বীরত্বের দিনে আত্মবলিদানকারী পেরুর মাওবাদী নারী গেরিলারা

pol9

১৯৮৬ এর ১৯ জুন ছিল এক বীরত্বের ও সাহসিকতার দিন। এই দিনে পেরুর বিপ্লবী জেল বন্দীদের এক সাহসী উত্থান, সরকার চালিত বর্বরোচিত ধ্বংসযজ্ঞের সম্মুখীন হয়। লিমার নিকটবর্তী তিনটি জেল খানায় যুদ্ধ বন্দিরা সরকারী এক গণহত্যার ষড়যন্ত্রকে বাধা দেয়ার উদ্দেশ্যে এ অভ্যুত্থান ঘটায়। ওরা প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রহরী ও জেলখানাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং দাবী জানায় সরকার যেন বন্দিদের জীবনের নিরাপত্তা চুক্তিটি ভঙ্গ না করে। গণযুদ্ধকে আরও গতিশীল করার জন্য ওরা দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করে।

ফ্রন্টন দ্বীপের এক জেলখানায় মেয়েরা বন্দিরা প্রধানতঃ দেশী অস্ত্রশস্ত্র-ক্ষেপণাস্ত্র, তীর ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সরকারী নৌ ও হেলিকপ্টারের ভয়ানক গোলাগুলির আক্রমণকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখে। কেল্লাওর মেয়েদের জেলখানায় ৭৫ জন বন্দীর মধ্যে ২জনকে হত্যা ও ৬ জনকে প্রচণ্ড প্রহার করা হয়। পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও সমর্থক হওয়ার অপরাধে লুরিগাঙ্কো জেলখানায় ১৩৫জন বন্দির সকলকে হত্যা করা হয়। এদের মধ্যে প্রায় ১০০জনকে সরকারী ফ্যাসিস্ট বাহিনী বন্দি করে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে। ফ্রন্টনে কমপক্ষে ১১৫জন বিপ্লবীকে হত্যা করা হয়।

এক বছর পরে ১৯৮৭ সালের জুলাই মাসে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান চেয়ারম্যান গনজালো নিম্নলিখিত বক্তব্য দিয়ে এ বীরত্বের দিনটিকে অবিস্মরণীয় করে রেখেছেন, “ওরা কখনো মাথা নত করেনি। ওরা অসীম বীরত্বের সাথে সর্বশক্তি দিয়ে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যায়। আর তাদের জীবন-পণ যুদ্ধ পেরুর পুরনো ঘুণে ধরা সমাজকে যুদ্ধের উজ্জ্বল কেন্দ্রে পরিণত করে। সমাধির অন্তরাল থেকে ওরা বিজয় অর্জন করে চলেছে। কারণ ওরা প্রাণ চঞ্চল  আমাদেরই মত নব নব বিজয়ে মণ্ডিত। ওদের সতেজ ও স্থায়ী অস্তিত্বে বিষয়টি কল্পনা করুন; ওরা জ্বলছে। বর্তমান-ভবিষ্যৎ ও চিরকালের জন্যে এই শহীদ বিপ্লবীরা আমাদের কাছে শিক্ষার আলোক বর্তিকা হয়ে থাকবে। আমরা যেন ওদের মতই পার্টি-বিপ্লব-জনগণের জন্যই জীবন উৎসর্গ করতে পারি।”

পেরুর চলমান সংগ্রামে বন্দি বিপ্লবী নারীরা এক বীরত্বগাঁথা ভুমিকা পালন করে চলেছে। বিপ্লবের সাথে একাত্ব এই নারীদের উপর শাসকগোষ্ঠী চালাচ্ছে কঠোর নির্যাতন। একদিনেই ওরা ৬০০জন নারীকে ঘেরাও করে জেলে নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু সরকার নারী যোদ্ধাদের বিপ্লবী চেতনার অবসান ঘটাতে পারেনি। জেল বন্দি নারীরা কোন মতেই আত্মসমর্পণ করেনি। বরং ওরা বিপ্লবী চেতনা ও সঙ্কল্পে আরও বলীয়ান হয়েছে। জেল অভ্যন্তরে ফ্যাসিস্টদের হিংস্র নির্যাতনকে উপেক্ষা করে ভবিষ্যৎ সংগ্রামের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কারাগার পরিণত হয়েছে বিপ্লবীদের বিশ্রামাগার ও শিক্ষাকেন্দ্র।

সাথী পুরুষ যোদ্ধাদের মত হাজার হাজার জেল বন্দি নারীরা জেলখানাগুলোকে বস্তুবাদী শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেছে। শাসকদের নির্যাতনে ওরা পরাজিত-অধঃপতিত কিংবা ভেঙ্গে পড়েনি। বরং আরো হয়ে উঠেছে বিপ্লব নিবেদিতা, চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশুনা, আঁকড়ে ধরছে সঠিক বিপ্লবী পথ। এভাবে বন্দি নারী বিপ্লবীরা পেরু ও সারা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে সহায়তা করছে। ভয়ংকর মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক সাম্যবাদী বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে ওরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিপ্লবী পত্রিকা – রেভ্যুলেশনারী ওয়ার্কার, লন্ডন থেকে প্রকাশিত “বিশ্ব বিজয়”-(AWTW) এবং ব্রিটেনের টিভি Channel 4 কর্তৃক প্রচারিত পেরুর যুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা অবলম্বনে লিখিত।]

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s