‘ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ান’ -MBRM

poster

ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর নির্মম ধ্বংসাত্মক নিপীড়ন বেড়েই চলছে। তা বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগণ বিশেষত উর্দুভাষি জনগণ- যাদেরকে বিহারী বলা হয় – তারা তো এখন আর মানুষ বলেই গণ্য হচ্ছেন না। তারা এখন না এদেশের নাগরিক বলে বিবেচিত হচ্ছেন, না পাকিস্তান বা ভারতের বিহারের নাগরিক বলে গণ্য হচ্ছেন। এসব নাগরিকত্বের তথাকথিত বিচারের অজুহাতে তারা যে মানুষ – সেই বিবেচনার প্রধান ও মূল মাপকাঠিটাই এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব অন্যায় ও গুরুতর অপরাধ। তারা মানুষ, এখান থেকেই সব বিচার ও বিবেচনা শুরু করা আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। তারপর শ্রেণিবিভক্ত মানুষের সমাজে শ্রেণিসংগ্রামের মাপকাঠিই সর্বাধিক প্রাধান্য পাবে। এসব মাপকাঠির বিচারে উর্দুভাষি জনগণ হচ্ছেন আমাদের মতোই মানুষ এবং তারা হচ্ছেন আমাদের দেশের শ্রেণিবিভক্ত সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত মানুষের অংশ। আর এ কারণেই তারা হচ্ছেন এদেশের অন্যান্য নিপীড়িত জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও সংগ্রামের প্রকৃত বন্ধু। এভাবেই আমাদেরকে দেখতে হবে ; তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে; তাদেরকে কাছে টানতে হবে ; তাদের সাথে একাত্ম হতে হবে ; তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন, সংগঠিত ও শ্রেণিসংগ্রামে সক্রিয় করতে হবে ; এবং তাদের দুঃসহ মানবেতর জীবনের অবসানের জন্য সামর্থের মধ্যে সবকিছু করতে হবে। বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী জনগণ হচ্ছেন এদেশের উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণ। ধর্মীয় কারণে এদের ওপর যে সব নিপীড়ন চলছে – তা এদেশের বিরাজমান শ্রেণিগত নিপীড়নেরই একটি রূপ ও অংশ মাত্র। তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা ও বিকশিত করাটা হচ্ছে এদেশের বিপ্লবী শ্রেণিসংগ্রামকে গড়ে তোলা ও বিকশিত করারই অবিচ্ছেদ্য একটি রূপ ও অংশ। এ বিষয়ে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের ওপর চালিত নিপীড়নের বিরোধিতা করাটাকে আমাদের নেতৃত্বাধীন প্রধান ও মূল শ্রেণিসংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য একটি রূপ ও অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং সেভাবেই তাকে পরিচালনা করতে হবে। জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর যে নির্মম জাতিগত নিপীড়ন চলছে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদেরকে নিজ দেশে পরবাসী বানানো এবং নিজ ভূখণ্ডে তাদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা। যার মধ্য দিয়ে তাদের নিজস্ব স্বাধীনতা ও স্বকীয়তাকে পরিপূর্ণভাবে শেষ করে দেয়া। এসব,পৃথক জাতিগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জনগণকে নিজেদের অধীন তথা পরাধীন ও গোলাম বানানোর অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। একে প্রতিরোধ করা এবং এর বিরুদ্ধে জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন ও সহযোগিতা করাটা হচ্ছে এদেশের সর্বহারা বিপ¬বের অগ্রগতির জন্যই প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য কর্তব্য। এদেশের ভাষাগত, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের ওপর বিরাজমান ও বিকাশমান নিপীড়নের জন্য প্রধানভাবে দায়ী হচ্ছে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের দালাল, আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদের প্রতিনিধিত্বকারী ও সামন্তবাদের রক্ষক আমলা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্র্রেণী। এবং তাদের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি। এই শ্রেণিও তাদের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থাই হচ্ছে আমাদের দেশের সকল প্রকার শ্রেণিগত, ভাষাগত, জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের মূল উৎস ও ভিত্তি। যার প্রধান পাহারাদার হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। এদেরই সহযোগী হচ্ছে ভাষাগত, ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যকার উঠতি ধনী দালাল শ্রেণিটি। তাই বৃহত বাঙালি তথাকথিত মুসলিম আমলা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণি ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাষ্ট্র্ ব্যবস্থাকে উৎখাত করে নয়া বিপ্লবী রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিপ্লবী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শ্রেণিগতভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নির্বিশেষে সকল নিপীড়িত জনগণের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবী যুদ্ধকে গড়ে তোলে ও বিকশিত করেই কেবলমাত্র বৃহত বাঙালি নিপীড়িত শ্রেণি ও জনগণের সাথে সাথে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগণেরও প্রকৃত মুক্তি আসতে পারে- নতুবা নয়। এই কথাটিই আমরা সর্বদা বলে এসেছি। এবং এই লক্ষ্যকে পূরণের জন্যই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি। তাই পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির লাল পতাকাই হচ্ছে এদেশের শ্রেণিগত-ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নিপীড়িত জনগণের মুক্তির পতাকা। তাই এই পতাকার পিছনে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং তার নেতৃত্বে জোরালো সংগ্রাম গড়ে তোলাটাই হচ্ছে এদেশের সকল নিপীড়নের অবসানের একমাত্র উপায় বা পথ। ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের জন্য যে নীতিকে তুলে ধরেছিলেন আমাদের পার্টির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার, এবং যা প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছিল আমাদের পার্টির প্রস্তুতি সংগঠন পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন-এর ১৯৬৮ সালের ৮ জানুয়ারির থিসিসে, তা এখনো বলবত রয়েছে এবং তাকেই আমরা অনুশীলন করি ও করব। এসব নীতিগত অবস্থানসমূহ হচ্ছে :

) বিচ্ছিন্ন হবার অধিকারসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিকে স্বায়ত্বশাসন ও বিভিন্ন উপজাতিকে আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন দেয়া হবে।

) সকল অবাঙালি দেশপ্রেমিক জনগণের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বিকাশের পূর্ণ সুযোগ দেয়া হবে।

) জনগণের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এর সাথে আমরা শুধুমাত্র একটি নীতিকেই সংযুক্ত করেছি এবং তা হচ্ছে “শ্রেণিগত-ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নির্বিশেষে সকলের অধিকার ও মর্যাদা হবে সমান”।

এটাই হবে আমাদের পার্টির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত নয়াগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্রের অন্যতম একটি প্রধান নীতিগত ভিত্তি। এসব নীতিগত ও দৃষ্টিভঙ্গিগত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাই- আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, ভাষাগত-ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণসহ সকল নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়াই, তাদের পক্ষ নেই, তাদেরকে সর্বতোভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করি এবং তার মধ্য দিয়ে শ্রেণিগত-ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় নির্বিশেষে সকল নিপীড়িত জনগণের একটি ঐক্যবদ্ধ অপরাজেয় গণযুদ্ধ গড়ে তুলি। যার লক্ষ্য হবে অবশ্যই নয়াগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলা।

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি(মাওবাদী বলশেভিক পুনর্গঠন আন্দোলন-MBRM)

শেষ সপ্তাহ, নভেম্বর ২০০১

সূত্রঃ https://pbspmbrm.files.wordpress.com/2012/09/spark-collections.pdf

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s