অধ্যাপক জি এন সাইবাবাঃ বন্দীশালার না বলা গল্প

বন্দীশালার না বলা গল্পঃ গত ২৬শে মে বিকেল ৫টায় হায়দ্রাবাদের লামাকানে অধ্যাপক জি এন সাইবাবা, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের নৃশংসতার বিরোধিতার জন্য জেলখানায় যে কষ্টকর সময় পার করেন, সেই বোধ থেকে না বলা কথাগুলো তুলে ধরেন।

Advertisements

নকশাল নারীদের হত্যাঃ গাদচিরোলিতে ৩১শে মে বনধ ডেকেছে মাওবাদীরা

13239340_1316954311654120_3131977406627397307_n

অনূদিতঃ 

গত জানুয়ারি থেকে পুলিশ কর্তৃক ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধের নামে ৫জন নকশাল নারীকে হত্যার প্রতিবাদে আগামী ৩১শে মে মহারাষ্ট্রের গাদচিরোলিতে বনধ ডেকেছে মাওবাদীরা, এই ৫জন নকশাল নারী হলেনঃ রজিথা উসেন্দি, মিনকো নারোতি, আরতি পুদো, নির্মলা দুম্মা ও সারিতা কোয়াসি।

পুলিশ সূত্রে জানাচ্ছে, সিপিআই(মাওবাদী) বিভাগীয় কমিটির সদস্য- ‘রজিথা’কে গত ৯ই মে এক সম্মুখযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে তাকে আত্মসমর্পণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে তা অস্বীকার করেছিল।  রজিথা, দীর্ঘ ১০ঘন্টা ধরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সহকর্মীদের পালানোর সুযোগ করে দিতে একাই পুলিশের সাথে AK 47 হাতে যুদ্ধ করেছিল, পুলিশ তাকে আয়ত্তে আনতে না পেরে ওই বাড়ীতে গ্রেনেড লাঞ্চার নিক্ষেপ করলে, গুলিবিদ্ধ ও অর্ধদগ্ধ অবস্থায় তিনি নিহত হন।

এই সকল হত্যাকাণ্ডকে “নির্মম” অভিহিত করে, দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় উপ-আঞ্চলিক ব্যুরোর মুখপাত্র শ্রীনিবাস এক সংবাদ নোটে বলেন, ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ফ্যাসিবাদী মোদী সরকারের ‘ভাড়াটে হত্যাকারীরা’ ‘মধ্যযুগীয় নিষ্ঠুরতায়’ ৫জন ‘দুর্দান্ত বিপ্লবী’কে হত্যা করে এবং এরই প্রতিবাদে ৩১শে মে বনধ ডাকা হয়েছে।

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/cities/mumbai/killing-of-women-naxals-maoists-call-gadchiroli-bandh-on-may-31-2821189/


কৃষক নারীদের জীবন

Special-NRF--(6)20150505115316

 

কৃষক নারীদের জীবন

আমাদের দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক হচ্ছেন নারী।  এই নারী সমাজের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগই গ্রামীণ কৃষক নারী।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় গ্রামীণ কৃষক নারীরা সবচাইতে বেশি নিপীড়িত-নির্যাতিত অংশ।  শহরের শ্রমিক নারী ও অন্যান্য শ্রেণির নারীরা কিছুটা সুযোগ-সুবিধা পেলেও গ্রামীণ কৃষক নারীরা এখনো মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক বহু শৃংখলে ব্যাপকভাবে বাঁধা পড়ে আছেন।  পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পুঁজিবাদের শোষণ-নিপীড়নও তাদের উপর রয়েছে।
নারীরা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিধানমতে জমি-সম্পত্তির অধিকার পান না, বা অর্ধেক পান।  কিন্তু গ্রামীণ নারীদের অধিকাংশ তাদের এই অর্ধেক সম্পত্তির অধিকারও প্রায় ক্ষেত্রেই ভোগ করতে পারেন না।  এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার কারণে নারীদেরকে বাল্যকালে পিতার, বিয়ের পরে স্বামীর, এবং বৃদ্ধ বয়সে ছেলের অধীন থাকতে হয়।  সারা জীবন নারীকে কোনো না কোনো পুরুষের কর্তৃত্ব মেনে অর্থাৎ অধীনস্থ হয়ে থাকতে হয়।  ফলে তাদের মত প্রকাশের বা তা প্রতিষ্ঠারও সত্যিকার কোন স্বাধীনতা থাকে না।
প্রচলিত সমাজের এই নীতি অনুযায়ী নারীর উপর শোষণের আরেকটি হাতিয়ার হচ্ছে যৌতুক প্রথা।  গরীব কৃষক বা দরিদ্র শ্রেণীর মেয়েদের বিয়ে দিতে দরিদ্র পিতাকে হিমশিম খেতে হয়।  ভিটেবাড়ি বিক্রি করে বা ভিক্ষা করে যৌতুক দিতে হয়।  পুরুষের জন্য একত্রে একাধিক স্ত্রী রাখার বিধান রাখা হয়েছে।  যখন-তখন তালাক দেয়ার অধিকার পুরুষকে দেয়া হয়েছে।  অথচ নারী যখন দ্বিতীয় বিয়ে করতে যান সমাজে তাকে বহু কটু কথা শুনতে হয়।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমাজচ্যুতও করা হয়।
সন্তানের প্রতিও নারীর সত্যিকার অধিকার নেই।  সন্তানের প্রতি একচ্ছত্র অধিকার রাখা হয়েছে পুরুষের।  সন্তান ধারণ, লালন-পালন থেকে যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন নারী, আর সন্তান পরিচিত হয় পিতার নামে।  নারী নিজেও পরিচিত হন স্বামীর পরিচয়ে, বা ছেলে সন্তানের পরিচয়ে।  স্বামী-স্ত্রীর তালাক হয়ে গেলে স্ত্রী চাইলেও সন্তান প্রায় ক্ষেত্রেই নিজের কাছে নিতে পারেন না।  বিশেষত তা যদি হয় ছেলে-সন্তান।  বুর্জোয়া শ্রেণির সরকার ইদানীং নারী অধিকারের ভড়ং দেখাতে সন্তানের পরিচয়ে পিতার নামের পাশে মা’র নাম দেয়ার নিয়ম চালু করেছে।  যা সত্যিকার অর্থে পিতৃতান্ত্রিকতার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
কৃষক নারীরা গৃহে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তাদের শ্রমের কোন মর্যাদা দেয়া হয় না।  তারা ঘরে রান্না-বান্না ও সন্তান প্রতিপালনের কাজ ছাড়াও সংসারের কৃষি-কাজেও অংশ নেন।  এভাবে তাদেরকে কার্যত দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়।  কিন্তু খাওয়া-খাদ্যের ভাল অংশটুকু তাদের ভাগ্যে জোটে না; সেগুলো স্বামী ও ছেলে-সন্তানের জন্যই রেখে দিতে হয়।
ক্ষেতে-খামারে, কৃষি কাজে মজুরী খাটা নারী, মাটিকাটা, ইটভাঙা, রাস্তা মেরামতী, যোগালীর কাজে নারীরা সমশ্রমে সমমজুরী পান না।
ব্যক্তিমালিকানাধীন শ্রেণি বিভক্ত সমাজে তারা শ্রেণি-শোষণের যাঁতাকালে নিস্পেষিত-তো হচ্ছেনই, তার উপর তাদের উপর চেপে বসে আছে উপরোক্ত ধরনের বহুবিধ পুরুষতান্ত্রিক শোষণ-নিপীড়ন।  কৃষক নারী সমাজ এই দ্বৈত শোষণে জর্জরিত হয়ে দিনাতিপাত করছেন।  তাদের জীবনে নেই কোন স্বাধীনতা, মত প্রকাশ ও প্রতিষ্ঠার অধিকার, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা বিনোদন।  সমাজ-সভ্যতার পর ব্যক্তিমালিকানাধীন সমাজের উদ্ভব থেকেই তাদের জীবনে এই চরম দুর্দশা নেমে আসে।  ব্যাপক কৃষক নারীদের এই চরম দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।  যেখানে নারীর সাথে সাথে সকল নিপীড়িত পুরুষও মুক্তি পাবেন শ্রেণি-বিভক্ত সমাজের শোষণ-বঞ্চনা থেকে।
সেজন্য কৃষক নারীদেরকে পুরুষের পাশাপাশি সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে। কৃষকের শত্রু  সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্ততন্ত্র উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে কৃষকদের নিজস্ব সংগঠন “কৃষক মুক্তি সংগ্রাম”-এ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এবং সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে।
– ৩০/০১/’১০

সূত্রঃ কৃষক সমস্যা ও কৃষক সংগঠন সম্পর্কে, কৃষক মুক্তি সংগ্রাম কর্তৃক প্রকাশিত

 


পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যা ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত

1448989607

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যা ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত

(ফেব্রুয়ারি/২০০৪)

১৯৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর ‘শান্তিচুক্তি’র পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী জনগণের উপর বাঙালী শাসক শ্রেণীর হত্যা-দমন, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অব্যাহত রয়েছে।  গত ২৬ আগষ্ট (২০০৩) খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ির ১০টি গ্রামে শাসক শ্রেণী ও সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে বাঙালী সেটলাররা পাহাড়ীদের সাড়ে তিনশত ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ লুট করে। তাদের আক্রমণে নৃশংসভাবে খুন হয় বিনোদ বিহারী খিসা ও ৮ মাস বয়সী এক শিশু। হামলাকারীরা ৪টি বৌদ্ধ মন্দিরও পুড়িয়ে দেয়, মূর্তি ভেঙে ফেলে ও লুট করে।  ৯/১০ জন নারী এ সময় ধর্ষিতা হন।
‘শান্তিচুক্তি’র আগে ও পরে পাহাড়ী জাতিসত্তার উপর বহু দমন-নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।  যার মধ্যে লংগদুর গণহত্যা, লোগাং গণহত্যা, নানিয়ারচর গণহত্যা, পানছড়ি, দীঘিনালা, মাটিরাঙার গণহত্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  এই হত্যা-দমন-নির্যাতন শুরু হয় ১৯৭১ সালে মুজিববাদীদের দ্বারা।  পরে শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান, এরশাদ এবং পরবর্তী বিএনপি, আওয়ামী লীগ আমলেও তা অব্যাহত থাকে।  বর্তমান খালেদা-নিজামীর সরকারও পাহাড়ীদের উপর নির্মম দমন-নির্যাতন চালাচ্ছে।  মহালছড়ির ঘটনা তারই নগ্ন প্রকাশ।
পাহাড়ী জনগণ তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার-এর জন্য বাঙালী শাসক শ্রেণীর এই বর্বতার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সংগ্রাম করে আসছেন।  কিন্তু সঠিক বিপ্লবী লাইন ও নেতৃত্বের অভাবে পাহাড়ী জনগণের শ্রম-ঘাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ভেস্তে যাচ্ছে। ’৭১-এর পর পাহাড়ীদের সংগঠন জনসংহতি সমিতি ও শান্তিবাহিনী এবং তাদের নেতা সন্তু লারমা পাহাড়ী নিপীড়িত জনগণের শত্রুমিত্র, বিপ্লবের স্তর নির্ধারণ করেনি।  শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে ও তাদের আদর্শকে ভিত্তি করে সংগ্রাম পরিচালনা করেনি।  ফলে এই সংগ্রাম শত্রু শ্রেণীর বেড়াজাল ডিঙাতে পারেনি, পারছে না।  ’৭১-এর পর ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ তার স্বার্থে শান্তিবাহিনীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পেরেছে।  পরবর্তীতে শেখ হাসিনার আমলে শাসক শ্রেণী- বিভক্ত কর, শাসন কর, শোষণ কর- এই বুর্জোয়া নীতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।  শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত সৃষ্টি করতে পেরেছে।  এবং বাঙালী সেটলার শ্রমিক-কৃষক ও সেনাবাহিনীকে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে পাহাড়ীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে সুযোগ পাচ্ছে।
সন্তু লারমার নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতির বিশ্বাসঘাতক ‘শান্তিচুক্তি’কে পাহাড়ী জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।  কিন্তু বিদ্রোহী পাহাড়ী জনগণের সংগঠন ইউপিডিএফও জনসংহতির মতই একই আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।  তারা নিপীড়িত পাহাড়ী জনগণের শত্রুমিত্র সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং পাহাড়ী জাতিসত্তাগুলোর জাতীয় মুক্তির সঠিক পথও প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।  তারা উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদের শোষণ-লুণ্ঠন, দমন-নির্যাতনকে বিরোধিতা করলেও পাহাড়ী জাতিসত্তার মুক্তির কোন কর্মসূচি হাজির করতে পারেনি।  তারা শত্রুর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে এবং পাহাড়ী জনগণের মূল শত্রুকে বাদ দিয়ে কার্যত জনসংহতিকেই মূল শত্রু বানিয়ে ফেলছে। ইউপিডিএফ-এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জনগণের উদ্দেশ্যে বিবৃতিটিও (২৬ ডিসেম্বর, ’০৩) তাই বলে।  বিবৃতিতে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ-আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ ও সামন্ততন্ত্র সম্পর্কে কোন বক্তব্য নেই।  যারা নাকি নিপীড়িত পাহাড়ী-বাঙালীদের মৌলিক শত্রু।  সুতরাং ইউপিডিএফ’র ভেতর থেকে নতুন করে সন্তু লারমার সৃষ্টি হবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই।  কারণ জনসংহতি ও ইউপিডিএফ’র মধ্যে রাজনীতি-মতাদর্শগত ও কর্মসূচিগত কোন মৌলিক পার্থক্য নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়িত বাঙালীসহ ১৪টি জাতিসত্তার বাস।  এই ১৪টি জাতিসত্তার যৌথ স্বার্থকে কেন্দ্র করে এবং সমতলে নিপীড়িত বাঙালী জনগণ ও তাদের মৌলিক শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেই এই আন্দোলন এগিয়ে যেতে পারে।  আর সেটা সম্ভব কেবলমাত্র মাওবাদকে গ্রহণ করেই।  তা না হলে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন কেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা রাষ্ট্র হলেও পাহাড়ী ১৪টি জাতিসত্তার শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ জনগণ ভূমি থেকে উচ্ছেদ, নিঃস্ব হওয়া ও দমন-নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবেন না।  যেমন পাননি পাকিস্তান থেকে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করে বাংলাদেশের বাঙালী শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ জনগণ।  বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন পাহাড়ী জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে সমর্থন ও বাঙালী শাসক শ্রেণীর শোষণ-দমন-নির্যাতন এবং পাহাড়ে বাঙালীদের পুনর্বাসনকে বিরোধিতার পাশাপাশি পাহাড়ী জনগণের মুক্তির দিশাকে প্রতিনিয়ত তুলে ধরছে। পাহাড়ী জনগণের সংগ্রামকে এগিয়ে যেতে হবে সেই বিপ্লবী দিশাকে ভিত্তি করে।

সূত্রঃ পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জাতিসত্ত্বার সংগ্রাম সম্পর্কে নিবন্ধ সংকলন, আন্দোলন প্রকাশনা


জন নাট্য মণ্ডলীর ২ নারী নকশাল পুলিশের হেফাজতে

Maoistex

অনূদিতঃ

মাওবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করে পুলিশ দুই নারী নকশাল সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সূত্র জানাচ্ছে, সিপিআই(মাওবাদী)-র সাংস্কৃতিক শাখা জন নাট্য মণ্ডলীর/Jana Natya Mandali (JNM) ডেপুটি কম্যান্ডার এম কালাভাথি ওরফে ভবানী(অনন্তপুরম জেলা) এবং গালিকোন্দা এলাকা কমিটির সদস্য কে লক্ষ্মী(জিকে ভীধি মণ্ডল)কে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।  বিশাখা গ্রামীণ পুলিশ উভয় মাওবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সূত্র জানায়, গ্রেফতারের সময় এই দুই নারী বিশাখা জেলার সীমান্তবর্তী মালকানগিরী জেলার চিত্রাকো এলাকার একটি গোপন আস্তানায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।  যদিও অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে তারা মালকানগিরীতে আত্মসমর্পণ করে এবং পরে তাদের বিশাখাপত্তনমে আনা হয়।  গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণের ২ সপ্তাহ পরে তাদের গ্রেফতারের খবরটি প্রকাশ করা হয়।

৬০ বছর বয়সী ভবানী মাওবাদীদের পূর্ব বিভাগের সাথে জড়িত ছিলেন।  কমপক্ষে ১৫টি বন্দুকযুদ্ধ থেকে তিনি পালিয়ে যান।  তিনি মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক ও নকশালদের সাথে খুবই আন্তরিক নেতৃত্বে ছিলেন।  এ সময় তিনি বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন এবং ওড়িশার মালকানগিরী জেলা এলাকায় কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে লক্ষ্মী ওরফে সারিতা গত ১ দশক ধরে নকশাল স্কোয়াডের সাথে জড়িত।  তিনি গালিকো এরিয়া কমিটি সচিব গোপাল ওরফে আজাদের স্ত্রী, আজাদকে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মাররিপাকাল এ এনকাউন্টারে হত্যা করা হয়।  এ ছাড়াও তিনি সক্রিয়ভাবে বক্সাইট বিরোধী আন্দোলন সহ অনেক আন্দোলন সাথে জড়িত ছিলেন।

সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/visakhapatnam/Two-women-naxals-in-the-custody-of-cops/articleshow/52461387.cms

 


HDBH: তুরস্কের বিপ্লবীরা স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের ৪ সদস্যকে খতম করেছে

hbdh-amblem-1

অনূদিতঃ

তুরস্কের বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন Peoples’ United Revolution Movement (HBDH) এর যৌথ নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে, দারসিম অঞ্চলের ওভাসিক জেলায় রাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের ৪ সদস্যকে তারা খতম করেছে।
HBDH এক বিবৃতিতে জানায় যে, তাদের গেরিলারা গত ২৬শে মে, বেলা ২টার দিকে দারসিম অঞ্চলের ওভাসিক জেলায় কালিকা বেল্ট অঞ্চলের কাছাকাছি রাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করে, এতে চার সৈন্য ওই সময় খতম হয়।

HBDH উল্লেখ করে যে, অভিযানের ৪৫ মিনিট পর তুরস্কের সেনাবাহিনী মৃতদেহগুলো Sikorsky টাইপ হেলিকপ্টারের সাহায্যে সরিয়ে নেয় এবং বলেন যে, গত ৬ই মে সিনান ও রিযাতে শহীদ কমরেডদের স্মরণে তাদের গেরিলারা অভিযানটি পরিচালনা করেছে।

সূত্রঃ   http://www.signalfire.org/2016/05/27/hbdh-4-special-operations-forces-killed-in-dersim/