image

জঙ্গলমহলের এক ওসিকে অপহরণের মামলায় মাওবাদী নেত্রী তারাকে সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল ঝাড়গ্রাম দ্বিতীয় এসিজেএম আদালত।  সাত বছর আগের ওই পুরনো মামলায় জেরা করার জন্য তারাকে হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল সিআইডি।  শনিবার আবেদন মঞ্জুর করে ১৩ দিন সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

জঙ্গলমহলের গণ আন্দোলন পর্বের সময়ে ২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর দিনদুপুরে পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁকরাইল থানায় হামলা চালিয়েছিল মাওবাদীদের একটি দল।  মোটর বাইকে চড়ে আসা সশস্ত্র মাওবাদীরা গুলি করে কর্তব্যরত দুই পুলিশ কর্মীকে খতম করেছিল।  থানায় মজুত পুলিশ কর্মীদের যাবতীয় অস্ত্র লুঠ করা হয়েছিল।  থানার পাশে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে লুটে নিয়েছিল তারা।  যাওয়ার সময় ওসি অতীন্দ্রনাথ দত্তকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল মাওবাদীরা। দু’দিন পরে লালগড়ের ভুলাগাড়ার জঙ্গলে অতীন্দ্রনাথবাবুকে ‘যুদ্ধবন্দি’ ঘোষণা করে সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁকে মুক্তি দিয়েছিলেন মাওবাদী শীর্ষনেতা কিষেনজি।  হামলা ও অপহরণের ঘটনায় শশধর, সুচিত্রা, তারা, বিকাশ-সহ  আরও অনেকের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা রুজু করে পুলিশ।  রাষ্ট্রদ্রোহ, খুন, অপহরণ, সরকারি কাজে পুলিশকে বাধা, অস্ত্র লুঠ, বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুত ও ষড়যন্ত্রের ধারায় রুজু হওয়া ওই মামলায় পরে ইউএপিএ ( বেআইনি কার্যকলাপ নিরোধক আইন) ধারা যুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন ৮ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।  যদিও ধৃতদের নাম এফআইআর-এ ছিল না।  তদন্ত শেষ না হওয়ায় এই মামলায় এখনও চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি সিআইডি।  ধৃতরা কয়েক মাস জেলে থাকার পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান।

গত এপ্রিল মাসের গোড়ায় মাওবাদী দম্পতি বিকাশ ওরফে মনসারাম হেমব্রম এবং তাঁর স্ত্রী তারা ওরফে ঠাকুরমণিকে গ্রেফতার করে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।  হুগলির মগরার চাঁপারুই থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।  বিকাশ এখন শালবনি বিস্ফোরণ মামলায় সিআইডি হেফাজতে রয়েছেন।  শিলদা-কাণ্ড সহ জঙ্গলমহলের একাধিক মামলার অভিযুক্ত তারা আলিপুর কেন্দ্রীয় মহিলা সংশোধনাগারে ছিলেন।  জেলে থাকাকালীন আদালতের অনুমতি নিয়ে গত ১৩ মে ওসি অপহরণ মামলায় তারাকে প্রাথমিক ভাবে জেরা করে সিআইডি। এরপর মামলার তদন্তের স্বার্থে তারাকে হেফাজতে চেয়ে ঝাড়গ্রাম দ্বিতীয় এসিজেএম আদালতে আবেদন করেন সিআইডি’র তদন্তকারী অফিসার। এ দিন তারাকে ঝাড়গ্রাম দ্বিতীয় এসিজেএম আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি পবিত্র রানা বলেন, “সাঁকরাইল থানায় হামলা এবং ওসিকে অপহরণের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু খোঁজার জন্য ও অধরাদের ধরার জন্য তারাকে জেরা করা প্রয়োজন।” তারার আইনজীবী কৌশিক সিংহ সিআইডি’র আবেদনের বিরোধিতা করেন, “আইনের বিধান অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি সিআইডি।  মামলা রুজু হওয়ার পরে সাত বছর অতিক্রান্ত।” ফলে, অভিযুক্তকে সিআইডি হেফাজতে নেওয়ার আবেদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কৌশিকবাবু। সওয়াল জবাব শোনার পরে বিচারক টিকেন্দ্রনারায়ণ প্রধান তারাকে ১৩ দিন সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

এ দিন তারার সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁর বাবা গালু মুর্মু, দিদি টুনটুনি কিস্কু ও পিসি ঠাকুরমণি মুর্মু।  তবে তারার মা পূর্ণিমা মুর্মু ‘মাওবাদী’ মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।  গালুবাবু বলেন, “পাখি (তারার ডাকনাম) ওর মাকে দেখতে চেয়েছিল।  কিন্তু আমার স্ত্রী আসেননি।  দেখি পরবর্তী হাজিরার দিনে পাখির সঙ্গে ওর মায়ের দেখা করানো যায় কি-না।”

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/cid-arrested-maoist-leader-1.392627