রবীন্দ্রনাথ কার সম্পদ ?

images (1)

রবীন্দ্রনাথ কার সম্পদ ?

(জুন, ‘৯০)

 

রবীন্দ্রনাথ জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন ব্রিটিশ যুগে, যখন ভারতবর্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের উপনিবেশ ছিল।  তার জন্মের কয়েক বছর পূর্বে প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হয়েছিল।  এরপর তার মৃত্যু পর্যন্ত আশিটি বছর ভারতবর্ষব্যাপী চলে সশস্ত্র কৃষক-বিদ্রোহ, স্বদেশী আন্দোলন, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সন্ত্রাসবাদী স্বাধীনতা সংগ্রাম, শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রাম এবং বিশ ও তিরিশের দশকে ভারত জুড়ে জনগণের অজস্র সশস্ত্র লড়াই ও গণসংগ্রাম।
ভারতীয় জনগণের ইংরেজ শাসন বিরোধী এই উত্তাল মুক্তিসংগ্রামের যুগের রবীন্দ্রনাথ কি ছিলেন?
তিনি কি ইংরেজ দাসত্বের বিরোধী ছিলেন? তিনি কি জমিদারী শোষণের বিরোধী ছিলেন? তিনি কি শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তের বিপ্লবী সংগ্রাম ও উত্থানের পক্ষে ছিলেন ? রবীন্দ্রনাথ এর কোনটিই ছিলেন না।
বরং তিনি ছিলেন মূলত ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন ও জমিদারতন্ত্রের সমর্থক।  জনগণের বিপ্লবী উত্থান ও সংগ্রামকে তিনি কোনদিন মনে প্রাণে সমর্থন করতে পারেননি।
“পথের দাবী” উপন্যাসে ইংরেজ বিরোধিতার জন্য তিনি শরৎচন্দ্রকে সমালোচনা করেছিলেন।  ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাসে তিনি তৎকালীন সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের চোর-ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, আজ যেভাবে লুব্ধক, সুহৃদ, পথিক, অনিরুদ্ধ এসব বদমাইশরা ইত্তেফাক, ইনকিলাব, সংবাদ পত্রিকায় এখনকার বিপ্লবীদের সম্পর্কে করে থাকে।  ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ স্বদেশী আন্দোলনকারীদের জঘন্যভাবেই কলঙ্কিত করেছিলেন।  বিশের দশকে মুসোলিনীর আমন্ত্রণে ইতালী সফরকালে রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ্যেই ফ্যাসিবাদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
এসব কারণেই সাম্রাজ্যবাদীরা তাকে নোবেল পুরস্কার দিয়েছিল, ‘স্যার’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।  অথচ ম্যাক্সিম গোর্কী বা অকমিউনিস্ট টলষ্টয়ের মত মহা প্রতিভাশালী সাহিত্যিকদেরকেও সাম্রাজ্যবাদীরা নোবেল পুরস্কার দেয়নি।
রবীন্দ্রপন্থী বুদ্ধিজীবীরা রবীন্দ্রনাথের এই আজন্ম সাম্রাজ্যবাদ প্রীতি ও ভারতের মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও জমিদারতন্ত্রের সপক্ষে কাজ করার ঘটনাকে চেপে যান এবং জালিওয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের পর ‘স্যার’ উপাধি ত্যাগসহ কিছু রাজনৈতিক ঘটনা, কিছু ছোট গল্প, ‘ওরা কাজ করে’ বা ‘দুই বিঘা জমি’র মত কিছু কবিতাকে সামনে নিয়ে আসেন।
কিন্তু একটু গভীরে গেলেই দেখা যায়, এসবের পিছনে রবীন্দ্রনাথের সত্যিকার অর্থে সাম্রাজ্যবাদ, দালাল বুর্জোয়া ও সামন্ত শ্রেণী বিরোধী ভূমিকা ছিল না।  বরং এগুলো ছিল বুর্জোয়া অবস্থান থেকেই পরিচালিত কর্মকাণ্ড।  আজ সাম্রাজ্যবাদের দালাল হাসিনা-খালেদা-আব্বাস কিংবা ইত্তেফাকের মইনুল হোসেনের মত বুদ্ধিজীবীরাও অনেক প্রশ্নেই একইভাবে এরশাদ সরকারকে বিরোধিতা করে থাকে।   এর অর্থ কি এই যে তারা শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনতার মুক্তির প্রতিনিধি? তারা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী?
রবীন্দ্রনাথের জীবন ও সাহিত্যই প্রমাণ করে যে তিনি হচ্ছেন ভারতবর্ষের বড় বুর্জোয়া শ্রেণী ও সামন্তবাদের সবচেয়ে নেতৃস্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি, দিকপাল।
* একারণেই এদেশের বাঙালী দালাল বুর্জোয়াদের ক্ষমতাসীন প্রতিনিধি এরশাদ সরকার রবীন্দ্রনাথকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে, যা এতদিন বিভিন্ন কারণে তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানী অবাঙালী দালাল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণী তৎকালীন পূর্ব বাংলার বাঙালী দালাল বুর্জোয়াদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাঙালী জাতীয়তাবাদকে প্রতিহত করার লক্ষ্যেই রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করেছিল।  এসত্ত্বেও তারা কখনই রবীন্দ্রনাথকে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করেনি। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর গত উনিশ বছরে বাঙালী দালাল বুর্জোয়াদের বিভিন্ন লবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নানা ধরনের টানাপোড়েন চলেছে।  এ টানাপোড়েন এখনও কমবেশি রয়েছে।  তবে ইতিমধ্যেই বাঙালী দালাল তথা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণী মানে ও গুণে বড় হয়েছে, সুসংহত হয়েছে ও পরিপক্কতা অর্জন করেছে।  এ অবস্থাতেই তারা প্রতিক্রিয়াশীল রবীন্দ্রনাথকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করেছে।  সুসংহত ও বিকশিত বাঙালী দালাল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণী বুঝেছে যে প্রতিক্রিয়াশীল রবীন্দ্রনাথ ও তার ভাবাদর্শ এদেশের উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সম্প্রদায়কে তাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ করাটাকে সাহায্যই করবে।  ভবিষ্যতে একই কারণে তারা হয়তো-বা শেখ মুজিবকেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বীকৃতি দিবে।
* বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, এরশাদ সরকার তাদের ‘মহান’ রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহার করছে, রবীন্দ্রনাথ ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতে গিয়ে পড়েছেন ইত্যাদি।  হুমায়ূন আজাদ সাপ্তাহিক কাগজে লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ নষ্টদের কবলে গিয়ে পড়েছেন।  সাইদ-উর রহমান, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মুনতাসির মামুন প্রমুখরাও একই সুরে কথা বলেছেন।
কিন্তু জীবিত রবীন্দ্রনাথ কি আজীবন নষ্ট মানুষদের কোলেই লালিত হননি? নষ্ট ঠাকুর পরিবারে রবীন্দ্রনাথের জন্ম। দ্বারকানাথ-দেবেন্দ্রনাথ তথা ঠাকুর পরিবারই ছিল ইংরেজদের ঘৃণিত দালাল, বশংবদ।  রবীন্দ্রনাথ কোন দিনই তার পিতা, পিতামহ তথা পরিবারের এই ঘৃণ্য দেশদ্রোহিতার বিরোধিতা করেননি।
বরং ইংরেজদের দালালীর মাধ্যমে অর্জিত কৃষক প্রজার রক্ত চুষে নেওয়া জমিদারীর আয়ের উপর নির্ভর করেই তার জীবন কেটেছে। শাহজাদপুর ও শিলাইদহের কুঠিবাড়ী, চপলা বোট, পাল্কী, আসবাবপত্র ইংরেজদের আশ্রয়পুষ্ট, কৃষকশোষক জমিদার রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্নকেই বহন করে। তার ‘স্যার’ উপাধি ও নোবেল পুরস্কার ছিল নষ্ট সাম্রাজ্যবাদেরই দেওয়া।  ভারতবর্ষের দালাল বুর্জোয়া সামন্ত শ্রেণীর নষ্ট পার্টি কংগ্রেস ও নেতা গান্ধী-নেহেরুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি।  রবীন্দ্রনাথের যে মানবতাবাদ ও বাঙালীদের জয়গানে, শুধু এরশাদ সরকারই নয়, রবীন্দ্রপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও মুখরিত, সেটাও নষ্ট বুর্জোয়া মানবতাবাদ ও বুর্জোয়া বাঙালীত্ব।  রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ ও গান্ধীর অহিংসা সারমর্মে অভিন্ন। সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদ-সামন্তবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের উত্থান ও বিপ্লবী সংগ্রামকে আপোষ ও আত্মসমর্পণের পথে ঠেলে দেয়ার জন্যই রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীর মানবতাবাদ ও অহিংসা।  এর মূল কথা হলো সাম্রাজ্যবাদীরা, শোষক বুর্জোয়া কিংবা জমিদাররাও-তো মানুষ, তাই তাদের বিরুদ্ধে শ্রেণীসংগ্রাম ও বিপ্লব অনুচিত, বরং মানবতা ও ভালবাসা দিয়েই তাদের জয় করতে হবে।  এই মানবতাবাদ জনগণের মুক্তি সংগ্রামের বিরুদ্ধে এক অন্তর্ঘাতক তৎপরতা।  যে কারণে ইংরেজ শাসকচক্র ও তাবৎ প্রতিক্রিয়াশীলরা রবীন্দ্রনাথকে বুকে টেনে নিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের বাঙালীত্ব হচ্ছে দালাল বুর্জোয়া সামন্তশ্রেণীর বাঙালীত্ব যা সারমর্মে অভিন্ন। রবীন্দ্রসাহিত্যের দর্শন হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল ভাববাদ, যা সারবস্তুগতভাবে ধর্ম থেকে ভিন্ন কিছু নয়।  রবীন্দ্র সাহিত্যে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু প্রতিক্রিয়াশীল ভাববাদই নয় খোলামেলা …… । সুতরাং বাংলাদেশের মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের চতুর প্রতিনিধি এরশাদ সরকার যে রবীন্দ্রনাথকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।  সাম্রাজ্যবাদীরা ও তাদের দালালেরা তাদের শোষণ-শাসনের স্বার্থে যে বুর্জোয়া ভাববাদ, প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদ ও ধর্মকে ব্যবহার করে রবীন্দ্র সাহিত্যে তার সবগুলিই রয়েছে।  সুতরাং রবীন্দ্রনাথ মৌলবাদীদের খপ্পরে পড়েছেন, এ আক্ষেপও যথার্থ নয়।  কারণ রবীন্দ্রনাথ কখনও বস্তুবাদী বা মার্কসবাদী ছিলেন না।
একদিক থেকে এটা ঠিক যে বাঙালী দালাল বুর্জোয়াশ্রেণীর বর্তমান শাসক তথা এরশাদ সরকার রবীন্দ্রনাথকে ব্যবহারও করবে।  তবে এটা মোটেই একজন মজুরকে যেভাবে তার শত্রু  বুর্জোয়ারা ব্যবহার করে বা একজন মৃত বিপ্লবীর নামকে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীলরা ব্যবহার করে, তেমন নয়।  বরং এটা হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল রবীন্দ্র ভাবধারাকে ব্যবহার করা, যা শাসকশ্রেণীর নিজেদের ভাবধারা।  শাসক বুর্জোয়া শ্রেণী ও তাদের বিভিন্ন লবী তাদের প্রয়োজনেই কখনও রবীন্দ্রনাথকে, জিয়াউর রহমানকে, কখনও ধর্মকে, কখনও শেখ মুজিবকে সামনে তুলে ধরে এবং ব্যবহারও করে। তবে এরা সকলে তাদের নিজেদের শ্রেণীরই ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভা।
* সবশেষে, রবীন্দ্র সাহিত্যের বিশালত্ব যার সামনে বড় বড় বুদ্ধিজীবীরা মাথা নুইয়ে বলেন, কি বিশাল, কি মহান, কি বিস্ময় ! প্রকৃতপক্ষেই রবীন্দ্র সাহিত্য বিশাল ও উন্নত শিল্পমন্ডিত। কিন্তু বিশাল হলে কি তার সামনে মাথা নোয়াতে হবে? প্রতিটি বিশালের কি শ্রেণীপ্রকৃতি নেই?
আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ কি বিশাল নয়? অতীতের ধর্মীয় সাহিত্য বেদ, ত্রিপিটক, রামায়ণ, মহাভারত, কোরান, বাইবেল কি সাহিত্যের মানদণ্ডে বিশাল নয়? তাই বলে কি ষোড়শ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত বিকশিত বিজ্ঞান-সাহিত্য-দর্শনের সত্যকে আত্মস্থ করেছেন এমন আধুনিক কোন মানুষ এর সামনে মাথা নোয়াবে?
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি বিশাল, কিন্তু দালাল বুর্জোয়া ও সামন্ত শ্রেণীর স্বার্থের প্রতিনিধি।   এই বিশাল বৃক্ষের বিষাক্ত ছায়া তাই নিপীড়িত জনগণের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকারক।
* রবীন্দ্রনাথের মত গুরুত্বপূর্ণ এক ইস্যুতে এদেশের বুদ্ধিজীবীরা সঠিক অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।  এর কারণ, এ ক্ষেত্রে শ্রমিক-কৃষকের শ্রেণীগত মুক্তির প্রশ্ন থেকে তারা শুরু করছেন না।  শহরে অবস্থান ও শাসক বুর্জোয়াদের শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রভাবের কারণে রবীন্দ্রনাথের অনুকূলে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে অদ্যাবধি শাসকগোষ্ঠিসমূহের প্রচারণা তাদের মাথায় কুসংস্কারের মতই গেঁথে গেছে, অন্ধ বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের প্রশ্নে তারা নিরেট মৌলবাদী। এদেশের দালাল বুর্জোয়া শাসকচক্র তথা এরশাদ সরকার বুদ্ধিজীবীদের এই দৈন্য ভালভাবে বুঝেছে বলেই রবীন্দ্রনাথকে তুলে ধরেছে।
কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ-দালাল বুর্জোয়া ও সামন্তবাদ বিরোধী এদেশের জনগণের মুক্তিসংগ্রাম এক নিমর্ম শ্রেণীসংগ্রাম।  রবীন্দ্র সাহিত্য এ ভাবধারা ও সংগ্রামে প্রতিক্রিয়াশীল শাসকচক্রের হাতিয়ার।  তাই শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবী অবস্থান থেকে রবীন্দ্রনাথের উন্মোচন ও বিরোধিতা হচ্ছে সাংস্কৃতিক-মতাদর্শগত ফ্রন্টে এক দীর্ঘস্থায়ী বিপ্লবী কাজ।
এ দায়িত্ব এড়িয়ে উল্টো রবীন্দ্র প্রশস্তি গেয়ে চললে তা কোনমতেই জনগণের মুক্তির সংগ্রামকে সহায়তা করবে না।

Advertisements

2 Comments on “রবীন্দ্রনাথ কার সম্পদ ?”

  1. ছাগলের কত প্রকার! ব্যা ব্যা টাও ঠিকঠাক করতে পারে না

    Like

  2. লেখক মহামূর্খ – এর বেশী কিছু বলার নেই।

    Like


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s