দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবেলায় রাশিয়া ও চীন অগ্রসর হচ্ছে

South_Asia_map

দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবেলায় রাশিয়া ও চীন অগ্রসর হচ্ছে

দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান আঞ্চলিক শক্তি নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্ততান্ত্রিক ভারতের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত সামগ্রিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে চলেছে। অসমান বিকাশের নিয়মে পুঁজি ও শক্তির অনুপাত ও ভারসাম্য পরিবর্তিত হওয়ায় বাজার ও প্রভাববলয় পুনর্বণ্টনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব-সংঘাত তীব্রতর হয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী শক্তি সম্পর্কে পুনর্বিন্যাস ও মেরুকরণ প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ভারতেও। একক পরাশক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শক্তি কমতে থাকলেও এতদঞ্চলে তার প্রাধান্য ধরে রাখতে মার্কিনের এশিয়া প্যাসিফিক নতুন প্রতিরক্ষা রণনীতি তথা “রিব্যালান্সিং টু এশিয়া” রণনীতিতে জাপানকে ভিত্তি ও ভারতেকে ‘দন্ডের খিল’ (Linch-pin) হিসেবে ব্যবহার করে পুঁজিবাদী চীনকে মোকবেলা করতে চায়। এ প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তার রণনীতিতে ভারতের “এক্ট টু এশিয়া”কে সমন্বিত করছে। এই লক্ষ্যে ভারতকে চীনের পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীনকে মোকাবেলায় মার্কিন-জাপান-ভারত-অস্ট্রেলিয়া জোট গঠন করতে চায়। রাশিয়া ও চীন মার্কিন রণনীতিকে মোকাবেলা করে ভারতকে পক্ষে টানতে রিক (RIC), সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO), ব্রিকস্-এর নতুন উন্নয়ন ব্যাংক (NDB), চীনের ‘এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক’ (AIIB), সিকা (CICA) ইত্যাদি সংস্থা ও প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করছে। আবার ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করে চলেছে।

রিকের ১৩তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক:
২ ফেব্রুয়ারি চীনের রাজধানী বেজিং-এ রিকের ১৩তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনে ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সভার গৃহীত বাস্তব সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়। তারা গবেষণা সংস্থা, ব্যবসা, কৃষি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ ও পুনর্বাসন, চিকিৎসা, সেবা ও গণস্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগিতা অগ্রসর করতে সম্মত হয়। তাছাড়া তারা তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন, উচ্চ প্রযুক্তি, পরিবেশ, যোগাযোগ, পার্লামেন্টারি, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক ও যুব বিনিময়, ১৩তম ও ১৪তম বুদ্ধিজীবী সম্মেলন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তারা জাতিসংঘ সনদ, পঞ্চশীলা নীতি, কোন দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ ও আক্রমণের অগ্রহণযোগ্যতা জাতিসংঘে পাশ করানোর বিষয়ে একমত হন। তারা বলপূর্বক সরকার পরিবর্তন, একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। জাতিসংঘ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ের ৭০তম বার্ষিকী পালন করার বিষয়ে একমত হয়। তারা সিকার ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলন এবং গৃহীত সাংহাই বিবৃতি, পূর্ব এশীয় শীর্ষ সম্মেলন (EAS), এশীয় আঞ্চলিক ফোরাম (ARF), আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সভা+ (ADDM+), এশিয়া-ইউরোপ মিটিং (ASEM) এবং এশিয়া সহযোগিতা সংলাপ (ACD) ইত্যাদি সংস্থায় তাদের ভূমিকা, কার্যক্রম, সহযোগিতা, সমন্বয় শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ে তারা যত দ্রুত সম্ভব ত্রিদেশীয় পরামর্শ বৈঠকের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সম্মত হয়। তারা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাকে একটি মূল সংস্থা হিসেবে তুলে ধরে ২০১৪-১৫ সালে এর চেয়ারম্যান হিসেবে রাশিয়াকে সমর্থন করে জুলাই মাসে রাশিয়ার উফায় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিতে সামগ্রিকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এতে ভারতের পূর্ণ সদস্য পদের আবেদনকে সমর্থন জানায় এবং প্রয়োজনীয় সকল আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর ভারতের যোগদানকে সমর্থন করে। তারা সকল রূপের ও ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে জাতিসংঘে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী রণনীতি ও প্রস্তাব পাশ করার আহ্বান জানায়। এ ক্ষেত্রে আইসিটির অপব্যবহারের বিরোধিতা করে। তারা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, উন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক তথ্য মহাকাশ এবং তিউনিশ কর্মসূচিতে বর্ণিত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পরিচালন ব্যবস্থা সমর্থন করে। এ প্রেক্ষাপটে তারা ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই ব্রিকসের ৬ষ্ঠ সম্মেলনে গৃহীত পোটালেজা বিবৃতিতে বর্ণিত সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। তারা মহাকাশে শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের আহ্বান জানায়। আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া, ইরানের পারমাণবিক প্রশ্ন, ইসরাইল-প্যালেস্টাইন সংঘাত, সিরিয়ার ঘটনাবলী, ইরাকের চলমান সংঘাত ছড়িয়ে পড়া, ইউক্রেন সঙ্কট ইত্যাদি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে রাজনৈতিক মীমাংসার দিককে সামনে আনে। ২০১০ সালে গৃহীত আইএমএফ-এর কোটা ও পরিচালন সংস্কার এ বছর শেষ নাগাদ বাস্তবায়ন করার তাগিদ দেয়। ২০১৬ সালে চীনে জি-২০’র শীর্ষবৈঠক অনুষ্ঠান, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের শীর্ষ সম্মেলনে ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা গ্রহণ করার আহ্বান জানায়। ব্রিকসের ৬ষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে নতুন উন্নয়ন ব্যাংক এবং ব্রিকসের কন্টিজেন্ট মজুদ ব্যবস্থা নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরকে অগ্রসর করতে এবং ২০১৫ সালে ব্রিকসের ৭ম শীর্ষ সম্মেলনকে সফল করতে আহ্বান জানায়। ২২তম অ্যাপেক শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ‘এশিয়া প্যাসিফিকের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ (FTAAP) প্রক্রিয়া অগ্রসর করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। আঞ্চলিক সংযোগের গুরুত্বের প্রেক্ষিতে তারা চীনের উদ্যোগে সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট এবং একবিংশ শতাব্দীর মেরিটাইম সিল্ক রোডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করে। তারা ২০১৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে রাশিয়াতে পরবর্তী বৈঠক করার ঘোষণা দেয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়ানের আমন্ত্রণে ১৫ মে থেকে ৩ দিনের চীন সফর করেন। এ সময়ে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, গণকংগ্রেসের ষ্টান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এবারের সফরকালে উভয় দেশের সরকারের মধ্যে ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলারসহ মোট ২২ বিলিয়ন (২ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের চুক্তি ও সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভারতের রেলওয়ে সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, খনি, মহাকাশ ইত্যাদি। চীন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষবৈঠক হওয়ার পর যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয় এবং ৪১ দফা যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়। এই বিবৃতিতে গত সেপ্টেম্বরে’১৪ চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফরকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইল স্টোন আখ্যায়িত করা হয়। বিবৃতিতে উভয়পক্ষ এই অঞ্চল ও বিশ্বের দুটি বড় শক্তি হিসেবে ভারত ও চীনের যুগপৎ পুনরুত্থান এবং এশিয়ান শতাব্দী বাস্তবায়নে অপূর্ব সুযোগ আসার কথা বলা হয়। দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ, বৃহত্তম উদীয়মান দেশ, বৈশ্বিক মন্দা কাটানোয় ২টি বড় খুটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়। রাজনৈতিক সংলাপ ও রণনীতিগত যোগাযোগ শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ বিভিন্ন রাজ্য ও প্রাদেশিক নেতাদের ফোরাম প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। চেন্দু এবং চেন্নাই ২টি কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার; সামরিক সম্পর্ক উন্নয়ন করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক সফর বৃদ্ধি করা; ২০১৫ সালে চীনে ৫ম যৌথ সন্ত্রাস বিরোধী প্রশিক্ষণ মহড়া অনুষ্ঠিত করা, উভয় দেশের নৌবাহিনীর শুভেচ্ছা সফর বিনিময়, পাসেক্স ও সার মহড়া করা; পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, ঔষধ, আইটি, ভ্রমণ, কৃষিপণ্য নিয়ে ৫ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে অগ্রসর করা ইত্যাদি করার কথা বলা হয়। সীমান্ত সমস্যা মীমাংসার লক্ষ্যে আলোচনা অগ্রসর করা হয়। রণনীতিগত অর্থনৈতিক সংলাপ ২০১৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে চীনা বিনিয়োগ এবং চীনে ভারতের কোম্পানির উপস্থিতি বৃদ্ধির কথা বলা হয়। রেলওয়ে চেন্নাই-বাঙ্গালুর-মহিশুর লাইনকে উন্নত করা; দিল্লি-নাগপুর হাইস্পিড রেল লিংকের সম্ভাবতা যাচাই করা, ভূবেনেশ্বর ও বাইহাপানাহালি স্টেশন উন্নয়ন করা; ভারি পরিবহন প্রশিক্ষণ ও রেলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ইত্যাদি দিক নিয়ে সমঝোতা হয়। সাংস্কৃতি, শিক্ষা কার্যক্রম ও জনগণের আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা হয়। দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা (ইন্টারপেনরশীপ) ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মহাকাশ ও পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, শিক্ষা, প্রাচীন ঐতিহ্যিক ঔষধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। নাথুলা, টিয়াংলা/লিপু লেক পাস এবং শিপকিলা সীমান্ত বাণিজ্য, কৈলাস মানসরবরে যাওয়ার জন্য নাথুলা পসের রুট নির্দিষ্ট করা হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে রিক, ব্রিকস, জি-২০ ইত্যাদি বহুজাতিক ফোরামে সমন্বয় সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়। ২০১৬ সালে চীনে জি-২০ অনুষ্ঠানকে ভারত সমর্থন করে। সকল রূপের ও ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করা; জাতিসংঘের চার্টার, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ইত্যাদি; জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার ও নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের বৃহত্তর ভূমিকা পালনে ভারতের আকাক্সক্ষাকে চীন সমর্থন করে। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণ সদস্য হওয়ার ভারতের আবেদনকে চীন সমর্থন জানায়। এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করতে উভয়পক্ষ একমত হয়। বিসিমের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে উভয়পক্ষ যৌথ অধ্যায়ন/সমীক্ষা গ্রুপের দ্বিতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করতে সম্মত হয়। সার্ক-এর সহযোগিতা প্রশস্ত করতে এবং অ্যাপেকে ভারতের যোগদানের আকাক্সক্ষাকে সমর্থন করা হয়। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে, পরিবেশ পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। সীমান্ত নিয়ে চীন-ভারতের মধ্যে বিরোধকে সামনে না এনে স্বীয় স্বার্থে পরস্পরের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে অগ্রসর করছে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের চীন সফর:
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ২৫ থেকে ২৭ মার্চ ৩ দিনের চীন সফর করেন। এ সময়ে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, গণকংগ্রেসের চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ২৬ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিন ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেয়াও অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান। তারা পরস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বিষয়ে তথা উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ভ্রমণ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন। একবিংশ শতাব্দীর সিল্ক রোড প্রকল্পে উভয় দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা বলেন। উভয়পক্ষ উভয় দেশকে সকল সময়ের বন্ধু মনে করে। ৮ জানুয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলারে পোর্ট সিটি/বন্দর নগরী নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনায় আনা হয়। শ্রীলঙ্কার বন্দরে চীনের সাবমেরিন আর না ভেড়ার কথা বলা হয়। এ প্রেক্ষিতে চীন-শ্রীলঙ্কার মধ্যে কিছু প্রশ্নে মতপার্থক্য ও টানাপোড়েন দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা এবং ভারত, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কাকে পক্ষে টানার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ জোরদার করে। এ প্রেক্ষিতে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে ভারত সফর করে। এবারে সিরিসেনার চীন সফরকালে বন্দর নগরী নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকল্পটি বাতিল না করে উদ্ভুত দ্বন্দ্বগুলো মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিগত শ্রীলঙ্কা সরকার চীনের তুলে ধরা ‘সিল্ক রুট’ ও ‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’ সমর্থন করে।

সিকা:
২৫ মে সিকা সংস্থার বেসরকারি ফোরামের বার্ষিক অধিবেশন চীনের রাজধানী বেজিং-এ অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য সিকার ৪র্থ শীর্ষ সম্মেলন গত বছর সাংহাইতে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিন এশিয়ার নিরাপত্তার নতুন ধারণা উপস্থিত করে সিকাকে সম্প্রসারিত রূপ প্রদানের আহ্বান জানান। এবারের বেসরকারি সম্মেলন উদ্বোধন করেন চীনের গণকংগ্রেসের পরামর্শ সভার চেয়ারম্যান উ। এবারের সম্মেলনে সিকার সদস্য ও পর্যবেক্ষক দেশ থেকে মোট ৪ শতেরও বেশি নেতা, গবেষণা সংস্থা, সামাজিক গ্রুপ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। এভাবে একক পরাশক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবেলায় সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও পুঁজিবাদী চীন একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৫।।সংখ্যা-১১, রোববার।। ২৭ মার্চ ২০১৬।।

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s