মানিক ও গৌতম ঘোষের পদ্মা নদীর মাঝি

mamun653_16725170675031f7d4e86587.45357345.jpg_xlarge

মানিক ও গৌতম ঘোষের পদ্মা নদীর মাঝি

(মে, ’৯৩)

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসটি লিখেছিলেন ১৯৩৬ সালে তার বয়স যখন ২৮। তখনও মানিক মার্কসবাদ দ্বারা প্রভাবিত হননি। ১৯৩৮ সাল থেকেই মার্কসবাদের সাথে তার পরিচয়ের পালা শুরু হয়, ১৯৪৪-এ তিনি তৎকালীন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং আমৃত্যু [মৃত্যু ১৯৬৬ সাল] তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। মার্কসবাদ গ্রহণের পর মানিক তার পূর্ববর্তী সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে লিখেছিলেন “মার্কসবাদ যেটুকু বুঝেছি তাতেই আমার কাছে ধরা পড়ে গিয়েছে যে আমার দৃষ্টিতে কত মিথ্যা, বিভ্রান্তি আর আবর্জনা আমি আমদানী করেছি- জীবন ও সাহিত্যকে একান্ত নিষ্ঠার সাথে ভালবেসেও, জীবন ও সাহিত্যকে এগিয়ে দেবার উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও।” মানিকের এই বিশ্লেষণ তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝির ক্ষেত্রে সম্ভবত অনেকটাই সত্য।
উপন্যাসের শুরু পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন নিয়ে। কুবের গনেশ এরা হচ্ছে মাঝি, গ্রামের সর্বহারা-আধাসর্বহারা, উপন্যাসের ভাষায়, “গরীবের মধ্যে গরীব, ছোটলোকের মধ্যে ছোট লোক”। সাধারণ মালিক-জেলে ধনঞ্জয় থেকে শুরু করে জমিদারের নায়েব, চালান বাবু, জমিদার, নদীর মালিক সকলেই এদের ঠকায় বা শোষণ করে। তাদের ধরা মাছ পণ্য হয়ে কলকাতায় যায়, বাবুদের রসনা তৃপ্ত করে, ব্যবসায়ীদের মুনাফার যোগান দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও, শ্রমজীবী এইসব মানুষের জীবন নিষ্প্রাণ, গতিহীন, বৈচিত্রহীন নয়। সীমাহীন দারিদ্র, এর থেকে উদ্ভূত অসহায়ত্ব, ছোটখাট মোটা ধরণের অসততা, ক্ষুদে স্বার্থের রেষারেষি- এই সব কিছুর মধ্য দিয়েও উঁকি দেয় কঠোর জীবন সংগ্রাম, অনমনীয় সাহস, শ্রেণী মমত্ববোধ, শ্রেণী সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ধর্মের নোংরা সংকীর্ণতাকে ছিন্ন করে শ্রেণীগত উদারতা ইত্যাদি। এই জীবনের মাঝেই রয়েছে নর-নারীর প্রেম, সন্তানের প্রতি ভালবাসা, ক্ষুদে ক্ষুদে আকাংখা-চাহিদা-আনন্দ, উৎসব, রথযাত্রা, মেলা, রং খেলা, সবকিছু। মানিক অসাধারণ প্রতিভার সাথেই শ্রমজীবী মানুষের এই জীবন চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি এখানে সফল এবং সম্ভবত বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম।
উপন্যাসের প্রথম পর্বেই প্রবেশ করে হোসেন মিঞা ও তার ময়নাদ্বীপ। পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন উপন্যাসে যতটা বাস্তব ও স্পষ্ট, হোসেন মিঞা ও তার ময়নাদ্বীপ ঠিক সেই পরিমাণেই রহস্য, হেঁয়ালী ও কল্পনা, বলা যায় ইউটোপিয়া। এই অংশটাই উপন্যাসের প্রধান অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও দুর্বল দিক।
হোসেন মিঞা রহস্যময় পুরুষ। পথের কাঙ্গাল থেকে সে বিত্তশালীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তার আভিজাত্যের প্রকাশ নেই। গরীব মাঝিদের সাথে সে নিঃসঙ্কোচে মিলেমিশে যায়, মাঝিরা না জানলেও কুবের ক্রমান্বয়ে জানতে পারে, হোসেন মিঞার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে, রয়েছে আফিমের কারবার। এই-ই তার সম্পদের উৎস। পরিস্কারভাবে না হলেও বোঝা যায় হোসেন মিঞা সম্ভবত উঠতি বুর্জোয়া- মেজকর্তার মত সামন্ত নয়। কিন্তু এহেন হোসেন মিঞা- সে সাহসী, কুশলী, বুদ্ধিমান, প্রয়োজনে নিমর্ম এবং কাঙ্গাল থেকে আমীর- মাঝিদের সাথে অবাধে মেশে, বিনাসুদে ঋণ দেয়, বিপদে সাহায্য করে; কিন্তু কেন করে তা স্পষ্ট নয়। মানিক দেখাচ্ছেন, হোসেন মিঞার স্বপ্ন- ময়নাদ্বীপে বসতি গড়ে তোলা এবং এখানেও তার মুনাফার স্বার্থ নেই। তাহলে এই সমস্ত প্রশ্নে সে কি শ্রেণীস্বার্থ বর্জিত?
এখানেই উপন্যাসের অসম্পূর্ণতা, বিভ্রান্তি ও সামঞ্জস্যহীনতা। আর এর ফলে সম্পূর্ণ উপন্যাস মূলত শ্রেণীসংগ্রাম থেকে সরে গেছে। মাঝিদের জীবন চিত্রিত করার ক্ষেত্রে যদিও ছিটেফোটা শ্রেণী শোষণ মাঝেমধ্যে ঝলক দিয়ে ওঠে কিন্তু শ্রেণী শোষণ বা শ্রেণী সংগ্রামের নির্ধারক ভূমিকাটা কোথাও জীবন্ত হয়ে দেখা দেয় না। রাসু সর্বস্বান্ত হয়ে ময়নাদ্বীপে যায়। কিন্তু কেন সর্বস্বান্ত হয়? সে ময়নাদ্বীপ থেকে ফেরার পথে পরিবার-পরিজন সকলকে হারায়। কেন, কি জন্য হারায়? আমিনুদ্দিন কেন সর্বস্বান্ত হয় ? কুবের কেন ময়নাদ্বীপে যেতে বাধ্য হয়? আমিনুদ্দিন যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সকলকে হারিয়ে, কুবের ময়নাদ্বীপে যায় তার স্বশ্রেণী- রাসুর চক্রান্তের কারণে। বাস্তবে এমন হয় এবং হতেও পারে। কিন্তু এটা ঘটনার বাইরের আবরণ মাত্র। ঘটনার মূল কারণ সমাজের শ্রেণী শোষণ ও শ্রেণী সংগ্রাম। মানিক এই আবরণ ভেদ করে ভিতরে ঢুকতে পারেননি, সারবস্তুকে টেনে বের করে মেলে ধরতে পারেননি। ফলে রাসু, আমিনুদ্দিন ও কুবের হয়ে পড়ে পরিস্থিতির অসহায় ও নিষ্ক্রিয় শিকার, আর নায়ক মূলত হয়ে দাঁড়ায় নব্যধনী, চতুর, প্রতিভাবান হোসেন মিঞা। ১৯৩০-এর দশকে, যখন ইতিমধ্যে রুশ বিপ্লব হয়ে গেছে, তার উত্তাপে ঔপনিবেশিক ভারত ও বিশ্বের দেশে দেশে মার্কসবাদ ও কমিউনিষ্ট আন্দোলন প্রসার লাভ করেছে, তখন কি এটা আর সম্ভব ছিল ? অথবা এটা কি প্রগতিশীল? না এটা তা নয়। সম্ভবত উপন্যাসের এই সীমাবদ্ধতা ও ত্র“টির কারণেই মধ্যবিত্ত ও বুর্জোয়া শিক্ষিত পাঠক সম্প্রদায় মানিকের অন্যান্য আরো উল্লেখযোগ্য প্রতিভাদীপ্ত সৃষ্টির চেয়ে এটিকে এত বেশি উপরে তুলে ধরে এবং হোসেন মিঞা তাদের কাছে হয়ে দাঁড়ায় এক অসাধারণ সৃষ্টি।
উপন্যাসের রোমান্টিক দিক হচ্ছে কপিলা-কুবের প্রেম। এভাবে বাস্তবতা, রোমান্টিকতা, ও কাল্পনিকতার [ইউটোপিয়া] মিশ্রণে মানিক উপন্যাসটি সৃষ্টি করেছেন।
উপন্যাসের উল্লেখিত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানিকের আপেক্ষিক অগ্রসরতাও সহজেই ধরা পড়ে। যেমন- স্বামীর প্রভুত্বের বন্ধন ত্যাগ করে কপিলা কুবেরের সাথে চলে গেল। যেখানে মানিক সামন্ততান্ত্রিক প্রথাকে আঘাত করেছেন, এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। শরৎচন্দ্র এ প্রশ্নে ব্যর্থ। কপিলা-কুবেরের প্রেমটাই অগ্রসরতা। কপিলা চরিত্রই অগ্রসর, মানিকের অগ্রসর সৃষ্টি।
“ঈশ্বর থাকেন ওই গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে। এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না”- এটাও মানিকের অগ্রসর দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। হোসেন মিঞা বলছে, “মুসলমানে মসজিদ দিলি হিন্দু দিব ঠাকুর ঘর- না মিঞা আমার দ্বীপের মদ্যি ও কাম চলব না।” – এখানে হোসেন মিঞার মধ্য দিয়ে অগ্রসর মধ্যবিত্ত মানিকই উঁকি দিচ্ছেন।
যাই হোক মানিকের এই পদ্মা নদীর মাঝিকেই চলচ্চিত্রায়িত করেছেন পশ্চিম বাংলার গৌতম ঘোষ। ১৯৩৬-এ মানিক যা লিখেছিলেন ১৯৯২-তে ৫৬ বছর পর তিনি তার চলচ্চিত্রায়ন করেছেন। এতদিনে পৃথিবী অনেক এগিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কে বেশি এগিয়ে ? মানিক না গৌতম ?
মানিক এঁকেছিলেন পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন চিত্র। পদ্মা নদী ও তার মাঝি- এ দু’টোর মধ্যে মাঝি তথা মানুষ প্রধান, অথচ গৌতম ঘোষের চলচ্চিত্রে পদ্মা নদী তথা প্রকৃতি অনেক জায়গাতেই এত সামনে চলে এসেছে যে মানুষ আড়াল হয়ে যায়। এভাবে গৌতম মানিক থেকেও দু’কদম পিছে হটেছেন।
হোসেন মিঞার চরিত্রের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমনই। এ প্রশ্নে মানিকেরও সমস্যা রয়েছে। যা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে। কিন্তু তবুও মানিক হোসেন মিঞাকে ঘিরে কুবেরের আশঙ্কা-সন্দেহ-অবিশ্বাসকে তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু গৌতম চলচ্চিত্রে তা করেননি। যেমন সর্বশেষ কুবেরের সংলাপ, “হোসেন মিঞা দ্বীপে আমারে নিবই কপিলা। একবার জেল খাইটা পার পামু না। ফিরা আবার জেল খাটাইব।”- এই তীক্ষ্ণ সংলাপটা, যা কুবেরের ভিতরের ঘৃণাকে প্রকাশ করছে, তা বাদ দিয়েছেন গৌতম ঘোষ। “দৈনিক আজকের কাগজ”-এর সাথে সাক্ষাতকারে গৌতম বলেছেন, “এই হোসেন মিঞারাই স্বপ্ন দেখায় সমাজকে। যে স্বপ্নের ফলাফল সে নিজে দেখে যেতে পারে না, কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম সে স্বপ্নের ফলাফল পায়।” কিন্তু মানিকের কুবের কি বলছে ? এখানেই মানিক আর গৌতমের পার্থক্য। মানিকের উপন্যাসে মোটেই এটা এত স্পষ্টতায় নেই। মানিক বরং বিভ্রান্ত। পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন-বঞ্চনা-দারিদ্র-প্রাণচাঞ্চল্য-শক্তিসামর্থ্য সবকিছু তিনি দেখেছেন। আবার তাদের জীবন যন্ত্রণার পরিণতিও তিনি দেখেছেন। কিন্তু এর অন্তর্নিহিত কারণ কি এবং তারপর কি- তা তিনি উদঘাটন করতে পারেন নি। ফলে তিনি হোসেন মিঞা ও ময়নাদ্বীপের অবতারণা করে বাস্তবতার খেই হারিয়েছেন। কিন্তু হোসেন মিঞা স্বপ্ন দেখায়- এ চিত্র তার উপন্যাসে নেই। কুবের রাসু আমিনুদ্দিন কারও কাছে ময়নাদ্বীপ স্বপ্ন নয়, বরং চরম পরিস্থিতিতে তারা হোসেন মিঞার খপ্পরে পতিত হয়। আবার এটাকে স্পষ্টভাবে চিত্রিত করতে মানিক ব্যর্থ। তিনি প্রকৃত পক্ষে নিজেই দিশাহীন। এখানেই মানিকের বিভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা। অথচ গৌতম ৫৬ বছরের আগের মানিকের চেয়ে পিছিয়ে বলেছেন, “হোসেন মিঞারা স্বপ্ন দেখায়।” তার চলচ্চিত্রে তিনি এভাবেই হোসেন মিঞাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এটা পুরোপুরি প্রতিক্রিয়াশীল। মানিক তার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রগতিশীল ও মার্কসবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু গৌতম ঘোষ সেটা পারবেন তা এখনো মনে হবার যুক্তি নেই। ভারতের বড় বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর সহচর পশ্চিম বাংলার বুর্জোয়া সংশোধনবাদী জ্যোতিবসু সরকার যে গৌতম ঘোষদের সংস্কৃতি নির্মাণের জন্য টাকা সাহায্য কেন করে তা এ থেকে সহজে বোধগম্য।
সর্বোপরি, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্র হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জন্য। আর এ জন্য দরকার কাহিনীর ধারাবাহিকতা, কাহিনীর কিছুটা সহজ সরল উপস্থাপন। উপন্যাসকে চলচ্চিত্র করার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কারণ উপন্যাসে অনেক কিছু বর্ণনা করে দেওয়া হয়। চলচ্চিত্রে তা দেখাতে হয়। ফলে পরিচালককে কাটছাট, সংযোজন-বিয়োজন করতে হয়, মূল বিষয়কে ঠিক রেখে। গৌতম ঘোষও তা যথেষ্টই করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঘটনা থেকে ঘটনা তিনি হাজির করেছেন বেশ খাপছাড়াভাবে। ফলে উপন্যাস পড়েনি বা মনে রাখেনি এমন দর্শকের পক্ষে, সাধারণ দর্শকের কথা বাদ দিলেও, ছবিটা ভালভাবে বুঝে ওঠা কষ্টকর। সাধারণ দর্শকদের এই চলচ্চিত্রটি যে টানতে ব্যর্থ হয়েছে- এটিই এর অন্যতম একটি কারণ। আর গৌতম ঘোষ সংযোজন-বিয়োজন করেছেন তার প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে। ফলে কুবের-কপিলা প্রেম, হোসেন মিঞার তথাকথিত স্বপ্ন দেখানো বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি যত সামনে এসেছে, মাঝিদের জীবন সংঘাত সেই তুলনায় পিছিয়ে গেছে।
কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও বলতে হবে এই চলচ্চিত্র এদেশের মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত শিক্ষিত দর্শককুলের জন্য নতুন স্বাদ বয়ে এনেছে। ঢাকার চলচ্চিত্রের যে নীচুমান তার তুলনায় এর অনেক অনেক উঁচু শিল্পমানকে কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। সংযত উপস্থাপনা, সুন্দর ক্যামেরার কাজ, অভিনয় সৌকর্য- এসমস্ত ক্ষেত্রে পরিচালক গৌতম ঘোষ শিক্ষিত দর্শককুলের প্রশংসা কুড়াতে অবশ্যই সক্ষম হবেন।
কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। অন্ধকার দেখাতে গিয়ে পরিচালক এমন অন্ধকার অনেক সময় করে ফেলেছেন যে পর্দায় কি হচ্ছে বুঝতেই কষ্ট হয়। এক্ষেত্রে বাস্তবতা দেখাতে গিয়ে দর্শকদের কথা মনে রাখা হয়নি। এটা দুর্বল টেকনিকেরও পরিচয়। সাউণ্ড অর্থাৎ শব্দেও বেশ সমস্যা রয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছন্দে চলচ্চিত্র উপভোগ ব্যাহত হয় এবং চোখ ও কানে কষ্ট হয়। ছবিটিতে কোন কোন চরিত্রের উপস্থাপনও প্রায় অস্পষ্ট, যেমন যুগল চরিত্র।
শেষ কথা হলো, আমাদের দেশে আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, শহিদুল হক খান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী ও সমালোচকরা গৌতম ঘোষের “পদ্মা নদীর মাঝি”র উদ্বাহু প্রশংসাই করেছেন। এর বাইরে এরা কিছু পাননি। এটা এদের দৈন্যদশাকেই আর একদফা তুলে ধরে। এদের কাছে পাশ্চাত্য বা ভারতের যা কিছু বড় তাই-ই মহান, সর্বাংশে মহান। এরা বড়’র পূজারী, ব্যক্তিত্বের পূজারী।
তাই ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে এদেরকে ধিক্কার না দিলে আলোচনাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

সূত্রঃ সংস্কৃতি বিষয়ক, আন্দোলন সিরিজ ৩, আন্দোলন প্রকাশনা

Advertisements

হোটেল বন্ধ রাখা চলবে না

Newsgazipur_Ghat_par_inner_1_867636284

হোটেল বন্ধ রাখা চলবে না

এরশাদ-জামাত-শিবিরের ধর্ম ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান
(এপ্রিল, ’৮৯)

বিক্ষুব্ধ, বেকার, ক্ষুধার্ত হোটেল শ্রমিক ভাইয়েরা আন্দোলন শুরু করেছেন। তারা দাবি তুলেছেন, রোজার পবিত্রতার দোহাই দিয়ে হোটেল বন্ধ রাখা চলবে না। তারা মিটিং মিছিল বিক্ষোভ করেছেন, লিফলেট-পোষ্টার মারফত ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আমেরিকার দালাল এরশাদ সরকার প্রতি বছরই হোটেল শ্রমিক ও মালিকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় তার লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনী, আর জামাত-শিবিরসহ মৌলবাদীরা মাঠে নামায় মৌলবাদী গুণ্ডাদের। পুলিশ ছোট-খাট হোটেলগুলোতে হানা দেয়, মালিক বা শ্রমিকদের ধরে নিয়ে আসে, মারপিট করে এবং পাঁচশ’, হাজার, বা আরো বেশি টাকা ঘুষ খেয়ে তার পর ছেড়ে দেয়।
অবশ্য সাহসী হোটেল শ্রমিকরাও এই অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করেননি। তারা আন্দোলন গড়ে তুলে এর জবাব দিয়েছেন। অনেক সময়ই পুলিশদের ঘেরাও করে ফেলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইত্যাদি চলেছে।
ফ্যাসিষ্ট এরশাদ ও জামাত শিবিরসহ মৌলবাদী পাণ্ডারা গুণ্ডামি করে বলে, হোটেল মালিকরা যেন শ্রমিকদের পুরো বেতন ও বোনাস দিয়ে দেয়। এটা শ্রমিকদের বোকা বানানোর এক শয়তানি চাল। কারণ দিনের আসল সময়টা, অর্থাৎ, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হোটেল বন্ধ থাকার কারণে মালিকরা কখনই শ্রমিকদের বেতন বা বোনাস দেয় না। অনেক হোটেল পুরো বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে হোটেল শ্রমিকদের, তাদের পরিবারবর্গ সহ পথের ভিখিরীতে পরিণত করা হয়।
সমস্যা শুধু হোটেল শ্রমিকদেরই নয়। লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মহিলা গার্মেন্ট-এ দিনরাত হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খাটেন। লক্ষ লক্ষ রিক্শা শ্রমিক, ভ্যান চালক, ঠেলাগাড়ী চালক, মুটে মজুর কুলি, ইটভাঙ্গা শ্রমিক, যোগালী, রাজমিস্ত্রী, রং শ্রমিক, কাঠমিস্ত্রী, টোকাই, শিশু শ্রমিক, মাটি কাটা শ্রমিক, টেম্পো-বেবী চালক, বাস কন্ডাকটর, হেল্পার, ড্রাইভার, কলকারখানার শ্রমিক- এক কথায় সকল শ্রমজীবী মানুষই দিনরাত পশুর মত পরিশ্রম করেন, শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হন। রমজান মাসের ‘রহমতে’ তাদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি কমে না, বরং আরো বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের পক্ষে রোজা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। রিক্সা, ঠেলাগাড়ী, ভ্যান চালকসহ অনেক ধরনের শ্রমিক দু’এক ঘণ্টা পর পর না খেলে তাদের জান বেরিয়ে আসে। অথচ হোটেল বন্ধ করে দিয়ে এরশাদ ও জামাত শিবিরসহ মৌলবাদী গুণ্ডারা এই লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের রক্ত জল করা মেহনতের পর এক গ্লাস পানি বা সামান্য খাদ্য খাওয়ার সুযোগটুকুও কেড়ে নেয়। ফলে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ ক্ষুধা-পিপাসায় আহাজারী করেন, অনেকে জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। বিপুল সংখ্যক মধ্যবিত্ত, নিুবিত্ত চাকুরে, যারা সারা দিন কাজ করেন, তাদেরও খাওয়া বা নাস্তার জায়গা থাকে না।
এইসব ধর্মব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে। হোটেল খোলা রাখলে নাকি রোজার পবিত্রতা নষ্ট হয়। কিন্তু লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষকে চাকুরী ও আহার থেকে বঞ্চিত করে এ কেমন ধর্ম পালন? এ কোন আদর্শ? রোজাদারেরা রোজা রাখে তাদের নিজের ‘নেকী’ হবে এই বিশ্বাসে ও স্বার্থে। কিন্তু রোজাদারদের স্বার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষের পেটে লাথি মারতে হবে, তাদেরকে বেকারত্ব ও মরণের পথে ঠেলে দিতে হবে, এ কেমন যুক্তি? দেশের বেশির ভাগ মানুষই সাধারণত রোজা রাখেন না। তাছাড়া এদেশে প্রায় দু’কোটি হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ রয়েছেন। অনেকে আছেন যারা কোন ধর্মই মানেন না। তাহলে কেন জোর করে তাদের উপরও এই জবরদস্তি চালিয়ে দেওয়া হবে? আমেরিকা, ইউরোপ, ভারত, চীন সহ বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি মুসলমান আছে। সেখানে হোটেল বন্ধ থাকে না। সেখানে রোজা করা কি এজন্য বন্ধ বা ‘অপবিত্র’ হয়ে যায়?
আসলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এ পর্যন্ত এরশাদ সরকার অসংখ্য ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক জনতাকে হত্যা করেছে। ’৭১-এ জামাত-শিবিরসহ মৌলবাদীরা ধর্মের নামে লক্ষ লক্ষ জনগণকে হত্যা করেছে, মা-বোনের ইজ্জত লুটেছে। এরা এখনও প্রগতিশীল ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের জবাই করছে। জনতার আদালতে এদের সকলের বিচার বাকি। এরা ধর্মের দোহাই তুলে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে নিজেদের হাতের রক্ত মুছে ফেলতে চায়। এ জন্যই আজ হোটেল বন্ধের চক্রান্ত।
ছোটখাট সাধারণ হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়, অথচ সোনার গাঁ, শেরাটন, পূর্বানী, সুন্দরবনসহ বড় বড় ধনীদের হোটেল, চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, মদের দোকান ঠিকই খোলা থাকে। সেখানে ঠিকই মদ, মাংস, নাচ, লাম্পট্য সবই চলে। বড় লোকদের মদ, লাম্পট্য ও দেদার ফুর্তির ঢাকা ক্লাব ঠিকই চালু থাকে। এসব হোটেল বা ক্লাবে রমজানেও সরকারী ও বিরোধী বুর্জোয়া নেতাদের, জামাত-শিবিরসহ মৌলবাদীদের মধুরমিলন, ভোগবিলাস, পার্টি সবই চলে। রমজান মাস এলেই বড় বড় ব্যবসায়ী, পুঁজিপতি, মজুতদার, আমদানী-রপ্তানীকারকদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়; চাল, ডাল, মাছ, মাংস, শবজী, কাপড়, জামা-জুতোসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে তারা শত শত কোটি টাকা মুনাফা লুটে। রমজান মাসে এদের জন্যই রহমতের দরজা খুলে যায়। আর গরীব ও মধ্যবিত্ত জনগণের জীবনে নেমে আসে গজব ; দ্রব্যমূল্য ও অন্যান্য দুশ্চিন্তায় তারা আর্তনাদ করে। রমজানে বড় বড় বুর্জোয়া, আমলা অফিসার, জোতদার-মহাজন-টাউটরা লুটপাটের অবাধ সুযোগ পায়; মুরগীর রান, আপেল, বেদানা, নাসপাতি, বিদেশী খোশবাই শরবত ছাড়া এদের সেহরী বা ইফতার হয় না। কই, এরশাদ চক্র বা জামাত-শিবির বা মৌলবাদীরা তো এসব অনাচার ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে রা-শব্দটি করে না। এজন্য-তো রোজার পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার কথা বলে না। এরা তা বলতে পারে না, কারণ এরাও একই দলের লোক, একই ভোগ-লালসায় মত্ত। রমজানে কি ভিডিও ক্যাসেটের ন্যাংটা নাচ ও সিনেমা বেচাকেনার দোকানগুলো বন্ধ হয়? অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ হয় ? বায়তুল মোকাররমের উপর মুসুল্লীরা নামায পড়ে, আর নিচে চলে ভিডিও ক্যাসেটের অসংখ্য দোকানে ডিস্কো গান ও হলিউড বোম্বে মার্কা ভিডিও ক্যাসেটের ছবি। এতেও কি ইসলাম নষ্ট হয় না ? রমজানে ঈদের অতিরিক্ত দু-একদিনের ছুটি, সামান্য এডভান্স বা কিছু অতিরিক্ত পয়সার বদলে অত্যাচারী মালিকেরা নির্মমভাবে শ্রমিকদের অতিরিক্ত খাটুনি খাটিয়ে নেয়, এমনকি শুক্রবার ছুটির দিনগুলিতেও খেটে দিতে হয়। কই এই সব ধর্মব্যবসায়ীরাতো এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না! এরা তো কখনও রমজানের পবিত্রতার দোহাই দিয়ে এমন বলে না যে, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ যেন রোজা রাখতে পারে সেজন্য কলকারখানায় রমজান মাসে শ্রমের ঘণ্টা কমাতে হবে, বেতন-বোনাস বাড়াতে হবে, বা কৃষকদের উপর জোতদারী মহাজনী শোষণ বন্ধ করতে হবে, সমস্ত মেহনতী জনগণকে বিশেষ ভাতা দিতে হবে ইত্যাদি! ধনীরা মুরগী আপেল বেদানা সরবত খায়, আর কোটি কোটি শ্রমিক কৃষক এই রমজানেও দ’ুমুঠো ভাতের জন্য দিনরাত পশুর মত খাটে। তারপরও কাজ পায় না। রোজা রাখতেই তারা পারে না। এজন্য দায়ী কি ধনী গোষ্ঠীর শোষণ অত্যাচার নয়? এরশাদ বা জামাত শিবিরসহ মৌলবাদী বদমায়েশরা এই শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে টু শব্দটি করে না। কিন্তু হোটেল বন্ধ রেখে শ্রমিকদের পথে বসিয়ে ধর্ম রক্ষা করার ভণ্ডামী দেখায়।
এই এদের আসল চরিত্র। ধনী ব্যবসায়ী, পুঁজিপতি, অফিসার, চোরাকারবারী, কালোবাজারী, মজুতদার, বড় হোটেল মালিক, জোতদার, মহাজন এদের বিরুদ্ধে তথা ধনীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে এরা ইসলামের দোহাই দেয় না। যত ধর্মের ফতোয়া শ্রমিক-কৃষক-গরীব জনগণের বিরুদ্ধে, তাদের পেটে লাথি মারার জন্য।
এরশাদ, জামাত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগ, ফ্রিডম পার্টিসহ সমস্ত বুর্জোয়া দলগুলো তাদের শ্রেণী স্বার্থেই ধর্মকে ব্যবহার করে। আমেরিকা, রাশিয়া, ভারতসহ এদের বিদেশী প্রভুদের স্বার্থও এক্ষেত্রে রয়েছে। তারা সাধারণ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় উন্মত্ততা সৃষ্টি করে যেন ধর্মের উন্মাদনায় শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনগণ, তাদের শত্র“ বড় বড় পুঁজিপতি-আমলা অফিসার-জোতদার মহাজন ও বিদেশী শোষকদের চিনতে না পারে, এবং এদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জেগে না উঠে। এভাবে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে তারা শোষক-শোষিত এই পার্থক্য আড়াল করে, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের শ্রমিক ও শোষিত জনগণের মধ্যে অনৈক্য ও হানাহানির সৃষ্টি করে। এরাই ধর্মের বিভিন্ন অংশের জনগণের মধ্যেও সংঘাতের জন্ম দেয় এবং সমস্ত প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণা-চিন্তাকে বিরোধিতা করে। একইসাথে মধ্যযুগীয় পশ্চাদপদ ধ্যানধারণা ছড়ায়।
ধর্মকে ব্যবহার করার পিছনে এদের অর্থনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। ধর্মব্যবসার জন্য এরা পুঁজিপতি-মুনাফাখোর ও বিদেশী প্রভুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা পায়। এই টাকা এদেশের জনগণকে লুট করে নেওয়া টাকারই অংশ। জামাত-শিবিরসহ মৌলবাদীরা, বড় বড় মৌলানারা, শর্ষিনা-আটরশির পীরেরা তাফসীর করা, মুরীদ বানানো, উরস করা ইত্যাদি নানা উপায়ে ধর্ম ব্যবসা করে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা কামায়। আরব দেশগুলোর সাহায্যে বিভিন্ন বড় বড় মসজিদ তৈরি হচ্ছে এবং ব্যাপক সংখ্যক মসজিদ বিল্ডিং-এর নিচেই এক একটা মার্কেট, শপিং সেন্টার। এ ছাড়াও রয়েছে ইসলামী ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এগুলো ধর্ম ব্যবসায়ীদের অর্থ উপার্জনের উপায়। ধর্মের নামে এদেশকে শোষণের জন্য আরব-বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ইত্যাদি হয়েছে এবং এগুলো থেকে সুযোগ-সুবিধা, ঋণ, মুনাফা লুটছে জামাত-শিবিরসহ মৌলবাদীরা ও জাতীয় পার্টি, বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বুর্জোয়া দলগুলো। এভাবে বুর্জোয়া সমস্ত দলই ধর্ম ব্যবসা করে আখের গোছায়।
হোটেল বন্ধ রাখা মৌলবাদীদের, এরশাদ সরকারের ও ধর্মব্যবসায়ী বুর্জোয়া দলগুলোরই চক্রান্ত। এ হচ্ছে শ্রমিক ও মেহনতি জনগণের বিরুদ্ধে শোষক বুর্জোয়া ও বিদেশী সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্ত। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, ইসলামী শাসন কায়েম- সবকিছুই এমন চক্রান্ত।
সুতরাং শ্রমিক শ্রেণী ও জনগণকে সাহসের সাথেই হোটেল বন্ধ রাখা সহ ধর্মব্যবসায়ীদের সমস্ত অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দুর্বার সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। বুর্জোয়া ধর্ম ব্যবসায়ী ও জামাত-শিবিরসহ মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দায়িত্ব ও এদের উৎখাতের দায়িত্ব শ্রমিক শ্রেণী ও শ্রমজীবী জনগণকেই কাঁধে তুলে নিতে হবে। কারণ এরা সবচেয়ে বড় শত্রু  শ্রমিক শ্রেণী ও শ্রমজীবী মানুষের।
হোটেল বন্ধ রাখার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হোটেল শ্রমিক, রিক্সা শ্রমিকসহ অন্যান্য শ্রমিক ভাইয়েরা ইতিমধ্যেই শ্লোগান তুলেছেন, ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মপালন করা মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার। পালন করা বা না করা, বিশ্বাস করা বা না করা মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার। তাই ধর্মের প্রশ্নে রাষ্ট্রের বা সরকারের কোন কিছু জোর জবরদস্তি করে চাপিয়ে দেয়ার অধিকার নেই, চাপিয়ে দিতে দেয়া হবেও না, তা রুখতেই হবে; জোর করে মানুষের উপর ধর্ম, ধর্মপালন বা কোন আদর্শকে চাপিয়ে দেওয়া যায়ও না।
শ্রমিক ও মেহনতি জনগণের এই শ্লোগানই একমাত্র সঠিক গণতান্ত্রিক শ্লোগান। তাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলি এবং আওয়াজ তুলি, হোটেল রেস্তোরা বন্ধ রাখা চলবে না। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও মেহনতি মানুষকে বেকার করা ও তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া চলবে না। ধর্ম বিশ্বাস বা যে কোন আদর্শে বিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চলবে না।
রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

সূত্রঃ সংস্কৃতি বিষয়ক, আন্দোলন সিরিজ ৩, আন্দোলন প্রকাশনা


নেপালঃ চাঁদ নেতৃত্বাধীন মাওবাদীরা সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে

2db76249dda33d044a4eb67d2d29e5a5_L

অনূদিতঃ

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, আইন প্রণেতারা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিপিএন (মাওবাদী) 

গত সোমবার নেত্র বিক্রম চাঁদ নেতৃত্বাধীন সিপিএন(মাওবাদী) নেতৃত্ব সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করার বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছে।  গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, জনকপুর ব্যুরো ইনচার্জ ওমপ্রকাশ দলের পাঁচ দফা ভবিষ্যত প্রতিবাদ কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরেন।  চাঁদ-নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ তরাই-মাধেস জনগণের সচেতনতায় প্রতিবাদী প্রচারণার পরিকল্পনা নিয়েছে।

NGO এবং INGOs বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, তাদের ক্যাডারদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে সাধারণ ধর্মঘট, জাতীয় ও দুর্নীতির প্রতিবাদে জনগনের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই প্রতিবাদী কর্মসূচী নিয়েছেন বলে ওমপ্রকাশ জানিয়েছেন।  “পার্টি দৃঢ়ভাবে সংসদীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং এটি যে কোনো সময়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করবে” বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।  “আমরা যখন সংসদীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, সরকার স্পষ্টত আমাদের দমন করবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমাদের অস্ত্র তুলে নিতে প্ররোচনা দিচ্ছে” প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়।

তিনি নেপালের রিপাবলিকা অনলাইনকে অবহিত করেন যে, “গত ২৮ এবং ২৯শে মে তারিখে ধানুশা, মাহোত্তারি, সারলাহি, সিরাহা, সাপ্তারি এবং সিন্ধুলিতে পার্টি তার ক্যাডারদের জন্য একটি অভিযোজন কর্মসূচি চালু করেছে। ” তিনি এর সাথে যোগ করে বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান চাঁদ ক্যাডারদের জন্যে অস্ত্র বিক্ষোভকে তুলে ধরবেন।  পার্টি প্রতিটি জেলার পিপলস আর্মি গঠন করছে, যার প্রথমেই দুর্নীতিবাজদের লক্ষ্য করা হবে। তিনি আরো বলেন, “আমরা সে সকল দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা, নেতা ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করব”।

সূত্রঃ http://www.myrepublica.com/feature-article/story/43323/chand-led-cpn-maoist-to-take-action-against-corrupt-officials-lawmakers.html


তুরস্কঃ আঙ্কারা, ইজমির এবং আদানা’তে সম্মিলিত বিপ্লবী পার্টির(BDP) উপর হামলা

perqui-3

ankara-dev-par-saldiri

তুরস্কের ইজমিরে সম্মিলিত বিপ্লবী পার্টির(BDP) স্থানীয় কার্যালয় ও সদস্যদের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব সদস্যরা হলেন- Nurhak Sabur, Yakup Iskar, Mustafa Kanar, Sadık Güney Akbaş, Roni Ditın Gören, Alper Yanar, Dallar Hazal Mert Pekgöz, İnan Sever।  অন্যদিকে আঙ্কারায় BDP কার্যালয় লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ‘অজ্ঞাত ব্যক্তিরা’।  এর পূর্বে আদানা’য় BDP এর সঙ্গে যুক্ত ১১ জনকে পুলিশ আটক করে, যাদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


তুরস্কঃ মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির পিপলস লিবারেশন আর্মি(MKP/HKO) এর নতুন ভিডিও বার্তা

এই ভিডিও বার্তায় সকল জনগণ বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের প্রতি এই যুদ্ধে অংশ নেয়ার আহবান জানানো হয় এবং এ ছাড়াও এতে পিপলস লিবারেশন আর্মির(HKO) ১ম সামরিক সম্মেলন  এর ফুটেজ রয়েছে।