’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত?

c1

’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য বিতর্ক ও মতপার্থক্যের মাঝে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের উপর বিতর্ক সম্প্রতি পুনরায় বড় আকারে দেখা দিয়েছে যখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এ বিষয়ে কয়েকটি মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্যে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন ছাড়াও আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় দৈনিকগুলোতে তার বক্তব্য যেভাবে এসেছে তাহলো- তিনি বলেছেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছেন বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কতজন শহীদ হয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। একেক বই-এ একেক রকম তথ্য পাওয়া যায়। ……যারা মুক্তিযুদ্ধ করেননি তারা আজ বড় মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম দিয়ে নিজের ঘরে যুদ্ধাপরাধীদেরও পালছে। ………..উনি (শেখ মুজিব) স্বাধীনতা চাননি, চেয়েছিলেন কেবল ক্ষমতা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।” – ইত্যাদি। এই বক্তব্যের সকল বিষয় নিয়ে আমরা এ নিবন্ধের ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনা করতে পারবো না। শুধু শহীদের সংখ্যা বিষয়ের বিতর্কটিই আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয় হবে।

বেগম জিয়া কেন এ বক্তব্যটি দিলেন তার কারণ এটা নয় যে তিনি প্রকৃত ইতিহাস সন্ধান করতে চান। কারণ, বিএনপি-ও শাসক বুর্জোয়া শ্রেণিরই একটি দল, যারা ’৭১-এর চেতনা’র কম/বেশি পরিবর্তিত একটি সংস্করণকে ধারণ করে। তারাও আওয়ামী লীগের মতই দেশ ও জনগণবিরোধী একটি দল। তবে বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দমনে তারা যখন কোনঠাসা, এবং ’৭১-এর চেতনা নিয়ে আওয়ামী সংস্করণের বিকৃত মিথ্যা প্রচারে তারাও এতটা আক্রান্ত যে বেগম জিয়া এখন বাধ্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মিথ্যা ও বিকৃতির কিছুটা উন্মোচনের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিতে। প্রতিক্রিয়াশীল গণবিরোধী শাসক শ্রেণির এই অন্তর্দ্বন্দ্বে ইতিহাসের কিছু সত্য উঠে আসতেই পারে, যেমনটা এসেছিল ’৭১-এ আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সেনানী খন্দকারের বই-এ।

দেখা যাচ্ছে বেগম জিয়ার বক্তব্যটি মাঠে পড়তে না পড়তেই আওয়ামী প্রচারযন্ত্র তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা তাকে দেশদ্রোহী, পাকিস্তানের দালাল, যুদ্ধাপরাধী ইত্যাদি নামে অভিহিত করেই ক্ষান্ত হয়নি। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মামলা রুজু করা শুরু হয়েছে।

অথচ বেগম জিয়া ৩০ লক্ষের বিপরীতে কোন সংখ্যা পেশ করেন নি। তিনি শুধু এ নিয়ে বিতর্কটিকে তুলে ধরেছেন। যদিও তার সাথে মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভূমিকা, বিশেষত তাদের প্রধান নেতা শেখ মুজিবের ভূমিকার বিষয়টিতেও মন্তব্য করেছেন। এখন দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের মন্তব্য বা বক্তব্য দেয়া মানে হলো আওয়ামী ফতোয়ায় দেশদ্রোহীতা করা, সংবিধান লঙ্ঘন করা, রাষ্ট্রদ্রোহীতা করা, মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করা, শহীদদেরকে অপমান করা- যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। অনেক বিভ্রান্ত একচোখা বাঙালি-জাতীয়তাবাদে অন্ধ বুদ্ধিজীবী বলছেন যে শহীদদের সংখ্যার বিষয়টা নাকি একটি মীমাংসিত ইস্যু, একে বিতর্কিত করা নাকি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার সামিল, শহীদদের অপমানের সামিল- ইত্যাদি।

প্রশ্ন হলো, এই বিষয়টি সহ মুক্তিযুদ্ধের গোটা রাজনীতি শুধু নয়, অসংখ্য তথ্যকে আওয়ামী ধারায় বিতর্কের উর্ধে¦ বললেই তো সেগুলো তা হয়ে যাবে না। ইতিহাস নিয়ে এ ধরনের বালখিল্যতা শুধু ফ্যাসিবাদের লক্ষণকেই প্রকাশ করে। যা এখন ইসরাইলীরা করে থাকে। করে থাকে ইসলামী মৌলবাদীরাও। বাবরী মসজিদ নিয়ে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরাও এরকম করেছে ও করছে।

কিন্তু এটা তো একটা জ্বলজ্যান্ত সত্য কথা যে ’৭১-সালের শহীদের এ সংখ্যাটি নিয়ে একেক বই-এ একেক রকম তথ্য পাওয়া যায়। অনেক বুদ্ধিজীবীই এ নিয়ে কথা বলেছেন। অনেকে চুপ করে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করেছেন বটে, কিন্তু তারা জানেন যে এ সংখ্যাটি কোন প্রামাণ্য তথ্য নয়। ফলে এ নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে তাতে কোন সন্দেহই নেই। কিন্তু এই বাস্তব তথ্যটি তুলে ধরার জন্যই যে আওয়ামী নেতা-পাতি নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা খালেদার উপর হামলে পড়েছে তা নয়। বাস্তবে খালেদা জিয়া এ বক্তব্যটি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বিষয়ে সরকারি বক্তব্যের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যেখানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য মিথ্যা প্রচারের উপর আওয়ামী লীগের (এবং আংশিকভাবে বিএনপি’রও) গোটা রাজনীতিটা দাড়িয়ে রয়েছে সেখানে এমন একটি বিষয়ে খালেদা জিয়া আঙ্গুল রেখে ’৭১ নিয়ে আওয়ামী প্রচার, তথা আওয়ামী রাজনীতির একেবারে গোড়াতেই হাত রেখেছেন। এটা শুধু আওয়ামী লীগ নয়, গোটা শাসকশ্রেণি, রাষ্ট্রযন্ত্র ও তার সৃষ্টি-সময়কালের প্রকৃত সত্য খুঁচিয়ে তোলার একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ঠিক এ জায়গাটাতেই আওয়ামী লীগের আতংক। তাই তাদের প্রচারযন্ত্র তাৎক্ষণিক লাঠির ঘায়ে এ আলোচনাটিকে নিভিয়ে দিতে চাইছে। কাবু করতে চাইছে তার ক্ষমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-কেও।

আমরা আমাদের পত্রিকায় ’৭১ নিয়ে শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির, বিশেষত আওয়ামী লীগের বহু মিথ্যার কিছু বিষয়ে মাঝে মাঝে ইতিপূর্বেও আলোচনা করেছি। এক কথায় যদি বলা যায় তাহলে একটি মন্তব্যই শুধু পুনরায় করা যায়, তাহলো তাদের তৈরি করা পুরো ইতিহাসটিই মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। শহীদের সংখ্যাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এর অর্থ এটা নয় যে, পাকবাহিনী ’৭১-সালে গণহত্যা করেনি। তারা তা করেছে এবং খুবই বর্বর ও নৃশংসভাবে তার শিকার হয়েছিলেন এদেশের সাধারণ জনগণ। হাজার লাখো সাধারণ মানুষকে তারা হত্যা করেছিল, অসংখ্য নারীকে নিপীড়ন করেছিল, অসংখ্য বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল, লুট করেছিল, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে দেশছাড়া করার এক বর্বর ‘এথনিক ক্লিনজিং’ চালিয়েছিল। যার কারণে হিন্দু-মুসলিম মিলে প্রায় এক কোটি জনগণ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। অনেক জায়গায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদেরকে জোর করে মুসলিম বানানোও হয়েছিল। এসবই ইতিহাস। কিন্তু এটা ইতিহাসের একটি দিকের একটি অংশ মাত্র। এই বর্বরতার বারংবার ও অতিরঞ্জিত উল্লেখ দ্বারা আওয়ামী রাজনীতির মহত্ব প্রকাশিত হয়না। তা যে হয়না তার একটি স্থূল উদাহরণ পাওয়া যাবে এই শহীদের সংখ্যা নিয়ে তাদের রাজনীতিতেই।

খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য ধরে আওয়ামী প্রচারযন্ত্র তাদের হাজারো মিথ্যার রাজনীতির মত ৩০ লক্ষ শহীদের যে অকাট্য সন্দেহাতীত প্রচার চালাচ্ছে, ও এতদিন চালিয়ে এসেছে, তার ভিত্তিটা কী? ’৭১-এর পর দীর্ঘ ৪৪ বছরেও কেন শহীদদের কোন তালিকা করা হলো না? অথবা তার চেষ্টা পর্যন্ত করা হলো না? কী জবাব দেবে আওয়ামী লীগ, তার বর্তমান সরকার ও তাদের অন্ধ সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবীকূল, যারা কিনা ’৭১ নিয়ে অনবরত কাঁদুনি গেয়ে চলেছে?

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে প্রতিটি জায়গায় অতিঘনত্বে জনগণ রয়েছেন যুগ যুগ আগে থেকেই (শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি বাদে)। এই দেশটি চার দশক আগে তো বটেই, এখনো রয়েছে গ্রামভিত্তিক। প্রতিটি গ্রামের মানুষ একে অন্যকে চেনে জানে। আর এ জানাজানিটা অন্তত দুই তিন পুরুষ ধরে বয়ে চলে। শহরাঞ্চলে যারা থাকেন, এমনকি যাদের বাড়িঘর শহরে, তাদেরও প্রধান অংশটির ভিত্তি এখনো গ্রামে রয়েছে। তারা ঈদের ছুটিতে দল বেধে গ্রামের বাড়িতে যান। একেবারে শিকড়বিহীন মানুষ বাংলাদেশে এখনো খুবই কম; ’৭১-সালে ছিল আরো অতি নগণ্য। তাই গ্রামকে ভিত্তি করে শহীদদের সংখ্যা ও পরিচয় বের করা খুবই সম্ভব।

একটি গ্রামে কয়জন মানুষ ’৭১-সালে মুক্তিযুদ্ধকালে পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন তা কোন গোপন ব্যাপার নয়। এখনো যাদের বয়স ৬০-এর উর্ধ্বে তেমন লোকেরা ’৭১-এর স্মৃতি ভালভাবেই স্মরণ করতে পারবেন। এবং প্রতিটি গ্রামে এরকম ব্যক্তির সংখ্যা এখনো একেবারে কম নয়। এরকম অবস্থায় দেশের প্রতিটি গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে গ্রামভিত্তিক ও পাড়াভিত্তিক সভা করে প্রত্যক্ষভাবে হিসেব বের করা এখনো খুবই সম্ভব যে কারা কারা তখন শহীদ হয়েছিলেন। এটা কোন কঠিন কাজ নয়। তবু কেন কোন সরকার, বিশেষত যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত বেশি গলাবাজি করে সেই আওয়ামী সরকার মোট চারবার ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থেকেও এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি? এটা বোঝা কঠিন কিছু নয়। এর সোজা কারণ হলো তারা প্রকৃত ইতিহাসটিকে তুলে ধরতে চায় না। তারা শহীদদের মধ্যকার মূল জনগণÑ যারা শহীদদের নিরংকুশ সংখ্যাগুরু, তাদের প্রতি কোন শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা পোষণ করে না। শুধু জনগণের দুর্গতি দুর্দশাকে পুঁজি করে নিজেদের গণবিরোধী রাজনীতিটা তারা চালাতে চায়।

ধরে নেয়া যাক আওয়ামী লীগের দাবি অনুসারে খালেদা জিয়া পাকিস্তানের দালাল, ধরে নেয়া যাক তার স্বামী জিয়াউর রহমান, যিনি আওয়ামী লীগের প্রধানতম নেতা শেখ মুজিবের সরকার কর্তৃক জীবিতদের জন্য প্রধান রাষ্ট্রীয় খেতাব “বীরোত্তম” প্রাপ্ত, তিনিও পাকিস্তানের দালাল। কিন্তু সেটা বলে তো একথা জায়েজ করা যাবে না যে এখনো পর্যন্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত শহীদের নামের তালিকা, পরিচয়, শহীদের ঘটনা ইত্যাদির জরিপ না করে আওয়ামী লীগ শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা করেছে?

তারা প্রায় ১০ কোটি মানুষের ভোটার আইডি কার্ড করতে পারে, ডিজিটাল সুযোগে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্যাদি সংরক্ষণ করতে পারে, মোবাইল ফোনের প্রতিটি সিম কার্ডের তথ্যব্যাংক করতে পারে, অথচ একেকটি গ্রামকে ভিত্তি করে শহীদদের তালিকাটা করতে পারে না? তার চেষ্টাও যে তারা কখনো করেনি তা-কি স্পষ্ট নয়? অথচ এটা রাষ্ট্রের জন্য এক অতি সহজ কাজ। কিন্তু তারা সেটা করছে না, করেনি ও করবেও না, একারণে যে এটা করলে তাদের দ্বারা প্রচারিত এক বড় মিথ্যা প্রকাশ হয়ে পড়বে। অথচ খালেদা জিয়াই প্রথম নন যিনি এ ব্যাপারে বিতর্ক তুলেছেন। বরং তিনি হলেন শাসকশ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে এই সব অনেক মিথ্যার বেনিফিসিয়ারি, যেমনটা আওয়ামী লীগ। এতদিন পর তিনি তার বুর্জোয়া রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এ বিতর্ক তুলেছেন, যা বাস্তবে ৪৪ বছর দেরি হয়ে গেছে।

যদি প্রশ্ন করা হয় ৩০ লক্ষ সংখ্যাটি আওয়ামী লীগ কীভাবে পেল তার কী জবাব? কখনো কি রাষ্ট্্রীয়ভাবে এর জরীপ করা হয়েছে? করা হয়নি। ৩০ লক্ষ শহীদ মানে হলো তৎকালীন গ্রাম পিছু প্রায় ৬০ জন মানুষের শহীদ হওয়া। (তখন যদি ৫০ হাজার গ্রাম ধরা হয়)। কিছু ব্যতিক্রম গ্রাম বাদে এটা এক অসম্ভব সংখ্যা। প্রায় প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ গ্রামে অনুসন্ধান করলেই একথার সত্যতা পাবেন। ’৭১-সালে নগরায়ন এখনকার মত ছিল না। তবুও শহরগুলোর গণহত্যায় নিহত মানুষদের প্রায় জনেরই গ্রামকে ধরে হিসেব বের করা সম্ভব। সব কিছুর পরও ১০ থেকে ২০% ত্রুটি ধরে নিয়েও জরিপ করলে এমন কোন বিরাট সংখ্যা পাওয়া যাবে না।

এই বানানো সংখ্যাটি তাহলে কীভাবে এলো? এ সম্বন্ধে একটা তথ্য প্রচলিত রয়েছে যাকে আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চাপা দিয়ে রেখেছে। বিবিসি’র প্রখ্যাত সাংবাদিক, এক সময়ে শেখ মুজিবের খুবই স্নেহভাজন প্রয়াত সিরাজুর রহমান তার বহু কলামে, আলোচনায় ও পুস্তকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন। সে ব্যাপারে সরকার ও আওয়ামী লীগারদের বক্তব্য কী?

ড.আহমদ শরীফের মত বিজ্ঞ বুদ্ধিজীবী বহুবার বলেছেন, এটি একটি বানানো সংখ্যা, শহীদের সংখ্যা ২/৩ লক্ষের বেশি হবে না। আহমদ শরীফকে কেউ পাকিস্তানের দালাল বলবে না নিশ্চয়ই।

শহীদদের তালিকা না করে তাদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননা করে তাদের এক কাল্পনিক সংখ্যাকে বিতর্কের উর্ধ্বে বলে ইতিহাসের সত্য আবিস্কারের পথ রাষ্ট্রীয় আইন ও দমন নির্যাতন দিয়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখাটা শহীদদের মর্যাদা বাড়ায় না, যতই আওয়ামী লীগাররা তার ভাব দেখাক না কেন। ভারত যখন প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তখন থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টি পর্যন্ত ভারতের প্রায় ৪/৫ হাজার সেনা নিহত হয়। এর হিসেব রয়েছে। সে সময়টাতে মুক্তিযোদ্ধা মারা যান প্রায় ৪ হাজারের মত। এরও একটা হিসেব আছে। সারা দেশে বুদ্ধিজীবী (যাদের মাঝে রয়েছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক- ইত্যাদি) নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার- যাদের মাঝে মুক্তিযোদ্ধা বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন। এগুলো সরকারি তথ্য। তাহলে কেন সাধারণ জনগণসহ সকল শহীদদের প্রকৃত সংখ্যাটি ও পরিচয় অন্তত কাছাকাছিভাবে করা যাবে না? বাস্তবে মুক্তিযুদ্ধ-বান্ধব একটি সরকার, যারা প্রকৃতই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এবং শুধু তাদের মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতিতে লিপ্ত নয়, তেমনটা হলেই এটা সম্ভব। আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তারা তা নয়।

শহীদদের সংখ্যা ৩০ লক্ষের বদলে ৩ লক্ষ বা ১ লক্ষ হলে কি সেটা পাকবাহিনীর বর্বরতাকে কমিয়ে দেয়? অথবা সেটা বললে কি পাকবাহিনীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়? মোটেই নয়। তা-কি তৎকালে এদেশের আপামর জনগণের মহাদুর্যোগ ও সংকটকে কমিয়ে দেয়? মোটেই নয়। প্রকৃত সংখ্যাটি যা-ই হোক না কেন সেটা ভয়াবহ। তাকে অতিরঞ্জিত করা বা আন্দাজে একটা সংখ্যা বানিয়ে তাকেই ইতিহাস বলার মধ্যে কোন সত্যটি রয়েছে? কিছুই না। এটা শুধু মিথ্যার পাহাড়কে বড় করা,। এটা হলো ভিন্ন অবস্থান থেকে ইতিহাসের বিকৃতি করা। যা করেছে এদেশের শাসকশ্রেণি, বিশেষত আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে। তাদের অপরাজনীতিকে চূর্ণ না করে এইসব মিথ্যা ও বানানো ইতিহাস থেকে জাতি ও জনগণ মুক্তি পাবেন না।

সূত্রঃ আন্দোলন পত্রিকা, ফেব্রুয়ারি ‘১৬ সংখ্যা

Advertisements

3 Comments on “’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা কত?”

  1. 30’000-00 to 50’000-00 at best I was there when Mojib came to London BBC Bengali news anchor Serajul Haque said to Maximun 100’000-00 but you can tell 3 Lacs, Mojob translated
    3 Lacs into English 3 Million This is the true history of number game, Mojib didn’t even knew
    that East Pakistan has become Independent, he said Ta holey ki amra Sayetto Sason peyechhee, when he was told of Independence he was surprised.

    Liked by 1 person

    • shahaziz786 says:

      জেনারেল মানেক শ’র আত্মজীবনী পড়েছি । সেখানে দিল্লী এয়ারপোর্টে মুজিবকে শর্ট ব্রিফিঙে জেনারেল জানান ১০ লাখের উপরে যাবেনা বরং কম হবে। মুজিব জিজ্ঞাসা করলেন কিভাবে আপনি নিশ্চিত হলেন? শ্যামজি বললেন আমাদের সেনাবাহিনীর নিজস্ব একটি রীতি আছে প্রতিটি দখল হওয়া জায়গার মোটামুটি একটি চিত্র নেয়া তার মধ্যে গনহত্যার সম্ভাব্য একটি বিবরন লিপিবদ্ধ হয়। সন্ধ্যায় শ্যামজি টার পি এসকে জিজ্ঞাসা করলেন ঢাকার ব্রিফ করতে। পি এস যা বলল তার মধ্যে ৩০ লাখ লোক হত্যার শিকার হয়েছে শুনে শ্যামজি স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলেন ( শ্যামজির নিজের ভাষ্য)। বইটি সংগ্রহ করে পড়বেন ।

      Like

    • Goutam Das says:

      FARA Mina you are true daughter of Bengal soil, in the tradition of Jhasi Rani Laxmi Bai,
      Priti lata Waddader and Kalpana Dutta, keep going upholding the truth, and exposing Awami
      Lies, congratulation.

      Like


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s