নকশাল পরীক্ষাঃ সেনা ও পুলিশ কর্তৃক আদিবাসী নারীদের স্তন টিপে দেখা হচ্ছে তারা নকশাল কিনা?

blur-800x445

প্রিয়াঙ্কা শাণ্ডিল্য ও জি এস দিব্যা

গত ১২ই জানুয়ারি ২০১৬ সালে, ছত্তিসগড়ের সুকুমা জেলার পেদ্রাস গ্রামে রাষ্ট্রীয় ব্যাটেলিয়ন টহল দেয়ার সময় আদিবাসী নারীদের ‘নকশাল পরীক্ষা’ দেয়ার জন্যে যেতে বলে। এটা সরকারের একটা অন্তর্নিহিত নিয়ম যে, যদি কোন আদিবাসী নারী অবিবাহিতা হন তবে সে নকশাল। কারণ নকশালরা কখনো বিয়ে করে না। ‘নকশাল পরীক্ষা’য় একজন আদিবাসী নারীকে নকশাল নন এটা প্রমাণ করার জন্যে তাঁর স্তন থেকে দুধ বের করতে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়। কখনও কখনও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আদিবাসী নারীদের কাপড় ছিড়ে এবং তাদের স্তন টিপে অথবা কখনও কখনও নারীরা নিজেরাই তাদের জীবন রক্ষা করার জন্যে এই পরীক্ষা করতে বাধ্য হন। এই পরীক্ষাটি নির্বিচারে তাদের বয়সী সকল নারীর জন্য প্রযোজ্য এবং এমনকি স্তন্যদায়ী মায়েদেরও স্পর্শ করা হয়। যদি স্তন থেকে দুধ বের না হয় তবে তিনি নকশাল। এই পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হচ্ছে যে, যারা বিবাহিত তাদের স্তনে দুধ থাকতে হবে এবং যাদের স্তনে দুধ আসে না তারা অবিবাহিত ও নকশাল। পুলিশ/সেনা টহলের সময় এটা খুব সাধারণ বিষয় যে আদিবাসী নারীদের বিবাহিত হিসেবে নিজেদের ভাষায় বর্ণনা করতে ‘মঙ্গলসূত্র’ পড়ে থাকতে হয়, কারণ তাদের প্রধান উদ্বেগ নিজেদের জীবন রক্ষা করা। এই ঘটনায় অর্ধ ডজন নারী আটক হয়েছে, যৌন নির্যাতন, পিটানো ও ধর্ষন করা হয়েছে এবং সেনারা পেদ্রাস গ্রামে এক নারীর হাতও ভেঙে দিয়েছে।

এই ধরনের বিষয়টি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর আগে ছত্তিসগড়ের সুকুমা ও দান্তেওয়াদা জেলায় ‘নকশাল পরীক্ষা’র দুটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়। কিন্তু এটা মিডিয়ার মনোযোগ পায়নি কিংবা ফোরামে কোনো আলোচনা পর্যন্ত ওঠে ​​নি, বিচার পর্যন্ত পৌঁছানো তো দূরের কথা !!

একজন আদিবাসী নারী যিনি বন্দুকের নলের মুখে যৌন নির্যাতিত, ধর্ষণ হচ্ছেন, তার নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে সংগ্রাম করছেন এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কিছুই হতে পারে না।

এখানে প্রশ্ন- সম্মান, মর্যাদা ও নৈতিকতার নয়, বরং সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিয়ে বাঁচার।

অনুবাদ সূত্রঃ 

Advertisements

ছত্তিসগড়ে মাওবাদীদের আইইডি(IED) বিস্ফোরণ, জখম ৫ জওয়ান

crpf

শুক্রবার সকালে ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার বান্দা-কোন্টা জঙ্গলে মাওবাদী গেরিলাদের পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে জখম হয়েছে সিআরপিএফের পাঁচ জওয়ান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্তোষ সিং জানায়, আইইডি বিস্ফোরণে জখম সিআরপিএফের পাঁচ জওয়ানের মধ্যে দু’জন ডেপুটি কম্যান্ডান্ট পদের আধিকারিকও রয়েছেন। এঁদের নাম, এস নিবাস এবং প্রভাত ত্রিপাঠী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ন’টা নাগাদ ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার বান্দা-কোন্টার জঙ্গলে টহল দিতে যান সিআরপিএফের ২১৭ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। মূলত মুরলিগুরা এবং বান্দার মধ্যে নির্মীয়মান রাস্তায় নিরাপত্তা দিতেই ওই জঙ্গলে যায় সিআরপিএফ বাহিনী। জওয়ানরা ক্যাম্প থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে যেতেই একটি আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে। গুরুতর আহত হন দুই আধিকারিক সহ সিআরপিএফের টহলদারি পাঁচ জওয়ান। মাওবাদীরাই সেনা ক্যাম্পের অদূরে জঙ্গলে মাটির নীচে আইইডি বিস্ফোরকটি লুকিয়ে রেখেছিল এবং জওয়ানরা আইইডি-র টিগারে চাপ দিয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/five-crpf-men-injured-in-ied-blast-in-chhattisgarh.html


বাংলাদেশের গণযুদ্ধে শহীদ কমরেড ‘জয়দেব’

কমরেড জয়দেব

কমরেড জয়দেব

কালিগঞ্জ/খুলনা

কমরেড জয়দেব বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী ছিলেন। ’৭৩-’৭৪ সালে সিরাজ সিকদারের পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির নেতৃত্বে দেশব্যাপী সশস্ত্র সংগ্রামের প্রভাবে তিনি সর্বহারা পার্টিতে যুক্ত হন। যোগদানের পর থেকেই পার্টির নেতৃত্বাধীন সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভুমিকা রাখেন।

সিরাজ সিকদার শহীদ হওয়ার পর জয়দেব সর্বহারা পার্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।  কিন্তু বিচ্ছিন্ন অবস্থায়ও তিনি পার্টির বিপ্লবী রাজনীতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতেন এবং বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ছিলেন। এ সময়ে প্রকাশ্যভাবে তিনি ইউপিপি’র ব্যানারে কাজ করতেন। এই পর্যায়ে জয়দেব গ্রেফতার হন।

জেলখানার বন্দীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে জয়দেব আপোষহীন ভূমিকা রাখেন। ৮০ সালে রাজশাহী-খুলনা-ঢাকা সহ সারা দেশের জেলখানাগুলোতে দ্রুত বিচার নিস্পত্তি, খাবারের মান উন্নত, পরিবেশের উন্নয়ন, কুখ্যাত ব্রিটিশ জেল কোড বাতিল প্রভৃতি দাবীতে ব্যপক আন্দোলন গড়ে উঠে।

খুলনায় জেল আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে জয়দেব ছিলেন অন্যতম। দাবী আদায়ের জন্যে খুলনা জেলের সকল বন্দীরা অনশন ধর্মঘট করলেও গণতন্ত্রের গলাবাজীওয়ালা বিএনপি’র জিয়াউর রহমান সরকার বন্দিদের সাথে কোন আলোচনা না করে দমন-নির্যাতন চালাতে থাকে। এ অবস্থায় বন্দীরা সরকারকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য ২৪জন জেল কর্মচারীকে বন্দী হিসেবে আটক করেন।  বন্দীরা বিএনপি সরকারের প্রতিনিধিসহ বিরোধী দলের নেতাদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিরোধী দলসহ সরকার এই আলোচনার প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান(খালেদা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)- এর উপস্থিতিতে ২১শে অক্টোবর রাতে জেলখানায় হামলা করে নারকীয় গণহত্যা সংগঠিত করে। পরের দিন সরকারী প্রেস নোটে ৪০জন বন্দির হত্যার কথা বলা হলেও বেসরকারি মতে ২-৩শ বন্দীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, খুলনা জেল সরকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর পুরো জেলখানা তল্লাশি করে বিপ্লবী জয়দেবকে ধরে এনে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। এই জেল হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বন্দিদের প্রতিরোধের নেতা জয়দেব আগামী বিপ্লবীদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


কমরেড উমর খালিদকে মুক্ত করুন!

National-Politi_DE_2747750f