তনুসহ নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী নারী মুক্তি’র বিবৃতি

12864388-Vector-drawing-woman-with-revolution-flag-Stock-Vector-revolution

তনুসহ নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতনের জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

সংগ্রামী জনতা,

  দেশে নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতন আজ মহামারীরূপ ধারণ করেছে। তনু ধর্ষণ-হত্যা তারই অংশ। নারীরা আজ ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে কোথাও নিরাপদ নেই। পত্রিকার পাতা খুললেই প্রতিদিন ২/৪টি নারী-শিশু হত্যা-ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়। এমনকি শাসকশ্রেণির নিরাপদ স্থান বলে পরিচিত ক্যান্টমেন্টের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যেই তনু ধর্ষণ-হত্যার শিকার হলেন। পুলিশ-প্রশাসন সেদিকে নজর না দিয়ে বরং তনুর পরিবারকে ক্যান্টমেন্টে জিম্মি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে যেন এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের জন্য তনুর পরিবারই দায়ী। ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে  অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা চলছে। তনু হত্যার পর তার সহপাঠীগণ যখন প্রতিবাদে রাস্তায়  নামে তখনই ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী ঘরনার সংগঠনগুলো তনু হত্যার বিচার দাবীতে মাঠ গরম করে শাসকশ্রেণি, সরকার ও ফ্যাসিষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রকে আড়াল করতে চাইছে।

সংগ্রামী বন্ধুগণ,

 নারী ধর্ষণ-গণধর্ষণ, হত্যা-নির্যাতনের জন্য দায়ী হচ্ছে পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধি শাসকশ্রেণি, সরকার ও তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা। তার সদ্য উদাহরণ হচ্ছে গত বছর পহেলা বৈশাখে যৌন নিপীড়নের সময় পুলিশ অফিসার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকারি নেতারা সম্পূর্ন  নিরব ছিল। এই ঘটনায় পুলিশের সর্বোচ্চ অফিসার আইজি মন্তব্য করে ৩/৪টি ছেলের দুষ্টমি বলে। গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নৌমন্ত্রি শাহজাহান খান পহেলা বৈশাখের ঘটনাকে তেমন কোন বিষয় নয় বলে উল্লেখ করে। এই ঘটনা যে ক্ষমতাসীন দলের সূর্য সন্তাদেরই কাজ তা প্রকাশ হতে বাকী থাকেনি। তাই এই ঘটনার অপরাধীদের শেষ পর্যন্ত সনাক্ত বা শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশ বর্বরোচিত দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। নিকট অতীতে আওয়ামী ছাত্র সংগঠনের জনৈক নেতা প্রকাশ্যে ধর্ষণের সেঞ্চুরির ঘোষণা দিয়েছিল। পাহাড়ে আদিবাসী নারীদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। সেখানে প্রতিনিয়ত শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ছত্রছায়ায় আদিবাসী নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। যৌন নির্যাতনের প্রশ্নে পুলিশ-প্রশাসনও পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর ও মালিবাগের ঘটনাই তার দৃষ্টান্ত।

 এছাড়া একদিকে সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদীবিশ্ব পর্নোগ্রাফী, বিজ্ঞাপন, সিনেমা, ফ্যাশন শোতে নারীকে পণ্য ও ভোগ্য বস্তু হিসেবে তুলে ধরে তরুণ-যুবকদের মাঝে যৌন উম্মাদনা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্র বিপ্লবী গণতান্ত্রিক শক্তি ও জনগণের উপর প্রতিনিয়ত হত্যা-দমন-নির্যাতন চালাচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রভাব জনগণের মধ্যেও পড়ছে। ফলে এই অপসংস্কৃতিতে কলুষিত উম্মাদরাই নারী ধর্ষণ-হত্যার মত অপরাধ ঘটাচ্ছে। সুতরাং শুধু তনু হত্যাকারীদের ফাঁসি হলেই সমাজ থেকে নারী ধর্ষণ-হত্যা বন্ধ হবে না। যতদিন  না ধর্ষকদের সৃষ্টিকারী সাম্রাজ্যবাদ দালাল শাসকশ্রেণি, সরকার ও ফ্যাসিষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রকে উচ্ছেদ  করা না হয়।

তাই আসুন, তনু হত্যার বিচারের দাবীর সাথে সাথে নারী ধর্ষণ-হত্যার জন্য দায়ী পুরুতন্ত্রের প্রতিনিধি সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি, সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা উচ্ছেদের  বিপ্লবী আন্দোলনে সমবেত হই, দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলি।

আওয়াজ তুলুন

* অবিলম্বে তনু হত্যার প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

* পুরুষতন্ত্রের প্রতিনিধি সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রাসরণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ, সামন্তবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদ-নিপাত যাক।

* নারীর প্রতি যৌন সন্ত্রাস বন্ধ করতে পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা উচ্ছেদের বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

* যৌন উত্তেজনাকর সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

* নারী মুক্তির একই পথ- সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ!

বিপ্লবী নারী মুক্তি

মোবাইলঃ ০১৮২৪৬২৯৩০০

তারিখঃ মার্চ শেষ সপ্তাহ,’১৬

1

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s