মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পর্কে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি

gpkr

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পর্কে

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির বিজ্ঞপ্তি

১৬ মে, ১৯৬৬

কেন্দ্রিয় কমিটির সকল আঞ্চলিক ব্যুরো, সকল প্রাদেশিক, পৌর ও স্বায়ত্বশাসিত আঞ্চলিক পার্টি কমিটি, কেন্দ্রিয় কমিটির অধীনস্ত সকল বিভাগ ও কমিশন, সরকারী বিভাগসমূহ ও জনগণের সংগঠনসমূহে সকল নেতৃস্থানীয় পার্টি সদস্যদের গ্রুপসমূহ ও পার্টি কমিটিসমূহ, এবং পিএলএ’র সাধারণ রাজনৈতিক বিভাগ-এর প্রতিঃ

কেন্দ্রিয় কমিটি ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব-এর দায়িত্বে নিয়োযিত ‘গ্রুপ অব ফাইভ’ কর্তৃক প্রণীত ‘বর্তমান একাডেমিক আলোচনার ওপর রূপরেখা রিপোর্ট’-টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা ১৯৬৬ সালের ১২ ফেরুয়ারিতে বন্টনের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল, এবং ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দায়িত্বে নিয়োযিত গ্রুপ অব ফাইভ’ ও তার দপ্তরসমূহ ভেঙে দেওয়া ও রাজনৈতিক ব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সরাসরি অধীন একটা নয়া সাংস্কৃতিক বিপ্লব গ্রুপ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তথাকথিত ‘গ্রুপ অব ফাইভ’-এর রূপরেখা রিপোর্টটি মৌলিকভাবে ভ্রান্ত। এটা কেন্দ্রিয় কমিটি ও কমরেড মাও সেতুঙ উত্থাপিত সমাজতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের লাইনের বিরুদ্ধে যায় এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজে শ্রেণী ও শ্রেণী সংগ্রামের প্রশ্নে ১৯৬২ সালে অষ্টম কেন্দ্রিয় কমিটির দশম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যে পথনির্দেশক নীতিমালা গৃহীত হয়েছিল তার বিরুদ্ধে যায়। সম্মতির ভান করার পাশাপাশি, রূপরেখা রিপোর্ট প্রকৃতপক্ষে কমরেড মাও সেতুঙের ব্যক্তিগত নেতৃত্বে সূচিত ও পরিচালিত মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিরোধিতা করে, সেইসাথে উ হানের সমালোচনা সংক্রান্ত নির্দেশাবলী-কেও, যা তিনি দিয়েছিলেন ১৯৬৫-র সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির  কর্ম-সম্মেলনে (অর্থাত, কেন্দ্রিয় কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির অধিবেশনে যাতে কেন্দ্রীয় কমিটির সকল আঞ্চলিক ব্যুরোর নেতৃস্থানীয় কমরেডগণও অংশ নিয়েছিলেন)।

তথাকথিত ‘গ্রুপ অব ফাইভ’-এর রূপরেখা রিপোর্টটি আসলে কেবল পেং চেন-এর রূপরেখা রিপোর্ট। এটা তিনি ‘গ্রুপ অব ফাইভ’-এর একজন সদস্য কমরেড ক্যাং শেন ও অন্য কমরেডগণের অগোচরে তার নিজ ধারণা অনুসারে সাজিয়েছিলেন। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলীর উপর এমন একটি দলিলকে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পেং চেন ‘গ্রুপ অব ফাইভ’-এর মধ্যে কোন রকম আলোচনা অথবা মত বিনিময়ই করেননি। তিনি কোন স্থানীয় পার্টি কমিটির মত আহ্বান করেননি, রূপরেখা রিপোর্ট পেশ করার সময় তিনি এটা পরিষ্কারও করেননি যে এটা কেন্দ্রিয় কমিটিতে প্রেরিত হচ্ছে তার আনুষ্ঠানিক দলিল হিসেবে পরীক্ষার জন্য এবং কেন্দ্রিয় কমিটির চেয়ারম্যান কমরেড মাওসেতুঙের অনুমোদনতো তিনি আরও কম পান। সর্বাধিক অযথার্থ পদ্ধতি অবলম্বন করে তিনি স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করেন, তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং কেন্দ্রিয় কমিটির নামকে কুক্ষিগত করে সমগ্র পার্টির প্রতি রূপরেখা রিপোর্টটি তড়িত ইস্যু করেন।

রূপরেখা রিপোর্টের প্রধান প্রধান ভুলসমূহ নিম্নরূপঃ

. পরিস্থিতি ও বর্তমান একাডেমিক সমালোচনার চরিত্রের মূল্যায়ণে একটা বুর্জোয়া অবস্থান ও বুর্জোয়া বিশ্বদৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রসর হয়ে রূপরেখা আমাদের ও শত্রুর মধ্যকার সম্পর্ককে সম্পূর্ণরূপে উল্টে দেয়- একটিকে আরেকটির জায়গায় বসিয়ে। আমাদের দেশ এখন মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একট উত্থানের মধ্যে রয়েছে যা এখনো বুর্জোয়া ও সামন্তবাদের অবশেষের দ্বারা ধারণ করা সকল ক্ষয়িষ্ণু মতাদর্শিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানসমূহকে চূর্ণ-বিচূর্ন করে দিচ্ছে। তারা যাতে অব্যাহতভাবে আঘাত করে যেতে পারে সেজন্য শ্রমিক, কৃষক ও সৈনিক এবং সর্বহারা সংস্কৃতির জন্য লড়াকুদের ব্যাপক জনগণকে জাগানোর জন্য সমগ্র পার্টিকে বলিষ্ঠভাবে উতসাহদানের বদলে রূপরেখা আন্দোলনকে ডানে মোড় ফেরানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। বিভ্রান্তিকর, স্ববিরোধি ও প্রতারণামূলক ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে এটা সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক ফ্রন্টে চলমান তীক্ষ্ণ শ্রেণীসংগ্রামকে ধোঁয়াশা করে। বিশেষভাবে, এটা এই মহান সংগ্রামের লক্ষ্যকে ছায়াচ্ছন্ন করতে চায়, যা উ হান ও অন্য পার্টি-বিরোধী সমাজতন্ত্র-বিরোধী বুর্জোয়া প্রতিনিধিদের সমালোচনা ও বর্জনে নিয়োযিত (কেন্দ্রিয় কমিটি এবং পার্টি, সরকার ও কেন্দ্রের এবং সেইসাথে প্রাদেশিক, পৌর ও স্বায়ত্বশাসিত আঞ্চলিক স্তরে বিভিন্ন বিভাগসমূহে এরা প্রচুর সংখ্যায় আছে)। চেয়ারম্যান মাও কর্তৃক বারংবার ব্যাখ্যা করা হয়েছে যা সেই উ হান-এর নাটক হাই জুই দপ্তর থেকে অপসারিত¬-এর চাবিকাঠি সূত্র হচ্ছে দপ্তর থেকে অপসারণের প্রশ্ন-তার কোন উল্লেখ এড়িয়ে গিয়ে রূপরেখা সংগ্রামের রাজনৈতিক গুরুতর প্রকৃতিকে ঢেকে দিয়েছে।

. রূপরেখা এই মৌলিক মার্কসবাদী থিসিসকে লঙ্ঘন করে যে সকল শ্রেণীসংগ্রাম হচ্ছে রাজনৈতিক সংগ্রাম। যখন সংবাদপত্রসমূহ উ হান-এর হাই জ্ইু দপ্তর থেকে অপসারিত–এর সাথে জড়িত রাজনৈতিক প্রশ্নসমুহ স্পর্শ করতে শুরু করল, তখন রূপরেখার রচয়িতারা এতদূর পর্যন্ত বললো: “সংবাদপত্রে আলোচনা রাজনৈতিক প্রশ্নসমূহে আটকে থাকা উচিত নয়, বরং সম্পর্কিত বহুবিধ একাডেমিক ও তত্ত্বগত প্রশ্নসমূহে পুরোমাত্রায় ঢোকা উচিত।” উ হানের সমালোচনার ব্যাপারে বিভিন্ন সময় তারা ঘোষণা করেছে যে বিষয়টির প্রাণকেন্দ্র নিয়ে নাড়াচাড়া করা অননুমোদনীয়, উদাহারণস্বরূপ, ১৯৫৯ সালে লুশান প্লেনামে ডান সুবিধাবাদীদের অপসারণ এবং উ হান ও অন্যদের পার্টি ও সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা। কমরেড মাও সেতুঙ প্রায়শই আমাদের বলেছেন যে, বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে মতাদর্শিক সংগ্রাম হচ্ছে একটা দীর্ঘস্থায়ী শ্রেণীসংগ্রাম, যা তড়িঘড়ি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত টানার মাধ্যমে সমাধান করা যায়না। যাহোক, পেং চেন মরিয়াভাবে গুজব ছড়ায়, অনেক লোককে এটা বলে যে, চেয়ারম্যান মাও বিশ্বাস করেন যে উ হান-এর ওপর সমালোচনার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দুই মাস পরে টানা যেতো। পেং চেন আরো বলে যে, রাজনৈতিক ইস্যুগুলো দুই মাস পর আলোচনা করা যায়। তার উদ্দেশ্য ছিল, বুর্জোয়া রাজনীতি প্রায়ই যার ওকালতি করে, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের রাজনৈতিক সংগ্রামকে খাঁটি একাডেমিক আলোচনায় প্রবাহিত করা এবং সর্বহারা রাজনীতিকে বিশিষ্টতা দানকে বিরোধিতা করা।

. রূপরেখা তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে যাকে সেটি বলে ‘প্রশস্তভাবে খুলে দেওয়া’। কিন্তু ধূর্ত কৌশলের আশ্রয় নিয়ে এটা স্থূলভাবে কমরেড মাও সেতুঙ কর্তৃক ১৯৫৭-র মার্চে প্রচার কার্য সম্পর্কে জাতীয় সম্মেলনে ব্যাখ্যা করা “প্রশস্তভাবে খুলে ধরা”র কর্মনীতিকে বিকৃত করে এবং “প্রশস্তভাবে খূলে দেওয়া”র শ্রেণীসারবস্তুকে নেতিকরণ করে। এটা ছিল মাও সেতুঙ কর্তৃক তুলে ধরা এই প্রশ্নের মোকাবেলায়ঃ ‘বুর্জোয়া ও পেটি বুর্জোয়া মতাদর্শের বিরুদ্ধে আমাদের এখনো দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম চালাতে হবে। এটা না বোঝা এবং মতাদর্শিক সংগ্রাম পরিত্যাগ করা ভুল। সকল ভ্রান্ত ধারণা, সকল বিষাক্ত আগাছা, সকল দৈত্য ও দানবকে অতি অবশ্যই সমালোচনা করতে হবে, কোনভাবেই তাদেরকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে দেওয়া যাবেনা।’ কমরেড মাও সেতুঙ আরো বলেছেন, ‘“প্রশস্তভাবে খুলে দেওয়া” অর্থ হচ্ছে সকল জনগণকে খোলামেলাভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে দেয়া, যাতে তারা কথা বলতে সাহসী হয়, সমালোচনা করতে সাহসী হয় ও বিতর্ক করতে সাহসী হয়।’ কিন্তু এই রূপরেখা, সর্বহারা শ্রেণী কর্তৃক বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানকে উন্মোচনের বিরুদ্ধে ‘প্রশস্তভাবে খুলে দেওয়া’-কে দেখাতে চায়। এটা ‘প্রশস্তভাবে খুলে ধরা’ বলতে বুর্জোয়া উদারীকরণ বোঝায়, যা কেবল বুর্জোয়াদের ‘প্রশস্তভাবে খুলে ধরতে’ অনুমোদন দেবে, কিন্তু সর্বহারা শ্রেণীকে অনুমোদন দেবেনা ‘প্রশস্তভাবে খূলে ধরতে’ ও প্রত্যাঘাত করতে; অন্য কথায়, এটা উ হান-এর মতো প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া প্রতিনিধিদের ঢাল। এই রূপরেখার ‘প্রশস্তভাবে খুলে ধরা’ হলো মাও সেতুঙ চিন্তাধারার বিরুদ্ধে এবং বুর্জোয়াদের চাহিদার যোগানদাতা।

. ঠিক আমরা যখন বুর্জোয়াদের বন্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতি আক্রমণ অভিযান শুরু করেছি, রূপরেখার প্রণেতারা শ্লোগান তুলে ধরলো: ‘সত্যের সামনে সবাই সমান’। এটা একটা বুর্জোয়া শ্লোগান। সত্যের শ্রেণীপ্রকৃতিকে সম্পূর্ণভাবে নেতিকরণ করে এই শ্লোগানকে তারা ব্যবহার করে বুর্জোয়াদের রক্ষা করতে এবং সর্বহারা শ্রেণীকে বিরোধিতা করতে, মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে বিরোধিতা করতে এবং মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে বিরোধিতা করতে। সর্বহারা ও বুর্জোয়াদের মধ্যে সংগ্রামে মার্কসবাদের সত্য ও বুর্জোয়াদেরসহ অন্য সকল শোষক শ্রেণীসমূহের ভ্রান্তির মধ্যে সংগ্রামে হয় পূবালী হাওয়া পশ্চিমী হাওয়াকে দাবিয়ে রাখবে, নয়-তো পশ্চিমী হাওয়া পূবালী হাওয়াকে দাবিয়ে রাখবে, এবং সমতার মত কিছু মোটেই নেই। বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে সর্বহারার সংগ্রাম, বুর্জোয়াদের উপর সর্বহারার একনায়কত্ব, সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রসহ উপরিকাঠামোয় সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব, এবং কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া বুর্জোয়া প্রতিনিধিরা, যারা লাল পতাকার বিরুদ্ধে ‘লাল পতাকা’ উড়ায় তাদের উতপাটনে তাদের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর অব্যাহত প্রচেষ্টার মতো মৌলিক প্রশ্নাবলীতে সমতা কি অনুমোদন করা যায়? বহু যুগের পুরোনো লাইনের সমাজ গণতন্ত্রীরা এবং দশ বছরের বেশি সময় ধরে আধুনিক সংশোধনবাদীরা কখনো বুর্জোয়াদের সাথে সর্বহারা শ্রেণীর সমতার অনুমোদন দেয়নি। তারা সম্পূর্ণত অস্বীকার করে যে, কয়েক হাজার বছরের মানব ইতিহাস হচ্ছে শ্রেণীসংগ্রামের ইতিহাস। বুর্জোয়ার বিরুদ্ধে সর্বহারার শ্রেণীসংগ্রামকে, বুর্জোয়ার বিরুদ্ধে সর্বহারা বিপ্লবকে এবং বুর্জোয়ার ওপর সর্বহারা একনায়কত্বকে তারা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে। বিপরীতে, তারা হচ্ছে বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত সেবাদাস। বুর্জোয়া ও সাম্রাজ্যবাদের সাথে একত্রিতভাবে তারা সর্বহারা শ্রেণীর ওপর বুর্জোয়ার নিপীড়ন ও শোষণের মতাদর্শের সাথে, আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়; এবং তারা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী মতাদর্শ ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিরোধিতা করে। কমিউনিস্ট পার্টি ও জনগণকে বিরোধিতাকারী তারা হচ্ছে একঝাঁক প্রতিবিপ্লবী। আমাদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম হচ্ছে জীবন- মরণের বিষয়, এবং এখানে সমতার কোন প্রশ্ন নেই। তাই, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামও জীবন-মরন সংগ্রাম ব্যতীত আর কিছু হতে পারেনা এবং তাদের সাথে আমাদের সম্পর্কও কোনভাবেই সমতার সম্পর্ক হতে পারেনা। বিপরীতে, এটা হচ্ছে এক শ্রেণী কর্তৃক আরেক শ্রেণীকে নিপীড়ণের সম্পর্ক, অর্থাত বুর্জোয়াদের ওপর সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব। তথাকথিত সমতার সম্পর্ক অথবা শোষক ও শোষিত শ্রেণীসমূহের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অথবা দয়া বা মহানুভবতার মত কোন ধরণের সম্পর্কই থাকতে পারেনা।

. রূপরেখা বলছেঃ ‘অপরপক্ষকে শুধু রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা প্রয়োজন শুধু তাই নয়, বরং একাডেমিক ও পেশাদার মানদন্ডেও ব্যাপক মাত্রায় সত্যিকারভাবে তাকে অতিক্রম ও পরাজিত করা দরকার।’ এই ধারণা যা একাডেমিক বিষয়গুলিতে কোন শ্রেণী পার্থক্য নিরূপন করেনা তাও খূবই ভ্রান্ত। একাডেমিক প্রশ্নসমূহের উপর সত্য, মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সত্য, মাও সেতুঙ চিন্তাধারার সত্য-যা সর্বহারা শ্রেণী আত্মস্থ করেছে, ইতিমধ্যেই বুর্জোয়াকে অনেক দূর অতিক্রম করেছে ও পরাজিত করেছে। রূপরেখার সূত্রায়ণ দেখায় যে, এর প্রণেতারা বুর্জোয়াদের তথাকথিত একাডেমিক কর্তৃপক্ষের স্তবগান গায়, তাদের সম্মানকে স্ফীত করতে চেষ্টা করে, এবং একাডেমিক ক্ষেত্রে জঙ্গী নবজাত শক্তি যা সর্বহারা শ্রেণী প্রতিনিধিত্ব করে, তাকে ঘৃণা ও দমন করে।

. চেয়ারম্যান মাও প্রায়ই বলেন যে, ধ্বংস ছাড়া কোন গঠন হয় না। ধ্বংসের অর্থ হচ্ছে সমালোচনা ও বর্জন; এর অর্থ হচ্ছে বিপ্লব। এর সাথে জড়িত হলো যুক্তিগত বিষয়গুলো বের হয়ে আসা, যা হচ্ছে গঠন। ধ্বংসকে প্রথম স্থান দাও, এবং এই প্রক্রিয়ায় তুমি গঠন পাবে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ, মাওসেতুঙের চিন্তাধারার প্রতিষ্ঠা ও অব্যাহতভাবে বিকাশ হয়েছে বুর্জোয়া ভাবাদর্শের ধ্বংসের জন্য সংগ্রামের প্রক্রিয়ায়। কিন্তু, এই রূপরেখা জোর দেয় যে, ‘নির্মাণ ছাড়া কোন প্রকৃত ও সামগ্রিক ধ্বংস হতে পারেনা’। এটা বুর্জোয়া ভাবাদর্শের ধ্বংসকে বাধা দেয় ও সর্বহারা মতাদর্শের বিনির্মাণকে বাধা দেয়। এটা আপাদমস্তক চেয়ারম্যান মাও-এর চিন্তাধারার বিরোধী। এটা বুর্জোয়া মতাদর্শের সবল ধ্বংসের জন্য যে বিপ্লবী সংগ্রাম আমরা সাংস্কৃতিক ফ্রন্টে চালাচ্ছি তার বিরুদ্ধে যায়। এবং এটা সর্বহারা শ্রেণীকে বিপ্লব সাধন করতে বাধা দেয়।

. রূপরেখা বলে যে, ‘আমাদের পন্ডিত-উতপীড়কদের মতো আচরণ করা উচিত নয় যারা সর্বদা স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করছে, এবং জনগণকে তাদের ক্ষমতার দ্বারা আচ্ছন্ন করতে চেষ্টা করছে’ এবং বলছে যে ‘বুর্জোয়া দক্ষ ও পন্ডিত-উতপীড়কদের পথ গ্রহণ করতে আমাদের বাম একাডেমিক কর্মীদের যেকোন প্রবণতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকা দরকার’। ‘একাডেমিক-উতপীড়ক’ বলতে সত্যিকারভাবে কী বোঝানো হচ্ছে? কারা ‘একাডেমিক-উতপীড়ক’? সর্বহারা শ্রেণীর কি উচিত নয় একনায়কত্ব পরিচালনা করা এবং বুর্জোয়াদের চাপা দেয়া? সর্বহারা শ্রেণীর একাডেমিক কাজের কি উচিত নয় বুর্জোয়ার একাডেমিক কাজকে চাপা দেয়া ও অপসারণ করা? এবং যদি সর্বহারা একাডেমিক কাজ বুর্জোয়া একাডেমিক কাজকে অধীন ও অপসারণ করে, তাকে কি ‘পন্ডিত-উতপীড়ক’-দের কাজ বলে বিবেচনা করা যায়? রূপরেখা সর্বহারা বামদের বিরুদ্ধে তার বর্শাফলক তাক করে। নিশ্চিতভাবে, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে মার্কসবাদী-লেনিনবাদীদের ‘পন্ডিত-উতপীড়ক’ বলে লেবেল আাঁটা এবং এভাবে প্রকৃত বুর্জোয়া পন্ডিত-উতপীড়কদের সাহায্য করা এবং একাডেমিক ক্ষেত্রে তাদের টলায়মান একচেটিয়া অবস্থানকে রক্ষা করা। বস্তুত, ঐসব কর্তৃস্থানীয় পার্টি-লোকেরা যারা পুঁজিবাদী পথ গ্রহণ ক’রে বুর্জোয়া পন্ডিত-উতপীড়কদের সমর্থন করছে, এবং সেই বুর্জোয়া প্রতিনিধিরা যারা পার্টিতে অনুপ্রবেশ করেছে আর বুর্জোয়া পন্ডিত-উতপীড়কদের রক্ষা করছে, তারা নিশ্চয়ই বড় পার্টি-উতপীড়ক, যারা পার্টির নাম কব্জা করেছে, জনগণের সাথে যাদের কোন  যোগাযোগ নেই, শিক্ষা বলতে কিছু নেই, এবং যারা ‘স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করা আর জনগণকে তাদের ক্ষমতার দ্বারা আচ্ছন্ন করার চেষ্টা করা’র ওপর পরমভাবে নির্ভর করে।

. তাদের দূরবর্তী উদ্দেশ্য থেকে, রূপরেখার লেখকরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে মরিয়া প্রচেষ্টায়, শ্রেণীসহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং সংগ্রামের লক্ষ্য থেকে জনগণকে ভিন্ন দিকে চালিত করতে একনিষ্ঠ বামদের বিরুদ্ধে একটা ‘শুদ্ধি অভিযান’ দাবী করে। রূপরেখার এমন তড়িত প্রণয়নে তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সর্বহারা বামকে আঘাত করা। বামদের সম্পর্কে দলিল-দস্তাবেজ সৃষ্টির জন্য তারা তাদের রাস্তায় এগিয়েছে; তাদেরকে আক্রমণের সকল ধরণের অযুহাত খোঁজার চেষ্টা করেছে এবং তাদের সারিকে ভেঙে দেওয়ার বৃথা আশায় ‘শুদ্ধি অভিযান’ দ্বারা তাদের ওপর আরো আক্রমণ চালানোয় সচেষ্ট হয়েছে। বামদের রক্ষা করা, সমর্থন করা ও তাদের সারিসমূহকে গড়ে তোলা ও সম্প্রসারণে গুরুতর মনোযোগ দেওয়ার চেয়ারম্যান মাও কর্তৃক মূর্তভাবে তুলে ধরা কর্মনীতিকে তারা প্রকাশ্যে প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে, যারা পার্টিতে অনুপ্রেবেশকারী বুর্জোয়া প্রতিনিধি, সংশোধনবাদী ও বেঈমান- তাদেরকে “একনিষ্ঠ বাম” খেতাব দিচ্ছে এবং তাদেরকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই ভাবে, তারা বুর্জোয়া দক্ষিণপন্থীদের ঔদ্ধত্যকে ফুলাতে চাইছে, আর সর্বহারা বামদের উদ্দীপনাকে নিরুতসাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা সর্বহারার প্রতি ঘৃণা আর বুর্জোয়ার প্রতি ভালবাসায় পূর্ণ। রূপরেখার রচয়িতাদের ভ্রাতৃত্বের বুর্জোয়া ধারণা হচ্ছে এমনই।

. যখন মতাদর্শিক ফ্রন্টে বুর্জোয়া প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর নতুন ও প্রচন্ড সংগ্রাম কেবল শূরু হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে ও জায়গায় এখনও এমনকি শূরু হয়নি-অথবা শুরু হলেও, জড়িত বহু পার্টি কমিটির এই মহান সংগ্রামে নেতৃত্বের কর্তব্য সম্পর্কে খুবই দুর্বল উপলব্ধি রয়েছে এবং তাদের নেতৃত্ব বিবেক-বুদ্ধি ও কার্যকরতা থেকে অনেক দূরে-তখন রূপরেখা বারবার জোর দেয় যে সংগ্রামকে ‘নির্দেশনার অধীন’, ‘পরিনামদর্শী’ ও ‘সতর্ক’ ভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং চালাতে হবে ‘সম্পর্কিত নেতৃত্বকারী সংস্থাগুলোর অনুমোদনের ভিত্তিতে’। এসবই সর্বহারা বামদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে, তাদের হাত বেঁধে ফেলার জন্য বাধা-নিষেধ ও হুকুম জারী করতে, এবং সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথে সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করতে সাহায্য করে। এক কথায়, রূপরেখার প্রণেতারা গতিরোধ করতে ও প্রতিশোধমূলক প্রতি আক্রমণ চালাতে প্রচণ্ডভাবে এগোচ্ছে। যেহেতু সর্বহারা বামদের দ্বারা লিখিত প্রবন্ধগুলি প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া ‘কর্তৃপক্ষ’-কে খন্ডন করছে, তাই তারা ইতিমধ্যে যেগুলো প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে তিক্ত ঘৃণা ছড়ায় আর যেগুলো প্রকাশিত হয়নি সেগুলোকে দমন করছে। কিন্তু অন্যদিকে, তারা সেইসকল বহুবিধ দৈত্যদানবদের মুক্ত কার্যক্রমের অনুমতি দেয় যা আমাদের সংবাদপত্র, রেডিও, ম্যাগাজিন, বইপুস্তক, পাঠ্যপুস্তক, প্লাটফরম, সাহিত্যকর্ম, সিনেমা, নাটক, গাঁথা ও গল্পসমূহ, চারুকলা, সঙ্গীত, নৃত্য প্রভৃতিকে বহু বছর ধরে ছেয়ে ফেলেছে এবং এগুলো করার জন্য তারা কখনো সর্বহারা নেতৃত্বের কথা বলেনা অথবা অনুমোদনের কোন প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়না। এখানে এই বৈপরীত্য দেখায়, রূপরেখার প্রণেতাদের অবস্থান কোথায়।

১০. বর্তমান সংগ্রাম সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ওপর কমরেড মাওসেতুঙের লাইনের প্রয়োগ অথবা প্রতিরোধকে কেন্দ্র করে আবির্ভূত হয়। অথচ, রূপরেখা বলছেঃ ‘এই সংগ্রামের মাধ্যমে এবং মাও সেতুঙ চিন্তাধারার পরিচালনার অধীনে আমরা এই সমস্যার সমাধানের দরজা খুলে দেব (অর্থাত, “একাডেমিক কাজে বুর্জোয়া চিন্তার সামগ্রিক বিলোপ।’) কমরেড মাও সেতুঙ সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক ফ্রন্টে সর্বহারা শ্রেণীর জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন দীর্ঘকাল আগে, তার নয়া গণতন্ত্র সম্পর্কে, ইয়েনান ফোরামে শিল্প ও সাহিত্য সম্পর্কে বক্তৃতা, ‘লিয়াংশান বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিতে ভ্রমণ’ দেখার পর ইয়েনান পিকিং অপেরা থিয়েটারের প্রতি চিঠি, জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্বসমূহের সঠিক সমাধান সম্পর্কে, এবং প্রচার কার্য সম্পর্কে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলনে বক্তৃতায়। তবু রূপরেখা বলছে যে, মাও সেতুঙ চিন্তাধারা এখনো আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়নি এবং নতুন করে দরজা খুলতে হবে। ‘মাও সেতুঙ চিন্তাধারার পরিচালনার অধীনে’ ব্যানারকে একটা পর্দা হিসেবে ব্যবহার করে রূপরেখা প্রকৃতপক্ষে মাও সেতুঙ চিন্তাধারার বিরোধী একটা পথ খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিচ্ছে যা হচ্ছে, আধুনিক সংশোধনবাদের পথ, পুঁজিবাদের পুনপ্রতিষ্ঠার পথ।

সংক্ষেপে, রূপরেখা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে শেষপর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করে, কমরেড মাও সেতুঙের নেতৃত্বে পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটি অনুসৃত সাংস্কৃতিক বিপ্লবের লাইনকে বিরোধিতা করে; সর্বহারা বামকে আক্রমণ করে ও বুর্জোয়া ডানকে নিরাপত্তা দেয়, এভাবে পুঁজিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য জনমত প্রস্তুত করে। এটা হচ্ছে পার্টিতে বুর্জোয়া মতাদর্শের প্রতিফলন, এটা হচ্ছে পুরোপুরি সংশোধনবাদ। গৌণ প্রশ্ন হওয়া দূরের কথা, এই সংশোধনবাদী লাইনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম একটা পরম গুরুত্বের প্রশ্ন যার ওপর আমাদের পার্টির ভাগ্য, ভবিষ্যত ও বর্তমান পরমভাবে নির্ভর করে, আমাদের পার্টির বর্তমান ও ভবিষ্যত আকৃতি এবং বিশ্ব বিপ্লবেরও।

সকল স্তরের পার্টি কমিটিকে অতি অবশ্যই ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দায়িত্বে নিয়োযিত গ্রুপ অব ফাইভ প্রণীত চলতি একাডেমিক আলোচনার ওপর রূপরেখা’ প্রচার অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সমগ্র পার্টিকে অবশ্যই কমরেড মাও সেতুঙের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে, সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মহান ব্যানারকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে, পার্টি ও সমাজতন্ত্রকে বিরোধিতাকারী তথাকথিত ‘একাডেমিক কর্তৃপক্ষ’-দের প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া অবস্থানকে সামগ্রিকভাবে উন্মোচন করতে হবে, একাডেমিক কাজ, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, সাহিত্য-শিল্পকলা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া ভাবধারাকে সামগ্রিকভাবে সমালোচনা ও বর্জন করতে হবে এবং এই সমস্ত সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রসমূহে নেতৃত্ব কব্জা করতে হবে। এটা অর্জন করতে পার্টি, সরকার, সেনাবাহিনী এবং সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারী বুর্জোয়া প্রতিনিধিদের একইসাথে সমালোচনা ও বর্জন করা প্র্রয়োজন যাতে তাদের ঝেঁটিয়ে বিদেয় করা যায় অথবা তাদের কাউকে কাউকে অন্য পদে বদলী করা যায়। সর্বোপরি, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নেতৃত্বের কাজে এই ধরণের লোকদের কোনভাবেই বিশ্বাস করা যাবেনা। বস্তুত, তাদের অনেকেই এধরণের কাজ করেছে এবং এখনও এমন কাজ করছে, আর তা সত্যিই ভয়ংকর।

পার্টি, সরকার, সৈন্যবাহিনী ও বিবিধ সাংস্কৃতিক চক্রে অনুপ্রবেশকারী বুর্জোয়াদের ঐ প্রতিনিধিরা হচ্ছে এক ঝাঁক প্রতিবিপ্লবী সংশোধনবাদী। অবস্থা পরিপক্ক হলে তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করবে, আর সর্বহারা একনায়কত্বকে বুর্জোয়াদের একনায়কত্বে পরিণত করবে। তাদের কাউকে কাউকে আমরা ইতিমধ্যে সমগ্রভাবে দেখেছি, অন্যদের দেখিনি। তাদের কাউকে কাউকে আমরা এখনো বিশ্বাস করি এবং এরা আমাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রশিক্ষিত হচ্ছে, উদাহারণস্বরূপ, ক্রুশ্চেভের মতো লোকেরা, এখনো আমাদের পাশে বাসা বেঁধে আছে। সকল স্তরের পার্টি কমিটিকে অতি অবশ্যই এই প্রশ্নে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।এই বিজ্ঞপ্তিকে ১৯৬০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারীতে ইস্যুকৃত কেন্দ্রিয় কমিটির ভ্রান্ত দলিলের সাথে একত্রিতভাবে কাউন্টি পার্টি কমিটি, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পার্টি কমিটি এবং সৈন্য বাহিনীতে রেজিমেন্ট স্তর পর্যন্ত পার্টি-কমিটিকে পাঠাতে হবে। এই কমিটিসমূহকে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে এই দুই দলিলের কোনটি বেঠিক আর কোনটি সঠিক, এই দলিলসমূহের ওপর তাদের উপলব্ধি, আর তাদের অর্জনসমূহ ও ভুল সম্পর্কে।

 

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s