এপ্রিলে তিন ধর্মবাদী গুপ্তহত্যা

12195762_1073041002718646_8860343177594293341_n

এপ্রিলে তিন ধর্মবাদী গুপ্তহত্যা

২৩শে এপ্রিল ২০১৬ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যা করেছে ধর্মবাদীরা। রেজাউল ‘কোমলগান্ধার’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক এবং ‘সুন্দরম’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি প্রগতিমনা ছিলেন ও সংগীত চর্চা করতেন। সেতার, একতারা, হারমোনিয়াম, ডুগি তবলা, বেহালা বাজাতেন। ঘুড়ি উৎসব করতেন। ফটোগ্রাফিতেও শখ ছিল তার। তিনি প্রতিক্রিয়াশিল রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।

২৫ এপ্রিল ২০১৬ সমকামী এক্টিভিস্ট সাবেক মার্কিন দুতাবাস প্রটোকল অফিসার জুলহাজ মান্নান ও তারা বন্ধু মাহবুব রাবি তনয়কে ধর্মবাদীরা নির্মমভাবে খুন করে।  জুলহাজ বাংলাদেশের প্রথম সমকামী ম্যাগাজিন রূপবানের সম্পাদক ছিল। এ ঘটনায় মার্কিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।এজাতীয় ঘটনা মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।  ৩০ এপ্রিল ২০১৬ টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ডুবাইল কালিবাড়ি বাজারে দর্জি নিখিলচন্দ্র জোয়ার্দারকে ধর্মবাদীরা নৃশংসভাবে খুন করেছে। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কথিত মন্তব্যের কারণে ২০১২ সালে তাকে একদিন জেলও খাটতে হয়েছিল। চরম দুর্দুশাগ্রস্থ এই সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের উপর আক্রমণ শ্রমিকবিরোধি ও সাম্প্রদায়িক হামলারও অংশ। এ ধরণের ঘটনা দেশে ভারতীয় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।

ধর্মের বিরুদ্ধে মন্তব্যের তথাকথিত সরকারী অভিযোগ সম্পর্কে

হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ থেকে বরাবর এমন অভিযোগ দেয়া হচ্ছে।  উপরোক্ত চারজনের বিরুদ্ধে এমন কোন কথা নেই। নিখিল চন্দ্র কোন কটুক্তিও করেননি। ধর্মবাদীরা প্রতিনিয়ত প্রতিমুহুর্ত নিরীশ্বরবাদিদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করছে।

ধর্ম নিয়ে বিতর্ক যখন থেকে ধর্মের উদ্ভব ঘটেছে তখন থেকেই চলে আসছে। পৃথিবীতে অজস্র ধর্ম রয়েছে। দুনিয়ার জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ নিরীশ্বরবাদী। যেকোন একক ধর্মের চেয়ে এসংখ্যাটা বেশী। দুনিয়ার অধিকাংশ দেশেই নিরীশ্বরবাদীদের স্বীকৃতি দেয়া হয়না। তাদের মত প্রকাশ করতে দেয়া হয়না। বাঁধা প্রদান করা হয়। সামাজিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বিজ্ঞানী, শিল্পী, সংস্কৃতিবান, মুক্তমনা প্রগতিশীল মাত্রই কুসংস্কারের বিরোধী হবেন সন্দেহ নেই। ধর্মবাদীরা সত্যের বিরোধী, বিজ্ঞানের বিরোধী, শিল্প সংস্কৃতি সৃজনশীলতার বিরোধী। তারা মনে করে কেবলমাত্র আল্লাহই সৃষ্টি করতে পারে, মানুষ নয়। ধর্মবাদীরা নিষ্ঠুর বর্বর কাপুরুষ। তারা পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে, নির্যাতন করে। তারা জ্ঞানের বিরোধী, তাই মাথায় আঘাত করে। তারা আলোর বিরোধী। তারা অন্ধকারের পুঁজারি।

সিপিএমএলএম বাংলাদেশ এর অনেক দলিলে ধর্মবাদের মর্ম বর্ণিত হয়েছে। দেখানো হয়েছে ধর্মবাদ হচ্ছে এক ফ্যাসিবাদ যার ভিত্তি হচ্ছে সামন্তবাদ।  এ মতবাদের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়, অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত মূল্য শোষণ করা হয়, যুদ্ধের দ্বারা মানবসমাজকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়, গণহত্যা চালানো হয়, লুটপাট চালানো হয়, নারী, শিশু ও পুরুষদের দাস ও অর্ধদাস বানানো হয়।

বাংলাদেশ প্রতিক্রিয়াশীল সরকারও সামন্তবাদী। তাই তারা নিরীশ্বরবাদীদের বিরুদ্ধেই শুধু নয়, সমকামীদের বিরুদ্ধেও কথা বলে।  সমকামিতা হচ্ছে একপ্রকার যৌন প্রকৃতি যা একই ধরণের লিঙ্গের মধ্যে ঘটে। বিচিত্র দুনিয়ার এ এক রকমফের। যারা এই ধরণের বৈশিষ্ট ধারণ করেন, এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।  কারো এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের কোন অধিকার নেই।

যাহোক ধর্মবাদীদের পাশবিক খুনখারাপি আর সরকারি প্রতিক্রিয়াশীলদের ইন্ধন পরিস্থিতিতে অধিকতর জটিল করে তুলেছে।  জনগণের হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে এ অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়।।

লেখকঃ হোসেন নীল

সূত্রঃ  http://sarbaharapath.com/?p=1764

Advertisements

বিপ্লবী চলচ্চিত্রঃ ‘Breaking with Old Ideas’

chinesefilm-juelie-14699489-l

কমরেড মাও সে তুং ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়কালে ১৯৭৫ সালে চীনে নির্মিত লি ওয়েনহুয়া পরিচালিত সবচেয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘breaking with old ideas‘।  গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার গণতন্ত্রায়ণ করতে গিয়ে সামন্তীয় ও পুঁজিবাদী মতাদর্শের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা সংগ্রামের উপর নির্মিত হয়েছে।  খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই চলচ্চিত্রটি সকল কমরেডদের দেখার আহবান জানাচ্ছে ‘লাল সংবাদ‘।