‘লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের সামাজিক ভিত্তি সম্পর্কে’ — ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান (৩য় পর্ব)

লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের সামাজিক ভিত্তি সম্পর্কে

ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান

 

ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান

ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান

বাংলা ৩য় পর্ব

[মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একটি দলিল। সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সভাপতি মাওয়ের প্রধান চার সহযোগীর একজন ইয়াও ওয়েন-ইউয়ান কর্তৃক রচিত এ দলিলটি প্রথম প্রকাশ করে ১০ মার্চ ১৯৭৫ পিকিং রিভিউ। শীঘ্রই তা পাম্ফলেট আকারে প্রকাশিত হয়। ইংরেজী কপিটি মার্কসিষ্ট ইন্টারনেট আর্কাইভ (https://www.marxists.org/) থেকে নিয়ে বাংলা অনুবাদ করেছে সর্বহারা পথ]

লেনিন যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তা হচ্ছে সমাজের শ্রেণীসংগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতি; সভাপতি মাও যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তা হচ্ছে পার্টির মধ্যে সমাজের শ্রেণীসংগ্রামের প্রতিফলন হিসেবে দুই লাইনের সংগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী চরিত্র। আমাদেরকে অবশ্যই এমন শ্রেণীসংগ্রাম ও দুই লাইনের সংগ্রাম পরিচালনা করতে হবে আর অব্যাহতভাবে পরাজিত করতে হবে বুর্জোয়াদেরকে আর সংশোধনবাদ, বিভক্তি, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জন্য কর্মরত তার এজেন্টদের। কেবল এভাবেই আমরা ক্রমান্বয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি যাতে বুর্জোয়াদের পক্ষে অস্তিত্ব লাভ করা অসম্ভব হয় অথবা নতুন বুর্জোয়াদের উদ্ভব অসম্ভব হয় আর আমরা চূড়ান্তত শ্রেণী বিলোপ করতে পারি। সর্বহারা একনায়ত্বের সমগ্র ঐতিহাসিক পর্ব জুড়ে এমনই মহান লক্ষ্য সম্পাদিত করতে হবে।

বুর্জোয়া ভাবধারার ধ্বংসের মাধ্যমে আর বুর্জোয়া অধিকারের অস্তিত্বের মাধ্যমে যে নতুন বুর্জোয়া উপাদানসমূহ আবির্ভূত হয় তাদের রয়েছে সাধারণতঃ দুমখো ও ঘাপটি মেরে থাকাদের রাজনৈতিক চরিত্র। সর্বহারা একনায়কত্বের অধীনে পুঁজিবাদী তৎপরতা পরিচালনার উদ্দেশ্যে, তারা সর্বদাই একটা নির্দিষ্ট সমাজতান্ত্রিক সাইনবোর্ড তুলে ধরে; যেহেতু তাদের পুনপ্রতিষ্ঠাবাদী তৎপরতার উদ্দেশ্য এমন নয় যে তারা সম্পদের মালিক ছিল তা পুনরুদ্ধার করতে হবে বরং উৎপাদনের উপায় দখল করা যার মালিক তারা ছিলনা, তাই, সমগ্র জনগণের মালিকানাধীন অথবা যৌথ মালিকানাধীন সম্পদকে এক গ্রাসে গিলে ফেলার জন্য ও তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীনে স্থাপন করতে তারা বিশেষভাবে লোভী ও তাড়িত। লিন পিয়াও পার্টিবিরোধী চক্রের এমন বৈশিষ্ট্য ছিল। যেমনটা প্রাচীন কিংবদন্তীতে চুংশান নেকড়ের মতো, “তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করবে তখন যখন তুমি তোমার পথ তৈরি হয়েছে।” “লাল কামড়ার স্বপ্ন”-এর এই দুই লাইন ব্যাখ্যা করে কীভাবে এক ধাবমান পশু সুন শাও-সু “সবকিছুর প্রতি ঝুঁকে পড়ে নিজেকে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে”। এটা লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের প্রতি চমৎকারভাবে প্রযোজ্য হয়। “নিজের পথ প্রাপ্তির আগের অবস্থায়” অর্থাৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার অংশ প্রাপ্তির আগে সে পার্টি ও জনগনকে প্রতারিত করতে প্রতিবিপ্লবী দুমুখো কৌশল নেয় আর গণআন্দোলনের শক্তিকে ব্যবহার করে তার নিজ স্বার্থকে সেবা করতে; এটা করতে, সে দ্বিধা করেনি বিপ্লবী সাইন বোর্ড তুলে ধরতে অথবা বিপ্লবী শ্লোগান দিতে, একইসাথে এগুলো বিকৃত করে। মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রথম দিকে সভাপতি মাও এক চিঠিতে লিন পিয়াও ও তার গ্যাঙের অন্তরের অন্তস্থলের অনুভূতির বিশ্লেষণ দেনঃ আমার মনে হয় তাদের সত্যিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভুতেদের লড়তে চুং কুয়েইকে ব্যবহার করা।” [চুং কুয়েই ভুতেদের বিতাড়িত করতে ক্ষমতা অর্জনে এক রূপকথার চরিত্র]। এটা ঘটনাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। এটা দরজাকে ধাক্কা দিয়ে ভাঙতে ইট ব্যবহার করার মত, যখন কাজ শেষ হবে ইটের দরকার হবেনা, তাকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে। প্রতিবিপ্লবী দুমুখো হিসেবে কাজ করে এরা লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে বিরোধিতা করে, “মুখের উপর মিষ্টি ভাষায় কথা বলে পিঠে ছুরিকাঘাত করে” অথবা যেমনটা লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র নিজেরা স্বীকার করেছে “সভাপতি মাওয়ের পতাকা উড়ানো সভাপতি মাওয়ের শক্তির উপর আঘাত হানতে” এগুলো হচ্ছে এক ও একই উদ্দেশ্য সাধনে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রকাশ করা। যে মুহুর্তে লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র চিন্তা করেছে, তাদের ভাষায় “কয়েক বছরের প্রস্তুতির পর মতাদর্শিক, সাংগঠনিক ও সামরিক স্তরকে বিবেচনাযোগ্যভাবে গড়ে তোলা হয়েছে আর কিছু মাত্রায় মতাদর্শিক ও বস্তুগত ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে”, তারা তাদের নিজেদের পথ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের অধীন বিভাগগুলিতে তারা সমাজতান্ত্রিক গণ মালিকানাকে লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের ব্যক্তিগত মালিকানায় রূপান্তর করে। যত বেশি বেশি তারা “নিজেদের পথ গ্রহণ করার অবস্থায় আছে” তারা তত বেশি বেশি তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যকে উন্মোচন করতে থাকে যেগুলো সেই অনুপাতে আরো বেড়ে উঠতে বাধ্য ছিলো, যেমন পুঁজির সঞ্চয়ে বুর্জোয়াদের ক্ষুধা সীমাহীনভাবে বাড়তে থাকে। বুর্জোয়াদের বিশ্লেষণে মার্কস বলেছেনঃ পুঁজিবাদী হিসেবে সে কেবল ব্যক্তিতে রূপায়িত পুঁজি। তার আত্মা হচ্ছে পুঁজির আত্মা পার্টির ভেতর এক বুর্জোয়া এজেন্ট লিন পিয়াও এর আত্মা হচ্ছে পুরোন বুর্জোয়ার আত্মার ভিন্ন অন্য কিছু নয় যে উচ্ছেদ হওয়ার পরও ফিরে আসার স্বপ্ন দেখে আর এক নয়া বুর্জোয়ার আত্মা যে জন্ম নিচ্ছে আর শাসন করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিচ্ছে। এক শ্রেণী বিশ্লেষন পরিষ্কার করে দেয় যে লিন পিয়াও ও তার গং এর বিকৃত ও প্রতিবিপ্লবী তৎপরতার মূল কারণ হচ্ছেঃ কনফুসিয়াস ও মেনসিয়াসের মতবাদের বুলি আওড়ানো, পার্টি ও চীনা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকরা করা আর সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের কাছে যাওয়া, কনফুসিয়াসকে পুঁজা করেছে ও দেশের সাথে বেঈমানী করেছে যে চীনা মুৎসুদ্দি-বুর্জোয়া তার মত তারাও একই নোংরা খেলায় লিপ্ত ছিল, এখানে যে প্রতিবিপ্লবী কু’দেতার তারা পরিকল্পনা করেছে তা ছিল পৃথিবীর অনেক দেশে বুর্জোয়ারা বহুবার যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে এবং আজকেও করছে তার কার্বন কপি।

আমাদের কর্তব্য হচ্ছে একদিকে যে মাটি থেকে বুর্জোয়া ও পুঁজিবাদের জন্ম হয় তা খুড়ে ফেলে দেয়া, আর অন্যদিকে, ঠিক সময়মত বিষয়টি জানার সক্ষমতা অর্জন করা যে লিন পিয়াওয়ের মত নতুন বুর্জোয়ারা আবির্ভূত হচ্ছে। একারণে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা অধ্যয়ন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি মার্কসবাদের পরিচালনা থেকে সরে যাই, আমরা উপরোক্ত দুই কর্তব্য সম্পাদন করতে পারিনা। অধিকন্তু, যখন একটি সংশোধনবাদী ধারার চিন্তাধারা উপরিতলে আবির্ভুত হয়, কেউ এতে সামিল হতে পারে অথবা অন্ধভাবে এই গ্যাংস্টারদের নৌকায় যাত্রী হতে পারেন তার নিজের মনে বুর্জোয়া অধিকারের ভাবধারা অথবা একে চিনতে না পারার কারণে। তাই যদি না হবে তাহলে কিছু লোককে কেন দেখা যাবে একটি সংশোধনবাদী লাইন আবির্ভূত হলে তাকে অনুসরণ করতে? কেন পার্টির নবম কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে লিন পিয়াও এন্ড কোং ভাববাদ অবলম্বন করে ও এক হুল্লোড় তৈরী করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারল? পার্টিকে বিভক্ত করা ও সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বকে উচ্ছেদের লক্ষ্যযুক্ত লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের নগ্ন বাক্যগুলো কেন অল্প কিছু কেডারদের মধ্যে বাজার পেল? কেন ছোট বড় “যুদ্ধ জাহাজ”গুলো খোলামেলাভাবে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করল যথা ভোজন করানো, উপহার দেয়া, বিশেষ দাপ্তরিক পদ নিবেদন ও অন্যান্য আনুকুল্য প্রদান করা একটা চক্র তৈরি করতে জনগণকে প্রলুব্ধ করতে, উপদলীয় কর্মকান্ড আর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতে? কেন তারা তাদের শয়তানি নোটবুকে এমন আবর্জনা লেখে যে “রাজনীতিকে ঢেকে রাখতে দক্ষতাকে ব্যবহার করা” আর একে ব্যবহার করে প্রতিবিপ্লবী তৎপরতা চালাতে তাদের রণকৌশল হিসেবে? এখানে এক গভীর শিক্ষা রয়েছে। ১৯৫৯ সালে পেং তেহ-হুয়েই পার্টি বিরোধী চক্রকে বিরোধিতা করায় চেয়ারম্যান মাও ব্যাখ্যা করেন যে বর্তমানে অভিজ্ঞতাবাদের মধ্যে প্রধান বিপদ নিহিত। তাই, আমাদের পড়তে হবে ও অধ্যয়ন করতে হবে অধ্যবসায় সহকারে। বিগত দশকে অথবা তার চেয়ে বেশী সময় ধরে সভাপতি মাও বহুবার এই মত তুলে ধরেছেন। তিনি জোর দেন, উচ্চ পদস্থ ও মাঝারি পার্টি ক্যাডারগণ, প্রথমত পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্যকে অধ্যবসায়সহকারে পড়তে হবে আর অধ্যয়ন করতে হবে যার যার স্তর অনুযায়ী আর মার্কসবাদের ভাল উপলব্ধি অর্জন করতে হবে।”তিনি এটাও জোর দিয়েছেন, সামনের কয় বছর মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রচারে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্রের ধ্বংসের পর সভাপতি মাও পুনরায় বলেনঃ আমি আনুষ্ঠানিকভাবে কমরেডদের উপদেশ দেই কিছু পড়ার জন্য।” আর সম্প্রতি সর্বহারা একনায়কত্ব নিয়ে কথা বলার সময় তিনি আবারো এতে জোর দিয়েছেন। কত হৃদয়স্পর্শী এই গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা! পার্টির সকল কমরেডগণ, বিশেষত উচ্চ পদস্থ কেডারগণকে, অধ্যবসায়সহকারে অধ্যয়ন ও পড়া আঁকড়ে ধরতে হবে সর্বহারা একনায়কত্বকে সংহত করতে মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যাপার হিসেবে। সর্বাগ্রে তাদের নিজেদেরকে ভালভাবে অধ্যয়ন করতে হবে আর গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্তালিন আর সভাপতি মাও এর প্রতিপাদ্যগুলোকে, তাদের সর্বহারা একনায়কত্বের উপর প্রধান প্রধান রচনাগুলিকে, তত্ত্ব ও অনুশীলনকে সমন্বিত করে তাদের প্রশ্নটিকে ব্যখ্যা করতে হবে আর উভয়ত মতাদর্শিকভাবে ও কর্মকান্ডে নিজেদের মুক্ত করতে হবে বুর্জোয়া ভাবধারা ও কাজের রীতি থেকে—যা হচ্ছে জনগণবিচ্ছিন্ন—যাতে জনগণের একজন হিসেবে নিজেদের চিহ্নিত করা যায়, উদীয়মান নতুন সমাজতান্ত্রিক জিনিসের ধারক বাহক সত্যিই হওয়া যায় আর পুঁজিবাদ কৃত ধ্বংসযজ্ঞকে সমালোচনায় ভাল হওয়া যায় আর একে সাহসের সাথে প্রতিরোধ করা যায়। বিগত কয়েক দশক ধরে বিকাশমান সহজ সরল জীবন আর কঠিন সংগ্রামের আমাদের পার্টির গৌরবোজ্জ্বল ট্রাডিশনকে আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রে গ্রহণ করতে হবে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের পরিস্থিতির এক পরিষ্কার উপলব্ধি থাকতে হবে আর অর্থনৈতিক কর্মনীতিসহ কর্মনীতির অধ্যয়ন করতে হবে। বিপ্লব আঁকড়ে ধরা ও উৎপাদন বাড়ানোর নীতির প্রতি আমাদের বিশ্বস্ত থাকা উচিত, অন্যান্য কাজ ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি থাকতে হবে—একটা নীতি যা অনুশীলনে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। দুই ধরণের দ্বন্দ্বকে বোঝাপড়ায় ও অল্প কিছু খারাপ উপাদানের উপর নিঃখুত ও প্রচণ্ড আঘাত হানায় মনোযোগ প্রদান করতে হবে; জনগণের মধ্যে বুর্জোয়া প্রভাবের ব্যাপারে বলা যায়, একে দূর করতে হবে ঐক্য-সমালোচনা-ঐক্য সূত্র প্রয়োগ করে—প্রধানত অধ্যয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির মত পদ্ধতি দ্বারা, অগ্রসর জিনিসকে সমর্থন করে যা পুঁজিবাদের দৃঢ় বিরোধী, অতীত দুঃখদুর্দশাকে স্মরণ করা, আজকের সুখের বিপরীতে তাকে তুলনা করা, জনগণকে উদ্বুদ্ধ্ব ও শিক্ষিত করা আর সমালোচনা ও আত্ম-সমালোচনা করা, এসবই ৯৫ ভাগ কেডার ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে। পুঁজিবাদী প্রবণতাগুলোকে সমালোচনায়, জনমত সৃষ্টি করা দরকার, সংখ্যাগরিষ্ঠকে জয় করা, সচেতনতা জাগানো আর সক্রিয় পথ প্রদর্শন করা। মুষ্টিমেয় যারা পুঁজিবাদে মোহগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরকে ধারালোভাবে বলতে হবেঃ “কমরেডগণ, এখনই তোমাদের পথ পরিবর্তন কর!”

যেমনটা এই প্রবন্ধের শুরুতে আমরা ব্যাখ্যা করেছি, লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র সমগ্র দেশের জনগণ থেকে অতি বিচ্ছিন্ন ছিল। শ্রেণীগত উৎসের দিক থেকে এর উদ্ভব সন্ধান করে আমরা সেই মাটি ও শর্তসমূহের দিকে নির্দেশ করি যা লিন পিয়াও পার্টিবিরোধী চক্রকে সৃষ্টি করেছে। বস্তুর এই দিকটির কথা বলার পর, আমাদেরকে অবশ্যই এটাও দেখাতে হবে যে লিন পিয়াও পার্টি বিরোধী চক্র হচ্ছে দুর্বল, সারবস্তুতে সকল প্রতিক্রিয়াশীলদের মতই এটা কাগুজে বাঘ। এই চক্রের সকল প্রতিবিপ্লবী তৎপরতাই তৈরি করেছে পরাজয় আর কানাগলির রেকর্ড, জয়ের নয়। সমাজতান্ত্রিক সমাজ পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবেই, আর কমিউনিজম সারা দুনিয়া জুড়ে জয়লাভ করবেই; এটা মানুষের ইচ্ছানিরপেক্ষ বস্তুগত নিয়ম। যেহেতু সমাজতান্ত্রিক সমাজ পুরোনো সমাজ থেকে জন্ম নিয়েছে, সে তাই, প্রতিটি দিক থকে—অর্থনৈতিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তি—পুরোনো সমাজের জন্ম চিহ্ন বহন করছে এখনও, যার গর্ভ থেকে সে জন্ম নিয়েছে।” এটা আশ্চর্যের কিছু নয়। বিগত ২৫ বছরের ইতিহাস আমাদের বলে যে যতক্ষণ আমরা সর্বহারা একনায়কত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরি, সভাপতি মাওয়ের সর্বহারা একনায়কত্বাধীনে বিপ্লব অব্যাহত রাখার তত্ত্বের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য সভাপতি মাও আমাদেরকে যে লাইন, নীতি ও কর্মনীতি প্রদান করেছেন তা বজায় রাখব, আমরা শ্রেণীশত্রুর প্রতিরোধ ভাঙতে, ধাপে ধাপে এই জন্মচিহ্ন মুছে ফেলতে এবং অব্যাহতভাবে পরিষ্কার বিজয় অর্জন করতে সক্ষম। বর্তমান চমৎকার পরিস্থিতি আমাদের সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যের উন্নতি থেকে অধিকতর উন্নতি দ্বারা চিহ্নিত যা সাম্রাজ্যবাদ ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের তীব্র বিপরীত—যারা আভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে যাচ্ছে আর দেশে বিদেশে প্রতিকূলতা মোকাবেলা করছে। তত্ত্বের প্রশ্নে সভাপতি মাওয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা সর্বহারা একনায়কত্বের ঐতিহাসিক কর্তব্যকে আর তা সম্পাদনের উপায় তত্ত্বে ও অনুশীলনে অধিকর পুর্ণতায় উপলব্ধি করতে আমাদের সক্ষম করে তুলবে। সর্বহারা একনায়কত্বকে সংহত করতে, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে গভীর করতে, সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের বিকাশকে আর দেশব্যাপী স্থিতিশীলতা ও ঐক্যকে এগিয়ে নিতে বিরাটাকারে সাহায্য করবে। চীনের কমিউনিস্টরা আস্থায় ভরপুর। আস্থায় ভরপুর সমগ্র দেশের সর্বহারা শ্রেণী ও বিপ্লবী জনগণও। একক হিসেবে একতাবদ্ধ ও উচ্চ উদ্যমে ভরপুর, তারা পার্টির নেতৃত্বের অধীনে সংগ্রাম পরিচালনা করছেন সংশোধনবাদকে মোকাবেলা ও এর উদ্ভবকে প্রতিরোধ করতে। চীনা বিপ্লবের ইতিহাস হচ্ছে আঁকাবাঁকা পথে বিপ্লবী জনগণের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আর বারংবার শক্তি প্রদর্শনের পর প্রতিক্রিয়াশীলদের ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। যেমনটা সভাপতি মাও সারসংকলন করেনঃ চীনে ১৯১১ সালে সম্রাট উচ্ছেদ হওয়ার পর কোন প্রতিক্রিয়াশীলই বেশী দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। সবচেয়ে দীর্ঘতম ছিল কেবল কুড়ি বছর (চিয়াং কাই-শেক), কিন্তু জনগন যখন বিদ্রোহে জেগে উঠে তখন সেও উৎখাত হয়। সান ইয়াত-সেনের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে, হোয়াম্পা একাডেমী পরিচালনা করে আর নিজের চারপাশে একগাদা প্রতিক্রিয়াশীল সমাবেশিত করে চিয়াং কাই-শেক ক্ষমতায় আরোহন করেছিল। সে যখন কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে দাঁড়াল তখন বাস্তবে সমগ্র ভুস্বামী শ্রেণী ও বুর্জোয়ারা তাকে সমর্থন করল। অধিকন্তু, কমিউনিস্ট পার্টি সেসময় অনভিজ্ঞ ছিল। তাই, পরমানন্দে সে অস্থায়ী শাসন পায়। উক্ত কুড়ি বছরে অবশ্য সে কখনোই একীভূতকরণ অর্জন করতে পারেনি। যুদ্ধ হয়েছে কুওমিন্তাং আর কমিউনিস্টদের মধ্যে, কুওমিন্তাং আর বহুবিধ যুদ্ধবাজ চক্রের মধ্যে, চিন-জাপান যুদ্ধ আর চুড়ান্তত চার বছরের ব্যাপক গৃহযুদ্ধ যা তাকে কয়েকটি দ্বীপমালায় নিক্ষেপ করেছে। যদি দক্ষিণপন্থীরা চীনে কমিউনিস্টবিরোধী কুদে’তা ঘটাত, আমি নিশ্চিত তারাও শান্তি পেত না, খুব সম্ভব তারা বেশী দিন থাকতে পারত না, শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি জনগণের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী বিপ্লবীরা এটা কখনোই সহ্য করবে না।” “উপসংৎহার হচ্ছে এখনও দুটি বারংবার পুনরাবৃত্ত বাক্যঃ ভবিষ্যত উজ্জ্বল; পথটা আঁকাবাঁকা।” আসুন সভাপতি মাও নির্দেশিত পথে সাহসের সাথে এগিয়ে চলি!

(শেষ)

(হংকি সংখ্যা নং ৩, ১৯৭৫ থেকে অনুদিত)

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s