রাজনন্দগাঁও খনিতে মাওবাদীদের আক্রমণঃ অল্পের জন্যে বেঁচে গেছে ছত্তিসগড়ের শীর্ষ শিল্পপতি

Untitled-1-4

গত সোমবার সন্ধ্যায় ছত্তিশগড়ের শীর্ষ শিল্পপতি এবং সারদা জ্বালানি ও খনিজ শিল্পের মালিক কামাল সারদা  মাওবাদীদের হাত থেকে অল্পের জন্যে প্রাণে বেঁচে গেছে, যখন মাওবাদীরা রাজনন্দগাঁও জেলায় তার মালিকানাধীন খনিতে আক্রমণ করে ও একজন ব্যবস্থাপককে গুলি করে এবং এর আগে মাওবাদীরা খনির পরিবহনে নিয়োজিত ৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। হামলার একটি ঘন্টা আগে খনি মালিক কামাল সারদা স্থানটি ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যায়।

ম্যানেজার খতমের পর মাওবাদীরা সিপিআই-এমএল, পাল্লেমাদি এলাকা কমিটির নামে লাল লিফলেট ছুঁড়ে দিয়ে যায়। লিফলেটে মাওবাদীরা খনি বন্ধের দাবী জানিয়ে বলেন খনি কোম্পানিরা কাজ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের ‘জল-জঙ্গল-জমি’ শোষণ করছে।

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া(TOI)কে কামাল সারদা বলেছেন, তার খনিতে এ পর্যন্ত মাওবাদীরা চারবার আক্রমণ করেছে এবং সরঞ্জাম ও গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে, কিন্তু কাউকে মেরে ফেলা হয়নি।

অনুবাদ সূত্রঃ

http://timesofindia.indiatimes.com/city/raipur/Maoists-attack-Rajnandgaon-mine-Narrow-escape-for-Chhattisgarhs-top-industrialist/articleshow/51315174.cms

Advertisements

সিপিআই(মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটি’র প্রেস বিজ্ঞপ্তি-

Maoist-Flag

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটিঃ

ভারতের জনগণের প্রতি আহবান!

সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্তবাদের শৃংখল ভেঙে ফেলুন, এই পঁচা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করুন!

নিজের ও দেশের ভবিষ্যত নিজ হাতে গড়ুন!

প্রিয় জনগণ,

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) তার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আপনাদের জানাচ্ছে উষ্ণতম শুভেচ্ছা।
দশ বছর আগে আমরা আপনাদের সামনে একটা আনন্দদায়ক ঘটনার ঘোষণা নিয়ে এসেছিলামঃ দুইটি বিপ্লবী ধারার একীভূতকরণ। ২১শে সেপেম্বর ২০০৪ একটি একক মাওবাদী পার্টি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) গঠিত হয়েছিল বিপ্লবের কর্তব্যসমূহ সম্পাদনের লক্ষ্য থেকে। আজ আমরা আপনাদের সামনে এ সকল স্মরণীয় বছরগুলির হিসেব নিকেশ নিয়ে হাজির হয়েছি। এটা ছিল বীরত্বব্যাঞ্জক সংগ্রামের আর এই ভুমির শ্রেষ্ঠ পুত্র কন্যাদের আত্মত্যাগের একটা দশক। তার মধ্যে প্রায় দুই হাজার পাঁচশত জন তাদের মূল্যবান জীবন দান করেছেন দণ্ডকারণ্য (ছত্তিশগড়), বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, ঊড়িষ্যা, পশ্চিম বঙ্গ, কর্ণাটক, তামিল নাড়ু, উত্তর প্রদেশ, উত্তরখণ্ড ও অসমে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন শত শত পার্টির মহান নেতা, পার্টির সর্বোচ্চ স্তর থেকে ঘাঁশমুল স্তর পর্যন্ত। উৎপীড়কদের দস্যু বাহিনীর সাথে যুদ্ধে গণমুক্তি গেরিলা বাহিনী (পিএলজিএ)র অজস্র নির্ভীক যোদ্ধা রক্ত ঝরিয়েছেন। জনগণের মধ্যেও অনেকে সর্বোচ্চ তাগ স্বীকার করেছেন।
এই রক্ত দান বৃথা ছিলনা। এটা গড়ে উঠেছে অতীত অর্জন ও মূল্যবান অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। এটা রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক দশকের দৃঢ় সংগ্রাম প্রজ্বলিত করেছিল। এটা ছিল একটা দশক যে দেখেছে লক্ষ লক্ষ লোকের অভূতপূর্ব জঙ্গী সমাবেশ, সমাজের সর্বনিম্ন স্তরের জনগণ তাদের ওপর যুগ যুগ ধরে চেপে বসা নিপীড়ন ও শোষণকে ধ্বংস করতে শক্তিমান বিদ্রোহে জেগে উঠেছেন। এই গৌরবোজ্জ্বল বচ্ছরগুলিতে নয়া রাজনৈতিক ক্ষমতার শেকরগুলিকে আরো পুষ্টিসমৃদ্ধ করা হয়েছিল পুরোনো ক্ষমতার ধ্বংস আর প্রাথমিক স্তরে একটা নতুন সমাজের অধিকতর সমৃদ্ধ নির্মাণের মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায়, গণমুক্তি গেরিলা বাহিনী (পিএলজিএ) তার যুদ্ধ ক্ষমতার দিক থেকে আরো শক্তিশালী হয়। এর ভিত্তি বাহিনী গণ মিলিশিয়া এখন হাজার হাজার সংখ্যায় রয়েছে। এইসকল সাহসী নারী পুরুষেরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়, অস্ত্র হাতে, জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশগতসহ প্রতিটি অর্জনকে রক্ষা করতে, বিশেষত তারা যে নতুন সমাজ নির্মাণ করছেন তাকে রক্ষা করতে।
হ্যাঁ, আমরা আপনাদের প্রতি আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছি আর অগ্রগতি ঘটিয়েছি। কারণ আমরা কমিউনিস্ট। আমাদের কথা আর কাজ জনগণের সেবা করার মাঝে একসাথে গাঁথা । শত শত বছরে জনগণের উপর দেশী ও বিদেশী নিপীড়ণকারীদের বিরুদ্ধে তাঁদের অগণন বিদ্রোহের চমতকারতম ট্র্যাডিশনের উত্তরাধিকার বহন করে আর ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ থেকে সত্যিকার স্বাধীনতার জন্য যে অজস্র দেশপ্রেমিক বীরত্বব্যাঞ্জক সংগ্রাম চালিয়েছেন তার অনুপ্রেরণা নিয়ে সাহসের সাথে আমরা সশস্ত্র সংগ্রামের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছি, যে পতাকা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছি তেলেঙ্গানা সশস্ত্র সংগ্রামের লাল যোদ্ধাদের থেকে, তেভাগা ও পুন্নাপ্রা-ভায়লার, সারা দুনিয়ার লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙা লাল পতাকাকে আমরা চিরদিন ঊর্ধ্বে তুলে রাখব, আমরা লড়াই করতেই থাকব যতক্ষণ আমাদের প্রিয় দেশ সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের থাবা থেকে মুক্ত না হচ্ছে, যতক্ষণ না একে আমরা বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ঘাঁটিতে পরিণত করছি সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে কমিউনিজমের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলতে। আমরা লড়ব আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণীর একটা বাহিনী হিসেবে আর সকল নিপীড়িত জাতি ও জনগণ আর পুঁজিবাদী দেশগুলির ব্যাপক জনগণের সহযোদ্ধা হিসেবে। কারণ আমরা সেই শক্তিমত্ত বসন্তের বজ্র নির্ঘোষ—সেই ১৯৬৭ সালের মহান নক্সালবাড়ী সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহের সন্তান যা সমগ্র ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আমরা আমাদের মহান প্রতিষ্ঠাতা নেতা কমরেড চারু মজুমদার ও কানাই চ্যাটার্জি কর্তৃক শিক্ষিত ও ট্রেনিংপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আরো কয়েকজন আমাদের প্রিয় নেতাদের কর্তৃক। আমরা আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণীর মতাদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ দ্বারা পরিচালিত।

প্রিয় জনগণ,

আমাদের বিশ্বাস করতে বলা হয় যে ১৯৪৭ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। হ্যাঁ, এটা সত্য যে ঘৃণীত ঔপনিবেশিক শাসন শেষ হয়েছে। কিন্তু আমাদের জীবনের দুর্দশা আমাদের এক তিক্ত সত্য স্বীকার করতে বাধ্য করে আর তা হল যে বিদেশী প্রভুরা কেবল একটা পর্দার আড়ালে চলে গেছে। সকল মূল নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়ে গেছে। বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানীগুলির উপস্থিতির মাঝে আমরা তাদের উপস্থিতি দেখি যারা আমাদের শ্রম শোষণ করতে আর আমাদের সম্পদ লুন্ঠন করতে এসেছে; আমাদের জীবন তাদের কাছে কত তুচ্ছ তা খুনী ভুপাল গ্যাস ঘটনায় দেখা গেছে। আমরা এটা দেখি এই সত্যের মধ্যে যে আমাদের সমগ্র দেশ কীভাবে হাজারো উপায়ে বিদেশী শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। আমরা এটা দেখি ভোগবাদ এবং ভোগবিলাসিতার ব্যক্তিতাবাদের আগ্রাসী বৃদ্ধির মধ্যে।
আমরা দেখি তাদের ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধের আগ্রাসন আর আমাদের সমৃদ্ধ বৈচিত্রপূর্ণ জীবন ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের ঘৃণা। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটি)র মত এজেন্সীগুলির মাধ্যমে তারা যে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক পলিসিগুলি আরোপ করে তার নিপীড়ক ভর আমরা অনুভব করি, যে পলিসিগুলি জনগণকে উৎপাটন করে, নতুন পরাধীনতার শৃংখল সৃষ্টি করে আর বাতাস, পানি ও মাটিকে বিষাক্ত করে। আমরা দেখি এই শয়তানি হাতই ভারতীয় রাষ্ট্রকে সশস্ত্র করছে বিপ্লবী সশস্ত্র কৃষি বিপ্লবী যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লবী ‘জনগণের উপর যুদ্ধ’-এ। এটা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, আমাদের উপর চেপে বসা অন্যতম বৃহৎ একটি পাহাড়।
আরো দুই পাহাড় রয়েছে।
শাসকরা আমাদের বলে যে আমরা তথ্য হাই ওয়েতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি, বুলেট ট্রেন, উচ্চ প্রযুক্তির (হাই টেক) শহর আর কি নয়। তারা অতিকথন করে। কিন্তু আপনার চারপাশে তাকান, নিজেদের জীবনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। ঐ সকল যন্ত্রপাতি সত্ত্বেও, স্মার্ট ফোন, কেবল টিভি, মটর সাইকেল আর ঝলমলে পোশাক সত্ত্বেও কেন প্রচলিত ট্র্যাডিশনের শৃংখলগুলো এত ভার মনে হয়? কেন পুরোনো অথবা নতুন ভুস্বামীরা আর লোভী মহাজনেরা কৃষকদের উদ্বৃত্তের অধিকাংশ এখনো শুষে নেয়? কেন তাদের ইচ্ছা আকাঙ্খা মানা বাধ্যতামূলক আর তাদের কথাই হচ্ছে আইন, যখন আমরা সকলেই সমান হওয়ার কথা? কেন অধিকাংশ জমিই মুষ্টিমেয়র হাতে, যেখানে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জীবন যাপন করে হয় শ্রম বিক্রি করে না হয় এক খন্ড পরিত্যাক্ত ভুমির ওপর সওয়ার হয়ে, কেন নারীরা অসহনীয় অবরোধ প্রথায় আবদ্ধ। কেন দলিতদের নিয়ে খেলা হয়? কেন আদিবাসীরা অবজ্ঞার পাত্র? কেন ব্রাহ্মণ্যবাদী আচারের হাস্যকর দৃষ্টিভঙ্গী উচ্চ প্রযুক্তির মহাকাশযান চালনার দিক নির্দেশনা দেয়? কেন অমানবিক জাত পাত প্রথা এখনো জীবিত ও শক্তিশালী? অনেক পরিবর্তন হয়েছে, অনেক নতুন জিনিস হয়েছে যা আগে দেখা যায়নি। কিন্তু যুগ যুগের জাতপাতের, পুরুষতন্ত্রের ও ভুস্বামীতন্ত্রের পুরোনো কাঠামো ও মূল্যবোধ এখনো বর্তমান। এটা হচ্ছে আমাদের ওপর চেপে বসা আরেক বৃহৎ পাহাড় সামন্তবাদ যা জাতপাতের সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে বাঁধা।
হ্যাঁ, শাসকরা মাঝে মাঝে স্বীকার করেন যে পুরাতনের অবশেষ এখনো বর্তমান। কিন্তু তারা আমাদের দৃষ্টিকে নির্দেশ করে দ্রুত বর্ধনশীল শহর, প্রচুর কারখানা, বৃহৎ কর্পোরেটদের ঝলকানির দিকে, যার কিছু কিছু এমনকি বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব ভাল কথা। কিন্তু তোমাদের কি মনে করিয়ে দেওয়া দরকার? তোমরা কি তাদের দুর্দশা ভোগ করাওনি, ঐসব আলো ঝলমল শহরগুলির মধ্যেকার বস্তির আবর্জনায় জীবনের ঘানি টানার?
আপনারা কি ইতিমধ্যেই তাদেরকে চেনেননা আপনাদের জমি দখলকারী হিসেবে, সম্পদ লুটেরা হিসেবে আর তাদের লোভ যা আপনাদের পূর্বপুরুষের জমি থেকে আপনাদের বিতাড়িত করেছে? আপনারা কি তাদের রাক্ষুসে শোষন চেনেননা? মৌলিক অধিকারগুলি তাদের কর্তৃক অস্বীকৃত হতে দেখেননি? আর ঐ সব অধিকারের যারা দাবি জানিয়েছিল তাদের উপর খুনী আক্রমণ চালাতে তাদের দেখেননি? কিন্তু এটাই সব নয়। তারা বৃহৎ পুঁজিপতি, সন্দেহ নেই। তথাপি, তাদের সকল ভাণ সত্ত্বেও, তারা স্রেফ বিদেশী মুনাফার তথা সাম্রাজ্যবাদীদের সেবাদাস। উপনিবেশিক শাসকদের কমিশন এজেন্ট হিসেবে জন্ম নিয়ে চিরকাল তারা তাদের অস্তিত্ব ও বৃদ্ধির সকল দিকের জন্য তাদের উপর নির্ভর করেছে। তারা এই অধীনতাকে সুশোভিত করে। তারা আমাদের দেশ, জনগণ আর সম্পদ বিক্রী করে বিদেশী দস্যুদের কাছে। আর তাদের অন্তস্থলে তারা ব্রাহ্মণ্যবাদী সামন্তীয় মূল্যবোধ রক্ষণাবেক্ষণ করে, তারা যত আধুনিক প্রযুক্তিই প্রয়োগ করুক না কেন। জন্ম থেকেই তারা সামন্তবাদের সাথে বাঁধা হয়ে রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদকে প্রতিনিধিত্বকারী তারা হচ্ছে আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি —আমাদের উপর চেপে বসা আরেক বৃহৎ পাহাড়।
এগুলো হচ্ছে আমাদের উপর চেপে বসা তিনটি বিশাল পাহাড়। তারা আমাদের নিঃশাস সংকুচিত করে, আমাদের কোমর ভেঙে দেয়। তারা আমাদের দেশের উন্নতি ও বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ করে। আমাদের নিয়তিকে আমাদের নিজেদের হাতে নিয়ে আসতে হলে, স্বাধীনভাবে উঠে দাঁড়ান, গণতন্ত্র ও সাম্যের সতেজ বাতাসে শ্বাস গ্রহণ করুন, আমাদের শ্রমের ফল ভোগ করুন, বাতাস, পানি ও মাটি পরিষ্কার করুন, জাতপাত, পুরুষতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতাবাদের অন্যায় থেকে সমাজকে মুক্ত করুন, ব্রাহ্মণ্যবাদকে উড়িয়ে দিন যা ভারতের সকল প্রতিক্রিয়াশীলতার কেন্দ্র। হ্যাঁ, একজন মানুষ হিসেবে বাস করতে হলে আমাদেরকে তাদের উৎখাত করতে হবে। এ হচ্ছে সেই যার জন্য আমরা লড়াই করি। আমরা যে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব পরিচালনা করি, এটা হচ্ছে তার অর্থ। এই বিপ্লব সাম্রাজ্যবাদী দাসত্ব, শোষণ ও নিয়ন্ত্রণকে উৎপাটন করে জাতীয় স্বাধীনতা আনবে আর সামন্ত স্বৈরাচারকে উৎপাটন করে জনগণতন্ত্র আনবে। এটা শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক, শহুরে পেটি বুর্জোয়া ও জাতীয় বুর্জোয়াদের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। নয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দ্বিধাহীনভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার স্বীকার করবে।
তারা বলে যে ভারত হচ্ছে একটা প্রজাতন্ত্র, একটা ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র। সংবিধান এমনকি দাবি করে ‘সমাজতন্ত্রী’! দৈনিক ২০ রূপীতে জীবন যাপনকারী কোটি কোটি মানুষের প্রতি এটা কি করুণার পরিহাস নয়? আর এর ধর্মনিরপেক্ষতা? ১৯৪৭ সালের পর থেকে একটি বছরও কি এমন হয়েছে যে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হয়নি প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিশানা করে? কে ভুলতে পারে ১৯৮৪ সালে কংগ্রেস শাসনাধীনে শিখদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে আর বিজেপি শাসনাধীনে ২০০২ সালে মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে হাজার হাজার হত্যার ঘটনা? শাসকরা দাবি করে যে ভারতের সামর্থ ‘বৈচিত্রের ঐক্য’-তে নিহিত। কিন্তু এই জাতীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কীভাবে বোঝাপড়া করা হচ্ছে? ঔদ্ধত্যপূর্ণ অবজ্ঞা, বর্ণবাদী, জাতপাতবাদী অপমান ও আক্রমনের মাধ্যমে। এটা শুধু আদিবাসী ও দলিতদের দুর্দশা নয়। এটা ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সকল জাতিসত্ত্বার জনগণের জ্বলন্ত অভিজ্ঞতা। অনেক জাতিসত্ত্বা তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে, যেমন কাশ্মিরী, নাগা ও মনিপুরীরা দশক দশক ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বুটের নিচে পিষ্ট হয়েছেন। তারা নিকৃষ্টতম নিপীড়নের স্বীকার আর আইনী ক্ষতিপুরণ অস্বীকৃত যা সেনাবাহিনীকে বিচারের হাত থেকে রক্ষা করে। এর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন সবকিছুই সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত! অকল্পনীয় অবস্থায় বন্দী হাজার হাজার জেলবন্দীর দুর্দশা ভারতীয় গণতন্ত্রের অপরাধী চিত্রকে সম্পূর্ণ করে। এইসব মানুষের ব্যাপক অধিকাংশই সমাজের ঘাশমুল স্তরসমূহ থেকে আগত।
সামান্য অপরাধ যার জন্যও এক কি দুই বছর সাজা হতে পারে তার জন্য তারা বিনা জামিনে বিনা বিচারে বছরের পর বছর জেলে ভুগে। মাওবাদী রাজনৈতিক বন্দীদের জন্য পুলিশ ক্যাম্পে অত্যাচারর জেলে পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়, তাদের মৌলিক অধিকার যেমন চিকিৎসা অস্বীকৃত হয়, সাহিত্য ও সংবাদ পাঠ করতে দেয়া হয়না, পারিবারিক সদস্যদের দেখা করতে দেয়া হয়না, বৈধ অধিকারে বাঁধা দেয়া হয়।

কেন আমাদেরকে এই নরকে বাস করতে হবে?

শাসকরা আমাদেরকে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মকতার অভিযোগ দেয়। কিন্তু সমাজের যে সহিংসতাকে তারা রক্ষা করছে তার কি হবে? তাদের সামাজিক ব্যবস্থা কি মানব অস্তিত্বের উপর এক অব্যাহত আক্রমণ নয়? প্রতি মিনিটে অগণিত জীবন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অথবা জীবিত মৃতরা যারা অতি কষ্টে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখছে তার কি হিসেব তারা দেবে? সমাজে ও পরিবেশে তারা যে ধ্বংস আর বিপর্যয় সৃষ্টি করছে তার কী জবাব তারা দেবে? আমাদের সহিংসতা হচ্ছে তার স্রেফ জবাব। আমরা যা ধ্বংস করি তা হচ্ছে এই মানব খাদক ব্যবস্থা, এর মূল্যবোধ আর সংস্কৃতি। কিন্তু এসব স্রেফ ছেলেমানুষী কাজ নয়। এই দেশের ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের অংশগ্রহণ ও সমর্থনসহকারে, আমাদের পার্টির নেতৃত্বে পিএলজিএ সৃষ্টি করার জন্য ধ্বংস করে। এর সহিংসতা হচ্ছে উদ্দেশ্যযুক্ত। সে জমি চাষ করছে গণবিরোধী, পুরোনো সম্পর্ক, কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানকে দূর করতে। জনগণের সাথে মিলে সে রোপন করে আর তৈরি করে নয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা, এক নয়া সামাজিক ধারা। প্রাথমিক স্তরে এটা এখন অস্তিত্বশীল বিপ্লবী গণ কমিটি হিসেবে (ক্রান্তিকারী জনতা সরকার, ক্রান্তিকারী জন কমিটি অথবা বিপ্লবী কমিটি হিসেবে জনপ্রিয়) মধ্য ও পূর্ব ভারতের গেরিলা ঘাঁটিগুলিতে। নয়া রাজনৈতিক ক্ষমতার এই কেন্দ্রসমূহ বরং এই বিস্তৃত ভুমিতে আয়নার মত। কিন্তু ইতিমধ্যেই তারা এক অর্থপূর্ণ জীবন সম্ভব করে তুলেছে, সহযোগিতার সামর্থ নিয়ে সজীব, যৌথতা, মানব যত্ন ও সেবার মূল্যবোধে সমৃদ্ধ। তারা শোষিতদের শত শত বছরের নিজেদের প্রভু হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে। তারা কৃষকদের ভুমি নিশ্চিত করে। তারা আদিবাসীদের অনুমোদন দেয় নিজ স্বকীয়তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুনের জন্ম দিতে। তারা দলিতদের আত্মমর্যাদার জীবন যাপনের সুযোগ দেয়। তারা নারীদের মুক্তির সংগ্রামকে সমর্থন দিয়ে তাদের জন্য জায়গা তৈরি করে।
এটাই হচ্ছে ভারতের এক ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতিঃ এক গণতান্ত্রিক, সার্বভৌম, ফেডারেল, গণপ্রজাতন্ত্রী, আত্মনির্ভরশীল, ন্যয্য ও যুক্তিযুক্ত। এটা সেই যা কিনা সম্ভব আমরা যদি সংগ্রাম করতে আর উচ্চতায় পৌঁছতে সাহসী হই।

কী এই নতুন সমাজ? কী তা ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে?

এই গ্রামগুলিতে ভারতীয় রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। পুরোনো সামন্তদের কর্তৃত্বকে আর উপজাতীয় জ্যেষ্ঠদের কর্তৃক জনগণের উপর শাসন শেষ হয়ে গেছে। জাতপাতের বন্ধনকে ছিন্ন করা হয়েছে আর এর ধ্বংসের জমি প্রস্তুত। জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতার অংগগুলি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই নয়া গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হচ্ছে গণযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের বৃহত্তম সাফল্য। গ্রাম স্তরের বিপ্লবী গণ কমিটি ৯ থেকে ১১ সদস্য বিশিষ্ট। এরা প্রতি দুই/তিন বছরে সরাসরি নির্বাচিত হয় সকল প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে, কেবল তাদের ভোটাধিকার নেই যারা জনগণকে বিরোধিতা করে আর প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র, তার সশস্ত্র বাহিনী ও গ্যাংগুলিকে সমর্থন করে। ভোটারদের ভোট বাতিল করার অধিকার রয়েছে। সমান প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতার অর্ধেকের উপর অধিকার রয়েছে। জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে – সভা করা, সংগঠন করা, ধর্মঘট ও মিছিল করার অধিকার আছে, নিজের ইচ্ছামত বসবাস করার, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার ও সর্বনিম্ন চাকুরী পাওয়া ইত্যাদি অধিকার রয়েছে।
আরপিসি (বিপ্লবী গণ কমিটি) জনগণের জীবনের সকল দিককে দেখে তার প্রতিরক্ষা, অর্থ, কৃষি, ব্যবসা ও শিল্প, বিচার, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ, বন রক্ষা আর গণসম্পর্ক বিভাগসমূহের মাধ্যমে।
“যে জমি চাষ করে তার হাতে জমি”র ভিত্তিতে অরণ্যের ভুমি আরপিসি বন্টন করেছে যাদের জমি নেই অথবা সামান্য জমি আছে তাদের প্রতি। এখানে জনগণ সুসংগঠিত, নারীদের জমির অর্ধেকের মালিকানা রয়েছে। “সমান কাজের জন্য সমান মজুরি” প্রযুক্ত হচ্ছে। সাপ্তাহিক বাজারগুলিতে নির্বিচার শোষণের অবসানের জন্য বাজার কমিটি কাজ করছে। ভাল মজুরী হারের দাবিতে গণসংগ্রাম সাফল্যজনকভাবে চালানো হয়েছে আর জনগনের প্রয়োজন পুরণের জন্য তহবিল বেড়েছে। জঙ্গলের উৎপন্ন সংগ্রহের ওপর সকল ধরনের বিধি নিষেধ ও কর বাতিল করা হয়েছে। জঙ্গলের উৎপন্ন ইচ্ছেমত সংগ্রহ ও ব্যবহার করা যাবে। “অরণ্যের উপর সকল অধিকার আদিবাসী/স্থানীয় জনগণের” শ্লোগান উত্থাপন করা হয়েছে। আরপিসির অনুমতি ছড়া জঙ্গল থেকে সম্পদ বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ।
সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীগুলি ও মুৎসুদ্দি কোম্পানীর নতুন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ফসল উৎপাদনের হার বৃদ্ধির জন্য সেচ সুবিধা সৃষ্টি ও জৈব সার ও উচ্চ গুণসম্পন্ন স্থানীয় বীজ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি আরপিসি গরীব কৃষককে সম্ভাব্য সকল উপায়ে সহায়তা করে তাদের জমি চাষাবাদে। যেখানে পরিস্থিতি অনুমোদন করে, জীবন মান বৃদ্ধি ও জনগণের ও পিএলজিএর খাদ্য চাহিদা পুরণের উদ্দেশ্যে কৃষি উৎপাদনের বিকাশের সকল প্রচেষ্টা চালানো হয় আর এভাবে বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমানো হয়। আরপিসি নিজেরাই কৃষি খামার প্রতিষ্ঠা করছেন। বহুবিধ উৎপাদনমূলক কর্তব্য সম্পাদনের লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা/কাজ টিম গঠন করা হয়।
শস্য সমবায় সমিতি গঠন করা হয়। গাছ লাগানোর মাধ্যমে ও সবুজ শাক-সব্জি জন্মানোর মাধ্যমে জনগণের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য যোগান দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। পুকুরে মাছ উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। পার্টি ও পিএলজিএ উৎপাদনশীল শ্রমে অংশ নেয় কর্তব্য হিসেবে।
শ্রেণী সংগ্রামের বিকাশ আর আরপিসির নির্মাণ জনগণের সাংস্কৃতিক জীবনে নয়া বিকাশের দরজা খুলে দিয়েছে। যেহেতু উপজাতীয় জ্যেষ্ঠ্যদের জন্য বেগার খাটা বন্ধ হয়েছে, পারস্পরিক সহযোগিতা/কাজ টিমের মাধ্যমে জনগণের চাহিদাসমূহ পুরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আদিবাসী এলাকাগুলোতে যে যৌথ শিকার সপ্তাহ সপ্তাহ ধরে চলত তা ক্রমে ক্রমে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, তার বদলে জমি সমান করা ও সেচ সুবিধা তৈরি করায় শ্রম দেওয়া বাড়ছে যা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
অন্ধ বিশ্বাসের ভিত্তিতে উদযাপন করা প্রথা ও আচার অনুষ্ঠান যেহেতু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও উৎপাদিকা শক্তির বাঁধা হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে, প্রথাগত প্রধান ও পুরোহিতদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা হচ্ছে। আরপিসি ভোগবাদকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি আদিবাসীদের জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদ ও খ্রীষ্টবাদে রূপান্তর করার বিরোধিতা করছে। তারা বৈজ্ঞানিক চিন্তা ও নিরীশ্বরবাদ শিক্ষাও দেন। বিয়ে ও মৃত সৎকারে অতিরিক্ত ব্যয় কমেছে।
নারীরা এখন অধিকতর শ্রদ্ধা পান। শ্রেণীসংগ্রামের বিকাশ ও নারী সংগঠনসমূহের নির্মাণের সাথে সাথে সামন্ত জমিদারদের কর্তৃক যৌন শোষণ ও অপমানজনক অনুশীলন দূর করা হয়েছে। জোরপূর্বক বিয়ে প্রদান ও গোতুল প্রথা (কিছু আদিবাসী এলাকায় অনুশীলিত) অনেকখানি কমেছে।
এটা নারী ও তরুণীদের সামাজিক ও মনস্তাত্বিক চাপ থেকে মুক্ত করেছে।
জনগণের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করার জন্য স্কুল খোলা হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবাদের মত দণ্ডকারণ্যে অধিকাংশ জনগণের মাতৃভাষা ‘কয়া’য় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক-সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় পাঠ্যসূচি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিহার-ঝাড়খণ্ডেও বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে আদিবাদী, দলিত ও শিক্ষা বঞ্চিত অন্যান্য গোষ্ঠীতে শিক্ষা পৌঁছানোর উপর।
জনগনের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। গ্রামে জনগণের চিকিৎসক ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্যানিটেশন কাজ ও নিরাপদ পানির সুবিধা যোগান দেয়া হচ্ছে সক্রিয়ভাবে। যেসব জনগণের বাড়ী নেই তাদের জন্য বাড়ী নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে। সরকার ও কাঠচোর মাফিয়াদের নির্বিচার গাছ কাটা ও মূল্যবান কাঠ চুরি বন্ধ করা হয়েছে। কৃষি ও গার্হ্যস্থ চাহিদা পুরণে যার যার খেয়াল খুশি মত গাছ কাটার পরিবর্তে আরপিসি জনগনের চাহিদা পুরণের চেষ্টা করছে আর নিয়মানুবর্তীভাবে গাছ কাটা চালু করছে। মাছ ধরার জন্য নদীতে বিষ মিশানো আর গ্রীস্মকালে জল উৎসে যে পাখি আসে তা শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাণিজ্যক উদ্দেশ্যে মাংস বিক্রির জন্য শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এভাবে বন্য জীবন সংরক্ষণ উৎসাহিত করা হচ্ছে।
গ্রাম স্তরের আরপিসির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এলাকা স্তরের আরপিসি গঠন করেছে। একইভাবে এলাকা স্তরের প্রতিনিধিরা গঠন করে বিভাগীয় (জেলা স্তরের) আরপিসিসমূহ। এটা ভুখণ্ডের সম্প্রসারণকে প্রতিনিধিত্ব করে যার উপর জনগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা অনুশীলন করে আর নতুন সৃষ্টি করে। এটা ভারতীয় রাষ্ট্রকে মোকাবেলা করে মুক্ত এলাকাসমূহ গড়ে তোলা আর জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রগতিকে শক্তিশালী করে।
দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের ফলগুলো হচ্ছে এমনই। তিন দশকেরও বেশী সময়ের কঠিন আত্মত্যাগ ইতিমধ্যেই তৈরী করেছে দণ্ডকারণ্য ও বিহার-ঝাড়খণ্ডের যুদ্ধ জোনগুলিতে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। এই দুই অঞ্চলের ভিন্ন পরিস্থিতে এই অগ্রগতি ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে, কিন্তু সর্বদাই তা নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের রাজনীতির দ্বারা পরিচালিত ছিল। বিহার ঝাড়খণ্ডে সশস্ত্র শক্তির দ্বারা জাতপাত-সামন্তবাদের শৃংখল ভাঙতে, উচ্চবর্ণের প্রাইভেট বাহিনীকে পরাজিত করতে ও জমি বিতরণ করতে একগুয়ে সংগ্রাম নেতৃত্বকারী কেন্দ্র হিসেবে বিপ্লবী কৃষক কমিটি (ক্রান্তিকারী কিষাণ কমিটি)র বিকাশে পথ করে দিয়েছিল। দণ্ডকারণ্যে ভুমি প্রস্তুত করা হয়েছিল সংগ্রামের মাধ্যমে যাতে আদিবাসী কৃষকদের সশস্ত্র উপায়ে সমাবেশিত করা হয়েছিল বন বিভাগের, প্রাইভেট কন্ট্রাক্টরদের ও কিছু এলাকায় জমিদারদের অথবা সামন্ততান্ত্রিক উপজাতীয় জ্যেষ্ঠ্যদের কর্তৃত্ব ধ্বংস করতে ও তাদের শোষণ সমাপ্ত করতে। পার্টি ও গণসংগঠন তৈরী করা হয়। বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী, গণগেরিলা বাহিনী ও গণমুক্তি গেরিলা বাহিনী ধাপে ধাপে গঠন করা হয়। এভাবে গণক্ষমতার ভ্রূণ রূপ গড়ে উঠে। ২০০৪ সালে দুই বিপ্লবী ধারার একীভুতকরণ এই অর্জন করে, এর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাসমূহ আর এক সাহসী, শক্তিমত্ত অগ্রমুখে ধাক্কার কঠিন ভিত্তি। এর ফলসমূহ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।
গণবিরোধী প্রকল্পগুলি ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ণের বিরুদ্ধে পার্টি পরিচালিত প্রচণ্ড গণসংগ্রামের বৃদ্ধি হচ্ছে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ বিকাশ।
তাদের মধ্যে নন্দীগ্রাম, লালগড়, নারায়নপাত্না ও কলিঙ্গনগরের সংগ্রাম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে সংগ্রামের যে নতুন ধরণ তারা নিয়ে এসেছে আর যে ব্যাপক ঐক্য তারা অর্জন করেছে তার দ্বারা। পৃথক তেলেঙ্গানার জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের সাফল্যে আমাদের পার্টির নেতৃত্বে শক্তিসমূহ যথেষ্ট অবদান রেখেছে। অন্য অনেক গণসংগ্রামের প্রতিও সে শক্তিশালী সমর্থন যুগিয়েছে। এটা তাদের সাহায্য করেছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ণ সহ্য করতে আর তাকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টাকে প্রতিরোধ করতে। এ সকল সংগ্রামের মাধ্যমে জল, জঙ্গল ও জমিনের উপর জনগণের অধিকার আর আত্মমর্যাদার জীবন যাপনের অধিকারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আজকের উপলক্ষ্যে, আমাদেরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান গেরিলা জোনসমূহে জনগণ যে ভূমিকা পালন করেছেন তার। তারাই সর্বাধিক নিপীড়ণ সয়েছেন। তারাই আমাদের আস্থা যুগিয়েছেন।
তাদের প্রচণ্ড আত্মত্যাগ ও পরম উদ্দীপনা ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ অসম্ভব হত। ‘পশ্চাদপদ’ হিসেবে শাসিত ও অবজ্ঞাত তারা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হয়েছেন ও পথ বিভাজক নতুন পথের নির্মাতা হয়েছেন। ইতিহাসের এই নির্মাতাদের আমরা ঊর্ধ্বে তুলে ধরি, সমগ্র দেশের সামনে উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে তুলে ধরি। আমরা তাদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানাই!
ভারতীয় বিপ্লবের একটি একক পরিচালক কেন্দ্র হিসেবে সিপিআই (মাওবাদী)র গঠন ভারতের জনগণের দ্বারা ও সারা দুনিয়ায় প্রশংসিত হয়েছে। যেখানে জনগণ প্রেরণা পেয়েছে, শত্রু সেখানে হয়েছে হতাশ। সকল ক্ষয়িষ্ণু শক্তিরই একই স্বভাব, বিপ্লবী শক্তিসমূহের উওর অধিক থেকে অধিক খুনী হামলা চালাতে তারা শক্তি সমাবেশ করে। এটা ছিল সামগ্রিক আক্রমণ।
বর্বর সামরিক বাহিনী সিপিআই (মাওবাদী)র নেতাদের ধরা ও খুনের সাথে যুক্ত হয়। ঘৃণ্য মিথ্যাচারের সাথে ভুয়া শান্তি আলোচনা যুক্ত হয়।
খুনী গ্যাংগুলি ও সতর্ক বাহিনীগুলিকে সশস্ত্র করা হয় আর এরা জনগণের বিরুদ্ধে জনগণকে পরিচালনার জন্য কাজ করে। তাসত্ত্বেও প্রচণ্ড আক্রমণ মোকাবেলা করে আর বড় ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পার্টি, পিএলজিএ ও আরপিসিসমূহ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। বড় ধরণের আঘাত হানা হয়, যেমন জেলবন্দী বিপ্লবীদের মুক্ত করতে জেহানাবাদের জেলের উপর বীরত্বব্যঞ্জক ঝড়ো হামলা আর পিএলজিএকে সশস্ত্র করতে ঐতিহাসিক নয়াগড় অস্ত্রাগার দখল। ঐক্যবদ্ধ পার্টির ঐতিহাসিক ঐক্য কংগ্রেস-নবম কংগ্রেস (সারা দেশের পার্টি প্রতিনিধিদের জাতীয় ভিত্তিক সম্মেলন) সফলভাবে সংঘটিত করা হয়। মতাদর্শিক, রাজনৈতিক ঐক্যকে গভীর ও শক্তিশালী করা হয়। এর ঐক্যবদ্ধ চিন্তাকে উচ্চতর স্তরে উন্নীত করা হয়। এর যুদ্ধ ক্ষমতাকে ধারালো করা হয়।
ভারতীয় শাসক শ্রেণী তার প্রতিবিপ্লবী পরিকল্পনায় প্রত্যাঘাত করে ২০০৯ এর মাঝামাঝি ‘অপারেশন গ্রীন হান্ট’ পরিচালনা করে আর এর পর দিন দিন তা তীব্রতর করে। তারা সাম্রাজ্যবাদ বিশেষত মার্কিনের দ্বারা সমর্থিত ও পরিচালিত ছিল। এটা হচ্ছে ভয়ংকর ‘জনগণের উপর যুদ্ধ’। এটা সবুজ নয় বরং লাল, তা ভারতীয় রাষ্ট্রের ভাড়াটিয়া বাহিনী কর্তৃক গুলি করে মারা আদিবাসী ও অন্যান্য জনগণের রক্তে লাল ছিল। এটা লাল ছিল জনগণের পুত্রকন্যাদের রক্তে যারা আমৃত্যু সাহসের সাথে লড়েছেন যত দুর্বল অস্ত্র দ্বারা তারা সজ্জিত হোক আর সংখ্যায় যাই হোক।
এটা ছিল মানুষ শিকার। পার্টি ও পিএলজিএ সদস্যদের বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় ছদ্মবেশী ও প্রতিবিপ্লবী গ্যাং যেমন তৃতীয় প্রস্তুতি সমিতির দ্বারা। এটা ছিল প্রতিবিপ্লবী গ্যাং, পুলিশ ও প্যারা মিলিটারি বাহিনীগুলি দ্বারা জনগণের উপর বন্য আক্রমণঃ খুন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ী ভাঙা, ফসল ও শস্যভান্ডার লুট ও ধ্বংস, হাস মুরগী ও গবাদি পশু লুট ও জবাই। বিহার, ঝাড়খন্ড ও পশ্চিম বঙ্গে ‘কুর্কি জাপ্তি’ নামে পরিচিত বৃটিশ ঔপনিবেশিক নিপীড়নের কুখ্যাততম ঐতিহ্যের উপর নির্ভর করে মাওবাদী আন্দোলনের সাথে জড়িতদের বাড়ী ও সম্পদ কোর্টের আদেশে দখল করা হয়। বিজাপুর জেলার চিন্তালনার এলাকায় ঘৃণ্য আক্রমণ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ণের সাম্প্রতিক বর্বর দৃষ্টান্ত যাতে তারা চারটি গ্রাম ধ্বংস করে হত্যা ও ধর্ষণ চালায়। বিজাপুর জেলার সারকেগুদায় আরেকটি এমন চালানো হয় যেখানে ১৭ জনকে হত্যা করে যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল নারী ও শিশু। ভারতীয় শাসক শ্রেণীসমূহ ও তাদের রাজনৈতিক দলসমূহ প্রায়ই বলে থাকে জনগনের মৌলিক চাহিদা পুরণের জন্য অর্থের অভাবের কথা। কিন্তু জনগণের উপর যুদ্ধে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তারা একটু দ্বিধা করেনা। ইতিমধ্যে ৫০০,০০০ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ভাড়াটে বাহিনী এই যুদ্ধে নিয়োযিত করা হয়েছে। আরো ৫০,০০০ প্রস্তুত। বিমান বাহিনী দ্রোন যোগান দেয়। এটা এখন আকাশ পথে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেনাবাহিনী ব্রিগেড স্তরের কমান্ড ও ট্রেনিং এ নিয়োযিত। মাওবাদী নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের বিরুদ্ধে নিয়োযিত করার জন্য সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা বিশেষ বাহিনী সে তৈরি করছে অনেক তড়িঘড়ি করে।
ভারতীয় রাষ্ট্র তার আক্রমণে আরো আগ্রাসী ও নির্মম হচ্ছে। ‘জনগণের ওপর যুদ্ধ’ চালানোর ও ‘জনগণের বিরুদ্ধে জনগণকে ব্যবহারের’ এই উন্মত্ততার যুক্তি আছে। দিনের পর দিন দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি উন্মোচিত হচ্ছে। যেখানে দেশের শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি জনগণ দৈনিক ২০ রূপিতে চলে, তখন শাসকদের দাবি যে ভারত বিশ্ব শক্তির লীগে প্রবেশ করেছে শুনতে করুন পরিহাস মনে হয়। এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে কেন্দ্রীয় ও পূর্ব ভারতে উদীয়মান নয়া বাহিনী, নয়া জনগনের আন্দোলন, নয়া রাজনৈতিক শক্তি ও সমাজ। এটা হচ্ছে ব্যাপকতর মনোযোগ আকর্ষণের শুরু শুধু বঞ্চিতদের মধ্যেই নয় বরং দেশপ্রেমিকদের ও প্রগতিশীলদের ব্যাপক অংশের মধ্যে। সাম্রাজ্যবাদী ও ভারতীয় কর্পোরেটদের দ্বারা কৃত বিকাশের নামে উন্মত্ত শোষণ ও লুন্ঠন, লুট ও নিপীড়ণের দ্বারা মানবিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংসের বিপরীতে এটা বর্ধনশীলভাবে একটা সত্যিকার বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটা একটা গণতান্ত্রিক মডেল তুলে ধরে যেখানে নিপীড়িত শ্রেণী ও সামাজিক স্তরসমূহঃ শ্রমিক, কৃষক, শহুরে ক্ষুদে বুর্জোয়া, নারী, আদিবাসী, দলিত, জাতীয় ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুগণ মুক্ত হবেন ব্রাহ্মণ্যবাদী জাতপাতবাদী-সামন্তবাদী নিপীড়ণ থেকে আর সাম্রাজ্যবাদের সামাজিক ভিত্তি হিসেবে সেবা করে ও মুৎসুদ্দি-আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের সাথে ঘোঁট পাঁকিয়ে যে সকল প্রতিক্রিয়াশীল মূল্যবোধ সে তুলে ধরে তার থেকে। এটা দেখায় কীভাবে ভুমিহীন ও গরীব কৃষকরা জমি পাবে, কীভাবে যৌথ শ্রমের অপরিসীম শক্তিকে উৎসারিত করা যায়, কীভাবে প্রচলিত জ্ঞানকে নতুনের সেবায় রূপান্তরিত করা যায়, কীভাবে পরিবেশকে রক্ষা করা যায় জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্রে রেখে এবং সত্যিকার বিকাশকে অর্জন করা যায়। এটা ভ্রূণ রূপে নতুন এক ভারতের প্রচণ্ড বিভব শক্তিকে প্রদর্শন করে। এক ভারত যে কিনা বিদ্যমানটার ছাইয়ের উপর জন্ম নিতে পারে ভারতীয় রাষ্ট্রের ধ্বংসের পর। হ্যাঁ, ভারতীয় শাসকদের মরিয়া হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রতিদিন নয়া ক্ষমতা ও সমাজ অস্তিত্বশীল হয়ে তাদের কফিনে একটা একটা করে পেঁরেক গাঁথছে। তারা এর মধ্যে তাদের মৃত্যুকে দেখতে পায়। তাই তারা উন্মত্তভাবে দৌঁড়ায় একে ধ্বংস করতে।
আরো আছে। এই অঞ্চলসমূহে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলি ইতিমধ্যেই বিদেশী ও ভারতীয় কর্পোরেটগুলির কাছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রীর প্রচুর চুক্তি করেছে। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ সমেত গণযুদ্ধের অগ্রগতি ও বিস্তার, জল, জঙ্গল ও জমির উপর গণক্ষমতার প্রতিষ্ঠা তাদের পরিকল্পনাগুলিকে ভেস্তে দিয়েছে। এখন তারা ব্যাপকতর চাপে আছে। সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে পতিত। এটা ভারতীয় অর্থনীতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
সংকট পরিস্থিতি জনগণের শত্রু সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানীগুলি ও ভারতীয় মুৎসুদ্দিদের আরো মরিয়া করে তোলে দেশের সম্পদ লুন্ঠনে ও শ্রমজীবি শ্রেণীসমূহকে আরো শোষণে। তাই, তারা সংগ্রামী জনগণকে গুড়িয়ে দিতে আরো তাড়াহুড়া করে যত রক্তই তাতে ঝড়ুক।
ভাড়াটিয়া বাহিনীগুলির বাহিনীর বুটগুলি জনগণকে পিষ্ট করে। তারা তাদের প্রহার করে ও গুলি করে। কিন্তু এটাই সব নয়। তারা ‘উপহার’ নিয়েও আসে। তারা সকল পন্থা অবলম্বন করে, কাপড় ও খাদ্য দেয়, আদিবাসী শিশুদের ফ্রি লেখাপড়া ও আবাসনের কথা বলে, তারা তাদের প্রত্যন্ত গ্রামগুলি থেকে ‘ভারত ভ্রমণ’-এ নিয়ে যায়। এটা বুট ও বেয়নেট দিয়ে দাবানোর সম্পূরক ‘নরম ছোঁয়া’। এটা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের এক শয়তানি পরিকল্পনা জনগনের একাংশকে প্রলুব্ধ করা ও তাদেরকে ভিত্তি করে একটা তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। তারা সংস্কার ও বিকাশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে, কিন্তু তা কেবল জনগণকে বিভক্ত করার জন্য। লক্ষ্য হচ্ছে মাওবাদীদের বিচ্ছিন্ন করা, বিপ্লবী আন্দোলনের উপর নিপীড়ণ বৃদ্ধি করা, নয়া রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ধ্বংস করা এবং গণযুদ্ধের বিস্তারকে প্রতিহত করা। আর একবার যখন তা বাস্তবায়িত হয়, সে তার স্বভাবসুলভভাবে পুরোনো ব্যবসায় ফিরে যায়, যে ব্যবসাটা হচ্ছে জনগণের মৌলিক অধিকার ও সুবিধাকে অস্বীকার করা, প্রাকৃতিক সম্পদকে বিক্রী করে দেওয়া। আপনি যদি প্রমাণ চান তাহলে ঝাড়খণ্ডের সারন্দার দিকে তাকান। প্রথমে, বিপ্লবী সংগঠনসমূহকে ধ্বংস ও পিএলজিএকে বিতাড়ণের জন্য ১০, ০০০ এর বেশী সৈন্যসমেত এক অতর্কিত ও সার্বিক পাশবিক আক্রমণ হানা। তারপর বিশেষ সারান্দা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা সবার জন্য মৌলিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। আর তারপর চূড়ান্তভাবে সত্যকার জিনিস—হাজার হাজার হেক্টর কুমারী জংলী মাটি পাইকারীভাবে টাটাকে বিক্রী লৌহ উত্তোলনের জন্য আর প্রায় শ খানেক সাম্রাজ্যবাদী ও মুৎসুদ্দি কর্পোরেশনের প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এলাকায় প্রবেশ; পুলিশ স্টেশন, আমলা ও স্থানীয় শোষকদের ঘৃন্য শাসনের প্রত্যাবর্তন। ভারতীয় রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত প্রতিবিপ্লবী অভিযানের এটাই হচ্ছে প্রকৃত প্রক্রিয়া।
ভারতে সশস্ত্র বিপ্লব সশস্ত্র প্রতিবিপ্লবকে মোকাবেলা করছে। পিএলজিএ গণযুদ্ধের গেরিলা রণকৌশলের মাধ্যমে ভারতীয় রাষ্ট্রের উৎকৃষ্ট বাহিনীকে লড়ছে। আগ্রাসীদের থেকে বৈসাদৃশ্যমূলকভাবে, তার শক্তি নিহিত আছে জনগণের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্কের মাঝে, তার সৃজনশীলতা ও ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায়। পিএলজিএ কর্তৃক মুক্কারাম (দন্ডকারণ্য)-এ সিআরপিএফ [সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স — সর্বহারা পথ] এর পুরো কোম্পানীর ধ্বংস ভারতীয় জনগণের ‘জনগণের উপর যুদ্ধ’-র প্রতি এক জীবন্ত প্রত্যাঘাত। দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধে, এলাকার নিয়ন্ত্রণ নয় বরং বিপ্লবী সামরিক বাহিনীর রক্ষাই হচ্ছে নির্ধারক। এই নীতিমালাকে আত্মস্থ করে পিএলজিএ ভারতীয় রাষ্ট্র কর্তৃক তাকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টাকে হয়রান করে তাকে ধ্বংস করেছে। শত্রুর বিরাট ঘেরাও বলয়ের ছোট ইউনিটগুলিকে আক্রমণ করে সে ঘেরাও ভেঙে বেরিয়ে এসেছে। বিরাট ঘেরাও বাহিনীকে যখনই সুযোগ আসছে তখনই সে সমস্ত শক্তি নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করছে।
তঙপাল এম্বুশ (দণ্ডকারণ্য) এ ১৫ দস্যু খতম হয়, ২০টি অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ দখল হয় আর ফার্সাগাঁও (ঝাড়খণ্ড) এম্বুশে ৫ দস্যু উৎখাত হয় আর ৫ অস্ত্র দখল হয়—এই দুইটি গণযুদ্ধের সামর্থের পরিচায়ক, এক যুদ্ধ যা মাওবাদী পার্টি কর্তৃক পরিচালিত আর হাজার হাজার জনগণকে জাগিয়ে তোলে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে এই এমবুশগুলো এমন এলাকায় ঘটেছে যেগুলি ভারত রাষ্ট্র দাবী করছিল যে ‘পরিষ্কার করা হয়েছে’। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত, ৯টি রাজ্য জুরে পরিচালিত দুইটি তীব্র দেশব্যাপী দমন অভিযানঃ ডিসেম্বর-জানুয়ারি ২০১৩-২০১৪ আর মার্চ, এর মধ্যে পিএলজিএ ৩৯টি একশন পরিচালনা করেছে।
নয়া রাজনৈতিক শক্তি, নয়া আন্দোলন, ক্ষমতা ও নয়া সমাজের বিরুদ্ধে ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতিরোধ স্রেফ পিএলজিএর ব্যাপার নয়। জনগণ এতে ব্যাপকভাবে জড়িত। তারা একশন ও তার প্রস্তুতিতে অংশ নেয়, খাদ্য, শেল্টার ও তথ্য যোগান দেয়, যোগান বজায় রাখতে সাহায্য করে আর শত্রুকে সহযোগিতা করা প্রত্যাখ্যান করে। গণ মিলিশিয়া হচ্ছে পিএলজিএর এক খুবই গুরুত্বপুর্ণ উপাদান। একশনে এর ভুমিকার পাশাপাশি, সে সালোয়া জুডুম, সেন্দ্রার আক্রমণ ও বিভিন্ন রাজ্যে অন্যান্য প্রতিবিপ্লবী দস্যুবাহিনীগুলিকে পরাজিত করতে ব্যতিক্রমী ভুমিকা পালন করেছে।
অনেক উদাহারণ রয়েছে যেখানে জনগণ নিপীড়ন মোকাবেলা করে শহীদদের মৃতদেহগুলি পুনর্দখল করেছেন আর তাদের যথাযথ সৎকার করেছেন। অনেক ঘটনায় তারা শত্রু বাহিনী কর্তৃক বিতরণকৃত দ্রব্যাদি সংগ্রহ করেছেন আর আগুনে পুড়িয়েছেন। মিনপাতে জনগণ পিএলজিএর সাথে যোগ দিয়েছেন আর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় অব্যাহত সংগ্রাম চালিয়ে শত্রুকে বাধ্য করেন তাদের সামরিক ক্যাম্প বন্ধ করে দিতে। হেররাকোদের-এ জনগণ পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহ থেকে একত্রিত হয় আর শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় বিক্ষোভের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্প বন্ধ করে দিতে বাধ্য করে। নারীরা এতে একটা আদর্শ ভুমিকা পালন করে। ভারতে ও বিদেশে বুদ্ধিজীবী, প্রগতিশীল ও গণতন্ত্রীদের ব্যাপক গোষ্ঠীসমূহ বিরাট সংখ্যায় ভারতীয় রাষ্ট্র কর্তৃক ‘জনগণের উপর যুদ্ধ’ এর প্রতিবাদে এবং একে উন্মোচন করতে উঠে দাঁড়িয়েছেন।

প্রিয় জনগণ,

আমাদের জীবন জীবিকা, আত্মমর্যাদা আর খোদ অস্তিত্ব নয়া উদারনৈতিক পলিসি সমূহের বহুগুণ আক্রমণের স্বীকার, যে পলিসিসমূহ বিদেশী ও ভারতীয় কর্পোরেট শোষণকে তীব্রতর করে। মেগা প্রকল্প, খনি, শক্তি উৎপাদন প্লান্ট, বাঁধ, বন্দর, বিমানবন্দর, সুপার হাইওয়ে, মেট্রো, উচ্চ প্রযুক্তি (হাই টেক) র শহর, ট্যুরিস্ট স্পট/রিসোর্ট ও বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ইত্যাদির নামে আমাদের লক্ষ লক্ষ জনগণকে তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। শাসকদের ধ্বংসাত্মক পলিসিসমূহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনছে যা শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে আর হাজার হাজার মানুষকে করছে বাস্তুচ্যুত ও নিঃস। তারা একের পর আইন প্রণয়ন করছে শ্রমিকদের অর্জিত অধিকার বাতিল করতে। তারা অধিক থেকে অধিকতর অর্থনীতির সেকটর গুলিকে সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিকদের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করছে। কৃষিকে বিদেশী পুঁজি ও আর জিন প্রয়োগে সৃষ্ট উদ্ভিদ প্রযুক্তির গভীরতর অনুপ্রবেশের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। ভুমির কেন্দ্রীভুতকরণ সংঘটিত হচ্ছে রিয়েল এস্টেট ‘ভুমি ব্যাংক’ ও বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এর নতুন ধরণে। কর্পোরেট চাষাবাদকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিদ্যমান আইন এমনভাবে সংশোধন করা হচ্ছে যে বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলির প্রধানদের এখানে বিচার করা যাবেনা তারা যে অপরাধই করুক না কেন।
যখন তারা তাদের প্রকল্পগুলির জন্য ভুমি দখল করে, কৃষকদের বঞ্চিত অংশের জমির দাবির প্রতি কোন আমলই দেয়া হয়না। এই মুল্যবান সম্পদকে একচেটিয়া দখলে নিতে থাকে বৃহৎ ভুস্বামীরা। তারা রাসায়নিক সার ও আধুনিক সরঞ্জাম বিক্রি করে আবার তারাই কৃষি উপন্ন কিনে নেয়। তারা হয় প্রত্যক্ষভাবে মহাজন হিসেবে কাজ করে অথবা সমবায় সমিতিগুলি নিয়ন্ত্রণ করে। তারা শাসক শ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টিসমূহের এমএলএ, এমপি অথবা মন্ত্রীও, স্থানীয় সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে আর পুলিশ বাহিনীর উপর প্রভাব খাটায়। এভাবে তারা মুৎসুদ্দি আমলা বুর্জোয়াদের সাথে জোট করে কৃষক ও গ্রামীণ দরিদ্রদের উপর সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করে আর তার হচ্ছে দেশের অগ্রগতির এক বিরাট বাঁধা।
যেখানে জনগণ প্রতিবাদ করেন তাঁরা পাশবিক বাহিনী ও কালো আইনের মোকাবেলা করেন। যখন মিথ্যা গণতন্ত্র নির্বাচনের মাধ্যমে প্রযুক্ত হয়, ভিত্তি বাস্তবতা হচ্ছে বাড়ন্ত ফ্যাসিবাদীকরণ। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে গণহত্যাকারী মোদিসমেত ফ্যাসিবাদী আরএসএস এর এই হাতিয়ার ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ফ্যাসিবাদ শাসকশ্রেণীসমূহ ও তাদের সাম্রাজ্যবাদী প্রভুরা সচেতনভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।
সর্বাধিক প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় গোঁড়ামির স্ফুরণ ঘটানো হয়েছে সাম্প্রদায়িক হিংসার উস্কানি দিতে, বিশেষত মুসলমান সংখ্যালঘুদের নিশানা করে। এক বিশ্ব শক্তি হওয়ার মরীচিকা সৃষ্টি করে সংকীর্ণ জাত্যাভিমানকে তুলে ধরা হচ্ছে দেশের শোচনীয় পরনির্ভরতাকে ধামাচাপা দিতে। জাতীয় সংস্কৃতিসমূহ, ধর্মীয় বৈচিত্রসমূহ আর এমনকি দেশের প্রাক্তন ফেডারেল কাঠামোকে শয়তানি উদ্যোগের মাধ্যমে বাতিল করতে চেষ্টা করা হচ্ছে ‘হিন্দু-হিন্দু’ কাঠামোকে পরম করে আরোপ করতে।
শাসকরা ভাল করেই জানে যে জনগণের ক্রোধ ফুটন্ত। তাদের সকল রাজনৈতিক পার্টিগুলিই কেন্দ্রীয়ভাবে অথবা রাজ্য পর্যায়ে ক্ষমতায় ছিল। তাদের সকলেই সমানভাবে গণবিরোধী ও দুর্নীতিগ্রস্থ হিসেবে উন্মোচিত। একেকবার তারা একেক সংস্কার নিয়ে আসে।
এমন সব সংস্কারের মাধ্যমে তারা আশা করে যে তারা জনগনকে শান্ত করতে পারবে, নিষ্ক্রিয় করতে পারবে এবং আশা করে এভাবে এগোতে পারবে আর তাদের শোষণ ও নিপীড়ণ আরো তীব্রতর করতে পারবে। এভাবে ভুমণ্ডলীকরণ, ব্যক্তিমালিকানাধীন করণ ও উদারীকরণ হচ্ছে একটা জানালা যা “মানব চেহারার ভুমণ্ডলীকরণ”এর ছদ্মবেশ নিয়ে আছে। হ্যাঁ, আপনাদের বাস্তুচ্যুত, কর্মচ্যুত করার সময় অথবা আপনাদের পূর্বপুরুষের জমিতে জীবন্ত কবর দেওয়ার সময় তারা হাসতে থাকবে। যেমন তাদের ‘জনগণের উপর যুদ্ধ’-এর রণকৌশল। প্রথমে তারা আপনার উপর পাশবিক হবে তারপর আপনাকে উপহার দেবে!

প্রিয় জনগণ,

আমাদের দেশ একটা ক্রান্তিলগ্নে। আমাদের কোন পথ গ্রহণ করতে হবে? সামনের দিকে, গণযুদ্ধের আগুণের শিখা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া আর প্রকৃত মুক্তি অর্জন করা? অথবা পিছনের দিকে, অধিকতর বঞ্চনা, অধিকতর অধীনতা আর অধিকতর বিপর্যয়? আমরা আপনাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করব, আর আমরা আস্থাবান যে আপনারা আমাদের চালিত যুদ্ধে আপনাদের নিয়তিকে চিনতেও পারবেন। এদিকে আমরা আমাদেরকে ও আমাদের যা আছে তা নিয়ে ভারতীয় রাষ্ট্র ও তার বিদেশী গুরুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছি।
ঐতিহাসিক নকশালবাড়ী সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহে শহীদ হওয়া থেকে বর্তমান পর্যন্ত বারো হাজারেরও বেশি জন তাদের জীবন দান করেছেন আমাদের উপর চেপে বসা তিন পাহাড়কে ধ্বংস করতে। আমরা ভাল করেই জানি আরো অনেককে চরম আত্মত্যাগ করতে হবে আমাদের চলমান সংগ্রামে। জনগণের সেবায় ও দেশকে মুক্ত করতে আমরা কমিউনিস্টরা আত্মত্যাগে দ্বিধা করিনা। কিন্তু আমরা ত্বরা করি। আমরা ত্বরা করি সেই দিনটা দ্রুত নিয়ে আসার জন্য যখন আমাদের জনগণ ও দেশের শত্রুরা চুড়ান্তভাবে ধ্বংস হবে, সাম্রাজ্যবাদীরা বিতাড়িত হবে আর আমরা আমাদের দেশের, সকল জাতীয় ও জাতিসত্বার জনগণের এক আত্মনির্ভরশীল, সার্বিক ও ন্যায্য বিকাশের ভবিষ্যত গড়া শুরু করতে পারি। আসুন সকল গেরিলা জোন, লাল প্রতিরোধ এলাকা, গ্রামে শহরে, দেশে বিদেশে বিপ্লবী চেতনা ও উদ্যম সহকারে আমরা আমাদের গৌরবময় পার্টির প্রতিষ্ঠার দশম বার্ষিকী উদযাপন করি, গণযুদ্ধের বার্তাকে দূর দুরান্তে ছড়িয়ে দেই আর দ্বিগুণ দৃঢ়তায় বিপ্লবী আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।

বিপ্লবী উদ্যমে সিপিআই (মাওবাদী)র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করুন!

এক নয়া গণতান্ত্রিক ভারত গড়ার বিরাট কর্মযজ্ঞে আমাদের সাথে যোগ দিন!

সিপিআই (মাওবাদী) ও পিএলজিএতে যোগ দিন, এগুলো আপনাদের!

ভারতের গণযুদ্ধ হাতে তুলে নিন, এর বিস্তার ঘটান ও এগিয়ে নিন!

সশস্ত্র কৃষি বিপ্লবের অগ্নিশিখাকে ছড়িয়ে দিন!

ভারতীয় রাষ্ট্রের ‘জনগনের উপর যুদ্ধ’-এর ‘অপারেশন গ্রীন হান্ট’কে বিরোধিতা, প্রতিরোধ ও পরাজিত করুন!

কোটি কোটি সংখ্যায় জেগে উঠুন, সংগঠিত হোন, ভারতীয় রাষ্ট্রের গণবিরোধী, দেশ বিক্রেতা পলিসিসমূহকে মোকাবেলা করুন

ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ফ্যাসিবাদী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হোন!

সংগ্রাম করতে সাহসী হোন! বিজয় অর্জন করতে সাহসী হোন!

আপনাদের নিজেদের ভাগ্যকে নিজেদের হাতে নিতে সাহসী হোন!

কেন্দ্রীয় কমিটি
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)
১ সেপ্টেম্বর ২০১৪

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1445


“সোনি সোরি ‘প্রকৃত বীর’, কাশ্মীরি নারীদের ধর্ষণ করছে ভারতীয় সেনা” : কানহাইয়া

মঙ্গলবার তিনি হাসপাতাল থেকে সোজা দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) গিয়ে হাজির হন।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের সাক্ষাৎ করা ও তাদের আন্দোলনের প্রতি নিজের সমর্থন জানাতে সেখানে যান সোরি।

জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমার সোরিকে জেএনইউয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কানহাইয়া গত মাসে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং গত সপ্তাহে দিল্লির তিহার কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

সোরিকে প্রকৃত বীর বর্ণনা করে কানহাইয়া বলেন, “সোরি তার নিজের এলাকা থেকেই স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছেন।”

গত সপ্তাহে কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কানহাইয়া জ্বালাময়ী এক বক্তৃতা দেন। বর্ণ প্রথা, দুর্নীতি ও অন্যান্য সামাজিক বৈষম্য দূর করার শ্লোগান দিয়ে বক্তৃতা শুরু করে একই শ্লোগানের মাধ্যমে বক্তৃতা শেষ করেন।

বক্তৃতায় তিনি ‘ভারতের ভিতরে স্বাধীনতা, ভারত থেকে স্বাধীনতা নয়’- এ দাবি তোলেন।

মুখে ও শরীরে আঘাতের ক্ষত নিয়ে মৃদুভাষী সোরি বলেন, তিনি কারাগারে থাকা জেএনইউ নেতাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন ও তাদের পাশে আছেন।

৯ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মোহাম্মদ আফজাল গুরুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বার্ষিকীতে জেএনইউতে আয়োজিত এক সমাবেশে কানহাইয়া ও তার সহযোগীরা জাতীয়তা-বিরোধী শ্লোগান দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগ কানহাইয়াকে গ্রেপ্তারের পর তার আরো কয়েক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখনও কারাবন্দি আছেন।

ছাত্রসমাবেশে সোরি বলেন, “বস্তারে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা যখন আদিবাসীদের পেটায় ও হত্যা করে, তারাও কি বিশ্বাসঘাতক না, নিরপরাধ লোকজনকে হত্যা করে, কোনো অভিযোগ ছাড়াই? আর এখানে শুধু শ্লোগান দেয়ার ভিত্তিতেই লোকজনকে জাতী-বিরোধী বলা হচ্ছে, কেন এই দ্বিমুখিতা?”

২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বস্তারের কোদেনার এলাকায় তিনজন অজ্ঞাত পরিচয় লোক সোরির উপর হামলা চালায়। রাস্তায় জোর করে তার গাড়ি থামিয়ে তার মুখে এক ধরনের কলো তরল ছুঁড়ে মারে, এতে তীব্র পোড়া যন্ত্রণা ও ব্যাথ্যা শুরু হয়।

মারাত্মক আহত সোরিকে প্রথমে গীদাম হাসপাতালে ও পরে জগদলপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

“আমি সরকারকে জিজ্ঞেস করতে চাই, শুধু আমাদের অধিকার দাবি করার কারণে তোমরা আমাদের জাতি-বিরোধী বলছ? আমরা জাতীয়তাবাদী, সন্ত্রাসী না,” হিন্দিতে বলেন সোরি।

তিনি জানান, জেএনইউতে নিরাপদ বোধ করছেন তিনি, কারণ ‘আজাদি’ কী জিনিস তা এখানকার শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি উপলব্ধি করেছেন। কিন্তু এটা শুধু কয়েক মূহুর্তের জন্য, যখনই তিনি বস্তারে ফিরে যাবেন প্রতি নিঃশ্বাসে মৃত্যুর হুমকি তাকে তাড়া করবে।

এদিকে গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জেএনইউ-র পড়ুয়াদের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কানহাইয়া বলেন, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আফস্পার বিরুদ্ধে এবার আওয়াজ তুলতে চান তিনি৷ তাঁর দাবি, সেখানকার নারীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা৷ এই পরিস্থিতি বদলাতেই হবে৷