ভারতঃ ছত্তিসগড়ে মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় খতম ৩ সিআরপিএফ জওয়ান, জখম ১৫

Hardcore-Maoist23257

মাওবাদী-অভিযানে গিয়ে উল্টো মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় খতম হল ৩ সিআরপিএফ জওয়ান। গুরুতর জখম হয়েছে আরও ১৫ জন। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায়। পুলিশ জানায়, মৃত ৩ জনের মধ্যে ২ জন সিআরপিএফের কম্যান্ডো ছিলেন। এঁদের নাম, লিনজু এন এবং ফতেহ সিং। এছাড়া এঁদের সঙ্গে সিআরপিএফের আরেক জওয়ান লক্ষ্মণ সিংয়েরও মৃত্যু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছত্তিশগড়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত সুকমা জেলায় অভিযান চালায় সিআরপিএফ ও রাজ্য পুলিশের যৌথ বাহিনী। মাওবাদীরাও পুলিশের উপর পাল্টা আক্রমণ চালায়। তারপর দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। সেই লড়াইয়ে গতকাল রাতেই সিআরপিএফের দুই কম্যান্ডোর মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন লক্ষ্মণ সিং। এরপর শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া এদিন ভোরে মাওবাদী-সেনা গুলির লড়াইয়ে কোবরা কম্যান্ডার পি এস যাদব, রাজ্য পুলিশের ডিআরজি সহ ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। তারপর ১৭টি হেলিকপ্টার দিয়ে মাওবাদীদের উপর আক্রমণ চালায় সেনাবাহিনী।

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/other-states/three-crpf-men-killed-15-hurt-in-antinaxal-attack-in-chhattisgarh/article8314213.ece

Advertisements

তুরস্কে পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে কমিউনিস্টদের হামলা, শহীদ ২ নারী কমরেড

failedturkeyattack-crop

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে ২ নারী কমিউনিস্ট হামলা চালানোর পর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।

শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে পুলিশ ভবনে বন্দুক এবং গ্রেনেড নিয়ে হামলার পর দুই নারী কমিউনিস্ট পাশের একটি ভবনে লুকিয়ে ছিল। এ সময় পুলিশ অভিযান চালালে ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষ বেধে যায়। পরে ভবন থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

এদিকে তুরস্কের মার্কসবাদী লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি- রেভ্যুলেশনারী পিপলস লিবারেশন পার্টি “ডিএইচকেপি-সি” এক বিবৃতিতে জানায়, দুই নারী কমরেড ‘বেরনা ইলমিয ও ফেরহাত তুযের’ তাদের নির্দেশে এই হামলা চালিয়েছে। এর পূর্বে ২০১০ সালে এরদোগানের বক্তৃতা করার সময় বিনামূল্যে শিক্ষার দাবি সম্বলিত একটি ব্যানারে নিয়ে আন্দোলনের জন্য এই দুই নারী কমরেড ১৯ মাস কারাগারে বন্দী ছিলেন।

অনুবাদ সূত্রঃ ANF News এবং Bianet

তুরস্কের কমিউনিস্ট MLKP এর তরুণ কর্মীরা YPS এ যোগ দিয়েছেন

তুরস্কের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MLKP) এর গেরিলা কমরেডগণ

তুরস্কের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MLKP) এর গেরিলা কমরেডগণ

12799390_572323622929131_3041265947772817269_n

তুরস্কের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MLKP) এর অধিভুক্ত যুবকদের একটি দল নুশায়বীণ জেলার মারদিনে ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা ইউনিট-YPS’ এ সামরিক বিভাগে যোগদান করেছেন। রাষ্ট্রের আক্রমণের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে সহ্য করে যেখানে জনপ্রিয় প্রতিরোধ গড়ে ঊঠেছে। MLKP তরুণদের পক্ষে ‘শিহান শারূহান’ বলেন, উপনিবেশবাদ বিরোধী সংগ্রামে সমর্থন ও অংশগ্রহণের জন্যে কুর্দি জনগণের স্বশাসনের প্রতি তারা সালাম জানাচ্ছেন। সিজরের গণহত্যার জন্যে দায়ী তুর্কী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুর্দি শহরগুলোতে পর্বত সমান জনপ্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে MLKP । শিহান শারূহান এর সাথে আরো যুক্ত করে বলেন, “আমরা জানি যে স্বশাসন- তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের জন্যে মুক্তি নিয়ে আসবে এবং আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে, ব্যারিকেডের পেছনে প্রতিরোধ- কুর্দিস্তানে ফ্যাসিবাদের যাত্রাকে ভেঙ্গে দিবে।”

‘আমরা আত্মসমর্পণ করিনি কিন্তু প্রতিরোধ করেছি’- এটা আমাদের শিক্ষা, সুতরাং আমরা এই শিক্ষা অনুসরণ করে ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করার জন্য এখানে এসেছি, আমরা আত্মসমর্পণ করবো না কিন্তু যুদ্ধের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ উপর বিজয় লাভ করবো।’ – সিজরের হামলার শিকার মেহমেদ তূণক এর শেষ উক্তি ঊল্লেখ করে শিহান শারূহান বলেন- ফ্যাসিবাদ পরাস্ত করার জন্যে, ফ্যাসিবাদের ব্যারিকেডের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে বলছি, সংগ্রামই একমাত্র মুক্তির পথ।

অনুবাদ সূত্রঃ  ANF News


‘‘ভারতের মধ্যে থেকেই স্বাধীনতা চাই’’, বললেন কানহাইয়া

kanhaiya-speech-web

যখন তিনি জেলে গিয়েছিলেন তখন তাঁকে চিনতেন শুধু জেএনইউ-এর পড়ুয়া-শিক্ষকরা৷ বৃহস্পতিবার জেল থেকে বেরোনোর পর তাঁর দিকেই চোখ রাখল গোটা দেশ৷ তিনি কানাহাইয়া কুমার৷ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ২২ দিন জেলে থাকার পর তিনি যখন জামিনে ছাড়া পেলেন, তখনও তাঁর চোখে মুখে আগের মতোই উজ্বল৷

জেল থেকে বেরোনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেএনইউ –তে গিয়ে ছাত্র সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ভাষণ দিলেন তিনি৷ চিৎকার করে বলেলন, ‘‘অনাহার থেকে আজাদি, দুর্নীতি থেকে আজাদি, বৈষম্য থেকে আজাদি, অনুন্নয়ন থেকে আজাদি৷’’হাততালিতে ফেটে পড়ল সমাবেশ৷ বললেন,  ‘‘ভারত থেকে নয়, ভারতের মধ্যে থেকেই স্বাধীনতা চাই’’৷ যুব সমাজের বিপুল সমর্থন তাঁদের চিৎকারেই প্রকাশ পেল৷

সমাবেশে মোদি সরকারকে সমালোচনা করতে ছাড়লেন না ছাত্রনেতা কানাহাইয়া কুমার৷ যাঁকে দেশ বিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত তৎপরতায় গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ৷ বললেন, প্রধানমন্ত্রী ‘মন কি বাত বলেন৷ মনের কথা শোনেন না৷’’ ‘‘আমি গ্রাম থেকে এসেছি৷ সেখানে ম্যাজিক আংটি বিক্রি হয়৷ বিক্রি করতে গিয়ে বলা হয় এর কাছে যা চাইবেন পাবেন৷ আমাদের দেশেও কিছু এরকম মানুষ আছেন৷ যাঁরা চমক তৈরির চেষ্টা করেন৷ বলেন, কালো টাকা আমরা ফিরিয়ে আনব, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ৷ কিন্তু একদিন এই মিথ্যে চমক শেষ হবে৷ ভারতীয়রা একদিন বুঝবেই’’৷ তবে মোদিজি টুইটে বলেন ‘সত্যমেব জয়তে’৷ ঠিক বলেন৷ সত্যের জয় হবেই৷

এদিকে জেএনইউ কাণ্ড নিয়ে দিল্লি সরকার যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে কানাহাইয়ার বিরুদ্ধে কোনও তথ্য-প্রমাণ মেলেনি৷ তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট  সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, ভিডিও ও সাক্ষী থেকে কানাহাইয়ার বিরুদ্ধে দেশ বিরোধী স্লোগান দেওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি৷


বীরত্বের দিনে আত্মবলিদানকারী পেরুর মাওবাদী নারী গেরিলারা

pol9

১৯৮৬ এর ১৯ জুন ছিল এক বীরত্বের ও সাহসিকতার দিন। এই দিনে পেরুর বিপ্লবী জেল বন্দীদের এক সাহসী উত্থান, সরকার চালিত বর্বরোচিত ধ্বংসযজ্ঞের সম্মুখীন হয়। লিমার নিকটবর্তী তিনটি জেল খানায় যুদ্ধ বন্দিরা সরকারী এক গণহত্যার ষড়যন্ত্রকে বাধা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ অভ্যুত্থান ঘটায়। ওরা প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রহরী ও জেলখানাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং দাবী জানায় সরকার যেন বন্দিদের জীবনের নিরাপত্তা চুক্তিটি ভঙ্গ না করে। গণযুদ্ধকে আরও গতিশীল করার জন্য ওরা দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করে।

ফ্রন্টন দ্বীপের এক জেলখানায় মেয়েরা বন্দিরা প্রধানতঃ দেশী অস্ত্রশস্ত্র-ক্ষেপণাস্ত্র, তীর ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সরকারী নৌ ও হেলিকপ্টারের ভয়ানক গোলাগুলির আক্রমণকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখে। কেল্লাওর মেয়েদের জেলখানায় ৭৫ জন বন্দীর মধ্যে ২জনকে হত্যা ও ৬ জনকে প্রচণ্ড প্রহার করা হয়। পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও সমর্থক হওয়ার অপরাধে লুরিগাঙ্কো জেলখানায় ১৩৫জন বন্দির সকলকে হত্যা করা হয়। এদের মধ্যে প্রায় ১০০জনকে সরকারী ফ্যাসিস্ট বাহিনী বন্দি করে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে। ফ্রন্টনে কমপক্ষে ১১৫জন বিপ্লবীকে হত্যা করা হয়।

এক বছর পরে ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান চেয়ারম্যান গনজালো নিম্নলিখিত বক্তব্য দিয়ে এ বীরত্বের দিনটিকে অবিস্মরণীয় করে রেখেছেন, “ওরা কখনো মাথা নত করেনি। ওরা অসীম বীরত্বের সাথে সর্বশক্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যায়। আর তাদের জীবন-পণ যুদ্ধ পেরুর পুরনো ঘুণে ধরা সমাজকে যুদ্ধের উজ্জ্বল কেন্দ্রে পরিণত করে। সমাধির অন্তরাল থেকে ওরা বিজয় অর্জন করে চলেছে। কারণ ওরা প্রাণ চঞ্চল  আমাদেরই মত নব নব বিজয়ে মণ্ডিত। ওদের সতেজ ও স্থায়ী অস্তিত্বে বিষয়টি কল্পনা করুন; ওরা জ্বলছে। বর্তমান-ভবিষ্যৎ ও চিরকালের জন্যে এই শহীদ বিপ্লবীরা আমাদের কাছে শিক্ষার আলোক বর্তিকা হয়ে থাকবে। আমরা যেন ওদের মতই পার্টি-বিপ্লব-জনগণের জন্যই জীবন উৎসর্গ করতে পারি।”

পেরুর চলমান সংগ্রামে বন্দি বিপ্লবী নারীরা এক বীরত্বগাঁথা ভুমিকা পালন করে চলেছে। বিপ্লবের সাথে একাত্ব এই নারীদের উপর শাসকগোষ্ঠী চালাচ্ছে কঠোর নির্যাতন। একদিনেই ওরা ৬০০জন নারীকে ঘেরাও করে জেলে নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু সরকার নারী যোদ্ধাদের বিপ্লবী চেতনার অবসান ঘটাতে পারেনি। জেল বন্দি নারীরা কোন মতেই আত্মসমর্পণ করেনি। বরং ওরা বিপ্লবী চেতনা ও সঙ্কল্পে আরও বলীয়ান হয়েছে। জেল অভ্যন্তরে ফ্যাসিস্টদের হিংস্র নির্যাতনকে উপেক্ষা করে ভবিষ্যৎ সংগ্রামের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কারাগার পরিণত হয়েছে বিপ্লবীদের বিশ্রামাগার ও শিক্ষাকেন্দ্র।

সাথী পুরুষ যোদ্ধাদের মত হাজার হাজার জেল বন্দি নারীরা জেলখানাগুলোকে বস্তুবাদী শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেছে। শাসকদের নির্যাতনে ওরা পরাজিত-অধঃপতিত কিংবা ভেঙ্গে পড়েনি। বরং আরো হয়ে উঠেছে বিপ্লব নিবেদিতা, চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশুনা, আঁকড়ে ধরছে সঠিক বিপ্লবী পথ। এভাবে বন্দি নারী বিপ্লবীরা পেরু ও সারা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে সহায়তা করছে। ভয়ংকর মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক সাম্যবাদী বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে ওরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিপ্লবী পত্রিকা – রেভ্যুলেশনারী ওয়ার্কার, লন্ডন থেকে প্রকাশিত “বিশ্ব বিজয়”-(AWTW) এবং ব্রিটেনের টিভি Channel 4 কর্তৃক প্রচারিত পেরুর যুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা অবলম্বনে লিখিত।]