জার্মানি থেকে ৬০০০ শরণার্থী শিশু-কিশোর গুম!

4bhk9e5c1112f61jli_620C350

জার্মানি থেকে মাতাপিতা বা অভিভাবকহীন হাজার হাজার শরণার্থী শিশু-কিশোর গুম হয়ে গেছে। গত বছর গুম হওয়া এসব শিশু-কিশোর অপরাধী এবং আদম পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। জার্মান সংবাদ সংস্থা ফাংক মেডিয়েন গ্রুপ এ খবর দিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়ার ৫,৮৩৫ শরণার্থী শিশু-কিশোর পশ্চিম ইউরোপীয় দেশটি থেকে গুম হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৫৫ জনই অনূর্ধ্ব-১৪ বছরের বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। রহস্যজনকভাবে গুম হয়ে যাওয়া এসব শিশুর অধিকাংশই আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইরিত্রিয়া, মরক্কো এবং আলজেরিয়া নাগরিক।

এসব শিশু-কিশোরের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা কোথায় আছে সে বিষয়ে জার্মান কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না। জার্মান স্বরাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, সম্প্রতি দেশটির সরকার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া প্রায় ৬০০০ শিশুর বিষয়টি সংসদকে অভিহিত করেছে।

গুম হওয়া শিশুদের সংখ্যা আরো কিছু বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অবশ্য কেন এসব শিশু হারিয়ে গেছে সে বিষয়ে কিছু বলেন নি জার্মান মুখপাত্র।

Advertisements

লুম্পেন রাজনীতির শিকার ‘কুতুবউদ্দিন আনসারী’র ছবি

4bk429b8c72eae60ts_620C350

ভারতের গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গার সময় চোখভরা পানি নিয়ে হাতজোড় করে প্রাণ বাঁচানোর আবেদন করেছিলেন কুতুবউদ্দিন আনসারী নামে এক যুবক। ২০০২ সালের সেই ভয়ার্ত মুখ কার্যত গুজরাট দাঙ্গার অন্যতম প্রধান ছবি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আজো মর্মস্পর্শী সেই ছবিকে সমানভাবে ব্যবহার করছে বিভিন্ন মৌলবাদী ও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে বলিউড এমনকি সন্ত্রাসীরাও। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন কুতুবউদ্দিন। তিনি ওই ছবি ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কুতুবউদ্দিন আনসারী বলেছেন, ‘যতবার ওই ছবি ব্যবহার করা হয়, আমার জীবন ততটাই কঠিন হয়ে যায়। কাল হয়তো এর পিছনে আমার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন মানুষজন। যারা আমায় চেনেন তারাও প্রশ্ন করবেন আমায়। ৪৩ বছর বয়স হয়েছে আমার। ঘটনার পরে ১৪ বছর পার হয়ে গেছে। তবুও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আমাকে ব্যবহার করার খেলা বন্ধ করল না।’

কুতুবউদ্দিনের আক্ষেপ, ‘যখন আমার সন্তানরা আমাকে জিজ্ঞাসা করে বাবা আপনাকে কাঁদতে এবং দয়া ভিক্ষা করতে দেখা যায় কেন? তখন আমি জবাব দিতে পারি না। মাঝে মধ্যে মনে হয় এর থেকে বরং তখন মরে গেলেই বোধ হয় ভাল হতো।’

কুতুবউদ্দিন বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল আমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। অসম বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের শেষ দিন গত শনিবার কয়েকটি সংবাদপত্রে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দিয়ে গুজরাট দাঙ্গার সময়ের কুতুবউদ্দিনের সেই বিখ্যাত ছবি ব্যবহার করা হয়। বিজেপিকে টার্গেট করে বিজ্ঞাপনে মোদির গুজরাট মডেল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয় ‘আপনারাও কি অসমকে গুজরাটের মতো দেখতে চান? আপনাদেরই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অসমে কংগ্রেসের বিকল্প কংগ্রেসই।’

গুজরাটের বিরজুনগরে দর্জি’র কাজ করা কুতুবউদ্দিন আনসারী তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে কোনো প্রকারে কষ্টে সংসার নির্বাহ করেন। তার অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাকে এভাবে ব্যবহার করায় তার জীবনে সমস্যা বেড়ে চলেছে। তিনি গুজরাটে শান্তিতে থাকতে চান।

গুজরাট দাঙ্গার সময় ২৯ বছর বয়সী কুতুবউদ্দিন আনসারী নিরাপত্তার কারণে ৬ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতায় ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি গুজরাটে ফিরে যান।


শহীদ কমরেড ‘নবীন বাবু’ লাল সালাম

JJ


পেরুঃ সামরিক কনভয়ের উপর মাওবাদী ‘শাইনিং পাথ’ গেরিলাদের হামলা, নিহত ৭ সৈন্যসহ আহত ৮

1460269053

পেরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে সেনাবাহিনীর ওপর মাওবাদী ‘শাইনিং পাথ’ গেরিলাদের ২টি হামলায় ৭জন সেনা সদস্য নিহত ও ৮জন আহত হয়েছে।

গত শনিবার(১০ই মার্চ) ভোর ৪টার দিকে জুনিন অঞ্চলে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবার জন্য নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে সেনাবাহিনীর একটি কনভয় যাওয়ার সময় পেরুর মধ্যাঞ্চলীয় গভীর জঙ্গলে মাওবাদী ‘শাইনিং পাথ’ গেরিলাদের অতর্কিত হামলায় ৭ জন সেনাসহ ৬ জন আহত হয়েছে।

সেনাবাহিনী জানায়, পেরুর কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত হ্যাটুন অ্যাশা এলাকার এই গভীর জঙ্গলটি গেরিলাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

দ্বিতীয় হামলাটি হয়, পেরুর দক্ষিণে আপুরিমাক নদীর উপর একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে, এতে ২ সেনা আহত হয়েছে বলে সরকারী কর্তৃপক্ষ জানায়।

কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ‘হামলার জন্য কমিউনিস্ট গেরিলা গোষ্ঠী ‘শাইনিং পাথ’ দায়ী। ১৯৯০ এর দশকে গেরিলা গোষ্ঠীটি অনেকাংশেই নির্মূল করা হয়েছিল। তবে এখনো এর বেশ কিছু সদস্য জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে।’

অনুবাদ সূত্রঃ scmp


‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ অতীত ও বর্তমান’- অনুরাধা গান্ধী

asit

[অনুরাধা গান্ধী(১৯৫৪- ১২ই এপ্রিল, ২০০৮), ভারতীয় বিপ্লবের একজন নেতৃস্থানীয় সংগঠক ও চিন্তাবিদ। তিনি ছিলেন মুম্বাই ও নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং এই দুই শহরে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। পরবর্তীতে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় বনাঞ্চলে জনগণের উপর অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হন এবং সিপিআই(মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা উপ কমিটির প্রধান হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন দৃঢ়, নির্ভীক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী. দূরদর্শী বিবেচক। ১৯৮৩ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সদস্য কোবাদ গান্ধীকে বিয়ে করেন। দুঃখজনক ভাবে ২০০৮ সালের এপ্রিলে দণ্ডকারণ্যের গভীর জঙ্গলের গেরিলা জোনে সেরেব্রাল ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর দিনটিতেও তিনি নারী ক্যাডারদের নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।]

International_Womens_Day_19

আন্তর্জাতিক নারী দিবসঃ অতীত ও বর্তমানঅনুরাধা গান্ধী

২০০১ এর ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ৯১ তম বার্ষিকী যা ১৯১০ সালে সর্বপ্রথম ঘোষিত হয়। সে বছর সমাজতান্ত্রিক শ্রমজীবী নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমেরিকার শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ক্লারা জেটকিন বাৎসরিকভাবে নারী দিবস উদযাপনের প্রস্তাব পেশ করেন। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সভায় নারী অধিকারের আন্দোলনকে মর্যাদা প্রদান করতে ও সারা বিশ্বে নারীদের ভোটাধিকার অর্জনে সহায়তার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত একটি নারী দিবস চালু করা হয়। ১৭টি দেশের ১০০ জনেরও বেশী নারীদের সর্বসম্মত অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। দিবসটি পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোন তারিখ নির্বাচন করা হয়নি।

এই সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে ১৯১১ সালের ১৯শে মার্চ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে দশ লাখেরও বেশী নারী ও পুরুষ এক র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করে। ভোটের অধিকার ছাড়াও তারা কাজ ও কারিগরী প্রশিক্ষণের অধিকার ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বন্ধের দাবী জানায়। জার্মানীতে নারীরা ১৯শে মার্চ দিনটি বেছে নেয় কারণ ১৮৪৮ সালের এই দিনে এক সশস্ত্র বিদ্রোহের সময় প্রুশিয়ার রাজা নারীদের ভোটাধিকার সহ অনেক রকম সংস্কার সাধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

১৯১৩ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনটি বদলে করা হয় ৮ই মার্চ। ঐ দিনে ঘটে যাওয়া দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে এটি করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৮ই মার্চ নিউইয়র্ক শহরে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলের নারী শ্রমিকেরা দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ ও নিম্ন মজুরী প্রদান ইত্যাদি অমানবিক অবস্থার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এতে পুলিশ হামলা চালায় ও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুই বছর পর আবারো মার্চ মাসে এই নারীরা প্রথমবারের মতো একটি ইউনিয়ন গঠন করে। ১৯০৮ সালের ৮ই মার্চ পুনরায় সীমিত কর্মঘন্টা, উন্নত মজুরী, ভোটাধিকার ও শিশু শ্রম বন্ধের দাবীতে ১৫,০০০ নারী নিউ ইয়র্ক শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

তাদের শ্লোগান ছিল ‘রুটি ও গোলাপ’; অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক হল রুটি এবং জীবনযাত্রার উন্নত মান বোঝাতে গোলাপ। সে বছরের মে মাসে আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক পার্টি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ রবিবার দিনটিকে জাতীয় নারী দিবস হিসেবে পালনের জন্য মনোনীত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম জাতীয় নারী দিবস পালিত হয় ১৯০৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি। শীঘ্রই ইউরোপের নারীরা ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার দিনটিতে নারী দিবস উদযাপন করতে আরম্ভ করে। এই পটভূমিতে ১৯১০ সালে অনুষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন একটি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাব পেশ করেন।

১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো এ দিবস উদযাপনের এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ট্র্যাজিক ট্রায়াঙ্গেল ফায়ারে’ (‘Triangle Shirtwaist Factory’তে সঙ্ঘটিত অগ্নিকাণ্ডে) ১৪০ জন শ্রমজীবী নারী নিহত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম আইনে এই ঘটনা সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে এবং আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে আরো বেগবান করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯১৩ সালে রুশ নারীরা প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে। পরের বছর ৮ই মার্চ কিংবা তার কাছাকাছি সময়ে ইউরোপে নিপীড়িত নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে নারীরা র‍্যালির আয়োজন করে। সব থেকে বিখ্যাত শ্রমজীবী নারী দিবস ছিল ১৯১৭ সালের ৮ই মার্চ (রুশ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৪শে ফেব্রুয়ারি)। এদিন সেন্ট পিটার্সবার্গের রুশ নারীদের নেতৃত্বে ‘রুটি ও শান্তি’র দাবীতে হরতাল পালিত হয়। ক্লারা জেটকিন এবং আলেকজান্দ্রা কোল্লনতাই উভয়েই এতে অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের হরতালে দাঙ্গা তৈরি হয় যা ৮ থেকে ১২ই মার্চের মধ্যে গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের (এটি এ নামেই পরিচিত) ফলে জারের পতন ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়নে ৮ই মার্চকে বীর নারী শ্রমিকদের বীরত্ব উদযাপনের পাশাপাশি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। তখন থেকে ৮ই মার্চ এর তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সারা পৃথিবী জুড়ে দিনটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়নে নারী অধিকারের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয় যা সারা বিশ্বের নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা ছিল।

১৯৪৯ সালের চীন বিপ্লব দেখিয়ে দিল সামন্তীয় মূল্যবোধ ও পিতৃতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় নিমজ্জিত বিশ্বের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর একটিতে নারীরা পরিবর্তনের জন্য কী করে জেগে উঠতে পারে। সমাজতান্ত্রিক চীনে নারীরা যে বিরাট পদক্ষেপটি নিয়েছিল তা ছিল গোটা তৃতীয় বিশ্বের নারীদের জন্য একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত। চীনে নারীদের ক্ষমতায়নের একটি বড় উৎস্য হিসেবে বিশেষ ভাবে কাজ করেছে মহান প্রলেতারিয়েত সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সামন্তীয় কনফুসিয় ধ্যান ধারণার উপর এর নিরন্তর আক্রমণ। কমরেড চিয়াং চিয়াং ছিলেন এর জীবন্ত প্রতীক। ১৯৬০ ও ১৯৭০ এর দশকে পুঁজিবাদী দেশগুলোতে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক উত্থান ঘটে এবং তৃতীয় বিশ্বে ক্ষমতাশালী জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে উঠে এবং এসময় নারীদের স্বাধীনতা আন্দোলনেও পুনর্জাগরণ ঘটে।

গোটা বিশ্বে এই আন্দোলন এত বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছিল যে সাম্রাজ্যবাদীরা আত্তীকরণের মাধ্যমে একে স্বপক্ষে এনে ও নিজেদের গ্রহণযোগ্য পথে এর গতি পরিবর্তন করে একে ধ্বংস করতে চাইল। আত্তীকরণের মাধ্যমে স্বপক্ষে টানার এই প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ রূপ হল ১৯৭৭ সালে ৮ই মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে জাতিসঙ্ঘের স্বীকৃতি প্রদান।

সেই থেকে চরম বুর্জোয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোও ৮ই মার্চ ‘উদযাপন’ করে আসছে। অবশ্য যে বিপ্লবী উপাদান ও সংগ্রামের ইতিহাস থেকে এর উদ্ভব সেটুকু তারা বর্জন করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরবর্তীতে চীনে সমাজতন্ত্রের পরিবর্তন ঘটে যা এই অবস্থার পিছনে অনুঘটকের কাজ করে। এই সব পরিবর্তনের ফলে প্রথম যে ক্ষতিটা হয় তা হল সমাজতন্ত্রের অধীনে নারীদের অর্জিত কিছু অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো। তারপরেও বিশ্বের নিপীড়িত নারীদের মাঝে আন্তর্জাতিক নারী দিবস বেঁচে আছে। কমিউনিস্ট আন্দোলন ও সমাজতন্ত্রের সাময়িক অবনতি এবং পুঁজিবাদের/সাম্রাজ্যবাদের পুনর্বহাল নারীদের কঠিন আঘাত করেছিল।

বিশ্বায়ন ও এর সাথে চূড়ান্ত ভোগবাদের ফলে নারীদের যে মাত্রায় পণ্যায়ন ঘটেছে তা আগে শোনা যায়নি। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের প্রতি কোন ধরনের সম্মান না দেখিয়ে প্রসাধনী শিল্প, পর্যটন ও বুর্জোয়া গণমাধ্যম এমনভাবে নারীদের মর্যাদার হানি করেছে যা পূর্বে কখনো ঘটেনি। এর সাথে গণ দারিদ্র্য যোগ হয়ে গোটা জনগোষ্ঠীকে দেহব্যবসার দিকে ঠেলে দিয়েছে যেমনটা ঘটেছে পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, নেপাল ইত্যদি স্থানে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে ধর্মীয় মৌলবাদ এবং বিভিন্ন উপদলের উত্থান যা নারীদের আরেকটি অংশকে প্রাচীন অন্ধকার যুগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই দুই চরমপন্থীর মাঝখানে চাপা পড়ে নারীরা আজ তাদের পুরুষ প্রতিমূর্তির সাথে স্বাধিকারের, আত্মমর্যাদার ও সমতার প্রয়োজনীয়তা আগের থেকে অনেক বেশী করে অনুভব করছে। সুতরাং, আজ ৮ই মার্চের তাৎপর্য্য আরো বেশী।

সংশোধনবাদী ও বুর্জোয়া উদারবাদীরা সহানুভূতিশীল ত্রাতার ভূমিকায় অভিনয় করে ও ছদ্ম ‘উদ্বিগ্নতা’ দেখিয়ে নারীদেরকে গৃহবন্দী করে তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে স্তিমিত করার পায়তারা খোঁজে। তারা পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামন্তীয় ধ্যান ধারণার সাথে আপোষ করে আর নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাধিকারকে ভয় পায়। অবশ্য এরাও রুটিনমাফিক নারী দিবস ‘উদযাপন’ করে এবং নিয়মিত ভণ্ডামিপূর্ণ বিবৃতি দেয়।

সারা পৃথিবী জুড়ে বিপ্লবী শক্তি বিশেষ করে মাওবাদীরা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মাঝে জীবনীশক্তি ফিরিয়ে এনেছে; দিনটিকে তারা আরো একবার সকল পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শোষণমূলক রীতি থেকে মুক্তির জন্য, আত্মমর্যাদার জন্য, সমতা ও ক্ষমতায়নের জন্য নারীদের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারত সহ সারা পৃথিবীর নিপীড়িত নারীদের মাঝে ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে এই বিপ্লবী চেতনা।

অনুবাদ সূত্রঃ Scripting the Change- Selected writings of Anuradha Ghandy


‘কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস, নেপাল’ নামে একটি নতুন মাওবাদী পার্টির উত্থান হয়েছে

kamunist

 

নেপালে নতুন মাওবাদী পার্টি কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস এর উত্থান

গত সপ্তাহে নেপালের পশ্চিম অংশের দাং জেলায় মাওবাদীদের একটি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রোলপা, রুকুম, সাল্যন-রাপ্তি জোনের প্রবেশদ্বার হিসাবে দাং জেলার পরিচিতি রয়েছে। এটি ছিল নেপালের দশ বছরের গণযুদ্ধের প্রথম ঘাঁটি এলাকা।কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস, নেপাল নামে একটি নতুন মাওবাদী পার্টি তারা গঠন করেছে। কমরেড হেমন্ত প্রকাশ অলি, যিনি সুদর্শন নামে পরিচিত, কমিউনিস্ট নিউক্লিয়াস, নেপালের আহ্বায়ক হয়েছেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি গণযুদ্ধের প্রাক্কালে এই ঘাঁটি এলাকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি দশ বছর গণযুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল(মাওবাদী) এর পলিটব্যুরো সদস্য এবং PLA ৫ম বিভাগের বিভাগীয় কমিশার ছিলেন। নিউক্লিয়াসের ১১জন সদস্যের বেশীরভাগই ঘাঁটি এলাকার সাবেক PLA সদস্য ও শহরের বুদ্ধিজীবীরা রয়েছেন, যারা নেপালের ১০বছরের গণযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন।

২রা এপ্রিল ২০১৬তে প্রকাশিত এক আহবানে, নয়াগনতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্তব্য সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিউক্লিয়াস যোগদানের জন্য তারা সনির্বন্ধ আবেদন জানান। তারা বিপ্লবী মেরুকরণের জন্যেও আবেদন করেছেন।

এই আবেদনে তারা কমরেড মাও সে তুঙ এর বিখ্যাত উক্তিটি তুলে ধরেন – “বিপ্লবের কেন্দ্রীয় কর্তব্য ও উচ্চতম রূপ হচ্ছে সশস্ত্র শক্তির দ্বারা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল, যুদ্ধের দ্বারা সমস্যার সমাধান। মার্কসবাদ-লেনিনবাদের এই বিপ্লবী নীতি সর্বত্রই ঠিক, তা চীন দেশেই হোক বা বিদেশে হোক, সর্বত্রই ঠিক[যুদ্ধ ও রণনীতির সমস্যা-৬ই নভেম্বর, ১৯৩৮]

তাদের দলিল, তারা প্রচণ্ড ও বাবুরাম ভট্টরাইকে নেপালের বিপ্লবের বিশ্বাসঘাতক এবং সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের বিশ্বস্ত ক্লায়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলিলে তারা ভারত, ফিলিপাইন এবং তুরস্কের জনগণ, যারা ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে গণযুদ্ধের করছে,  তাদের সঙ্গে বিপ্লবী সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তারা ভারতে গণযুদ্ধের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। “আমাদের ফিলিপাইন, ভারত ও তুরস্কের গণযুদ্ধকে অধ্যয়ন করতে হবে এবং তাদের তেজস্বিতা এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে. আমরা অবশ্যই “সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদের মান অনুসরণ করবো।” তারা ‘বিপ্লবী আন্তর্জাতিক আন্দোলন (রিম)” বিলুপ্ত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যেমনটি তারা দলিলে উল্লেখ করেছেন, ‘বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন (রিম) এর একটি নতুন ভ্রূণ কেন্দ্র গঠনে অবদান রাখার বিষয়টি আমরা গভীর গুরুত্বের সাথে নিয়েছি’। – (সংক্ষেপিত)

অনুবাদ সূত্রঃ  The Next Front

বিস্তারিত

Last Week, a group of Maoists held a meeting in Dang district, western part of Nepal. Dang is known as the threshold of Rolpa, Rukum and Salyan-the Rapti Zone, the first base area of Ten Year’s People’s War. They formed a new Maoist Party–Communist Nucleus, Nepal. Comrade Hemanta Prakash Oli, known as Sudarshan, is the Convener of Communist Nucleus, Nepal. He was the first man who had taken responsibility of Base Area in the eve of People’s War. He was the Politburo member of the Communist Party of Nepal (Maoist) and division Commissar of 5th Division PLA, during the Ten Year’s People’s War. In 11 member’s Nucleus, most of the members are former PLA from the base area and the intellectuals from the urban area, who joined 10 Year’s People’s War.

In an appeal released on April 2, 2016 they have appealed to join Nucleus to fulfill the task of New Democratic Revolution. They have appealed also for the revolutionary polarization. In their appeal they have quoted the famous words of Comrade Mao : The seizure of power by armed force, the settlement of the issue by war, is the central task and the highest form of revolution. This Marxist-Leninist principle of revolution holds good universally, for China and for all other countries.

In their document, they have mentioned Prachanda and Baburam Bhattarai as the traitor of Nepalese revolution and the faithful clients of Imperialism and Indian expansionism. In their document they have expressed revolutionary solidarity with the people of India, Philippines and Turkey, who are waging People’s War, against the fascist regime. Particularly they have expressed strong support to the People’s War in India. As they have mentioned– ”We must study the People’s ‘War in Philippines, India, and Turkey and should learn from their spirit and experience. We must follow the value of Proletarian Internationalism”. They have expressed deep concern also on defunct ‘Revolutionary International Movement (RIM). As the document writes: ”We must take deep concern and initiation and should contribute to form a new embryonic center–The Revolutionary Internationalist Movement(RIM).”

It is known to us that, these days Maoist party led by Mohan Baidhya ‘Kiran’ (now it is named as revolutionary Maoist), is facing massive internal dispute. Rapidly, it is going in the way to liquidation. A faction of this party, led by then General Secretary Ram Bahadur Thapa ‘Badal’ is going to merge his faction in the Communist Party of Nepal led by Prachanda. The faction led by ‘Badal’ has launched signature campaign against Kiran to join the UCPN (Maoist).This faction has accepted UNCP(Maoist) as the revolutionary party and Prachanda as a revolutionary leader. After the split of Badal faction, what the Kiran faction will do, is not clear. In document, Comrade Kiran has committed for the New Democratic Revolution through armed struggle. But in practice he has nothing to do. The main problem of Comrade Kiran is: not to move forward in practice. We all know, just to write in the document is not enough.

Another party, The Communist party of Nepal, Maoist, led by Comrade Biplav also is not clear in the ideological and political line. In the place of New Democratic Revolution, Biplav party has replaced ‘Unified Revolution’. ‘Unified Revolution’ is the character of Nepalese revolution or it is the Party’s political line ? They have not made it clear. Their analysis about International Communist Movement and the character of Nepalese society also is not scientific. To some extent, among the all Maoist organizations the organization led by Biplav is dynamic. But the ideological and political line that they are pleading is ambiguous. In fact, they are still at the crossroads.

Now the newly formed Communist Nucleus, Nepal has appealed the revolutionary cadres of all Maoist parties to join the Nucleus. There is going to be happened a new polarization of the Nepalese Maoist Movement. The revisionist will join Prachanda , the ring leader of Neo-reactionary camp and the revolutionaries will form a new revolutionary camp. There is a possibility of joint step between Nucleus, Baidhya led faction and Biplav’s CPN, Maoist. It is the demand of the time that later or sooner the revolutionaries will form a new center for the New Democratic Revolution guided by Marxisn-Leninism-Maoism.

It is the fact that, most of the revolutionary leaders and cadres accept, that the revolution of Nepalese society is the New Democratic Revolution and without arm struggle we can’t achieve the goal of revolution. But in practice, they don’t want to move forward. What type of armed struggle? Ideological and political line is the issue that the Nepalese revolutionary comrades are debating these days.

We want to make clear that there must not be any confusion, it is crystal clear that ultimately Nepalese revolution will take the road of Peoples War– Maoist Road of Nepalese character. The document of Nucleus also has stressed the following writing from Comrade Mao tse-tung’s famous document ‘Problems Of War And Strategy’.

Every Communist must grasp the truth, “Political power grows out of the barrel of a gun.” Our principle is that the Party commands the gun, and the gun must never be allowed to command the Party. Yet, having guns, we can create Party organizations, as witness the powerful Partyorganizations which the Eighth Route Army has created in northern China. We can also create cadres, create schools, create culture, create mass movements. Everything in Yenan has been created by having guns. All things grow out of the barrel of a gun. According to the Marxist theory of the state, the army is the chief component of state power. Whoever wants to seize and retain state power must have a strong army. Some people ridicule us as advocates of the “omnipotence of war”. Yes, we are advocates of the omnipotence of revolutionary war; that is good, not bad, it is Marxist. The guns of the Russian Communist Party created socialism. We shall create a democratic republic. Experience in the class struggle in the era of imperialism teaches us that it is only by the power of the gun that the working class and the labouring masses can defeat the armed bourgeoisie and landlords; in this sense we may say that only with guns can the whole world be transformed. We are advocates of the abolition of war, we do not want war; but war can only be abolished through war, and in order to get rid of the gun it is necessary to take up the gun.

It is the point to note that, if we are revolutionaries, if we are Maoists, without hesitation, we must follow the spirit and value of above mentioned writing of Comrade Mao tse-tung. To follow the Marxism means to apply it into practice.

সূত্রঃ  The Next Front