আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতীকঃ শহীদ নারী কমরেড ‘বারবারা আন্না কিস্টলার’

466218_o70cb

বারবারা আন্না কিস্টলার ২১ নভেম্বর, ১৯৫৫ সালে জুরিখে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা শ্রমিক ছিলেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং যারা শাসক ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন সেসব জনগণকে দলে সংগঠিত করতে শুরু করেন। ১৭ বছর বয়সে, তিনি রাজনৈতিক বন্দীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।  এছাড়া তিনি বিভিন্ন নারী সংগঠনে কাজ করতেন। তার লক্ষ্য ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মাধ্যমে নারীদের নারীবাদী ধারণার পরিবর্তন করা। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ফ্যাসিবাদ বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করেন। বিচ্ছিন্নতা (KGI) বিরোধী দলের সাথে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিল, যারা সুইজারল্যান্ডে একটি কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিল।একই সাথে তিনি অন্যান্য দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পরিস্থিতি অনুসন্ধান করতেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের আন্দোলনের প্রতি তিনি আগ্রহী ছিলেন।

১৯৮০ সালে, তিনি সামরিক অভ্যুত্থান এড়িয়ে যে সমস্ত বিপ্লবী তুরস্ক থেকে সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান, তাদের কাছ থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি সহানুভূতিশীল হিসেবে মাওবাদী TKP/ML[তুর্কি কমিউনিস্ট পার্টি/মার্কসবাদী-লেনিনবাদী] এর সংস্পর্শে আসেন। এ সময় পার্টি তাঁকে আরো গভীর ভাবে মাওবাদী TKP/ML এর প্রোগ্রাম অধ্যয়নের বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়। এরপর তিনি সুইজারল্যান্ডের জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন, তাই তিনি তুরস্ক থেকে যান এবং মাওবাদী TKP/ML এর নেতৃত্বে শ্রেণী সংগ্রামে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯১ সালের ১৯শে মে তিনি ইস্তাম্বুলে অন্যান্য কমরেডদের সাথে একত্রে গ্রেফতার হন।ফ্যাসিস্ট তুর্কি রাষ্ট্রের আদালতের সামনে তিনি- “সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদকে দোষারোপ করার কোন অধিকার আপনাদের নেই!” এই কথাগুলো বলে তুর্কি ফ্যাসিবাদের নিন্দা জানান। ১৬ই সেপ্টেম্বর তারিখে তিনি মুক্তি পান এবং সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান। কিন্তু তিনি কেবল এক মাসের জন্য সেখানে থাকেন এবং আবার তিনি তুরস্কে ফিরে যান।

তিনি মাওবাদী TKP/ML এর সশস্ত্র শাখা TIKKO[তুরস্কের শ্রমিক ও কৃষকদের মুক্তি সেনা] এর সশস্ত্র সংগ্রামে যোগদানের জন্য পাহাড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৩ সালে রিপোর্ট আসে যে তিনি শহীদ হন।

কমরেড বারবারা ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ এবং প্রতিক্রিয়াশীলসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃস্থানীয় সংগ্রামে তার জীবন দিয়েছেন। তার সংগ্রাম আমাদের সংগ্রাম এবং তিনি আমাদের সংগ্রামে বেঁচে থাকবেন।

কমরেড বারবারা আন্না কিস্টলার অমর হোন!

নয়া গণতান্ত্রিক যুব – Yeni Demokratik Genclik (YDG)

মহান আন্তর্জাতিকতাবাদী নারী কমরেড ‘বারবারা আন্না কিস্টলার‘ এর প্রতি রইল ‘লাল সংবাদ‘ এর লাল সালাম।

(অনূদিত)


আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি[মাওবাদী] এর দলিল

logo

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ সংগঠিত করা ও পরিচালনার জন্য এগিয়ে আসুন!

আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি কর্তৃক প্রকাশিত, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০১

আবারো আফগানিস্তানের দুর্ভোগ-পীড়িত মানুষ আর দুঃখ জর্জরিত এ দেশ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের বলী হতে চলেছে, এবার তা করা হচ্ছে “সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ”-এর ছুতা দেখিয়ে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা একে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করেছে আর তাদের পক্ষে বিশ্বের তাবত সাম্রাজ্যবাদী আর প্রতিক্রিয়াশীলদের ব্যাপক জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

“সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব জোড়া যুদ্ধ”-এর ধুঁয়া হলো এক জঘণ্য মিথ্যাচার, কারণ এ শ্লোগান তুলেছে দুনিয়ার সবচাইতে বড় সন্ত্রাসবাদী শক্তি। ইয়াংকিরা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন নিজেদের বসত ভিটাতেই। যারাই এ ক্ষত সৃষ্টি করে থাকুক না কেনো তা নিদারুণ পীড়াদায়ক; ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পরিমাপের কারণেই শুধু নয় বরং বিশেষভাবে এ জন্য যে তা বিশ্ব জনগণের কাছে এটা ফাঁস করে দিয়েছে যে এদের ব্যবস্থাটাই আসলে কতটা দুর্বল আর বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের প্রাসাদ কতটা নড়বড়ে। এ কারণেই এরা আহত পশুর মতো আর্তনাদ করছে এবং এর রক্তাক্ত প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তর্জন গর্জন করছে। আসলে তারা চায় তাদের ক্ষমতা সর্বাধিক ভীতিকর উপায়ে প্রদর্শন করতে এবং বিশ্বের জনগণকে ভয় দেখাতে যাতে বিশ্ব জুড়ে তাদের ক্ষমতা আর আধিপত্য দুর্বল না হয়। এ কারণে তাদের ঘোষিত “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব জোড়া যুদ্ধ” হবে, সাধারণভাবে ও বিশেষভাবে আফগানিস্তানের বেলায়, পৈশাচিক সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী অভিযান।

কারা নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে এই আত্মঘাতি হামলা চালিয়েছে? ওসামা বিন লাদেন ও তার সাঙ্গ পাঙ্গদের এর জন্য এক নম্বর সন্দেহভাজন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কে এই ওসামা? সে হলো সিআইএ কর্তৃক সৃষ্ট। বছরের পর বছর ধরে সে ছিল ইয়াংকিদের প্রকাশ্য ও অনুগত সেবাদাস এবং হতে পারে সে হয়তো এখনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এক বা একাধিক অংশের সাথে দহরম মহরম বজায় রেখে চলেছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেরাই এই “মহা সন্ত্রাসী”-কে জন্ম দিয়েছে, খাইয়ে দাইয়ে বড় করেছে ও শিখিয়ে পড়িয়ে তুলেছে। এই “মহা মুজাহিদীন”-এর সাথে সম্পর্কিত গোষ্ঠী আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের মিত্রদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতি, উৎসাহ দান ও সমর্থনের ভিত্তিতে আফগান জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক গুচ্ছ ভয়াবহ ও বর্বর কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এই গোষ্ঠীকে তারা সৃষ্টি করেছিল আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য ও আমাদের দেশে হানা দেবার জন্য।

তাদেরকে আশ্রয় দেবার অপরাধে, সেই একই “কঠোর নির্যাতন”-এর জন্য, কাদেরকে “সন্ত্রাসী” হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে? তালিকার এক নম্বরে রয়েছে তালেবান শাসকদের নাম। কিন্তু কারা এই তালেবান? আফগানিস্তান ও অত্র অঞ্চলে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য হাসিলের জন্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সহযোগীরাই তাদেরকে মসজিদ আর মক্তব-মাদ্রাসার অন্ধকার কোণা থেকে বাইরে টেনে এনেছিল। এই সমর্থনের বলেই তালেবানরা দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করা থেকে উঠে এসেছিল ক্ষমতার মসনদে। তাদের প্রতিক্রিয়াশীল ক্ষমতার প্রতিপক্ষকে দমন করার ছুতায় এই পাশবিক সন্ত্রাসী চক্র নিজেদের শাসনামলে গণহত্যা, হাজার হাজার লোকের গুম-খুন আর জবরদস্তিমূলকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করার কাজ থেকে পিছপা হয়নি। কোনো সন্দেহ নেই যে জনগণ, মেহনতি মানুষ, নারী ও নিপীড়িত জাতিসমূহের প্রশ্নে তাদের রাজনীতির সারবস্তু হলো ভয়াবহতা ও সন্ত্রাস। এই যে গোষ্ঠীগুলো যাদের স্বঘোষিত করণীয় হলো “শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন” তারা হলো এই বর্বরতা ও সন্ত্রাসের ভয়াবহ প্রতিফলন।

এটা স্পষ্ট যে সাম্রাজ্যবাদের খাস গোলামরা ততক্ষণ পর্যন্তই মূল্যবান যতক্ষণ পর্যন্ত তারা উপকারী আর তাদের উপযোগিতা যখন নিঃশেষ হয়ে যায় বা তাদের অস্তিত্ব প্রভুর জন্য ঝামেলার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় অথবা যখন তাদের বদলে ভালো সেবাদাস পাওয়ার বস্তুগত ভিত্তি সৃষ্টি হয় তারা তখন হয়ে পড়ে অপদার্থ, তারা প্রভুর সমর্থন খোয়ায় কিংবা প্রভুর রোষানলে পতিত হয়। মবুতু, সুহার্তো, ফুজিমোরির মতো সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত পদলেহীরা বছরের পর বছর ধরে প্রভুর খেদমত করার পর জনগণের সংগ্রামের মুখে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার সক্ষমতা হারায়, অথর্ব হয়ে পড়ে এবং আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। কিন্তু পানামার নরিয়েগার অস্তিত্ব প্রভুর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, সে আক্রমণের টার্গেটে পরিণত হয় এবং শুধু ক্ষমতা থেকে অপসারিত হয় তা-ই নয়, হাতকড়া পরিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় “বিচার”-এর কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় ওসামা ও মোল্লা ওমরের কপালের লিখনও একই। ওসামার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর আফগানিস্তানে প্রতিষ্ঠা সমেত সামগ্রিকভাবে তালেবান প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল সে দেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্রদের কাঙ্খিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং মধ্য এশিয়ায় তাদের প্রভাবের পথ প্রশস্ত করা। কিন্তু এই প্রকল্প মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে কাঙ্খিত ফল দিতে যে ব্যর্থ হয়েছে শুধু তা-ই নয় বরং হয়ে দাঁড়ায় তার উল্টো, মধ্য এশিয়ায় তাদের প্রভাবের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং সব মিলিয়ে বিরক্তির কারণে পর্যবসিত হয়। এ কারণে তালেবান ও ওসামা মার্কিনের সমর্থন হারায় ও মার্কিনী প্রভুর কোপানলে পতিত হয়। সেটা অবশ্য এ কারণে নয় যে বিশ্ব খেকো শক্তি সন্ত্রাসবাদ ও ভীতি ফেরি করার বিরোধী। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কি ইহুদিবাদ ও দখলদারিত্ব ও ভয়ভীতির কারবারী রাষ্ট্র ইসরায়েলের এক নম্বর সমর্থক নয় যে ইসরায়েল হলো বিশ্বে বিভীষিকা, সন্ত্রাস, হত্যা আর লুটপাটের অন্যতম রক্তপিপাসু গ্যাং? ইহুদিবাদ ও ইসরায়েলী রাষ্ট্র মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের “সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশ্ব জোড়া যুদ্ধ”-এর টার্গেট নয় কোনো? এটা পরিষ্কার যে “যুদ্ধ”-এর টার্গেট হওয়া তো দূরের কথা, তারা বরং এই যুদ্ধ-ক্যাম্পের এক গুরুত্বপূর্ণ সেকশন।

অধিকন্তু, ওসামা গোষ্ঠী কর্তৃক উত্থাপিত এবং তালেবান কর্তৃক ধুঁয়া ধরা “মার্কিনী নাস্তিকতা বিরোধী জিহাদ” শীর্ষক শ্লোগান ডাহা মিথ্যাচার এবং মহা শঠতা মাত্র। আফগানিস্তানের জনগণ “দুর্নীতি ও অবক্ষয় বিরোধী জিহাদ”-এর “ফল” ও “উপকারিতা” হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। এটা স্বতঃস্পষ্ট ও “মার্কিনী নাস্তিকতা”র আক্রমণ বিরোধী আফগান “জিহাদ” যদি একটা ফাঁকা শ্লোগান থেকে কার্যে রূপান্তরিত করাও যায় তাহলেও তা দেশ ও জনগণের জন্য কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না। জোর সম্ভাবনা রয়েছে যে, হয় এই সেবাদাসরা কোনো না কোনো পরম পূজনীয় প্রভুর সাথে আপোষ করবে অথবা তাদের আক্রমণ ও আগ্রাসনের মুখে যুদ্ধের ময়দান থেকে দ্রুত সটকে পড়বে।

এই প্রেক্ষাপটে, তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত প্রতিক্রিয়াশীলদের অর্থাৎ “আফগানিস্তানের ইসলামিক রাষ্ট্র”-এর [উত্তরাঞ্চলীয় জোট (ইংরেজি অনুবাদক)] জীবন-মরণ সমস্যা ও অন্ধকারময় অবস্থাও ঘৃণা উদ্রেককারী ও শোচনীয়। এরা সম্প্রতি এতিম ও কাণ্ডারিহীন হয়ে পড়েছে। এই প্রতিক্রিয়াশীলরা ইতোমধ্যেই রাশিয়া, ভারত এবং আফগানিস্তানের সমস্যার সাথে যুক্ত তাদের মিত্রদের খড়বিচালি থেকে পেট ভরাতে শুরু করেছে। শকুনের মতো মৃত পশুর মাংসের ভাগ পাওয়ার আশায় এখন তারা বার বার ঘোষণা দিচ্ছে যে তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনকারীদের খেদমত করতে ইচ্ছুক। যাহোক, একদিকে আফগান জনগণের স্বার্থ এবং অপরদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, তাদের সাম্রাজ্যবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল মিত্র এবং সাধারণভাবে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থাই শুধু নয়, সাম্রাজ্যবাদের পদলেহী, প্রতিক্রিয়াশীল ও নির্ভরশীল ব্যবস্থার স্বার্থের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য ও দ্বন্দ্ব রয়েছে।

সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদীদের আক্রমণ ও দখলদারিত্বকে প্রতিরোধ করার মতোই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের মিত্রগণ কর্তৃক আক্রমণ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করাটা আফগানের জনগণের পরম অধিকার ও কর্তব্য। কিন্তু এই অধিকার ও কর্তব্যের প্রকৃতি [তালেবানদের] “ইসলামিক আমিরাত”সহ বাধ্য-অবাধ্য নির্বিশেষে সাম্রাজ্যবাদের পদলেহীদের সাথে তাদেরকে দ্বন্দ্বে নিক্ষেপ করেছে। সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে এবং বর্তমান পরস্থিতিতে তাকে প্রয়োগ করতে হবে।

আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনের হুমকিকে তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছে এবং সাম্রাজ্যবাদ এমন আক্রমণ চালালে ও দখল কায়েম করলে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছে এবং বিশ্ব বিপ্লবের অংশ হিসেবে তার জন্য স্বাধীন ও বিপ্লবী পতাকাতলে জনগণের প্রতিরোধ সংঘটিত ও পরিচালনার উদ্যোগ নেবে। শুধুমাত্র এ ন্যায়সঙ্গত বিষয় যদি একটি বস্তুগত শক্তিতে পরিণত হয় এবং ক্রমবর্ধিতভাবে শক্তিশালী ও প্রসারিত হয়, তাহলে গণযুদ্ধ ও আফগানিস্তানের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের একটা স্তর হিসেবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ যুদ্ধকে আমরা এগিয়ে নিতে পারি। এর একটা অপরিহার্য শর্ত হলো এই যে – তালেবানী বা অ-তালেবানী যে কিসিমেরই হোক না কেনো -“প্যান ইসলামিজম” ও বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রতিক্রিয়াশীল “ধর্মরাজ” বিপ্লবী সংগ্রামের অন্যতম মূল লক্ষ্যবস্তু (one of the main targets) থেকে যাচ্ছে আর এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে হবে ভিন্ন রূপে। তা না হলে জনগণের অমূল্য রক্তদান বৃথা যাবে এবং নিপীড়ন ও দাসত্ব থেকে যাবে অনড়।

সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়া নিপাত যাক!

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের পতাকাকে ঊর্ধে তুলে ধরুন!

বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক, দীর্ঘজীবী হোক কমিউনিজম!

আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি হলো বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন-এর অন্যতম অংশগ্রহণকারী পার্টি।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য লিখুন: BCM RIM, London WCIN 3XX,UK

সূত্রঃ https://pbspmbrm.files.wordpress.com/2012/09/spark-collections.pdf


ভারতের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে নারীদের ভূমিকা

_70371737_maoistrebelschattisgarhap

উনিশ শতকের  উপনিবেশিক যুগ থেকেই সতী, পরদা, স্থায়ী বৈধব্য ইত্যাদি পিতৃতান্ত্রিক নিপীড়নমূলক সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে  ভারতের নারীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। বৃটিশ উপনিবেশিক শাসন বিরোধী স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রামেও অংশগ্রহণ করেছেন। তাতে শিক্ষিত নারীদের মধ্যে পুরুষতন্ত্রের বিপরীতে  নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীদের অধিকার সচেতনতা, এবং যৌথভাবে সংগঠিত হয়ে দাবি-দাওয়ার আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুললেও সেগুলো নারীমুক্তির মূল শত্রু শোষণ-নিপীড়নমূলক পুঁজিবাদী-সামন্তবাদী পিতৃতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা উচ্ছেদের কর্মসূচিতে সংগঠিত হয়নি।

১৯৪০-এর দশকে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে তেভাগা কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ আন্দোলনে নিপীড়িত গরীব কৃষক  নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উচ্চমাত্রার। তখন রাষ্ট্রীয় দমনের পাল্টা আক্রমণের জন্য ‘নারীবাহিনী’ গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫১-তে  তেলেঙ্গানা সশস্ত্র কৃষক উত্থান গড়ে ওঠে। বিপুল সংখ্যক নারীরা তাতে অংশগ্রহণ করেন। কৃষক ও আদিবাসী নারীগণ গেরিলা স্কোয়াডের সদস্য হয়েছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিবেষ্টনী  দমনাভিযানের মুখে সেসকল নারীরা নির্মম নিপীড়ন সহ্য করে ও নিশ্চিত মৃত্যুকে মেনে নিয়ে বীরত্ব ও দৃঢ়তার স্বাক্ষর রেখেছেন। কিন্তু সে সময়কার ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি শোষণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থাকে উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের মাধ্যমে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের লাইনে চালিত না হওয়ায় তা ব্যর্থ হয়।

ভারতে বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলন ও  নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রক্রিয়া শুরু হয় কমরেড চারু মজুমদারের নেতৃত্বে নকশালবাড়ীর গণউত্থানের মধ্যদিয়ে। তাতে গরীব কৃষক স্বামী-পিতা-ভাইদের পাশাপাশি স্ত্রী-কন্যা-মা-বোন হিসেবে তেভাগা-তেলেঙ্গানার কৃষক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাভাবিক ভাবেই নারীরাও পূর্ণোদ্যমে যুক্ত হয়ে পড়েন। এবং ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারীযোদ্ধাগণ সচেতনভাবে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করার জন্য অসাধারণ বীরত্ব ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেন। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামের সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সেখানে সশস্ত্র স্কোয়াডের কমান্ডার হয়েছিলেন নারী। সেসকল নারী কমরেডগণ গরীব

কৃষক জনগণকে ব্যাপকভাবে গণযুদ্ধের  রাজনীতিতে সংগঠিত করেছিলেন। এবং জোতদার-মহাজনদের মনে ত্রাসের সঞ্চার করেছিলেন। এই সংগ্রামে শ্রেণি শত্রুদের বুলেটের সামনে আত্মসমর্পণ না করে শহীদের মৃত্যু বরণ করে আজও যারা ভারতের মাওবাদী কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে ঊজ্জ্বল হয়ে আছেন তাদের মধ্যে কমরেড পঞ্চাদি নির্মলা, কমরেড আনকাম্মা ও কমরেড স্বরস্বতী অন্যতম। কমরেড নির্মলা গরীব কৃষক পরিবার থেকে এসেছিলেন। তার স্বামী কমরেড পঞ্চাদি কৃষ্ণমূর্তি শহীদ হওয়ার পর তিনি তার সন্তানকে আত্মীয়দের কাছে রেখে স্কোয়াড কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।  বীরত্বপূর্ণ শহীদের মৃত্যুবরণ  করেন। এই বিপ্লবী নারীদের ভূমিকা পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্যগত পরিচয়কে সরাসরি চ্যলেঞ্জ করে জনগণের বিপ্লবী নেতৃত্বের পরিচয়ে নতুনভাবে পরিচিতি দান করেছে। এবং বাস্তবে কৃষক নারীদেরকে পিতৃতন্ত্রকে অতিক্রমের পথ দেখিয়েছে।

‘৭০-এর দশকে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা নিজেদেরকে যখন পুনর্গঠন করল এবং সামন্তবাদ বিরোধী কৃষক সংগ্রাম গড়তে শুরু করল সেই সংগ্রামে তখন নারীদের স্কোয়াডে অংশগ্রহণের পুনরুত্থান ঘটল। মধ্যবিহারে সমতল এবং তেলেঙ্গানার গ্রামাঞ্চলে কৃষক আন্দোলন ঝড়ের বেগে বৃদ্ধি পেতে লাগল। তারসাথে নারী নিপীড়ন বিরোধী ইস্যুগুলো যুক্ত হতে লাগল। প্রথমদিকে নারী ইস্যুগুলোর মধ্যে ছিল জমিদারের জমিতে কর্মরত শ্রমিকদের বিশেষত স্ত্রী কন্যাদের উপর জমিদারের সামন্তীয় অধিকারের বিরোধী আন্দোলন। জমিদারের লোকদের দ্বারা দুর্ব্যবহার, অনাহার এবং দারিদ্র্যের কারণে জমিদার ও তাদের ভৃত্যদের কাছে এসকল গরীব নারী সহজলভ্য ছিল। ‘ঐতিহ্য’র নামে এইসব দুর্ব্যবহার ও উৎপীড়ন অবসানের জন্য ১৯৭০ ও ১৯৮০’র দশকে বিহার ও তেলেঙ্গানায় বহু সহিংস আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এই সংগ্রামগুলোই বর্তমান নারী আন্দোলন বিকাশের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এবং সচেতনভাবে নারীদেরকে বিপ্লবী সংগঠনে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দন্ডকারণ্যে ‘ক্রান্তিকারী আদিবাসী মহিলা সংগঠন KAMS এবং তেলেঙ্গানায় মহিলা বিমুক্তি সংঘম যা পরে নাম পরিবর্তন করে বিপ্লবী নারী সংগঠন- VMS গড়ে ওঠে।

প্রথমদিকে প্রত্যেক স্কোয়াডে একজন করে নারী থাকতেন।  কিন্তু নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় পার্টির নারী সংগঠক নারী সংগঠন গড়ার জন্য গ্রামাঞ্চলে যেতেন এবং নারী ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করতেন। অনেক নারী তখন পুলিশের কোপানলে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন, নির্মম নিপীড়ন সহ্য করেছেন এবং ভুয়া সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৯৯৮ সালের প্রথম নয় মাসে এ অঞ্চলে ২৩ জন নারী শহীদ হয়েছেন।

KAMS ও VMS কৃষকদের পাশাপাশি লড়াই চালায় এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাবিতে সংগঠন তৈরী করতে থাকে। তারা পিতৃতন্ত্র এবং পুরুষের প্রাধান্যের বিরুদ্ধেও লড়াই করে। স্ত্রী নির্যাতন, হয়রানি, যৌতুক, মাদকাসক্তি/ঘাটকা, বহুবিবাহ, স্ত্রী ত্যাগ ইত্যাদি ইস্যুতে সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়। কুসংস্কার, যাদু ইত্যাদির বিরুদ্ধেও ব্যাপক প্রচারণা চালায়। দমনরত পুলিশকে প্রতিরোধেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। পুলিশ যখন কোন যুবককে গ্রেফতার করতে আসতো তখন নারীরা সবাই একজোট হয়ে পুলিশকে চারিদিক থেকে ঘিরে পিটিয়ে বিদায় করতেন। KAMS ও VMS  নারীদেরকে নারী সংগঠনে যোগদানের জন্য সমাবেশ করতো এবং গ্রাম এলাকায় ও বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করতো। যখন সংগঠন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে তখন নিয়মিত সম্মেলন হয়েছে। যেসব এলাকায় গুরুতর রাষ্ট্রীয় দমন চলেছে সেখানে সাময়িকভাবে তা বন্ধ থেকেছে। ১৯৯০-এর দশক থেকে দন্ডকারণ্যে নারীদের পৃথক ম্যাগাজিন ‘পরুমহিলা’ (সংগ্রামরত নারী) এবং তেলেঙ্গানায় ‘মহিলা বিমুক্তি’ (নারীমুক্তি) প্রকাশ হতে থাকে।

উপরোক্ত নারী সংগঠন ও সংগ্রামে নারীদেরসহ শুধু জনগণের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নই হচ্ছে না বরং গ্রাম ও পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের  ক্ষেত্রে  পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিকীকরণে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সামন্তীয় সম্পর্ক চূর্ণ করে গ্রাম রাজ্য কমিটি, গ্রাম কমিটিগুলোর গণতান্ত্রিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা জনগণের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এগুলো আরও দৃঢ় হয়েছে সেসব জায়গায় যেখানে  ঘাঁটির লক্ষ্যে গেরিলা অঞ্চল ও প্রস্তুতিমূলক গেরিলা অঞ্চলে নয়া ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং নয়াগণতান্ত্রিক অর্থনীতির ভ্রূণ গঠনের সূচনা হয়েছে।

এখন বুর্জোয়া মিডিয়ায় ভারতের ২৯টি রাজ্যের ২০টিরও বেশি রাজ্যে সিপিআই (মাওবাদী)র নেতৃত্বে শক্তিশালী গণযুদ্ধ গড়ে উঠেছে। ঘাঁটি এলাকা ও বহু গেরিলা অঞ্চল, বিশেষ গেরিলা অঞ্চল এবং নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভ্রণ হিসেবে “জনথান” অর্থাৎ প্রচলিত রাষ্ট্র ক্ষমতার বিপরীতে জনগণের সরকার গড়ে উঠেছে। আর এই গণযুদ্ধের বড় একটি শক্তি হচ্ছে নিপীড়িত গ্রামীণ কৃষক নারী ও তাদের সংগঠন। প্রখ্যাত লেখিকা অরূন্ধতি রায়ের মতে মাওবাদীদের নারী সংগঠন ভারতের সবচেয়ে বৃহৎ নারী সংগঠন, যাদের সদস্য সংখ্যা কয়েক বছর আগেই ছিল ৯০ হাজার। সিপিআই (মাওবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড অনুরাধা ও কমরেড নর্মদা পর্যায়ক্রমে বিশাল এই নারী সংগঠনের প্রধান দায়িত্ব পালন করেছেন। কমরেড অনুরাধা ২০০৮ সালে গ্রামাঞ্চলে নারীদের প্রশিক্ষণ পরিচালনাকালীন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ঐ বছরই তীব্র রাষ্ট্রীয় দমনের কারণে সুচিকিৎসার অভাবে এই আজীবন বিপ্লবী নারী নেতৃত্বের মাত্র ৫৪ বছর বয়সে অকাল প্রয়াণ ঘটে। কমরেড নর্মদা ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয় যৌথবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। ভারতীয় শাসক বুর্জোয়া শ্রেণি ও তাদের রাষ্ট্র মাওবাদীদের এই বিপ্লবী সংগ্রামকে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে লক্ষাধিক যৌথবাহিনী মোতায়েন করে “অপারেশন গ্রীনহান্ট” নামে কয়েক বছর ধরে লাগাতার নির্মম দমনাভিযান পরিচালনা করছে। এই তীব্র রাষ্ট্রীয় দমনমূলক পরিস্থিতিতে পার্টির  ‘পিপল্স লিবারেশন গেরিলা আর্মি’- PLGA ও গণমিলিশিয়ার ৬০% সদস্যই এখন নারী। শুধু তাই নয় কোথাও কোথাও আঞ্চলিক সামরিক কমিশন, স্পেশাল জোনাল কমিটি, প্লাটুন কমান্ডার, জনথান সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের  প্রধান দায়িত্বও পালন করছেন নারী কমরেডগণ। ফলে ভারতের  গণযুদ্ধের প্রতিটি ঘটনায়ই জড়িয়ে আছে নারীদের ভূমিকা। আর তাই পুরুষ কমরেডদের নেতৃত্বদান, গ্রেফতার, মৃত্যু, আত্মত্যাগ, বীরত্বের পাশাপাশি নারীদের আত্মত্যাগ, বীরত্ব এবং নেতৃত্বদানের ঘটনা এখন দৈনন্দিন খবরে পরিণত হয়েছে। কাজেই ভারতে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার সাথেও নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


বাংলাদেশঃ পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা)’র ৩ সদস্য গ্রেফতার

Cops on Maoist

পাবনার সাঁথিয়া থানার ধূলাউড়ি বাজার এলাকা থেকে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা)’র তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে পাইপগান ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২৮ মার্চ) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ধূলাউড়ির বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- থানার নুরদহ গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে জানে আলম ওরফে বোমারু আলম (৩৫), ছোট পাথালিয়াহাটের জোনাব আলীর ছেলে শামসুল (৩৮) ও বড় পাথালিয়াহাট গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০)।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, ধূলাউড়ি বাজার এলাকায় নাশকতার জন্য কয়েকজন চরমপন্থি গোপন বৈঠক করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় জানে আলম, শামসুল ও রফিকুলকে পাইপগান ও নয় রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সূত্রঃ http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/477705.html


তুরস্কের Serêkaniyê’তে মাওবাদী TKP/ML-TIKKO এর সদর দপ্তরে আইএসের বোমা হামলা

serekaniyede_saldiri

তুরস্কের Serêkaniyê’তে রোজাভা’র আন্তর্জাতিকতাবাদী যোদ্ধা মাওবাদী TKP/ML-TIKKO এর ক্যাম্পে আইএস বোমা হামলা করেছে।

রোজাভা হতে সম্প্রচারিত NAHA খবর সূত্র জানাচ্ছে, গত ২৫শে মার্চ দুপুর ১.২০টার দিকে Serêkaniyê’তে মাওবাদী TKP/ML-TIKKO এর ক্যাম্পের বাইরে একটি মোটর সাইকেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ২ যোদ্ধা সামান্য আহত হয়েছে। রোজাভা পুলিশ আক্রমণ পরবর্তী সন্দেহভাজন ২জনকে গ্রেফতার করে তদন্ত করছে।

TKP/ML-TIKKO উল্লেখ করেছে, “গত ২৫শে মার্চ Serêkaniyê’তে আমাদের সদর দপ্তর দায়েশ ফ্যাসিস্টদের আক্রমণের বিশেষ লক্ষ্যবস্তু ছিল। চারপাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমরা পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই যে তুর্কি রাষ্ট্র এই হামলার সংগঠক ছিল।”

অনুবাদ সূত্রঃ New Turkey