মহান মাওবাদী নেতা ও পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান কমরেড গনজালো’র গদ্য কবিতা প্রসঙ্গে

abimael

গনসালো কি কবিতা লিখেছেন?

না, তবে তিনি পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির বিখ্যাত কিছু পাঠ লিখেছেন খুবই উচ্চ স্তরের কাব্যিক গদ্যসম্পন্ন। সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে “১৯৮০তে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু কর”, সংক্ষেপে “আইএলএ-৮০”।

পতাকা”, ১৯৮০ থেকে কিছু অংশ:

“আমরা সবাই সেই ঝড়ের প্রতি নিবেদিত; বাতাস পাতা উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বীজ থেকে যায়। ১৯২৭-এ এক বিরাট ঝড় পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিপি) সৃষ্টিতে চালিত করেছে। সেই পার্টি এক ঝড়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে, সব কিছুই বিস্ফোরিত হবে। অনেক দিন আমরা একটা মেরুকেন্দ্র হতে আকাঙ্খিত, এখন সময় এসেছে। আমরা যে পথ গ্রহণ করছি তা সঠিক, এবং যে সকল সমস্যা আমরা মোকাবেলা করি তা সমাধান হবে।

আজকে পতাকাকে স্বীকার করার দিন, কিন্তু আমাদেরটা একটা লাল পতাকা, একটা মূর্ত, হাতুড়ি ও কাস্তে খচিত। আমাদের পতাকা হচ্ছে পরম লাল; যারা বিদ্রোহ করে তাদের সবারই লাল পতাকা আছে।”

আইএলএ-৮০ থেকে:

“আমরা কমিউনিস্টরা এক নির্দিষ্ট ধাতের, এক বিশেষ জিনিস, আমরা কমিউনিস্টরা সবকিছুর জন্য তৈরি এবং আমরা জানি কোন জিনিসকে লড়তে হবে। আমরা ইতিমধ্যেই একে লড়েছি, কালকেও তাকে লড়বো।আগামীকাল যেমোকাবেলা হবে আজ তা শিশু, এটা কঠিনতর হবে, কিন্তু তারপর আমরা অতীতের দ্বারা পোড় খাব যেমনটা আজকে আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা বিপ্লবের আগুণে আমাদের আত্মাকে পুড়িয়ে নেব, এটাই একমাত্র অগ্নিশিখা যা আমাদের সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

আমাদের প্রচুর আশাবাদ দরকার এবং তার একটা কারণ রয়েছে। আমরা আগামীর প্রস্তুতকারক। আমরা শ্রেণীর অপরাজেয় বিজয়ের পথপ্রদর্শক গ্যারিসন। তাই, আমরা আশাবাদী।

আমরা প্রাকৃতিকভাবেই উদ্দীপনাময়। আমরা আমাদের শ্রেণীর মতাদর্শের দ্বারা পূর্ণ: মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা। আমরা শ্রেণীর জীবন যাপন করি। আমরা এর বীরত্বব্যাঞ্জক কর্মে অংশ নেই। আমাদের জনগণের রক্ত আমাদের মধ্যে বাহিত ও ফুটন্ত।

আমরা শক্তিমত্ত স্পন্দিত রক্তের মত। আসুন অভঙ্গুর লোহা ‍ও ইস্পাতকে গ্রহণ করি, শ্রেণীকে গ্রহণ করি, একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও চিন্তাধারার চির জ্বাজল্যমান আলোর সাথে মিশিয়ে ফেলি।

উদ্দীপনা মানে দেবতাদের শক্তিতে অংশ নেয়া বোঝায়; তাই আমরা উদ্দীপনায় ভরপুর। আমরা অংশ নে্ই বাস্তব দুনিয়ার স্বর্গীয়তায়: জনগণ, শ্রেণী, মার্কসবাদ ও বিপ্লব। তাই আমাদের আছে অক্লান্ত উদ্যম। তাই আমাদের রয়েছে শক্তি, আশাবাদ আর উদ্দীপনায় ভরা সজীবতা।

১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে এই বিপ্লবী স্টাইলের লেখা সম্পর্কে গনসালো ব্যাখ্যা করেন:

“আমি বলব, অনেক সময় রাজনীতিতে আপনাকে এখানে যেতে হবে, যাতে ভাবাবেগ, গভীর অনুভূতি আমাদের প্রতিজ্ঞাকে শক্তিশালী করতে পারে।এমন সময়, তারা যেমন বলে, হৃদয় কথা বলে এবং আমি বিশ্বাস করি যুদ্ধের জন্য যে বিপ্লবী আবেগ দরকার তা নিজেকে প্রকাশ করে। এর সাহিত্যমুল্য কী আছে তা আমি জানিনা।”

কবিতা সম্পর্কে ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে তিনি আরো উল্লেখ করেন:

“একসময় সঙ্কলিত বিশ্ব কবিতা সার্ভে করছিলাম। আমি এটা আগেও অধ্যযন করেছি-বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারে কিছু রচনা ছিল যাতে আমার প্রবেশ ছিল। আমি কবিতা পছন্দ করি। চেয়ারম্যান মাওয়ের অন্যতম একটি দিক হচ্ছে এটা-যাকে আমি প্রশংসা করি। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ কবি। পেরুভিয়ান কবিতার ক্ষেত্রে ভ্যাল্লেখো আমার কাছে প্রিয়। হ্যাঁ, তিনি আমাদের, এবং পাশাপাশি, তিনি ছিলেন একজন কমিউনিস্ট।

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s