গতকালের ভারতের গণযুদ্ধের সংবাদ(০৫/০৬/২০১৬)

phpThumb_generated_thumbnail

সোহান যাদব

সোহান যাদব

অনূদিতঃ 

  • লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) নেতা সুদেস পাসোয়ান এবং তার ভাইয়ের হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত চিহ্নিত শীর্ষ মাওবাদী নেতা সোহান যাদবকে গতকাল বিহারের কাছাড় গ্রামে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  এর আগে গত ৩রা জুন গয়া’র ইমামগঞ্জে এলাকায় এলজেপি নেতা হত্যাকান্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে একটি পোস্টার সাঁটানো হয়।  সেই সাথে একটি হাতে লেখা পুস্তিকায়, পুলিশের সাথে গোপনে অশুভ আঁতাত ও তাদের তথ্যদাতাদের সতর্ক করার কথা উল্লেখ করা হয়।

  • গতকাল ছত্তিশগড়ের নকশাল উপদ্রুত কোদাগাও জেলার গারদাপাল গ্রামে টহলরত পুলিশের DRG/জেলা রিজার্ভ গ্রুপের দলের ওপর মাওবাদী গেরিলারা হামলা চালালে দাঞ্চু সালাম নামে এক জওয়ান আহত হয়।

  • গতকাল কঙ্কার জেলার দোগেঝরা গ্রাম থেকে পান্দ্রি ওরফে আন্সিলা(২২) নামে একজন নারী নকশালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তিনি মাওবাদী সামরিক শাখার ৫নং প্লাটুন সদস্য।  ২০১১ সালে তিনি মাওবাদী দলে যোগ দেন।  তার মাথার জন্যে ২ লক্ষ্ টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল।

  • রাজনন্দগাঁওয়ে কন্সট্রাকশন সাইটে আগুন দিয়েছে মাওবাদীরা।

  • গতকাল লাতেহারে পুলিশ-মাওবাদী গুলি বিনিময় হয়েছে।

  • সুকুমায় মাওবাদী গ্রেফতার

  • গত শুক্রবার বিকেলে হাজারীবাগ জেলার কাহুদাগ-ভাগার নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর যন্ত্রপাতিতে মাওবাদীরা অগ্নিসংযোগ করেছে।

সূত্রঃ

http://www.patrika.com/news/hazaribagh/encounter-between-police-and-naxalite-in-jharkhand-1315805/

http://www.dailypioneer.com/state-editions/ultras-torch-machineries-of-bridge-construction.html

http://www.patrika.com/news/rajnandgaon/maoists-blew-up-two-vehicles-engaged-in-road-construction-1315557/

http://www.patrika.com/news/bastar/jagdalpur-one-suspected-arrested-from-kumakoleng-village-in-naxal-accused-1315670/

http://www.dailypioneer.com/state-editions/raipur/naxal-leader-carrying-a-bounty-of-rs2l-arrested.html

http://www.business-standard.com/article/pti-stories/drg-constable-injured-in-naxal-attack-116060500023_1.html

http://www.newsx.com/national/31219-main-accused-in-sudesh-paswans-murder-case-arrested

 

 


বুর্জোয়াদের ওপর সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনা করা সম্পর্কে – চ্যাং চুন-চিয়াও

chang

বুর্জোয়াদের ওপর সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনা করা সম্পর্কে

–   চ্যাং চুন-চিয়াও

(এপ্রিল ৪, ১৯৭৫)

 

চেয়ারম্যান মাও থেকে উদ্ধৃতি

কেন লেনিন বুর্জোয়াদের ওপর একনায়কত্ব পরিচালনা করার কথা বলেন? এ প্রশ্নটি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এ প্রশ্নে স্পষ্টতার অভাব সংশোধনবাদে চালিত করবে। সমগ্র জাতিকে এটা জানানো প্রয়োজন।

আমাদের দেশ বর্তমানে একটা পণ্য ব্যবস্থা অনুশীলন করছে; মজুরী ব্যবস্থাও অসম, যেমনটা আট-গ্রেড মজুরী স্কেলে রয়েছে, এবং এরকম আরো কিছু। সর্বহারা একনায়কত্বের অধীনে এ বিষয়গুলোকে শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই, লিন পিয়াওয়ের মত লোকেরা যদি ক্ষমতায় আসে তাদের পক্ষে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তৈরী করা খুবই সহজ হবে। সেজন্য মার্কসবাদী-লেনিনবাদী রচনাসমূহ আমাদের আরো পড়া 524601_107145486140371_1857584912_nদরকার।

লেনিন বলেছেন যে “ক্ষুদে উতপাদন পুঁজিবাদ ও বুর্জোয়া জন্মদান করে অব্যাহতভাবে, প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টায়, স্বতস্ফূর্তভাবে ও বিপুলভাবে। শ্রমিকশ্রেণী এবং পার্টি সদস্যদের একটা অংশের মধ্যেও তারা জন্ম নেয়। সর্বহারা শ্রেণীর সারির ভেতরে আর রাষ্ট্রের ও অন্যান্য অঙ্গসমূহের কর্মচারীদের মধ্যে- উভয় ক্ষেত্রেই এমন লোকজন রয়েছে যারা বুর্জোয়া জীবন যাপন স্টাইল গ্রহণ করে।

সর্বহারা একনায়কত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘকাল থেকে মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যেকার সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। লেনিন বলেছেন, “কেবল তিনি একজন মার্কসবাদী যিনি শ্রেণীসংগ্রামের স্বীকৃতিকে সর্বহারা একনায়কত্বের স্বীকৃতিতে সম্প্রসারিত করেন।” এবং এটা অত্যন্ত যথাযথভাবে তত্ত্ব ও অনুশীলন উভয় ক্ষেত্রে সংশোধনবাদ নয়, মার্কসবাদ মান্য করে চলতে আমাদের সক্ষম করে তোলে, যা থেকে চেয়ারম্যান মাও সমগ্র জাতিকে সর্বহারাশ্রেণীর একনায়কত্বের প্রশ্নে পরিষ্কার হবার আহ্বান জানান।

আমাদের দেশ তার ঐতিহাসিক বিকাশের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়কালে রয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময়ের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের, এবং বিশেষভাবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে লিউ শাউচি ও লিন পিয়াওয়ের বুর্জোয়া হেডকোয়ার্টাগুলোর বিলোপের ফলশ্রুতিতে আমাদের সর্বহারা একনায়কত্ব আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিকতর সুসংহত এবং আমাদের সমাজততান্ত্রিক আদর্শ সাফল্য অর্জন করছে। পূর্ণ জঙ্গীত্বতায়, আমাদের সমগ্র জনগণ এ শতক শেষ হওয়ার আগেই চীনকে একটি শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক দেশে বিনির্মাণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই প্রচেষ্টার প্রক্রিয়ায় এবং সমাজতন্ত্রের সমগ্র ঐতিহাসিক পর্যায়কাল ধরে আমরা সর্বহারা একনায়কত্বের প্রতি সর্বোতভাবে অটল থাকতে পারবো কিনা চীনের ভবিষ্যত বিকাশের জন্য সেটা একটা মূল প্রশ্ন। বর্তমান শ্রেণীসংগ্রামও দাবী করে যে, সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বের প্রশ্নে আমরা পরিষ্কার হই। চেয়ারম্যান মাও বলেন, “এই প্রশ্নে স্পষ্টতার অভাব সংশোধনবাদে চালিত করবে।” অল্প কিছু লোক বিষয়টিকে আত্মস্থ করলে চলবেনা, একে অবশ্যই “সমগ্র জাতিকে জানাতে হবে”। এই অধ্যয়নে সাফল্যের বর্তমান ও দীর্ঘকালীন গুরুত্বকে অতিমূল্যায়ণ করা যায়না।

সেই ১৯২০ সালে লেনিন মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্বদান ও সর্বহারা একনায়কত্বের প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনা করার বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর নিজেকে দাঁড় করিয়ে তীক্ষ্ণভাবে তুলে ধরেন, “সর্বহারা একনায়কত্ব নতুন শ্রেণী কর্তৃক পরিচালিত একটা দৃঢ়তম ও নির্দয়তম যুদ্ধ, একটা অধিকতর শক্তিধর শত্রু বুর্জোয়ার বিরুদ্ধে- যার উতখাতের সাথে (এমনকি একটিমাত্র দেশে হলেও) তার প্রতিরোধ দশগুণ বৃদ্ধি পায় এবং যার শক্তি নিহিত রয়েছে আন্তর্জাতিক পুঁজির সামর্থ্যইে শুধু নয়, বুর্জোয়াদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সামর্থ্য ও স্থায়িত্বের মধ্যেই শুধু নয়, বরং নিহিত অভ্যাসের বলে, ক্ষুদে উতপাদন-এর শক্তিতেও। যেহেতু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষুদে উতপাদন পৃথিবীতে খুবই খুবই এখনো বিস্তৃত, এবং ক্ষুদে উতপাদন অনবরত প্রতিদিন প্রতিঘন্টায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং ব্যাপকভাবে পুঁজিবাদ ও বুর্জোয়াদের জন্ম দেয়। এসকল কারণে সর্বহারা একনায়কত্ব অপরিহার্য।” লেনিন ব্যাখ্যা করেন যে, সর্বহারা একনায়কত্ব হচ্ছে একটা অটল সংগ্রাম- রক্তাক্ত ও রক্তপাতহীন, সহিংস ও শান্তিপূর্ণ, সামরিক ও অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক্ল-পুরোনো সমাজের ঐতিহ্য ও শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে, যার অর্থ হচ্ছে বুর্জোয়াদের উপর সার্বিক একনায়কত্ব। লেনিন বার বার জোর দিয়েছেন যে, বুর্জোয়াদের উপর একটা দীর্ঘস্থায়ী সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনা করা ছাড়া তার উপর বিজয় অর্জন করা অসম্ভব। লেনিনের এই কথাগুলো, বিশেষত যেগুলোতে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন, পরবর্তী বছরসমূহের অনুশীলন দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। যথেষ্ট নিশ্চিত যে, ব্যাচের পর ব্যাচ নতুন বুর্জোয়া উপাদানসমূহ জন্ম নিয়েছে, এবং ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ বেঈমান চক্র সুস্পষ্টভাবে তাদেরই প্রতিনিধি। এই লোকগুলোর সাধারণভাবে ভাল শ্রেণী পূর্বপ্রেক্ষাপট রয়েছে, প্রায় সকলেই লাল পতাকার অধীনে লালিত পালিত হয়েছে, তারা সাংগঠনিকভাবে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিল, কলেজ ট্রেনিং পেয়েছিল এবং তথাকথিত লাল দক্ষে পরিণত হয়েছিল। যাই হোক, তারা হচ্ছে পুঁজিবাদের পুরোনো জমিতে জন্ম নেয়া নয়া বিষাক্ত আগাছা। তারা নিজেদের শ্রেণীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, পার্টি ও রাষ্টক্ষমতা করায়ত্ব করেছে, পুঁজিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে, সর্বহারা শ্রেণীর উপর বুর্জোয়াদের একনায়কত্বের পাণ্ডায় পরিণত হয়েছে, আর সেই জিনিসটা সম্পন্ন করেছে যা হিটলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। আমাদের কোনভাবেই ইতিহাসের এই অভিজ্ঞতাকে ভুলে যাওয়া চলবেনা যে, “যখন আকাশে উপগ্রহগুলো উড়েছে, তখন লাল পতাকা মাটিতে পতিত হয়েছে”- বিশেষতঃ এই মুহুর্তে তো নয়ই, যখন আমরা এটা শক্তিশালী দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর ।

আমাদের ধীর-স্থিরভাবে সচেতন থাকতে হবে যে, চীনের সংশোধনবাদীতে রূপান্তরিত হওয়ার বিপদ এখনো রয়েছে। এটা কেবল এজন্য নয় যে, সাম্রাজ্যবাদ ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ আমাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও ধ্বংসাত্মক ততপরতা চালানো কখনো ত্যাগ করবেনা, কেবল এ কারণে নয় যে, চীনের পুরোনো ভূস্বামী ও পুঁজিপতিরা এখনো আশেপাশে রয়েছে এবং তাদের পরাজয় মেনে নেয়নি, বরং একারণে যে নতুন বুর্জোয়া উপাদানসমূহ জন্ম নিচ্ছে প্রতিদিন প্রতিঘন্টায়, যেমনটা লেনিন বলেছেন। কিছু কমরেড বলেন যে, লেনিন যৌথকরণের পূর্বের পরিস্থিতির কথা বলেছিলেন। এটা নিশ্চিতভাবেই ভুল। লেনিনের বক্তব্য একটুও সেকেলে হয়ে যায়নি। এই কমরেডগণ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত চেয়ারম্যান মাওয়ের জনগণের মধ্যেকার দ্বন্দ্বসমূহের সঠিক মীমাংসা সম্পর্কে দেখে নিতে পারেন। সেখানে চেয়ারম্যান মাও মূর্ত বিশ্লেষণ দ্বারা দেখান যে, মালিকানা ব্যবস্থার সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের মৌলিক বিজয় – যার মধ্যে রয়েছে কৃষি সমবায়ের অর্জন – এর পরও চীনে শ্রেণীসমূহ, শ্রেণীদ্বন্দ্বসমূহ এবং শ্রেণীসংগ্রাম রয়েছে। এবং উতপাদন সম্পর্ক ও উতপাদিকা শক্তিসমূহের মধ্যে, আর উপরিকাঠামো ও অর্থনৈতিক ভিত্তির মধ্যে সঙ্গতি ও দ্বন্দ্ব তখনো রয়ে গেছে। লেনিনের পর সর্বহারা একনায়কত্বের নয়া অভিজ্ঞতার সারসংকলন করে চেয়ারম্যান মাও মালিকানা ব্যবস্থার পরিবর্তনের পর যে বিবিধ প্রশ্নসমূহ উত্থিত হয়েছে তার সুব্যবস্থিত উত্তর প্রদান করেন, সর্বহারা একনায়কত্বের করণীয় ও কর্মনীতিসমূহ নিরূপণ করেন এবং সর্বহারা একনায়কত্বের অধীনে বিপ্লবকে অব্যাহত রাখার ও পার্টির মৌলিক লাইনের তত্ত্বগত ভিত্তি স্থাপন করেন। বিগত ১৮ বছরের, বিশেষতঃ মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, চেয়ারম্যান মাও কর্তৃক পেশ করা তত্ত্ব, লাইন ও কর্মনীতিসমূহ সমগ্রভাবে সঠিক।

চেয়ারম্যান মাও সম্প্রতি বলেন, “এক কথায় চীন একটা সমাজতান্ত্রিক দেশ। মুক্তির পূর্বে সে ব্যাপকভাবে একটা পুঁজিবাদী দেশের মত ছিল। এমনকি এখনও সে আট-গ্রেড মজুরী ব্যবস্থা অনুশীলন করে, কাজ অনুযায়ী বণ্টন আর টাকার মাধ্যমে বিনিময় অনুশীলন করে, আর এ সবকিছুতেই পুরোনো ব্যবস্থা থেকে খুব কমই পার্থক্য হয়। যা পৃথক সেটা হলো এই যে, মালিকানা ব্যবস্থাটি পরিবর্তিত হয়েছে।” চেয়ারম্যান মাও-এর নির্দেশাবলীর ওপর গভীর উপলব্ধি অর্জনে আসুন দৃষ্টি দেওয়া যাক চীনে মালিকানা ব্যবস্থার পরিবর্তনের দিকে, আর ১৯৭৩ সালে চীনের শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যে বিবিধ অর্থনৈতিক সেক্টরসমূহের অনুপাতসমূহের ওপর।

প্রথম, শিল্প। সমগ্র জনগণের মালিকানাধীন শিল্প সমগ্রভাবে শিল্পের ধ্রুব সম্পদের শতকরা ৯৭ ভাগ, শিল্পে নিয়োজিত জনগণের শতকরা ৬৩ ভাগ এবং মোট শিল্পোতপাদনের শতকরা ৮৬ ভাগ মূল্য নিয়ে বিস্তৃত। যৌথ মালিকানাধীন শিল্প ধ্রুব সম্পদের শতকরা ৩ ভাগ, শিল্পে নিয়োজিত জনগণের শতকরা ৩৬.২ ভাগ ও মোট উতপাদন মূল্যের শতকরা ১৪ ভাগ নিয়ে গঠিত। এছাড়া, ব্যক্তি-হস্তশিল্পীরা শিল্পে নিয়োজিত জনগণের শতকরা ০.৮ ভাগ নিয়ে গঠিত।

এরপর, কৃষি। কৃষি উতপাদন উপকরণের মধ্যে প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ খামারভূমি ও সেচ-ড্রেনেজ যন্ত্রপাতি এবং শতকরা ৮০ ভাগ ট্রাক্টর ও গবাদি পশু যৌথ মালিকানার অধীন ছিল। এখানে সমগ্র জনগণের মালিকানা খুব ক্ষুদ্র একটা অনুপাত গঠন করে। তাই, শতকরা ৯০ ভাগের ওপর খাদ্যশস্য(জাতির) ও বিবিধ শিল্পশস্য এসেছে যৌথ অর্থনীতি থেকে। রাষ্ট্রীয় খামার খুব ক্ষুদে একটা অনুপাতের। এর বাইরে, কমিউন সদস্যদের দ্বারা তাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে চাষকৃত ক্ষুদ্র প্লটসমূহ এখনো রয়েছে, আর রয়েছে বাড়ীর আশেপাশের উতপাদনের একটা সীমিত পরিমাণ।

তারপর বাণিজ্য। রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য খুচরা বিক্রয়ের মোট আকারের শতকরা ৯২.৫ ভাগ, যৌথ মালিকানাধীন বাণিজ্যিক সংস্থাসমূহ শতকরা ৭.৩ ভাগ, আর স্বতন্ত্র দোকানদাররা শতকরা ০.২ ভাগ ছিল। এর বাইরে, গ্রামীণ মেলাগুলোতে সংঘটিত ব্যবসার একটা বড় পরিমাণ এখনো রয়ে গেছে।

উপরের চিত্র দেখায় যে, সমগ্র জনগণের সমাজতান্ত্রিক মালিকানা ও শ্রমজীবী জনগণের সমাজতান্ত্রিক যৌথ মালিকানা চীনে সত্যিই এক বিরাট বিজয় অর্জন করেছে। সমগ্র জনগণ কর্তৃক মালিকানার কর্তৃত্বমূলক অবস্থান বিরাটাকারে এগিয়ে নেয়া হয়েছে, আর, গণকমিউনসমূহের অর্থনীতিতেও কিছু পরিবর্তন ঘটেছে  কমিউন, উতপাদন ব্রিগেড ও উতপাদন টিম- এই তিনটি স্তরে মালিকানার অনুপাতে। উদাহরণস্বরূপ, সাংহাইয়ের শহরতলীতে মোট আয়ের অনুপাতে কমিউন স্তরে আয় ১৯৭৩ সালে শতকরা ২৮.১ থেকে বেড়ে ১৯৭৪-এ শতকরা ৩০.৫ হয়েছে, ব্রিগেডের আয় শতকরা ১৫.২ থেকে বেড়ে হয়েছে শতকরা ১৭.২ ভাগ, যেখানে টিমের অনুপাত শতকরা ৫৬.৭ থেকে শতকরা ৫২.৩ ভাগে নেমে গেছে। গণকমিউনসমূহ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছে তার অধিকতর বড় আকার ও উচ্চতর মাত্রার গণমালিকানা নিয়ে। যতখানি আমরা বিগত ২৫ বছরে ধাপে ধাপে সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদের মালিকানা অপসারণ করেছি, জাতীয় পুঁজিবাদ ও ব্যক্তি শ্রমিকদের মালিকানাকে রূপান্তরিত করেছি এবং এই পাঁচ ধরনের ব্যক্তিমালিকানাকে দুই ধরনের সমাজতান্ত্রিক গণমালিকানা দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছি, তাতে আমরা গর্বের সাথে ঘোষণা করতে পারি যে, চীনে মালিকানা ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, চীনের সর্বহারা শ্রেণী ও অন্যান্য মেহনতী জনগণ ব্যক্তিগত মালিকানার শৃংখল থেকে নিজেদের প্রধানত মুক্ত করেছেন, এবং চীনের সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তি ক্রমাগত ধারায় সুসংহত ও বিকশিত করা হয়েছে। চতুর্থ জাতীয় গণ কংগ্রেসে গৃহীত সংবিধান নির্দিষ্টভাবে আমাদের এই মহান বিজয়সমূহকে রেকর্ড করেছে।

যাহোক, আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে যে মালিকানা ব্যবস্থার দিক থেকে বিষয়টি এখনও পুরোপুরি মীমাংসিত নয়। আমরা প্রায়শ বলি যে, মালিকানার বিষয়টি “প্রধানত মীমাংসিত হয়েছে”; এর অর্থ হচ্ছে যে, এটা সমগ্রভাবে মীমাংসা হয়নি, এবং এই ক্ষেত্রে বুর্জোয়া অধিকারও পুরোপুরি বিলোপ হয়নি। উপরে উদ্ধৃত পরিসংখ্যান দেখায় যে, শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যে ব্যক্তিগত মালিকানা অংশত এখনো বিদ্যমান, সমাজতান্ত্রিক গণমালিকানা সমগ্রভাবে সমগ্র জনগণের মালিকানা দ্বারা গঠিত নয় বরং দুই ধরনের মালিকানা নিয়ে গঠিত, এবং সমগ্র জনগণের মালিকানা কৃষিতে এখনো বরং দুর্বল- যে কৃষি হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি। মার্কস ও লেনিন যেমনটা কল্পণা করেছিলেন-  সমাজতান্ত্রিক সমাজে মালিকানা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বুর্জোয়া অধিকারের অবলুপ্তির অর্থ হচ্ছে, সকল উতপাদনের উপায়সমূহের সমগ্র সমাজের সাধারণ সম্পত্তিতে রূপান্তর। পরিষ্কারভাবে, আমরা এখনো সেই স্তরে পৌঁছাইনি। না তত্ত্বে না অনুশীলনে, কোনভাবেই আমরা সেই কষ্টকর কাজটিকে এড়িয়ে যেতে পারি না, যা এই প্রশ্নে সর্বহারা একনায়কত্বের জন্য করণীয় হিসেবে সামনে রয়েছে।

অধিকন্তু, আমাদের অবশ্যই দেখা উচিত যে, সমগ্র জনগণের মালিকানা ও যৌথ মালিকানা- উভয়ের সাথে নেতৃত্বের প্রশ্ন জড়িত, অর্থাত, কোন্ শ্রেণীটি মালিকানা ধারণ করে প্রকৃতপক্ষে, স্রেফ নামে নয়।

১৯৬৯ সালের ২৮ এপ্রিল পার্টির নবম কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে চেয়ারম্যান মাও বলেছিলেন, “স্পষ্টতঃই প্রতীয়মান যে, মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ব্যতীত আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না, কারণ আমাদের ভিত্তি মজবুত ছিলনা। আমার পর্যবেক্ষণ থেকে আমি ভীত যে, কারখানাসমূহের একটা ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতেই- আমি মনে করছিনা সকল কিংবা নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতে- প্রকৃত মার্কসবাদীদের এবং শ্রমিক জনগণের হাতে নেতৃত্ব ছিলনা। তার মানে এই নয় যে কারখানাসমূহের নেতৃত্বে কোন ভাল মানুষ ছিলনা। সেখানে তা ছিল। পার্টির কমিটিসমূহের সম্পাদক, উপসম্পাদক ও সদস্যদের মধ্যে এবং পার্টির শাখা সম্পাদকদের মধ্যে ভাল মানুষ ছিল। কিন্তু তারা লিউ শাও-চি’র শুধুমাত্র বৈষয়িক প্রণোদনাকে অবলম্বন করা, মুনাফাকে কমান্ডে রাখা, আর সর্বহারা রাজনীতিকে উতসাহের পরিবর্তে বোনাসের মুষ্টিভিক্ষা ও এ জাতীয় বিষয়কে উতসাহের লাইনকে অনুসরণ করছিলেন।” “কিছু কারখানায় প্রকৃতই মন্দ লোক বিদ্যমান।” “এটাই দেখাচ্ছে যে বিপ্লব এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে”। চেয়ারম্যান মাও-এর মন্তব্যসমূহ মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তাকেই শুধু ব্যাখ্যা করছে না, বরং মালিকানা ব্যবস্থার সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের আরো সচেতন হতে সহায়তা করছে, যেমন অন্য সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে, শুধু তার রূপের ক্ষেত্রে নয় বরং প্রকৃত মর্মবস্তুর দিকেও আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত। উতপাদন সম্পর্কের ক্ষেত্রে মালিকানা ব্যবস্থার নির্ধারক ভূমিকায় পূর্ণ জোর দেওয়া একদম সঠিক। কিন্তু মালিকানা ব্যবস্থা স্রেফ রূপের দিক থেকেই সমাধা করা হয়েছে, নাকি প্রকৃত বাস্তবে হয়েছে- তার দিকে, উতপাদন সম্পর্কের অন্য দুটো দিক: জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ও বণ্টনের রূপ- এদের দ্বারা মালিকানা ব্যবস্থার ওপর যে প্রতিক্রিয়া হয় তার দিকে, এবং অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর উপরিকাঠামোর দ্বারা আনীত প্রতিক্রিয়ার দিকে কোন জোর না দেওয়া ভুল। নির্দিষ্ট শর্তে এই দুটো দিক ও উপরিকাঠামো নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজনীতি হচ্ছে অর্থনীতির ঘনীভূত প্রকাশ। মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক লাইন সঠিক না বেঠিক, এবং কোন্ শ্রেণী নেতৃত্বে আছে, তা নির্ধারণ করে যে, প্রকৃতপক্ষে কারখানাগুলো কাদের মালিকানায় রয়েছে। কমরেডগণ স্মরণ করতে পারেন, কিভাবে আমরা আমলাতান্ত্রিক পুঁজি অথবা জাতীয় পুঁজির মালিকানাধীন কোন সংস্থাকে সমাজতান্ত্রিক সংস্থায় পরিণত করেছিলাম। তাকে পার্টির লাইন ও রাজনীতি অনুসারে রূপান্তরের জন্য সেটা কি আমরা একটা সামরিক-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি অথবা একটা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি পাঠিয়ে করিনি? ঐতিহাসিকভাবে মালিকানা ব্যবস্থায় প্রতিটি বড় পরিবর্তন- তা সামন্ত ব্যবস্থা কর্তৃক দাস প্রথার প্রতিস্থাপন, অথবা পুঁজিবাদ কর্তৃক সামন্ততন্ত্রের প্রতিস্থাপন যা-ই হোক, তা ব্যতিক্রমহীনভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের পরবর্তীতে হয়েছে, যা মালিকানা ব্যবস্থায় বড় আকারে পরিবর্তন আনতে এবং নয়া ব্যবস্থাকে সংহত ও বিকশিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে । সমাজতান্ত্রিক গণমালিকানার ক্ষেত্রে এটা আরো সত্য যা বুর্জোয়া একনায়কত্বের অধীনে জন্ম নিতে পারেনা। আমলাতান্ত্রিক পুঁজি, যা পুরোনো চীনের শতকরা ৮০ ভাগ শিল্প নিয়ন্ত্রণ করতো, তাকে রূপান্তরিত করা ও সমগ্র জনগণের মালিকানার অধীনে স্থাপন করা সম্ভব হল গণমুক্তি বাহিনী চিয়াংকাইশেককে পরাজিত করার পরই কেবল। একইভাবে, অনিবার্যভাবে পুঁজিবাদী পুনরুত্থানের পূর্বে ঘটে নেতৃত্ব কব্জা এবং পার্র্টির লাইন ও কর্মনীতির পরিবর্তন। ক্রুশ্চেভ ও ব্রেজনেভ কি এই পথেই সোভিয়েত ইউনিয়নের মালিকানা ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটায়নি? এই পথেই কি লিউ শাও-চি ও লিন পিয়াও আমাদের বেশকিছু কারখানা ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর চরিত্রের বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তন ঘটায়নি?

আমাদের এটাও দেখতে হবে যে, আজকে আমরা যা অনুশীলন করছি তাহচ্ছে একটা পণ্য ব্যবস্থা । চেয়ারম্যান মাও বলেন, “আমাদের দেশ বর্তমানে একটা পণ্য ব্যবস্থা অনুশীলন করছে, মজুরী ব্যবস্থাও অসম, যেমন আট-গ্রেড মজুরী স্কেল ও এরকম আরো কিছু। সর্বহারা একনায়কত্বের অধীনে এ জাতীয় বিষয়গুলোকে শুধু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই, লিন পিয়াওয়ের মতো লোকেরা ক্ষমতায় আসলে তাদের পক্ষে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তৈরী করা খুবই সহজ হবে।” এই পরিস্থিতি, যা চেয়ারম্যান মাও তীক্ষ্ণভাবে তুলে ধরেছেন, স্বল্প সময়ে পরিবর্তন করা যাবেনা। উদাহারণস্বরূপ, সাংহাই-এর শহরতলীর গ্রামীণ গণকমিউনসমূহে, যেখানে কমিউন ও উতপাদন ব্রিগেড স্তরে অর্থনীতি বরং দ্রুত গতিতে বিকাশ লাভ করেছে, সেখানে এই  তিনটি স্তরের সবগুলোর মালিকানাধীন ধ্রুব সম্পদসমূহের শতকরা ৩৪.২ ভাগ কমিউন মালিকানাধীন, ব্রিগেড মালিকানা শতকরা মাত্র ১৫.১ ভাগ, অথচ উতপাদন টিমসমূহ এখনো শতকরা ৫০.৭ ভাগ দখল করে রয়েছে। তাই, আমরা যদি শুধু কমিউনগুলোতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে হিসেব করি, (তাহলেও) মূল হিসেব-রক্ষণকারী ইউনিট হিসেবে টিমের ব্রিগেডে এবং তারপর কমিউনে রূপান্তরে একটা ভাল মতো দীর্ঘসময় লাগবে। অধিকন্তু, যখন কমিউন মূল হিসেব-রক্ষণকারী ইউনিটে পরিণত হবে, মালিকানা তখনও যৌথ থাকবে। তাই, স্বল্প মেয়াদে, পরিস্থিতির কোন মৌলিক পরিবর্তন ঘটবেনা, যেখানে সমগ্র জনগণের মালিকানা ও যৌথ মালিকানা সহাবস্থান করে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের এই দুই ধরনের মালিকানা থাকবে, ততদিন পণ্য উতপাদন, অর্থের মাধ্যমে বিনিময় এবং কাজ অনুসারে বণ্টন অনিবার্য। আর যেহেতু “সর্বহারা একনায়কত্বের অধীনে এই বিষয়গুলোকে শুধু নিয়ন্ত্রণ করা যায়”, তাই, গ্রাম ও শহরে পুঁজিবাদী উপাদানসমূহের বৃদ্ধি এবং নতুন বুর্জোয়া উপাদানসমূহের উদ্ভব একইভাবে অনিবার্য। যদি এই বিষয়সমূহকে নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, (তাহলে) পুঁজিবাদ ও বুর্জোয়া অধিক দ্রুতগতিতে জন্ম নেবে। তাই, আমরা কোনভাবেই আমাদের সতর্কতাকে ঢিলে করতে পারিনা, শুধু এ কারণে যে, মালিকানা ব্যবস্থার রূপান্তরে আমরা একটা বিরাট বিজয় অর্জন করেছি এবং একটা মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব পরিচালনা করেছি। আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনো মজবুত নয়; মালিকানা ব্যবস্থায় বুর্জোয়া অধিকার এখনো সমগ্রভাবে বিলোপ করা হয়নি; এটা এখনো জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের মধ্যে মারাত্মক পরিমাণে রয়েছে এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকায় রয়েছে। উপরিকাঠামোর বহুবিধ ক্ষেত্রের কিছু এলাকা বস্তুত এখনো বুর্জোয়াদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যার সেখানে কর্তৃত্ব রয়েছে। এর কিছু রূপান্তরিত করা হচ্ছে, কিন্তু ফলাফলসমূহ এখনো সংহত হয়নি এবং পুরোনো ধারণা ও অভ্যাসের পুরোনো শক্তি এখনো সমাজতান্ত্রিক নয়া জিনিসসমূহকে একগুঁয়েভাবে বাধা দিচ্ছে। শহর ও গ্রামে পূঁজিবাদী উপাদানসমূহের বিকাশের তরঙ্গে দলের পর দল নতুন বুর্জোয়া উপাদানসমূহ জন্ম নিচ্ছে। সর্বহারা শ্রেণী ও বুর্জোয়া শ্রেণীর মধ্যে শ্রেণীসংগ্রাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিসমূহের মধ্যে শ্রেণীসংগ্রাম এবং মতাদর্শিক ক্ষেত্রে সর্বহারা শ্রেণী ও বুর্জোয়া শ্রেণীর মধ্যে শ্রেণীসংগ্রাম দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা হিসেবে অব্যাহত থাকবে এবং সময়ে সময়ে খুবই তীক্ষ্ণ হবে। এমনকি পুরোনো প্রজন্মের সামন্ত ভূস্বামী ও বুর্জোয়ারা যখন সবাই মারা যাবে, তখনো এই শ্রেণীসংগ্রাম শেষ হবেনা কোনভাবেই; আর লিন পিয়াও-এর মতো লোকেরা ক্ষমতায় আসলে তখনো একটা বুর্জোয়া পুনরুত্থান ঘটতে পারে। জাপনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে বিজয়োত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের কর্মনীতি শীর্ষক বক্তব্যে চেয়ারম্যান মাও ব্যাখ্যা করেছিলেন কীভাবে ১৯৩৬ সালে পাও-আন-এ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর-এর কাছে একটা গ্রাম বেশ কিছু সশস্ত্র প্রতিবিপ্লবীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল, যারা অব্যাহতভাবে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল, যতক্ষণ না লাল ফৌজ এর ওপর আঘাত হানল এবং সমস্যাটির সমাধান করল। এই গল্পটির একটি বিশ্বজনীন তাতপর্য রয়েছে। কারণ তা আমাদের বলে “প্রতিটি প্রতিক্রিয়াশীল জিনিস একই, আপনি যদি একে আঘাত না করেন এর পতন ঘটবেনা। এটা মেঝে ঝাড়– দেওয়ার মতো। যেখানে ঝাড়– পৌঁছায়না, ধূলা কখনো আপনি থেকে সরে যায়না।” আজকে এখনো বুর্জোয়াদের দ্বারা দখলকৃত অনেক “সুরক্ষিত গ্রাম” রয়েছে। একটা ধ্বংস হলে আরেকটা জন্ম নেবে। এমনকি একটা বাদে সবকটি ধ্বংস হলেও সেটা নিজে থেকে ধ্বংস হবেনা, যদিনা সর্বহারা একনায়কত্বের লোহার ঝাড়– সেখানে পৌঁছে। লেনিন সম্পূর্ণ সঠিকভাবেই বলেছিলেন, “এই সব কারণেই সর্বহারা একনায়কত্ব অপরিহার্য।”

ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা আমাদের দেখায় যে, সর্বহারা শ্রেণী বুর্জোয়া শ্রেণীর উপর বিজয় অর্জন করতে পারবে কিনা এবং চীন সংশোধনবাদীতে পরিণত হবে কিনা তা নির্ভর করে আমরা বুর্জোয়াদের উপর সকল ক্ষেত্রে ও বিপ্লবের বিকাশের সকল স্তরে সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনা করা অব্যাহত রাখতে পারি কিনা তার ওপর। বুর্জোয়াদের ওপর সার্বিক একনায়কত্ব কী? ১৮৫২ সালে জে, ওয়েডমেয়ারের কাছে মার্কসের চিঠির একটা অনুচ্ছেদে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সাধারণীকরণ পাওয়া যায় যা আমরা সবাই অধ্যয়ন করছি। মার্কস বলেন, “…আধুনিক সমাজে শ্রেণীসমূহের অস্তিত্ব বা তাদের মধ্যকার সংগ্রাম আবিস্কারের কৃতিত্ব আমার নয়। আমার বহু পূর্বে বুর্জোয়া ঐতিহাসিকরা শ্রেণীসমূহের সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিকাশকে বর্ণনা করেছেন, এবং বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদরা শ্রেণীসমূহের অর্থনৈতিক ব্যবচ্ছেদ করেছেন। নতুন আমি যা করেছি তা হচ্ছে এটা প্রমাণ করা যে- ১) শ্রেণীসমূহের অস্তিত্ব কেবল উতপাদনের বিকাশের নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক পর্বের সাথে বাঁধা। ২) শ্রেণীসংগ্রাম আবশ্যিকভাবে সর্বহারা একনায়কত্বে চালিত করে। ৩) এই একনায়কত্ব নিজেই সকল শ্রেণীর বিলোপ এবং একটা শ্রেণীহীন সমাজে যাওয়ার উত্তরণই কেবল গঠন করে।” লেনিন বলেন, এই চমতকার পর্যবেক্ষণে মার্কস লক্ষণীয় স্পষ্টতায় রাষ্ট্র সংক্রান্ত বুর্জোয়াদের তত্ত্বের সাথে সেসংক্রান্ত তাঁর তত্ত্বের প্রধান ও মৌলিক পার্থক্য, এবং রাষ্ট্র সংক্রান্ত তাঁর শিক্ষার সার প্রকাশে সফল হয়েছেন। এখানে লক্ষণীয় যে, মার্কস সর্বহারা একনায়কত্ব সম্পর্কে বাক্যটিকে তিনটি প্রশ্নে ভাগ করেছেন, যেগুলো পরস্পর সম্পর্কিত এবং একে অপর থেকে  অবিচ্ছেদ্য। এই তিনটি বিষয়ের কেবল একটিকে গ্রহণ করে অপর দুটি বর্জন করা অনুমোদনীয় নয়। কারণ, বাক্যটি সর্বহারা একনায়কত্বের জন্ম, বিকাশ ও শুকিয়ে মরার গোটা প্রক্রিয়ার পূর্ণ প্রকাশ প্রদান করে এবং সর্বহারা একনায়কত্বের সমগ্র করণীয় ও তার প্রকৃত সারকে প্রকাশ করে। ফ্রান্সে শ্রেণীসংগ্রাম, ১৮৪৮-১৮৫০-এ মার্কস সর্বহারা একনায়কত্বের অধিকতর মূর্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, একে সাধারণভাবে সকল শ্রেণী পার্থক্য বিলোপ, যে উতপাদন সম্পর্কসমূহের উপর এগুলো দাঁড়িয়ে তার সকলগুলোর বিলোপ, এই উতপাদন সম্পর্কসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সকল সামাজিক সম্পর্কের বিলোপ এবং এই সামাজিক সম্পর্কসমূহ থেকে জন্ম নেওয়া সকল ধারণাসমূহের বিপ্লবীকরণের প্রয়োজনীয় উত্তরণকাল হিসেবে। এ চারটি ক্ষেত্রের সবগুলো ক্ষেত্রেই মার্কস বুঝিয়েছেন সকলের (All) কথা। একটা অংশ নয়, একটা বৃহত্তর অংশ এমনকি বৃহত্তম অংশও নয়, সকলগুলো! এটা আশ্চর্য কিছু না, কারণ, সমগ্র মানব জাতিকে মুক্ত করেই কেবল সর্বহারা শ্রেণী নিজ চুড়ান্ত মুক্তি অর্জন করতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে একমাত্র উপায় হচ্ছে বুর্জোয়াদের ওপর সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনা করা এবং সর্বহারা একনায়কত্বের অধীনে অব্যাহত বিপ্লবকে শেষপর্যন্ত পরিচালনা করা, যতক্ষণ না উপরে উল্লিখিত চার সকল পৃথিবী থেকে বিদূরিত হচ্ছে, যাতে বুর্জোয়া ও অন্য সমস্ত শোষক শ্রেণীসমূহের পক্ষে অস্তিত্বমান হওয়া অসম্ভব হয়, অথবা নতুন কারো উদ্ভব অসম্ভব হয়; উত্তরণ-এর পথে নিশ্চিতভাবে আমাদের থামা যাবেনা। আমাদের মতে, যারা  বিষয়টিকে এভাবে বোঝেন  তারাই কেবল রাষ্ট্র সম্পর্কিত মার্কসের শিক্ষার সারমর্মকে আত্মস্থ করেছেন বলে গণ্য করা যায়। কমরেডগণ, দয়া করে বিষয়টি নিয়ে বারবার ভাবুন: যদি বিষয়টিকে এভাবে বোঝা না হয়, যদি মার্কসবাদকে তত্ত্ব ও অনুশীলনে সীমিত, কাটছাঁট ও বিকৃত করা হয়, যদি সর্বহারা একনায়কত্বকে একটা ফাঁকা বুলিতে পরিণত করা হয় অথবা বুর্জোয়াদের উপর সার্বিক একনায়কত্বের অঙ্গছেদন করে পঙ্গু করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে কেবল পরিচালনা করা হয়, কিন্তু সর্বক্ষেত্রে নয় অথবা কেবল একটি নির্দিষ্ট স্তরে (উদাহরণস্বরূপ, মালিকানা ব্যবস্থার রূপান্তরের আগে), কিন্তু সকল স্তরে নয়, অথবা অন্য কথায়, যদি বুর্জোয়াদের সকল “দুর্ভেদ্য গ্রামসমূহ” ধ্বংস না করে কিছু বাকি রাখা হয় বুর্জোয়াদের পুনরায় সম্প্রসারণের সুযোগ দিয়ে- এটা কি বুর্জোয়া পুনরুত্থানের শর্তসমূহকে প্রস্তুত করা বোঝায় না? এটা কি সর্বহারা একনায়কত্বকে এমন একটা জিনিসে পরিণত করা বোঝায়না যা বুর্জোয়াদের রক্ষা করে, বিশেষতঃ নতুন জন্ম নেয়া বুর্জোয়াদের? সকল শ্রমিকবৃন্দ, সকল গরীব ও নিম্ন মাঝারি কৃষক এবং অন্য শ্রমজীবী মানুষ যারা দুর্ভোগ ও ক্রন্দনে পুনরায় নিমজ্জিত হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেন, সকল কমিউনিস্টগণ যারা কমিউনিজমের জন্য সংগ্রামে জীবন দান করেছেন, আর সকল কমরেডরা যারা চাননা চীন সংশোধনবাদীতে পরিণত হোক, তাদেরকে অবশ্যই মার্কসবাদের এই মৌলিক নীতিকে দৃঢ়ভাবে মনে রাখতে হবে: বুর্জোয়াদের উপর সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনা করা দরকার, এবং একে মাঝপথে পরিত্যাগ করা চরমভাবে অননুমোদনীয়। সন্দেহাতীতভাবে আমদের মধ্যে কিছু কমরেড আছেন যারা সাংগঠনিকভাবে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু মতাদর্শিকভাবে নয়। তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গিতে তারা এখনো ক্ষুদে উতপাদন ও বুর্জোয়াদের সীমার বাইরে পা দেননি। তারা সর্বহারার একনায়কত্বকে অনুমোদন দেন একটা নির্দিষ্ট স্তরের জন্য ও একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে এবং সর্বহারা শ্রেণীর কিছু কিছু বিজয়ে তারা আনন্দিত, কারণ সেগুলো তাদের জন্য কিছু অর্জন এনে দেবে; একবার যখন তাদের লাভ অর্জিত হয়েছে, তারা মনে করে যে, এখন ক্ষান্তি দেবার এবং আপন ভাণ্ডার পূর্ণ করার সময় হয়েছে। বুর্জোয়াদের ওপর সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে, ১০,০০০ লি লং মার্চের ১ম পদক্ষেপ দেবার পর এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে, দুঃখিত, অন্যরা কাজটা করুক; আমি এখানেই থামবো এবং অবশ্যই বাস থেকে নেমে পড়বো। এসব কমরেডকে আমরা একটা উপদেশ দিতে চাই: মাঝ পথে ক্ষান্তি দেয়া ভয়ংকর! বুর্জোয়ারা তোমাদের ইশারায় ডাকছে। সারিতে থাক এবং এগিয়ে চলা অব্যাহত রাখো!

ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাও আমাদের শিক্ষা দেয় যে, যখন সর্বহারা একনায়কত্ব একটার পর একটা বিজয় অর্জন ক’রে চলে, তখন বুর্জোয়ারা উপরে উপরে এই একনায়কত্বকে গ্রহণ করার ভান করতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তারা বুর্জোয়া একনায়ত্বকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কাজ চালিয়ে যায়। ঠিক এই কাজটি ক্রুশ্চেভ ও ব্রেজনেভ করেছে। তারা না “সোভিয়েত” নাম পরিবর্তন করেছে, না লেনিনের পার্টির নাম, “সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রসমূহ”-র নামও নয়। কিন্তু এই নাম গ্রহণ ক’রে ও এগুলোকে একটা মুখোশ হিসেবে ব্যবহার ক’রে তারা সর্বহারা একনায়কত্বের প্রকৃত সারবস্তুকে তার থেকে কেটে-ছিঁড়ে ফেলেছে এবং একে একচেটিয়া পুঁজিপতি শ্রেণীর একনায়কত্বে পরিণত করেছে, যা হচ্ছে সোভিয়েত বিরোধী, লেনিনের পার্টির বিরোধী এবং সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রসমূহের বিরোধী। তারা “সমগ্র জনগণের রাষ্ট্র” ও “সমগ্র জনগণের পার্টি”র সংশোধনবাদী কর্মসূচি তুলে ধরছে যা হচ্ছে মার্কসবাদের প্রতি একটা খোলামেলা বিশ্বাসঘাতকতা। কিন্তু যখন সোভিয়েত জনগণ তাদের ফ্যাসিস্ট একনায়কত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তারা জনগণকে দমন করার জন্য সর্বহারা একনায়কত্বের পতাকা ওড়ায়। চীনেও একই ধরনের ব্যাপার ঘটেছে। লিউ শাও-চি ও লিন পিয়াও শ্রেণীসংগ্রামের শুকিয়ে মরার তত্ত্বের প্রসারেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি।
তারাও সর্বহারা একনায়কত্বের পতাকা উড়িয়েছে বিপ্লবকে দমনের সাথে সাথে। লিন পিয়াও কি তার চার “কখনো ভুলোনা” নসিহত করেনি? তার মধ্যে একটি ছিল “সর্বহারা একনায়কত্বকে কখনো ভুলোনা।” সত্যিই এটা ছিল এমন একটা জিনিস যা সে “কখনো ভুলেনি”, শুধু “উচ্ছেদ করা” শব্দটি যোগ করা দরকার, “সর্বহারা একনায়কত্বকে উচ্ছেদ করতে কখনো ভুলোনা” বানাতে, অথবা যেমনটি তার নিজ গ্যাং কর্তৃক স্বীকার করা হয়েছে, “চেয়ারম্যান মাওয়ের শক্তিসমূহের ওপর আঘাত হানতে চেয়ারম্যান মাওয়ের ব্যানারকে তুলে ধরো”। কখনো তারা তাদের পাল তুলে দিয়েছে সর্বহারা শ্রেণীর দিকে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে ও ধ্বংসাত্মক ততপরতা চালাতে এমনকি “বাম” শ্লোগান তুলে ধরেছে, যাতে যে কারো চেয়ে নিজেদেরকে বেশি বিপ্লবী দেখানোর ভান করা যায়। কিন্তু তারা স্বভাবতই সর্বহারা শ্রেণীর বিরুদ্ধে একটা প্রত্যক্ষ পাল্টা-সংগ্রাম চালাচ্ছিল। আপনি সমাজতান্ত্রিক রূপান্তর চালাতে চেয়েছেন? তারা বলল যে নয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে হবে। আপনি সমবায় ও কমিউনসমূহ সংগঠিত করতে চাইলেন? তারা বলল যে এটা করার এখনো সময় হয়নি। যখন আপনি বললেন, শিল্প ও সাহিত্যকে বিপ্লবীকরণ করতে হবে, তারা বললো যে, ভূত-প্রেতের কিছু নাটক মঞ্চস্থ করলে কোন ক্ষতি হবেনা। আপনি বুর্জোয়া অধিকারের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে চাইলেন? তারা বলল যে সত্যিই এটা একটা দারুণ ব্যাপার এবং একে সম্প্রসারিত করা দরকার। তারা হচ্ছে পুরনো জিনিসগুলোকে রক্ষাকারী অতীত প্রভুদের একটা দঙ্গল এবং মাছিদের একটা ঝাঁক, যারা পুরোনো সমাজের “জন্মচিহ্ন” ও “ত্রুটি”, যার কথা মার্কস বলেছিলেন, তার ওপর সারা দিন ভন ভন করে। বিশেষতঃ তারা আমাদের তরুণ জনগণকে বৈষয়িক প্রণোদনায় উতসাহিত করার জন্য তাদের অনভিজ্ঞতার সুযোগ নিতে আগ্রহী- এটা বলে যে, এটা হলো কড়া মটরসুটি-দই পনিরের মতো, যার গন্ধ কটু, কিন্তু সুস্বাদু। তারা এসব নোংরা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনবরত সমাজতন্ত্রের ব্যানার তুলে ধরে। কিছু বদমাস কি নেই যারা ফাটকাবাজি, দুর্নীতি ও চৌর্যবৃত্তিতে নিয়োজিত হয়ে বলে যে তারা সমাজতান্ত্রিক সহযোগিতা এগিয়ে নিচ্ছে? তরুণ জনগণের মনকে বিষাক্তকারী অপরাধের মন্ত্রণাদাতা কিছু লোক কি “কমিউনিজমের জন্য উত্তরাধিকারীদের প্রতি যতন ও ভালবাসা”র ব্যানার ওড়ায়না? আমাদেরকে তাদের রণকৌশল অবশ্যই অধ্যয়ন করতে হবে, আর আমাদের অভিজ্ঞতার সারসংকলন করতে হবে, যাতে বুর্জোয়াদের ওপর আমরা সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনা করতে পারি অধিক কার্যকরভাবে।

“আপনারা কি ‘সাম্যকরণ’-এর বাতাস আন্দোলিত করতে চাইছেন?” সম্প্রতি এ ধরনের প্রশ্ন তুলে ধরার মাধ্যমে গুজব রটনা করা হলো একটা কৌশল, যা কিছু লোক করার চেষ্টা করেছে। আমরা একটা নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারি: লিউ শাও-চি ও চেন পো-তা কর্তৃক আন্দোলিত করা “সাম্যকরণ”-এর বাতাসকে পুনরায় আঘাত করার সুযোগ কখনোই আর দেওয়া হবে না। আমরা সর্বদাই তুলে ধরেছি যে, পণ্যের পথে খুব বেশি থাকার পরিবর্তে আমাদের দেশে সেটার পর্যাপ্ত প্রাচুর্য নেই। উতপাদন ব্রিগেড ও টিমগুলো যা আনতে পারে তাসহ কমিউনগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত বেশি কিছু “সাম্যকরণ” করার জন্য দিতে পারেনা, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সমগ্র জনগণের মালিকানাধীন সংস্থাসমূহ আমাদের ৮০ কোটি জনগণের মধ্যে প্রয়োজনানুযায়ী বণ্টনের জন্য বিপুল পর্যাপ্ত উতপন্ন নিবেদন করতে না পারবে- ততক্ষণ আমাদের পণ্য উতপাদন, টাকার মাধ্যমে বিনিময় এবং কাজ অনুযায়ী বণ্টন অনুশীলন করে যেতে হবে। এই বিষয়গুলি দ্বারা আনীত ক্ষতি রুখতে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং অব্যাহতভাবে করতে থাকবো। সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্ব হচ্ছে জনসাধারণের দ্বারা একনায়কত্ব। আমরা আস্থাবান যে, পার্টির নেতৃত্বে ব্যাপক জনসাধারণের সামর্থ্য ও ক্ষমতা রয়েছে বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে লড়ার ও চুড়ান্তভাবে তাকে পরাজিত করার। পুরোনো চীন ছিল ক্ষুদে উতপাদনের একটা বিশাল সমুদ্র। কয়েক দশক কোটি কৃষক জনগণের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা দেওয়া সবসময়ই ছিল একটা গুরুতর প্রশ্ন এবং কয়েক প্রজন্মের প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কিন্তু কয়েক দশক কোটি কৃষকের মধ্যে গরীব ও নিম্ন মাঝারি কৃষকেরা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ, আর তারা  অনুশীলন থেকে জানে যে, উজ্জ্বল ভবিষ্যত আনার একমাত্র পথ হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টিকে অনুসরণ করা, এবং সমাজতান্ত্রিক পথে চলতে থাকা। আমাদের পার্টি তাদের ওপর নির্ভর করেছে মাঝারি কৃষকদের সাথে ঐক্য গড়ে তুলতে এবং ধাপে ধাপে পারস্পরিক সহযোগিতা টিম থেকে প্রাথমিক ও অগ্রসর কৃষি উতপাদকদের সমবায়ে এবং তারপর গণকমিউনে যেতে। এবং আমরা নিশ্চিতভাবে সেগুলোকে অধিকতর অগ্রসর হতে নেতৃত্ব দিতে পারি।

আমরা বরং কমরেডদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এই বাস্তবতার প্রতি যে, আরেক ধরনের বাতাস বইছে- “বুর্জোয়া বাতাস”। এটা হচ্ছে চেয়ারম্যান মাও যাকে বলেছেন বুর্জোয়া স্টাইলের জীবন, একটা দুষ্ট বাতাস- জনগণের সেই “অংশ”-র দ্বারা আন্দোলিত, যারা বুর্জোয়া উপাদানে অধঃপতিত হয়েছে। এই “অংশ”-র সাথে জড়িত কমিউনিস্টদের মধ্য থেকে, বিশেষতঃ নেতৃস্থানীয় কেডারদের থেকে প্রবাহিত “বুর্জোয়া বাতাস” আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন করে। এই দুষ্ট বাতাসে বিষাক্ত হয়ে কিছু লোক তাদের মাথা বুর্জোয়া ভাবধারায় পূর্ণ করে ফেলেছে; তারা পদ ও লাভের জন্য দৌড়াদৌড়ি করে, আর এর জন্য লজ্জিত হওয়ার বদলে গর্বিত হয়। কেউ কেউ নিজেদেরসহ সবকিছুকে পণ্য হিসেবে দেখার মধ্যে পর্যন্ত ডুবে গেছে। তারা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয় ও সর্বহারা শ্রেণীর জন্য কাজ করতে যায় স্রেফ পণ্য হিসেবে নিজেদের উন্নীত করতে, আর সর্বহারা শ্রেণীর কাছে উচ্চ দাম চাইতে। যারা নামে কমিউনিস্ট কিন্তু বাস্তবে নয়া বুর্জোয়া উপাদান, তারা দুর্নীতিগ্রস্ত ও ক্ষয়িষ্ণু বুর্জোয়ার চিত্রকেই সামগ্রিকভাবে প্রদর্শন করে। ঐতিহাসিকভাবে, যখন দাসমালিক, ভূস্বামী ও পুঁজিপতি শ্রেণীসমূহ উদীয়মান ছিল তখন তারা মানবজাতির জন্য কিছু উপকার করেছিল। কিন্তু আজকের নয়া বুর্জোয়ারা তাদের পূর্বপুরুষদের বিপরীতমুখে ধাবিত। এরা “নতুন” আবর্জনার স্তুপ ছাড়া আর কিছুই নয়, যা কেবল মানবজাতির ক্ষতিই করতে পারে। “সাম্যকরণ”-এর যে বাতাস আন্দোলিত হচ্ছে সে বিষয়ে গুজব-রটনাকারীদের মাঝে কিছু নয়া বুর্জোয়া উপাদান রয়েছে যারা গণ মালিকানাকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছে, তারা ভয় পায় যে জনগণ সেগুলোকে আবারো “সাম্যকরণ” করবে; অন্যরা তাদের নিজেদের জন্য কিছু দখল করার জন্য সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। আমাদের অনেক কমরেডের চেয়ে এই লোকগুলোর ভাল নাক রয়েছে। আমাদের কিছু কমরেড বলে যে, অধ্যয়ন হচ্ছে একটা “স্থিতিস্থাপক” কর্তব্য, যা অন্যদের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব ব্যবহার করতে পারে। অথচ এই লোকগুলো জৈব ইন্দ্রিয় দ্বারা বুঝতে পেরেছে যে বর্তমান অধ্যয়ন হচ্ছে একটি “অ-স্থিতিস্থাপক” বস্তু যা উভয় শ্রেণী- বুর্জোয়া ও সর্বহারার সাথে গভীরভাবে সংগ্রামরত। সত্যিই, তারা নিজেরা সুচিন্তিতভাবে “সাম্যকরণ”-এর কিছু বাতাসকে আন্দোলিত করতে পারে, অথবা আমাদের নিজস্ব কিছু শ্লোগানকে দখল করতে পারে দুইটি ভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্বকে মিশিয়ে ফেলতে ও কিছু অনাকাংখিত ষড়যন্ত্র পাকিয়ে তুলতে। এটা গুরুত্বের সাথে লক্ষণীয়।

চেয়ারম্যান মাওয়ের নেতৃত্বাধীনে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালনায় কোটি কোটি চীনা জনগণ দ্বারা গঠিত সর্বহারা বিপ্লবের শক্তিমত্ত বাহিনী দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে চলেছে।  আমাদের রয়েছে সর্বহারা একনায়কত্ব পরিচালনার ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা, সেই সাথে রয়েছে প্যারি কমিউন থেকে আরম্ভ করে সকল আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা; আর যতক্ষণ আমাদের পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েক শত সদস্য ও কয়েক হাজার সিনিয়র কেডার নেতৃত্ব করবেন এবং বিপুল সংখ্যক অন্যান্য কেডার ও জনগণের সাথে মিলিত হবেন অধ্যবসায় সহকারে পঠনে ও অধ্যয়নে, তদন্ত ও বিশ্লেষণ পরিচালনায়, আর অভিজ্ঞতার সারসংকলনে, নিশ্চিতভাবে আমরা চেয়ারম্যান মাওয়ের আহ্বানকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারি, সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বের প্রশ্নে স্পষ্টতা অর্জন করতে পারি এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা প্রদর্শিত পথ ধরে আমাদের দেশের বিজয়োজ্জ্বল এগিয়ে চলাকে নিশ্চিত করতে পারি। “শৃংখল ছাড়া সর্বহারার হারাবার কিছু নেই। জয় করার জন্য রয়েছে সারা দুনিয়া।” নিশ্চিতভাবে এই অসীম উজ্জ্বল সম্ভাবনা ক্রমবর্ধমান সংখ্যক সচেতন শ্রমিক এবং অপরাপর মেহনতী জনগণ ও তাদের অগ্রপথিক কমিউনিস্টদের অব্যাহতভাবে অনুপ্রাণিত করবে, পার্টির মৌলিক লাইনে লেগে থাকতে, বুর্জোয়াদের ওপর সার্বিক একনায়কত্ব পরিচালনায় লেগে থাকতে এবং সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বের অধীনে অব্যাহত বিপ্লবকে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে! বুর্জোয়াশ্রেণী ও অপরাপর শোষক শ্রেণীসমূহের ধ্বংস আর কমিউনিজমের বিজয় অনিবার্য, নিশ্চিত এবং মানুষের ইচ্ছা নিরপেক্ষ।