নকশালদের হামলায় ১ পুলিশ নিহত ও ১ জন আহত

546138e08cf43f5eedaa856384d3e2052e4e8299

পুলিশ বলছে, গত ১৪ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের গাদচিরোলি জেলায় মাউজে ছহাল্লেওাদা গ্রামে ভারতীয় সংবিধানের স্থপতি বি আর আম্বেদকরের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রর সাবেক বিধান সভা সদস্য দীপক আত্রাম বক্তৃতা দেয়ার সময়  নকশালদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তার দেহরক্ষী পুলিশ নানাজি নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে গাদচিরোলিতে জেলা সিভিল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিত্সার সময় মারা যায়।

অপরদিকে, একই দিনে বিকেলে ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলার অর্চা থানার ইডাওা গ্রামের সংলগ্ন জঙ্গলে নকশাল ও DRG-STF পুলিশের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের একজন জওয়ান আহত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে নকশালরা তাদের ঘিরে ফেলে নির্বিচারে গুলি চালালে ঐ জওয়ান আহত হয়।

অনুবাদ সূত্রঃ 

http://www.newkerala.com/news/2016/fullnews-49502.html

http://www.thehindu.com/news/national/other-states/police-jawan-injured-in-encounter-with-naxals/article8475561.ece

Advertisements

‘লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের সামাজিক ভিত্তি সম্পর্কে’ — ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান (২য় পর্ব)

লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের সামাজিক ভিত্তি সম্পর্কে

ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান (বাংলা ২য় পর্ব)

 

ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান

ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান

 

বাংলা ২য় পর্ব

[মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একটি দলিল। সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সভাপতি মাওয়ের প্রধান চার সহযোগীর একজন ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান কর্তৃক রচিত এ দলিলটি প্রথম প্রকাশ করে ১০ মার্চ ১৯৭৫ পিকিং রিভিউ। শীঘ্রই তা পাম্ফলেট আকারে প্রকাশিত হয়। ইংরেজী কপিটি মার্কসিষ্ট ইন্টারনেট আর্কাইভ (https://www.marxists.org/) থেকে নিয়ে বাংলা অনুবাদ করেছে সর্বহারা পথ]

বিশ্বাসঘাতক, নীতিহীন ও হীন কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার জন্য লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র যেভাবে ধন সম্পদ অর্জনের জন্য যেকোন কিছুর প্রতি ঝুঁকেছে, লোভে উন্মত্ত হয়ে বুর্জোয়া রীতির জীবনের পিছনে ছুটেছে আর বুর্জোয়া অধিকারকে ব্যবহার করেছে তার অনেক উদাহারণের উপরই আলোকপাত করা হয়েছে আর সমালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে তার প্রতিবিপ্লবী ক্যুদে’তার কর্মসূচি “প্রজেক্ট ৫৭১ এর পরিকল্পনা” থেকে সবচেয়ে বেশী পরিষ্কার হওয়া যায় যাতে লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র বিভিন্ন শ্রেণীর কিছু লোককে সর্বহারা একনায়কত্বকে বিরোধিতায় সাহায্য অথবা উৎসাহিত করতে নির্দিষ্টভাবে বুর্জোয়া ভাবধারাকে ব্যবহার করছে, অন্য কিছু নয়। অন্য কথায়, পুরোনো বুর্জোয়ার স্বার্থের সাথে আরো যে শ্রেণীর স্বার্থকে কর্মসূচি সেবা করে তা হচ্ছে বেশ কিছু নয়া বুর্জোয়া উপাদানসমূহ, আর অল্প কিছু লোক যারা বুর্জোয়া অধিকারকে পুঁজিবাদ বিকাশে ব্যবহার করতে চায়। এ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় কেন কর্মসূচি সভাপতি মাওয়ের সর্বহারা বিপ্লবী লাইনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায় আর আমাদের দেশে সর্বহারা একনায়ত্বাধীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় বুর্জোয়া অধিকারের উপর যে কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে তার প্রতি নির্দিষ্টত তিক্ত ঘৃণা প্রকাশ করে।

লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র দাপ্তরিক কেডারদের ৭মে কেডার স্কুলে যাওয়াকে অপবাদ দিয়েছে “ছদ্মবেশী বেকারত্ব” বলে; প্রশাসনের সরলীকরণ আর জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখাকে সে তুচ্ছ করে দেখায় কেডারদের উপর আক্রমণ হিসেবে। সে মনে করে কেডাররা হবে জনগণের পিঠে চেপে বসা রাজ রাজরা আর তাই তারা যখন যৌথ উৎপাদনশীল শ্রমে অংশ নেয় তারা হয় “বেকার”। এর লক্ষ্য ছিল দাপ্তরিক শ্রমিকদের একটা অংশকে প্রলুব্ধ করা—যারা বুর্জোয়া অধিকারকে সম্প্রসারিত করতে চায়, দাপ্তরিক পদ চায়, রাজা রাজরা হতে চায় আর যারা বুর্জোয়া রীতির জীবন রোগ দ্বারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত—পার্টি লাইন ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিরোধিতা করতে।

বুদ্ধিজীবিদের শ্রমিক ও কৃষকদের সাথে একাত্ব হওয়া আর গ্রামে যাওয়াকে লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র অপবাদ দিয়েছে “ছদ্মবেশী জবরদস্তি শ্রমের মাধ্যমে সংস্কার” বলে। সজীবতা আর কমিউনিস্ট সচেতনতায় উচ্ছসিত তরুন জনগণ গ্রুপের পর গ্রুপ গ্রামে গেছে। তিন প্রধান পার্থক্য কমিয়ে আনতে আর বুর্জোয়া অধিকারের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করতে এটা দুরগামী তাৎপর্যসম্পন্ন এক মহান উদ্যোগ। সকল বিপ্লবী জনগণ উদ্দিপনার সাথে একে প্রশংসা করেন যেখানে বুর্জোয়া মতাদর্শ দ্বারা কলুষিত যারা, নির্দিষ্টত যারা বুর্জোয়া ভাবধারার শেকল পড়েছে—তারা একে বিরোধিতা করে। শ্রমিক ও কৃষকদের সাথে শিক্ষিত তরুণ জনগণের একাত্ম হওয়াকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হবে কি হবে না তা সাংহাই মেশিন টুল প্লান্টের পথ অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় বিপ্লব চালানো যায় কি না তার সাথে নির্ভরশীল সম্পর্কযুক্ত—উল্লেখিত পথটা হচ্ছে ছাত্রদের শ্রমিক কৃষকের অন্তর্ভুক্ত করা আর স্নাতকত্বের পর শ্রমিক কৃষকদের মধ্য কাজ দেওয়া। এর প্রতি লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের বিশেষ ঘৃণা শ্রমজীবি জনগণের প্রতি তাদের ঘৃণাই শুধু প্রদর্শন করেনি বরং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে বিরোধিতা করতে বুর্জোয়া অধিকারের ভাবধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত কিছু লোককে প্রলুব্ধ করতে বুর্জোয়া অধিকারকে ব্যবহার করার তাদের পরিকল্পনাও প্রদর্শন করেছে। তাদের কর্মসূচি নিশানাবদ্ধ ছিল শহর ও গ্রামের মধ্যে, কায়িক ও মানসিক শ্রমের মধ্যে পার্থক্যকে বাড়ানো আর শিক্ষিত তরুণ জনগণকে অভিজাতদের এক নয়া স্তরে রূপান্তরিত করা, যাতে তাদের সমর্থন জয় করা যায় যারা তাদের প্রতিবিপ্লবী কুদে’তার জন্য বুর্জোয়া অধিকারের ভাবধারার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিল।

সংশোধনবাদী “বৈষয়িক প্রণোদনা”কে সমালোচনা করায় শ্রমিক শ্রেণী যে কমিউনিস্ট ভাবমানস প্রদর্শন করেছে তাকে লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র ঘৃণা করেছে “ছদ্মবেশী শোষণ” বলে। লিন পিয়াও ছিল “বৈষয়িক প্রণোদনা”র অন্ধ প্রবক্তা। সে তার শয়তানি নোটবুকে এমন আবর্জনা লিখেছে যে “বৈষয়িক প্রণোদনা এখনো প্রয়োজন”, “বস্তুবাদ—বৈষয়িক প্রণোদনা”, “উৎসাহ প্রদান—অফিসিয়াল পদ, বেতন, পক্ষ”। লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের একজন প্রধান সদস্যও লেখে যে “কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক আর বৈষয়িক লাভ” ছিল উৎপাদন বাড়ানোর “নির্ধারক চালিকা শক্তি”। উপরিতলে তারা টাকা ব্যবহারের প্রবক্তা ছিল শ্রমিকদের “উৎসাহিত” করতে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা শ্রমিকদের মধ্যে গ্রেডের বৈষম্যকে সীমাহীনভাবে বাড়াতে চেয়েছে শ্রমিক শ্রেণীর এক ক্ষুদ্র অংশকে দলে টানতে আর কিনে ফেলতে যাতে তাদেরকে একটা সুবিধাভোগী অংশে রূপান্তর করা যায় যারা সর্বহারা একনায়কত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করবে আর শ্রমিক শ্রেণীর ঐক্যকে বিভাজিত করবে। তারা শ্রমিকদেরকে বুর্জোয়া বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গী দ্বারা কলুষিত করতে চেয়েছে আর বুর্জোয়া অধিকারের ভাবধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত সেইসব মুষ্টমেয় শ্রমিকদের ব্যবহার করতে চেয়েছে সর্বহারা একনায়ত্বের বিরুদ্ধে তাদের সমর্থক শক্তি হিসেবে। লিন পিয়াও কোং বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে “তরুণ শ্রমিকদের” প্রলুব্ধ করতে “মজুরী” ব্যবহারে, আর তাদের “উৎসাহ প্রদান—দাপ্তরিক পদ, বেতন, পক্ষে আনা” ছিল একটা শয়তানি পরিকল্পনা। নেতিবাচক উদাহারণের মাধ্যমে এটা আমাদের দেখায় যে তরুন ও শ্রমিক বিশেষত যারা কেডার হয়েছেন তাদেরকে বুর্জোয়াদের বৈষয়িক উৎসাহ প্রদানকে আর বুর্জোয়া অধিকারের ভাবধারার দ্বারা বিভিন্ন আকৃতিতে প্রদত্ত তোষামোদকে সচেতনভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তাদেরকে বজায় রাখতে হবে আর কার্যকর করতে হবে বীরত্বের সাথে লড়ার কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভাবমানস সর্বহারা শ্রেণী ও মানবজাতির পূর্ণ মুক্তির জন্য আর মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গী দ্বারা নিজেদের সজ্জিত করতে সচেষ্ট হতে হবে, তাদের কখনো অভিভূত ও হালকা মানসিকতাগ্রস্থ হওয়া যাবেনা পন্যের রঙীন দুনিয়া, টাকার দ্বারা বিনিময়, স্থুল তোষামোদী, খোশামোদি আর উপদলবাদ দ্বারা যাতে তারা লিন পিয়াওয়ের মতও রাজনৈতিক প্রতারক অথবা সমাজের ভুস্বামী ও বুর্জোয়া উপাদানসমূহের দ্বারা না ঠকেন। “তাদের কথা ভাবা”র ছদ্মবেশে এই সব লোকেরা তরুণ শ্রমিকদের প্রকৃতপক্ষে “প্রণোদনা” দিচ্ছে তাদের পুঁজিবাদের পথে নিয়ে যেতে। তাই তাদের বলা যায় রাজনৈতিক “দুষ্কর্মে সহায়তাকারী”। নতুন জন্ম নেয়া বুর্জোয়া উপাদানেরা প্রকাশ্যে আইন ভাঙছে যেখানে দীর্ঘকালের ধূর্ত বুর্জোয়া উপাদানেরা পেছন থেকে তাদের পরিচালনা করছে—এটাই আজকের সমাজের শ্রেণী সংগ্রামে সাধারণ ঘটনা। অপরাধ করছে যেসব দুর্নীতিগ্রস্থ তরুণ জনগণ তাদের বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে আমরা পেছন থেকে সহায়তাকারীদের ওপর আক্রমণে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করি। আমাদের এই নীতির প্রতি অব্যাহতভাবে বিশ্বস্ত থাকতে হবে। বুর্জোয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে পরিষ্কার অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু তরুন শ্রমিক আজকের দিনের সংগ্রামের সামনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছেন, আমাদেরকে অতি অবশ্যই তাদের সমর্থন করতে হবে আর সংগ্রামে তাদের অভিজ্ঞতাকে সারসংকলন করতে হবে।

এই যে লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র সমালোচনা করে যে “কৃষকদের খাদ্য ও কাপড়ের অভাব” ও এই যে সশস্ত্র বাহিনীতে কেডারদের “জীবন মান” খারাপ হয়ে যাচ্ছে আর যে রেড গার্ডেরা চিন্তা করা, কথা বলা ও পথ উজ্জ্বল করার সাহসিকতার যে ভাবমানস দেখিয়েছে ও মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় বুর্জোয়াদের সমালোচনার কর্মকান্ড ও বিপ্লব করেছে তাদের “প্রতারিত করা হচ্ছে আর ব্যবহার করা হচ্ছে”… এ সবেরই লক্ষ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার নেতিকরণ করা আর পার্টির গণলাইনের নেতিকরণ করা, বুর্জোয়ার উপর সর্বহারা শ্রেণীর একনায়ত্বকে নেতিকরণ করা, বুর্জোয়া অধিকারকে সম্প্রসারণ করা আর পুঁজিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠা করা। কৃষকদের “খাদ্য ও বস্ত্রের অভাব” এই অপবাদ লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র রটনা করে যাতে কৃষকরা “সবকিছু খেয়ে ফেলে আর সবকিছু বিভক্ত করে” যাতে সমাজতান্ত্রিক যৌথ অর্থনীতিকে খাটো ও বিলোপ করা যায়। যদি এই লাইনে সবকিছু ঘটতো, মুষ্টিমেয় কিছু লোক নয়া বুর্জোয়ায় পরিণত হতো আর নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ পুঁজিবাদী শোষণ ভোগ করতো। তাহলে পরিস্থিতি তেমন হত যেমনটা পুঁজিবাদের পথ গ্রহনকারী গ্রামের ভুস্বামী, ধনী কৃষক আর স্বচ্ছল মাঝারি কৃষকদের একটা অংশ চেয়ে আসছে।

এ পর্যন্ত আমরা দেখি লিন পিয়াও “প্রকৃত সমাজতন্ত্র নির্মাণ” বলতে কী বুঝিয়েছে। এর অর্থ ছিল সমাজতন্ত্রের সাইনবোর্ডের অধীনে বুর্জোয়া অধিকারের সম্প্রসারণ যাতে পুঁজিবাদের পথ গ্রহণে আগ্রহী নয়া বুর্জোয়া উপাদানসমূহ, কতিপয় উপদল আর গ্রুপিং তা পায়, উচ্ছেদকৃত ভুস্বামী আর পুঁজিবাদী শ্রেণীসমূহের সাথে ঘোঁট পাকিয়ে “সবকিছু তাদের কমান্ডের অধীন আর শাসনের অধীন” নিতে পারে, সর্বহারা একনায়ত্ব উচ্ছেদ করতে পারে আর পুঁজিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠা করতে পারে। লিন পিয়াও আর তার মত লোকেরা ছিল এদের রাজনৈতিক প্রতিনিধি। লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের “প্রজেক্ট ৫৭১ এর পরিকল্পনা” না আকাশ থেকে পড়েছে, না তা ছিল স্বঘোষিত “সুপার প্রতিভা”দের সহজাত; বরং তা ছিল সামাজিক অস্তিত্বের প্রতিফলন। মূর্তভাবে বলতে গেলে, এই যে চক্র যারা তাদের প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া অবস্থান থেকে প্রতিফলিত করে অসংস্কারকৃত ভুস্বামী, ধনী কৃষক, প্রতিবিপ্লবী, খারাপ উপাদান ও দক্ষিণপন্থীদের দাবির—যারা জনগণের স্রেফ কয়েক শতকরা—আর মুষ্টিমেয় সংখ্যক নয়া বুর্জোয়া উপাদানসমূহের দাবি আর তাদের দাবি যারা নয়া বুর্জোয়া উপাদান হতে বুর্জোয়া অধিকার দাবি করে। অন্যদিকে জনসংখ্যার শতকরা ৯০ ভাগ বিপ্লবী জনগণের সমাজতান্ত্রিক পথের প্রতি বিশ্বস্ততা দাবিকে এটা বিরোধিতা করে। এই চক্রের সদস্যরা প্রতিফলনের বস্তুবাদী তত্তকে বিরোধিতা করতে ভাববাদী পদ্ধতি ব্যবহার করে; যাহোক, প্রতিফলনের বস্তুবাদী তত্ত্বকে ব্যবহার করতে হবে প্রতিবিপ্লবী ভাবধারার জন্ম কিভাবে হল তা ব্যাখ্যা করতে।

লিন পিয়াওয়ের মতও লোকেরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারে, কেন তাদের পক্ষে সহজ হবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চালু করতে? এর কারণ হচ্ছে আমাদের সমাজতান্ত্রিক সমাজে এখনো শ্রেণী ও শ্রেণী বিরাজমান, এখনও পুঁজিবাদ জন্ম দেয়ার মাটি ও পরিস্থিতি বিরাজমান। ক্রমান্বয়ে এই মাটি ও শর্তসমূহ হ্রাস করতে আর চূড়ান্তত তাদের সকলকে একসাথে বিলোপ করতে আমাদেরকে সর্বহারা একনায়কত্বধীনে বিপ্লব অব্যাহত রাখতে হবে। এটা সেই কর্তব্য যা সর্বহারার অগ্রপথিকেরা সভাপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনের দ্বারা পরিচালিত হয়ে সম্পাদন করতে পারেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কেবল দৃঢ় ও অদম্য প্রচেষ্টার দ্বারা। তাই আমাদেরকে পার্টির মৌলিক লাইনের প্রতি অনুগত থাকতে হবে, শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, শ্রমিক-কৃষক জোট সংহত করতে হবে, যাদের ঐক্যবদ্ধ করা যায় এমন সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, ব্যাপক বিপ্লবী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আর তাদের নেতৃত্ব দিতে হবে যাতে তারা শ্রেণীশত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামে আর শ্রেণী সংগ্রাম, উৎপাদন সংগ্রাম আর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার তিন মহান সংগ্রামে সচেতনভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারেন। তাই আমাদের অবশ্যই সমগ্র জনগণের সমাজতান্ত্রিক মালিকানা এবং শ্রমজীবি জনগণের সমাজতান্ত্রিক যৌথ মালিকানাকে সংহত ও বিকশিত করতে হবে, বুর্জোয়া অধিকারের পুনপ্রতিষ্ঠা প্রতিরোধ করতে হবে যা মালিকানা ব্যবস্থার দিক থেকে ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছে আর মালিকানার রূপান্তরের করণীয়র যে অংশটা এখনো অসম্পাদিত রয়েছে তা সম্পাদন করতে পারি ক্রমে ক্রমে আর একটা দীর্ঘ সময়কাল জুরে; আর উৎপাদন সম্পর্কের অন্য দুটো দিক যথা মানুষে মানুষে সম্পর্ক আর বন্টন সম্পর্কে বুর্জোয়া অধিকারের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করতে পারি, বুর্জোয়া অধিকারকে সমালোচনা করতে আরি আর সেই ভিত্তিকে অব্যাহতভাবে দুর্বল করতে পারি যা পুঁজিবাদ জন্ম দেয়। সুতরাং আমাদেরকে উপরিকাঠামোয় বিপ্লবে লেগে থাকতে হবে, সংশোধনবাদী আর বুর্জোয়াদের উপর আমাদের সমালোচনাকে গভীর করতে হবে আর বুর্জোয়াদের উপর সর্বহারা শ্রেণীর সার্বিক একনায়কত্ব অর্জন করতে হবে।

আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর ১৯৭১-এ দেশের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের সময় বক্তৃতায় সভাপতি মাও বলেন, আমরা পঞ্চাশ বছর ধরে আন্তর্জাতিক গাইছি, আর দশবার এমন ঘটনা ঘটেছে যে কেউ না কেউ আমাদের পার্টিতে ভাঙনের জন্য কাজ করেছে। আমি মনে করি এরকম আরো দশ, বিশ বা ত্রিশবার এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আপনি কি বিশ্বাস করেন? আচ্ছা, আপনি বিশ্বাস না করলেও আমি তা করি। কমিউনিজম কায়েম হবার পর কি কোন সংগ্রাম হবে না? আমি মনে করি হবে। তারপরও সংগ্রাম হবে, যদিও তা হবে নতুন ও পুরাতনের মধ্যে, সঠিক ও ভুলের মধ্যে। এমনকি এখন থেকে লক্ষ লক্ষ বছর পরও ভুল কোন কাজে লাগবেনা আর তা পরাজিত হবে।” লেনিন বলেনঃ হ্যাঁ, ভুস্বামী আর বুর্জোয়াদের উচ্ছেদ করে আমরা পথ পরিষ্কার করেছি কিন্তু আমরা সমাজতন্ত্রের কাঠামো নির্মাণ করিনি। বুর্জোয়াদের একটা প্রজন্মকে আমরা জমি থেকে সরিয়েছি, কিন্তু নতুন প্রজন্ম ইতিহাসে অব্যাহতভাবে আবির্ভুত হয়, যতক্ষণ জমি তাদের জন্ম দেয়, যে কোন সংখ্যায় তা বুর্জোয়াদের জন্ম দেয়। যেমন যারা পুঁজিবাদের উপর বিজয়কে ক্ষুদে মালিকের দৃষ্টিতে দেখে—‘তারা এটা দখল করেছে, আমাকেও করতে দাও’—সত্যি এরা সবাই হচ্ছে বুর্জোয়াদের নতুন প্রজন্মের উৎস।”

(আগামী পর্বে বাংলা রূপান্তর সমাপ্য)