দেশান্তর নয় – গণযুদ্ধই হচ্ছে ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়

0-AyImU221BZ2ktnZw

দেশান্তর নয়-গণযুদ্ধই হচ্ছে ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়

আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছেন ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণ। তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল যাবত যে ভয়াবহ নিপীড়ন, নির্যাতন ও লাঞ্ছনা চলছে তার ফলশ্রুতিতে তাদের একটা অংশের মধ্যে দেশান্তরের প্রবণতা গড়ে উঠেছে, বিকশিত হয়েছে এবং স্থায়ী রূপ নিয়েছে। যা খুবই ভুল। কেননা দেশান্তর তাদের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম নয়। আমরা পরিষ্কারভাবেই মনে করি যে, দেশান্তর নয়- কেবলমাত্র গণযুদ্ধই হচ্ছে ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের সমস্যার সমাধানের প্রকৃত উপায়।

ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগণের মধ্যকার বৃহদাংশ উর্দুভাষী জনগণের মধ্যে পাকিস্তানে যাবার প্রবণতা রয়েছে। একইভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের মধ্যকার বৃহদাংশ হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভারতে যাবার প্রবণতা রয়েছে। আর জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের মধ্যকার বৃহদাংশ পাহাড়ি জনগণের মধ্যে নিকটবর্তী ভারত ও বার্মাতে যাবার প্রবণতা রয়েছে।

এসব সঠিক নয়। কেননা দেশান্তর হচ্ছে পলায়নবাদ। যা সমস্যার সমাধানের জন্য মরিয়া লড়াইয়ের বিপরীতে তুলনামূলক সুবিধাজনক পলায়নের পন্থাকে সামনে নিয়ে আসে। এ হচ্ছে সুবিধাবাদ। যা দ্বারা তাদের সুবিধাবাদী নেতারা তাদেরকে সজ্জিত করেছে। এ থেকে মুক্ত হতে তাদেরকে সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব।

ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের অধিকাংশই হচ্ছেন গরিব। এদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক, কৃষক ও নিম্ন মধ্যবিত্ত জনগণ। তাই এরা হচ্ছেন মার্কিনের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ দেশীয় আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদ দ্বারা নিপীড়িত শ্রেণিসমূহের ও পূর্ববাংলার বৃহত জনগোষ্ঠীরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এদের ওপর চালিত সকল প্রকার নিপীড়ন হচ্ছে সারবস্তুতে আমাদের দেশে বিরাজমান শ্রেণিগত নিপীড়নেরই বিবিধ রূপ মাত্র। পাকিস্তান, ভারত ও বার্মাতেও রয়েছে আমাদের দেশের মতোই শ্রেণিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিবিধ রূপ। তাই নিপীড়িত শ্রেণির কারো পক্ষেই সে সব দেশে যেয়ে শ্রেণিগত নিপীড়নের বিবিধ রূপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে যারা দেশান্তরী হয়েছেন তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের বক্তব্যকেই সঠিক প্রমাণ করে।

ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের ওপর চালিত নিপীড়ন হচ্ছে যেহেতু শ্রেণিগত নিপীড়নেরই বিবিধ রূপ – তাই তার সমাধানের উপায়ও হচ্ছে বিপ্লবী শ্রেণিসংগ্রাম। বিপ্লবী শ্রেণিসংগ্রামেরই উচ্চতম রূপ হচ্ছে বিপ্লবীযুদ্ধ বা গণযুদ্ধ। আমাদের মতো সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ দ্বারা নিপীড়িত দেশে এই গণযুদ্ধের মধ্য দিয়েই নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে মানব কর্তৃক মানব শোষণের চির অবসানের কাংখিত সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের আলোকময় জগতের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি আমাদের দেশে এই ধরনের একটি অপরাজেয় মাওবাদী গণযুদ্ধকে গড়ে তোলা ও বিকশিত করার জন্য মরণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই দেশান্তর নয়, বরং এই গণযুদ্ধে শরীক হওয়া এবং তাকে বিজয়ী করে তোলাটাই হচ্ছে ভাষাগত-জাতিগত-ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়।

প্রথম সপ্তাহ, এপ্রিল ২০০২

সূত্রঃ https://pbspmbrm.files.wordpress.com/2012/09/spark-collections.pdf

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s