ভারতের গণযুদ্ধের সমর্থনে জার্মানিতে ‘আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক পদক্ষেপ’ এর চমৎকার পরিকল্পনা

jer

 

ভারতের গণযুদ্ধের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক পদক্ষেপ, ০২-০৯ এপ্রিল

জার্মানির ৬টি মহানগরে কর্মসূচীঃ

Sa, 2. April – Berlin
Informationsveranstaltung
Veranstaltet von: Internationalistisches Kollektiv, Kommunistischer Aufbau
Cafe Commune, Reichenberger Str. 157, 18:00

So, 3. April – Göttingen
Informationsveranstaltung
Rotes Zentrum, Lange-Geismar-Str. 2, 18:00

So, 3. April – Köln
Informationsveranstaltung
Veranstaltet von: Kommunistischer Aufbau
Clara Jugendzentrum, Aquinostr. 7-11, 16:00

Mo, 4. April – Bremen
Informationsveranstaltung über den Kampf der Naxaliten in Indien
Kommunikationszentrum Paradox, Bernhardstr. 12, 19:30

Di, 5. April – Hamburg
Veranstaltung zu politischen Gefangenen in Indien und den Gefangenen von ATIK in Deutschland
Internationalistisches Solidaritätskomitee für politische Gefangene
ATIK-Vereinshaus, Bartelsstr. 21 (Hinterhof), 19:30

Mi, 6. April – Hamburg
Die Rolle der Frau im Volkskrieg in Indien
Rotes Frauenkomitee Hamburg, unterstützt von Neue Frau und MLPD
Internationales Zentrum B5, Brigittenstr. 5, 19:30

Do, 7. April – Magdeburg
Informationsveranstaltung
Soziales Zentrum, Alexander-Puschkin-Str. 20, 19:00

Fr, 8. April – Hamburg
Kulturabend mit Informationen zum Volkskrieg in Indien
Kollektiv Rotes Hamburg
Internationales Zentrum B5, Brigittenstr. 5, 19:30

Sa, 9. April – Hamburg
Kundgebung
Durch: Bündnis gegen imperialistische Aggression
S-Bahn Sternschanze, 13:00

সুত্রঃ demvolkedienen.org

Advertisements

ইকুয়েডরঃ জনপ্রিয় সফল যুদ্ধোদ্যম

MARCHA-17-M-2016-FDLP-EC-723x1024


ছত্তিসগড়ে পুলিশের ২ চরকে খতম করেছে নকশালরা

phpThumb_generated_thumbnail

মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিসগড়ের সুকুমা জেলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পুলিশের ২ চরকে খতম করেছে নকশালরা।

খতম হওয়া চর কিচ্ছে মুক্কা‘কে গতকাল সকালে পলাম্পল্লি থানা এলাকায় ও সোনা মুচাকি‘কে গতপরশু রাতে ছিন্দাগড় এলাকায় মাওবাদীরা খতম করে বলে পুলিশ জানাচ্ছে। কিচ্ছে‘র হত্যাকাণ্ডের কারণ জানিয়ে মাওবাদীরা কোন প্রচার পত্র রেখে যায়নি বলে পুলিশ জানাচ্ছে।

তবে শোনা যাচ্ছে, কিচ্ছে সাবেক সালওয়া জুদুম (তৎকালীন বিরোধী নকশাল আন্দোলন) এর নেতা ছিল এবং কংগ্রেসের পক্ষ হয়ে কাজ করছে। অপরদিকে সোনা’র খতমের কারণ জানিয়ে মাওবাদীরা প্রচার পত্র রেখে যায়, এতে বলা হয়, সোনা ২০১১ সাল থেকে পুলিশের চর হয়ে কাজ করছিল এবং তার গ্রামে পুলিশ ক্যাম্প বসানোর জন্য পুলিশকে সহযোগিতা করছিল।

অনুবাদ সূত্রঃ

http://www.deccanchronicle.com/nation/crime/220316/naxals-kill-two-persons-in-chhatisgarh-for-being-police-informers.html


ইভটিজিং নামের যৌন সন্ত্রাসের উৎসটা কোথায়?

girl1

ইভটিজিং-এর নামে যা এখন মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে, আগেও হয়েছে, তাকে ইভটিজিং বলা যায় না। এটা হলো যৌন সন্ত্রাস। একজন মেয়ে ছেলেটিকে পছন্দ না করলেও তাকে জোর করে বিয়ে করতে চাওয়া, বা তাকে যৌন হয়রানী করা, না হলে তাকে ধর্ষণ করা বা হত্যা করা, প্রতিবাদকারী মা/বাবা/ভাই/আত্মীয়/অভিভাবক -কে হত্যা করা বা নির্যাতন করা- এগুলো হলো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এবং একটি চরম গণবিরোধী সন্ত্রাস কবলিত রাষ্ট্র ও সমাজের একটা খণ্ড চিত্রমাত্র। সরকার, পুলিশ, সুশীল সমাজ, বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী- এরা এই সমাজকেই ধারণ করে, লালন করে, পালন করে। শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া এরকম যৌন সন্ত্রাস চায় কি চায় না সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু তারা যে রাজনীতিক দলকে নেতৃত্ব দেয় তার কেডাররা অনেকেই এই ধরনের সন্ত্রাসীই বটে। তাদের নেতা, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ এদের রক্ষা করে। একজন জয়নাল হাজারী, শামীম ওসমান, পিন্টু, কায়কোবাদ তাদের এমপি হয়। তাদের সেনাবাহিনী নিজেরা হত্যা করে লাশ গুম করে। তাদের র‌্যাব দু’হাজারের বেশি মানুষকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করে গল্প ফাঁদে। এমন একটি ব্যবস্থায় যে কিছু যৌন সন্ত্রাসের খবর প্রকাশ হচ্ছে তাকে খুব অল্পই বলা চলে।
এই সমাজে এই সন্ত্রাসী তরুণরা গণবিরোধী ক্ষমতা পেয়ে গেছে তাদের বুর্জোয়া দলগুলোর প্রতিক্রিয়াশীল স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার দৌলতে। তাদের মনন গড়ে উঠেছে বোম্বে ছবির প্রায় নগ্ন নায়িকাদের নাচ-গান এবং নায়কদের ব্যক্তিবীরত্ববাদী সন্ত্রাস দেখে। তারা বড় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল যুগে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বের যৌন ছবি দেখে এবং সুযোগ হলে তা বানিয়ে। তারা যে সমাজে গড়ে উঠছে সেখানে নারীকে দেখা হয় ভোগ্য পণ্য বা নিম্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে। তরুণ-তরুণীরা পরস্পর বন্ধু হওয়ার সুযোগ এখানে নেই, তাহলে পুলিশও তাদেরকে ধরে নেবে। তাদের তারুণ্যের জীবনে অশ্লীল বিকৃত গণবিরোধী যৌন চর্চা ব্যতীত কোন বিনোদনের ব্যবস্থা শাসকশ্রেণী ও রাষ্ট্র রাখেনি। শহর নগরের সমস্ত খেলার মাঠ, সকল সাঁতারের পুকুর খাল পরিণত হয়েছে হাউজিং, শপিং মল আর বস্তিতে। বই পাঠ, খেলাধুলা, প্রগতিশীল সংস্কৃতি ও রাজনীতি চর্চার জায়গা দখল করেছে হুন্ডা প্রীতি, মাস্তানবাজি আর সিডি/ডিভিডি/মোবাইল/ইন্টারনেটের যৌনচর্চা/ভিডিও গেমের মারামারি। এই তরুণরা অপরাধী যখন হয় তখন দায়টা কার?
শুধু বিপ্লবই এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ভারতের ছত্তিশগড়ে দেখুন, তরুণ আর তরুণীরা একত্রে এক বাহিনীতে থাকছে, যুদ্ধ করছে, সমাজকে বদলাচ্ছে, নিজেদেরও বদলে নিচ্ছে। সেটা ব্যতীত এনজিও, বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী ও মধ্যবিত্তদের আহাজারিতে এই পরিস্থিতির মৌলিক কোন পরিবর্তন হবে না। তরুণ ও তরুণীদের উন্নত জীবনের জন্য বিপ্লবের পথেই আসতে হবে।

(নভেম্বর, ২০১০)

সূত্রঃ আন্দোলন প্রকাশনী, সিরিজ ৩


প্যালেস্টাইন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক নিবন্ধঃ পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি(MBRM)

free_palestine_by_shahbazrazvi-d7rw1xa-940x429

প্যালেস্টাইনি জনগণের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট ইজরাইলি আগ্রাসনকে বিরোধিতা করুন

আফগানিস্তানের পর এখন প্যালেস্টাইন জ্বলছে। মার্কিনের মদদপুষ্ট ইজরাইলি বাহিনী শত শত ট্যাঙ্ক আর হাজার হাজার সৈন্য দিয়ে নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে প্যালেস্টাইনি জনগণের ওপর। এ হচ্ছে বিশ্ব জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঘোষিত ক্রুসেড তথা ধর্মযুদ্ধের আরেকটি পর্যায় ও রূপ। এবং তা পরিচালিত হচ্ছে তথাকথিত সন্ত্রাস দমনের সেই একই পুরনো অজুহাতে।

অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে প্যালেস্টাইনি জনগণ নয়,ইহুদিবাদ আর তার রাজনৈতিক-মতাদর্শিক অবস্থান জায়নবাদই হচ্ছে সন্ত্রাসী মতবাদ। এবং সাম্রাজ্যবাদীদের প্রত্যক্ষ মদদে সৃষ্ট ও টিকে থাকা সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থের পাহারাদার সন্ত্রাসী ইজরাইল নামক রাষ্ট্রটাই হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সকল সন্ত্রাসের উৎস, ভিত্তি ও নিয়ন্ত্রক।

ইজরাইল নামক রাষ্ট্রটা হচ্ছে ইহুদিবাদ নামক বর্ণবাদ ও ইজরাইল নামক উপনিবেশবাদের এক বৃহত ও ঘৃণ্য প্রদর্শনী। যার রাজনৈতিক-মতাদর্শিক অবস্থানের নাম জায়নবাদ। জায়নবাদ হচ্ছে উগ্র ইহুদিবাদ। বৃটিশ ও ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ মদদে সৃষ্ট জায়নবাদী আন্দোলন নামক উগ্র ইহুদিবাদী আন্দোলন প্রথমে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল ইউরোপে। যার আশু কর্মসূচি ও লক্ষ্য ছিল ইহুদি ধর্মের ওপর ভিত্তি করে ইহুদিদের নিয়ে প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং পরবর্তীতে তাকে সম্প্রসারিত করে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ জুড়ে ইহুদি সাম্রাজ্য গড়ে তোলা। এই রাজনৈতিকমতাদর্শিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জায়নবাদী আন্দোলনের নেতারা সাধারণ ইহুদি জনগণকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করে তাদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে এবং নিজেরা বিশ্ব জনগণের শত্র“ সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে আঁতাত-দাঁতাতের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এবং এশিয়া-আফ্রিকার সংযোগস্থলের মতো অতিশয় রণনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকায় তারাই যে হবে সাম্রাজ্যবাদীদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সেবাদাস এবং তাদের মাধ্যমে সমগ্র আরব ভূখণ্ডকেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যে সহজ হবে – তা সাম্রাজ্যবাদীদেরকে বুঝানোর জন্যও কোশেষ করে। এসবের ফলশ্রুতিতে বিশেষত বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইহুদি ধনকুবেরদের আর্থিক-বৈষয়িক সহযোগিতার প্রতিদানে বিশ্বযুদ্ধের পর, বৃটিশ ও ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি অংশে ইজরাইল নামক একটি ইহুদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করাও হয়েছিল। যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ইহুদিদের নিয়ে এসে সেখানে বসতি স্থাপনের মাধ্যমে। এবং অসংখ্য স্থানীয় আরব-ফিলিস্তিনি মুসলিম, খৃস্টান ও ইহুদি সাধারণ জনগণের রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিয়ে। ফলে এছিল একদিকে ইহুদিবাদ নামক চরম বর্ণবাদ এবং অন্যদিকে মধ্যযুগীয় উপনিবেশবাদেরই এক বৃহত ও ঘৃণ্য প্রদর্শনী। পরে ইজরাইল নামক রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ হয়েছে সাম্রাজ্যবাদীদের ঢালাও মদদে প্যালেস্টাইন, জর্দান, মিসর, সিরিয়া ও লেবাননের বিশাল ভূখণ্ড জবরদখল ও আত্মসাত করার মধ্য দিয়ে। যার মধ্য দিয়ে ইজরাইল নামক সন্ত্রাসী রাষ্ট্রটি আত্মপ্রকাশ করেছে একটি বৃহত সম্প্রসারণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে। এবং জবরদখলকৃত ভূখণ্ডে স্থানীয় অধিবাসীদেরকে উৎখাত করে, সম্পদহারা করে সেখানে প্রথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইহুদিদের নিয়ে এসে নতুন নতুন বসতি স্থাপন করে সেগুলোকেও উপনিবেশের আওতাভুক্ত করেছে। এসব উপনিবেশবাদীদের দ্বারা আরব মুসলিম ও খৃস্টানদের মতো স্থানীয় সাধারণ ইহুদি জনগণও নির্যাতিত ও সম্পদহারা হয়েছেন ও হচ্ছেন। এবং বহিরাগত ইহুদিরাই ইজরাইল নামক রাষ্ট্রের আম-মোক্তারে পরিণত হয়েছে।

এভাবে যে জায়নবাদী আন্দোলনের ফলশ্র“তিতে ইজরাইল নামক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণ হয়েছে তা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ব্যাপীই অশান্তির অনল সৃষ্টি করেছে। কখনো তা ধিকিধিকি জ্বলছে আবার কখনো বা তা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে। যাতে জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ আর বলী হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ জনগণ। বাস্তবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই ইজরাইল নামক রাষ্ট্রটা হচ্ছে একটি মস্তবড় বিষফোড়া, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকেই দূষিত ও বিষাক্ত করে তুলছে। সমগ্র আরব ভূখণ্ডকে নিয়ন্ত্রণের জন্য, আরবীয় তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য, আরব জনগণের সম্পদ লুটে-পুটে খাবার জন্য বিশ্ব জনগণের শত্রু সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের বর্তমান মোড়ল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে ইজরাইলকে অবাধ রাজনৈতিক-আর্থিক-বৈষয়িক-সামরিক সাহায্য করার মধ্য দিয়ে টিকিয়ে রাখছে। এবং আরব জনগণের ওপর বর্ধিত ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে তাকে সক্ষম করে তুলেছে। যার সর্বশেষ প্রদর্শনীটা হচ্ছে প্যালেস্টাইনি জনগণের ওপর ইজরাইলের বর্তমানের ভয়াবহ আগ্রাসী অভিযান। যাতে পুড়ছে প্যালেস্টাইন,জ্বলছে ঘর-বাড়ি, বলী হচ্ছেন ফিলিস্তিনি জনগণ।

 ইজরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে অ্যারিয়েল শ্যারন, তার নেতৃত্বেই প্যালেস্টাইনের বর্তমান ধ্বংসযজ্ঞ চালিত হচ্ছে। এই শ্যারনই ছিল অতীতে ইজরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং তার নেতৃত্বেই ১৯৮২ সালে পড়শি দেশ লেবাননে ইজরাইলি আগ্রাসন চালিত হয়েছিল। তখন বেশ কয়েক হাজার লেবাননি ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোককে হত্যা করা হয়েছিল এবং ইজরায়েলিদের এক তদন্তেই লেবাননের গণহত্যার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্যারনকে দায়ী করা হয়েছিল। অথচ এই শ্যারনকেই এখন হোয়াইট হাউজ তথা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ “শান্তিবাদী মানুষ” বলে ফতোয়া জারি করছে। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তথাকথিত “শান্তি প্রতিষ্ঠা”-র ভণ্ডামীর স্বরূপটাই আরেক বার সকলের নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। তারা কেমন ধরনের শান্তি ও “শান্তিবাদী মানুষ” চায়, তা বুঝতে এখন আর কারো কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। বর্তমানের মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির মতো ইহুদিবাদীদের প্রভাবে পেন্টাগনই যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিদেশ নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে তা এখন আরো বেশি করে বেশি লোকের নিকট স্পষ্ট হয়ে গেছে।

প্যালেস্টাইনের ওপর আগ্রাসনকারী, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনাকারী, মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের মদদপুষ্ট ইজরাইল শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি জনগণের নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য সহ সমগ্র আরব ভূখণ্ডের সকল জনগণের অভিন্ন শত্র“। তাই তাকে উৎখাতের জন্য ফিলিস্তিনি জনগণকে অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্য সহ সমগ্র আরব বিশ্বের জনগণের সাথেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এবং অভিন্ন শত্র“র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে হবে। একাজে সাম্রাজ্যবাদের সাথে গাটছড়া বাধা ফিলিস্তিনি বিকাশমান আমলা মুৎসুদ্দি বুর্জীয়াশ্রেণির প্রতিনিধিত্বকারী ইয়াসির আরাফাতের মতো মেরুদণ্ডহীন, প্রতারক, বেঈমান নেতাদের ওপর এবং/অথবা সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরশীল সামন্তবাদের প্রতিনিধিত্বকারী ধর্মীয় মৌলবাদী নেতাদের ওপর যে নির্ভর করা যায় না, তা ইতোমধ্যেই বারংবার প্রমাণিত হয়েছে। একাজে মধ্যপ্রাচ্য সহ সমগ্র আরব বিশ্বের তথাকথিত নেতৃত্বের দাবিদার সাম্রাজ্যবাদের দালাল রাজা-বাদশাহ, প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীদের ওপরও যে নির্ভর করা যায় না তাও ইতোমধ্যে বারংবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই একাজের জন্য তথা নিজেদের মুক্তির জন্য ফিলিস্তিনি জনগণকে ও মধ্যপ্রাচ্য সহ সমগ্র আরব বিশ্বের জনগণকে এখন নিজেদের ওপরই নির্ভর করতে হবে। এবং আত্মনির্ভরশীলতার ভিত্তিতে একটি অপরাজেয় গণযুদ্ধ গড়ে তুলতে হবে। যে গণযুদ্ধ পরিচালিত হবে মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রধান পাহারাদার ইজরায়েলি সম্প্রসারণবাদের উৎখাতের জন্য। এবং সেই গণযুদ্ধ একইসাথে পরিচালিত হবে নিজ নিজ দেশে সাম্রাজ্যবাদের দালাল আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদের বিরুদ্ধে। এধরনের একটি অপরাজেয় গণযুদ্ধ গড়ে উঠতে ও বিকশিত হতে পারে কেবলমাত্র সাম্রাজ্যবাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে এবং তা কার্যকর হতে পারে শ্রমিকশ্রেণির রাজনৈতিক পার্টির নেতৃত্বে। যে পার্টি পুঁজিবাদ ও তার সর্বোচ্চ রূপ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত কার্যকর মতাদর্শগত তত্ত্বগত হাতিয়ার মার্কসবাদ- লেনিনবাদ-মাওবাদকে আঁকড়ে ধরবে এবং শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-জাতীয় বুর্জোয়াশ্রেণির ঐক্যের তথা যুক্তফ্রন্টের ভিত্তিতে লড়াইকে পরিচালনার নীতি গ্রহণ করবে। এধরনের একটি পার্টি গড়ে তোলা এবং তার নেতৃত্ব অপরাজেয় গণযুদ্ধ গড়ে তোলা ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য এবং মধ্যপ্রাচ্য সহ আরব বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনগণের জন্যও খুবই প্রয়োজন ও জরুরি। এবং কেবলমাত্র তার মধ্য দিয়েই মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের মদদপুষ্ট ইজরাইলি আগ্রাসনের চির অবসান ঘটানো সম্ভব।

প্যালেস্টাইনি তথা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর আগ্রাসনকারী ইজরাইলের মদদদানকারী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে আমাদের দেশ সহ সমগ্র বিশ্ব জনগণের শত্রু। তাই তার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের লড়াই হচ্ছে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশ সহ বিশ্ব জনগণের লড়াইয়েরই অংশ। তাই ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। তাই আসুন, আমরা প্যালেস্টাইনের জনগণের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট ইজরাইলি আগ্রাসনকে বিরোধিতা করি। এবং ইজরাইলের মদদদানকারী প্রভু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের দেশেও অপরাজেয় গণযুদ্ধ গড়ে তুলি। এবং তার মধ্য দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে দুর্বল করে প্যালেস্টাইনি জনগণকে সত্যিকারে সহায়তা করি।

দ্বিতীয় সপ্তাহ, এপ্রিল ২০০২

সূত্রঃ https://pbspmbrm.files.wordpress.com/2012/09/spark-collections.pdf