মানিক ও গৌতম ঘোষের পদ্মা নদীর মাঝি

mamun653_16725170675031f7d4e86587.45357345.jpg_xlarge

মানিক ও গৌতম ঘোষের পদ্মা নদীর মাঝি

(মে, ’৯৩)

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসটি লিখেছিলেন ১৯৩৬ সালে তার বয়স যখন ২৮। তখনও মানিক মার্কসবাদ দ্বারা প্রভাবিত হননি। ১৯৩৮ সাল থেকেই মার্কসবাদের সাথে তার পরিচয়ের পালা শুরু হয়, ১৯৪৪-এ তিনি তৎকালীন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং আমৃত্যু [মৃত্যু ১৯৬৬ সাল] তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। মার্কসবাদ গ্রহণের পর মানিক তার পূর্ববর্তী সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে লিখেছিলেন “মার্কসবাদ যেটুকু বুঝেছি তাতেই আমার কাছে ধরা পড়ে গিয়েছে যে আমার দৃষ্টিতে কত মিথ্যা, বিভ্রান্তি আর আবর্জনা আমি আমদানী করেছি- জীবন ও সাহিত্যকে একান্ত নিষ্ঠার সাথে ভালবেসেও, জীবন ও সাহিত্যকে এগিয়ে দেবার উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও।” মানিকের এই বিশ্লেষণ তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝির ক্ষেত্রে সম্ভবত অনেকটাই সত্য।
উপন্যাসের শুরু পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন নিয়ে। কুবের গনেশ এরা হচ্ছে মাঝি, গ্রামের সর্বহারা-আধাসর্বহারা, উপন্যাসের ভাষায়, “গরীবের মধ্যে গরীব, ছোটলোকের মধ্যে ছোট লোক”। সাধারণ মালিক-জেলে ধনঞ্জয় থেকে শুরু করে জমিদারের নায়েব, চালান বাবু, জমিদার, নদীর মালিক সকলেই এদের ঠকায় বা শোষণ করে। তাদের ধরা মাছ পণ্য হয়ে কলকাতায় যায়, বাবুদের রসনা তৃপ্ত করে, ব্যবসায়ীদের মুনাফার যোগান দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও, শ্রমজীবী এইসব মানুষের জীবন নিষ্প্রাণ, গতিহীন, বৈচিত্রহীন নয়। সীমাহীন দারিদ্র, এর থেকে উদ্ভূত অসহায়ত্ব, ছোটখাট মোটা ধরণের অসততা, ক্ষুদে স্বার্থের রেষারেষি- এই সব কিছুর মধ্য দিয়েও উঁকি দেয় কঠোর জীবন সংগ্রাম, অনমনীয় সাহস, শ্রেণী মমত্ববোধ, শ্রেণী সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ধর্মের নোংরা সংকীর্ণতাকে ছিন্ন করে শ্রেণীগত উদারতা ইত্যাদি। এই জীবনের মাঝেই রয়েছে নর-নারীর প্রেম, সন্তানের প্রতি ভালবাসা, ক্ষুদে ক্ষুদে আকাংখা-চাহিদা-আনন্দ, উৎসব, রথযাত্রা, মেলা, রং খেলা, সবকিছু। মানিক অসাধারণ প্রতিভার সাথেই শ্রমজীবী মানুষের এই জীবন চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি এখানে সফল এবং সম্ভবত বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম।
উপন্যাসের প্রথম পর্বেই প্রবেশ করে হোসেন মিঞা ও তার ময়নাদ্বীপ। পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন উপন্যাসে যতটা বাস্তব ও স্পষ্ট, হোসেন মিঞা ও তার ময়নাদ্বীপ ঠিক সেই পরিমাণেই রহস্য, হেঁয়ালী ও কল্পনা, বলা যায় ইউটোপিয়া। এই অংশটাই উপন্যাসের প্রধান অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও দুর্বল দিক।
হোসেন মিঞা রহস্যময় পুরুষ। পথের কাঙ্গাল থেকে সে বিত্তশালীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তার আভিজাত্যের প্রকাশ নেই। গরীব মাঝিদের সাথে সে নিঃসঙ্কোচে মিলেমিশে যায়, মাঝিরা না জানলেও কুবের ক্রমান্বয়ে জানতে পারে, হোসেন মিঞার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে, রয়েছে আফিমের কারবার। এই-ই তার সম্পদের উৎস। পরিস্কারভাবে না হলেও বোঝা যায় হোসেন মিঞা সম্ভবত উঠতি বুর্জোয়া- মেজকর্তার মত সামন্ত নয়। কিন্তু এহেন হোসেন মিঞা- সে সাহসী, কুশলী, বুদ্ধিমান, প্রয়োজনে নিমর্ম এবং কাঙ্গাল থেকে আমীর- মাঝিদের সাথে অবাধে মেশে, বিনাসুদে ঋণ দেয়, বিপদে সাহায্য করে; কিন্তু কেন করে তা স্পষ্ট নয়। মানিক দেখাচ্ছেন, হোসেন মিঞার স্বপ্ন- ময়নাদ্বীপে বসতি গড়ে তোলা এবং এখানেও তার মুনাফার স্বার্থ নেই। তাহলে এই সমস্ত প্রশ্নে সে কি শ্রেণীস্বার্থ বর্জিত?
এখানেই উপন্যাসের অসম্পূর্ণতা, বিভ্রান্তি ও সামঞ্জস্যহীনতা। আর এর ফলে সম্পূর্ণ উপন্যাস মূলত শ্রেণীসংগ্রাম থেকে সরে গেছে। মাঝিদের জীবন চিত্রিত করার ক্ষেত্রে যদিও ছিটেফোটা শ্রেণী শোষণ মাঝেমধ্যে ঝলক দিয়ে ওঠে কিন্তু শ্রেণী শোষণ বা শ্রেণী সংগ্রামের নির্ধারক ভূমিকাটা কোথাও জীবন্ত হয়ে দেখা দেয় না। রাসু সর্বস্বান্ত হয়ে ময়নাদ্বীপে যায়। কিন্তু কেন সর্বস্বান্ত হয়? সে ময়নাদ্বীপ থেকে ফেরার পথে পরিবার-পরিজন সকলকে হারায়। কেন, কি জন্য হারায়? আমিনুদ্দিন কেন সর্বস্বান্ত হয় ? কুবের কেন ময়নাদ্বীপে যেতে বাধ্য হয়? আমিনুদ্দিন যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সকলকে হারিয়ে, কুবের ময়নাদ্বীপে যায় তার স্বশ্রেণী- রাসুর চক্রান্তের কারণে। বাস্তবে এমন হয় এবং হতেও পারে। কিন্তু এটা ঘটনার বাইরের আবরণ মাত্র। ঘটনার মূল কারণ সমাজের শ্রেণী শোষণ ও শ্রেণী সংগ্রাম। মানিক এই আবরণ ভেদ করে ভিতরে ঢুকতে পারেননি, সারবস্তুকে টেনে বের করে মেলে ধরতে পারেননি। ফলে রাসু, আমিনুদ্দিন ও কুবের হয়ে পড়ে পরিস্থিতির অসহায় ও নিষ্ক্রিয় শিকার, আর নায়ক মূলত হয়ে দাঁড়ায় নব্যধনী, চতুর, প্রতিভাবান হোসেন মিঞা। ১৯৩০-এর দশকে, যখন ইতিমধ্যে রুশ বিপ্লব হয়ে গেছে, তার উত্তাপে ঔপনিবেশিক ভারত ও বিশ্বের দেশে দেশে মার্কসবাদ ও কমিউনিষ্ট আন্দোলন প্রসার লাভ করেছে, তখন কি এটা আর সম্ভব ছিল ? অথবা এটা কি প্রগতিশীল? না এটা তা নয়। সম্ভবত উপন্যাসের এই সীমাবদ্ধতা ও ত্র“টির কারণেই মধ্যবিত্ত ও বুর্জোয়া শিক্ষিত পাঠক সম্প্রদায় মানিকের অন্যান্য আরো উল্লেখযোগ্য প্রতিভাদীপ্ত সৃষ্টির চেয়ে এটিকে এত বেশি উপরে তুলে ধরে এবং হোসেন মিঞা তাদের কাছে হয়ে দাঁড়ায় এক অসাধারণ সৃষ্টি।
উপন্যাসের রোমান্টিক দিক হচ্ছে কপিলা-কুবের প্রেম। এভাবে বাস্তবতা, রোমান্টিকতা, ও কাল্পনিকতার [ইউটোপিয়া] মিশ্রণে মানিক উপন্যাসটি সৃষ্টি করেছেন।
উপন্যাসের উল্লেখিত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানিকের আপেক্ষিক অগ্রসরতাও সহজেই ধরা পড়ে। যেমন- স্বামীর প্রভুত্বের বন্ধন ত্যাগ করে কপিলা কুবেরের সাথে চলে গেল। যেখানে মানিক সামন্ততান্ত্রিক প্রথাকে আঘাত করেছেন, এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। শরৎচন্দ্র এ প্রশ্নে ব্যর্থ। কপিলা-কুবেরের প্রেমটাই অগ্রসরতা। কপিলা চরিত্রই অগ্রসর, মানিকের অগ্রসর সৃষ্টি।
“ঈশ্বর থাকেন ওই গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে। এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না”- এটাও মানিকের অগ্রসর দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। হোসেন মিঞা বলছে, “মুসলমানে মসজিদ দিলি হিন্দু দিব ঠাকুর ঘর- না মিঞা আমার দ্বীপের মদ্যি ও কাম চলব না।” – এখানে হোসেন মিঞার মধ্য দিয়ে অগ্রসর মধ্যবিত্ত মানিকই উঁকি দিচ্ছেন।
যাই হোক মানিকের এই পদ্মা নদীর মাঝিকেই চলচ্চিত্রায়িত করেছেন পশ্চিম বাংলার গৌতম ঘোষ। ১৯৩৬-এ মানিক যা লিখেছিলেন ১৯৯২-তে ৫৬ বছর পর তিনি তার চলচ্চিত্রায়ন করেছেন। এতদিনে পৃথিবী অনেক এগিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কে বেশি এগিয়ে ? মানিক না গৌতম ?
মানিক এঁকেছিলেন পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন চিত্র। পদ্মা নদী ও তার মাঝি- এ দু’টোর মধ্যে মাঝি তথা মানুষ প্রধান, অথচ গৌতম ঘোষের চলচ্চিত্রে পদ্মা নদী তথা প্রকৃতি অনেক জায়গাতেই এত সামনে চলে এসেছে যে মানুষ আড়াল হয়ে যায়। এভাবে গৌতম মানিক থেকেও দু’কদম পিছে হটেছেন।
হোসেন মিঞার চরিত্রের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমনই। এ প্রশ্নে মানিকেরও সমস্যা রয়েছে। যা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে। কিন্তু তবুও মানিক হোসেন মিঞাকে ঘিরে কুবেরের আশঙ্কা-সন্দেহ-অবিশ্বাসকে তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু গৌতম চলচ্চিত্রে তা করেননি। যেমন সর্বশেষ কুবেরের সংলাপ, “হোসেন মিঞা দ্বীপে আমারে নিবই কপিলা। একবার জেল খাইটা পার পামু না। ফিরা আবার জেল খাটাইব।”- এই তীক্ষ্ণ সংলাপটা, যা কুবেরের ভিতরের ঘৃণাকে প্রকাশ করছে, তা বাদ দিয়েছেন গৌতম ঘোষ। “দৈনিক আজকের কাগজ”-এর সাথে সাক্ষাতকারে গৌতম বলেছেন, “এই হোসেন মিঞারাই স্বপ্ন দেখায় সমাজকে। যে স্বপ্নের ফলাফল সে নিজে দেখে যেতে পারে না, কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম সে স্বপ্নের ফলাফল পায়।” কিন্তু মানিকের কুবের কি বলছে ? এখানেই মানিক আর গৌতমের পার্থক্য। মানিকের উপন্যাসে মোটেই এটা এত স্পষ্টতায় নেই। মানিক বরং বিভ্রান্ত। পদ্মা নদীর মাঝিদের জীবন-বঞ্চনা-দারিদ্র-প্রাণচাঞ্চল্য-শক্তিসামর্থ্য সবকিছু তিনি দেখেছেন। আবার তাদের জীবন যন্ত্রণার পরিণতিও তিনি দেখেছেন। কিন্তু এর অন্তর্নিহিত কারণ কি এবং তারপর কি- তা তিনি উদঘাটন করতে পারেন নি। ফলে তিনি হোসেন মিঞা ও ময়নাদ্বীপের অবতারণা করে বাস্তবতার খেই হারিয়েছেন। কিন্তু হোসেন মিঞা স্বপ্ন দেখায়- এ চিত্র তার উপন্যাসে নেই। কুবের রাসু আমিনুদ্দিন কারও কাছে ময়নাদ্বীপ স্বপ্ন নয়, বরং চরম পরিস্থিতিতে তারা হোসেন মিঞার খপ্পরে পতিত হয়। আবার এটাকে স্পষ্টভাবে চিত্রিত করতে মানিক ব্যর্থ। তিনি প্রকৃত পক্ষে নিজেই দিশাহীন। এখানেই মানিকের বিভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা। অথচ গৌতম ৫৬ বছরের আগের মানিকের চেয়ে পিছিয়ে বলেছেন, “হোসেন মিঞারা স্বপ্ন দেখায়।” তার চলচ্চিত্রে তিনি এভাবেই হোসেন মিঞাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এটা পুরোপুরি প্রতিক্রিয়াশীল। মানিক তার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রগতিশীল ও মার্কসবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু গৌতম ঘোষ সেটা পারবেন তা এখনো মনে হবার যুক্তি নেই। ভারতের বড় বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর সহচর পশ্চিম বাংলার বুর্জোয়া সংশোধনবাদী জ্যোতিবসু সরকার যে গৌতম ঘোষদের সংস্কৃতি নির্মাণের জন্য টাকা সাহায্য কেন করে তা এ থেকে সহজে বোধগম্য।
সর্বোপরি, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্র হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জন্য। আর এ জন্য দরকার কাহিনীর ধারাবাহিকতা, কাহিনীর কিছুটা সহজ সরল উপস্থাপন। উপন্যাসকে চলচ্চিত্র করার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কারণ উপন্যাসে অনেক কিছু বর্ণনা করে দেওয়া হয়। চলচ্চিত্রে তা দেখাতে হয়। ফলে পরিচালককে কাটছাট, সংযোজন-বিয়োজন করতে হয়, মূল বিষয়কে ঠিক রেখে। গৌতম ঘোষও তা যথেষ্টই করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ঘটনা থেকে ঘটনা তিনি হাজির করেছেন বেশ খাপছাড়াভাবে। ফলে উপন্যাস পড়েনি বা মনে রাখেনি এমন দর্শকের পক্ষে, সাধারণ দর্শকের কথা বাদ দিলেও, ছবিটা ভালভাবে বুঝে ওঠা কষ্টকর। সাধারণ দর্শকদের এই চলচ্চিত্রটি যে টানতে ব্যর্থ হয়েছে- এটিই এর অন্যতম একটি কারণ। আর গৌতম ঘোষ সংযোজন-বিয়োজন করেছেন তার প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে। ফলে কুবের-কপিলা প্রেম, হোসেন মিঞার তথাকথিত স্বপ্ন দেখানো বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি যত সামনে এসেছে, মাঝিদের জীবন সংঘাত সেই তুলনায় পিছিয়ে গেছে।
কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও বলতে হবে এই চলচ্চিত্র এদেশের মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত শিক্ষিত দর্শককুলের জন্য নতুন স্বাদ বয়ে এনেছে। ঢাকার চলচ্চিত্রের যে নীচুমান তার তুলনায় এর অনেক অনেক উঁচু শিল্পমানকে কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। সংযত উপস্থাপনা, সুন্দর ক্যামেরার কাজ, অভিনয় সৌকর্য- এসমস্ত ক্ষেত্রে পরিচালক গৌতম ঘোষ শিক্ষিত দর্শককুলের প্রশংসা কুড়াতে অবশ্যই সক্ষম হবেন।
কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। অন্ধকার দেখাতে গিয়ে পরিচালক এমন অন্ধকার অনেক সময় করে ফেলেছেন যে পর্দায় কি হচ্ছে বুঝতেই কষ্ট হয়। এক্ষেত্রে বাস্তবতা দেখাতে গিয়ে দর্শকদের কথা মনে রাখা হয়নি। এটা দুর্বল টেকনিকেরও পরিচয়। সাউণ্ড অর্থাৎ শব্দেও বেশ সমস্যা রয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছন্দে চলচ্চিত্র উপভোগ ব্যাহত হয় এবং চোখ ও কানে কষ্ট হয়। ছবিটিতে কোন কোন চরিত্রের উপস্থাপনও প্রায় অস্পষ্ট, যেমন যুগল চরিত্র।
শেষ কথা হলো, আমাদের দেশে আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, শহিদুল হক খান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী ও সমালোচকরা গৌতম ঘোষের “পদ্মা নদীর মাঝি”র উদ্বাহু প্রশংসাই করেছেন। এর বাইরে এরা কিছু পাননি। এটা এদের দৈন্যদশাকেই আর একদফা তুলে ধরে। এদের কাছে পাশ্চাত্য বা ভারতের যা কিছু বড় তাই-ই মহান, সর্বাংশে মহান। এরা বড়’র পূজারী, ব্যক্তিত্বের পূজারী।
তাই ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে এদেরকে ধিক্কার না দিলে আলোচনাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

সূত্রঃ সংস্কৃতি বিষয়ক, আন্দোলন সিরিজ ৩, আন্দোলন প্রকাশনা

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s