তুরস্কে মাওবাদী MKP’র বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযান, গ্রেফতার ৪

mkp-operasyonunda-eskisehir-de-2-gozalti-8318032_x_o

তুরস্কের Eskişehir এ মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MKP)’র বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত হত্যা” এবং “সশস্ত্র লুণ্ঠন” এর অভিযোগ এনে পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী শাখা ভোর বেলায় এক অপারেশন চালিয়ে ২নারীসহ ৪ ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে।

অনুবাদ সূত্রঃ aktifhaber.com

Advertisements

তুরস্কের মাওবাদী রাজবন্দী ‘নিহাত কিনাক’ মুক্তি পেয়েছেন

nihat_konak

তুরস্কের মাওবাদী পার্টি  TKP/ML-Tikko এর সদস্য হওয়ায় ও সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেয়ার অভিযোগে ২৪ বছর কারারুদ্ধ থাকার পর রাজবন্দী কমরেড ‘নিহাত কিনাক’ মুক্তি পেয়েছেন। এই সময়টির মধ্যে তাকে ৯টি জেলখানার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, এখানে তিনি তার ১০ কমরেডদের মৃত্যুর প্রত্যক্ষ করেছেন এবং কুর্দি গণহত্যার বিরুদ্ধে অনশন সংগঠিত করার জন্য দ্বিতীয় দণ্ডাজ্ঞা পান।

সূত্রঃ  New Turkey


ভারতঃ ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী গেরিলাদের ধারাবাহিক বিস্ফোরণে জখম ৪ CRPF জওয়ান

F

ঝাড়খণ্ডে ফের বিস্ফোরণ ঘটাল মাওবাদী গেরিলারা৷ শনিবার ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয় ধানবাদ জেলায়৷ জখম হন ৪ CRPF জওয়ান৷

এদিন টপচাঞ্চি-জিতপুর এলাকায় টহল দেওয়ার সময় পরপর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ CRPF অফিসাররা জানান, ‘‘IED বিস্ফোরণে ৪ সেনা জওয়ান জখম হয়েছেন৷ CRPF-এর এই টহলদারি দলের নেতৃত্বে ছিলেন একজন সিনিয়র অফিসার৷ ১৫৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সদস্য তাঁরা৷’’ আহত সেনা জওয়ানদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

অনুবাদ সূত্রঃ dnaindia.com


কলকাতাঃ শীর্ষ মাওবাদী দম্পতি বিকাশ ও তারা গ্রেফতার হয়েছেন

মাওবাদী নেতা বিকাশ (বাঁদিকে), তারা (ডানদিকে)

মাওবাদী নেতা বিকাশ (বাঁদিকে), তারা (ডানদিকে)

কলকাতা স্পেশাল টাস্ক ফোর্স শীর্ষ দুই মাওবাদী দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে। বিকাশ ওরফে সিংরাইল টুডু এবং তাঁর স্ত্রী তারাকে আজ শনিবার মধ্য কলকাতার একটি গোপন ডেরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত দুজনেই কিষাণজী ঘনিষ্ট সক্রিয় দুই মাওবাদী নেতা-নেত্রী বলে জানা গিয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন অভিযান চালায় পুলিশের আধিকারিকরা। যদিও দীর্ঘদিন ধরে বিকাশ এবং তারার খোঁজে ছিলেন পুলিশ কর্তারা। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত দুই মাওবাদী সদস্যকে জেরা শুরু করেছে পুলিশ। কি কারণে তারা কলকাতায় এসেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, বিকাশ এবং তাঁর স্ত্রী একাধিক নাশকতার সঙ্গে যুক্ত। মাওবাদীদের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিটির সদস্য ছিলেন বিকাশ। রাজ্য কমিটিরও সদস্য ছিল সে। বিকাশের স্ত্রী তারা লালগড় ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ছিলেন। কিষেণজির মৃত্যুর পর বেশ কিছুদিন মাওবাদীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে। তার পর এক বছরের মধ্যেই ফের জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ শুরু করছিলেন বিকাশ।

সূত্রঃ eenaduindia.com


‘আমরা বৃহৎ আর শক্তিশালী হচ্ছি’ -ফিলিপিনের মাওবাদী আর্মি(NPA)’র একটি রিপোর্ট

NPA1

(অনূদিত)

ফিলিপিন কমিউনিস্ট পার্টি(CPP)’র সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মি(NPA) এর উত্তর পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চল শাখা দলের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করতে গিয়ে তাদের অর্জন সম্পর্কে বলেন ‘আমরা বড় আর শক্তিশালী হচ্ছি’।

ফিলিপিন কমিউনিস্ট পার্টি(CPP)’র উত্তর পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চল শাখার মুখপাত্র ‘কা নরসেন মাংগুবাট’ বলেন, – গত ৪৭ বছর ধরে গ্রামাঞ্চলে জনগণতান্ত্রিক সরকার গঠন ও সংরক্ষণের জন্য NPA’র বিপ্লবী গণ সংগঠন গ্রামাঞ্চলে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। মাংগুবাট’ বলেন, সরকারের প্রতিবিপ্লবী অভিযান এবং অপারেশন NPAকে দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। “একাগ্রতা, বিচ্ছুরণ আর দিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা সঠিকভাবে মৌলিক গেরিলা কৌশল কব্জা করেছি। এখন বেশ কয়েক বছরে, আমাদের রেড আর্মি যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে যুদ্ধবিগ্রহ শিখেছে, জনগনের নিরংকুশ সমর্থন অর্জন করেছেন এবং এইভাবে ছোট এবং দুর্বল থেকে বৃহৎ ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

মাংগুবাট বলেন, কৃষি-নির্ভর বিপ্লবে জমি মালিকানার একাধিপত্য নিরাবরণ করতে এবং সামন্তবাদী, আধা-সামন্তবাদী শোষণ থেকে কৃষক ও Lumad(ফিলিপিনের দক্ষিণ অঞ্চলের আদিবাসী) জনগণকে মুক্তিদান, বহুজাতিক আবাদের বিরুদ্ধে এবং সামরিকীকরণ প্রতিরোধী করতে বিপ্লবী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে চলুন আমরা উদযাপন করি।

NPA বলছে, গণভিত্তি ৮.৫% হারে বৃদ্ধি হয়েছে।

মাংগুবাট দাবি করেন যে, তারা ৫৬ পর্বের “সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম”  শুরু করেছেন, যার বেশিরভাগই ব্যারিওসের ইন্টার-ক্লাস্টারের মধ্যে পাওয়া যায়।  চাল ও ভুট্টা মিলের বেতন কমিয়ে আনা, তাদের খামার পণ্যের দাম উত্থাপন, পানযোগ্য পানির ব্যবস্থা অর্জন, খামার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে কমপক্ষে ১,৫০,০০০ কৃষক ও তাদের পরিবারের উপকৃত হয়েছে।

তবে লক্ষনীয় যে, মানুষের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান সমর্থন সত্ত্বেও, কৃষকরা এখনও বেশ “অরাজক” সমস্যার ভুগছেন, যেমন ভূমিহীনতা, নিজ সম্প্রদায় হতে কৃষকদের স্থানচ্যুতি এবং সাম্রাজ্যবাদী বীজের বিস্তার, পরিবেশ বান্ধব পোকামাকড় এবং ঐতিহ্যগত বীজের ক্ষতি করছে।

সদস্যদের মধ্যে দৃঢ়তা, রাইফেল, আক্রমণাত্মক অভিযান ও সদস্য পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাংগুবাট বলেন, তাদের দলে সার্বক্ষণিক গেরিলার সংখ্যা ১৯% ভাগ বেড়েছে,  নতুন প্লাটুনের সংখ্যা ২৯% ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাইফেলের সংখ্যা ২৩%ভাগ বেড়েছে।” আমরা ১৩২ ধরণের বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ চালু করেছি, এর মধ্যে শত্রুদের কাছ থেকে জব্দ করা ২টি K3 হালকা মেশিনগানসহ ৩৬ ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। সমগ্র NPA’র সামরিক পদক্ষেপের মধ্যে শতকরা ২০%ভাগ গণমিলিশিয়ার অংশগ্রহণ থাকে। গণমিলিশিয়া’র পৌর এবং ক্লাস্টার কমান্ডের জন্য ৪টি গেরিলা ফ্রন্ট কমান্ড সম্মেলন শুরু করেছে।

NPA- ২০১৫ সালের মার্চ থেকে বর্তমান পর্যন্ত শহীদ ২জন  NPA কমান্ডার, ২জন গণমিলিশিয়া সদস্যসহ ও ১১ জন বিপ্লবী শহীদ ও বীরদের প্রতি জানাচ্ছে শ্রদ্ধাঞ্জলি।
(সংক্ষেপিত)

Cpp-npa

বিস্তারিত

This was how the North Central Mindanao Region of the Communist Party of the Philippines – New People’s Army described their gains as they celebrate their 47th founding anniversary.

For 47 years, the NPA has served as the leading revolutionary mass organization in the countryside tasked to building and preserving the people’s democratic government in the countryside, according to Ka Norsen Manggubat, spokesperson of CPP in North Central Mindanao Region.

Manggubat said the government’s counter-revolutionary campaigns and operations have failed to crush the NPA.

“We have correctly grasped the basic guerrilla tactics of concentration, dispersal and shifting. For several years now, our Red army learned warfare through warfare, earned the overwhelming support of the people and thus, grew from being small and weak to become large and strong.”

“Let us celebrate the victories we have earned in advancing the revolutionary armed struggle, in agrarian revolution to dismantle the monopoly of land ownership and in liberating the peasant and Lumad masses from feudal and semi-feudal exploitation, in the struggle against multinational plantations and in resisting militarization,” Manggubat said.

NPA says mass base gained by 8.5%

Manggubat claimed that they have launched 56 episodes of “anti-feudal struggles” wherein majority of these are found in inter-cluster of barrios.

“More than 150,000 peasants and their families have benefited from the increase of wages of the farm-workers, in bringing down the pay of rice and corn mills, in raising the prices of their farm produce, in attaining potable drinking water, in resisting the health-hazard operations of mechanical dryers and in raising the share of rice field maintainers.”

He, however, noted that despite the increasing support from the people, peasants are still suffering from several “unsettled” problems such as landlessness, displacement of peasants from their communities, and proliferation of imperialist seeds damaging environment-friendly insects and traditional seeds.

‘Steady increase in members, rifles, offensive operations’

In terms of its members, Manggubat said that their group has achieved “19 % increase in the number of full-time guerillas, 29% increase in the number of new platoons and 23% increase in high-powered rifles.”

“We have launched 132 different types of military actions in which 36 assorted firearms were seized, including two K3 light-machine guns,” Manggubat noted. “The people’s militias have maintained 20% share in the total NPA military actions. The four guerrilla fronts have launched command conferences for the municipal and cluster commands of the people’s militias.”

NPA honors revolutionary martyrs, heroes

Manggubat said that NPA gave a tribute to honor the 11 revolutionary martyrs and heroes since March 2015 up to this date, including two NPA commanders and two members of the people’s militia.

He urged the members of the NPA to “persist in accumulating victories and sustain the advance of the armed struggle and fulfil the requisites of the strategic stalemate.”

NPA calls for ‘socialist revolution’

With the upcoming elections, Manggubat has called for a “socialist revolution” to end the problems of the country.

“With the upcoming reactionary elections in May 2016, the masses must not be swayed in their focus to revolution. No presidential candidate can resolve the three basic problems of the Philippines. The real solution is to end the semi-feudal and semi-colonial system and replace it with the genuine people’s democratic government which would proceed to the next stage of socialist revolution,” he stressed.

He added: “We must prepare for the counter-revolutionary plot of the succeeding regime which will impede the continuous advance of the national-democratic revolution.”

অনুবাদ সূত্রঃ davaotoday.com


তনুসহ নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী নারী মুক্তি’র বিবৃতি

12864388-Vector-drawing-woman-with-revolution-flag-Stock-Vector-revolution

তনুসহ নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতনের জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

সংগ্রামী জনতা,

  দেশে নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতন আজ মহামারীরূপ ধারণ করেছে। তনু ধর্ষণ-হত্যা তারই অংশ। নারীরা আজ ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে কোথাও নিরাপদ নেই। পত্রিকার পাতা খুললেই প্রতিদিন ২/৪টি নারী-শিশু হত্যা-ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়। এমনকি শাসকশ্রেণির নিরাপদ স্থান বলে পরিচিত ক্যান্টমেন্টের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যেই তনু ধর্ষণ-হত্যার শিকার হলেন। পুলিশ-প্রশাসন সেদিকে নজর না দিয়ে বরং তনুর পরিবারকে ক্যান্টমেন্টে জিম্মি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে যেন এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের জন্য তনুর পরিবারই দায়ী। ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে  অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা চলছে। তনু হত্যার পর তার সহপাঠীগণ যখন প্রতিবাদে রাস্তায়  নামে তখনই ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী ঘরনার সংগঠনগুলো তনু হত্যার বিচার দাবীতে মাঠ গরম করে শাসকশ্রেণি, সরকার ও ফ্যাসিষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রকে আড়াল করতে চাইছে।

সংগ্রামী বন্ধুগণ,

 নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতনের জন্য দায়ী হচ্ছে পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধি শাসকশ্রেণি, সরকার ও তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা। তার সদ্য উদাহরণ হচ্ছে গত বছর পহেলা বৈশাখে যৌন নিপীড়নের সময় পুলিশ অফিসার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকারি নেতারা সম্পূর্ন  নিরব ছিল। এই ঘটনায় পুলিশের সর্বোচ্চ অফিসার আইজি মন্তব্য করে ৩/৪টি ছেলের দুষ্টমি বলে। গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নৌমন্ত্রি শাহজাহান খান পহেলা বৈশাখের ঘটনাকে তেমন কোন বিষয় নয় বলে উল্লেখ করে। এই ঘটনা যে ক্ষমতাসীন দলের সূর্য সন্তাদেরই কাজ তা প্রকাশ হতে বাকী থাকেনি। তাই এই ঘটনার অপরাধীদের শেষ পর্যন্ত সনাক্ত বা শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশ বর্বরোচিত দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। নিকট অতীতে আওয়ামী ছাত্র সংগঠনের জনৈক নেতা প্রকাশ্যে ধর্ষণের সেঞ্চুরির ঘোষণা দিয়েছিল। পাহাড়ে আদিবাসী নারীদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। সেখানে প্রতিনিয়ত শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ছত্রছায়ায় আদিবাসী নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। যৌন নির্যাতনের প্রশ্নে পুলিশ-প্রশাসনও পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর ও মালিবাগের ঘটনাই তার দৃষ্টান্ত।

 এছাড়া একদিকে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদীবিশ্ব পর্নোগ্রাফী, বিজ্ঞাপন, সিনেমা, ফ্যাশন শোতে নারীকে পণ্য ও ভোগ্য বস্তু হিসেবে তুলে ধরে তরুণ-যুবকদের মাঝে যৌন উম্মাদনা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্র বিপ্লবী গণতান্ত্রিক শক্তি ও জনগণের উপর প্রতিনিয়ত হত্যা-দমন-নির্যাতন চালাচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রভাব জনগণের মধ্যেও পড়ছে। ফলে এই অপসংস্কৃতিতে কলুষিত উম্মাদরাই নারী ধর্ষণ-হত্যার মত অপরাধ ঘটাচ্ছে। সুতরাং শুধু তনু হত্যাকারীদের ফাঁসি হলেই সমাজ থেকে নারী ধর্ষণ-হত্যা বন্ধ হবে না। যতদিন  না ধর্ষকদের সৃষ্টিকারী সাম্রাজ্যবাদ দালাল শাসকশ্রেণি, সরকার ও ফ্যাসিষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রকে উচ্ছেদ  করা না হয়।

তাই আসুন, তনু হত্যার বিচারের দাবীর সাথে সাথে নারী ধর্ষণ-হত্যার জন্য দায়ী পুরুতন্ত্রের প্রতিনিধি সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি, সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা উচ্ছেদের  বিপ্লবী আন্দোলনে সমবেত হই, দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলি।

আওয়াজ তুলুন

* অবিলম্বে তনু হত্যার প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

* পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধি সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রাসরণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ, সামন্তবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদ-নিপাত যাক।

* নারীর প্রতি যৌন সন্ত্রাস বন্ধ করতে পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা উচ্ছেদের বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

* যৌন উত্তেজনাকর সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

* নারী মুক্তির একই পথ- সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ!

বিপ্লবী নারী মুক্তি

মোবাইলঃ ০১৮২৪৬২৯৩০০

তারিখঃ মার্চ শেষ সপ্তাহ,’১৬

1


বাংলাদেশঃ ইউপি নির্বাচন নিয়ে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা’র বিবৃতি

231

ইউপি নির্বাচনসহ শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির কোন নির্বাচনেই জনগণের মুক্তি নেই!

সাম্রাজ্যবাদ-ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও তাদের দালাল বুর্জোয়া শাসকশ্রেণিকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে এগিয়ে নিন!

সংগ্রামী  জনতা,

আমাদের দেশের শাসক বড় ধনী শ্রেণি জনগণকে গণতন্ত্র দেয়ার নামে তথাকথিত নির্বাচনের আয়োজন করে। কিন্তু তারা বাস্তবে এর মধ্য দিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রক্ষমতাকে সুসংহত করে। এবং শ্রমিক-কৃষক-সাধারণ জনগণকে শাসন করে, তাদের সম্পদ লুটপাট করে এবং শোষণ-নিপীড়ন চালায়। সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থ রক্ষা করে। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তার থেকে ব্যতিক্রম নয়। উপরন্তু বর্তমান নব্য বাকশালী আওয়ামী সরকার ভারতের মদদে ৫ জানুয়ারি, ’১৪ এক প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে এক ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। তারা জনগণের ক্ষমতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতো দূরের কথা, তাদের প্রতিপক্ষ বুর্জোয়া দলগুলোকেও ক্ষমতার ভাগ দিতে নারাজ। তারা রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ-প্রশাসনকে দলীয়করণ এবং তাদের ব্যবহার করে সিটি করপোরেশন, পৌর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ‘বিজয়’ অর্জন করেছে। পৌর নির্বাচনের মত দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আয়োজন করে এই নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ বিজয় ছিনতাই করার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, ফন্দি-ফিকিরও তারা সেরে ফেলেছে। প্রথম পর্বের নির্বাচনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের ৬২ জন চেয়াম্যান প্রার্থী জয়ী হয়ে গেছে। তাই, বুর্জোয়া দলগুলোর মধ্যে চলছে চরম দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হানাহানি-কামড়াকামড়ি। যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টিসহ বুর্জোয়া দলগুলো হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের স্বার্থরক্ষাকারী এবং দালাল শাসক বড়ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক দল। এই বুর্জোয়া দলগুলোর অনুমোদনে ও প্রভাবে এই ইউপি চেয়াম্যানগণ নির্বাচিত হবে। এরা মূলত জোতদার-ইজারাদার, সুদখোর মহাজন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ গণবিরোধী। (বুর্জোয়া পত্রিকায় প্রকাশ- হত্যা, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, বোমাবাজিসহ বিভিন্ন মামলার এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মামলার আসামীও প্রার্থী হিসেবে রয়েছে) এরাই বুর্জোয়া দলগুলোর নেতা-কর্মী। নিজেদের ক্ষমতার জন্য শাসকশ্রেণি জনগণের মাঝে গোষ্ঠীগত, এলাকাগত, সম্প্রদায়গত মতাদর্শ উসকিয়ে দিয়ে জনগণের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে। যাতে জনগণ এই গণশত্রুদের বিরুদ্ধে কোন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারেন। এই গণশত্রুদের জনগণ যে স্বেচ্ছায় ভোট দিবে না তা বুঝেই তারা নির্বাচনে জনগণের উপর চাপ সৃষ্টিসহ লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে এবং ঘুষ দিয়ে ভোট কিনে। যার কয়েক গুণ তারা তুলে নেয়/নিবে জনগণের রিলিফ এবং উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রের ফান্ড থেকে এবং শ্রমিক-কৃষক ও সংখ্যালঘু জাতিসত্তাকে শোষণ-লুণ্ঠন করে।

ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররাই গ্রামাঞ্চলে বড় ধনীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে বুর্জোয়া রাজনীতিতে বেঁধে রাখায় প্রধান ভূমিকা রাখে। এবং সাম্রাজ্যবাদ, শাসকশ্রেণির গণবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে এবং জনগণের বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে। রামপাল, ফুলবাড়ীর কৃষক এবং হবিগঞ্জের চান্দপুর চা শ্রমিকদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনেই এর অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

সংগ্রামী  জনগণ,

এই নির্বাচনে আপনাদের কোন স্বার্থ হবে না। বিগত ৪৫ বছর যাবত আপনারা আপনাদের জীবন-সংগ্রামে এটা প্রত্যক্ষ করছেন। এই নির্বাচনের পরও আপনাাদের দুর্বিসহ জীবনের অবসান হবে না। ভূমিহীন দরিদ্র কৃষক জমি পাবে না। জেলে জলমহলের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে। নারীরা পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাবে না। কামার-কুমার-তাঁতিসহ শ্রমিক ও শ্রমজীবীগণ তাদের ন্যায্য মজুরী পাবে না। পাহাড়-সমতলের আদিবাসী জনগণের ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া বন্ধ হবে না। ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে না এবং পুলিশী হয়রানিও বন্ধ হবে না। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে না, বরং এর বদৌলতে পক্ষপাতিত্ব চলবে। চাঁদাবাজ-মাস্তানদের দৌরাত্ম পূর্বের মতই বহাল থাকবে। ধর্মীয় মৌলবাদের বিকাশ বন্ধ হবে না। সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের যে ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চলছে তার প্রভাব জনগণের চরিত্রেও পড়ছে। তাই, হত্যা-ধর্ষণ, নারী ও শিশু হত্যা বন্ধ হবে না। কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে না, উপরন্তু দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, পানি সেচের মূল্য বৃদ্ধি সহ বহুবিধ কারণে জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে এবং উঠবে।

তাই, বুর্জোয়া নির্বাচনে শ্রমিক-কৃষক-নারী-আদিবাসী ও নিপীড়িত সাধারণ জনগণের মুক্তি নেই। শাসক বড়ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার এবং লুটপাটের নির্বাচনের জোয়ারে না ভেসে বা বুর্জোয়া দলবাজিতে বিভক্ত না হয়ে তাদের গণবিরোধী রাজনীতি ও নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করুন। নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী রাজনীতিতে সজ্জিত ও ঐক্যবদ্ধ হোন। নিজ নিজ শ্রেণি-পেশার ভিত্তিতে সংগঠিত হোন, সংগঠন গড়ে তুলুন। ভূমি সংস্কারসহ বিভিন্ন বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন।

মার্কিনের নেতৃত্বে সকল সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদকে উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার লক্ষে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব এগিয়ে নিন। নিজেদের মুক্তির সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করুন।

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা

মোবাইলঃ ০১৯১৫২২১৯৮০,

মার্চ ২য় সপ্তাহ, ’১৬