বাংলাদেশঃ ঝিনাইদহে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গ্রেফতার

1456826774

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে অস্ত্র, গুলিসহ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডারকে আটকের কথা জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‍্যাব জানিয়েছে,  মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার ব্যাসপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির (হক গ্রুপ) কমান্ডার বাদশা লস্করকে (৪৭) আটক করা হয়। পরে অস্ত্র আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঝিনাইদহ র‍্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সুরুজ জানান, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার ব্যাসপুর গ্রামে বাদশার বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁর বাড়ি থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি সাব-মেশিনগান, একটি দোনলা শটগান ও ১০৮টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার আরো জানান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা বেড়ে রবি নিহত হওয়ার পর পার্টির দায়িত্ব নেন বাদশা লস্কর। এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানায় মামলা হয়েছে।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.thedailystar.net/country/outlaw-held-arms-ammo-784687

Advertisements

ভারতঃ অবুজমাদে পুলিশের ১০জন চরকে খতম করল মাওবাদীরা

Cops on Maoist

পুলিশের চর সন্দেহে ১০ জনকে গুলি করে খতম করল মাওবাদীরা৷ ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত নারায়ণপুর জেলার অবুজমাদ এলাকার ঘটনা৷ গত কয়েক দিন ধরেই বেশ কিছু লোক পুলিশের কাছে খবর পাচার করছিল বলে খবর পায় মাওবাদীরা৷

সিনিয়র পুলিশ অফিসার জানান, গত সপ্তাহে নারায়ণপুর এবং ওর্চা থানার অন্তর্গত  কিছু লোকের খোঁজে বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালায় মাওবাদীরা৷ এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে৷ গ্রামগুলিতে নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে৷ জঙ্গল এলাকায় টহল দেওয়ার সময় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ যাতে কোনও ভাবেই তারা মাওবাদীদের পাতা ফাঁদে পা না দেয়৷

পুলিশের সোর্স জানাচ্ছে, এই অঞ্চলে মাওবাদীদের সাথে পুলিশের বেশ কিছু বড় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর কিছু সিনিয়র মাওবাদী নেতা সম্প্রতি অবুজমাদে মিলিত হয়েছে বলে তাদের কাছে খবর আছে।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.ndtv.com/india-news/maoists-kill-10-villagers-in-chhattisgarh-for-being-informers-police-1282995


ভারতঃ আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে আবারো অনশনে শর্মিলা চানু

28359-iromsharmilachanu

আবারো অনশনে ‘লৌহ মানবী’৷ ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ অভিযোগ থেকে সোমবারই তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছিল মনিপুরের ইম্ফলের একটি আদালত৷ মুক্তি পাওয়ার পরই মঙ্গলবার থেকে আবারো মণিপুর থেকে আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন শুরু করেন ইরম শর্মিলা চানু৷

তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য এতদিন তাঁকে রাখা হয়েছিল জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স হাসপাতালে৷ সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে সমর্থকদের নিয়ে তিনি শহিদ মিনারে যান৷ এরপর আবার তিনি অনশনের কথা ঘোষণা করেন৷ অহিংসভাবে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও সংবাদ মাধ্যমকে জানান চানু৷

প্রসঙ্গত, মণিপুর থেকে আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে ২০০২ সাল থেকে অনশন আন্দোলন চালাচ্ছেন ইরম শর্মিলা চানু৷


লেখক-প্রকাশক-বিদেশি হত্যা ও মৌলবাদের বিকাশ সাম্রাজ্যবাদ দালাল শাসকশ্রেণির রাজনীতিরই প্রতিফলন

33891_137051796345665_1819942_n

ব্লগার, বিজ্ঞান লেখক ও প্রগতিশীল প্রকাশক হত্যার ধারাবাহিকতায় দুই বিদেশি হত্যার ঘটনা, বিভিন্ন জনকে হত্যার হুমকি ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা দেশে মৌলবাদী তৎপরতা হিসেবেই প্রকাশিত। সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের দালাল আওয়ামী সরকার তাদের ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ গড়ে তুলছে ও ধর্মীয় মৌলবাদকে লালন করছে।

সাহিত্যিক  হুমায়ুন আজাদ থেকে শুরু করে ব্লগার রাজীব হায়দার, বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয় দাস, প্রগতিশীল প্রকাশক দীপন সহ একের পর এক হত্যাকা- ঘটেই চলছে। হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে। তদন্ত, যাকে তাকে গ্রেফতার লোক দেখানো সক্রিয়তা মাত্র। প্রকাশক দীপন হত্যার পর তার বাবা বলেছিলেন- ‘আমি এই হত্যাকা-ের বিচার চাই না। কেননা বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, সম্পর্ণ সাংস্কৃতিক।…..একজনের ফাঁসি দিয়ে কী হবে? না দিলেই বা কী হবে?’ হ্যাঁ, তিনি সত্য কথাই বলেছেন। কারণ হত্যাকারীদের প্রতিপালক এ প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাওয়া অর্থহীন। কারণ তারা নিজেরা এবং তাদের কেডাররা অসংখ্য বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নায়ক। একেকটা হত্যাকাণ্ডের পর ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রীদের মন্তব্য মৌলবাদীদেরকেই শক্তি যোগায়। বিপরীতে মুক্তচিন্তা চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রাষ্ট্র নিজেই গলা টিপে হত্যা করছে। আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করলেই তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এমনকি আওয়ামী নেতা লতিফ সিদ্দিকীকে ধর্মীয় বিষয়ে তার নিজস্ব মতামত প্রকাশের জন্যই বহিস্কার হতে হয় দল থেকে। ধর্মীয় মৌলবাদের চাপের মুখে আওয়ামী লীগ তাকে বহিস্কার করে। অথচ তার বিরুদ্ধে যখন সন্ত্রাস, দুর্নীতি প্রভৃতির অভিযোগ উঠেছে তখন তাকে বহিস্কার বা শাস্তি পেতে হয়নি। গত বছর সরকার রোদেলা প্রকাশনী বন্ধ করে এবং তাদের বই লুটপাটে বাধা না দিয়ে ধর্মীয় মৌলবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আওয়ামী সরকার প্রচার বন্যায় যেভাবে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিএনপি-জামাতকে কোণঠাসা করছে তাতেও মৌলবাদী শক্তি পার পেয়ে যাচ্ছে। এ সবই ধর্মীয় মৌলবাদকে শক্তিশালী করে।

আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা ধর্মীয় মৌলবাদ বিকাশের উর্বর ভূমি। শাসকশ্রেণির সকল রাজনৈতিক দলই ক্ষমতার স্বার্থে মৌলবাদকে লালন করে এবং এ কারণে রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করে না বা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে বাতিল করে না। বরং সমস্ত জনগণের মধ্যে কুসংস্কার, ভাববাদ ও অবৈজ্ঞানিক চেতনা সঞ্চার করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্ম পালন করে এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। কাজেই দেখা যাচ্ছে মৌলবাদীরা এখনও পর্যন্ত গণশত্রু শাসকশ্রেণির উপর আক্রমণ না করে প্রগতিশীল গণশক্তির উপর আক্রমণ করছে, হত্যাকা- ঘটাচ্ছে। আর এ প্রশ্নে শাসকশ্রেণির দলগুলো ভোট ব্যাংকের স্বার্থে একে অন্যকে দোষারোপ করছে ও জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে।

সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্র করছে। মৌলবাদী তৎপরতা ও বিদেশি হত্যার ঘটনাকে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুরা তাদের স্বার্থে কাজে লাগাতে চক্রান্ত করছে। এমনকি এসব ঘটনা সাম্রাজ্যবাদের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাদের মদদে ঘটাও অসম্ভব নয়।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে এবং দেশে দেশে নিজস্ব রাজনৈতিক কর্তৃত্ব মজবুত ও প্রসারে তাদের “সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ” কর্মসূচি বিশ্ব জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এবং তাদেরই চক্রান্তের ফসল মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম মৌলবাদী শক্তি আইএস’র উত্থান। যা ৮০’র দশকে তারা সৃষ্টি করেছিল। সিরিয়ায় আন্তঃসাম্রাজ্যবাদীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব দক্ষিণ এশিয়াতেও বিকশিত হতে পারে। মার্কিন-চীনের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্রে রেখে। তেমন হলে বাংলাদেশ সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সুতরাং দেশীয় মৌলবাদী তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আলাদা করে দেখার উপায় নেই। কাজেই সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন না ঘটলে মৌলবাদ উচ্ছেদ সম্ভব নয়। এ ব্যবস্থা বজায় রেখে ২/৪ জনের ফাঁসি দিলে বা জেল-জরিমানা করলেও তা বন্ধ হবে না।

এই অবস্থায় বিজ্ঞান, প্রগতিশীল শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন। সাম্রাজ্যবাদী বিরোধী গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী রাজনৈতিক শক্তির উপর হামলা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই, শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত সহ সর্বস্তরের জনগণকে সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণির এ প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা উচ্ছেদের বিপ্লবী কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, ফেব্রুয়ারি ‘১৬ সংখ্যা