কলকাতাঃ ভবানীপুরে ‘এপিডিআর’ এর প্রস্তাবিত সভার অনুমতি বাতিল করল পুলিশ

13362631851

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি- এপিডিআর‘-এর সভার অনুমতি দিল না পুলিশ। এপিডিআর-এর অভিযোগ, শনিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ ভবানীপুর থানা থেকে তাদের সাধারণ সম্পাদক ধীরাজ সেনগুপ্তকে ফোন করে সোমবারের প্রস্তাবিত সভার অনুমতি খারিজ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। মমতা গত পাঁচ বছরে একটিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি  পূরণ করেননি বলে এপিডিআর-এর অভিযোগ। এই ব্যাপারে ভোটের আগে নাগরিকদের সচেতন করতে সোমবার হাজরা মোড়ে সভা করতে চেয়েছিল তারা।

সংগঠনের সহ-সভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে উনি ‘ঝলমলে’ গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন। মানবাধিকার কমিশন, শিশু কমিশন, নারী কমিশনসহ সমস্ত সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারের হাতে মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন যিনি ছত্রধর মাহাতর সঙ্গে একমঞ্চে আন্দোলন করেছেন, আজাদের মৃত্যুর তদন্ত দাবি করেছেন, সেই তিনিই এখন মুখ্যমন্ত্রী আর ছত্রধর তাঁর জমানায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনটির তরফে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তাতে আগামী ১৮ এপ্রিল বিকাল চারটের সময় হাজরা মোড়ে পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বন্দিমুক্তি নিয়ে দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সরব হবে বিভিন্ন গণ সংগঠন। ২৬ এপ্রিল ওই একই সময়ে আকাদেমি অব ফাইন আর্টস থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত বিরাট মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে শামিল হবে একাধিক গণতান্ত্রিক সংগঠন। ১১ দিনের এই কর্মকাণ্ডে প্রতিদিনই হাজরা মোড়ে পথসভা, লিফলেট বিলিসহ একাধিক সরকার বিরোধী কর্মসূচি পালন করা হবে। কিন্তু ভোটের আগেই কেন এই কর্মসূচি? জবাবে এপিডিআর-এর সহসভাপতি বলেন, ২০১১ সালে তৃণমূল নেত্রী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আর পাঁচ বছরে তার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, এই বক্তব্যটাই আমরা ভবানীপুরের মানুষের কাছে তুলে ধরব। ভোটারদের কাছে আমাদের বার্তা হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করুন। রঞ্জিতবাবুর দাবি, এপিডিআর-এর ৪৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে এই অভিনব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেবেন কি দেবেন না, এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের উপরই ছেড়ে দিয়েছে সংগঠন। তাঁর কথায়, মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতার কষ্ঠিপাথরে যাচাই করে যাঁকে ইচ্ছা তাঁকে ভোট দেবে, এই বিষয়ে নাক গলাতে চাই না। কিন্তু ভোটের আগে এই কর্মসূচি তো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে বাড়তি সুবিধা করে দেবে? উত্তরে রঞ্জিতবাবু বলেন, আমরা জন্মলগ্ন থেকেই যে আন্দোলন করেছি, তা শাসক দলের বিপক্ষে গিয়েছে। আগে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছি। এখন পরিবর্তনের সরকারের বিরুদ্ধে হব। কোন সরকারের প্রতিই আমাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপকর্মের দায় তো ওঁকেই নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন, ভবানীপুর ও কালীঘাট থানায় চিঠি দিয়ে ওই সভার অনুমতি চায় এপিডিআর। সংগঠনের সহ সভাপতি রঞ্জিত শূর জানান, গত কয়েকদিনে ভবানীপুরে থানা থেকে বেশ কয়েকবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, সোমবার তাঁরা সভা করতে পারবেন। আচমকাই এ দিন সভার অনুমতি বাতিল করেছে পুলিশ।

রঞ্জিতবাবু আরো বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্দিমুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছেন। এই ব্যাপারেই আমরা সভা করতাম। নিরপেক্ষ নাগরিক কন্ঠস্বরকে ভয় পেয়ে তিনি পুলিশ দিয়ে আমাদের সভা বানচাল করিয়েছেন।’’

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s