কলম্বিয়ার বামপন্থী গেরিলা দল ‘ইএলএন’ এর গেরিলা নেতা ফ্রাংকলিন নিহত

41d7828e6ebdbc04513f757084707c211287f6ee

আজ (রোববার) কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর হাতে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একজন বামপন্থী গেরিলা নেতাসহ ৪জন নিহত হয়েছে।  দেশটির চোকো অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অভিযানের সময় ফ্রাংকলিন ওরফে এল মোচো (৫৫) নামে পরিচিত এ গেরিলা নেতা নিহত হয়।

ফ্রাংকলিনের নিহত হওয়ার ঘটনাকে কলাম্বিয়ার বামপন্থী গেরিলা দল ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএন’র জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছে সামরিক বাহিনী।  সামরিক কর্তৃপক্ষ টুইটারে এক বার্তায় বলেছে, ইএলএন-কে অর্থ যোগানো এবং দলটির পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফ্রাংকলিন।

ফ্রাংকলিনের স্থলাভিষিক্ত জোটানো ইএলএন’র জন্য সহজ হবে না বলে কলাম্বিয়ার সামরিক বাহিনী মনে করছে। ফার্কের পরই ইএলএন-কে কলাম্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মার্কসবাদী গেরিলা দল হিসেবে মনে করা হয়।  গত প্রায় ২৫ বছর ধরে ইএলএন’র সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফ্রাংকলিন।

 

Advertisements

জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের পোষ্টার

image

জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের পোষ্টার৷ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পোস্টার৷ পোস্টার ঘিরে জঙ্গলমহলে আতঙ্ক৷ জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম , চোরচিতা, শিমুলপাসসহ বিভিন্ন এলাকা জুড়ে মাওবাদীদের পোস্টার পড়ল রবিবার সকালে৷ জঙ্গলমহল থেকে পুলিশ ক্যাম্প তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে এই পোস্টার দেওয়া হয়৷ পোস্টারে জঙ্গলমহলের স্থানীয় নেতাদের নাম লিখে তাদের খতমের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷  এর আগেও একাধিকবার জঙ্গলমহলে এমন পোস্টার উদ্ধার হয়৷ এদিন, এলাকায় পোস্টার পড়ার  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ৷ পুলিশ পরে পোস্টারগুলি নষ্ট করে দেয়৷


এবার মাওবাদী মোকাবিলায় ৫৬০ CRPF মহিলা কম্যান্ডো

CRPF-women

মাওবাদীদের মোকাবিলায় এবার মহিলা জওয়ানদের নামাতে চলেছে CRPF।  HTতে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী সবেমাত্র ৫৬৭ জন মহিলা কম্যান্ডোর ট্রেনিং শেষ হয়েছে।  এদের ধাপে ধাপে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হবে বলে জানান হয়েছে CRPF এর তরফে।

মাওবাদীদের সঙ্গে লড়াই করতে পাঠানো হচ্ছে তাদের।  প্রত্যেকেই সিআরপিএফের সদস্য।  আজমীরে বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে তাদের।  ৪৪ সপ্তাহ ধরে চলেছে সেই ট্রেনিং।
এক সেনা আধিকারিকের কথায়, এমন এক ব্যাটেলিয়ন তৈরি করা হয়েছে, যারা প্রত্যেক পরিস্থিতিতে লড়াই করতে পারবে।  মাও অধ্যুষিত জঙ্গলে তাঁদের পাঠানো হবে লড়াই করার জন্য।  যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে তাঁদের।  শুধুমাত্র অস্ত্র চালনাই নয়, শেখানো হয়েছে ক্যারাটে, ম্যাপ রিডিং।  এছাড়া জঙ্গলে থাকতে গেলে যা যা জানতে হয়, সবই শেখানো হয়েছে তাদের।

এই প্রথম মাওবাদী মোকাবিলায় মহিলা ব্যাটেলিয়ন নিয়োগ করছে ভারত।  কেমন প্রভাব পড়ে তা দেখেই পরবর্তীকালে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  মহিলারা মোটেই দুর্বল নয়, তাঁরা ভারি অস্ত্র বহনে দক্ষ বলেই জানিয়েছেন সেনা অফিসারেরা।


রবীন্দ্রনাথ কার সম্পদ ?

images (1)

রবীন্দ্রনাথ কার সম্পদ ?

(জুন, ‘৯০)

 

রবীন্দ্রনাথ জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন ব্রিটিশ যুগে, যখন ভারতবর্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উপনিবেশ ছিল।  তার জন্মের কয়েক বছর পূর্বে প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হয়েছিল।  এরপর তার মৃত্যু পর্যন্ত আশিটি বছর ভারতবর্ষব্যাপী চলে সশস্ত্র কৃষক-বিদ্রোহ, স্বদেশী আন্দোলন, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সন্ত্রাসবাদী স্বাধীনতা সংগ্রাম, শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রাম এবং বিশ ও তিরিশের দশকে ভারত জুড়ে জনগণের অজস্র সশস্ত্র লড়াই ও গণসংগ্রাম।
ভারতীয় জনগণের ইংরেজ শাসন বিরোধী এই উত্তাল মুক্তিসংগ্রামের যুগের রবীন্দ্রনাথ কি ছিলেন?
তিনি কি ইংরেজ দাসত্বের বিরোধী ছিলেন? তিনি কি জমিদারী শোষণের বিরোধী ছিলেন? তিনি কি শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তের বিপ্লবী সংগ্রাম ও উত্থানের পক্ষে ছিলেন ? রবীন্দ্রনাথ এর কোনটিই ছিলেন না।
বরং তিনি ছিলেন মূলত ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন ও জমিদারতন্ত্রের সমর্থক।  জনগণের বিপ্লবী উত্থান ও সংগ্রামকে তিনি কোনদিন মনে প্রাণে সমর্থন করতে পারেননি।
“পথের দাবী” উপন্যাসে ইংরেজ বিরোধিতার জন্য তিনি শরৎচন্দ্রকে সমালোচনা করেছিলেন।  ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাসে তিনি তৎকালীন সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের চোর-ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, আজ যেভাবে লুব্ধক, সুহৃদ, পথিক, অনিরুদ্ধ এসব বদমাইশরা ইত্তেফাক, ইনকিলাব, সংবাদ পত্রিকায় এখনকার বিপ্লবীদের সম্পর্কে করে থাকে।  ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ স্বদেশী আন্দোলনকারীদের জঘন্যভাবেই কলঙ্কিত করেছিলেন।  বিশের দশকে মুসোলিনীর আমন্ত্রণে ইতালী সফরকালে রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ্যেই ফ্যাসিবাদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
এসব কারণেই সাম্রাজ্যবাদীরা তাকে নোবেল পুরস্কার দিয়েছিল, ‘স্যার’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।  অথচ ম্যাক্সিম গোর্কী বা অকমিউনিস্ট টলষ্টয়ের মত মহা প্রতিভাশালী সাহিত্যিকদেরকেও সাম্রাজ্যবাদীরা নোবেল পুরস্কার দেয়নি।
রবীন্দ্রপন্থী বুদ্ধিজীবীরা রবীন্দ্রনাথের এই আজন্ম সাম্রাজ্যবাদ প্রীতি ও ভারতের মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও জমিদারতন্ত্রের সপক্ষে কাজ করার ঘটনাকে চেপে যান এবং জালিওয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পর ‘স্যার’ উপাধি ত্যাগসহ কিছু রাজনৈতিক ঘটনা, কিছু ছোট গল্প, ‘ওরা কাজ করে’ বা ‘দুই বিঘা জমি’র মত কিছু কবিতাকে সামনে নিয়ে আসেন।
কিন্তু একটু গভীরে গেলেই দেখা যায়, এসবের পিছনে রবীন্দ্রনাথের সত্যিকার অর্থে সাম্রাজ্যবাদ, দালাল বুর্জোয়া ও সামন্ত শ্রেণী বিরোধী ভূমিকা ছিল না।  বরং এগুলো ছিল বুর্জোয়া অবস্থান থেকেই পরিচালিত কর্মকাণ্ড।  আজ সাম্রাজ্যবাদের দালাল হাসিনা-খালেদা-আব্বাস কিংবা ইত্তেফাকের মইনুল হোসেনের মত বুদ্ধিজীবীরাও অনেক প্রশ্নেই একইভাবে এরশাদ সরকারকে বিরোধিতা করে থাকে।   এর অর্থ কি এই যে তারা শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনতার মুক্তির প্রতিনিধি? তারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী?
রবীন্দ্রনাথের জীবন ও সাহিত্যই প্রমাণ করে যে তিনি হচ্ছেন ভারতবর্ষের বড় বুর্জোয়া শ্রেণী ও সামন্তবাদের সবচেয়ে নেতৃস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি, দিকপাল।
* একারণেই এদেশের বাঙালী দালাল বুর্জোয়াদের ক্ষমতাসীন প্রতিনিধি এরশাদ সরকার রবীন্দ্রনাথকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে, যা এতদিন বিভিন্ন কারণে তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানী অবাঙালী দালাল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণী তৎকালীন পূর্ব বাংলার বাঙালী দালাল বুর্জোয়াদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাঙালী জাতীয়তাবাদকে প্রতিহত করার লক্ষ্যেই রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করেছিল।  এসত্ত্বেও তারা কখনই রবীন্দ্রনাথকে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করেনি। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর গত উনিশ বছরে বাঙালী দালাল বুর্জোয়াদের বিভিন্ন লবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নানা ধরনের টানাপোড়েন চলেছে।  এ টানাপোড়েন এখনও কমবেশি রয়েছে।  তবে ইতিমধ্যেই বাঙালী দালাল তথা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণী মানে ও গুণে বড় হয়েছে, সুসংহত হয়েছে ও পরিপক্কতা অর্জন করেছে।  এ অবস্থাতেই তারা প্রতিক্রিয়াশীল রবীন্দ্রনাথকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করেছে।  সুসংহত ও বিকশিত বাঙালী দালাল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণী বুঝেছে যে প্রতিক্রিয়াশীল রবীন্দ্রনাথ ও তার ভাবাদর্শ এদেশের উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সম্প্রদায়কে তাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করাটাকে সাহায্যই করবে।  ভবিষ্যতে একই কারণে তারা হয়তো-বা শেখ মুজিবকেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বীকৃতি দিবে।
* বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, এরশাদ সরকার তাদের ‘মহান’ রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করছে, রবীন্দ্রনাথ ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতে গিয়ে পড়েছেন ইত্যাদি।  হুমায়ূন আজাদ সাপ্তাহিক কাগজে লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ নষ্টদের কবলে গিয়ে পড়েছেন।  সাইদ-উর রহমান, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মুনতাসির মামুন প্রমুখরাও একই সুরে কথা বলেছেন।
কিন্তু জীবিত রবীন্দ্রনাথ কি আজীবন নষ্ট মানুষদের কোলেই লালিত হননি? নষ্ট ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথের জন্ম। দ্বারকানাথ-দেবেন্দ্রনাথ তথা ঠাকুর পরিবারই ছিল ইংরেজদের ঘৃণিত দালাল, বশংবদ।  রবীন্দ্রনাথ কোন দিনই তার পিতা, পিতামহ তথা পরিবারের এই ঘৃণ্য দেশদ্রোহিতার বিরোধিতা করেননি।
বরং ইংরেজদের দালালীর মাধ্যমে অর্জিত কৃষক প্রজার রক্ত চুষে নেওয়া জমিদারীর আয়ের উপর নির্ভর করেই তার জীবন কেটেছে। শাহজাদপুর ও শিলাইদহের কুঠিবাড়ী, চপলা বোট, পাল্কী, আসবাবপত্র ইংরেজদের আশ্রয়পুষ্ট, কৃষকশোষক জমিদার রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্নকেই বহন করে। তার ‘স্যার’ উপাধি ও নোবেল পুরস্কার ছিল নষ্ট সাম্রাজ্যবাদেরই দেওয়া।  ভারতবর্ষের দালাল বুর্জোয়া সামন্ত শ্রেণীর নষ্ট পার্টি কংগ্রেস ও নেতা গান্ধী-নেহেরুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি।  রবীন্দ্রনাথের যে মানবতাবাদ ও বাঙালীদের জয়গানে, শুধু এরশাদ সরকারই নয়, রবীন্দ্রপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও মুখরিত, সেটাও নষ্ট বুর্জোয়া মানবতাবাদ ও বুর্জোয়া বাঙালীত্ব।  রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ ও গান্ধীর অহিংসা সারমর্মে অভিন্ন। সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ-সামন্তবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের উত্থান ও বিপ্লবী সংগ্রামকে আপোষ ও আত্মসমর্পণের পথে ঠেলে দেয়ার জন্যই রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীর মানবতাবাদ ও অহিংসা।  এর মূল কথা হলো সাম্রাজ্যবাদীরা, শোষক বুর্জোয়া কিংবা জমিদাররাও-তো মানুষ, তাই তাদের বিরুদ্ধে শ্রেণীসংগ্রাম ও বিপ্লব অনুচিত, বরং মানবতা ও ভালবাসা দিয়েই তাদের জয় করতে হবে।  এই মানবতাবাদ জনগণের মুক্তি সংগ্রামের বিরুদ্ধে এক অন্তর্ঘাতক তৎপরতা।  যে কারণে ইংরেজ শাসকচক্র ও তাবৎ প্রতিক্রিয়াশীলরা রবীন্দ্রনাথকে বুকে টেনে নিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের বাঙালীত্ব হচ্ছে দালাল বুর্জোয়া সামন্তশ্রেণীর বাঙালীত্ব যা সারমর্মে অভিন্ন। রবীন্দ্রসাহিত্যের দর্শন হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল ভাববাদ, যা সারবস্তুগতভাবে ধর্ম থেকে ভিন্ন কিছু নয়।  রবীন্দ্র সাহিত্যে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু প্রতিক্রিয়াশীল ভাববাদই নয় খোলামেলা …… । সুতরাং বাংলাদেশের মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের চতুর প্রতিনিধি এরশাদ সরকার যে রবীন্দ্রনাথকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।  সাম্রাজ্যবাদীরা ও তাদের দালালেরা তাদের শোষণ-শাসনের স্বার্থে যে বুর্জোয়া ভাববাদ, প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদ ও ধর্মকে ব্যবহার করে রবীন্দ্র সাহিত্যে তার সবগুলিই রয়েছে।  সুতরাং রবীন্দ্রনাথ মৌলবাদীদের খপ্পরে পড়েছেন, এ আক্ষেপও যথার্থ নয়।  কারণ রবীন্দ্রনাথ কখনও বস্তুবাদী বা মার্কসবাদী ছিলেন না।
একদিক থেকে এটা ঠিক যে বাঙালী দালাল বুর্জোয়াশ্রেণীর বর্তমান শাসক তথা এরশাদ সরকার রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহারও করবে।  তবে এটা মোটেই একজন মজুরকে যেভাবে তার শত্রু  বুর্জোয়ারা ব্যবহার করে বা একজন মৃত বিপ্লবীর নামকে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীলরা ব্যবহার করে, তেমন নয়।  বরং এটা হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল রবীন্দ্র ভাবধারাকে ব্যবহার করা, যা শাসকশ্রেণীর নিজেদের ভাবধারা।  শাসক বুর্জোয়া শ্রেণী ও তাদের বিভিন্ন লবী তাদের প্রয়োজনেই কখনও রবীন্দ্রনাথকে, জিয়াউর রহমানকে, কখনও ধর্মকে, কখনও শেখ মুজিবকে সামনে তুলে ধরে এবং ব্যবহারও করে। তবে এরা সকলে তাদের নিজেদের শ্রেণীরই ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা।
* সবশেষে, রবীন্দ্র সাহিত্যের বিশালত্ব যার সামনে বড় বড় বুদ্ধিজীবীরা মাথা নুইয়ে বলেন, কি বিশাল, কি মহান, কি বিস্ময় ! প্রকৃতপক্ষেই রবীন্দ্র সাহিত্য বিশাল ও উন্নত শিল্পমন্ডিত। কিন্তু বিশাল হলে কি তার সামনে মাথা নোয়াতে হবে? প্রতিটি বিশালের কি শ্রেণীপ্রকৃতি নেই?
আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ কি বিশাল নয়? অতীতের ধর্মীয় সাহিত্য বেদ, ত্রিপিটক, রামায়ণ, মহাভারত, কোরান, বাইবেল কি সাহিত্যের মানদণ্ডে বিশাল নয়? তাই বলে কি ষোড়শ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত বিকশিত বিজ্ঞান-সাহিত্য-দর্শনের সত্যকে আত্মস্থ করেছেন এমন আধুনিক কোন মানুষ এর সামনে মাথা নোয়াবে?
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি বিশাল, কিন্তু দালাল বুর্জোয়া ও সামন্ত শ্রেণীর স্বার্থের প্রতিনিধি।   এই বিশাল বৃক্ষের বিষাক্ত ছায়া তাই নিপীড়িত জনগণের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকারক।
* রবীন্দ্রনাথের মত গুরুত্বপূর্ণ এক ইস্যুতে এদেশের বুদ্ধিজীবীরা সঠিক অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।  এর কারণ, এ ক্ষেত্রে শ্রমিক-কৃষকের শ্রেণীগত মুক্তির প্রশ্ন থেকে তারা শুরু করছেন না।  শহরে অবস্থান ও শাসক বুর্জোয়াদের শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে রবীন্দ্রনাথের অনুকূলে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে অদ্যাবধি শাসকগোষ্ঠিসমূহের প্রচারণা তাদের মাথায় কুসংস্কারের মতই গেঁথে গেছে, অন্ধ বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের প্রশ্নে তারা নিরেট মৌলবাদী। এদেশের দালাল বুর্জোয়া শাসকচক্র তথা এরশাদ সরকার বুদ্ধিজীবীদের এই দৈন্য ভালভাবে বুঝেছে বলেই রবীন্দ্রনাথকে তুলে ধরেছে।
কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ-দালাল বুর্জোয়া ও সামন্তবাদ বিরোধী এদেশের জনগণের মুক্তিসংগ্রাম এক নিমর্ম শ্রেণীসংগ্রাম।  রবীন্দ্র সাহিত্য এ ভাবধারা ও সংগ্রামে প্রতিক্রিয়াশীল শাসকচক্রের হাতিয়ার।  তাই শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবী অবস্থান থেকে রবীন্দ্রনাথের উন্মোচন ও বিরোধিতা হচ্ছে সাংস্কৃতিক-মতাদর্শগত ফ্রন্টে এক দীর্ঘস্থায়ী বিপ্লবী কাজ।
এ দায়িত্ব এড়িয়ে উল্টো রবীন্দ্র প্রশস্তি গেয়ে চললে তা কোনমতেই জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে সহায়তা করবে না।


নকশালপন্থী সংগঠন ‘পোরাত্তাম’ কর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানিয়ে (DSU – DU unit) বিবৃতি

11201817_806581499473786_6957496270271908950_n

13151606_1677643165821055_728408771401844800_n

Statement by DSU – Delhi University Unit on the arrest of Comrades Ajithan, Dileep and Sabu in Kerala …

Expose the fallacy called Indian ‘Democracy’… Release Comrades Ajithan, Dileep and Sabu Immediately and Unconditionally! Repeal UAPA and other draconian laws!
6.5.2016
As a part of ongoing crackdown on peoples’ movements and attack on the democratic right activists, the largest ‘democracy’ of the world has caged three activists in Kerala to curb and criminalize the voice of dissent and to silence them by law. On 3rd May 2016, Comrade Sabu was picked up by the Kerala Police from Hind Bazar area near corporation office, Thrissur with posters and pamphlets of the organization called ‘Porattam’, which has called for boycotting ongoing assembly election in Kerala. On the same day, Comrade Ajithan of the same organization and Comrade Dileep of ‘Padantharam’ were arrested from Padantharam Student’s Magazine office, during a planning meeting against brutal rape and murder of Dalit student, Jisha. All three of them are charged under UAPA for their supposed link/sympathy with ‘Maoists’.
This is not the first time or an isolated incident. The Kerala government has been witch hunting and hounding people’s activists, intellectuals and civil liberty activists for quite some time. Activists who raise their voices against anti-people measures of the government, challenge brutal repressions and attack on people by the state or organize masses to fight for their rights are branded as ‘Maoists’, to make them easy target of the state repression and slapped with draconian laws or killed. In 2015, two well known activists from Kerala, Jaison Cooper and Thushar Nirmal Sarathy, the secretary of CRPP were arrested on same charges and were released by the court recently. Three years back, activists Roopesh and Shiney were hounded and harassed in the same manner. There are several other instances where the infamous Kerala police had arbitrarily picked up activists, artists, lawyers without any evidence, under the blueprint of the Central government to ‘wipe out Maoists’ from Western Ghats and AP, Kerala and Tamil Nadu borders. The way state and its institutions work with absolute impunity in witch-hunting activists and unleash brutal attack on people has become a ‘culture’over decades. Even in Delhi, Professor G.N Saibaba who played a pivotal role in mobilizing opinion against Operation Green Hunt, was kidnapped by Maharashtra police from Delhi University area and kept in ‘anda cell’ in Nagpur before he was released last month.
‘Porattam’ has given a call to boycott the ensuing assembly election in Kerala, unveiled the fallacy of the so called ‘Democratic system’ in India and the various oppressive measures. It is the right of the people to reject elections as much as it is the right of the individuals to take part in it. The unjust arrest of Comrades Dileep, Ajithan and Sabu for campaigning against the fallacies of electoral system, unmask the ludicrous promises of Democracy. To mention here, according to a judgment by Kerala High Court, given on 22nd May, 2015, no one can be arrested for being a ‘Maoist’ by ideology.
DSU condemns the arbitrary arrest and kidnapping of people’s activists who are foot soldier against State sponsored violence on Dalits, Minorities, Exploited Classes and Oppressed Nationalities or challenge the anti-people policies of the State.
DSU demands immediate and unconditional release of Comrades Ajithan, Dileep and Sabu and all other political prisoners, languishing in jails across the country, for years.

DSU also demands to repeal UAPA and other draconian anti-people laws. DSU will start an intense campaign for the release of Comrades Ajithan, Dileep and Sabu across Delhi. dsu

 

du unit

নিহত নকশাল আজাদের বাবা: পুলিশ আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে

hhh-min-min

অনূদিত-

বিশাখাপত্তনম: নিহত নকশাল আজাদের বাবা লক্ষ্মণ রাও ওরফে VRL গোপাল গত শুক্রবার তার ছেলেকে হত্যা করার আগে নির্যাতন চালিয়েছে বলে এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন।  শুক্রবার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর আজাদের দেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।  তবে, তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্বাধীনতা নাগরিক সমিতি’র সদস্যরা দাবি করেন যে, মৃত আজাদের উপর নির্যাতন চালিয়ে তার চোখ উপরে ফেলা হয়েছিল।  আজাদ দুদিন আগে কয়্যুরু মন্ডলের মধ্যে মাররিপাকালু বনে কথিত এনকাউন্টারে অন্য দুজন নারী নকশাল গেরিলাসহ নিহত হন।  কিন্তু আজাদের বাবা প্রশ্ন রাখেন, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫জন সদস্য আজাদকে লক্ষ্য করেই গুলি চালায়, সেখানে কিভাবে শুধুমাত্র এক বুলেট তার ছেলেকে আঘাত করে ?

উল্লেখ্য যে, আজাদের বাবা লক্ষণ রাও ও বোন ঝাঁসি সাবেক নকশাল কর্মী ছিলেন।

সুত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/Cops-tortured-my-son-Slain-Maoist-Azads-father/articleshow/52159973.cms


কলকাতাঃ যাদবপুরে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি বিরোধী বিক্ষোভ ও USDF এর আহবান

মুজাফফরনগর বাকি হ্যায়

মুজাফফরনগর বাকি হ্যায়

“বুদ্ধা ইন ট্রাফিক জ্যাম ” ছবিটি নিয়ে উত্তাল যাদবপুর, যদিও ছবিটির প্রদর্শন কোথাও ছাত্র ছাত্রীরা বন্ধ করেনি। গতকাল ছবি দেখানোর আগে যাদবপুরের মাঠে, ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখায় জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি দাঙ্গাবাজ গৈরিক সংস্কৃতির প্রতিবাদ স্বরুপ ‘মুজাফফরনগর বাকি হ্যায়’ তথ্য চিত্র টি ছাত্র ছাত্রীরা সবাই মিলে দেখে।
বুদ্ধা ইন ট্রাফিক জ্যাম ছবিটি শেষ হবার পর দাঙ্গাবাজের দল হটাত উত্তেজিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের ‘মুজাফফরনগর বাকি হ্যায়’ স্ক্রীনিং এ চড়াও হয়, এবং অশ্লীল ভাষায় ছাত্রছাত্রীদের আক্রমণ করে।
যদিও ছাত্র ছাত্রীদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তারা অধিকাংশ পালায়।  চারজন সংঘিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটির কাছে সমর্পন করা হয়।  কিন্তু যথারীতি শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্তদের কায়দা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সিনেমার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি প্রচার আজকের ব্যাপার নয়, ন্যাৎসি জার্মানি তে হিটলারও “মেট্রোপলিটন”, “ট্রিউম্ফ অফ দা উইল” প্রভৃতি সিনেমার মাধ্যমে গোঁড়া জাতীয়বাদের বিষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন।  এমনকি হলিউডের বহু স্টুডিও তাকে এই কাজে সহায়তা করে, যা আজকের ভারতে ফ্যাসিবাদ আর সাম্রাজ্যবাদের পারস্পরিক নির্ভরশীতার রুপে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ সারা দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে গৈরিকিকরনের যে তীব্র প্রচেষ্টা চলছে ,তা হিন্দু ফ্যাসিবাদ বিদেশী পুঁজির দালাল হিসাবেই করে আসছে, GATT,WTO এর সাথে চুক্তিতে যা প্রমানিত।আর তাদের এই পরিকল্পনাকে রুপ দিতে FTII থেকে IIT মাদ্রাজ, প্রতিটি ক্যাম্পাসের গণতন্ত্রকে আক্রমন করে চলছে এরা।কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টার সামনে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ব্যারিকেড গড়ে তুলছেন ছাত্রছাত্রীরা, যেমন আজ করলেন যাদবপুরের কমরেডরা। তাই কখোনো দেশদ্রোহী আক্ষ্যা দিয়ে, কখোনো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামিয়ে, কখনো বা অশ্লীল ভাষায় আক্রমন করে ছাত্র ছাত্রীদের এই লড়াই থামানো যাবে না , বরং HCU থেকে JNU, JNU থেকে JU, প্রতিটি ক্যাম্পাসের দেওয়াল বিদ্রোহ ঘোষনা করবেই।
তাই আমরা USDF এর পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তির এই আক্রমনকে তীব্র ধিক্কার এবং JU সহ প্রতিটি স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের, সাম্রাজ্যবাদের মদতে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদের আক্রমনের মুখে সারা দেশব্যাপী তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।  অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।

বুদ্ধা ইন ট্রাফিক জ্যাম

বুদ্ধা ইন ট্রাফিক জ্যাম