রিল, ২০১৬ ‘আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক পদক্ষেপ’ এর আনুষ্ঠানিক পোস্টার

br


‘দুর্ভাগ্য, এক বিচিত্র কারণেই তাঁকে নিয়ে এত কথা’ – বিনায়ক সেন

বিনায়ক সেন

বিনায়ক সেন

কয়েক দশক ধরে ছত্তিশগড়ের প্রান্তিক অঞ্চলে চিকিত্সা কর্মে নিরলস শৈবাল জানা৷ তাঁর গ্রেফতারি এবং দেশ জুড়ে স্বাধীন মতের কণ্ঠরোধ কি নিছকই সমাপতন ?

লিখছেন বিনায়ক সেন

ডঃ শৈবাল জানা

ডাঃ শৈবাল জানা

প্রায় তিরিশ বছর ধরে ডা . শৈবাল জানাকে চিনি আমি৷ তিনি আমার বন্ধু, সহকর্মী এবং সহযোদ্ধা৷ একটি হাস্যকর এবং বিভ্রান্ত বিচার প্রক্রিয়ার ফেরে তিনি দুর্গের জেল হাজতে ছিলেন৷ এবং সেই ঘটনার জেরে তাঁর নাম সংবাদ -শিরোনামেও বটে৷ শনিবার জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি৷ গত তিরিশ বছর ধরে শৈবাল , তাঁর স্ত্রী আলপনা এবং দল্লির শহিদ হাসপাতালের এক দল দায়িত্ববান চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মী চেষ্টা করে যাচ্ছেন , কী ভাবে গরিব মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়৷ পঞ্চাশ হাজার মানুষের বসতি যে দল্লি শহরে , সেখানেই যে তাঁরা শুধু কাজ করেছেন তা-ই নয় , দল্লি -রাজহরা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের দণ্ডকারণ্যের হতদরিদ্র বাঙালি উদ্বাস্ত্তরাও দীর্ঘ কাল ধরেই তাঁদের চিকিত্সা পরিষেবায় উপকৃত৷ বস্ত্তত বহুকালের চেষ্টা ও পরিশ্রমে ছত্তিশগড়ের একটা বড়ো অংশে প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিত্সার সুযোগ পৌঁছে দিতে পেরেছেন শৈবাল , আলপনা এবং এই হাসপাতালের চিকিত্সক আর স্বাস্থ্যকর্মীরা৷ দল্লি -রাজহারা শহিদ হাসপাতালটি আজ ১৫০ শয্যার একটি আইকনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র৷ অথচ , শুরুতে ছিল ছোট্ট একটা ক্লিনিক৷ সেই ক্লিনিকও বসত এক চিলতে জায়গায় , একটি মোটর গ্যারাজের ভিতরে৷ আজ সেটি নিছক বড় একটা হাসপাতালই নয় , পড়ানোরও বন্দোবস্ত রয়েছে সেখানে৷ সেই ছোট্ট একটা ক্লিনিক যে আজ এমন একটা হাসপাতাল হয়ে উঠতে পেরেছে , সেই রূপান্তরের অন্তরালে রয়েছে শৈবাল জানার সুযোগ্য নেতৃত্ব৷ ছত্তিশগড়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ , যাঁদের বেশির ভাগই বসবাস দারিদ্রসীমার নীচে , তাঁদের একটা বড়ো ভরসার জায়গা এই হাসপাতাল৷ এর আগে পর্যন্ত তাঁদের অবলম্বন বলতে ছিল স্রেফ ওই রায়পুর মেডিক্যাল কলেজ৷ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করা মানুষদের জন্য যে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প রয়েছে , সেগুলি যথাযথ ভাবে ব্যবহার করে তাঁদের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই হাসপাতালের চিকিত্সক আর স্বাস্থ্যকর্মীরা৷ এবং শেষ পর্যন্ত সে কাজে যথেষ্ট সাফল্যও পেয়েছেন৷ শৈবালের নেতৃত্ব ছাড়া হয়তো এটা সম্ভব হত না৷ ১৯৯১ সালে ছত্তিশগড় মুক্তি মোর্চার নেতা শঙ্কর গুহনিয়োগীর গুন্তহত্যার পর -পরই নিজেদের ন্যায্য দাবি -দাওয়া নিয়ে ছত্তিশগড়ের আদিবাসী -শ্রমিকরা বড়ো আকারে শান্তিপূর্ণ ধর্না শুরু করেন৷ ১৯৯২ সালের জুলাইয়ে তা ‘রেল রোকো ’ কর্মসূচির রূপ পায়৷ আন্দোলন চলার গোটা পর্যায়টা জুড়েই শৈবাল আন্দোলনকারীদের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন৷ উদ্দেশ্য , কোনও আন্দোলনকারী যদি হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন , যাতে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিকিত্সার ব্যবস্থা করা যায়৷ ১ জুলাই পুলিশ নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ জমায়েতে গুলি চালায়৷ মারা যান ষোলো জন শ্রমিক৷ আহতদের চিকিত্সার বন্দোবস্ত করলেন শৈবাল৷ বেশ কয়েকটি ধারায় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে৷ তার মধ্যে একটি ছিল ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৩৩ নম্বর ধারা — সরকারি কর্মীকে কাজে বাধাদান৷ কিন্ত্ত ১৯৯২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত শৈবালকে এক বারের জন্যও কোনও সমন পাঠানো হয়নি৷ তত্সত্ত্বেও তাঁকে ‘ফেরার ’ ঘোষণা করা হল৷ যদিও দল্লির পুরনো বাজারচক এলাকা থেকে মাত্র ২০০ মিটার হেঁটে গেলেই যে কোনও পুলিশ অফিসার তাঁকে দেখতে পেতেন ! বস্ত্তত , দল্লিতে থেকে শৈবালকে চেনেন না বা তিনি কোথায় থাকেন জানেন না , এমন কোনও ওয়াকিবহাল মানুষ খুঁজে পাওয়াই শক্ত৷ যখন শৈবাল আরও কিছু কর্মীর সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ‘আত্মসমর্পণ ’ করলেন , তখনই ‘আবিষ্কৃত’ হল তিনি ‘ফেরার ’! সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জেলে পোরা হল৷ অন্য কর্মীদের অবশ্য গ্রেফতার করা হয়নি৷ শৈবালের একজন সহকর্মী হিসেবে আমি আর কী -ই বা বলতে পারি ! শৈবাল অত্যন্ত ভালো চিকিত্সক৷ নানা ধরনের রোগের চিকিত্সায় শৈবালের জুড়ি দেখিনি৷ যক্ষ্মা , প্রসূতির সমস্যা , ম্যালেরিয়া , সেপ্টিসেমিয়া , শিশুরোগ , হূদরোগ , হাড়ভাঙা , থায়ারোটক্সিকোসিস , মানসিক সমস্যা থেকে শুরু করে নিতান্ত মাথা ব্যাথা — সব কিছুরই চিকিত্সায় তিনি দড়৷ আর সব চেয়ে বড়ো কথা হল , দল্লি বা তার আশপাশের এলাকার প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছেই শৈবাল জানা যেন একজন অভিভাবক , অভিজ্ঞ ‘বুড়া ’৷ অথচ নিতান্ত নির্বোধ একটি গ্রেফতারির জন্য শৈবালের দিকে আজ সাধারণ মানুষের নজর পড়েছে৷ সেখান থেকেই আন্দাজ করা যায় , এই সময়ে জনগণের ভাবনা -চিন্তা , আলাপ আলোচনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে৷ শৈবালের গ্রেফতারির ঘটনাটি এমন সময়েই ঘটল , যখন ছত্তিশগড়ের আদিবাসীদের অধিকারের পক্ষে যে কেউ কোনও স্বাধীন মত প্রকাশ করলেই — তা তিনি সাংবাদিক , আইনজীবী বা স্বাস্থ্যকর্মী যাই হোন না কেন , নেমে আসছে দমন -পীড়ন৷ আজকের পরিস্থিতি নানা দিক থেকেই ২০০৫ -০৬ সালের সেই সালওয়া জুড়ুমের মতো৷

লেখক– বিশিষ্ট চিকিত্সক -সমাজকর্মী


ফিলিপিনের গোপন নারী সংগঠন ‘Makibaka’ এর ভিডিও সংবাদ-

২৯শে মার্চ ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির নিউ পিপলস আর্মি(NPA) এর আসন্ন ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শহরের কেন্দ্রস্থল ম্যানিলায় গত ১৭ই মার্চ.গোপন বিপ্লবী দল ‘নতুন নারী দেশপ্রেমিক আন্দোলন(সংগ্রাম)’/ Makabayang Kilusan ng Bagong Kababaihan (Makibaka) এর সদস্যরা এক ‘আলোকিত র‍্যালী’র অনুষ্ঠান কর্মসূচি পালন করে।

IMG_9919


আই.এস. এবং নারী মুক্তি

screen-shot-2015-03-09-at-1-43-26-pm

ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত-আলোড়িত শক্তিশালী সংগঠনের নাম ইসলামী স্টেট বা আইএস। এই আইএস এখন এক সময়ের জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল কায়দার চেয়েও শক্তিশালী। আইএস হচ্ছে সুন্নি মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন। আইএস-এর সাথে আল কায়দার পার্থক্য হল আল কায়দার নির্দিষ্ট কোন ভূখণ্ড ছিল না। কিন্তু আইএস ইরাক-সিরিয়া-তুরস্কের তেল সমৃদ্ধ সীমান্ত এলাকা দখল করে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি করছে। আইএস-এর প্রধান হচ্ছে আবু বকর আল বোগদাদী।

আইএস-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রচুর তরুণ-তরুণীরা যোগদান করছে। অনেক দেশের নারীরাও এই সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অনেক নারী নিজের দেশ ত্যাগ করে আইএস-এর ঘাঁটিতে চলে গিয়েছে। কেবলমাত্র পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক সমাজ উদ্ভূত দেশ থেকেই নয়, আধুনিক পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপ-আমেরিকা থেকেও অনেক মুসলিম নারীরা আইএস-এ যোগ দিচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়ার প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় সারা বিশ্ব থেকে ৫০০-এর অধিক নারী এই সংগঠনে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে বাঙালি বংশোদ্ভূত দুইজন বৃটিশ বাঙালি নারীও রয়েছে।

 অথচ আইএস-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ-এ দেখা যায়- এদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মসূচি পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক গোষ্ঠীভিত্তিক। যেজন্য নারী প্রশ্নে আইএস-এর সকল কর্মকর্তাই নারীমুক্তি বিরোধী। এমনকি প্রগতি বিরোধী। বহু বিবাহ,নারীদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে করা, দাসী হিসেবে দেখা,যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা প্রভৃতির মধ্য দিয়ে তা প্রকাশিত।

আইএস তাদের হাতে বন্দি নারীদের উপর মধ্যযুগীয় নির্যাতন করছে। তাদেরই সমর্থক নাইজেরিয়ার বোকো হারাম গেরিলারা শতশত স্কুল ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিবাহ করছে, অনেককে গর্ভবতী করেছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আইএস-এর বিরুদ্ধে হাজার হাজার নারী ও তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে “হিউম্যান রাইটস ওয়াচে”র এক প্রতিবেদনে ২০ জন নারীর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়- যারা আইএস-এর নিয়ন্ত্রণ থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তারা জানান, অপহরণ কিংবা আটককৃতদের মধ্যে যারা অল্প বয়সী নারী তাদেরকে পুরুষ ও বয়স্ক নারীদের থেকে পৃথক করে আইএস। এরপর ঐ কম বয়সী নারীদের পুরস্কার হিসেবে আইএস যোদ্ধাদের দিয়ে দেয়া হয় অথবা দাসী হিসেবে তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়। এসব নারীদের অসংখ্যবার ধর্ষণ করা হয় বলে জানান তারা।

উত্তর ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের সাড়ে তিন হাজার নারীকে বন্দি করে। যাদেরকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করছে আইএস। এইসব বন্দি হতভাগ্যদের মধ্য থেকে খুব কম নারীই পালিয়ে আসতে পেরেছে। এমন এক যৌনদাসী ইয়াজিদি নারী হচ্ছেন ১৮ বছর বয়সী  হান্নান (ছদ্মনাম)। আইএস-এর আস্তানা থেকে পালিয়ে এসে বর্ণনা করেছেন তার ভয়ঙ্কর সব স্মৃতি। বিবিসি’র অনলাইন প্রতিবেদন অবলম্বনে ঐ যৌনদাসীর মানবেতর ও নির্মম কাহিনীর সারকথা এখানে তুলে ধরা হলো-

২০১৪ সালের আগষ্টে সিনডার পর্বতে হামলা করে লণ্ডভণ্ড করে দেয় আইএস বাহিনী। তাদের লক্ষ ছিল ইয়াজিদি সম্প্রদায়। সেই দিন অন্যান্য ইয়াজিদি নারী ও শিশুদের সঙ্গে হান্নানকে ধরে নিয়ে যায় আইএস। সেদিন হান্নান প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল ঠিকই, তবে তার পরবর্তী জীবন কোন নারীরই কাম্য নয়। হান্নান জানায়, আইএস জঙ্গিরা তাদের অবরোধ করে শুধুমাত্র নারীদের আলাদা করে মসুলে নিয়ে যায়। তাদেরকে মারধর করা হয়। দুই/তিন সপ্তাহ পর একটি বড় হলে নিয়ে আসে। সেখানে আরো প্রায় ২০০ নারী ও কিশোরী ছিল। এখানে এসে আইএস যোদ্ধারা তাদের পছন্দমত যৌনদাসী কিনে নিয়ে যেত।

 যৌন দাসীদের সঙ্গে আচরণ কেমন হবে এ সম্পর্কে আইএস-এর নিজস্ব বিধান রয়েছে। সেই বিধানে বলা হয়েছে খৃস্টান, ইহুদি এবং ইয়াজিদি নারীদের যৌনদাসী হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। এদেরকে কেনা-বেচা করা যাবে, উপহার হিসেবে দেয়া যাবে।

প্রশ্ন হচ্ছে এই সব নারীমুক্তি বিরোধী পশ্চাৎপদ প্রতিক্রিয়াশীল কর্মকা- সত্ত্বেও কেন বিভিন্ন দেশের মুসলিম নারীরা এই সংগঠনে যোগদান করছে। তার কয়েকটি কারণ এখানে তুলে ধরা হচ্ছে-

* পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো বিশেষত আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোট আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়াসহ মুসলিম দেশগুলো দখল করে সেখানে নারীদের উপর ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন তথা যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে ‘ক্রুসেড’ অর্থাৎ ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে যুদ্ধবাজ ইউরোপ-আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলিম জনগণকে সর্বদাই জঙ্গি সন্ত্রাসী হিসেবে সন্দেহ করে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন করা হয়। বিশেষত নারীদের উপর অনেক অপমানজনক কালাকানুন জারী করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের ঐতিহ্যবাহী হিজাব পরিধানকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে মুসলিম জনগণ বিশেষত নারী সম্প্রদায় যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদীদের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এই ক্ষুব্ধ জনগণ যখন ভিডিওতে দেখে আইএস যোদ্ধারা একজন অমুসলিম আমেরিকান-ইউরোপিয়ানকে তলোয়ার দিয়ে জবাই করছে তখন নির্যাতিতা মুসলিম নারীরা আইএস-এর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। কেউ কেউ সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত তৃতীয় বিশ্বের মুসলিম দেশের পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থা থেকে মৌলবাদী চিন্তার কারণে অনেকে আইএস-এ যোগদান করে। এইসব দেশের শাসকগোষ্ঠী সাম্রাজ্যবাদের দালালরা ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা লালন-পালন করে থাকে। যা আবার পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা টিকে থাকতে সহায়তা করে।

* আইএস মুসলিম নারীদেরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে তারা ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ করছে। এই জিহাদে অংশ নিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে।

আমাদের দেশেও ইতিমধ্যে আইএস-এর অস্তিত্ব ঘোষিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নামে ইসলামি জঙ্গিবাদের তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নারীদের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যায়। এখানকার শাসক সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল আমলা মুৎসুদ্দি-বুর্জোয়া শ্রেণি ক্ষমতায় টিকে থাকতে ও ক্ষমতা দখল করার স্বার্থে ধর্মীয় মৌলবাদকে কখনো দমন করছে। আবার কখনো লালন-পালন করছে।

যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত। তবে অনেক সময় জনগণের বিদ্রোহ সঠিক বিপ্লবী লাইনের অভাবে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়- কখনো ব্যর্থ হয়। যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে নারীদের বিশেষত মুসলিম নারীদের ক্ষোভ-বিদ্রোহ ন্যায্য হলেও তারা নারী প্রগতি বিরোধী পশ্চাৎপদ মৌলবাদী সামন্ততান্ত্রিক আইএস-কে বন্ধু মনে করছে। শত্রুকে মিত্র ভেবেছে। আমাদের দেশের নারী সমাজ সহ সকল নারীদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

প্রকৃত নারীমুক্তি অর্জন করতে হলে সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদেরই লালিত সামন্ততান্ত্রিক মৌলবাদী আইএস এই দুই ফ্রন্টে সংগ্রাম করতে হবে। নারীমুক্তির পথ হচ্ছে সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ। নারীমুক্তির শত্রু হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ-সামন্তবাদ ও মৌলবাদ। এদেরকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। প্রকৃত নারী মুক্তির জন্য পুনারায় সমাজতন্ত্রের পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। নারী-পুরুষের সমঅধিকার-সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


পশ্চিমবঙ্গঃ জলের দাবিতে ভোট বয়কট

Water-demand

‘টাকা-পয়সা কিছুই নয়, চাই শুধুই জল।’’ দক্ষিণ দিনাজপুরের খরা ক্লিষ্ট তপন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে জলের দাবিতেই সরব এলাকারই বাসিন্দারা। তপন বিধানসভা কেন্দ্রের মালঞ্চ পঞ্চায়েতের পাতকোলা সংসদের মানুষের জলের উৎস বলতে এলাকার একটি পুকুর। সংসদের অধীন উত্তর পাতকোলা দক্ষিণ পাতকোলা সহ মোট পনেরোটি গ্রাম। একমাত্র বর্ষার সময় বাদে অন্যান্য সব মরসুমেই এখানে তীব্র জল-সংকটে পুকুরের জল খেয়েই বেঁচে থাকতে হয় এখানকার প্রায় শ’খানেক পরিবার। শ্যাওলা ও নোংরায় ভর্তি৷ ওই পুকুরের জলেই দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় কাজ করেন তাঁরা। অনেক সময়ই পুকুরের জলও খেতে হয় তাঁদের। বছর ছয়েক আগে ‘স্ব-জলধারা’ প্রকল্পের একটি ট্যাংক সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তার জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে, পানীয় জলের জন্য এক কিলোমিটার দূরে মাঠের সাব-মার্শাল অথবা পুকুরের জলেই তাঁদের তৃষ্ণা মেটাতে হচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বিডিও সকলের কাছেই লিখিত আবেদন করেও প্রশাসনের কর্তারা কেউ কোনও তৎপরতা দেখায়নি বলে অভিযোগ। ফলে, বাধ্য হয়েই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দান থেকে বিরত থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন বাসিন্দারা।


ছত্তিসগড়ঃ দান্তেওয়াড়াতে মাওবাদীদের IED বিস্ফোরণ, খতম ৭ জওয়ান

443528-ani-chhattisgarh-blast-maoists

আজ ৩০শে মার্চ মাওবাদী গেরিলাদের হামলা হয়েছে ছত্তিসগড়ের দান্তেওয়াড়াতে৷ IED বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ৭ CRPF জওয়ানের৷ সাথে আহত হয়েছে আরও কয়েকজন। ঘটনাস্থল মালেওয়াড়া, কুয়াকোদা থানাধীন মাওবাদী প্রভাবিত এই এলাকায় ২৬০ ব্যাটেলিয়নের ২০ জনের CRPF কনভয়ে IED মাইন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ ৭ জওয়ানের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছে দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপার কে কাশ্যপ৷ রাজ্যের বীজাপুর জেলাতেও মাওবাদীরা CRPF কনভয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়৷ এতে জখম হয়েছেন ২ নিরাপত্তা কর্মী৷ মাওবাদীরা নিহত ও আহতদের অস্ত্র জব্দ করে ঘটনাস্থল থেকে সরে গেছে।

dantewada-chhattisgarh-maoist-attack-vehicle_650x400_51459339105

Dantewada EPS

অনুবাদ সূত্রঃ dnaindia.com