কিউবানরা তাদের দেশে সম্রাটের উপস্থিতি চান না: ফিদেল কাস্ত্রো

castro-obama-49162

কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো ওবামার কিউবা সফর প্রসঙ্গে বলেছেন, তারা তাদের দেশে সম্রাটের উপস্থিতি চান না। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে ফিদেল কাস্ত্রোর লেখা চিঠি প্রকাশ করা হয় যেখানে ওবামার কিউবা সফর নিয়ে তিনি বিভিন্ন কথা লিখেছেন।

কিউবায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঐতিহাসিক সফর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো। তিনি বলেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলের মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে জানে, সাম্রাজ্য (আমেরিকা) থেকে আমাদের কোনো উপঢৌকনের প্রয়োজন নেই। তবে শিক্ষার হাত ধরে কিউবার যে বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটেছে, তা স্বেচ্ছায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় কিউবার মানুষ।

২১ মার্চ দুদিনের সফরে কিউবা যান বারাক ওবামা। এটি ছিল ১৯৫৯ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম কিউবা সফর। ওবামার আগে আমেরিকার অন্তত ১০ জন প্রেসিডেন্ট কিউবাকে শত্রুদেশ বলে গণ্য করতেন। তবে এই সফরে প্রায় ৪৭ বছর কিউবা শাসন করা বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে কোনো বৈঠকের কর্মসূচি ছিল না ওবামার। এমনকি সফরের সময় দেয়া বক্তৃতায় ফিদেলের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি ওবামা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার এ সফর নিয়ে কিউবায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ সফরের মূল্যায়ন নিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোর লেখা ‘ব্রাদার ওবামা’ শিরোনামে এক হাজার ৫০০ শব্দের দীর্ঘ একটি কলাম সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা গ্রানমা’র একটি পাতাজুড়ে। সেখানে তিনি ওবামার সফরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কিউবা সফরের শেষদিনে দেয়া ভাষণে ওবামা বলেছিলেন, “আমেরিকা ও কিউবার অতীতকে পেছনে ছেড়ে আসার এটিই সময় এবং এখন বন্ধু হিসেবে, প্রতিবেশী হিসেবে এবং পরিবার হিসেবে একত্রে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করার সময়।”

বারাক ওবামার এ আহ্বানকে ‘মধুমাখা ভাষণ’ হিসেবে ব্যঙ্গ করে ফিদেল কাস্ত্রো লিখেছেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এসব শব্দ শুনে আমরা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিলাম বলে মনে হয়। ওবামার এসব কথা শুধু মুখে বলার জন্যই। তিনি মন থেকে এসব কথা বলেননি।”

মতামতধর্মী ওই লেখায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং তার কথাবার্তার সমালোচনা করে ফিদেল কাস্ত্রো বলেন, “আমার বিনয়ী পরামর্শ হবে, ওবামা যেন কিউবার রাজনীতি নিয়ে তত্ত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা না করেন।” কাস্ত্রো তাঁর কলামে কিউবার বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাসহ নানা অপকর্মের তালিকা তুলে ধরেছেন।

অসুস্থতাজনিত কারণে ২০০৮ সালে ফিদেল কাস্ত্রো তাঁর ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিলেও ৮৯ বছর বয়সী ফিদেল কাস্ত্রোর এখনো কিউবায় দারুণ প্রভাব রয়েছে। ১৯৫৯ সালে মার্কিন সরকারকে উৎখাত করে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবী কামউনিস্ট সরকার ক্ষমতা দখল করলে কিউবা ও ‌আমেরিকার মধ্যে শত্রুতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

Advertisements

বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘CHITTAGONG’

7384ce486dfe9f135e6e732f3054916a_p_m

সিনেমাটির পটভূমি ১৯২৯ সালের মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী, সংগ্রামী এক মানুষ- মাস্টারদা সূর্য সেন। “CHITTAGONG” সিনেমাটির শুরুতেই পরিচিত হতে হবে সুবোধ রায় (জংকু)র সাথে। জংকু, মাস্টারদা সূর্য্য সেনের নেতৃত্বে একজন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের যোদ্ধা।

সিনেমা শুরু হয় ১৯৩৯ সালের ব্রিটিশ ভারতে। প্রথম দৃশ্যে দেখা যায়, ব্রিটিশ পুলিশ জংকুকে ধরার জন্য তাড়া করছে। জংকু দৌড়ে দৌড়ে একটি ঘরের মেঝের নিচের সুরঙ্গে লুকিয়ে পালিয়ে যায়। সেই সুরঙ্গের ভিতর জংকু এগিয়ে তার ভালবাসার মানুষ অর্পনার কাছে যায়। অর্পনার গায়ে গুলি লেগেছে। জংকু অর্পনার মাথা নিজের বুকে ধরে অশ্রুসিক্ত চোখে ভাবতে থাকে- এভাবেই কি হেরে যাবে তাদের আন্দোলন? শুরু হয় সিনেমা, জংকুর বর্ণনায়, ১০ বছর পিছন থেকে।
১৯২৯ সাল।
দুই ভবনের দুই বাসিন্দা, কিশোর-কিশোরী জংকু আর অর্পনা। দুজনে দুজনকে পছন্দ করে। অর্পনা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িত, অপর দিকে ব্যারিষ্টার পুত্র জংকু লেখাপড়া করে ল’ ইয়ার হতে ইংল্যান্ড যাবার পায়তারা করছে। পারিবারিক সূত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়ীতে যাতায়াত ছিল জংকুর। ম্যাজিষ্ট্রেটের স্ত্রী জংকুকে অনেক ভালবাসতো। জংকুও তাদের বিশ্বাস করতো। মাস্টারদা সূর্য্য সেনের সাথেও বেশ সংখ্যতা ছিল জংকুর।
তরুন-তরুনী, কিশোররা তখন সবাই মাস্টারদার সাথে আন্দোলন করছে। কিন্তু জংকু সেই আন্দোলনে যুক্ত হতে সাহস পায় না। মাস্টারদার সাথে থাকা আন্দোলনকারী ছেলেদের ভীষন ভয় হয় জংকুর। আন্দোলনের দায়ে মাস্টারদাকে গ্রেফতার করেন ব্রিটিশ পুলিশ জনসন। সাথে গনেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তী, লোকনাথ বাল ও নির্মল সেন। সাড়াশি দিয়ে মাস্টারদার হাতের দুটি নখ উপড়ে ফেলা হয়। তবুও মাস্টারদা হার মানেন না।
‘ইংরেজ হঠাও’ দাবীর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মাস্টারদা ঠিক করেন পুরো চিটাগাংকে নিজেদের আয়ত্তে নিতে হবে। চক্রবর্তীর কাছে এটা একদমই পাগলামী মনে হয়। তিনি বলেন- ‘যদি আমরা না জিতি, তো?’
মাস্টারদার জবাব- ‘যদি আমরা জিতি, তো?’
মাস্টারদা দারুন ধরনের ‘পজেটিভ’ মানুষ ছিলেন। জংকু যখন তাকে বলে- ব্রিটিশদের সাথে যুদ্ধে জেতা অসম্ভব। তখন তিনি বলেন- একটি হাতির পায়ের শিকলের শক্তির চেয়ে হাতির শরীরের শক্তি অনেক বেশী। কিন্তু তারপরও সে হাতিটা কোনদিনও শিকল ছিড়তে পারে না কেন জানো? কারন, তার বন্দী থাকার অভ্যাস হয়ে গেছে।
বনের পথে মবিল ঢেলে জনসনের মোটর সাইকেল দূর্ঘটনা ঘটায় কিছু তরুন। ম্যাজিস্টেট জংকুকে বিদেশে পাঠাবার জন্য জনসনের দূর্ঘটনার জন্য দায়ী সেই তরুনদের ঠিকানা জানতে চায়। সরল বিশ্বাসে জংকু বলেও দেয়। দূর্গা পূজার দিন জংকুর সামনেিই জনসন সুখেন্দু ঘোষকে গুলি করে মেরে ফেলে। অর্পনা সহ তারই সহপাঠীরা সুখেন্দু হত্যার জন্য জংকুকে দায়ী করে। বদলে যায় জংকু। সুখেন্দু হত্যার বদলা নিতে চায় সে। বাবার পিস্তল চুরি করে যোগ দেয় মাস্টারদার সাথে।
মাস্টারদা ইংরেজদের মূল শক্তি – পুলিশ লাইনস, এএআই সহ রেল লাইন তুলে ফেলা, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বিকল করা এবং ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলার পরিকল্পনা করেন। শুরু হয় পর্যবেক্ষন সাথে ট্রেনিং। পাঁচটি পিস্তল ও সাতটি রাইফেল আর একদল কিশোর নিয়ে যুদ্ধে নামে মাস্টারদা সূর্য্য সেন। পাঁচ ভাগে ভাগ হয়ে শুরু হয় মিশন। একটি গুলিও খরচ না করে খুব সহজেই তাদের চারটি মিশন সফল হয়। শুক্রবার হওয়াতে ইউরোপিয়ান ক্লাব বন্ধ পাওয়া যায়। মাস্টারদার বাহিনীর হতাশ হতে হয়, অস্ত্রাগারে মেশিনগান না পেয়ে। তারা বনে আত্মগোপন করে থাকে। একসময় বনে আক্রমন করে ব্রিটিশ মিলিটারী বাহিনী। মাস্টারদার বাহিনীর কিছু কিশোরের প্রাণ ঝরে পড়ে। তারপরও মাস্টারদার বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে ব্রিটিশ মিলিটারী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এভাবেই এগিয়ে চলে সিনেমা। প্রতিটা দৃশ্য আপনাকে আগ্রহ দিবে পরবর্তী দৃশ্য দেখার। বেদব্রত পাইন খুবই সুন্দর এবং নান্দনিক ভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন “CHITTAGONG” সিনেমাটির কাহিনী। জংকুর মাধ্যমে তিনি বলেছেন তৎকালীন সময়ের সবার কথা।
প্রীতিলতা আর নির্মল সেনের প্রেম যেমন এখানে উঠে এসেছে, তেমনি উঠে এসেছে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্যের চিত্র। বনে যখন মাস্টারদা বাহিনী আত্মগোপন করে, তখন তাদের খাবারের অভাব দেখা যায়। অম্বিকা চক্রবর্তী যখন একজন মুসলমান দোকানদারের কাছ থেকে মুড়ি, বিস্কুট কিনে টাকা দিতে চায়, তখন দোকানী জানায়- প্রতিদিন তিনি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করেন। তাদের কাছ থেকে কিভাবে টাকা নিবে?
বিদায়ের সময় অম্বিকা ফিরে এসে দোকানীর সামনে দাঁড়ায়। কি বলবে অম্বিকা? একজন ব্রাহ্মন হয়েও অম্বিকা শুধু বলে- ‘খোদা হাফেজ।’

মাস্টারদা সূর্য্যসেনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মনোজ বাজপেয়ি। অপরদিকে যুবতী অর্পনার চরিত্রে সুরেশ্বনী মৈত্র।


কলকাতাঃ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার ডাক্তার-সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীসহ বুদ্ধিজীবীরা!

msc.02

ডাক্তার শৈবাল জানার গ্রেফতারের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের একটি অংশ৷ আর, তার জেরেই আবার সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ডাক্তাররা৷ আক্রান্ত হচ্ছে মানবাধিকার৷ একই সঙ্গে, ওই শিকারের থাবা থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না চিকিৎসা পরিষেবা এবং মেডিকেল এথিকসও৷ তবে, শুধুমাত্র আবার কেন্দ্রীয় সরকারও নয়৷ ছত্তিসগড়, পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যেই ডাক্তারদের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীসহ বুদ্ধিজীবীরা৷ অভিযোগ এমনই৷

আর, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে, ডাক্তার শৈবাল জানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও উঠছে৷ ইতিমধ্যেই অবশ্য ডাক্তার শৈবাল জানার শর্তাধীন জামিন মিলেছে৷ তবে, তাঁর উপর থেকে ‘অন্যায়’ এবং ‘সাজানো’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিও উঠছে৷ এবং, এমনই বিভিন্ন দাবি আর অভিযোগের উপর ভিত্তি করে সোমবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছেন ১০টি সংগঠনের বহু সদস্য৷ একই সঙ্গে, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে ওই সব সংগঠনের তরফে সোমবার স্মারকলিপিও পেশ করা হয়েছে৷

ওই সব সংগঠনের তরফে এমনই জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্যের সরকার যেভাবে বিভিন্ন উপায়ে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী সহ বুদ্ধিজীবীদের উপর স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ করছে, সে সবের বিরুদ্ধে এককাট্টা হতেই সোমবারের ওই কর্মসূচি৷ চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মেডিকেল পড়ুয়া, মানবাধিকার কর্মী এবং বুদ্ধিজীবী সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের বহু মানুষ কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ওই প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন৷ ওই সংগঠনগুলির মধ্যে যেমন রয়েছে মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম৷ তেমনই রয়েছে হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠন, ফোরাম ফর পিপলস হেলথ সহ মানবাধিকার সংগঠন সিপিডিআরএস-ও৷ ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে মিছিল শেষে ওই সব সংগঠনের তরফে বক্তব্য রাখা হয়৷ সেখানে ডাক্তার বিনায়ক সেন-ও বক্তব্য রাখেন৷

সেখানে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন সংসদ সদস্য তথা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য ডাক্তার তরুণ মণ্ডল, মেডিকেল সার্ভিস সেন্টারের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি ডাক্তার অশোক সামন্ত, সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার সজল বিশ্বাস, ফোরাম ফর পিপলস হেলথের সম্পাদক ডাক্তার দেবাশিস দত্ত, হাসপাতাল ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা সংগঠনের সহ সভাপতি ডাক্তার বিশ্বনাথ পাড়িয়া৷ সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘ডাক্তার শৈবাল জানাকে শর্তাধীন জামিন দেওয়া হয়েছে৷ যে কারণে, যে কোনও দিন তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হতে পারে৷ আমাদের দাবি, অবিলম্বে ডাক্তার শৈবাল জানার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর উপর থেকে অন্যায় আর সাজানো মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ডাক্তার শৈবাল জানাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে শুধুমাত্র তাঁর উপরেই যে রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ ঘটল, তাই নয়৷ এর ফলে ডাক্তারদের এবং মেডিকেল এথিকসের উপরেও রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ ঘটল৷ লঙ্ঘিত হল মানবাধিকার৷ কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি ছত্তিসগড়, পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্য বিভিন্ন রাজ্যের সরকারও চিকিৎসা পরিষেবা-ডাক্তার-মেডিকেল এথিকস-সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীসহ বুদ্ধিজীবীদের উপর স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণ করছে৷’’


নারী নীতি নিয়ে মৌলবাদীদের কাছে বাংলাদেশ সরকারের সারেন্ডার……

human-trafficking-300x316

নারী নীতি নিয়ে মৌলবাদীদের কাছে সরকারের সারেন্ডার, ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পরিপূর্ণভাবে পৃথক করতে হবে

(প্রিল, ২০১১)

আওয়ামী-জোট সরকারের মন্ত্রী পরিষদ ৭ মার্চ, ১১ “নারী উন্নয়ন নীতিমালা” পাশ করেছে। আর এ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে ধর্মীয় মৌলবাদী দলগুলো। তারা ৪ এপ্রিল হরতালও ডেকেছে। ১৪ মে ডেকেছে মহাসমাবেশ। তারা বলছে কোরান-হাদিস বিরোধী নীতি তারা মানবেন না।

ধর্মীয় রাজনীতির এ হুমকিতে পড়ে তড়িঘড়ি নারী মন্ত্রী ঘোষণা করেছে যে, তারা এমন কিছু নীতি নেননি। তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমাধিকারের নীতি নেননি। তারা শুধু বলেছেন যে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের উপর নারীর সমাধিকার। শেখ হাসিনা সরাসরি বলতে শুরু করেছে যে, কোরান-হাদিস বিরোধী কোন নীতি তারা করবেন না।

ব্যস, খেলা-তো শেষ হবার কথা। কিন্তু হুজুররা অটল। কারণ নিশ্চয়ই রয়েছে।

* বর্তমান মহাজোট সরকার যে নারী নীতি ঘোষণা করেছে তাতে শব্দের অনেক মারপ্যাঁচ রয়েছে। তারা নারীর সম্পদের উপর সমানাধিকারের গদবাঁধা কথা বলে উত্তরাধিকার সূত্রে জমি-সম্পদে নারীর সম-অংশীদারিত্বের প্রশ্নটি সুচতুরভাবে এড়িয়ে গেছে। এবং সম্পদে নারীর সমানাধিকারের ফাঁকা কথা বলেছে।

এভাবে তারা একদিকে সমস্ত নারী সমাজকে ধোঁকা দিয়েছে- দেখেছো, আমরা নারীদেরকে সমানাধিকার দিয়েছি! আর অন্যদিকে ধর্মীয় মৌলবাদীদের সন্তুষ্ট রাখতে চেয়েছে- দেখো, আমরা তোমাদের মতের বিরোধী কোন নীতি করিনি! জঘণ্য আত্মসমর্পণ আর শঠতা কাকে বলে।

* বিভিন্ন ধর্মে নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রশ্নে বিভিন্ন নীতি রয়েছে। হিন্দু ধর্মে মেয়েরা পৈত্রিক সম্পদ পায় না। সেজন্য এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যাপক অংশ এ আইনের পরিবর্তন চান। ইসলাম ধর্মে মেয়েরা সম্পদ পায় ছেলেদের অর্ধেক। তবে সে সম্পদও আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে নারীরা দখলে পান না। বিবিধ কারণে সেটা ভাইদের হাতেই অধিকাংশ নারী রেখে দিতে বাধ্য হন। এ ধরনের বিবিধ ধর্মীয় বিধানগুলো কিভাবে পরিবারে প্রয়োগ হবে সেটা নিজ নিজ ধর্মের বিশ্বাসের বিষয়।

কিন্তু রাষ্ট্রকে চলতে হবে নারী-পুরুষের সমাধিকারের নীতির ভিত্তিতে। রাষ্ট্রকে চলতে হবে ধর্মনিরপেক্ষভাবে। তবেই সে রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হতে পারে।

শাসক শ্রেণী একদিকে “নারী উন্নয়ন”-এর কথা বলছে, অন্যদিকে বলছে আমরা কোরান-সুন্নাহর বিরোধী কিছু করবো না। মৌলবাদীদের আন্দোলন থামাতে প্রধান বিচারপতি বলেছেন কোরান-সুন্নাহ’র বিরোধী কোন রায় আমার দ্বারা হবে না। এগুলো-তো স্রেফ প্রতারণা। তাহলে আর হুজুররা দোষের কী করছে? তারা তো কোরানকেই রাষ্ট্রের নীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে!

এমনকি সরকার যদি কাগজে কলমে বলেও যে জমি ও সম্পদে উত্তরাধিকার সূত্রে নারীর সমাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হলো, তাহলেও নারীমুক্তি হবে না। কারণ, সমাজের আমূল রূপান্তর ব্যতীত তা কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। যেমন কিনা এখন মুসলিম আইনে যে অর্ধেক সম্পদ নারীরা পাবার অধিকার রাখেন সেটাও তারা প্রায়ই নিতে পারেন না।

* ধর্মীয় মৌলবাদীরা সরাসরি নারীর সমাধিকারের বিরুদ্ধে নেমেছে ধর্মকে কাজে লাগিয়ে। একে অবশ্যই বিরোধিতা করতে হবে। কিন্তু অন্যদিকে নারী অধিকারের বুলি আউড়ে যে মুৎসুদ্দি মার্কা স্বাধীনতা নারীকে এই রাষ্ট্র বা আওয়ামী লীগ দেবার বাহানা করে তার প্রতারণাকেও উন্মোচন করতে হবে। পরিস্কারভাবে দেখাতে হবে যে, যেমনি ধর্মীয় মৌলবাদ, তেমনি আওয়ামী সরকার উভয়ে নারীর শত্রু বৈ আর কিছু নয়। তারা নারীমুক্তি দূরের কথা, সম্পদে নারীর গণতান্ত্রিক অধিকারটুকু পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম নয়। সুতরাং, যে নারীর পৈত্রিক সম্পদই তেমন নেই, বা মোটেই নেই, এবং যারা কিনা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, তাদের প্রকৃত কোন মুক্তি এদের থেকে আশা করার প্রশ্নই আসে না।

আর, রাষ্ট্রীয় নীতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে যে, ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে, ধর্মকে অবশ্যই রাষ্ট্র থেকে পরিপূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। নতুবা কোনক্রমেই নারী তার গণতান্ত্রিক অধিকার পাবে না। বলাই বাহুল্য, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, শাসকশ্রেণী, এই রাষ্ট্র বারবারই তা নাকচ করে দিয়েছে।

সূত্রঃ আন্দোলন প্রকাশনা, সিরিজ – ৩