“আসুন গণযুদ্ধের জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করি” – তুরস্কের জেলবন্দী গেরিলা যোদ্ধা

maxresdefault

[নোট : নিচের বক্তব্যটি তুরস্কের সাগমাছিলার জেলখানায় TKP(ML)-এর একজন আমরণ অনশনকারী যোদ্ধার একটা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতা। জেলবন্দিরা অনশন ধর্মঘটকে আমরণ অনশনে রূপান্তরিত করে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালানোর ঘোষণার প্রতীক “মাথায় লালপট্টি  বাধার পর অনুষ্ঠানটি করা হয়েছিল। বক্তৃতাটি “রেভ্যুলুশনারী ডেমোক্রেসি, নং-২২, ১৬-৩১ ডিসেম্বর, ২০০০ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছে। (নোট: ট্রেঞ্চ কমরেডগণ” বলতে রাজনৈতিক বন্দিদের যুদ্ধে যোগদানকারী অন্যান্য সংগঠনের কমরেডদের কথা বুঝানো হয়েছে) – এই নোটসহ সমগ্র লিটারেচারটি নেয়া হয়েছে ইংরেজিতে প্রকাশিত AWTW পত্রিকার ২০০১/২৭ সংখ্যা থেকে। যার বাংলা অনুবাদ করেছেন আমাদের একজন কমরেড। অনুবাদের বিষয়ে যে কোনো মতামত সাদরে গৃহীত হবে।]

         আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণি বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের কাছ থেকে আমাদের সংগৃহীত শক্তিতে আমি আপনাদের সালাম জানাই। আমি আপনাদের সকলকে আমাদের বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ থেকে অর্জিত শক্তিতে সালাম জানাই। আন্দিজ পর্বতমালা, হিমালয় পর্বতমালা, নক্সালবাড়ি এবং মুঞ্জরস-এ উড্ডীন আমাদের আন্তর্জাতিক লাল পতাকায় আমি আপনাদের সকলকে সালাম জানাই। কমরেডগণ এবং ট্রেঞ্চ কমরেডগণ ; বিপ¬বের তুলনা চলে মায়ের তীব্র প্রসব বেদনার মধ্য দিয়ে সুন্দর লাল গোলাপের মতো শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে। আমরা দীর্ঘ এবং বেদনাদায়ক বিপ্লবী যুদ্ধের শেষে সুন্দর লাল গোলাপের মতো শিশুটির জন্মগ্রহণ দেখতে পাবো, আর একটার পর একটা বিপ্লব, সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সমূহের মধ্যে দিয়ে শিশুটিকে গড়ে তুলবো এবং এর বিকাশ নিশ্চিত করব… যতক্ষণ পর্যন্ত না শ্রেণিহীন, সীমান্তহীন, শোষণমুক্ত কমিউনিস্ট সমাজে আমরা পৌঁছতে না পারি ; সেটাই হচ্ছে সঠিক দুনিয়া, মানবজাতির স্বর্ণযুগ। আমরা বিপ্লবী যুদ্ধের একটা নতুন ও বেদনাদায়ক কাল অতিক্রম করছি ; এই কালে আমরা পুরোপুরি নিয়োজিত আছি এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে। একই সাথে বর্তমান পর্যায়টি হচ্ছে এমনই একটা ক্রান্তিকাল যখন একজন নিজে প্রকৃত বিপ্লবী কিনা তা পুন:যাচাই-এর জন্য তাকে মতাদর্শগত, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যে কোনো বিপ্লবী, সংগঠন বা পার্টি এই ক্রান্তিকালের প্রয়োজন মিটাতে ব্যর্থ হলে, বর্তমান বিশ্বে যে বিপ্লবের ঢেউ জেগে উঠছে তার সাথে সঠিক তালে এগিয়ে যেতে পারবে না, ফলে হোচট খাবে এবং ব্যর্থ হবে বা এর পশ্চাতে টেনে-হেঁচড়ে চলবে। আমরা যারা কারাবন্দি যোদ্ধা আর রাজনৈতিক বন্দি তাদের এ পর্যন্ত পালন করা দায়িত্বটা এখন আরো বেড়ে গেছে সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কের রণনীতিগত পলিসির নীল নকশার সেল আক্রমণ পরিচালনার কারণে। কারাবন্দি যোদ্ধারা তাদের দায়িত্ব পালনে কখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেনি আর বর্তমানেও তাদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছেন। গত বছরব্যাপী কয়েকটি ছোট-বড় লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এখন আমাদের লড়াইয়ের বিজয়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছি আমৃত্যু অনশনের আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে। এই চূড়ায় আরোহণের লক্ষ্যে আমাদের পার্টিগুলো থেকে আমাদের কয়েকজনকে অগ্রভাগে যুদ্ধ করার কাজে দেয়া হয়েছে…। কমরেডগণ এবং ট্রেঞ্চ কমরেডগণ ; এই মুহূর্তে আমি যখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি তখন আমি ঐ দিনের মতো আবেগ অনুভব করছি যেদিন প্রথম আমাকে এই কাজের ভার দেয়া হয়েছিল। আমি একজন গেরিলার উদ্দীপনা ও রোমাঞ্চ অনুভব করছি, একজন গণযোদ্ধা শত্রুর ওপর শত শত গুলি ছোড়ার পর তার রাইফেলের ব্যারেল কতটা উত্তপ্ত হয়েছে তা খেয়াল না করেই ব্যারেলটিতে লেহন করে জিভ পুড়িয়ে ফেলার রোমাঞ্চ আমি অনুভব করছি। যেখানে যে অবস্থাতেই আমরা থাকি না কেনো আমরা অনুভব করছি একজন গেরিলার উৎসাহ-উদ্দীপনার অনুভূতি ; যা হচ্ছে আমাদের সম্মিলিত আত্মিক গঠনের ফল। এই রোমাঞ্চ ও উদ্দীপনা হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বিপ্লবী ঘাটি এলাকাগুলো শত্রুর দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় তোলা আমাদের রণধ্বনির: “আসুন গণযুদ্ধের জন্য আমাদের জীবন উৎসর্গ করি”, ফ্যাসিবাদের আক্রমণগুলোকে প্রতিরোধ করি, কারণ এগুলো আমাদের আকাঙ্খিত রাজনৈতিক ক্ষমতা ধ্বংস করতে চায়। গেরিলা আর আমাদের একই অনুভূতি কাজ করছে, কারণ আমরা জানি যে আমরা শত্রুর একই অবস্থানে আঘাত করছি। আলেকজান্ডার দি গ্রেট যুদ্ধে তার সেনাবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন : আমার সৈন্যরা মরার জন্য লড়ছে না বরং জয়লাভের জন্য লড়ছে। একজন যোদ্ধার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা আত্মস্থ করা দরকার। জেরোনিমো আমাদের হৃদয়ে এবং নিপীড়িত জনগণের হৃদয়ের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন, যদিও তিনি যুদ্ধের কৌশল বা যুদ্ধের ইতিহাসের ওপর কোনো বই লিখেন নি, তিনি নিম্নের উক্তিটি করেছেন: “জীবন প্রক্রিয়ায় মৃত্যুর দ্বার খোলা না থাকলে কোনো বিপ্লবও হতে পারে না।” এটাও একটা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা একজন বিপ্লবী যোদ্ধার আয়ত্ব করা দরকার। অতএব বিপ্লবের জন্য মরার সাহস নিয়ে আত্মত্যাগ করতে হবে; মরার সাহস নিয়ে বিপ্লবী যুদ্ধ চালাতে জনগণকে পরিচালিত করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায়, পেরুর রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্জন অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে আটক কমরেড গনজালো বলেছেন : “আঙ্গুলের মাথায় আমাদের জীবনকে বয়ে বেড়ানোর শিক্ষা আমাদেরকে অর্জন করতে হবে।” আর ঠিক এটাই আজ আমরা করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জয়লাভ করা, যুদ্ধ করে জয়লাভ করা…। আমরা বিপ্লবী, কমিউনিস্ট ; তাই আমরা বিপ্লব চাই, স্বাধীনতা চাই, নয়াগণতন্ত্র চাই, এবং সমাজতন্ত্র চাই। তাইতো আমরা সেলের বিরোধিতা করছি, আর দৃঢ়তার সাথে বিপ্লবী যুদ্ধ গড়ে তুলতে চাইছি। … চেয়ারম্যান মাও আমাদের শিখিয়েছেন যে হাজার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মৃত্যুকে বরণ করতেও যে ভয় পায় না সে-ই সম্রাটকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পাওে ; সেহেতু আমাদের নেতা ও পথপ্রদর্শক ইব্রাহিম কায়াপাক্কায়া শিখিয়েছেন, শ্রেণিসংগ্রামের মহাসমুদ্রে সকল বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে চলতে। এই সচেতনতা এবং সাহস নিয়ে আমি আমরণ অনশনের লড়াইয়ের পরীক্ষা অবতীর্ণ হচ্ছি।

আমার কমরেডসুলভ উষ্ণতায় এবং ট্রেঞ্চ কমরেডসুলভ অনুভূতির সাথে আমি আপনাদের সালাম জানাই। বিজয়পূর্ণ দিন অর্জনে আপনাদের সফলতা কামনা করছি।

আমাদের পার্টি দীর্ঘজীবী হোক!

আমাদের জয় হবে, জনগণের জয় হবে, গণযুদ্ধের জয় হবে!

TKP(ML)-এর আমরণ অনশন যোদ্ধা, সাগমাছিয়া জেল।

সূত্রঃ AWTW পত্রিকা, ২০০১/২৭ সংখ্যা

Advertisements

‘ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ান’ -MBRM

poster

ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর নির্মম ধ্বংসাত্মক নিপীড়ন বেড়েই চলছে। তা বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগণ বিশেষত উর্দুভাষি জনগণ- যাদেরকে বিহারী বলা হয় – তারা তো এখন আর মানুষ বলেই গণ্য হচ্ছেন না। তারা এখন না এদেশের নাগরিক বলে বিবেচিত হচ্ছেন, না পাকিস্তান বা ভারতের বিহারের নাগরিক বলে গণ্য হচ্ছেন। এসব নাগরিকত্বের তথাকথিত বিচারের অজুহাতে তারা যে মানুষ – সেই বিবেচনার প্রধান ও মূল মাপকাঠিটাই এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব অন্যায় ও গুরুতর অপরাধ। তারা মানুষ, এখান থেকেই সব বিচার ও বিবেচনা শুরু করা আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। তারপর শ্রেণিবিভক্ত মানুষের সমাজে শ্রেণিসংগ্রামের মাপকাঠিই সর্বাধিক প্রাধান্য পাবে। এসব মাপকাঠির বিচারে উর্দুভাষি জনগণ হচ্ছেন আমাদের মতোই মানুষ এবং তারা হচ্ছেন আমাদের দেশের শ্রেণিবিভক্ত সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত মানুষের অংশ। আর এ কারণেই তারা হচ্ছেন এদেশের অন্যান্য নিপীড়িত জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও সংগ্রামের প্রকৃত বন্ধু। এভাবেই আমাদেরকে দেখতে হবে ; তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে; তাদেরকে কাছে টানতে হবে ; তাদের সাথে একাত্ম হতে হবে ; তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন, সংগঠিত ও শ্রেণিসংগ্রামে সক্রিয় করতে হবে ; এবং তাদের দুঃসহ মানবেতর জীবনের অবসানের জন্য সামর্থের মধ্যে সবকিছু করতে হবে। বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণ হচ্ছেন এদেশের উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণ। ধর্মীয় কারণে এদের ওপর যে সব নিপীড়ন চলছে – তা এদেশের বিরাজমান শ্রেণিগত নিপীড়নেরই একটি রূপ ও অংশ মাত্র। তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা ও বিকশিত করাটা হচ্ছে এদেশের বিপ্লবী শ্রেণিসংগ্রামকে গড়ে তোলা ও বিকশিত করারই অবিচ্ছেদ্য একটি রূপ ও অংশ। এ বিষয়ে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের ওপর চালিত নিপীড়নের বিরোধিতা করাটাকে আমাদের নেতৃত্বাধীন প্রধান ও মূল শ্রেণিসংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য একটি রূপ ও অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং সেভাবেই তাকে পরিচালনা করতে হবে। জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর যে নির্মম জাতিগত নিপীড়ন চলছে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদেরকে নিজ দেশে পরবাসী বানানো এবং নিজ ভূখণ্ডে তাদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা। যার মধ্য দিয়ে তাদের নিজস্ব স্বাধীনতা ও স্বকীয়তাকে পরিপূর্ণভাবে শেষ করে দেয়া। এসব,পৃথক জাতিগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জনগণকে নিজেদের অধীন তথা পরাধীন ও গোলাম বানানোর অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। একে প্রতিরোধ করা এবং এর বিরুদ্ধে জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন ও সহযোগিতা করাটা হচ্ছে এদেশের সর্বহারা বিপ¬বের অগ্রগতির জন্যই প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য কর্তব্য। এদেশের ভাষাগত, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর বিরাজমান ও বিকাশমান নিপীড়নের জন্য প্রধানভাবে দায়ী হচ্ছে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের দালাল, আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদের প্রতিনিধিত্বকারী ও সামন্তবাদের রক্ষক আমলা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্র্রেণী। এবং তাদের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি। এই শ্রেণিও তাদের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থাই হচ্ছে আমাদের দেশের সকল প্রকার শ্রেণিগত, ভাষাগত, জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের মূল উৎস ও ভিত্তি। যার প্রধান পাহারাদার হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। এদেরই সহযোগী হচ্ছে ভাষাগত, ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যকার উঠতি ধনী দালাল শ্রেণিটি। তাই বৃহত বাঙালি তথাকথিত মুসলিম আমলা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণি ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্র্ ব্যবস্থাকে উৎখাত করে নয়া বিপ্লবী রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিপ্লবী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শ্রেণিগতভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নির্বিশেষে সকল নিপীড়িত জনগণের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবী যুদ্ধকে গড়ে তোলে ও বিকশিত করেই কেবলমাত্র বৃহত বাঙালি নিপীড়িত শ্রেণি ও জনগণের সাথে সাথে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগণেরও প্রকৃত মুক্তি আসতে পারে- নতুবা নয়। এই কথাটিই আমরা সর্বদা বলে এসেছি। এবং এই লক্ষ্যকে পূরণের জন্যই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি। তাই পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির লাল পতাকাই হচ্ছে এদেশের শ্রেণিগত-ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নিপীড়িত জনগণের মুক্তির পতাকা। তাই এই পতাকার পিছনে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং তার নেতৃত্বে জোরালো সংগ্রাম গড়ে তোলাটাই হচ্ছে এদেশের সকল নিপীড়নের অবসানের একমাত্র উপায় বা পথ। ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের জন্য যে নীতিকে তুলে ধরেছিলেন আমাদের পার্টির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার, এবং যা প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছিল আমাদের পার্টির প্রস্তুতি সংগঠন পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন-এর ১৯৬৮ সালের ৮ জানুয়ারির থিসিসে, তা এখনো বলবত রয়েছে এবং তাকেই আমরা অনুশীলন করি ও করব। এসব নীতিগত অবস্থানসমূহ হচ্ছে :

) বিচ্ছিন্ন হবার অধিকারসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিকে স্বায়ত্বশাসন ও বিভিন্ন উপজাতিকে আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন দেয়া হবে।

) সকল অবাঙালি দেশপ্রেমিক জনগণের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বিকাশের পূর্ণ সুযোগ দেয়া হবে।

) জনগণের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এর সাথে আমরা শুধুমাত্র একটি নীতিকেই সংযুক্ত করেছি এবং তা হচ্ছে “শ্রেণিগত-ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নির্বিশেষে সকলের অধিকার ও মর্যাদা হবে সমান”।

এটাই হবে আমাদের পার্টির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত নয়াগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্রের অন্যতম একটি প্রধান নীতিগত ভিত্তি। এসব নীতিগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই- আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণসহ সকল নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়াই, তাদের পক্ষ নেই, তাদেরকে সর্বতোভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করি এবং তার মধ্য দিয়ে শ্রেণিগত-ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নির্বিশেষে সকল নিপীড়িত জনগণের একটি ঐক্যবদ্ধ অপরাজেয় গণযুদ্ধ গড়ে তুলি। যার লক্ষ্য হবে অবশ্যই নয়াগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলা।

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন-MBRM)

শেষ সপ্তাহ, নভেম্বর ২০০১

সূত্রঃ https://pbspmbrm.files.wordpress.com/2012/09/spark-collections.pdf


“প্রিয় কমরেডগণ” -রোজাভায় মাওবাদী TKP/ML-TiKKO’র এক গেরিলা যোদ্ধার পাঠানো চিঠি

10380994_173384719717563_1837776385379154892_n

The revolution is a path; when people step onto this path, they open the doors to an unknown world. We have come onto this path by the love of fire and earth. We started walking on this path by cutting all of our links to private property, like a newborn who is very enthusiastic and happy to enter into life. We started to walk on this path at midnight, guided by the moonlight. After the friends that brought us here gave us a warning, we started to walk. After passing great mountains, wild rivers, the intoxicating smell of fields of wheat, we finally came to Rojava. Our trip had taken 14 hours, without bread, without water, without cigarettes. A trip undertaken in the company of people that we had never seen before… Due to the darkness of the night, we were not even capable of seeing the faces of these friends. It’s strange, since maybe we will be fighting side by side with some of them in the same positions. Maybe we will draw our last breath in the arms of the other without even getting to know what are our favourite books and movies.

Here, we are in Rojava; the front where the armed oppressed meet and kiss. After a warm welcome, we drank çay, ate some bread with cheese under curious gazes… Everyone looked into the others’ eyes. Everyone smiled to one another in a way to hide the fatigue that could be read on the faces.

After 3 or 4 days of waiting, our organisation came to bring us to the front, where we would fight. On both sides stand two mountains: one made of dust, the other made of smoke. On one side, the Abdul Aziz mountain, on the other side, the Şengal mountain. What remains is just a wide emptiness, a thirsty ground, flat and arid, without a single tree. The temperature depresses the eyes of a person. Each day, dust storms reduce the visibility to nearly zero. Where we are, friends come from the 4 corners of Kurdistan – from Turkey, Iran, Iraq and Syria. All are young fighters full of life. It reminds me of Ahmet Arif’s poem:If you only knew, my brothers and sisters, how they were good kids. I would have wanted you to know.”

In the battalion, the lifestyle is collective. Everything that needs to be done is planned collectively. Our friendship is great. Many friends don’t know TKP-ML/TiKKO, it’s curious for them that there is another organisation aside from YPG/YPJ. As we tell our parties our reasons for coming to Rojava, our friendship grows and our confidence in one another expands. We have a slogan in our battalion: Tea, cigarettes and war. These three things are firmly bonded here.

We are at the front. Our position is 700 metres away from that of the ISIL gangs. We will certainly be in combat every day. Mortars, missiles, bullets illuminate our dark nights. At night, we await ambushes, having mined our grounds. Some days we have 8 or 10 hours of surveillance duty. Our morale is good because we concentrate on the war. Here, we learn many things about the city and the battle fronts. Just like the leader and comrade İbrahim Kaypakkaya taught us, we learn war by doing it. Freedom means to be conscious of one’s musts and we decided to answer the call of the proletariat under the direction of the party. We continue walking forward with confidence, with small steps, humbly conscious that we are small and with our ideals.

Comrade Sefagül Keskin instructed us : “everyone must do their work”. We received our instructions and are committed to our work. On their paths, today in Rojava, tomorrow in Dersim, then at the Black Sea, we will do our work. Each time we repeat: where there is oppression, there is resistance and Comrade İbrahim is there.

(রোজাভায় মাওবাদী TKP/ML-TiKKO‘র এক গেরিলা যোদ্ধা)

Via New Turkey


কাশ্মীরি ছাত্র-ছাত্রীদের উপর গোয়েন্দা নজরদারীর প্রতিবাদ জানিয়েছে নকশালপন্থী ছাত্র সংগঠন USDF

12065806_947683161965718_7368304514493023081_n

ভারত রাষ্ট্র কর্তৃক কাশ্মীরি ছাত্র-ছাত্রীদের মানবধিকার লঙ্ঘনের এক তথ্য সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা বিভাগ কলকাতার বিভিন্ন কলেজকে তাদের কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের উপর নজরদারি চালাতে বলেছে। কলেজগুলিকে বলা হয়েছে তারা যেন কাশ্মীরের ছাত্র-ছাত্রীদের শহরে আসা ও যাওয়ার ব্যাপারে খবর নেয়। এটা নিশ্চিতভাবেই জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ ও তার প্রেক্ষিতে নেমে আসা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বৃহত্তর রূপ ছাড়া কিছুই নয়। অবশ্য কাশ্মীরিদের উপর এহেন নজরদারি নতুন নয়,এবং এর মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রযন্ত্র তাদেরকে বিচ্ছিন্ন ও ভিন্ন জগতে পরিণত করে চলেছে।ইউনাইটেড স্টুডেন্টস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট(USDF), এই রাষ্ট্রীয় নজরদারির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে ও সমস্ত গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আবেদন করছে।