তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা: অনলাইন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধক

bigstock-News-word-on-white-keyboard-27134378-750x400

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা: অনলাইন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধক

১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে সোভিয়েতভুক্ত ১৫টি প্রজাতন্ত্র আলাদা হয়ে যায়। কিছু দিনের মধ্যেই সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রভাবিত পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন হতে থাকে। পোল্যান্ডের লেস্ ওয়ালেসা’র নেতৃত্বাধীন সলিডারিটি এবং এ জাতীয় কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠন পৃথিবীর দেশে দেশে ক্ষমতাকেন্দ্রে রাজনৈতিক এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের এই পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্র ফেডারেশনের ১৫টি প্রজাতন্ত্র, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোসহ, পৃথিবীর সমগোত্রীয় অপরাপর রাষ্ট্রগুলোতে খোলাবাজার অর্থনীতির অনুপ্রবেশ ঘটে। মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় কম্পিউটার।   মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশনের মালিক বিল গেট্স অতিদ্রুত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তির আসনে অধিষ্ঠিত হন। প্রযুক্তির জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়ে মুনাফা লুটে নেওয়ার পুঁজিবাদী এই কৌশলী তৎপরতা বাংলাদেশসহ উপমহাদেশকেও প্লাবিত করে। দারিদ্র্য এবং অতি দারিদ্র্যের প্রান্তিক সীমায় অবস্থান করলেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ গতিতে কম্পিউটারের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারনেট, ইলেক্ট্রনিক মেইল, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড, ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং, ইলেক্ট্রনিক সার্ভিস, অনলাইন মিডিয়া, অনলাইন শপিং, ওয়েবসাইট ইত্যাদি শব্দের সাথে মানুষের পরিচিতি ঘটে এবং ক্রমশই এর পরিধি বিস্তৃত হতে থাকে।  এই প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাদী মাল্টি ন্যাশনাল ও ট্রান্স ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো সেলফোন নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অপরাপর টার্গেট অঞ্চলের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও সাফল্যজনকভাবে তাদের বিপণনকৃত প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে যায় এবং ঘরে ঘরে একচেটিয়াভাবে মোবাইল ফোন বিক্রি করে, কয়েক লক্ষ কোটি টাকা এদেশ থেকে বিদেশে নিয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই মাল্টিপারপাস মোবাইল ফোনসেট এবং ছোট, বড় ও ক্ষুদ্রাকৃতির নানারূপের কম্পিউটার মানুষের হাতে হাতে প্রদর্শিত হতে থাকে। মানুষ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এমনি একটি ক্রমশ স্ফীত হতে থাকা পরিস্থিতিতে শাসক শ্রেণী এর উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এই প্রয়োজনের তাগিদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০০৬ সালে পাস হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন। আইনটি ঐ বৎসরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সম্মতিপ্রাপ্ত হয়ে অবিলম্বে কার্যকর হয়। ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পরিচালিত যাবতীয় কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে প্রণীত এই আইনে ৯টি অধ্যায়ে মোট ৯০টি ধারা রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অষ্টম অধ্যায়ে ৫৪ থেকে ৮৪ ধারায় তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধ, অপরাধের দন্ড, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে ৫৪ থেকে ৬৭ ধারায় অপরাধ ও দন্ড; দ্বিতীয় অংশে ৬৮ থেকে ৮১ ধারায় অপরাধ বিচারের পদ্ধতিগত দিক এবং তৃতীয় অংশে ৮২ থেকে ৮৪ ধারায় সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন ও এখতিয়ার ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে। অষ্টম অধ্যায়ের প্রথম অংশে যে অপরাধসমূহকে সংজ্ঞায়িত করে দন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে কম্পিউটার সিস্টেমের অনিষ্ট সাধন, সোর্স কোড পরিবর্তন, হ্যাকিং, মিথ্যা-অশ্লীল-মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, লাইসেন্স সমর্পণে ব্যর্থতা, নির্দেশ লংঘন, জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রকের নির্দেশ অমান্য, সংরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ, মিথ্যা প্রতিনিধিত্বসহ তথ্য গোপন, ভুয়া ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রকাশ, কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ এবং কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন উল্লেখযোগ্য। উদ্ধৃত অপরাধগুলোর মধ্যে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দন্ড আলোচিত ৫৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারাটি নিম্নরূপ-

“৫৭। ইলেকট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দন্ড।

(১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানী প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) কোন ব্যক্তি উপধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদন্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন।”

ইতোমধ্যে সরকার কর্তৃক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী যে নিবারণমূলক পদক্ষেপগুলো গৃহীত হয়েছে তা হতে অনলাইন সাংবাদিকতার ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা প্রকটভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। এরূপ প্রেক্ষাপটে, উক্ত ধারা সংশ্লিষ্ট মূল ও সংশোধিত বিধানাবলীর আইনী বিশ্লেষণে এটি প্রতীয়মান হয় যে:-

৫৭ ধারার আওতাভুক্ত অপরাধমূলক বিষয়সমূহকে অত্যন্ত শিথিলভাবে সংজ্ঞায়িত (loosely defined) করা হয়েছে। ফৌজদারি আইনের মৌলিক সূত্র পরিপন্থী এরূপ সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাস্তি প্রদান ক্ষমতার অপ্রয়োজনীয় ও বিপজ্জনক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

৫৭ ধারায় অনির্দিষ্ট/অস্পষ্ট শব্দগুচ্ছ (vague terms) – যেমন, “রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়”- ব্যবহারের মাধ্যমে ফৌজদারি আইনের “সুনির্দিষ্টতা নীতি” (Principle of Certainity)’র মত মৌলিক অপরিহার্যতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত যে কোন নির্দোষ বা ন্যায়সঙ্গত অনলাইন প্রকাশনা/সম্প্রচারকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের মর্জি মাফিক, শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারায় Prejudicial Report প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বৎসর কারাদন্ডের বিধান ছিল। কুখ্যাত ও ব্যাপকভাবে নিন্দিত এই ধারাটি দীর্ঘকাল যাবৎ গণমাধ্যমের জন্য একটি বিরাট হুমকি হিসেবে বিবেচিত হত। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের সরকার এই ধারাটি বিলোপের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকা প্রতিদিন তাদের অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করে। এরূপ বাস্তবতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা কার্যত সরকারের জন্য বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ১৬ ধারার ফৌজদারি ক্ষমতা, অধিকতর শাস্তির আশঙ্কাসহ প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারা বাতিল করেছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ০৩ নম্বর অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ১৬ ধারা কে পুনঃসংযোজন করেছেন। যদিও ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রথম এক মাস সময়সীমার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের যে সকল অধ্যাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছিল সেই তালিকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারা পুনঃসংযোজনের ০৩ নম্বর অধ্যাদেশটির সন্ধান পাওয়া যায় নি।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাস্তির মাত্রা নিরূপণের ক্ষেত্রে “সামঞ্জস্যতা নীতি”(Principle of Proportionality) অনুসৃত হয়নি। প্রচলিত অন্যান্য আইনে বিভিন্ন অপরাধের সাথে তুলনা করলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, ২০০৬ সালের আইনের ৫৭ ধারায় উল্লিখিত শাস্তির পরিমাণ দৃষ্টিকটুভাবে কঠোর (disproportionate)। শাস্তির মাত্রার ক্ষেত্রে এরূপ অসামঞ্জস্যতা চূড়ান্ত বিচারে ফৌজদারি আইনের নৈতিক ভিত্তি ও প্রায়োগিক কার্যকারিতাকে দুর্বল করে তোলে। ২০১৩ সালের সংশোধনী আইন সে আশঙ্কাকে আমাদের সামনে আরও প্রকটভাবে উপস্থাপন করেছে। কারণ ২০০৬ সালের আইনে ৫৭ ধারার শাস্তির মেয়াদ ছিল অনধিক দশ বৎসর। ২০১৩ সালে সংশোধনীর মাধ্যমে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ১৪ এবং অন্যূন ০৭ বৎসর করা হয়েছে। অর্থদন্ডের অংক শুরু থেকে মাত্রাতিরিক্তভাবে এক কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০১৩ সালের সংশোধনী আইন শিথিলভাবে এবং অনির্দিষ্ট/অস্পষ্ট শব্দগুচ্ছ দ্বারা সংজ্ঞায়িত ৫৭ ধারার আওতাভুক্ত বিবিধ অপরাধকে আমলযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য করার মাধ্যমে মূলত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও হয়রানির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ২০০৬ সালের আইনে ৫৭ ধারার অপরাধ আমল অযোগ্য ছিল। অর্থাৎ কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেফতারের ক্ষমতা পুলিশের ছিল না। কিন্তু ২০১৩ সালের সংশোধনীর মধ্য দিয়ে ৫৭ ধারার অপরাধকে আমলযোগ্য করায় পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া বর্তমানে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার অধিকার প্রাপ্ত হলো।

১৮৬০ সালের দন্ডবিধিতে সংজ্ঞায়িত মানহানি’র অপরাধ জামিনযোগ্য এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি ০২ বৎসরের কারাদন্ড। ২০১১ সালের পূর্বপর্যন্ত মানহানির অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করতে পারতেন। এরূপ বিধানের কারণে সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘকাল যাবৎ অনাকাঙ্খিত হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০১১ সালে জাতীয় সংসদ একটি সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানার পরিবর্তে সমন জারির বিধান করেছেন। স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশে এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর কারণে অর্থহীনতায় পর্যবসিত হয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত যে কোন পত্রিকার কোন রিপোর্টকে মানহানিকর বিবেচনায় সরকার ৫৭ ধারার প্রয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে উক্ত অপরাধ অজামিনযোগ্য এবং এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাস্তি যথাক্রমে ১৪ ও ০৭ বৎসর কারাদন্ড। উপরন্তু, উক্ত অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করার পূর্বেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারবে।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং যথাক্রমে উক্ত আইনের ২০০৯ এবং ২০১৩ সালের দু’টি সংশোধনী আইনের আদ্যপান্ত বিশ্লেষণ করলে, বিশেষত আইনটির ৫৭ ধারার ভাষ্য ব্যাখ্যা করলে প্রতিয়মান হয় যে, এই ধারায় আরোপিত বিধি-নিষেধ, শাস্তির মেয়াদ ও পরিমাণ; বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও জামিনযোগ্যতা কর্তন করা ইত্যাদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আমাদের সংবিধানে দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে। মৌলিক অধিকার ভাগের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধানক্রমে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ঘোষণা করা হয়েছে। একই ভাগের ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই ভাগের বিধানাবলী তথা মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্য সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের প্রথম ভাগের ০৭ অনুচ্ছেদের ঘোষণা অনুযায়ীও সাংবিধানিক বিধির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কোন আইন বাংলাদেশে চলতে পারে না।

লেখকঃ এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম

 

সূত্রঃ 

13076745_715535491921699_3304914592563662269_n

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s