পার্বত্য ‘শান্তি চুক্তি’ পাহাড়ে শান্তি আনবে না, ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত সৃষ্টি করবে

pic_03_672423690

 

পার্বত্য ‘শান্তি চুক্তি’ পাহাড়ে শান্তি আনবে না
ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত সৃষ্টি করবে

(ডিসেম্বর, ’৯৭)

[নোট: ‘শান্তি চুক্তি’ হওয়ার পরপরই আমাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য এই বক্তব্যটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তখন আন্দোলন প্রকাশিত না হওয়ায় তা প্রচার হয়নি। যেহেতু চুক্তি সম্পর্কে পরবর্তীতে কোন লেখা আন্দোলন-এ যায়নি, সেহেতু সেই লেখাটি এই সংকলনে এখন অন্তর্ভুক্ত করা হলো।]

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালী বড় ধনী শ্রেণীর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী জাতিসত্তার জনগণের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চালিয়ে আসছে।  এ নিপীড়ন পাকিস্তান আমলেও ছিল।  বিশেষত ষাটের দশকে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে তা গুণগতভাবে বৃদ্ধি পায়।
এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে পাহাড়ী জনগণ “অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত” নীতির ভিত্তিতে মানবেন্দ্র লারমার নেতৃত্বে “জনসংহতি সমিতি” (জে.এস.এস) এবং তাদের সশস্ত্র সংগঠন “শান্তি বাহিনী” পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন। সেই সংগ্রামের এক পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মানবেন্দ্র লারমা নিহত হন এবং নেতৃত্বে আসেন তার ভাই সন্তু লারমা।
সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ২ ডিসেম্বর, ’৯৭ পার্বত্য শান্তি চুক্তির নামে পাহাড়ী জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে উগ্র বাঙালী জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই পাহাড়ের সংগ্রামী জনগণ ঘৃণা ভরে এই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কেন এই ‘শান্তি চুক্তি’ পাহাড়ী জনগণের স্বার্থ বিরোধী?
* এই চুক্তি পাহাড়ী জনগণের বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার তথা স্বায়ত্তশাসনের দাবি মেনে নেয়নি। ফলে জাতিগত সমতা প্রতিষ্ঠা হয়নি।
* কল্পনা চাকমাসহ হাজার হাজার পাহাড়ী জনগণের হত্যাকারী, বাড়িঘর ধ্বংসকারী সেনাবাহিনীর বিচারের কোন ব্যবস্থা হয়নি। সেনাবাহিনী প্রত্যাহারও হবে না।
* পাহাড়ে আদিবাসীদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করার চক্রান্তের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পুনর্বাসিত বাঙালীদের সমতলে ফিরিয়ে নেয়া হয়নি।
* সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী ও তাদের দালাল বাঙালী বড় ধনী শ্রেণীর শোষণ-নির্যাতনে বাধ্য হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলার হওয়া দরিদ্র বাঙালীদের সমস্যার সুনির্দিষ্ট কোন সমাধান করেনি।
* দলিলপত্র থাক বা না থাক পাহাড়ী জমিতে বসবাসকারী পাহাড়ীরাই হচ্ছেন জমির প্রকৃত মালিক- এই নীতির ভিত্তিতে ভূমি সমস্যার সমাধান করেনি। তথাকথিত ভূমি কমিশন হলো লোক দেখানো, যা ভূমি সমস্যার কোন সমাধান করতে পারবে না।
* এই চুক্তির পিছনে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ বিশেষতঃ ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের চাপ স্পষ্ট। এর মাধ্যমে তাদের স্বার্থ হাসিল করবে।
বাঙালী বড় ধনী শ্রেণী এই চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে উঠতি বড় ধনীদের কিছু ক্ষমতার ভাগ দিয়েছে মাত্র। এর মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। বরং আরও বেশি অশান্তি সৃষ্টি হবে।
এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ী জনগণের ও বাঙালী জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য-শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। দূর হতে পারে না উগ্র বাঙালী শাসক শ্রেণী কর্তৃক সৃষ্ট জাতিগত বৈরিতা। তাই পাহাড়ী জনগণের প্রকৃত মুক্তির জন্য মাওবাদের আদর্শে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে পাহাড়ী-বাঙালী নিপীড়িত জনগণের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। অভিন্ন নিপীড়ক শাসক সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল বাঙালী বড় ধনী শ্রেণীকে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে উচ্ছেদ করতে হবে।  প্রতিষ্ঠা করতে হবে সমাজতন্ত্র।  

সূত্রঃ পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জাতিসত্ত্বার সংগ্রাম সম্পর্কে নিবন্ধ সংকলন, আন্দোলন প্রকাশনা

Advertisements

মধ্যপ্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী ও চরদের বিরুদ্ধে মাওবাদীদের ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ ঘোষণা

201606021452448352_During-the-raid-the-police-and-Maoist-recovered-Siapif_SECVPF

অনূদিতঃ

মধ্যপ্রদেশের বালঘাট পুলিশ মাওবাদী-উপদ্রুত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশের তথ্যদাতার নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে “মৃত্যুর পরোয়ানা” জারি করা মাওবাদীদের পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে। বালঘাট পুলিশ প্রধান গৌরভ তিওয়ারি জানিয়েছেন যে, বুধবার যে কিছু কর্মকর্তা রুপঝাড় পুলিশ এখতিয়ারভুক্ত লাল ঘাটি এলাকায় এসব পোস্টার উদ্ধার করেন।  এসব পোস্টারে পুলিশ তথ্যদাতার জন্য ভয়ানক সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

তিওয়ারি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গলে তাদের মাওবাদী বিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছিল।  সরকারি সূত্র জানায়, পোস্টারগুলো নিরাপত্তা বাহিনী ‘সশস্ত্র অভিযানের’ বিরুদ্ধে মাওবাদীদের একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ছিল।  এই অভিযানের সাথে জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মাওবাদীরা হত্যার হুমকি দিয়েছে।  এতে বুঝা যায় যে, সম্প্রতি মাওবাদীরা পুলিশের তথ্যদাতা সন্দেহে এক যুবককে হত্যা করে এবং এছাড়া একই ঘটনায় মাওবাদীরা একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগও করে। আরেকটি ঘটনায়, পুলিশের সাথে মাওবাদীদের এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে এবং পরে স্পট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী ও মাওবাদী সাহিত্য উদ্ধার করা হয়।

সূত্রঃ http://www.newindianexpress.com/nation/Maoists-issue-death-warrant-against-security-forces-informers-in-MP/2016/06/02/article3463103.ece


পেরুর গণযুদ্ধের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও চিত্র