বাংলাদেশঃ ২৪শে এপ্রিল জাতীয় শোক দিবস ও ২৫শে এপ্রিল হরতাল পালনের কর্মসূচী

13071707_710577535750828_476053796089311082_o

13046057_10209352830883658_926509394_n

Advertisements

মহান মে দিবসে ‘বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ’ এর আহবান

13001041_710578462417402_2122311392574616523_n

মহান মে (আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি) দিবসের বিপ্লবী তাৎপর্য উর্দ্ধে তুলে ধরুন

বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণীর আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে ১ মে এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও বিপ্লবী শপথে প্রদীপ্ত দিবস। ১ মে হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস। মে দিবসের বিপ্লবী তাৎপয় কি? এই বিপ্লবী তাৎপর্য অনুধাবন করে আজকের প্রোপটে তা কার্যকরী করা দেশে দেশের শ্রমিকশ্রেণীর অবশ্য কর্তব্য। মে দিবসের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, উনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে আট ঘন্টা শ্রম দিবসের দাবীতে যে সংগ্রামের শুরু তা অগ্রসর হয়ে বিস্ফোরিত হয় ১৮৮৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্টের শ্রমিক আন্দোলনে। মার্কিন যুক্তরাষ্টের শ্রমিক আন্দোলনের জোয়ারের প্রেক্ষাপটে ১৮৬৬ সালে বাল্টিমোরে ৬০টি ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা গঠন করেন আমেরিকার শ্রমিকশ্রেণীর প্রথম জাতীয় ফেডারেশন ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন। এই সম্মেলনে গ্রহণ করা হয় আট ঘন্টা শ্রমদিবসের ঐতিহাসিক প্রস্তাব। প্রস্তাবে বলা হয়, “এদেশের শ্রমিককে পুঁজিবাদী দাসত্বের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য বর্তমানে প্রথম ও বিরাট অর্জন হচ্ছে এমন একটা প্রস্তাব পাশ করা, যার ফলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত রাজ্যগুলোতে আট ঘন্টাই যেনস্বাভাবিক কাজের দিন বলে গণ্য হতে পারে। যত দিন এই গৌরবময় ফল অর্জন করতে না পারি, ততদিন আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগেগর সংকল্প নিচ্ছি।” বিশ্ব কমিউনিষ্টি আনোদালনের সূচনা হয় উনবিংশ শতাব্দীর ৪০-এর দশক। মহামতি মার্কস-এঙ্গেলস এর নেতৃত্বে রচিত কমিউনিষ্ট ইশতেহার ঘোষিত হয় ১৮৪৮ সালে। শ্রমিকশ্রেণীর সংগ্রামের গতিপথে ১৮৬৪ সালে গঠিত হয় প্রথম কমিউনিষ্ট আন্তর্জাতিক।
১৮৬৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম আন্তর্জাতিকের জেনেভা কংগ্রেসে গ্রহীত এক প্রস্তাবে বলা হয় যে, “কাজের দিনের বৈধ নিয়ন্ত্রণ একটি প্রাথমিক ব্যবস্থা, যা না হলে শ্রমিকশ্রেণীর উন্নতি ও মুক্তির সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। এই কংগ্রেসে কাজের দিনের বৈধ সীমাকে আট ঘন্টা করার প্রস্তাব করছে।”

কাজের সময়সীমা ৮ ঘন্টা দাবী বাস্তবায়িত করা সংগ্রামের গতিপথে ১৮৮৪ সালে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ১৮৮৬ সালের ১ মে সমাবেশ, বিক্ষোভের। কিন্তু বুর্জোয়াশ্রেণীর সরকারের পুলিশ ও গুণ্ডা বাহিনীর নির্মম দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ১ মে শ্রমিক ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাইটস অব লেবার ও আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবারের নেতৃত্বে বুর্জোয়াশ্রেণীর সকল চক্রান্ত্র-ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ১ মে শ্রমিক সমাবেশ ও ধর্মঘট সফলভাবে পালিত হয়। শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়ে এবং শিকাগো শহরে তা জঙ্গীরূপ লাভ করে। শিকাগোর ম্যাককামক ওয়ার্কর্স নামে এক কারখানার শ্রমিকদের সাথে পুঁজিপতি শ্রেণীর দালালদের সংঘর্ষ শুরু হয়। মালিক ও পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ৪ মে শ্রমিককেরা শিকাগোর হে মার্কেটে প্রতিবাদ সভার ডাক দেয়। প্রতিবাদ সভা চলাকালে পুলিশের পৈশাচিক গুলিবর্ষণে নিহত হন ৭ জন শ্রমিক এবং হতাহত হন অনেকে। ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের এই ঐতিহাসিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবার জন্য পুলিশ গ্রেপ্তার করে ৭ জন শ্রমিক নেতা –অসাষ্ট স্পাইজ, সীমফেল্ডেন, মাইকেল, জর্জ এঞ্জল, এডলফ ফিশার, লুই নিংগ ও অঙ্কার নিবেকে। বুর্জোয়া শ্রেণী ও তাদের স্বার্থরাকারী সরকার ফাঁসির আদেশ দেয় শ্রমিকশ্রেণীর নির্ভীক, দৃঢ়পতিজ্ঞ বীর নেতা অগাষ্ট স্পাইজ, গ্যারসন, ফিশার ও এঞ্জলকে।

ক্ষমা প্রদর্শনের আবেদন জানাতে অস্বীকার করে এই সব বীর শ্রমিক নেতারা সৃষ্টি করেন আত্মত্যাগ ও বিপ্লবী দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও ইতিহাস। অগাষ্ট স্পাইস আদালতে বলেন, “ অভাব ও কষ্টে খেটে খাওয়া লক্ষ লক্ষ শোষিত মানুষের আন্দোলনে তাদের মুক্তির আশা দেখে আপনারা যদি ভাবেন যে, আমাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েই আপনারা সেই শ্রমিক আন্দোলনকে উচ্ছেদ করতে পারবেন, যদি এটাই আপনাদের মত হয়, তবে দিন আমাদের ফাঁসি। এখানে একটা স্ফুলিঙ্গের ওপর আপনারা পা দেবেন, কিন্তু সেখান থেকেই আপনাদের পেছনে, আপনাদের সামনে এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে লেলিহান অগ্নিশিখা। এটা ভূ-গর্ভের আগুন এবং আপনারা তা কখনও নেভাতে পারবেন না।”তিনি বলেন, “ আজ তোমরা আমাদের টুটি টিপে ধরেছো, কিন্তু আমাদের নীরবতা সেই কণ্ঠস্বরের চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠবে এমন দিন আসবে।” ফাঁসির পূর্বে ফিমারের মত সর্বহারা বীররাই এমন কথা উচ্চারণ করতে পারেন যে, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে খুশীর মূহুর্ত।” ফাঁসির দড়ি গলায় পরেও অপারেজেয় যোদ্ধা এঞ্জেল ঘোষণা করেন,“জনগণের কষ্ঠস্বর শোনা হোক।” পারসনের মতো সর্বহারা যোদ্ধারাই মৃত্যুর পূর্বে তার স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তুলে ধরতে পারেন এমন সর্বহারা ভাবমানস, “ আমার অসহায় প্রিয় বৌ, তোমাকে আমি জনগণের কাছেই অর্পণ করছি, তুমি জণগণের একজন নারী। তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ, আমি যখন রইব না তখন কোন বেপরোয়া কাজ করনা, তবে সমাজতন্ত্রের মহান আদর্শকে আমি যেখানে রেখে যেতে বাধ্য হলাম, সেখান থেকে তাকে তুলে ধরো।” অধিকার ও মুক্তি ছিনিয়ে আনার সংগ্রামের অগ্নিশিখা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।

অনেক ত্যাগ, রক্ত, সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায় ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের দাবী। কিন্তু এর মধ্যে তা সীমাবদ্ধ ছিল না, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, এটা হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির লক্ষ্যে মজুরী দাসত্ব ব্যবস্থা তথা পুঁজিবাদ উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মহান সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্বব্যাপী কমিউনিষ্ট আন্দোলনের গতিধারায় ১৮৮৯ সালে মহামতি এঙ্গেলসের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় কমিউনিষ্ট আন্তর্জাতিক। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্যারিস কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয় ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসাবে পালন করার। মে দিবসের বৈপ্লবিক তাৎপর্য তুলে ধরে মহামতি এঙ্গেলস ঘোষণা করেন, “শুধু ৮ ঘন্টা শ্রমদিবসের জন্য মে দিবসের সমাবেশ নয়, তাকে অবশ্যই সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শ্রেণী বৈষম্য ধ্বংস করার শ্রমিকশ্রেণীর দৃঢ় সংকল্প গ্রহণের সমাবেশ পরিণত করতে হবে।” নিউইয়র্কের মে দিবসের সমাবেশে ঘোষণা করা হয়, “ ৮ ঘন্টা কাজের দিনের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সময় আমরা কখনো ভুলব না যে আমাদের চুড়ান্ত ল্ক্ষ্য হল বুর্জোয়া মজুরী দাসত্ব ব্যবস্থার উচ্ছেদ সাধন।”

মে দিবসের এই বৈপ্লবিক তাৎপর্য উর্দ্ধে তুলে ধরে অগ্রসর হয়েছে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণী এবং বিশ্ব কমিউনিষ্ট আন্দোলন। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার ম্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে বল প্রয়োগে বুর্জোয়াশ্রেণীকে উৎখাত করে জয়যুক্ত হয় মহান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। মজুরী দাসত্বের পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তে মুলত প্রতিষ্ঠিত হল সর্বহারা একনায়কত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদের পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে পূর্ব ইউরোপের ৭টি দেশে প্রতিষ্ঠিত হলো শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব। পরবর্তীতে নানা আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণে ১৯৫৩ সালে মহামতি স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর সংশোধনবাদী ক্রুশেভ চক্র কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে। ক্রশ্চভ চক্র ১৯৫৬ সালে অনুষ্ঠিত সিপিএসইউ এর ২০ তম কংগ্রেসের মধ্যদিয়ে সর্বহারা একনায়কত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় পুঁজিবাদ পূনঃপ্রতিষ্ঠা করে। পুঁজিবাদ পূনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে (আলবেনিয়া বাদে)। সংশোধনবাদী মাও-সেতুং চিন্তাধারার ফলশ্রুতিতে চীনেও পুঁজিবাদের পথ ধরে। সর্বশেষে ১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক আলবেনিয়ার পতন ঘটলে পৃথিবীতে আর কোন সমাজতানিত্রক দেশ থাকে না। ১৯৫৬ সালে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও সমাজতন্ত্রের মূলনীতি বিসর্জন দিয়ে সংশোধনবাদের ফলে সোভিয়েত রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে ঘটে পুঁজিবাদের পূনঃপ্রতিষ্ঠা।

ক্রুশ্চেভ-ব্রজনেভ-গর্বাচভ চক্রের নেতৃত্বে পূনঃপ্রতিষ্ঠিত নগ্ন পরিণতি ঘটে ১৯৯১ সালে সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী সোভিয়েত রাশিয়ার পরাশক্তি হিসাবে পতনের মধ্য দিয়ে। বিশ্ব কমিউনিষ্ট আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন নানা আঁকাবাঁকা পথে নানা বিপর্যয়ের মধ্যে পার হলেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। সাময়িক ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণী দেশে দেশে ও অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে বিপ্লবের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। মে দিবসের বিপ্লবী তাৎপর্য ও শিক্ষা তাই আজও অম্লান। এই শিক্ষা সামনে রেখে অর্জিত অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে আজ আমাদের অগ্রসর হতে হবে। শ্রমিকশ্রেণীর ধারাবাহিক সংগ্রামের ফলে মে দিবস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়ে দেশে দেশে প্রতি বছর পালিত হচ্ছে। শ্রমিক, শ্রমিকশ্রেণী এবং শ্রমিকশ্রেণীর ট্রেড ইউনিয়ন হিসাবে আমাদের সংগঠনকে মে দিবস পালন করে মে দিবসের বৈপ্লবিক তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রমিক-কৃষক মৈত্রীর ভিত্তিতে সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ-আমলা দালাল পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করার লক্ষ্যে সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার সুমহান লক্ষ্যে সংগ্রামের দ্বীপ্ত শপথ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু আজ সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল শাসক-শোষকগোষ্ঠী রং বেরং এর সংশোধনবাদী দল, এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠনও মে পালন করে। তবে তা করে মে দিবসের বৈপ্লবিক তাৎপর্য আড়াল করে শ্রমিকশ্রেণীকে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী করে বিপ্লবের পথ থেকে দুরে সরিয়ে শোষণমুলক সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রকাঠামো টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে। এই প্রতিক্রিয়াশীল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে তারা শ্রমিক আন্দোলনকে অর্থনীতিবাদী, সংস্কারবাদী ধারায় আবদ্ধ রেখে শ্রেণী সমন্বয়ের পতাকা তুলে ধরে। মে দিবসকে নিছক ছুটি উপভোগের আনুষ্ঠানিকতায় আটকে রাখার সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালদের ও সংশোধনবাদীদের এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমাদের তুলে ধরতে হবে মে দিবসের বৈপ্লবিক তাৎপর্যের পতাকা।


ভারতের গণযুদ্ধের সমর্থনে চিলি ও ইকুয়েডরে প্রচারাভিযান

‘অপারেশন গ্রীন হান্ট বন্ধ করা, জনগণের উপর বিমান হামলা ও যুদ্ধ বন্ধের দাবীতে’ ও ভারতের গণযুদ্ধে সমর্থনে ‘আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক পদক্ষেপ’ উপলক্ষ্যে ০২-০৯এপ্রিল পর্যন্ত চিলি ও ইকুয়েডরে প্রচারাভিযান।

চিলি –

dibujo

 

ইকুয়েডর –

APOYAR-LA-GUERRA-POPULAR-EN-LA-INDIA-724x1024

apoyar-la-guerra-popular-en-la-india-fdlp-ec-4-768x512

apoyar-la-guerra-popular-en-la-india-fdlp-ec-3-576x1024

apoyar-la-guerra-popular-en-la-india-fdlp-ec-1-768x512


পুলিশ কনস্টেবল ট্রেনিং স্কুলে মাওবাদীদের বোমা হামলা

Maoists-trigger-blast-690x377

bomb200420161461140785_storyimage

অনূদিত- 

ভারতের বিহারের ঘাটশিলা সাব ডিভিশনের জাদুঘোড়া’য় গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ কনস্টেবল ট্রেনিং স্কুলের নির্মাণাধীন ভবনে মাওবাদীরা ১১টি বোমার হামলা চালায় ও দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে দেয়। এর ঠিক পাশেই ছিল CRPF এর ক্যাম্প।

এ সময় দেয়ালে লাগানো ৭টি পোস্টারে মাওবাদীরা নরেন্দ্র মোদীকে প্রো- ক্যাপিটালিস্ট আখ্যা সহ অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি এবং দূষণ ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পুলিশের দাবী, মোটর সাইকেলে এসে মাওবাদী স্কোয়াডের সদস্যরা কানু মুন্ডার নেতৃত্বে এই হামলাটি করেছে ও পোস্টার লাগিয়েছে।

সূত্রঃ  http://www.avenuemail.in/jamshedpur/maoists-trigger-blast-upcoming-jadugoda-constable-training-school/92423/


নকশাল-পুলিশ বন্দুকযুদ্ধঃ ১ পুলিশ খতম, আহত ১

12naxals1

অনূদিত- 

গতকাল বিকেলে ছত্তিশগড়ের মাওবাদী বা নকশাল বিদ্রোহ কবলিত সুকমা-দান্তেওয়াদা জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের টংপাল থানার মজরুম গ্রামের ঘন বনের মধ্যে মাওবাদীদের সাথে নকশাল বিরোধী অপারেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি যৌথ দলের বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের একজন জওয়ান নিহত হয়েছে এবং অন্য একজন আহত হয়েছে বলে পিটিআইকে জানিয়েছে পুলিশের এক কর্মকর্তা।

এসটিএফ(স্পেশাল টাস্ক ফোর্স) এর কম্পোজিট স্কোয়াড, জেলা রিজার্ভ গ্রুপ (DRG), সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং জেলার বাহিনী- রাজ্যের রাজধানী হতে ৪৫০কিমি দূরে দান্তেওয়াদা জেলার কাতেকাল্যান থানা এলাকা থেকে গতরাত থেকে অভিযান শুরু করেছে।

সূত্রঃ http://indiatoday.intoday.in/story/police-jawan-killed-another-injured-in-gun-battle-with-naxals/1/647176.html


পৃথক ২টি ঘটনায়- নারী নকশাল গ্রেফতার ও অপরজনকে হত্যা

20_04_2016-itbp

অনূদিত

  • গতকাল ছত্তিসগড়ের নারায়নপুর জেলার তেমরুগাও গ্রাম থেকে আধাসামরিক আইটিবিপি ও রাজ্য পুলিশের একটি যৌথ দল নকশাল বিরোধী অপারেশনের সময় সুখিয়ারিন যাদব নামে ৫০ বছর বয়সী এক নকশাল নারীকে গ্রেফতার করেছে। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্যে পুলিশ ১লক্ষ ১০হাজার রূপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা ছিল। নকশাল বিরোধী অপারেশনের জন্য ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ এই জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

  • অপর ঘটনাটি ঘটে, মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের গাদচিরোলিতে। পুলিশ বলছে, ভাম্রাগাদ জঙ্গলে নকশাল বিরোধী অপারেশনের(ANO) বাহিনীর কমান্ডো এবং মাওবাদীদের মধ্যে হিংস্র বন্দুক যুদ্ধে পেরিমিলি দলমের ডেপুটি কমান্ডার ২৬ বছর বয়সী  সারিতা কলু কভাস নামে এক নকশাল নারী নিহত হয়। তিনি ছিলেন একই দলমের কমান্ডার দলেশ মাদি আত্রাম ওরফে সতিনাথ এর স্ত্রী। তার মাথার জন্যে ৬ লক্ষ রূপী পুরস্কার ঘোষণা করেছিল পুলিশ।

    পুলিশ বলছে তারা ঘটনাস্থল থেকে গোলাবারুদ, ৩৬ লাইভ রাউন্ড গুলিসহ একটি এসএলআর, তিনটি ম্যাগাজিন, একটি রেডিও, একটি মাইন, এক আঁটি তার, পোশাকের সেট, প্রচার ব্যানার, একটি মেডিকেল কিট এবং নকশাল সাহিত্য উদ্ধার করেছে।

    “সারিতা দালামে প্রায় ১০ বছর আগে যোগদান করেন এবং অধিকাংশ হত্যা, অপহরণ ও অতর্কিত হামলা সহ ৬০ অপরাধের জন্য অভিযুক্ত” বলে জানায় পুলিশ।

 

সূত্রঃ 

http://www.ndtv.com/india-news/woman-maoist-commander-killed-in-maharashtra-1397597

http://www.newindianexpress.com/nation/Wanted-Woman-Naxal-Held-in-Chhattisgarh/2016/04/20/article3390461.ece

 

 


নকশাল শহীদ ‘সমুদ্রুদু’র কবিতা(বাংলায় অনূদিত) –

naxal4

এই কবিতাটি লিখেছেন সমুদ্রুদু, সমুদ্রুদুর মূল নাম ছিল কানাকারাজু, যিনি সিপিআই(এম এল)পিডব্লিউজি এর একজন কর্মী ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ভারত রাষ্ট্র কর্তৃক গ্রেফতার হন, তৎক্ষণাৎ তাকে অন্ধ্রপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই কবিতাটি এন. ভেনুগোপাল  রাওয়ের “মাওবাদীদের বোঝার ক্ষেত্রে”  থেকে নেয়া ও অনূদিত

খন রাতে, রাইফেলের গুলিতে আহত চাঁদ রক্তাক্ত হয়

আমি বুঝতে পেরেছিলাম, শত্রুরা সত্যের আরেকটি কবর খুঁড়ছে

একটি জ্বলন্ত-তীব্র কটু-বিমর্ষ-বাতাস আমার গাল থেকে চোখের পানি মুছিয়ে দেয় …

দুমড়ে-মুছড়ে যাওয়া ঘাসগুলো সকালে কেঁদে উঠে……

আমার সন্তান, দয়া করে একবার অন্তত তোমার চোখ খোল …!

এক্ষুনি

একটি আসনের শুন্য খোলস

আমার ক্ষত ফুলের মত বিকশিত

একজন কমরেড লুটিয়ে পড়ল

তার জখম থেকে আরেকজনের জন্ম হল

আমি অপরাজেয়

আমি খণ্ডে খণ্ডে বিস্ফোরিত

এ আমার ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয়

আমার অস্ত্র এবং শুভেচ্ছা নিভে যায়নি

আমার মৃত্যু একটি গান ও ঘুম হয়ে উঠে

কিন্তু সংগ্রামের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে।