পিসিপির ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিবৃতি

12417833_1688840634690050_3632575340618560178_n

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন

জাতীয় কমিটি

বিবৃতি

পিসিপি’র ২০ মে ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশ স্থলে সমাবেশ পন্ড করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও মঞ্চ করতে বাধা দেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই।

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে বলা হয়, পিসিপির ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে বাধা দেয়া ও পাহাড়ের অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক সংগঠন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতাদের মঞ্চ তৈরীতে বাধা দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাই বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন। ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, এই বাঙালী ধনীক শ্রেনির রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে ওঠার শুরু থেকেই পাহাড়ের নিপীড়ণ চালিয়ে আসছে।  আজও প্রতিদিন বুর্জোয়া খবরের কাগজ খুললে দেখা যায় পাহাড়ের নিপীড়ন এর কোন না কোন খবর।  পাহাড়ে অঘোষিতভাবে সেনা শাসন চলছে।সেখানে জনগনের মত প্রকাশের প্রধান বাধা এই রাষ্ট্র ও তার পোষা সেনাবাহিনী।  সারাদেশব্যাপী বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার চরম ফ্যাসীবাদী কায়দায় জনগনকে দমনপীড়ণ করে চলেছে।   প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে সাধারণ জনগনকে।  এমন একটি পরিস্থিতিতে যখন পাহাড়ে সমাবেশ এর আয়োজন চলছিল তখন সেখানে বাধা দেয়া বর্তমান সরকারের ফ্যাসীবাদী আচরনের ধারাবাহিকতা মাত্র।  তাই আজ পাহাড়-সমতলের সকল নিপীড়িত মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের ভিত্তিতে বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

বার্তা প্রেরক

আহনাফ আতিফ অনিক

সহ-আহবায়ক

13245860_488392468010571_802297275_n


সাক্ষীহীন যুদ্ধঃ বাস্তার নিয়ে ফের কলকাতা শহরে আলোচনা সভা

bastarn-233x300

দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে এরাজ্যেরও ভোটযুদ্ধ আপাতত শেষ।  কিন্তু দেশের আরেকপ্রান্ত, বাস্তারে, এক অঘোষিত যুদ্ধ চলছে।  বাস্তরে সেই যুদ্ধের খবর খুব একটা মিডিয়ায় আসে না।   ব্ল্যাকআউট করেছে মিডিয়া। আর তাই বাস্তার সলিডারিটি নেটওয়ার্কের পক্ষে ব্ল্যাকআউট অন বাস্তার, অ্যা ওয়ার উথাউট উটনেস শীর্ষক, এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।  ২১ মে ভারত সভা হলে বিকেল ৫টায়।  বক্তব্য রাখবেন সাংবাদিক কমল শুক্লা ও jnu এর ছাত্র উমর খালিদ, যার মাথার উপর ঝুলছে বহিষ্কারের খাঁড়া।

 


পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নারী যোদ্ধাদের ভিডিও

গৌরবান্বিত পেরুর গণযুদ্ধে্র ৩৬তম বার্ষিকী উদযাপন করুন!

 

12122950_1663091003932724_6146809722157539183_n (1)


রিপোর্টঃ বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি মাওবাদীদের

maxresdefault

অনূদিতঃ

বিশ্বের সবচাইতে দ্রুততম ও সফল গেরিলা অপারেশনটি ফিলিপাইনের মাওবাদীদের ।  ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির(CPP) সশস্ত্র শাখা নিউ পিপলস আর্মির(NPA) মাওবাদী দশজন গেরিলা ২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ফিলিপাইনের কুইজন প্রাদেশিক কারাগারে প্রবেশ করে।   এসময় তারা ফিলিপাইন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পোশাক পরা ছিল।  কুইজন কারাগারের কর্মকর্তারা গেরিলাদের ছদ্মবেশি ফাঁদে পা দেয়।  গেরিলারা ভেতরে ঢুকেই কারারক্ষীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।  ঘটনার আকস্মিকতায় বোকা বনে যাওয়া ২৪জন কারারক্ষী ও প্রহরীরা কোনো প্রকার বাঁধা না দিয়েই আত্মসমর্পন করে। বাকি ২৬জন কারারক্ষী ও ডেপুটি প্রহরী তখন ম্যানিলায় একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করছিল।  স্বশস্ত্র নিউ পিউপলস আর্মি গেলিরারা কারারক্ষী ও প্রহরীদের একটি সেলে বন্ধী করে রাখে।  এরপর তারা কারাগারের বিভিন্ন অংশ থেকে তাদের ৭জন নেতাকে খুঁজে বের করে যারা এই কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ভোগ করছিল। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত চারটি ভ্যানে গেলিরারা তাদের নেতাদের নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিউ পিপলস আর্মির এই অপারেশনটি মাত্র ১৫মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।  এই অপারেশনে কোনো গুলিবর্ষন ও রক্তপাত হয়নি।  কারাগার থেকে মাওবাদী বন্দী উদ্ধার করা অপারেশন এর থেকে দ্রুত গতিতে ও সার্থক ভাবে বিশ্বের কোন গেরিলা দল আগে করতে পারেনি।

১৯৬০ দশকে ফিলিপাইনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণ ও ছাত্রদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের একটি জোয়ার দেখা যায়।  ওই রেঁনেসা বা জোয়ারের অংশ হিসেবে নিউ পিপলস আর্মি ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে গঠিত হয় যাদের উদ্দেশ্য ছিল মাওবাদী গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস শাসিত সরকারের পতন ঘটানো ও দেশে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা করা।  মার্কসবাদী আদর্শ ও মাওবাদী লাইন নিয়ে এই গ্রুপটি গঠন করা হয়।  ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত চীনের সরকার নিউ পিপলস আর্মিদের বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা দিয়েছিল।  এই সময়ে দলটি প্রচুর গেরিলা নিবন্ধন করে এবং বেশ কিছু বড় অপারেশন পরিচালনা করে।  কিন্তু ১৯৭৬ সালে চীন সরকার তাদের সব ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।  চীনের সমর্থন হারানোর পর নিউ পিপলস আর্মি বেশ খারাপ কয়েকটি বছর অতিক্রম করে। ১৯৮০ সালের মাঝামাঝিতে নিউ পিপলস আর্মির নেতারা পশ্চিমা কমিউনিস্ট পার্টি বিশেষ করে কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার নতুন উৎস তৈরি করে।  একই সময়ে তারা ফিলিপাইনের ধনীব্যক্তি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘বিপ্লবী কর’ হিসেবে টাকা-পয়সা সংগ্রহ করতে শুরু করে।

নিউ পিপলস আর্মি তাদের অপারেশনে এম-১৬, এম-১৪, এম১ গারান্ডস, কার্বিনেস ও স্প্রিংফিল্ড রাইফেল, সি৪ এক্সপ্লোসিভ, বি৪০ এন্টি ট্যাংক রকেট এবং হাতে তৈরি গ্রেনেড ব্যবহার করে।

যদিও নিউ পিপলস আর্মিরা প্রাথমিকভাবে একটি গ্রাম্যভিত্তিক গেরিলা দল, কিন্তু তারা শহুরে অবকাঠামোর মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।  ১৯৮৫ সালে তারা শহর ভিত্তিক গেরিলা স্কোয়াড তৈরি করে।  নিরাপত্তা বাহিনী, রাজনীতিবিদ, বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত অপরাধীদের টার্গেট করা হয়।  নিউ পিপলস আর্মি মাওবাদী আদর্শের অনুসারী হওয়ায় শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ছিল তাদের অবস্থান। তাই ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারির বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেয় এবং আমেরিকার সামরিক ব্যক্তিদের তাদের প্রধান টার্গেট হিসেবে নেয়।  এক সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহীনির মেজর জেমস রোকে গুলি করে হত্যা করে যিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ‘সার্ভাইভাল, এভাসন, রেসিস্ট্যান্ট ও এস্কেপ স্কোয়াড প্রতিষ্ঠাতা।  ২০০২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ২০০৫ সালের নভেম্বরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মাওবাদীদের বৈদেশিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে।

বর্তমানে নিউ পিপলস আর্মির প্রতিষ্ঠাতা হোসে মারিয়া সিসন সহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তরা আত্মগোপনে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।  এখন তাদের কার্যক্রম ফিলিপাইনের ৬০টি প্রদেশে রয়েছে।

 

সূত্রঃ https://page11.wordpress.com/2014/07/09/the-story-of-new-peoples-army/


ফিলিপাইনে মাওবাদী গেরিলাদের হামলায় ৩ সেনা নিহত

ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলাদের একটি ইউনিট

ফিলিপাইনের মাওবাদী গেরিলাদের একটি ইউনিট

অনূদিতঃ 

ফিলিপাইনে মাওবাদী NPA গেরিলাদের হামলায় ৩ সৈন্য নিহত হয়েছে।  দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট স্থগিত শান্তি আলোচনা পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দেয়ার পর এই প্রথম সহিংস রক্তপাতের ঘটনা ঘটল।

রোববার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একথা বলা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার মধ্যাঞ্চলীয় দ্বীপ নেগরোসে সৈন্যদের সঙ্গে প্রায় ১০ জন মাওবাদী গেরিলার সংঘর্ষ হয়।  এ সময় সৈন্যরা নিউ পিপলস আর্মির গেরিলারা গ্রামবাসীদের কাছ থেকে সাংগঠনিক অর্থ সংগ্রহ করছে এমন একটি খবরের তদন্ত করছিল বলে জানায়।

রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে ৩ সৈন্য নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে।  নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতের্তে শান্তি আলোচনার শুরু করার কথা বলার কয়েকদিন পর এই সহিংস ঘটনাটি ঘটল।

গেরিলাদের এক দশকের তৎপরতা বন্ধের লক্ষ্যে এ শান্তি আলোচনাটি শুরু হয়েছিল।

৯ মে নির্বাচনে জয়লাভ করার পর দুতের্তের মুখপাত্র বলেছিলেন, পুনরায় শান্তি আলোচনার শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি জেলখানায় আটক কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের ছেড়ে দিতে পারেন।

তার পূর্বসুরী বেনিগনো অ্যাকুইনো ২০১৩ সালে ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আলোচনা ভেঙ্গে দেন। মাওবাদীদের পক্ষ থেকে আটক বিদ্রোহীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করা হলে অ্যাকুইনোর সঙ্গে তাদের শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে যায়।

এদিকে দুতের্তের বিজয় সত্ত্বেও মাওবাদীরা তাদের গণযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছে এটা গণযুদ্ধে কোন প্রভাব ফেলবে না।

সূত্রঃ http://philippineslifestyle.com/blog/2016/05/16/npa-guerrillas-kill-3-soldiers-negros/


যে প্রেক্ষাপটে অক্টোবর বিপ্লব

Ussr_Day_of_the_October_Revolution_1938

 

যে প্রেক্ষাপটে অক্টোবর বিপ্লব

 

১৯১৭ খিষ্টাব্দের রুশদেশে নভেম্বর বিপ্লব মানব সমাজের ইতিহাসে সবথেকে বড় সামাজিক বিপ্লব। পুরানো পঞ্জিকার হিসাবে এটাকে অক্টোবর বিপ্লবও বলা হয়। ফরাসি বিপ্লবসহ অন্যান্য বিপ্লবগুলো এক ধরনের শোষণের উচ্ছেদ ঘটিয়ে আর এক ধরনের শোষণ, এক ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আর এক ধরনের বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। রুশ অক্টোবর বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল মানব সমাজ থেকে সকল প্রকার শোষণ ও বৈষম্যের চির অবসান ঘটানো। এ ধরনের বিপ্লব মানব সমাজে এটাই প্রথম। অবশ্য এর আগে ফ্রান্সের প্যারিস শহরে প্যারি কমিউন নামে একটা বিপ্লব হয়েছিল যে বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল মানব জাতির ওপর চেপে বসা সকল নিপীড়ন ও বৈষম্যের অবসান ঘটানো। ১৮৭১ সালের ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ছিল এই বিপ্লবের স্থায়িত্বকাল। বিশ্বের প্রথম প্রলেতারীয় (সর্বহারা শ্রেণি) বিপ্লব ও শ্রমিক শ্রেণির সরকারকে শোষক শ্রেণি উচ্ছেদ করেছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে। অতএব রুশ নভেম্বর বিপ্লবই ছিল শোষণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম সফল বিপ্লব। সাম্যভিত্তিক মানবিক সমাজের যে স্বপ্ন মানুষ যুগ যুগ ধরে লালন করে আসছিল তার রূপায়নই ছিল এই বিপ্লবের লক্ষ্য। শোষণ বৈষম্যের যন্ত্রণায় আর্তনাদরত অমানবিক সমাজ ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করাই ছিল এর লক্ষ্য। রুশ দেশে অক্টোবর বিপ্লব কী কী করেছিল তার মূল্যায়ন করার সময়ে এই বিপ্লব কী কী করতে চেয়েছিল তাকেও বিবেচনায় রাখা উচিত।

নতুন পঞ্জিকা অনুসারে ১৯১৭ সালের মার্চে (১২ মার্চ) রাশিয়ায় বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন হয়। জার রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। একই দিন উত্থান ঘটে শ্রমিক ও সৈনিক প্রতিনিধিদের পেট্রোগ্রাড সোভিয়েত। পুরানো পঞ্জিকার হিসাবে (তখন রাশিয়ায় প্রচলিত) এটাকে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়। এই বিপ্লবের ফলে এক সাথে দ’ুটো সংস্থার উদ্ভব ঘটে। একটা হলো বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক সরকার, আরেকটি হলো শ্রমিক ও সৈনিক প্রতিনিধিদের পেট্রোগ্রাড সোভিয়েত। উল্লেখ্য যে তখন রাশিয়ার রাজধানী ছিল পেট্রোগ্রাড। এটা যেন অনেকটা একটা রাজতন্ত্রী সরকারের পতনের ফলে এক সাথে বুর্জোয়া ও সর্বহারাদের দুটি সরকারের উদ্ভব। দু’টি সরকারের উদ্ভবের ঘটনা ইতিহাসে অভূতপূর্ব। মূলত শ্রমিক ও সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতের উদ্ভবের মধ্যেই নিহিত ছিল রুশ দেশে নভেম্বর বিপ্লবের ভিত্তি।

এ সম্পর্কে লেনিন লিখেছেন, ‘আমাদের বিপ্লব সৃষ্টি করেছে দ্বৈত ক্ষমতা, এই হলো তার খুবই লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। এই ঘটনাটিকে সর্বাগ্রে উপলব্ধি করতে হবে, এটা না বুঝলে আমরা এগোতে পারবো না। দ্বৈত ক্ষমতার কথা আগে কেউ ভাবেনি, ভাবতে পারতোও না। এই দ্বৈত ক্ষমতাটা কি? বুর্জোয়াদের সাময়িক সরকারের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে আর একটা সরকার, সেটা এখন অবধি দুর্বল, প্রারম্ভিক, কিন্তু নিঃসন্দেহে একটা সরকার, যার প্রকৃত অস্তিত্ব রয়েছে বাড়ছে- শ্রমিক এবং সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতগুলি। ….এটা প্রলেতারীয়েত এবং সৈনিকের উর্দি পরা কৃষকদের নিয়ে গঠিত।’ লেনিনের মতে শ্রমিক কৃষকের অসাধারণ সৃজনী ক্ষমতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সোভিয়েতগুলো সৃষ্টি না করলে নভেম্বর বিপ্লব সম্ভব হতো না।
মার্চ বিপ্লবের ফলে শ্রমিক ও সৈনিকদের পেট্রোগ্রাড সোভিয়েত রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় পরিণত হয়। গণতন্ত্রের পথে দ্রুত অগ্রযাত্রার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এই সংস্থা বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক সাময়িক সরকারকে মেনে নেয়। দুমা সাময়িক কমিটি এবং সোভিয়েত কার্যকরী কমিটি যৌথভাবে কিছু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে কারাগারে ও নির্বাসনে থাকা সকল রাজনৈতিক নেতা কর্মীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা; মতামত প্রকাশ, বক্তৃতা ও সংবাদপত্র প্রকাশ এবং ধর্মঘট করার স্বাধীনতা, সমাবেশ করার স্বাধীনতা, সর্বজনীন গোপন ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা; যুদ্ধরত না থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনীও সংগঠন ও রাজনীতি করার অধিকার লাভ ইত্যাদি।

সেনাবাহিনীর রাজনীতি করার অধিকার লাভ একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বুর্জোয়া অস্থায়ী সরকারের যুদ্ধমন্ত্রী কেরেন্সকি সোলজার্স চার্টার্স জারি করেছিলেন। এর ফলে সৈনিকেরা সাধারণ নাগরিকদের মতো সকল বিষয়ে সমান অধিকার প্রাপ্ত হয়। তারা স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ, যুদ্ধে নিয়োজিত না থাকা অবস্থায় অসামরিক পোশাক পরিধান, রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত হওয়া ইত্যাদি অধিকার লাভ করে। অফিসারদের প্রতি সৈনিকদের অভিবাদনের প্রথা এবং শারীরিক দন্ড বিধানের ব্যবস্থা রহিত করা হয়। প্রাণদন্ডের বিধানও বাতিল করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিক ও সৈনিকদের সোভিয়েত এক ঘোষণা প্রচার করে। এই ঘোষণার ফলে সাধারণ সৈনিকেরা তাদের অফিসারদের নির্বাচনের অধিকার লাভ করে। অস্ত্রশস্ত্র সৈনিকদের হাতেই থাকবে এবং সেনাদলের পর্যবেক্ষণের ভার সৈনিক সমিতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। এই ঘোষণার ফলে সাধারণ সৈনিক ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকলো না।

মার্চ বিপ্লবের সময়ে লেনিন রাশিয়ায় ছিলেন না। বিপ্লবের পর তিনি দেশে ফেরেন। বিপ্লবের পর গৃহীত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাবলির ফলাফল সম্পর্কে লেনিন ১৯১৭ সালের ২০ এপ্রিল প্রাভদা পত্রিকায় রাশিয়াকে সবচেয়ে মুক্ত গণতন্ত্রের দেশ বলে উল্লেখ করেন। এ ধরনের অবাধ গণতন্ত্রের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করে লেনিনের নেতৃত্বাধীন বলশেভিক পার্টি। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর মধ্যে সংগঠন করা ও রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের সুযোগ তারা লুফে নেয়। সেনাবাহিনীর মধ্যে বলশেভিকদের সংগঠন ছিল নভেম্বর বিপ্লবের মূল ভিত্তি। এ সম্পর্কে লেনিন লিখেছিলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ছিল সৈন্যবাহিনীর প্রায় অর্ধেক, লোকসংখ্যায় তা ছিল অন্তত এক কোটি।’ নভেম্বর বিপ্লবকে ভালভাবে বুঝতে হলে অন্তত এই কথাটি মনে রাখা দরকার।

তবে বিশ্বের সবথেকে অবাধ গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব ছিল খুবই কম। ৫ জুলাই থেকে বুর্জোয়াদের অস্থায়ী সরকার গণতন্ত্রের ওপর হামলা শুরু। ৬ জুলাই লেনিনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেফতারী পরোয়ানা। লেনিন আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হলেন। লেনিনকে বলা হলো জার্মানির দালাল। অথচ তখন রাশিয়ার সাথে জার্মানির যুদ্ধ চলছিল। লেনিনকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছিল। তবে লেনিনকে গ্রেফতারের জন্য বুর্জোয়া সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ২৬ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত পেট্রোগ্রাডে অনুষ্ঠিত হয় বলশেভিক পার্টির ৬ষ্ঠ কংগ্রেস। আত্মগোপনে থাকায় লেনিন এই কংগ্রেসে উপস্থিত হতে পারেন নাই। তবে তার লেখা প্রবন্ধ ও থিসিসগুলো হয় কংগ্রেসে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি। কংগ্রেসে সর্বসম্মতিক্রমে লেনিনকে বলশেভিক পার্টির নেতা নির্বাচিত করা হয়। সারা দেশ জুড়ে বলশেভিকদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চলছিল বিধায় এই কংগ্রেসের খবর গোপন রাখতে হয়েছিল। কংগ্রেস সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ট্রটস্কিকে বলশেভিক পার্টিতে গ্রহণ করা হয়।

এই সময়ে নিরাপত্তার স্বার্থে লেনিন গোপনে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করেন। ইতোমধ্যে কেরেন্সকি অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন (জুলাই)। তিনি জেনারেল কর্নিলভকে সেনাবাহিনীর প্রধান নিয়োগ করেন। কর্নিলভ ঘোষণা করেন (আগস্ট), ‘লেনিন যাদের নেতা সেই জার্মান গুপ্তচর সমর্থকদের এখনই নির্মূল করতে হবে; শ্রমিক ও সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েত এখনই ভেঙে দিতে হবে। যাতে তারা আর একত্রিত হতে না পারে।’ এক পর্যায়ে কর্নিলভ কেরেন্সকি সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। তবে সেই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং কর্নিলভকে গ্রেফতার করা হয়। কর্নিলভের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ফলে সরকার ও সেনাবাহিনীর অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

কর্নিলভ যেদিন গ্রেফতার হন সেদিন অর্থাৎ ১৩ সেপ্টেম্বর (নতুন পঞ্জিকা অনুসারে) পেট্রোগ্রাড সোভিয়েতে [এত দিন যেখানে মেনশেভিক ও সোশালিস্ট রেভেল্যুশনারি নিয়ন্ত্রণ ছিল] বলশেভিকদের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাশ হয়। পেট্রোগ্রাড সোভিয়েত বলশেভিকদের পক্ষে যোগদান করে। এর পাঁচ দিন পর মস্কো সোভিয়েতও বলশেভিকদের পক্ষে যোগদান করে। এর পর অন্যান্য শহরের সোভিয়েতগুলো ক্রমে ক্রমে একই পথ অবলম্বন করে বলশেভিকদের পক্ষে যোগদান করে। এর আগে জুলাই মাসে অস্থায়ী সরকার বলশেভিকদের ওপর দমন পীড়ন শুরু করলে তাদের অবস্থা সঙ্কটে পড়ে। এবার বলশেভিকদের অবস্থার দ্রুত উন্নতি শুরু হয়। কর্নিলভ ঘটনার পর তাজা বাতাস বলশেভিকদের পালে হাওয়া লেগে তাদের যেন সামনে নিয়ে এলো। লেনিন লিখেছেন, ‘শ্রমিক ও সৈনিকদের সোভিয়েতে সংখ্যাধিক্য লাভ করায় রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে পারে বলশেভিকরা এবং তারা অবশ্যই রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করবে। উভয় রাজধানীতে শ্রমিক ও সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতে বলশেভিকরা সংখ্যাধিক্য লাভ করেছে। …. পেট্রোগ্রাড ও মস্কোতে অবিলম্বে ক্ষমতা দখল করতে হবে।’

অক্টোবরে লেনিন দেশে ফিরে আসেন [পুরাতন পঞ্জিকা অনুসারে]। ১০ অক্টোবর বলশেভিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির গোপন অধিবেশনে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন লেনিন। এর ছয় দিন পর কেন্দ্রীয় কমিটির আর একটি অধিবেশন হয় কালিনিনের সভাপতিত্বে। লেনিন এতে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। ওই অধিবেশনে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি পেট্রোগ্রাড সোভিয়েতে গঠন করে বৈপ্লবিক সামরিক কমিটি। পেট্রোগ্রাড সোভিয়েতের সভাপতি ছিলেন ট্রটস্কি।

৭ নভেম্বর ১৯১৭ বলশেভিক পার্টি পেট্রোগ্রাডে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেরেন্সকি পালায়ন করেন। এই সশস্ত্র বিপ্লবে কোন রক্তপাত হয়নি। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা সরকার গঠন করে। বুর্জোয়াদের বহুল ব্যবহৃত গতানুগতিক মন্ত্রিসভা শব্দটি লেনিন বর্জন করেন। তিনি তার মন্ত্রিসভার নামকরণ করেন ‘পিপলস কমিশার্স’। তিনি হন এর সভাপতি।

বলশেভিক পার্টি ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে একটা ঘোষণা জারি করে। তা হলো; রাশিয়ার নাগরিকদের প্রতি! সাময়িক সরকার ক্ষমতাচ্যুৎ। রাষ্ট্র ক্ষমতা শ্রমিক ও সৈনিক প্রতিনিধিদের পেট্রোগ্রাড সোভিয়েতের সংস্থা- সামরিক বিপ্লবী কমিটির হস্তগত, পেট্রোগ্রাড প্রলেতারিয়েত ও গ্যারিসনের নেতৃত্ব করছে এই কমিটি। জনগণ যে অভীষ্টের জন্য লড়েছিল; অবিলম্বে গণতান্ত্রিক শান্তির প্রস্তাব, জমির ওপর জমিদারি স্বত্বের অবসান; উৎপাদনের ওপর শ্রমিকের নিয়ন্ত্রণ সোভিয়েত সরকার গঠন সেই লক্ষ্য নিশ্চিতভাবে অর্জিত হয়েছে। শ্রমিক সৈনিক ও কৃষকদের বিপ্লব জিন্দাবাদ।

সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বলশেভিক পার্টির সংগঠন থাকায় ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীই ৭ নভেম্বর মূল ভূমিকা পালন করে। এ জন্য জন রিড তাঁর ‘দুনিয়া কাপানো দশ দিন’ বইতে নভেম্বর বিপ্লবকে বলশেভিক ক্যুদেতা বলেও উল্লেখ করেছেন। নভেম্বর বিপ্লব ভালভাবে বুঝতে হলে সশস্ত্র বাহিনীর এই ভূমিকা বোঝা দরকার।

বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীরা সোভিয়েতকে এত ঘৃণা করতো যে, শ্রমিক ও সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতকে বলতো ‘কুকুর প্রতিনিধিদের সোভিয়েত’। আলবার্ট রিচ উইলিয়মস লিখেছেন, ‘বলশেভিক পার্টির শতকরা ৯৬ জন ছিলেন শ্রমজীবী। সরাসরি শ্রমিকের জীবন থেকে আসেন নাই এমন সব বুদ্ধিজীবীও অবশ্য পার্টিতে ছিলেন। তবে লেনিন আর ট্রটস্কি দুঃখকষ্টের জীবনের এত কাছাকাছি ছিলেন যে, গরিব মানুষের ভাব ভাবনার কথা তাঁদের জানা ছিল।’

নভেম্বর বিপ্লব যখন সম্পন্ন হয় তখনও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছিল। এই যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছে। অসংখ্য মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর ফলে কলকারখানা ও কৃষিতে কাজের মানুষের অভাব দেখা দিয়েছে। অস্ত্রশস্ত্রের অভাব, মন্ত্রীদের দুর্নীতি, রাষ্ট্র যন্ত্রের বিশৃঙ্খল অবস্থা, জারের দরবারে মূর্খ রাজপুটিনের অপ্রতিহত প্রভাব ইত্যাদির ফলে রাশিয়ায় ঘনিয়ে আসে এক ভয়াবহ সঙ্কট। যুদ্ধেও জারের সৈন্যবাহিনীর হার হচ্ছিল। এই ব্যাপক অরাজক অবস্থার আসল চাপটা পড়েছিল রাশিয়ার শ্রমিক ও কৃষকদের ওপর। বলতে গেলে জারের শাসন ব্যবস্থা নিজ থেকেই ভেঙে পড়েছিল। শান্তির জন্য মানুষ ব্যাকুল হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতেই রাশিয়াতে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি এই বিপ্লবের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব মানুষের শান্তির আকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল। জারের আমলে শুরু হওয়া সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধ অব্যাহত রাখে বুর্জোয়া সরকার। অথচ রাশিয়ার মানুষের চাওয়া ছিল যুদ্ধের অবসান। এই পরিস্থিতি নভেম্বর বিপ্লবের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করে দেয়।

একটা দেশে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন হলে সে দেশে বিপ্লবের পরবর্তি স্তর হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। তাই রাশিয়ায় তখন থেকে শুরু হয়েছিল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তর। ভারতের সুব্রত বল লিখেছেন, ‘সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তর শুরু হওয়া, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব শুরু হওয়া এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সামাজিক দায়িত্বসমূহ শুরু হওয়া এক জিনিস নয়। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তরের সূচনা নির্ধারিত হয় বুর্জোয়া শ্রেণির রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল দ্বারা, আর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা নির্ধারিত হয় শ্রমিক শ্রেণির একচ্ছত্র ক্ষমতা কায়েমের দ্বারা [শ্রমিক শ্রেণির সেই সরকার কখন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সামাজিক দায়িত্বসমূহের রূপায়ন শুরু করতে পারছে তার দ্বারা নয়]। যদিও কৃষি প্রধান রাশিয়ার বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে ১৯১৭ সালের নভেম্বর বিপ্লবের ফলে সর্বশ্রেণির কৃষকের যৌথ ক্ষমতা কায়েম হয়েছিল এবং যদিও দীর্ঘ এক বছর যাবৎ গ্রামের বিপ্লব বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক স্তরের সীমা অতিক্রম করেনি। তবু যেহেতু শ্রমিক শ্রেণি একচ্ছত্রভাবে রাশিয়ায় কেন্দ্রীয় অর্থাৎ নির্ধারক ক্ষমতা দখল করে নিতে পেরেছিল, তাই বলা হয় যে অক্টোবর বিপ্লব ছিল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা।’

নভেম্বর বিপ্লবের সময়ে রাশিয়া ছিল কৃষি প্রধান দেশ। জনসাধারণের ৮০ শতাংশ ছিল কৃষক। কৃষকের সমস্যার সমাধান ছাড়া দেশের উন্নতি ছিল অসম্ভব। কৃষি ছিল অত্যন্ত পশ্চাৎপদ এবং তাতে ভূমিদাস প্রথার চিহ্নিত সামন্তবাদী অবশেষসমূহ বিদ্যমান ছিল। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যমান ক্ষুদ্র পণ্য উৎপাদন ইউনিটগুলো ছিল সমাজতন্ত্র বিনির্মাণের বাধা। এক কথায় রাশিয়া তখন ছিল চাষাদের দেশ। পুরো দেশটাই ছিল এই অবস্থার প্রভাবাধীন। হয়তো এই জন্যই সৈনিকদের বলা হতো উর্দি পরা কৃষক অর্থাৎ সামরিক পোশাক পরলেও তারা কৃষক। একইভাবে শিল্প শ্রমিকদের নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই ছিল কারখানার পোশাকে কৃষক। ই.এইস.কারের মতে, কৃষকদের একটা ধূসর পুঞ্জ রাতারাতি পরিবর্তিত হয়েছে কারখানা শ্রমিকদের ধূসর পুঞ্জে।’রাশিয়ার এই ব্যাপক পশ্চাৎপদতা থেকে উদ্ভুত কয়েকটি কারণ নভেম্বর বিপ্লবের বিজয়কে এগিয়ে দিয়েছে। নভেম্বর যে কর্তব্যের সম্মুখীন হয় তা ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং কম সংগঠিত বুর্জোয়া শ্রেণিকে উৎখাত করা। দ্বিতীয়ত লেনিনের ভাষায়, ‘রাশিয়ার পশ্চাৎপদতা এক অদ্ভুত উপায়ে সর্বহারার বুর্জোয়া বিরোধী বিপ্লবকে কৃষকের জমিদার বিরোধী বিপ্লবের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।’

কৃষকদেরকে কারখানায় ঢুকিয়ে তাদের ওপর কারখানা শৃঙ্খলা আরোপ করায় তাদের সাথে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের শ্রেণি বিরোধ উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোর তুলনায় বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। ই.এইস. কারের মতে, ‘পাশ্চাত্যের অগ্রসর প্রলেতারিয়েতের চেয়ে দুর্বল পশ্চাৎপদ রুশ প্রলেতারিয়েত প্রলেতারীয় বিপ্লবের জন্য বেশি উর্বরভূমি যোগান দিয়েছে।’এর ফলে বিপ্লবের জন্য আত্মগত প্রয়াস অর্থাৎ ওপর থেকে বিপ্লবের (সংগঠন কর্তৃক বিপ্লবের প্রয়াস) পাশাপাশি নিচু থেকে বিপ্লবের (সাধারণ শ্রমিকদের বিপ্লবের চেষ্টা) পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়। অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলে বলা যায় শোষিত নিপীড়িত শ্রেণি কর্তৃক ন্যায়বিচার ও সাম্যের দাবিতে আন্দোলনের ব্যাপারটাই (নিচু থেকে বিপ্লব) বিপ্লবের জন্য যথেষ্ট নয়; শোষক নিপীড়কদের মধ্যে সঙ্কটেরও প্রয়োজন রয়েছে। নভেম্বর বিপ্লবের সময়ে এই দুই পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল। শোষিত-নিপীড়িতদের পক্ষ থেকে শোষিত-নিপীড়িত হতে না চাওয়া অর্থাৎ শোষণের জোয়াল ফেলে দেওয়ার প্রয়াস এবং শোষক-নিপীড়কের পক্ষে শোষণ-নিপীড়ন চালিয়ে যেতে অক্ষমতা বিপ্লবী পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। যে দেশে জনগণের শতকরা ৮০ জন কৃষক সেদেশে ভূমি সমস্যা যে একটা জ্বলন্ত সমস্যা তা বলাই বাহুল্য। কৃষিতে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের চরিত্রের পরিবর্তন সাধনের কোন পদক্ষেপ-ই নেয়নি অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকার। এ জন্য বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ধরনের অনেক কাজই করতে হয়েছে বলশেভিক সরকারকে। অবশ্য বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের আর্থ সামাজিক দায়িত্বগুলোর রূপায়ন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকার কাজগুলো শুরুই করে নাই। এন.এম. বরোদিন তাঁর ‘ওয়ান ম্যান ইন হিজ টাইম’এ সময়ের একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। বরিসভ নামক এক রুশ রাজনীতিক বলেন, ‘গরিব কৃষকরা কী তাদের জমি পেয়েছে? না খনি শ্রমিকরা কী খনিগুলির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করেছে? না। আমরা অবশ্যই তাদেরকে (বুর্জোয়া সরকার ও রাষ্ট্র যন্ত্রকে) ঝেঁটিয়ে দূর করবো। আমরা অবশ্যই এ সব কীটপতঙ্গকে তাদের সব কিছুসহ ধ্বংস করবো এবং তাদের ধ্বংস স্তূপের ওপর গরিবদের প্রজাতন্ত্র গড়ে তুলবো।’ধনীদের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে গরিবদের রাজত্ব কায়েমের একটা আকাক্সক্ষা তখন রাশিয়ার জনগণের মধ্যে বিরাজমান ছিল। এটাও নভেম্বর বিপ্লবের অনুকূল একটা বিষয় ছিল।

১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব হওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যে সমাজতন্ত্রের জন্য অবস্থা পরিপক্ক হওয়া খুব স্বাভাবিক ছিল না। এ যেন আট মাসের মধ্যে একটা নবজাতকের যুবকে পরিণত হওয়া; যে বোঝা বহন করার জন্য যুবকের প্রয়োজন সে বোঝা নবজাতক কিভাবে বহন করবে? নভেম্বর বিপ্লবের ভিত্তিতে এই দুর্বলতা ছিল। এ জন্য লেনিন আর্থ সামাজিক দায়িত্বগুলো সম্পাদনের দিক থেকে নভেম্বর বিপ্লবকে অনেকটা বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব বলে উল্লেখ করেছিলেন। লেনিন একবার বলেছিলেন, ‘১৯১৭ সালের অক্টোবরে আমরা ক্ষমতা দখল করি সমগ্র কৃষক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একত্রে। এ ছিল একটা বুর্জোয়া বিপ্লব, কেননা গ্রামাঞ্চলে তখনও অবারিত হয়নি। আগে বলেছি গ্রামাঞ্চলে সত্যিকার প্রলেতারীয় বিপ্লব শুরু হয় মাত্র ১৯১৮ সালের গ্রীষ্মে। এ বিপ্লবকে জাগিয়ে তুলতে না পারলে আমাদের কাজ থাকতো অসম্পূর্ণ। অবশ্য ১৯১৭ সালের বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পর লেনিন লিখেছিলেন যে রাশিয়াতে সমাজতন্ত্র রাতারাতি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। তিনি লিখেছিলেন, এখনই সমাজতন্ত্র প্রবর্তন নয়, আসন্ন বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষকে ঠেকাবার জন্য অবিলম্বে জরুরি বৈপ্লবিক ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে এই মুহূর্তের করণীয়।’

সত্যিকার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রমিক শ্রেণির সরকার তথা সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব। ৭ নভেম্বর ১৯১৭ লেনিনের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, লেনিন তাকে ‘শ্রমিক কৃষকের সরকার’বলে ঘোষণা করেন। যে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষক সে দেশে এমন না করে উপায় ছিল না। যাহোক শান্তির জন্য মানুষের ব্যাকুলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে লেনিন ৮ নভেম্বর ঘোষণা করেন শান্তির ডিক্রি। এতে তিনি ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলাপ আলোচনা শুরু করতে সমস্ত যুদ্ধমান জাতি ও তাদের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। নভেম্বর বিপ্লবের প্রথম কথাই হলো শান্তি চাই। এরপর একই দিন তিনি ঘোষণা করেন ভূমি সংক্রান্ত ডিক্রি। এতে তিনি কোন খেসারত ছাড়াই জমিতে জমিদারের মালিকানা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এখন থেকে বাজেয়াপ্ত করা জমিসহ সকল ভূমির মালিক হবে সমগ্র জনগণ। উল্লেখ্য জমিদারি জমির সাথে সেগুলোর সমস্ত পশুসম্পদ, সরঞ্জাম, ঘরবাড়ি ও সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সব কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানার লোপ করা হয়। নিজেদের শ্রমে যতটুকু জমি চাষ করা সম্ভব কৃষক পাবে শুধু ততটুকু জমি; মজুর খাটানো নিষিদ্ধ। কৃষি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে এই ডিক্রিতে বিস্তারিত কর্মসূচি রয়েছে। ৯ নভেম্বর শ্রমিকের নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে খসড়া প্রবিধান ঘোষণা করেন লেনিন। যেসব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক আর কর্মচারীর সংখ্যা পাঁচের কম নয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমিকের নিয়ন্ত্রণ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয় এতে। এ লক্ষ্যে এ প্রবিধানে বিস্তারিত কর্মসূচি রয়েছে। এই হলো নভেম্বর বিপ্লব। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল রক্তপাতহীন। কিন্তু উৎখাত হওয়া শাসক শোষক শ্রেণি পরবর্তি সময়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু করে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। বিদেশি সাম্রাজ্যবাদীদের মদতপুষ্ট এই শাসক শোষক শ্রেণি অবশেষে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

লেখকঃ আবদুল মন্নান

 

সূত্রঃ 

13076745_715535491921699_3304914592563662269_n


বাংলাদেশে আদিবাসী বিতর্ক ও তাদের মুক্তি প্রসঙ্গে

b81af55416f12b58bff0efa1f438eac6-03

বাংলাদেশে আদিবাসী বিতর্ক ও তাদের মুক্তি প্রসঙ্গে

(জুন, ২০১৩)

বাংলাদেশে বাঙালী ছাড়া আদিবাসী হিসেবে পরিচিত অন্যান্য জাতিসত্তা রয়েছে তা দেশের শাসক শ্রেণী স্বীকৃতি দেয় না।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনিসহ সরকারের মন্ত্রিরা বলছে বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই।  যেমন একজন জীবন্ত মানুষকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে বলছে ক্রসফায়ারে মৃত্যু হয়েছে।  এমনি মিথ্যা সংস্কৃতির উপর দাঁড়িয়ে আছে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল বড় ধনী শ্রেণী ও তার লুটেরা শাসন ব্যবস্থা।  ’৭২-এর সংবিধানেই তৎকালীন মুজিব সরকার আদিবাসীদের কোন ধরনের অধিকার স্বীকার করেনি।  সেই সংবিধানের ৩নং ধারায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে, বাংলাদেশের নাগরিকগণ বাঙালী বলিয়া পরিচিত হইবেন।” এই বক্তব্যকে তখনই বিরোধিতা করেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লার্মা।  আর শেখ মুজিব চাকমা নেতা লার্মাকে বাঙালী হয়ে যেতে বলেছিল।  সে কারণেই সংখ্যালঘু জাতিসত্তার জনগণ পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র বিদ্রোহ করেছিল।

’৯৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার এক প্রতারণাপূর্ণ শান্তিচুক্তি ক’রে সেই সংগ্রামের অবসান করে।  আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সমতলের আদিবাসী তথা ক্ষুদ্র জাতি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বীকৃতি, তাদের জমি, জলাধার এবং বন এলাকার অধিকার সংক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু মহাজোট সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আদিবাসী তথা সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।  তাদেরকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও উপজাতি হিসেবে উলে¬খ করা হয়েছে।  এমনকি বিশ্ব আদিবাসী দিবসের কোন অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তাদের অংশ না নেওয়া এবং কোন সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতা না করার নির্দেশ দিয়েছে।  বলা হয়েছে, এ দেশে কোন আদিবাসী নেই।  এভাবে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার অধিকারকে অস্বীকার করেছে।  তাদের নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেই তারা বেঈমানী করেছে।

পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল নিয়ে বিএনপি’র নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট আন্দোলন করলেও আদিবাসী তথা সংখ্যালঘু জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রশ্নে কোন কথা নেই।  বাঙালী বড় ধনী শ্রেণীর প্রতিনিধি আওয়ামী-বিএনপি জোটের সাথে পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কোন পার্থক্য নেই।  পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী যেমনি বাঙালীসহ অন্যান্য জাতির অধিকার স্বীকার করতো না এবং উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সকল জাতির উপর চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল, তেমনি বাঙালী বুর্জোয়া শাসকরাও বাংলাদেশের অন্যান্য জাতিসত্তার অধিকার ও বিকাশকে অস্বীকার করছে।

 বাংলাদেশের শাসক বড় ধনী শ্রেণী কেন এ দেশে আদিবাসী নেই বলছে এবং কেন সংবিধানে এর স্বীকৃতি দিচ্ছে না? কেন উপজাতি বা ক্ষুদ্র্র নৃ-গোষ্ঠী তারা বলছে? এর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থটা কি?

এর কারণ হলো এই স্বীকৃতি দিলে তাদেরকে ভূমির অধিকার এবং জাতি হিসেবে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও বিকাশের অধিকার দিতে হয়।  বুর্জোয়া বড় ধনীদের স্বার্থেই আওয়ামী লীগ সরকার সংখ্যালঘু জাতিসত্তার জনগণকে সংবিধানে জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে।  সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্যই এ দেশে আদিবাসী নেই প্রমাণ করার অপচেষ্টা করছে।

আজকে সরকার কুযুক্তি করছে এই ভূখণ্ডে আদিকাল থেকে বাঙালীরা বসবাস করে আসছে, তাই বাঙালীরাই হচ্ছে এখানকার আদিবাসী।  ইতিহাসগতভাবেও এ তথ্য সঠিক নয়।  আদিতে এ ভূখণ্ডে-মুন্ডা জাতি বাস করতো।  গবেষণায় দেখা যায়, এখানে ১৭ হাজার বছর ধরে মানুষ বাস করলেও বাঙালীরা বাস করছে মাত্র ১ হাজার বছর ধরে।  আর বাংলা বর্ণমালার বয়স মাত্র ৫০০ বছর।  সে অর্থে সংখ্যালঘু জাতিসত্তার জনগণই আদিবাসী।

সমতলের আদিবাসীরা বাঙালীদের মধ্যে অনেক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করেন।  কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসীরা কেন্দ্রীভূতভাবে বসবাস করেন। এখানকার পরিস্থিতি আরো ভিন্ন। এখানকার ভূখণ্ড- আর বাঙালী অধ্যুষিত সমতলের ভূখণ্ড- ঐতিহাসিকভাবে এক ভূখণ্ড- নয়।  মাত্র ৫০ বছর আগেও এ অঞ্চলে বাঙালীরা ছিল না বললেই চলে।  ভারতবর্ষ বিভক্তির সময় ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীদের বসবাস ছিলো মাত্র ১.৫ শতাংশ।  যারা মূলত চাকুরী ও ব্যবসায়িক উদ্দেশে সাময়িকভাবে সেখানে বসবাস করতো।  বর্তমানে সেখানে বাঙালীর সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি।  বাঙালী বড় ধনী শ্রেণী সমতলের ভূমিহীন-গরিব কৃষকদের পাহাড়ে পুনর্বাসন করে পাহাড়ীদেরকে ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘুতে পরিণত করে ফেলেছে।

আদিবাসী শব্দটার সংজ্ঞা নিয়েও রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণী জঘন্য প্রতারণা করছে।  আদিকাল থেকে বাস করে যারা তারাই আদিবাসী এমন ধারণা-ব্যাখ্যা পৃথিবীর কোথাও নেই- যদিও এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক বটে।  এমনকি সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদীদের প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘও এ সংজ্ঞা বলে না।  ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ এ বিষয়ে যে সংজ্ঞা গ্রহণ করেছে তা হলো- “আদিবাসী সম্প্রদায়, জনগোষ্ঠী ও জাতি বলতে তাদের বোঝায়, যাদের ভূখণ্ডে প্রাক আগ্রাসন এবং প্রাক উপনিবেশ থেকে বিকশিত সামাজিক ধারাসহ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রয়েছে, যারা ঐ ভূখন্ড- বা ভূখণ্ডের কিয়দংশ বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র মনে করে।  বর্তমানে তারা সমাজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীভুক্ত।  এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও আইন ব্যবস্থার ভিত্তিতে জাতি হিসেবে তাদের ধারাবাহিক বিদ্যমানতার আলোকে তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের ভূখ- ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ভবিষ্যত বংশধরদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” এই সংজ্ঞা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের জনগণ আদিবাসী হিসেবে পরিচিত।

আদিবাসী জনগণের উপর জাতিগত নিপীড়ন বিরোধী পাহাড়ে ও সমতলে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন গড়ে উঠেছে। এসব সংগঠন শাসক শ্রেণীর কাছে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, আদিবাসীদের মানব অধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন- এ জাতীয় কিছু সংস্কারমূলক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছে।  এরা শাসক শ্রেণীর পাতা ফাঁদে ফেলছে এই জনগণকে।  অর্থাৎ আদিবাসী কি আদিবাসী না এই বিতর্ক সামনে এনে প্রচলিত সংবিধানে স্বীকৃতির দাবি তুলে মূলত জাতি হিসেবে স্বীকৃতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে ধামাচাপা দিচ্ছে।  সন্তু লারমা এক সেমিনারে বর্তমান রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের মনোভাব পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন। এখানেই শ্রেণী মূল্যায়ন ও শ্রেণী সংগ্রাম অনুপস্থিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে জেএসএস এবং ইউপিডিএফ-এর মধ্যে মৌলিক লাইনগত ও কর্মসূচিগত কোন পার্থক্য নেই। তারা জাতিগত সংগ্রামের সাথে সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবকে যুক্ত করে না।  সঠিক রাজনৈতিক দিশার অভাবে এবং শাসক শ্রেণীর মদদে পাহাড়ী সংখ্যালঘু জাতিগুলোর মাঝে অসংখ্য গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে।  ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত চলছে। যার ফায়দা লুটছে উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদী বুর্জোয়া শাসক শ্রেণী।

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি অবশ্যই ন্যায্য।  কিন্তু সাংবিধানিক স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়; সমস্যার প্রকৃত সমাধানও নয়।  কারণ, এই সংবিধানটাই গণতান্ত্রিক নয়।  বাংলাদেশ বাঙালীর রাষ্ট্র বলা হলেও সব বাঙালী, ৯০% ‘বাঙালী’ এই রাষ্ট্রের মালিক নয়।  বাঙালী শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তসহ ব্যাপক জনগণ শোষিত-নিপীড়িত।  এই রাষ্ট্রের মালিক বড় বড় ধনী ‘বাঙালী’রা এবং তাদের বৈদেশিক প্রভু সাম্রাজ্যবাদীরা।

তাই বাঙালী শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী নির্বিশেষে নিপীড়িত জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ ও তাদের দেশীয় দালাল বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর শোষণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের বিপ্লবী কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগঠিত হতে হবে। এর সাথে জাতিগত প্রশ্নে নির্দিষ্টভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, অন্যান্য আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ আঞ্চলিক প্রশাসন গড়ে তোলা, খোদ কৃষকের হাতে জমি- এই নীতির ভিত্তিতে সকল আদিবাসীকে জমিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা (দলিল থাক বা না থাক), খনিজ ও বনজ সম্পদ প্রথমে আদিবাসীদের উন্নয়নে ব্যবহার প্রভৃতি কর্মসূচি আনতে হবে।  মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদে সজ্জিত শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বেই কেবলমাত্র এ জাতীয় বিপ্লবী ধারার সংগঠন গড়ে উঠতে পারে। সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করতে হবে।  এ পথেই আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারসহ সার্বিক মুক্তি সাধিত হতে পারে।

সূত্রঃ পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জাতিসত্ত্বার সংগ্রাম সম্পর্কে নিবন্ধ সংকলন, আন্দোলন প্রকাশনা


১৩০তম মহান মে দিবসে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, হাওর আঞ্চলিক শাখা’র আহবান

peasants-launch-manifesto-for-agrarian-reform-after-historic-meeting

১৩০ তম মহান মে দিবসের ডাক

কৃষকের সার্বিক মুক্তি ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবী রাজনীতিকে শক্তিশালী করুন!

কৃষকের উপর পুঁজিবাদী-সামন্ততান্ত্রিক শোষণ উচ্ছেদে কৃষি বিপ্লবী কর্মসূচিকে আঁকড়ে ধরুন!

 

বন্ধুগণ,

১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস।

১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগোতে হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ হলে পুলিশ তাদের উপর গুলি চালায়।  শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় শিকাগোর রাজপথ। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ শ্রমিকদের আন্দোলনের কাছে শাসক শ্রেণি ও মালিকরা মাথা নত করতে ও শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।  এর পর থেকে আন্তর্জাতিভাবে ১লা মে শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  আমাদের দেশে ৮ঘণ্টা শ্রম দিবস আজও কার্যকর হয়নি।  গার্মেন্টস শ্রমিকদের এখনো ১২/১৬ ঘণ্টা খাটানো হচ্ছে।  তাদের ন্যূনতম বেসিক মজুরি ৮,০০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন মালিক পক্ষ পুলিশ-মাস্তান দিয়ে দমন করলেও মজুরি কিছু বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়।  ইতিহাসে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ এবং লাগাতার আন্দোলন ছাড়া তাদের কোনো দাবিই আদায় হয়নি।  তাই, মে দিবসে রং মেখে নৃত্য করার দিন নয়।  শ্রমিকদের সার্বিক মুক্তি ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার দৃপ্ত শপথ নেওয়ার দিন।  বড় ধনী শোষক শ্রেণি মে দিবসের চেতনাকে বিপথগামী করে উৎসবের দিন হিসেবে প্রচার করছে।

এই শ্রমিকশ্রেণির সার্বিক মুক্তি তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজে প্রধান নিপীড়িত-শোষিত কৃষকদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।  সেজন্য গ্রামে কৃষকদের মাঝে মে দিবস পালন ও তার রাজনৈতিক শিক্ষা প্রচারে জোর দিতে হবে।  শ্রমিক-কৃষকের দৃঢ় ঐক্য গড়তে হবে।

বন্ধুগণ,

আপনারা জানেন নয়া বাকশালী কায়দায় আওয়ামী ফ্যাসীবাদ জনগণের ঘাড়ে দৈত্যের মতো জেঁকে বসেছে, এবং একে স্থায়ী করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে-চক্রান্তে তারা লিপ্ত রয়েছে।  সংবিধান, আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া প্রভৃতি দলীয়করণ করেছে।  আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনকে পাকাপোক্ত করতে মরিয়া এ সরকার বিগত পৌর ও চলমান ইউপি নির্বাচনেও ব্যাপক সন্ত্রাস ও পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে চলেছে।  এভাবে এরা এদের  বুর্জোয়া নির্বাচনী ব্যবস্থাকেও পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।  গ্রেপ্তার, খুন, ধর্ষণ, গুম, মিথ্যা মামলা দিনকে দিন বেড়েই চলছে।  বিগত চার মাসে এক হাজারের বেশি হত্যাকা- ঘটেছে।  সেনা বাহিনীর আবাসিক এরিয়ায় কলেজছাত্রী তনু হত্যাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো সরকার আড়াল করার চেষ্টা করছে।

এই সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সহ উন্নয়নের নামে কৃষি জমি ও গ্রামকে গ্রাম বসতবাড়ি দখল, বস্তি উচ্ছেদ এবং মানুষ খুন করে চলেছে।  বাঁশখালী, হবিগঞ্জ এবং রামপালের  ঘটনা এর সাম্প্রতিক উদাহরণ।

কৃষিক্ষেত্রে পুঁজিবাদী ও সামন্ততান্ত্রিক শোষণের কারণে কৃষকদের অবস্থা আজ আরো সংকটাপন্ন। বীজ, সার, কীটটনাশক, ডিজেল, বিদ্যুৎসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষক জনগণ কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন।  প্রতিমণ ধান উৎপাদনে যা খরচ হয় তার চেয়ে অনেক কমে ধান বিক্রি করতে হয়।  অনেকেই অন্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন।  মাছ, মাংস ও সবজি চাষীরাও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।  মধ্যসত্ত্বভোগী দালাল ফরিয়ারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে- যাদের বিরাট অংশই সরকারি দলের নেতা-কর্মী- বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করে কৃষককে তার উৎপাদিত পন্য কম দামে বেচতে বাধ্য করছে।

সংগ্রামী হাওরবাসী,

কৃষি ও মাছ নির্ভর হাওর অঞ্চলের কৃষক ও জেলেদের নানাবিধও সমস্যা রয়েছে।  দুর্বল ফসলরক্ষা বাঁধ অথবা কোথাও তা না থাকার কারণে প্রতি বছরই পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়।  জোতদার-মহাজনী-এনজিও চড়া সুদের শোষণে কৃষকদের অনেকে ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছে।  অনেকে কৃষির বদলে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।  নিম্ন মাঝারি কৃষকেরা কোনরকমে টিকে রয়েছে।  জেলেরা মাছ ধরার অধিকার থেকে বঞ্চিত।  নদী-বিল-ফিসারী মুনাফা লোভী ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে।  জেলেদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এসবের বিরুদ্ধে “কৃষক মুক্তি সংগ্রাম” কৃষক ও জেলেদের আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদেরকে সংগঠিত করে চলেছে।  এবং মূল কর্মসূচি কৃষকদের বিপ্লবী কৃষি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সক্রিয় রয়েছে।  আপনারা দলে দলে এ সংগঠনে যোগ দিন।

আওয়াজ তুলুনঃ

– সকল শ্রম ক্ষেত্রে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবস কার্যকর করতে হবে!

– নারী-পুরুষের সমশ্রমে সম মজুরি দিতে হবে!

– “খোদ কৃষকের হাতে জমি”- এই নীতির ভিত্তিতে ভূসি সংস্কারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন, সংগ্রাম গড়ে তুলুন!

– প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বণ্টন- এই নীতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন!

– ছাত্র-বুদ্ধিজীবীগণ, “গ্রামে চলো” কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সাথে একাত্ম হোন!

– মাছ ধরবেন যিনি, জলার মালিক তিনি- বাস্তবানের জন্য আন্দোলন করুন!

– কৃষক মুক্তি সংগ্রাম- জিন্দাবাদ!

কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, হাওর আঞ্চলিক শাখা ॥ মে,  ২০১৬।

 


নকশালদের সাথে সংঘর্ষে DRG জওয়ান জখম

4bk5f3ff3c36a77ius_800C450

অনূদিতঃ 

গতকাল ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলার ঘন জঙ্গলে নকশালদের সাথে এক বন্দুক-যুদ্ধে পুলিশের জেলা রিজার্ভ গ্রুপ (DRG) এর গোপাল রোতেই নামে এক জওয়ান পায়ে গুলি লেগে আহত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।  পুলিশ বলছে, এখান থেকে ৪৫০ কিমি দূরে মুঙ্গা গ্রামের জঙ্গলে ভোররাতের দিকে রাষ্ট্রের DRG বাহিনীর একটি দল এ অঞ্চলে একটি অ্যান্টি-নকশাল অপারেশন চালানোর সময় নকশালরা আচমকা হামলা চালায়। আহত কনস্টেবলকে চিকিৎসার জন্যে গতকাল সকালেই জগদলপুর নেয়া হয়েছে বলে জগদলপুর শহরের এসপি দীপমালা কাশ্যপ জানায়।

সূত্রঃ http://www.business-standard.com/article/pti-stories/drg-jawan-injured-in-skirmish-with-naxals-116051801175_1.html


নিয়মগিরি থেকে আধা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করুন: NCHRO

niyamgiri-tribals

অনূদিতঃ

মানবাধিকার সংগঠন ন্যাশনাল কনফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস (NCHRO) স্থানীয় আদিবাসী জনসংখ্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মগিরি পাহাড়ী এলাকা থেকে সব আধা-সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

অল ইন্ডিয়া ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এক প্রতিবেদনে NCHRO দাবী করেছে যে, উড়িষ্যার কালাহান্ডি এবং রায়গড় জেলায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গবেষণা দলটির সদস্যরা হলেন – NCHRO চেয়ারপারসন- আম্রাক্স মার্কস, NCHRO জাতীয় সম্পাদক রেনি আয়লিন, NCHRO জাতীয় নির্বাহী সদস্য নরেন্দ্রনাথ মোহান্তি, NCHRO পশ্চিমবঙ্গ ইউনিট থেকে এ মোমেন হালদার ও ঝাড়খণ্ড থেকে ছাত্র কর্মী আব্দুল হান্নান।

এছাড়া তারা ওড়িশার কিছু সামাজিক ও আদিবাসী কর্মীদের সাক্ষাৎ নেন, একই সাথে  টিম সদস্যারা রায়গদা পুলিশ সুপেরিটেন্ডেন্ট এবং কালাহান্ডি জেলা ও লাঞ্জিগড় থানার উপ-পরিদর্শকের সাথে কথা বলেন।  তারা দাবি করে যে, নাছিনিগুদা গ্রামের বাকা মাঝি অপহরণ মামলা লাঞ্জিগড় বা বিজেপুর পুলিশের নিবন্ধন করা উচিত। বাকা মাঝি কোথায় আছে তা খুঁজে বের করতে কালাহান্ডি জেলা পুলিশ প্রশাসনের এটি একটি বিশেষ দল গঠন করা উচিত।

সূত্রঃ http://odishachannel.com/index.php/6266/withdraw-paramilitary-forces-from-niyamgiri-nchro/