জণ্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সিপিআই(মাওবাদী)’র সিনিয়র নেতা ‘রবি’

Kudumula-Venkata-Rao

গত শনিবার শহরের এক হাসপাতালে সিপিআই(মাওবাদী)’র এক শীর্ষ নেতা ‘কুদুমুলা ভেঙ্কট রমানা’ ওরফে রবি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

রবি ছিলেন অন্ধ্র-উড়িষ্যা সীমান্ত বিশেষ জোনাল কমিটি((AOBSZC)) এর সদস্য এবং পার্টির কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক কমিটি(সিআরসি)’র প্রথম কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। তিনি এলাকায় অনেক অপারেশনের দায়িত্ত্বে ছিলেন। তিনি, পুলিশ ও তাদের সম্পদ ধ্বংসের অনেক হামলার পরিকল্পনায় ছিলেন,  রবি’র মাথার জন্যে ২০ লক্ষ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ।

পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সুপার ‘কয়া প্রভীন’ বলেন-  রবিকে সকালে চিন্তাপল্লী মণ্ডলের শাপ্পাড়লা’র একটি জায়গা থেকে শহরে আনা হয়েছিল কিন্তু সে মারা যায়।

চিন্তাপল্লী মণ্ডলের কোম্মাঙি গ্রামের অধিবাসী ‘রবি’ হাইস্কুল শেষ করার পর ১৯৯৮ সালে মাওবাদী পার্টিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে পার্টির শীর্ষ নেতা ও সামরিক পরিকল্পনাবিদ হয়ে উঠেন। পার্টি সদস্য ‘কুমারী’কে তিনি বিয়ে করেন।

রবির মৃতদেহ শনিবার সন্ধ্যায় তার নিজ গ্রাম  চিন্তাপল্লী মণ্ডলের কোম্মাঙিতে নেয়া হয় এবং আজ রবিবার তাকে দাহ করা হয়েছে। রবির মরদেহ বিশাখাপত্তনম থেকে নেয়ার খবর পেয়ে বিশাল সংখ্যক গিরিজন সম্প্রদায়ের জনগণ কোম্মাঙিতে পৌঁছায়। সাবেক মন্ত্রী পি বালারাজু’র স্ত্রী, বিজেপি নেতা লোকুলা গান্ধী রবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

অনুবাদ সূত্রঃ thehindu

Advertisements

‘লালগড় আন্দোলন প্রসঙ্গে বিতর্ক’ – সিপিআই(এমএল) নিউ ডেমোক্রেসি -এর দলিল

img7img10

লালগড় আন্দোলন প্রসঙ্গে বিতর্ক‘ – সিপিআই(এমএল) নিউ ডেমোক্রেসি -এর দলিলটি পড়তে অথবা ডাউনলোড করতে নিচে ক্লিক করুন-


লালগড় আন্দোলন প্রসঙ্গে বিতর্ক





“ওয়াটার” – পুরুষতান্ত্রিক সমাজে

water-1

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বিধবা নারীর মর্মবেদনা ও ক্ষুব্ধ চৈতন্যের খণ্ডচিত্র- ওয়াটার

(ফেব্রুয়ারি, ২০০৭)

আমাদের দেশে প্রচলিত বাংলাদেশ-ভারতের সিনেমাগুলোতে নারী ও নারীর বিষয় নেই- এমন কথা কেউ নিশ্চয়ই বলবে না। বরং বলা ভাল নারীকে বিক্রি করেই এসব সিনেমা টাকা কামাচ্ছে। বাংলাদেশের ছবিগুলোতে কিছু ব্যতিক্রম বাদে অশ্লীল নামে পরিচিত ছবিগুলো ছাড়াও তথাকথিত ‘পরিচ্ছন্ন’ ছবিতেও নারীর ভূমিকা হলো পুরুষতান্ত্রিকতার অধীনে প্রেম করা, এবং কম-বেশি দেহ প্রদর্শন করে যৌন সুড়সুড়ি দেয়া। বোম্বের ছবিগুলোও তা-ই- শুধু কুশিলবদের দেহসৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিপুল অর্থব্যয়- এ সবের পার্থক্য ছাড়া।

এরই মাঝে কিছু ছবি প্রকৃতই ইতিবাচক চেতনার ছবি হয়ে ওঠে, এবং কিছু ছবি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারীদের বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, প্রতিবাদ ও সংগ্রামকে প্রগতিশীল ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আন্তরিকভাবে ও সাহসের সাথে এই বিরুদ্ধ সমাজেও তুলে ধরে। তেমনি এক ছবি হলো ‘ওয়াটার’। ভারতীয় ব্যতিক্রমী ছবি-নির্মাতা দীপা মেহতার এই ছবি এখন অবশ্য ভারতে খুব ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যেও মুক্তি পেয়েছে- যখন এটা অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। আর বিশ্বের সর্ববৃহৎ ‘গণতন্ত্র’-র মুখে চুনকালি দিয়ে এ ছবির ইতিহাস বলছে যে, ভারতীয় নির্মাতার এ ছবির কাহিনী, কুশিলব এবং বিশেষত নির্মাতা ভারতীয় হলেও এটা ভারতীয় ছবি নয়। এ ছবি এখন কানাডার, এবং তার শুটিং-ও হয়েছে অন্য আরেক দেশ রাবণের শ্রীলংকায়- রামের ভারতে নয়।

ইতিহাসটা খুব পুরনো নয়। দীপা মেহতাও ভারতীয় সংস্কৃতি জগতে অপরিচিত নাম নয়। ২০০০ সালে ভারতের বারানসীতে দীপা মেহতা ছবিটির কাজ প্রথম শুরু করেছিলেন। বিখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমী, নন্দিতা দাস ও লগন-খ্যাত আমির খানকে নিয়ে তিনি কাজ শুরু করলেও বেশি দূর এগুতে পারেননি। প্রথম শুটিং-এই তারা আক্রান্ত  হন। ফিল্ম-সেট পুড়িয়ে ফেলে নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। আক্রমণকারীরা দীপার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। আক্রমণকারীরা আর কেউ ছিল না, তথাকথিত বৃহত্তম গণতন্ত্রের তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিজেপি’র নেতা-কর্মীরা এটা করে। এই হিন্দু-মৌলবাদী শাসক পার্টির সাথে অন্য সব হিন্দু মৌলবাদী এ ছবিকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করে। পরের কয়েক সপ্তাহ ধরে হিন্দু মৌলবাদীরা দেশজুড়ে এক ভয়ংকর অভিযান চালায় যাতে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেয় প্রধান সংবাদ-মাধ্যমগুলো। এ অবস্থায় সেট-টেট গুটিয়ে মাথা-মুড়ানো শাবানা আজমীসহ সবাইকে রাজ্য সরকার ওখান থেকে চলে যেতে বলে। দীপা অন্য রাজ্যে লোকেশনের সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘোরেন। কিন্তু বিশাল ভারতে তিনি সে সুযোগ পান না। মৃত্যুর হুমকি ও অব্যাহত হামলার মুখে তার কাজ বন্ধ করে দিতে তিনি বাধ্য হন।

কিন্তু দীপা দমে যাননি। ৫ বছর পর তিনি আবার ছবিটিতে হাত দেন- কানাডিয়ান মালিকানায়, অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়েÑ আর শুটিং করেন শ্রীলংকায়। বিদেশেই এটা মুক্তি পায়; আর পেয়ে তা সোজা চলে যায় ’০৬-সালের অস্কার মনোনয়নে। ইতিমধ্যে ভারতে সরকার বদল হয়েছে। ভারতে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তির চাপ, আর বর্তমান শাসক কংগ্রেস দল কর্তৃক বিজেপি-বিরোধী নিজেদের ‘মৌলবাদ বিরোধী’ ভাবমূর্তির স্বার্থে ভারতেও এটা এখন মুক্তি পেয়েছে। দীপা মেহতার এই ছবি নিয়ে এতবড় ভারতের এত বড় শাসক পার্টি, বিশেষত হিন্দু মৌলবাদীরা এতটা ক্ষিপ্ত কেন হলো? কী তার ‘হিন্দু-বিরোধী’ চরিত্র? এর আগেও ‘ফায়ার’ নামে একটা ছবি বানিয়ে তিনি হিন্দু-মৌলবাদীদের তোপের মুখে ছিলেন- যে ছবিতে  হিন্দু-ধর্মশাস্ত্রানুসারে বর্তমান সমাজের এক পরিবারে গৃহবধু/নারীর যৌন বঞ্চনাকে তিনি তুলে ধরেছিলেন। তাই, ‘ওয়াটার’ ছবিকে ভারতীয় রাষ্ট্রের কর্ণধাররা শুরুই করতে দেয়নি।

* কী আছে এই ‘ওয়াটার’-এ?

ছবিটি তিনটি বিধবা নারীর বঞ্চনা ও ক্ষুব্ধ চৈতন্যকে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে পাতানো (এ্যারেঞ্জড্) বিয়ে, বিধবার মর্মবেদনা ও বিদ্রোহকে তুলে ধরেছে। এ ছবি হলো হিন্দু বলয়ে সামন্ত ঐতিহ্যের জীবন-ধ্বংসী নিষ্ঠুরতার কাহিনী। কাহিনীর সময়কাল ১৯৩৮-এ, যখন ভারতবর্ষ বৃটিশের উপনিবেশ ছিল, এবং ভারতীয় জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করছেন। চুইয়া, কল্যাণী আর শকুন্তলা- এই হলো ছবির তিন প্রধান চরিত্র, তিন তরুণী বিধবা নারী। তারাসহ মোট ১৫জন বিধবাকে এক আশ্রম/প্রতিষ্ঠানে থাকতে দেয়া হয়। এখানে তাদের বঞ্চনা ও লজ্জার জীবন, জীবন-ধ্বংসী ও নিষ্ঠুর  ধর্মীয় সামন্ত রীতি, এবং সেসবের বিরুদ্ধে তাদের বুঝে ওঠা ও উঠে দাঁড়ানো- এগুলোই এ ছবিতে উঠে এসেছে।

ছবি শুরু হয় চুইয়াকে দিয়ে- যে শিশু-বয়সে পাতানো-বিয়ের শিকার, ও কিছু পরেই বিধবা। বয়স তার মাত্র সাত। তাকে যখন এই বিধবা প্রতিষ্ঠানে তার বাবা রেখে যাচ্ছে তখন তার চুল কেটে মাথা কামিয়ে দেয়া হয়। এটাই রীতি, তার বৈধব্যের চিহ্ন- যা তার লজ্জাকে বহন করে চলে। সাত বছরের চুইয়া বুঝতেও সক্ষম নয় যে, এই চুলকাটা ও মাথা কামানোর মধ্য দিয়ে তার সমগ্র জীবন ভয়ংকরভাবে বদলে যাচ্ছে। তার লাল ব্রেসলেট ভেঙে ফেলা হয়, রঙিন কাপড়চোপড় কেড়ে নেয়া হয়। সাদা কাপড়ে ন্যাড়া মাথায় তাকে এখন থেকে সারাজীবন বৈধব্যের গ্লানির নিচে তার জীবন, যৌবন ও সকল কামনা-বাসনাকে মাটি চাপা দিয়ে চলতে হবে।

কারণ, হিন্দু শাস্ত্রমতে স্বামীর জীবিতকালে স্ত্রী তার অর্ধাঙ্গিনী; স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তার লাশের অর্ধাঙ্গিনী। এ অবস্থায় ধর্ম ও সমাজ চুইয়ার সামনে তখন তিনটি পথ খোলা রেখেছিল- ১) মৃত স্বামীর সাথে সহমরণ- যা সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত ছিল; ২) পারিপার্শ্বিকতা অনুমোদন করলে দেবরকে বিয়ে করা; ৩) মাথা কামিয়ে সাদা কাপড়ে সাধারণ খাদ্য খেয়ে দিনের বেলায় ভিক্ষে করে আর রাতে শীতের মধ্যে শক্ত মেঝেতে শুয়ে দিন কাটানো। চুইয়াকে এখন এই তৃতীয়টির মধ্যে রেখে গেছে তার বাবা।

এখানে অন্য বিধবারা ছিল উচ্চ বর্ণের ব্রাহ্মণ গোত্রের। কিন্তু তাদেরকেও অস্পৃশ্যের মতই দেখা হতো। গঙ্গার পবিত্র পানিতে নিজেদের পাপ ধুয়ে পবিত্র হওয়া যায় বলে মনে করা হয়। এরকম এক সকালে স্নান সেরে ওঠা এক নারীর উপর এই বিধবাদের একজন দুর্ঘটনাবশত পড়ে যায়। সেই নারী রেগে গিয়ে বলে যে, বিধবাটি তাকে অপবিত্র করে ফেলেছে; তাই তাকে আবার স্নান করতে হবে। কিন্তু দ্রুতই দেখা যায় চুইয়া এ ব্যবস্থার মধ্যে এক বিদ্রোহী চেতনা/ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। রীতির বিরুদ্ধে গিয়ে সে প্রশ্ন করে, “পুরুষ বিধবাদের জন্য এরকম বাড়ি কই?” সে রীতি ভঙ্গ করে মৃত্যু পথযাত্রী এক বিধবাকে নিষিদ্ধ মিষ্টি খেতে দেয়। এ সবের মধ্য দিয়ে তার বন্ধুত্ব হয় কল্যাণীর সাথে।

শকুন্তলাও চুইয়ার বিদ্রোহী সত্ত্বায় প্রভাবিত হয়। প্রথমদিকে সে চুইয়াকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পরে সে নিজেও এই প্রতিরোধে সামিল হয়। তার স্পিরিট বাড়তে থাকে। তার নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সে প্রশ্ন করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার সমগ্র ধর্মীয় মতবাদই তার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সে একে চ্যালেঞ্জ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

কল্যাণী ন্যাড়া ছিল না, তার চুল রাখার অনুমতি ছিল। কারণ, রাতে তাকে দেহদানে বাধ্য করা হতো। এ থেকে আয় দিয়েই সে তার থাকা-খাওয়ার খরচ যোগাতো। তাই, অন্য বিধবাদের মত তাকে ভিক্ষা করতে হতো না।

প্রথমাবস্থায় কল্যাণীকে দেখায় ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। কিন্তু তার চোখে বিদ্রোহের ঝিলিক দেখা যায়। চুইয়ার সাথে একত্রে তারা নিষিদ্ধ কুকুরছানা পালতে থাকে। এভাবে তাদের জীবনমুখিতা বিদ্রোহের পথ পেতে থাকে।

কল্যাণী নারায়ণ নামের এক তরুণ আলোকপ্রাপ্ত স্বচ্ছল পরিবার-উদ্ভূত আইনজীবীর প্রেমে পড়ে। নারায়ণ ছিল ঐতিহ্যের রীতিতে অবিশ্বাসী। বিধবাবিবাহ নিষিদ্ধ এটা সে মানতো না। কল্যাণী এক পর্যায়ে নারায়ণকে বিয়ে করবে বলে ঘোষণা করলে বিদ্রোহ পুরোপুরি ফেটে পড়ে।

বিধবাদের মাঝে একজন মধুমতি, যে ছিল সর্দারনী ধরনের ও অত্যাচারী। এই বিদ্রোহের অপরাধে তার চুল কেটে দেয়, ঘরে আটকে রাখে এবং কল্যাণী-যে বিধবা সেই ‘লজ্জা’ যেন সে গোপন করতে না পারে তার ব্যবস্থা করে।

ছবির শেষটা রূপকাশ্রিত। এখানে নির্মাতা দীপা মেহতার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায়, যা গান্ধীর মতবাদে ভারতে নারীমুক্তি ঘটবে বলে তুলে ধরা হয়- নারায়ণের জবানীতে। এখানেই ছবির মতাদর্শিক ও রাজনীতিক মৌলিক সমস্যা। কারণ, এমনকি সে সময়টাতেও গান্ধীর চেয়ে অনেক মৌলিক ও প্রগতিশীল চিন্তা ভারতে কাজ করছিল। গান্ধীর মতবাদকে তুলে ধরাটা সেই সব প্রগতিশীল ও বিপ্লবী চেতনা থেকে পরিচালকের বিচ্ছিন্নতা ও গান্ধী সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও মোহকে প্রকাশ করে।

* ছবির সময়কাল ১৯৩৮-এর বহু পর এখন ২০০৭ সাল। এই দীর্ঘসময়ে ‘স্বাধীন’ ভারতে গান্ধীর পথে নারীর মুক্তি ঘটেনি। বহু আইনই এখন নারীর পক্ষে হয়েছে বটে, কিন্তু, নারীর উপর পুরুষতান্ত্রিকতার নিপীড়ন বিভিন্ন রূপে রয়েই গেছে। আর ভারত-বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের এক বিরাট অংশে সেটা রয়েছে প্রায় ‘ওয়াটার’ ছবির সময়কালের মতই। পুরুষতন্ত্র ও ধর্মীয় মৌলবাদ- সে হিন্দু, মুসলিম বা খৃষ্টান যা-ই হোক না কেন, নব নব রূপে বিরাজ করছে শুধু তৃতীয় বিশ্বে নয়, তথাকথিত আধুনিক পশ্চিমা দেশগুলোতেও। ২০০১ সালের এক জরীপে দেখা যায়, ভারতে সাড়ে তিন কোটি বিধবা নারী রয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো পুরুষতন্ত্রের একই নিপীড়নে এবং জীবন-ধ্বংসী একই ব্যবস্থায় জীবন যাপন করছেন।

বিশেষত বাংলাদেশের পরিস্থিতিও একই। ভারতের সাথে বাংলাদেশের পার্থক্যটা শুধু দেশের নাম ও প্রধান ধর্মের নাম ও রীতির পার্থক্যে সীমাবদ্ধ। ‘ওয়াটার’ ছবির কাহিনীর চেয়ে সমাজের বহু পরিবর্তন ঘটলেও সারবস্তুতে নারী, বিশেষত বিধবা নারী- পাতানো বিয়ে, বৈধব্য জীবনের মর্মবেদনা, বঞ্চনা ও লজ্জার অবসান এখনো ঘটেনি। পুরুষতন্ত্র, পশ্চাদপদ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধারণাগুলো যা সামন্তীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত- নারীকে এখনো ‘ওয়াটার’ ছবির চরিত্রগুলোর মতই তাড়িত করে।

ধর্ম ও ঐতিহ্য বলছে গঙ্গার জলে পাপ ধুয়ে যায়। কিন্তু ‘ওয়াটার’ বলছে, এই পবিত্র পানিতে তুমি ডুবে যেতেও পার।

[ আমেরিকার মাওবাদী পত্রিকা ‘রিভলিউশন’-এর ৪ জুন,’০৬ সংখ্যায় প্রগতিশীল সাংবাদিক-লেখিকা লি অনেস্টোর প্রতিবেদনের অনুসরণে লিখিত]


আজ লোগাং গণহত্যার ২ যুগ

539544_453972424642785_20892984_n 1491615_252290818287665_2012887018412247240_n 1438933389

Pakuakhali-4

Protest-photo-92-300x225

আজ ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের লোগাঙ গণহত্যার দুই যুগ পূর্ণ হল। ১৯৯২ সালের এই দিন সেনাবাহিনী, বিডিআর, আনসার-ভিডিপি’র সহযোগিতায় সেটলার বাঙালিরা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাঙ গুচ্ছগ্রামে এই বর্বর গণহত্যা সংঘটিত করে। শান্তিবাহিনী কর্তৃক এক বাঙালি রাখাল বালককে হত্যার মিথ্যা অভিযোগে তারা এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড চালায়। সেটলাররা দা, বটি, কুড়াল দিয়ে পাহাড়িদের উপর আক্রমণ করে এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআর(বিজিবি) নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকশত পাহাড়ি হতাহত হয়। অনেকে নিঁখোজ হয়ে যায়। সেদিন শিশু, বৃদ্ধ, নারী কেউই রেহাই পায়নি। অগ্নিসংযোগ করে ছাই করে দেওয়া হয় ৭ শতাধিক ঘরবাড়ি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বৈ-সা-বি (বৈসু-সাংগ্রাই-বিঝু) উৎসবের ৩দিন আগে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পাহাড়িরা। বর্জন করা হয় বৈ-সা-বি উৎসব।

এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের ফলে বৈ-সা-বি’র আনন্দ উৎসব শোক সাগরে পরিণত হয়। ১৩ এপ্রিল’৯২ উৎসবের মূল দিন (মূল বিঝু) খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে হাজার হাজার লোকের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা থেকে আগত রাজনৈতিক  সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, লেখক-সাংবাদিকরাও আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে আপামর জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়।  খাগড়াছড়ির হাজার হাজার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সেদিন বাঁধ ভাঙা পানির মতো রাজপথে নেমে এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। স্বতঃস্ফুর্তভাবে বৈ-সা-বি উৎসব বর্জন করা হয়। নিহতদের সম্মান জানাতে রান্না করা পাজন (মূল উৎসবের দিন হরেক রকমের সবজি দিয়ে তৈরি খাদ্য বিশেষ) চেঙ্গী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।

বৈ-সা-বি উপলক্ষে ঢাকা থেকে আগত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, লেখক-সাংবাদিকরা ১২ এপ্রিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যাবার পথে পানছড়ি উপজেলা সদরে সেনাবাহিনী তাদের বাধা প্রদান করে।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২৮ এপ্রিল’৯২ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় লোগাঙ অভিমুখে ঐতিহাসিক পদযাত্রা। হাজার হাজার নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। ঢাকা থেকে আসা রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র নেতা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী-লেখকরাও পাহাড়ি জনগণের সাথে সংহতি জানিয়ে এই পদযাত্রায় অংশ নেন। সেনাবাহিনীর সকল বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে লোগাং পোড়াভিটায় গিয়ে তারা ফুল দিয়ে নিহতদের সম্মান জানান।

লোগাং গণহত্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত ডজনের অধিক গণহত্যা ও দুই ডজনের অধিক সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু কোন ঘটনারই আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। ফলে এ ধরনের বর্বর ঘটনা এখনো ঘটেই চলেছে। কাজেই, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব সমাজ তথা সর্বস্তরের জনগণকে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

এদিকে, দিনটির স্মরণে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন লড়াকু সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন আজ বিকালে ঢাকার শাহবাগে (জাতীয় জাদুঘরের সামনে) প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও প্রতিবাদী আলোচনা সভা এবং পানছড়িতে প্রতিবাদী সভা ও রক্তে খোদিত “১০ এপ্রিল” প্রদর্শন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তারা গণশত্রুদের বিরুদ্ধে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের সংগ্রামী মৈত্রী উর্ধ্বে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্রঃ chtnews


বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির ১১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

12923380_705590282916220_7157117208663428287_n

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখঃ ০৯/০৪/২০১৬

“সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের উচ্ছেদের সংগ্রামই হচ্ছে কৃষি বিপ্লব তথা শ্রমিক কৃষক জনগণের মুক্তির সংগ্রাম” – ডা.এম এ করিম

নয়া-উপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী বাংলাদেশে শ্রমিক কৃষক জনগণের শত্রু হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরা। এদের উচ্ছেদের সংগ্রামই হচ্ছে শ্রমিক কৃষক জনগণের মুক্তির সংগ্রাম। বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির ১১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’র সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ডা.এম এ করিম এসব কথা বলেন।

কৃষক সমাজের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষ্যে আজ ৯ এপ্রিল ২০১৬ শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির ১১তম জাতীয় সম্মেলন’১৬ ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক এর সভাপতিত্বে দিনব্যাপী সম্মেলনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির ।

সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম জাহাঙ্গীর হোসাইন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী মনসুর হাবীব ও এনডিএফ’র সাবেক নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী ই.ইউ শহীদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ, বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভুঁইয়া, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক তৌফিক হাসান পাপ্পু প্রমুখ। সম্মেলনে অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, কৃষক সমাজের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে ভর্তুকি প্রদান পূর্বক নামমাত্র মূল্যে সার ডিজেল, কীটনাশকসহ সকল কৃষি উপকরণের সরবরাহ, সার, বীজ, কীটনাশকে ভেজাল প্রতিরোধসহ জরুরী জাতীয় সমস্যা সমাধানে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারার উপকূলীয় এলাকায় এস. আলম গ্রুপ ও চায়না সেফকো কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে কলয়া ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যার পরিণতিতে সোমবারের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হলে এলাকার কৃষিজমি, জনবসতি, লবণ ও পাশ্ববর্তী মৎস্য অভয়ারন্য বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। নেতৃবৃন্দ ১০ হাজার মৎসজীবী ও ১৪ হাজার লবন চাষীর সরাসরি জীবিকা ধ্বংসকারী জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী দেশী-বিদেশী লুটেরা গোষ্ঠির স্বার্থের এই প্রকল্প বাতিল করার দাবি জানান। একই সাথে গত সোমবারের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি করেন। সম্মেলন সিলেটের কালাগুল এলাকায় ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকদের খাস জমি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চক্রান্ত রুখে চা শ্রমিক নেতা জয় মাহার্ত্য কুর্মিসহ আন্দোলনরত শ্রমিক কৃষক জনগণের ওপর পুলিশি নির্যাতন বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন অগ্রসর করার আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের উদ্ভোধনী পর্ব শেষে সাধারণ সম্পাদক লিখিত সম্পাদকীয় রিপোর্ট উপস্থাপন করেন । রিপোর্টের ওপর আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় কৃষক নেতা খায়রুল বসর ঠাকুর খান, ইয়াকুব আলী, আলাউদ্দিন ওমর, নিবিড় কান্তি বিশ্বাস মিঠু, ডাঃ আব্দুল খালেক লস্কর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।
সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে শ্যামল কুমার ভৌমিককে সভাপতি, শাহজাহান কবিরকে সাধারণ সম্পাদক ও বি.এম. শামীমুল হককে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয় । নব-নির্বাচিত কমিটিকে শপথ পাঠ করান ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম। সবশেষে সম্মেলনের সভাপতি শ্যামল ভৌমিক তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন ।

বার্তা প্রেরক

(শাহজাহান কবির)
সাধারণ সম্পাদক
মোবাঃ ০১৭১২-০৫৮২৪৫।

12931244_705589956249586_5336577741894071002_n

12961702_705590169582898_2652340020967863511_n

12923232_705590306249551_7953336537243481247_n