আবারো যাদবপুর: ফ্যাসিবাদী ব্রাহ্মণ্য গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে গণ-প্রতিরোধ গড়ে তুলুন – নকশালপন্থী DSU

4

এই ক্ষোভ ক্যাম্পাস জুড়ে ছড়িয়ে যাক !!!

Let this Rage Spread across campuses!!!

On 7 th of May, Jadavpur University rose in rage against the fascists and foiled the heinous sanghi project of spreading venom and ravaging the campus. As per their declared mission to ‘flush out Communists and Naxalites’ from campuses, ABVP goons organized screening of jingoist propaganda movie,‘Buddha in a traffic jam’ directed by Vivek Agnihotri and invited him for a ‘lecture’. When student community of JU formed barricades and protested against peddling of hate and lies, they were abused and beaten up and women students were manhandled.

During the screening of the documentary ‘Muzzaffarnagar Baqi Hai’ organized by JU students on the same day, ABVP goons disrupted the screening by hurling abuses at students and molested women students. It was at this point, student community retaliated fervently against RSS goons and detained four ABVP molesters and handed them over to the University administration. In Hitler’s Germany,fascists harped on popular media to advance their xenophobic ideology under Ministry of Propaganda led by Goebbels.

In India we witnessed production of such propaganda movies and daily soaps since late 1980s by people affliated to the Sangh. The appointment of ‘actor’ Gajendra Chahuan, a RSS stooge, as Director of FTII is part of the same design. We see an upsurge of students’ movement in our country, as the present RSS-BJP government has unleashed series of attacks on the students and is planting its‘students’ wing’ in campuses to saffronize them. Students of IIT-Madras protested against the administrative ban on Ambedkar-Periyar study circle.

Along with peddling Hindutva Fascist ideology, the present government is also continuing with the pro-imperialist agendas of earlier governments, evident from the succumbing of this government to WTO-GATS treaty last year. The protesters of 88 days long Occupy-UGC movement of Delhi against the ‘siphoning of public money to corporates’, fund cuts in Education and stopping of Non-Net fellowships to research scholars, were brutally attacked by the government again and again. Such fund cuts is a part of the agenda of the Government to keep a larger section of masses, mainly unprivileged classes, Dalits and Minorities out of educational institutions and to ‘de-radicalize’ campuses and impede quality research work. The anti-dalit Hindutva ideology of the Government was exposed when the institutional murder of Rohith Vemula, a dalit research scholar of HCU and institutional boycott of his friends came to fore. The direct involvement of HRD minister Smriti Irani, BJP MP Dattatreya and VC Apparao in the entire matter shocked students across India and abroad.

Students stood in solidarity with Rohith and took to the streets in huge numbers where they faced brutal lathi-charge by government and RSS goons. In order to divert attention from the brewing protest against the government for HCU incident, RSS-BJP attacked JNU, slapped students with sedition charges, branded students as ‘Anti-Nationals’ and ran media trial against the university. The Governement has planned to beef up Militarization of Jamia Millia Islamia to fight ‘secessionists’, which was already a target of the Hindutva goons (Modi said it is a hub of terrorists in 2008). Attack on AMU, AU, expulsion of Prof Sandip Pandey of BHU – all stand to prove the heinous agenda of the government to saffronize campuses. Jadavpur University, which bears the legacy of radical student politics, witnessed students upsurge during Hokkolorob movement and forced the earlier VC to resign. Students of JU who bravely stood in solidarity with the ongoing movements across the country, were naturally under the scanner of Hinduva terrorists.

The shameless alliance of BJP and TMC is exposed as the culprits of 7 the May incident, against whom serious charges of Molestation and Physical abuse were filed, were shielded by the police. Soon after the incident BJP sang the usual cacophony, branding JU as a ‘hub of anti-nationals’. Even on 7th and 8th May, ABVP tried to bring in hooligans from outside and attacked students of JU outside the campus. ABVP West Bengal has also given a call of ‘Chalo Jadavpur’ on 9th May. DSU condemns such hooliganism in JU and other campuses with strongest words and stands in solidarity with the student community of JU. The students of JU will stand united against the Sanghi attack and thwart RSS plan to saffronize their campus.

DSU is already doing an intensive campaign against fascist attack on University and will take this issue to the students across Delhi. We call upon the students of the country to stand with JU and forge larger unity with the toiling masses, oppressed nationalities in their fight for freedom against Hindutva terrorists.

THE PEOPLE UNITED SHALL ALWAYS BE VICTORIOUS!

DSU

Advertisements

কুষ্টিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) সদস্য নিহত

13183095_10209499801957843_189688304_n

কুষ্টিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) সক্রিয় সদস্য নিহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) কামরুজ্জামান জানান, গত সোমবার রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের মিরপুর উপজেলার কালিগড়া সেতুর কাছে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসাদুল ইসলাম (৩৭) উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের মৃত এজাহার আলীর ছেলে।

আসাদুল পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) সক্রিয় সদস্য বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

এএসপি কামরুজ্জামান বলেন, “ ১০-১৫জন দুর্বৃত্তের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা কালিগড়া ব্রিজের কাছে অবস্থান নেয়।  এ সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

“প্রায় আধাঘণ্টা গোলাগুলির পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।  ঘটনাস্থল থেকে আসাদুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে মিরপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

ঘটনাস্থল থেকে দুটি শাটার গান, দেশি ধারালো অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

13153526_10209499800717812_243873145_n

সুত্রঃ http://www.dhakatribune.com/crime/2016/may/11/outlawed-party-man-killed-gunfight


সরকারি লুটেরা তেল ব্যবসা, ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম পুনবৃদ্ধির পাঁয়তারা, ব্যাংকের টাকা চুরি আর আঙুলের ছাপ রেজিস্ট্রেশন

black-money

সরকারী লুটেরা তেল ব্যবসা

যুদ্ধ, প্রতিযোগিতা, চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে কমতে বছর দেড়েক আগেই তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। ২০১৩ সালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার, ২০১৪ থেকে  দরপতন হয়ে ২০১৫-এ প্রায় ৫০ ডলারে নেমে এসে ২০১৬ জানুয়ারিতে তা দাঁড়ায় ২৭ ডলার, বর্তমানে প্রায় ৪০ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার প্রতি লিটার তেল প্রায় ২০ টাকায় কিনছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল সরকার বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনগুণ দামে তেল বিক্রী করে মুনাফা করছে। গত ১৬ মাসে তারা জনগণের কাছে তেল বিক্রী করে ৭০০০ কোটি টাকা লাভ করেছে।

দেশে জ্বালানী তেলের দৈনিক চাহিদাঃ পেট্রোল ৩০০ মেট্রিক টন, অকটেন ৩২০ মেট্রিক টন, ডিজেল ৯৫০০-১০,০০০ মেট্রিক টন আর কেরোসিন ৩৫০ মেট্রিক টন।

কয়েকদিন আগে তারা পেট্রল ১০ ফার্নেস অয়েল ১৮ ও অকটেনের দাম ১০ টাকা কমালেও শতকরা ৯০ ভাগ ব্যবহৃত হয় যে ডিজেল তার দাম কমিয়েছে মাত্র ৩ টাকা/লিটার। পেট্রল ও অকটেনের দাম ১০ টাকা কমানোয় লাভ হবে প্রাইভেট কার অলাদের যারা শোষক সম্প্রদায়ের। অন্যদিকে দরিদ্র জনগণের ব্যবহার্য কেরোসিনের দাম মাত্র ৩ টাকা কমানো হয়েছে। ডিজেলের দাম সামান্য কমানোয় বাসঅলা ও ট্রেনঅলারা দাম কমাবেনা বলেছে, সামান্য যে সাশ্রয় হবে তা তারাই আত্মসাত করে নেবে। অন্যদিকে কৃষকদেরকেও বছর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। যোগাযোগ খাতে সমগ্র তেলের প্রায় ৪৬%, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ২৫% আর কৃষিতে ব্যবহৃত হয় ১৭%। তেলের দামের হিসাবে বাসে ট্রেনে ভাড়া তিন গুণ নেয়া হচ্ছে, বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে তিন গুণ দামে আর কৃষকরা তিনগুণ দামে পানি কিনছেন।সরকারের ভয়ংকর লুটেরা চরিত্রের এটাই পরিচয়।

এর আগে দশবছরে তেলে সরকার যে ভর্তুকি দিয়েছে তাকে এখন ঋণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। জনগণ তাদের কাছে ঋণী?

জনগণ এই লুটেরাদের কাছে ঋণী না এই শোষক লুটেরারা যুগ যুগ ধরে শ্রম, ফসল, জমি, খনি, সম্পদ লুট করে কর খাজনা আদায় করে বহুবিধভাবে জনগণকে শোষণ করে আসছে। কে উৎপাদন করে? শ্রমিক কৃষক জনগণের উৎপাদনের ফলে এই সমাজের সব যন্ত্র চলে। মাথার উপর চেপে বসা রাষ্ট্রকাঠামো জনগনের টাকায়ই চলে। শোষক বুর্জোয়া ও সামন্তশ্রেণী জনগণের সৃষ্ট মূল্যের একটা অংশ শুষে নেয় যাকে বলে উদৃত্ত মূল্য। এছাড়াও বিভিন্নভাবে লুট করে নেয় আরো উদৃত্ত মূল্য। সরকারী যে লুটপাটের চিত্র দেখানো হল শোষণসমেত তাহল  অতিরিক্ত উদৃত্ত মূল্য শোষণ।

ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি

বলা বাহুল্য রেলকে জনসেবা হিসেবে দেখা হয়না।

ট্রেনে যাতায়ত বাসের চেয়ে হাজার গুণ নিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাশের সরকারগুলি সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণবাদী কোম্পানীগুলির স্বার্থে কয়েক যুগে হাজার হাজার বাস আমদানি করেছে, রেলের অবস্থা শোচনীয় করে তুলেছে। অথচ রেলে জ্বালানী খরচ অনেক কম। অনেক কম সময়ে অনেক কম খরচে পন্য পরিবহন করাও সম্ভব। এটা তারা হতে দিচ্ছেনা।

কমলাপুর রেল স্টেশনের ভেতরে কোন পাবলিক টয়লেট নেই। বগি কম, বাতিল ইঞ্জিন, লাইন বেহাল। সবকিছুই মান্ধাতার আমলের। ট্রেনের ভেতরে ভাঙাচোরা জীর্ন অবস্থা। মানুষ একজনের মাথার ওপর আরেকজন, ইঞ্জিনে, ছাদে, দুই বগির মাঝখানে ঝুলে চলাফেরা করে।

বাংলাদেশ রেলের ২০১২-১৩ অর্থ বছরের হিসেবে দেখানো হয় রেলের পরিচালন ব্যায়ের ১৯ শতাংশ জ্বালানি, ২৩ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও ৫৮ শতাংশ কর্মচারিদের বেতন খাতে ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুইটির অধিকাংশই দুর্নীতির মাধ্যমে লুন্ঠন করা হয়। অর্থাৎ রেলের পরিচালন ব্যায়ের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ লুন্ঠিত হয়। রেলের যে পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয় তার সমপরিমাণ টাকা তারা ট্রেনের ভেতর যাত্রিদের কাছ থেকে আদায় করে যেটা তারা বিক্রী হিসবে দেখায়না, এছাড়া টিকিটের মূল্যের বাড়তি টাকা তারা জনগণের কাছে আদায় করে (বিভিন্ন পর্বের সময় দুইগুণ আদায় করে) যা তারা রেলের আয় হিসেবে দেখায় না।

রেলের বিপুল পরিমাণ জমি সম্পত্তি রয়েছে (প্রায় ৬৩ হাজার একরের মত), এগুলো সরকারী বেসরকারী বুর্জোয়ারা বেদখল করে খায়। এর আয়ের খুব কমই রেলের আয় হিসেবে দেখানো হয়।

অবশেষে সরকার নিজে কয়েক বছর যাবত তিনগুণ দামে তেল বিক্রী করে রেলকে লুন্ঠন করেছে।

কেনাকাটা টেন্ডার লোকনিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি। লোক নিয়োগে ঘুষের ৭০ লাখ টাকা ২০১২ সালে হাতে নাতে ধরা পড়ে যা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের বাসায় যাচ্ছিল। ডেমু ট্রেন, ইঞ্জিন, বগি দ্বিগুণ বা অনেক বেশী দামে বিদেশ থেকে কেনা হয় যেখান থেকে সরকারী ও রেলের লোকেরা কোটি টাকা পারসেন্টেজ পায়, আর রেলের ক্ষতি হয় হাজার কোটি টাকা।

সুতরাং রেলের যে আয় ব্যয় দেখানো হয় তা ধোঁকাবাজি।

রেলের যেসব প্রজেক্টে সাম্রাজ্যবাদী দাতাসংস্থার বিনিয়োগ হয় তার শতকরা ষাট ভাগ ব্যয় হয় পরামর্শক নিয়োগে। এসব কোন প্রজেক্টই যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়না।

বাংলাদেশের রেলে রেলসড়ক উন্নয়ন খুব সামান্য বা নেই বললেই চলে। এই হল রেলের অবস্থা। এ হল লুন্ঠনের এক ক্ষেত্র। এদিকে পুনরায় রেলের ভাড়া প্রায় ৭% বাড়ানো হয়েছে। এতে জনগণের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেল। ২০১২ সালে রেলভাড়া দ্বিগুণ করা হয়েছিল। এডিবি তার ঋণের শর্তে সরকারকে প্রতি বছরের শুরুতে ভাড়া বাড়াতে বলে দিয়েছে। বলা বাহুল্য এর দ্বারা জনসাধারণের ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা

তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমে গেলে ফার্নেস অয়েলের দাম দীর্ঘকাল না কমিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল গত বছর। এবছর ফার্নেস অয়েলের দাম প্রতি লিটার ১৮ টাকা কমানো হলেও উলটো বিদ্যুতের দাম পুনরায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্যাসের দাম এর আগে দ্বিগুণ করা হয়েছে। পুনরায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় এর আগে বিদ্যুতের দাম আটবার আর গ্যাসের দাম তিনবার বাড়ানো হয়েছে। সরকার চাইছে বাসাবাড়ীতে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে বোতলজাত গ্যাস ব্যবহারে বাধ্য করতে যাতে ব্যবসায়ীরা বহুগুণ বেশী দামে জনসাধারণের কাছে বেঁচতে পারে। বর্তমানে ভয়ানক গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং যন্ত্রণা বাড়িয়ে তুলেছে।

ব্যাংকের টাকা চুরি

৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা চুরি হয়। আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি চক্র এ ঘটনা ঘটায় যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজস আছে বলেই সবার ধারণা।

ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক দেশের সমগ্র ব্যাংকিং খাতের ২৫% নিয়ন্ত্রণ করে।

সোনালী ব্যাংক ২০১০-১২ এর মধ্যে প্রায় ৪৩০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল যার মধ্যে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ভুয়া টেক্সটাইল কোম্পানী হলমার্ককে দিয়ে লোপাট করা হয়।

২০০৯-১২ এর মধ্য রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ৪৫০০ কোটি টাকা লোপাট করায়। যারা এসব টাকা লোপাট করেছে তারা সরকারী দলীয় হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া সালমান এফ রহমানের মত ঋণ খেলাপীরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়মিত আত্মসাত করে।

দুর্নীতির পাশাপাশি যাবতীয় কালো টাকাকে সাদা করার জন্য প্রতিক্রিয়াশীল সরকার প্রতি বছর সুযোগও দেয়।

আঙুলের ছাপ দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন

টেলিমন্ত্রী তারানা হালিম মন্ত্রী হওয়ার পর জাতীয় গণ হয়রানি সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি জনসাধারণের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ভয়ানক বিঘ্নিত করে তুলেছে। অপরাধীরা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে, অথচ এ অযুহাতে সাধারণ মানুষের উপর তারা ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করেছে। সরকারী বিটিআরসির যে অন্য বহুজাতিক ফোন কোম্পানীগুলির টাকা খেয়ে নিজস্ব মোবাইল সিম টেলিটককে ধ্বংস করে রেখেছে তা সবাই বিশ্বাস করে। সরকারী দুর্নীতির তারা একবিন্দুও কমানোর যোগ্যতা রাখেনা, অথচ এরাই জনসাধারণকে আইনের বেঁড়াজালে আটকাতে চাইছে। এসব সিম পুনরেজিস্ট্রেশন করতে ২০ টাকা করে নিয়ে জনগণের কাছ থেকে শত কোটি টাকা কামানোর ধান্দাও হয়েছে।জনগণের আঙুলের ছাপকে বহুবিধ অপরাধী কর্মকান্ডে ব্যবহার করে তারা উলটো জনগণের উপর কেস কাহিনী দিয়ে জেলজুলুম কোর্টকাচারী পুলিশী নির্যাতন ও কোটি কোটি টাকা ভয় দেখিয়ে আদায় করার জন্য যে এই নিয়ম চালু করেছে তা আর কারো অজানা নেই। কিন্তু মানুষ বাধ্য হয়েই পুনরেজিস্ট্রেশন করছে। তবে তারা প্রচন্ড ক্ষুব্ধ।

এসব ঘটনার তাৎপর্য

এইসব ঘটনার তাৎপর্য এই যে সরকার হচ্ছে ভয়ংকর গণশত্রু শোষক ও লুটেরা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি। এরা শুধুমাত্র একজন কৃষকের কাছ থেকে তেল খাতেই প্রতি মৌসুমে চার পাঁচ হাজার টাকা লুটে নিচ্ছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত ভারতীয় চাল আইনি বেআইনি পথে আসায় এখানে ধানের দাম পায়না কৃষক। এরা সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বাড়ালেও গার্মেন্ট শ্রমিক ও রিকশাঅলার আয় বাড়ায়নি। বরং বাজারে নিত্য পন্যের দাম বাড়ছেই।বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ গ্যাস যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে। মাঝারি শ্রেণিরও নাভিশ্বাস উঠেছে। শ্রমজীবি মানুষের কথাতো বলাই বাহুল্য। সকলেই জানে এই পরিস্থিতি কারা সৃষ্টি করেছে। ক্ষুব্ধ মানুষ এখানে ওখানে বিদ্রোহে ফেঁটে পড়ছেন-পড়বেন। কিন্তু আমাদেরকে এইসব বিদ্রোহকে সাম্যবাদের পথে চালিত করতে হবে।  কারণ সেটাই মুক্তির একমাত্র পথ।।

লেখকঃ হোসেন নীল

 

সূত্রঃ  http://sarbaharapath.com/?p=1752


ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় ভারতীয় আধা সেনার গুলিতে দু্ই মাওবাদী গেরিলা নিহত

maoist8

ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় ভারতীয় আধা সেনার গুলিতে দু্ই মাওবাদী গেরিলা নিহত হয়েছে৷ পুলিশ বলছে, বুধবার সকাল থেকেই গুলির লড়াই শুরু হয়েছিল পুলিশ ও মাওবাদীদের মধ্যে৷

নিহত দুই মাওবাদী সদস্যের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র ও মাওবাদী মতাদর্শের প্রচুর পুঁথি-পত্র পাওয়া গিয়েছে৷ এর আগে শনিবারও ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়ারা কাটেকল্যান অঞ্চলে আধা সেনার গুলিতে নিহত হয়েছিল আরও দুই মাওবাদী৷ প্রশাসনিক সূত্রে খবর যে, ছত্তিশগড়, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রের প্রায় ২০টি অঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপ বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে৷

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভুয়া এনকাউণ্টারের নামে মাওবাদী গেরিলাদের হত্যা করার অভিযোগ করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।


উড়িষ্যায় ৫,০০০ আদিবাসীর সমাবেশে পুলিশের নৃশংসতার বিরুদ্ধে মাওবাদীদের প্রতিশোধের সতর্কতা

Supplement

অনুদিতঃ

উড়িষ্যার মালকানগিরি জেলায় সাধারণ জনগণের উপর পুলিশের নৃশংসতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিপিআই(মাওবাদী) আয়োজিত একটি অপ্রকাশিত স্থানে অনুষ্ঠিত গোপন আলোচনায় প্রায় ৫,০০০ আদিবাসী জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সভায় নির্দোষ আদিবাসীদের ওপর পুলিশের নৃশংসতার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ক্যাম্পগুলির স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে, যদি নির্দোষ আদিবাসীদের উপর পুলিশের নৃশংসতার বন্ধ করা না হলে শক্তিশালী প্রতিশোধের সতর্কতা দিয়েছে মাওবাদীরা।

গোপন আলোচনায় বক্তারা জনগণের বেঁচে থাকার অধিকারের দাবি জানান এবং অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা মাওবাদী তকমা দিয়ে নিরীহ জনগণকে হত্যা করছে।  গোপন আলোচনা অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিপিআই (মাওবাদী) এর সম্পাদক বেনু দ্বারা সংগঠিত পানাস্পুত, আন্দারপল্লি, এবং জোদাআম্ব গ্রাম থেকে আগত প্রায় ৫,০০০ গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন বলে।স্থানীয় সূত্র জানায়।

সূত্রঃ http://odishasuntimes.com/2016/05/09/maoists-warn-retaliation-police-atrocities-odisha/


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা: অনলাইন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধক

bigstock-News-word-on-white-keyboard-27134378-750x400

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা: অনলাইন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধক

১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে সোভিয়েতভুক্ত ১৫টি প্রজাতন্ত্র আলাদা হয়ে যায়। কিছু দিনের মধ্যেই সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রভাবিত পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন হতে থাকে। পোল্যান্ডের লেস্ ওয়ালেসা’র নেতৃত্বাধীন সলিডারিটি এবং এ জাতীয় কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠন পৃথিবীর দেশে দেশে ক্ষমতাকেন্দ্রে রাজনৈতিক এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের এই পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্র ফেডারেশনের ১৫টি প্রজাতন্ত্র, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোসহ, পৃথিবীর সমগোত্রীয় অপরাপর রাষ্ট্রগুলোতে খোলাবাজার অর্থনীতির অনুপ্রবেশ ঘটে। মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় কম্পিউটার।   মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশনের মালিক বিল গেট্স অতিদ্রুত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তির আসনে অধিষ্ঠিত হন। প্রযুক্তির জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়ে মুনাফা লুটে নেওয়ার পুঁজিবাদী এই কৌশলী তৎপরতা বাংলাদেশসহ উপমহাদেশকেও প্লাবিত করে। দারিদ্র্য এবং অতি দারিদ্র্যের প্রান্তিক সীমায় অবস্থান করলেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ গতিতে কম্পিউটারের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারনেট, ইলেক্ট্রনিক মেইল, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড, ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং, ইলেক্ট্রনিক সার্ভিস, অনলাইন মিডিয়া, অনলাইন শপিং, ওয়েবসাইট ইত্যাদি শব্দের সাথে মানুষের পরিচিতি ঘটে এবং ক্রমশই এর পরিধি বিস্তৃত হতে থাকে।  এই প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাদী মাল্টি ন্যাশনাল ও ট্রান্স ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো সেলফোন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অপরাপর টার্গেট অঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও সাফল্যজনকভাবে তাদের বিপণনকৃত প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে যায় এবং ঘরে ঘরে একচেটিয়াভাবে মোবাইল ফোন বিক্রি করে, কয়েক লক্ষ কোটি টাকা এদেশ থেকে বিদেশে নিয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই মাল্টিপারপাস মোবাইল ফোনসেট এবং ছোট, বড় ও ক্ষুদ্রাকৃতির নানারূপের কম্পিউটার মানুষের হাতে হাতে প্রদর্শিত হতে থাকে। মানুষ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এমনি একটি ক্রমশ স্ফীত হতে থাকা পরিস্থিতিতে শাসক শ্রেণী এর উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই প্রয়োজনের তাগিদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০০৬ সালে পাস হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন। আইনটি ঐ বৎসরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্মতিপ্রাপ্ত হয়ে অবিলম্বে কার্যকর হয়। ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পরিচালিত যাবতীয় কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে প্রণীত এই আইনে ৯টি অধ্যায়ে মোট ৯০টি ধারা রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অষ্টম অধ্যায়ে ৫৪ থেকে ৮৪ ধারায় তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধ, অপরাধের দন্ড, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ৫৪ থেকে ৬৭ ধারায় অপরাধ ও দন্ড; দ্বিতীয় অংশে ৬৮ থেকে ৮১ ধারায় অপরাধ বিচারের পদ্ধতিগত দিক এবং তৃতীয় অংশে ৮২ থেকে ৮৪ ধারায় সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন ও এখতিয়ার ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে। অষ্টম অধ্যায়ের প্রথম অংশে যে অপরাধসমূহকে সংজ্ঞায়িত করে দন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে কম্পিউটার সিস্টেমের অনিষ্ট সাধন, সোর্স কোড পরিবর্তন, হ্যাকিং, মিথ্যা-অশ্লীল-মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, লাইসেন্স সমর্পণে ব্যর্থতা, নির্দেশ লংঘন, জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রকের নির্দেশ অমান্য, সংরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ, মিথ্যা প্রতিনিধিত্বসহ তথ্য গোপন, ভুয়া ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রকাশ, কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ এবং কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন উল্লেখযোগ্য। উদ্ধৃত অপরাধগুলোর মধ্যে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দন্ড আলোচিত ৫৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারাটি নিম্নরূপ-

“৫৭। ইলেকট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দন্ড।

(১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানী প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) কোন ব্যক্তি উপধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদন্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন।”

ইতোমধ্যে সরকার কর্তৃক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী যে নিবারণমূলক পদক্ষেপগুলো গৃহীত হয়েছে তা হতে অনলাইন সাংবাদিকতার ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। এরূপ প্রেক্ষাপটে, উক্ত ধারা সংশ্লিষ্ট মূল ও সংশোধিত বিধানাবলীর আইনী বিশ্লেষণে এটি প্রতীয়মান হয় যে:-

৫৭ ধারার আওতাভুক্ত অপরাধমূলক বিষয়সমূহকে অত্যন্ত শিথিলভাবে সংজ্ঞায়িত (loosely defined) করা হয়েছে। ফৌজদারি আইনের মৌলিক সূত্র পরিপন্থী এরূপ সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাস্তি প্রদান ক্ষমতার অপ্রয়োজনীয় ও বিপজ্জনক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

৫৭ ধারায় অনির্দিষ্ট/অস্পষ্ট শব্দগুচ্ছ (vague terms) – যেমন, “রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়”- ব্যবহারের মাধ্যমে ফৌজদারি আইনের “সুনির্দিষ্টতা নীতি” (Principle of Certainity)’র মত মৌলিক অপরিহার্যতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত যে কোন নির্দোষ বা ন্যায়সঙ্গত অনলাইন প্রকাশনা/সম্প্রচারকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের মর্জি মাফিক, শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারায় Prejudicial Report প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বৎসর কারাদন্ডের বিধান ছিল। কুখ্যাত ও ব্যাপকভাবে নিন্দিত এই ধারাটি দীর্ঘকাল যাবৎ গণমাধ্যমের জন্য একটি বিরাট হুমকি হিসেবে বিবেচিত হত। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের সরকার এই ধারাটি বিলোপের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকা প্রতিদিন তাদের অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করে। এরূপ বাস্তবতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা কার্যত সরকারের জন্য বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ১৬ ধারার ফৌজদারি ক্ষমতা, অধিকতর শাস্তির আশঙ্কাসহ প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারা বাতিল করেছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ০৩ নম্বর অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ১৬ ধারা কে পুনঃসংযোজন করেছেন। যদিও ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রথম এক মাস সময়সীমার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের যে সকল অধ্যাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছিল সেই তালিকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারা পুনঃসংযোজনের ০৩ নম্বর অধ্যাদেশটির সন্ধান পাওয়া যায় নি।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাস্তির মাত্রা নিরূপণের ক্ষেত্রে “সামঞ্জস্যতা নীতি”(Principle of Proportionality) অনুসৃত হয়নি। প্রচলিত অন্যান্য আইনে বিভিন্ন অপরাধের সাথে তুলনা করলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, ২০০৬ সালের আইনের ৫৭ ধারায় উল্লিখিত শাস্তির পরিমাণ দৃষ্টিকটুভাবে কঠোর (disproportionate)। শাস্তির মাত্রার ক্ষেত্রে এরূপ অসামঞ্জস্যতা চূড়ান্ত বিচারে ফৌজদারি আইনের নৈতিক ভিত্তি ও প্রায়োগিক কার্যকারিতাকে দুর্বল করে তোলে। ২০১৩ সালের সংশোধনী আইন সে আশঙ্কাকে আমাদের সামনে আরও প্রকটভাবে উপস্থাপন করেছে। কারণ ২০০৬ সালের আইনে ৫৭ ধারার শাস্তির মেয়াদ ছিল অনধিক দশ বৎসর। ২০১৩ সালে সংশোধনীর মাধ্যমে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ১৪ এবং অন্যূন ০৭ বৎসর করা হয়েছে। অর্থদন্ডের অংক শুরু থেকে মাত্রাতিরিক্তভাবে এক কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০১৩ সালের সংশোধনী আইন শিথিলভাবে এবং অনির্দিষ্ট/অস্পষ্ট শব্দগুচ্ছ দ্বারা সংজ্ঞায়িত ৫৭ ধারার আওতাভুক্ত বিবিধ অপরাধকে আমলযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য করার মাধ্যমে মূলত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও হয়রানির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ২০০৬ সালের আইনে ৫৭ ধারার অপরাধ আমল অযোগ্য ছিল। অর্থাৎ কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেফতারের ক্ষমতা পুলিশের ছিল না। কিন্তু ২০১৩ সালের সংশোধনীর মধ্য দিয়ে ৫৭ ধারার অপরাধকে আমলযোগ্য করায় পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া বর্তমানে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার অধিকার প্রাপ্ত হলো।

১৮৬০ সালের দন্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত মানহানি’র অপরাধ জামিনযোগ্য এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি ০২ বৎসরের কারাদন্ড। ২০১১ সালের পূর্বপর্যন্ত মানহানির অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করতে পারতেন। এরূপ বিধানের কারণে সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘকাল যাবৎ অনাকাঙ্খিত হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০১১ সালে জাতীয় সংসদ একটি সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানার পরিবর্তে সমন জারির বিধান করেছেন। স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর কারণে অর্থহীনতায় পর্যবসিত হয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত যে কোন পত্রিকার কোন রিপোর্টকে মানহানিকর বিবেচনায় সরকার ৫৭ ধারার প্রয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ অজামিনযোগ্য এবং এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাস্তি যথাক্রমে ১৪ ও ০৭ বৎসর কারাদন্ড। উপরন্তু, উক্ত অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করার পূর্বেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারবে।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং যথাক্রমে উক্ত আইনের ২০০৯ এবং ২০১৩ সালের দু’টি সংশোধনী আইনের আদ্যপান্ত বিশ্লেষণ করলে, বিশেষত আইনটির ৫৭ ধারার ভাষ্য ব্যাখ্যা করলে প্রতিয়মান হয় যে, এই ধারায় আরোপিত বিধি-নিষেধ, শাস্তির মেয়াদ ও পরিমাণ; বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও জামিনযোগ্যতা কর্তন করা ইত্যাদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আমাদের সংবিধানে দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে। মৌলিক অধিকার ভাগের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধানক্রমে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ঘোষণা করা হয়েছে। একই ভাগের ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই ভাগের বিধানাবলী তথা মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্য সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের প্রথম ভাগের ০৭ অনুচ্ছেদের ঘোষণা অনুযায়ীও সাংবিধানিক বিধির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কোন আইন বাংলাদেশে চলতে পারে না।

লেখকঃ এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম

 

সূত্রঃ 

13076745_715535491921699_3304914592563662269_n


বাংলাদেশে নারী অধিকার ও নারী নির্যাতন

download (1)

বাংলাদেশে নারী অধিকার ও নারী নির্যাতন

সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা প্রচার করছে বাংলাদেশে নারী অধিকার ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি ঘটেছে। নারীরা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। পার্লামেন্টে নারী আসন বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে সকল ক্ষেত্রে নারীরা আরও বেশি ক্ষমতা ভোগ করবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। বলা হচ্ছে আগামীতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। আর তা হলেই না কি বাংলাদেশর নারী জাতির আরও ক্ষমতায়ন হবে। বাংলাদেশে শাসক-শোষক শ্রেণীর যে অংশই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারাই তাদের নারী উন্নয়নের বিভিন্ন ফিরিস্তি তুলে ধরে। এদেশে নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যে সকল বক্তব্য শাসক-শোষক শ্রেণী দিয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী, সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী একজন নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ একজন নারী, একাধিক মন্ত্রী রয়েছেন যারা নারী; বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও একজন নারী, যিনি গত তিন মেয়াদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও এর বাইরে বাংলাদেশের নারী সমাজে হাসিনা বা খালেদাদের কোন অভাব নেই। এরা নারী হলেও কেউই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা এই নারীরা কেমন আছেন বা কীভাবে তাদের জীবন অতিবাহিত করছেন তার খবর কী শাসক-শোষক শ্রেণীর কেউ রাখেন।

আমাদের গ্রামের প্রতিবেশী জনৈক হাসনা বানু। রিক্সা চালক বাবার সন্তান। লেখাপড়ায় মেধাবী হলেও বেশি দিন লেখাপড়া চালাতে পারেননি। অভাবের সংসারে লেখাপড়ার খরচ চালানোই দায়। তার উপর প্রতিবেশী লম্পটদের কুদৃষ্টি। তাই বাধ্য হয়েই মেয়েকে পাত্রস্ত করার উদ্যোগ নেন রিক্সা চালক বাবা। গ্রামের মসজিদের ধর্মপ্রাণ ইমাম সাহেবকে পাত্র হিসাবে পছন্দ হয়। ইমাম সাহেবের হাসনা বানুকে পছন্দ। তাই আর দেরি নয়। কিন্তু শুভ কাজ হলে কী হবে! তা সমস্যার সমাধান না হয়ে সমস্যাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ইমাম সাহেব বলাৎকারে অভ্যস্ত। ছোটবেলা মাদ্রাসায় পড়াকালে তার ওস্তাদের শিক্ষাতে তিনি এই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়েছেন বলে হাসনা বানুকে অবগত করেন। কিন্তু হাসনা বানু তাতে রাজি না হওয়ায় গোল বাধে। তার ওপর শুরু হয় যৌতুকের দাবিতে হুজুরের নির্মম নির্যাতন। এই দ্বিবিধ নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে হাসনা বানু স্বামীর সংসার ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পিত্রালয়ে ফিরে গিয়েও শেষ রক্ষা নেই। ততদিন পিতা পরলোক গমন করেছেন। আবার প্রতিবেশী মাতব্বর, মোল্লা মাওলানাদের ফতোয়াবাজি তো রয়েছেই। সেই সাথে রয়েছে আশেপাশের লম্পটদের পীড়ন। নিজেকে রক্ষায় গার্মেন্টস শ্রমিকের চাকরি নিয়ে ঢাকায় আসা। এক দুর্ঘটনায় সারা জীবনের মতো পঙ্গু হয়ে এখন ঢাকার ফুটপাতে ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন।

আমাদের পাশের গ্রামের খালেদা খাতুন। বাবা হামিদ আলী নির্মাণ শ্রমিক। দিনমজুরি করে কোন রকমে সংসার চলে। তার ওপর সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই মুশকিল। প্রবাসে অবস্থানকারী বিভিন্ন ব্যক্তির আয় উন্নতি দেখে হামিদ আলী সিদ্ধান্ত নিলেন তিনিও বিদেশ গিয়ে ভাল উপার্জন করে সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনবেন। শেষ সম্বল পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ভিটে মাটি বিক্রি করে দালালকে বিদেশ যাওয়ার টাকা দিলেন। কিন্তু বিদেশ যাওয়া আর হয়ে উঠলো না। দালাল হামিদ আলী টাকা হজম করে দিল কিন্তু বিদেশে পাঠালো না। কর্মরত অবস্থায় হামিদ আলী একদিন নির্মাণাধীন ভবনের চার তলা থেকে পড়ে মারা গেলেন। এই অবস্থায় খালেদা খাতুন লেখাপড়ায় মেধার পরিচয় রাখলেও লেখাপড়া চালানো আর হয়ে ওঠে না। খালেদা খাতুন কাজের সন্ধানে ঢাকাতে ছোটে। সেখানে পরিচয় এক সুদর্শন যুবকের সাথে। সে নাকি ধন সম্পদের মালিক। একদিন পারিবারিক উদ্যোগে তাদের বিয়ে হয়ে যায়। কিছু দিন ওই যুবকের বৌ নিয়ে শ্বশুর বাড়ি আসা যাওয়া চলে। তারপর দেশে ওই যুবকের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলে স্বামী স্ত্রী দু’জনে মিলে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনার কথা ওই যুবক শ্বশুর বাড়িতে প্রকাশ করে। তারপর দু’জনেই নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় বছর আর কোন খোঁজ খবর মেলে না। ছয় বছর পরে খালেদা খাতুন একদিন গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। জানা যায় খালেদা খাতুনকে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে ওই যুবক ভারতের বোম্বে নগরীতে নিয়ে নারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। তারপর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পুলিশের সহযোগিতায় ওই নরক পল্লী থেকে খালেদা খাতুনকে উদ্ধার করে দুই দেশের মধ্যে আইনগত জটিলতার মোকাবেলা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়। তবে ততদিনে খালেদা খাতুনের শরীরে মরণ ব্যাধী এইডস এসে বাসা বেধেছে। প্রতিবেশীদের নানা নিপীড়ন নির্যাতন সহ্য করে বছর না ঘুরতেই কয়েকদিনের জ্বরে খালেদা খাতুন দেহত্যাগ করেন।

এইসব হাসনা বানু বা খালেদা খাতুনের সংখ্যা বাংলাদেশে একজন দুই জন নয় অসংখ্যা। আমাদের আশেপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের ভূমিহীন কৃষক, গরিব কৃষক পরিবারে বা শহরের বস্তিতে যে সময় নারী শিশুরা বসবাস করছেন তাদের অবস্থা এর থেকে ভিন্ন নয়। আমাদের প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা এই সব পরিবারের নারীদের জীবনে কি সুখ স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিতে পেরেছে তার হিসাব অবশ্য শাসক-শোষক শ্রেণী দিতে পারেন না। এই সব অসহায় পরিবারের নারীদের ক্ষমতায়নে রাষ্ট্র কি ভূমিকা রেখেছে, শাসক-শোষক শ্রেণী তার কোন হিসাবও দেয় না। আসলে শাসক-শোষক শ্রেণী নারী বলতে তাদের শ্রেণীর বা তাদের সমাজের নারীদের বুঝে থাকে। তাই এদের শ্রেণীর বাইরে কাউকে হিসাব করে না বা তাদের জীবন নিয়েও ভাবে না। তাই নারী বলতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেত্রী ইত্যাদি ইত্যাদির কথা বলে থাকে। আবার শাসক-শোষক শ্রেণী তাদের সমাজের ক’জনকে বা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি বানাতে পারে! তাদের সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীকেও তো অবমাননাকর ঘরোয়া দাসত্বের শৃঙ্খলে বেঁধে রাখা হয়। সমাজের আর দশটা পণ্যের মতো শাসক-শোষক শ্রেণীর দৃষ্টিতে নারীও একটা পণ্য মাত্র এবং যার ভোগ করার একচ্ছত্র অধিকার অর্পিত রয়েছে পুরুষের ওপর। কথিত নারীর ক্ষমতায়ন এদেশের এলিট শ্রেণীর নারীদেরকেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারেনি।

এদেশে শ্রমজীবী নারীদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। শ্রমজীবী নারীরা একদিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শোষণের শিকার, অপর দিকে পুঁজির শোষণের শিকার। এই দ্বিবিধ পীড়নে পীড়িত হয়ে সমাজের সবথেকে দুর্বলতর শ্রেণী থেকে আগত শ্রমজীবী নারীরা দুঃসহ যন্ত্রণাদায়ক অবস্থার মধ্যে জীবন কাটিয়ে থাকে। বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ শ্রম সেক্টর হলো তৈরি পোশাক শিল্প। এই তৈরি পোশাক শিল্পে ৪০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে থাকেন, যাদের মধ্যে শতকরা আশি ভাগই নারী শ্রমিক। বাংলাদেশে যেসব সেক্টরে নারী শ্রমিকরা কাজ করে থাকেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলো হোটেল শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, চা ও রাবার শ্রমিক, বারকি শ্রমিক, অন্যের বাসা বাড়িতে গৃহকর্ম করা শ্রমিক ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সমস্ত সেক্টরে কর্মক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের সমান মজুরি পায় না। কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মালিক নারী শ্রমিকদের নামমাত্র মজুরি দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়। নারী শ্রমিকদের নেই সম অধিকার, সম মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা। যে সব নারী সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে পুরুষের পাশাপাশি সমান দক্ষতার সাথে কাজ করে থাকেন কর্মস্থলে তাদেরও সম অধিকার সম মর্যাদা দেওয়া হয় না। দেশের শাসক-শোষক শ্রেণী এই সব ক্ষেত্রে কর্মরত নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো তাদের একটি কালচারে পরিণত করেছে। এটা শুধু আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রেই নয়, অগ্রসর পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতেও নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো বুর্জোয়া সমাজের একটি কালচার।

আমাদের দেশে পশ্চাৎপদ সামন্ত সংস্কৃতি চালু থাকার কারণে এই সংস্কৃতির ধারক বাহকরা এটাকে নারী নিপীড়নের একটি যুৎসই হাতিয়ার হিসাবে ধর্মকে ব্যবহার করে চলেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানগুলোতে মোল্লা মৌলভী সাধু সন্তরা সুযোগ পেলেই নারীদের উপর একহাত নিয়ে ছাড়ে এবং নারীদের কীভাবে অবমাননা করতে হয় সমাজের কোমলমতি শিশুদের সেই শিক্ষা দিয়ে চলেছে। নারীরা সমাজে পুরুষের দাস, পুরুষের অধীন, পুরুষের সেবক ইত্যাদি ইত্যাদি সহ নানা কুরুচিপূর্ণ শিক্ষা দিয়ে এরা অবুঝ শিশুদের শিক্ষিত করে তুলছে। এই সমস্ত ধর্মীয় মোল্লা মৌলভী পান্ডা পুরুতরা সমাজে নারীদের কীভাবে অমর্যাদা করা যায় কথা বলার সুযোগ পেলেই তার জন্য সব প্রচেষ্টাই করে থাকে। এরা সমাজের নারীদের পুরুষের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়ে ধর্মের নামে নারীর ওপর দমন পীড়ন চালানোর সকল শিক্ষায় সমাজকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করে থাকে। এরপর বাংলাদেশে নানা এনজিও তৎপরতাও চালু রয়েছে। এরা নারী মুক্তির নামে নারীবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে থাকে। এরা পুরুষকে নারীর প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করিয়ে নারীদের পুরুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার শিক্ষায় তালিম দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। এরা নারী পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান অবৈরী দ্বন্দ্বকে প্রাধান্যে আনার চেষ্টা করে নারীর ওপর চেপে বসা শোষণ নিপীড়নের জন্য দায়ী যে প্রচলিত শ্রেণী বিভক্ত সমাজ ব্যবস্থা ও এই ব্যবস্থার অবসান ছাড়া নারী জাতির মুক্তি নেই- এই সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করে থাকে।

পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদ মানব জাতির শোষণ মুক্তির আন্দোলন ও নারী মুক্তি আন্দোলনকে এক অভিন্ন আন্দোলনে পরিণত করেছে। শ্রেণী বিভক্ত সমাজে মানুষের উপর মানুষের শোষণের উদ্ভব ঘটে। যে দিন থেকে সমাজে শোষণের উদ্ভব ঘটেছে, মানব জাতির একাংশ অপরাংশের ওপর শোষণের বোঝা চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে সেদিন থেকেই নারী জাতির ওপর শোষণের সূচনা হয়েছে। শাসক-শোষক শ্রেণী এই সত্যকে অস্বীকার করতে চায়। তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নারীর ওপর পুরুষের শোষণ হচ্ছে শাশ্বত বা ঈশ্বরের বিধান; মানব জাতির সৃষ্টির পর থেকেই এই শোষণ চলে আসছে। শ্রেণী বিভক্ত সমাজে যুগে যুগে শোষিত নারী জাতিকে এই মতবাদে আস্থাশীল করে নারী জাতির ওপর তাদের শোষণ নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সৃষ্টি করেছে এই মতবাদের উপযোগী দর্শন, ধর্ম ইত্যাদি ইত্যাদি। শাসক-শোষক শ্রেণী যেমন প্রচার করে শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থা ও সমাজে শ্রেণী পার্থক্য ঈশ্বরের সৃষ্টি বা শাশ্বত বিধান তেমনি নারী জাতির ওপর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শোষণ নিপীড়ন অব্যাহত রাখাও ঈশ্বরের বিধান বা শাশ্বত নিয়ম। তাদের মতে সমাজের সকলের উচিত এই বিধানকে মেনে চলা।

এই প্রচলিত শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থাও যেমন শাশ্বত নয় বা ঈশ্বরের সৃষ্ট নয়; তেমনি নারী জাতির ওপর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শোষণ নিপীড়নও শাশ্বত নয়। সমাজের বিবর্তনের ধারাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও পুরুষ কর্তৃক নারী শোষণ ও নিপীড়ন। মানব জাতি অনেক বিবর্তনের প্রক্রিয়ায় বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। আদিম সাম্য সমাজ, দাস সমাজ, সামন্ততন্ত্র [ভূমিদাস প্রথা, জমিদারি প্রথা], পুঁজিবাদ, সমাজতান্ত্রিক সমাজ- বিবর্তনের ধারায় মানব জাতির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে। আদিম সাম্য সমাজে শ্রেণী ছিল না, তাই শ্রেণী পার্থক্য ও শ্রেণী বিরোধ ছিল না। এই সমাজে নারীর ওপর শোষণও ছিল না। এটাই হলো দ্বান্দ্বিক ঐতিহাসিক বস্তুবাদের শিক্ষা।

সমাজ বিবর্তনের ধারাতে-ই যে শ্রেণীর উদ্ভব ও শ্রেণী শোষণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এই সম্পর্কে মহামনীষী এঙ্গেলস বলেছেন, “বস্তুবাদী ধারণা অনুযায়ী শেষ বিচারে ইতিহাসে নির্ধারক করণিকা হচ্ছে প্রত্যক্ষ জীবনের উৎপাদন ও পুনরুৎপাদন। কিন্তু ব্যাপারটির দ্বিবিধ প্রকৃতি। একদিকে জীবনযাত্রার উপকরণ- খাদ্য, পরিধেয়, আশ্রয় এবং সেইজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির উৎপাদন; অপরদিকে মানবজাতির জৈবিক উৎপাদন, বংশবৃদ্ধি। একটি বিশেষ ঐতিহাসিক যুগে একটি বিশেষ দেশে মানুষ যে সমস্ত সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাস করে, সেগুলি এই দ্বিবিধ উৎপাদনের দ্বারা নির্ধারিত হয়। একদিকে শ্রমের বিকাশের; অপরদিকে পরিবারের বিকাশের স্তর দিয়ে। শ্রমের বিকাশ যত কম হয় এবং উৎপন্নের পরিমাণ এবং সেইহেতু সমাজের সম্পদ যত সীমাবদ্ধ হয়, তত বেশি সমাজ ব্যবস্থা কৌলিক সম্পর্ক দিয়ে পরিচালিত মনে হয়। কিন্তু কৌলিক বন্ধনের ভিত্তিতে গঠিত এই সমাজ কাঠামোর মধ্যে শ্রমের উৎপাদিকা শক্তি বাড়তে থাকে; সঙ্গে সঙ্গে বিকাশ পায় ব্যক্তিগত মালিকানা ও বিনিময়, ধনের অসাম্য, অপরদিকে শ্রমশক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং তার ফলে শ্রেণী বিরোধের ভিত্তি: …….” [পরিবার ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উদ্ভব- এঙ্গেলসের ভূমিকা থেকে]।

শ্রেণী বিভক্ত সমাজেই পুরুষের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রেণীহীন মাতৃতান্ত্রিক সমাজে সন্তানসন্ততি মায়ের নামেই পরিচিত হতো, কিন্তু শ্রেণী বিভক্ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে সম্পত্তির ওপর পুরুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়; সন্তানসন্ততি পিতৃপরিচয়ে পরিচিত হতে শুরু করে। এবং সেই অনুসারে গড়ে ওঠে উত্তরাধিকার আইন। সম্পত্তি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী জাতি সম্পত্তির ওপর থেকে উত্তরাধিকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলো; পুরুষের ওপর সম্পত্তির একচেটিয়া মালিক হওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো। এঙ্গেলস এ সম্পর্কে বলেছেন, “যেমন সম্পদ বাড়তে থাকলো তাতে একদিকে পরিবারের মধ্যে স্ত্রীলোকের চেয়ে পুরুষের প্রতিষ্ঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে থাকলো এবং অপরদিকে তার নিজের শক্তিশালী সামাজিক অবস্থার জোরে নিজের সন্তানসন্ততির স্বপক্ষে প্রচলিত উত্তরাধিকার প্রথা রূপান্তরের প্রেরণা দিল। কিন্তু মাতৃ অধিকার অনুযায়ী বংশধারা থাকাতে এটি অসম্ভব ছিল। সেই জন্য এই প্রথা ভাঙ্গার প্রয়োজন ছিল এবং তা ভাঙ্গা হলো। এবং এই কাজটি আজ যেমন তেমন কিছু শক্ত ছিল না। কারণ এই বিপ্লব যদিও মানব সমাজের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে একটি সবচেয়ে নির্ধারক বিপ্লব, তবু এতে গোত্রের কোন জীবিত সদস্যের কোন অবস্থান্তর ঘটাবার কোন প্রয়োজন হয়নি। আগেকার মতোই সকলে যেখানে ছিল, সেখানেই রইল। এই সহজ সিদ্ধান্তটুকু যথেষ্ট যে পুরুষের সন্তানসন্ততিরা তার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু নারীর সন্তানসন্ততিরা গোত্র থেকে বাদ পড়বে এবং তারা তাদের বাপেদের গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হবে। এইভাবে মায়েদের দিক থেকে বংশপরস্পরার হিসাব এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারের উচ্ছেদ হলো এবং তার জায়গায় বাপের দিক থেকে বংশপরস্পরা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।” [এঙ্গেলস- পরিবার ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উদ্ভব]।

শ্রেণী বিভক্ত সমাজের উদ্ভব ও সম্পত্তি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীর অধিকারহারা হওয়ায় নারী জাতির ওপর চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শোষণ। এ সম্পর্কে এঙ্গেলস বলেছেন, “মাতৃ অধিকারের উচ্ছেদ হচ্ছে স্ত্রীজাতির এক বিশ্ব ঐতিহাসিক পরাজয়। পুরুষ গৃহস্থালীর কর্তৃত্বও দখল করলো, স্ত্রীলোক হলো পদানত, শৃঙ্খলিত, পুরুষের লালসার দাসী, সন্তানসৃষ্টির যন্ত্র মাত্র। স্ত্রীলোকের এই অবনত অবস্থা যা বিশেষভাবে বীরযুগের এবং ততোধিক চিরায়ত যুগের গ্রিকদের মধ্যে পরিস্পুট হয়েছিল, তাকেই আস্তে আস্তে পালিশ করে এবং কিছুটা রূপান্তর মোলায়েম করা হয়েছে, কিন্তু মোটেও লুপ্ত হয়নি। পুরুষদের এই যে একচ্ছত্র শাসন এখন প্রতিষ্ঠিত হলো তার প্রধান ফল হলো পিতৃপ্রধান পরিবারের তখন উদীয়মান একটি মধ্যবর্তী রূপ। এই ধরনের পরিবারের মূল বৈশিষ্ট্য বহুপত্নী প্রথা নয়, পরন্তু স্বাধীন ও পরাধীন কিছু সংখ্যক ব্যক্তিদের পরিবার কর্তার পিতৃক্ষমতাধীনস্থ এক পরিবারে সংগঠন।” [এঙ্গেলস- পরিবার ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উদ্ভব]।

শ্রেণী বিভক্ত সমাজেই যে সকল রকম শোষণ-নিপীড়ন ও দাসত্বের উদ্ভব ঘটিয়েছে- এটাই হলো প্রতিষ্ঠিত সত্য। এ সম্পর্কে মহামনীষী মার্কস বলেন, “আধুনিক পরিবারের মধ্যে ভ্রুণ অবস্থায় শুধু দাসত্ব নয়, পরন্তু ভূমিদাসত্বও আছে, কারণ গোড়া থেকেই এটির সঙ্গে কৃষি বেগারের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তি যুগে সমাজ ও তার রাষ্ট্রের মধ্যে ব্যাপকভাবে যত রকমের বিরোধ দেখা দিয়েছে তার সবই ছোট আকারে এর মধ্যে আছে।”

বাংলাদেশ একটি নয়া ঔপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের দালাল দেশের শাসক-শোষক শ্রেণী ও তাদের সেবাদাস কথিত বুদ্ধিজীবীরা (!) দেশের শোষিত নারীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে প্রচার করে থাকে পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে নারীর অধিকার ও নারীর স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মার্কস ঊনবিংশ শতাব্দীতেই পুঁজিবাদী সমাজে নারীর দুর্দশা তুলে ধরেছেন। মার্কস ও এঙ্গেলস তাদের বিখ্যাত কমিউনিস্ট ইস্তেহারে বর্ণনা করেছেন যে, “বুর্জোয়ারা তাদের স্ত্রীদের শুধুমাত্র সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসাবেই দেখে। তাই তারা যখন শোনে যে, উৎপাদনের যন্ত্রগুলি সব সামাজিক সম্পদে পরিণত হবে, তখন তার এছাড়া আর কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে না যে নারীরাও সর্বসাধারণের ভোগ্য হিসাবে ব্যবহৃত হবে। তারা ভাবতেই পারে না যে আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য নারীদের শুধু সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসাবে থাকার হীন অবস্থার অবসান ঘটানো।

তাছাড়া বুর্জোয়ারা যে খুব একটা নৈতিকতার ভড়ং দেখিয়ে ক্রোধে ফেঁটে পড়ে বলে যে, কমিউনিস্টরাই খোলাখুলিভাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নারীদের সাধারণের ভোগ্য সম্পত্তিতে পরিণত করবে তার থেকে হাস্যকর আর কিছু নেই, নারীদের সাধারণের ভোগ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য কমিউনিস্টদের প্রয়োজন নেই- স্মরণাতীত কাল থেকেই সমাজে তা চলে আসছে।
আমাদের বুর্জোয়ারা সাধারণ পতিতালয়ে যায়, তাছাড়া অধীনস্থ সর্বহারাদের স্ত্রী কন্যাদের সঙ্গে যৌন সংসর্গ ভোগ করে। তাতেও তাদের হয় না। তারা আবার পরস্পরের স্ত্রীদেরও ফুঁসলে এনেই চরম সুখ উপভোগ করে।

বুর্জোয়া বিবাহ প্রকৃত পক্ষে নারীদের সাধারণ পত্নী হিসাবে রেখে সবাই মিলে ভোগ করার ব্যবস্থা। সুতরাং কমিউনিস্টদের ওপর দোষারোপ করে যে বলা হয়েছে তারা নাকি নারীদের সাধারণের ভোগ্যয় পরিণত করতে চায়, সে কথা যদি ধরেও নেওয়া যায় তাহলেও তো বলতে হবে যে, বুর্জোয়াদের ভন্ডামির গোপন ব্যবস্থাটাকেই তো তারা বড়জোর প্রকাশ্য আইনসঙ্গতভাবে তুলে ধরবে মাত্র। এসব কথা বাদে এটাতো স্বতঃসিদ্ধ যে বর্তমান উৎপাদন ব্যবস্থার অবসানের সঙ্গে সঙ্গে সেই উৎপাদন ব্যবস্থা থেকেই উদ্ভুত নারীদের সাধারণের ভোগ্য হিসাবে প্রথারও বিলোপ হবে- প্রকাশ্য ও গোপন বেশ্যাবৃত্তির অবসান হবে।” [মার্কস-এঙ্গেলস; কমিউনিস্ট ইস্তেহার]।

কমিউনিস্ট ইস্তেহারে আরও বলা হয়েছে, “বর্তমান পরিবার, বুর্জোয়া পরিবার কিসের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে? পুঁজির ভিত্তির ওপর। ব্যক্তিগত মুনাফার ভিত্তির ওপর।” [ঐ]
নারী জাতি যেদিন থেকেই সামাজিক উৎপাদনে অংশগ্রহণের অধিকার হারিয়েছে সেদিন থেকেই তার ওপর নানাবিধ শোষণ নিপীড়নের বোঝা চেপে বসেছে। এই প্রসঙ্গে মহামতি লেনিন বলেন, “নারীরা যতক্ষণ ঘরকন্নার কাজ করে আটকে থাকে ততক্ষণ তারা বাঁধাবাঁধির মধ্যেই থেকে যায়। নারীদের সম্পূর্ণ মুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য চাই সামাজিক-অর্থনীতি ও সাধারণ উৎপাদনে তাদের অংশগ্রহণ করা। তখনই নারীরা সমাজে পুরুষের সমান স্থান পাবে।

তার মানে অবশ্য এই নয় যে, উৎপাদনী শক্তি, পরিশ্রমের মাত্রা, পরিমাণ, সময়, খাটুনির অবস্থা প্রভৃতি হুবহু পুরুষের মতোই হতে হবে। কিন্তু এক কথা ঠিক যে পুরুষের তুলনায় নারীরা কখনই অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছনে থাকবে না। আপনারা জানেন যে, ঘরকন্নার কাজের বোঝা মেয়েদের ওপর চাপানো হয় বলে সম্পূর্ণ সমান অধিকার পেয়েও তাদের অধীন হয়েই থাকতে হয়। এইসব ঘরকন্নার কাজের মধ্যে বেশিরভাগই তাদের কোন কাজেই লাগে না, অত্যন্ত অসভ্য রকমের ও কষ্টকর। আর নারীদেরই এগুলি করতে হয়। এই খাটুনি অত্যন্ত নিকৃষ্ট আর এর মধ্যে এমন কিছু নেই যা নারীদের উন্নতির পথে একটুও সাহায্য করে।” [লেনিন- সোভিয়েত রিপাবলিকে শ্রমজীবী নারীদের কাজ]।

ধনতান্ত্রিক সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোন সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। এমনকি সবচেয়ে অগ্রসর বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও নারী ও পুরুষের মধ্যে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বুর্জোয়া সমাজে নারী দ্বিবিধ পীড়নে পীড়িত- শ্রমজীবী নারীদের ওপর পুঁজির শোষণ তো আছেই, তারপরও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ঘরোয়া দাসত্বের শৃঙ্খল নারী জাতিকে শৃঙ্খলিত করে রেখেছে। ধনতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে মহামতি লেনিন বলেন যে, “সেখানে শ্রমজীবী ও কৃষক নারীদের ওপর মূলধনের অত্যাচার তো আছেই। তার ওপর এমন কি সবচেয়ে গণতান্ত্রিক বুর্জোয়া রিপাবলিকেও প্রথমত তাদের ছোট করে রাখা হয়, কারণ আইনগতভাবে তাদের পুরুষের সমান অধিকার দেওয়া হয় না, এবং দ্বিতীয়ত সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এই যে, তাদের পারিবারিক দাসত্বে বেধে রাখা হয়। সেখানে তারা পারিবারিক দাসী। সেখানে সাধারণত আলাদা আলাদা পারিবারিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে তুচ্ছ হেয় কঠিন ও বুদ্ধিনাশা রান্নাঘরের কাজ তাদের পেষণ করে।” [লেনিন- আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবস ১৯২১ এ উপলক্ষে পাঠানো বার্তা]।

গোটা মানব সমাজের অর্ধেকই নারী। তাই নারীকে বাদ দিয়ে মানব জাতি তার শোষণ মুক্তির সংগ্রামে বিজয় অর্জন করতে পারে না। আদিম সাম্য সমাজের অবসান ঘটিয়ে যে দিন থেকে শ্রেণী বিভক্ত সমাজের উদ্ভব ঘটেছে, উৎপাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নারীরা সামাজিক উৎপাদনে অংশ গ্রহণের অধিকার হারিয়েছে, সেদিন থেকে নারী হয়েছে পুরুষের অনুগত দাস; সেদিন থেকেই নারীর ওপর চেপে বসেছে সকল প্রকার শোষণ নিপীড়ন। এই শ্রেণী বিভক্ত সমাজের যত বিবর্তন ঘটেছে নারীর ওপর চেপে বসা শোষণ নিপীড়নের মাত্রা হ্রাস না পেয়ে ক্রমেই তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই শ্রেণী বিভক্ত সমাজের বিলোপ উৎপাদনের উপকরণের ওপর সামাজিক মালিকানা, সামাজিক উৎপাদনে নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া নারী মুক্তি আসতে পারে না। শাসক-শোষক শ্রেণী নারী মন্ত্রীর সংখ্যা যতই বৃদ্ধি করুক, প্রচলিত শোষণমূলক সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের নামে যা-ই করুক তা দিয়ে নারী সমাজের প্রকৃত ক্ষমতায়ন হবে না। শাসক-শোষক শ্রেণীর প্রচেষ্টা দিয়ে নারীর ওপর চেপে বসা শোষণ নিপীড়নের অবসান ঘটবে না; সমাজে নারীর মর্যাদা ও প্রকৃত সমান অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে না। শোষক-শাসক শ্রেণীর সকল প্রচেষ্টার মূলে রয়েছে প্রচলিত শোষণমূলক সমাজ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং প্রকৃত নারী মুক্তির আন্দোলনকে বিভ্রান্ত বিপথগামী করা। নারীর ওপর চলে আসা সকল শোষণ নিপীড়নের অবসানের জন্য শোষিত নারী জাতির মুক্তি আন্দোলনকে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত করতে হবে।

লেখকঃ রোকন উদ্দিন ফকির

 

সূত্রঃ

13076745_715535491921699_3304914592563662269_n