ছত্তিশগড়ে ITBP ক্যাম্পে মাওবাদীদের মর্টার ও রকেট হামলা

h

অনূদিতঃ 

ছত্তিশগড়ের কোন্দাগাঁও জেলায় রানাপলে ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ/ITBP এর ক্যাম্পে হামলা চালাল মাওবাদীরা।  দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বুধবার- বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ মর্টার ও রকেট নিয়ে হামলা চালায় প্রায় ১০০ মাওবাদী ।  পাল্টা গুলি চালায় জওয়ানরা।  দু পক্ষের মধ্যে অন্তত ৬০০ রাউন্ড গুলি চলেছে৷ অতর্কিতে হামলা চালিয়ে আইটিবিপি-র ক্যাম্প দখল করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুলেও এক পর্যায়ে সরে পড়ে মাওবাদীরা৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকায় বিশেষ তল্লাশি শুরু হয়েছে৷ ভোর রাত ৩টে অবধি চলে এই লড়াই।  তবে হতাহতের কোন খবর নেই।

সূত্রঃ http://www.hindustantimes.com/india-news/maoists-attack-itbp-camp-in-chhattisgarh-fire-rockets/story-buFPZvEjBamsox3xB4BOyH.html

Advertisements

কমরেড মাও সে তুং এর শেষকৃত্যানুষ্ঠান


শহীদ কমরেড ‘মার্গারেট কাগোল’ লাল সালাম

উত্তর ইটালির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া শহীদ কমরেড ‘মার্গারেট কাগোল’ (৮ই এপ্রিল ১৯৪৫ – ৫ই জুন ১৯৭৫) ছিলেন ইতালি এবং পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে শুরু হওয়া সর্বহারা সংগ্রামের নতুন তরঙ্গ সশস্ত্র কমিউনিস্ট সংগঠন ‘রেড ব্রিগেড'(Brigate Rosse) এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী।  ৬০ এর দশকের শেষে এককুই তেরম এর সময় আধাসামরিক পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধে তাকে হত্যা করা হয়।

বিস্তারিত পড়ুনঃ

Margherita Cagol

06Margherita_Cagol_Mara2

cagol1

 

ভিডিও – 


মণিপুর আদিবাসী ফোরামের উপর দিল্লী পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়েছে নকশালপন্থি DSU

13344646_845414662257136_3658904301257438789_n

CONDEMN BRUTAL ATTACK ON MANIPUR TRIBAL FORUM!
DOWN WITH RACIST BARBARIC DELHI POLICE!

On 7th June , Manipur Tribal Forum had organized a protest against three bills, outside Manipur Bhawan against the Chief Minister of Manipur, Okram Ibobi Singh’s visit to Delhi, where the protesters were brutally attacked by the Racist Delhi police with batons and water cannon.
During the attack, six protesters have been fatally injured and almost sixty were severely wounded. Protesters, even those with injuries were detained in Chanakyapuri police station and mercilessly beaten up, while others were hospitalized with injuries in head and chest.
Attacking Students and protesters in general, have been ritualized by Delhi police, when recently the protesters were fiercely attacked during the Occupy UGC movement and brutally beaten up protesters, marching for justice for Rohith Vemula along with RSS goons. In the recent times, there has been a surge of Racist attacks on the students and residents from Manipur, Nagaland, Africa and other places. Delhi Police have completely failed to book the perpetrators of these Racist attacks but the barbaric police came down heavily on the peaceful protesters.

DSU with strongest possible words condemns this planned assault on the democratic right of the people to protest and vicious attack by Delhi Police on the protesters. DSU stands with the protesting people of Manipur in their every democratic struggle, including against Indian occupation.

DSU


রিপোর্টঃ ২০১৬ সালের প্রথম ৪ মাসে ৭৬ নকশাল নিহত, গ্রেফতার ৬৬৫

Maoist_Annihilation line

অনূদিতঃ 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানাচ্ছে, ২০১৬ সালে প্রথম ৪ মাসের মধ্যে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী কমপক্ষে ৭৬ নকশালকে হত্যা করেছে ও গ্রেফতার হয়েছে ৬৬৫ জন।  নিরাপত্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদী মোকাবেলায় বৃহত্তর সাফল্য অর্জন করেছে এবং এই বছর মাওবাদীদের ৩০ শতাংশ কম সহিংসতা ঘটেছে।

মোটের ওপর, যা গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি এবং এপ্রিলের মধ্যে নিহত ১৫ জনের তুলনায় এ বছরে একই সময়ের মধ্যে ৭৬জন নকশালকে হত্যা করা হয়।  যেখানে ২০১৬ সালের প্রথম ৪ মাসে ৬৬৫জন গ্রেফতার হয় এবং ৬৩৯জন আত্মসমর্পণ করে, সেখানে ২০১৫ সালে ৪৩৫জন গ্রেফতার হয় এবং ১৩৪জন আত্মসমর্পণ করেছিল বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান।  ২০১৫ সালে মাওবাদী সহিংসতায় ১০৮৮টি ঘটনায় ২২৬জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ১৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক ও ৫৮ জন নিরাপত্তা কর্মী ছিল।  গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল- ৮৯জন মাওবাদী নিহত, ১৬৬৮জন গ্রেফতার ও ৫৭০ জন কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে এই মৃত্যুর সংখ্যা ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে(বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর)।  এক কর্মকর্তা জানান, মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্য জুড়ে সহিংসতা কমে আসার কারণগুলো হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অধিক উপস্থিতি, কর্মী ও নেতাদের হত্যা, গ্রেপ্তার, আত্মসমর্পণ এবং দল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া, ভাল পর্যবেক্ষণ, আক্রান্ত এলাকার উন্নয়ন স্কিম এবং মাওবাদী ক্যাডারদের মধ্যে বিদ্রোহ ক্লান্তি এসব রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১০টি রাজ্যের ১০৬টি জেলায় মাওবাদী প্রভাবিত কার্যক্রম রয়েছে, তার মধ্যে ৭টি রাজ্যের ৩৫টি জেলাকে অধিক প্রভাবিত বলে মনে করা হয়।

সূত্রঃ http://www.firstpost.com/india/76-naxals-killed-665-arrested-in-4-months-in-2016-2823248.html?utm_source=FP_CAT_LATEST_NEWS


মহান সমাজতান্ত্রিক নারী নেত্রী কমরেড ‘আলেক্সান্দ্রা কল্লোনতাই’

আলেক্সান্দ্রা কল্লোনতাই

আলেক্সান্দ্রা কল্লোনতাই

আলেক্সান্দ্রা কল্লোনতাই

রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে অনন্য নারী

আলেক্সান্দ্রা কল্লোনতাই সোভিয়েত রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ নারী যোদ্ধা।  রাশিয়ান, ইউক্রেনিয়ান এবং ফিনিশ প্রেক্ষাপটে ১৮৭২ সালে এক ধনী পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।
১৮৯৪ সালে কল্লোনতাই প্রথম রাজনৈতিক কাজ শুরু করেন, যখন তিনি সদ্যজাত সন্তানের মা। এই সময় তিনি সান্ধ্যবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে ‘রাজনৈতিক রেডক্রস’ নামে একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে প্রকাশ্য ও গোপন উভয় কাজই করেন।  এই সংগঠনটি গঠিত হয়েছিল রাজবন্দীদের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য।  এর পরবর্তী বছরে তিনি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা আগষ্ট বেবেলের রচিত ‘নারী ও সমাজতন্ত্র’ বইটি অধ্যয়ন করেন।  এই বইটি অধ্যয়ন তার রাজনৈতিক জীবনে নারীমুক্তির দর্শন অনুশীলনে ব্যাপক প্রভাব রাখে।
১৮৯৬ সালে তার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত পুঁজিবাদী ধনতান্ত্রিক কারখানায় তার শোষণ-নিপীড়ন সরেজমিনে দেখেন। এর পরের বছর সেন্টপিটার্সবুর্গের বস্ত্র কারখানার শ্রমিক ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচারপত্র বিলি করেন এবং অর্থ সংগ্রহ করেন। এর পর থেকে সেন্টপিটার্সবুর্গের নারী শ্রমিকদের সাথে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের বাকি সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।
কল্লোনতাইয়ের জীবনে ১৮৯৬ সালের সেন্টপিটার্সবুর্গের শ্রমিক ধর্মঘট এ জন্যই অতি গুরুত্বপূর্ণ যে, এই ধর্মঘটের পর থেকেই তিনি অনুধাবন করতে থাকেন শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লব ও শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্রের কথা।  শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লব ছাড়া যে শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি সম্ভব নয় এই দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের মধ্যদিয়ে মার্কসবাদের প্রতি তিনি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ হয়ে পড়েন। মার্কসীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতে কল্লোনতাই তার শিশু সন্তান ও স্বামীকে রেখে মার্কসবাদী অর্থনীতি পড়তে জুরিখ চলে যান।  এরপর রাশিয়ায় ফিরে সংশোধনবাদী বার্নস্টাইনের বিরুদ্ধেও রচনা লেখেন।  ১৮৯৯ সালে তিনি রাশিয়ান সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টিতে (রুশ কমিউনিস্ট পার্টি) যোগদান করেন এবং গোপন কাজ শুরু করেন।
১৯০০ সালে তিনি প্রথম ফিনল্যান্ডের সমস্যার উপর নিবন্ধ লিখে রুশ কমিউনিস্ট পার্টিতে খ্যাতি অর্জন করেন। এর পরবর্তী ২০ বছর ফিনিশ সমস্যার উপর অগ্রণী বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিলেন।
তিনি জারের ডুমায় রুশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন ও ফিনল্যান্ডের বিপ্লবীদের সংযোগকারী রূপেও কাজ করেন।  ফিনল্যান্ডের জার সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরামর্শ দেয়ার ‘অপরাধে’ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলে তিনি গ্রেফতার এড়াতে নির্বাসনে চলে যান। এর আগে কল্লোনতাই ১৯০৫ থেকে ১৯০৮ সাল- এই তিন বছর বুর্জোয়া নারীবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালান, নারী শ্রমিকদের সংগঠিত করতে নেতৃত্ব দেন, সমাজতন্ত্রী সংগঠনগুলোর মধ্যে পুরুষ আধিপত্য এবং রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালান।  ১৯০৫ থেকে ১৯০৮ এই তিন বছর নারীদের মধ্যে তিনি যে কাজগুলো করেন তাতে তিনি নারীমুক্তির নেত্রী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হন রুশ কমিউনিস্ট পার্টিতে।
১৯০৮ সাল থেকে ১৯১৭-এর ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত অব্যাহতভাবে তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছেন।  এ সময়ে তিনি নারী বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়েও লেখালেখি করেন।  তিনি জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হিসেবেও প্রথম সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে কাজ করেন।  আসন্ন বিশ্ব যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর কারণে তিনি গ্রেফতার হন। ১৯১৫ সালে মুক্ত হয়েই তিনি মহামতি লেনিনের সাথে যোগযোগ স্থাপন করেন।  এবং বিশ্বযুদ্ধে অগ্রণী সৈনিকদের প্রতি পুস্তক রচনা করেন ‘কে যুদ্ধ চায়?’ নামে।  এই বইটি কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়। এই বছরেই তিনি আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে চার মাস বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান যুদ্ধের বিরুদ্ধে সমর্থন গড়ে তোলার জন্য। তিনি ১২৩টি সভায় ৪টি ভাষায় বক্তৃতা দেন।  এর আগে ১৯১১ সালের প্রথম দিকে ইতালিতে প্রতিষ্ঠিত ম্যাক্সিম গোর্কীর সমাজতান্ত্রিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
১৯১৭ সালের সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পক্ষে-বিপক্ষে যখন বিতর্ক চলছিল তখন তিনি কমরেড লেনিনের সারিতে দাঁড়িয়ে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানান। তিনি ৪ এপ্রিল বলশেভিকদের সভায় লেনিনের পরে সোভিয়েতের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদানকেও সমর্থন করেন।
অক্টোবর বিপ্লবের পর তিনি একজন লেখিকা বক্তা ও রুশ কমিউনিস্ট পার্টির নারী পত্রিকা “রাবোৎসৎসা”য় কাজ করেন। ১৯১৯ সালে অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন-এর সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯২২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি সুইডেন, ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, নরওয়েতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সম্মেলনে সোভিয়েত রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কল্লোনতাই সোভিয়েত মন্ত্রীসভায় বৈদেশিক পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আলেক্সান্দ্রা কল্লোনতাই ঘাসমূল নারীদের মাঝে বেশিদিন কাজ করেননি। তিনি ছিলেন রুশ কমিউনিস্ট পার্টিতে বুদ্ধিজীবী তাত্ত্বিক নেতা। যার প্রতিফলন ঘটে তার বিভিন্ন লেখালেখি, বক্তৃতা-বিবৃতিতে।  তিনি নারী সমস্যা, শিশুদের সমস্যাসহ যুদ্ধের বিরুদ্ধেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক রচনা করেন।  এই মহান নেত্রী রুশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ নেতা ছিলেন না। তিনি রুশ সমাজের নিপীড়িত নারীদের জন্যও বিশেষ গুরুত্বসহকারে কাজ করে গিয়েছেন। তিনি তার তীক্ষ্ণ লেখনির মাধ্যমে বুর্জোয়া নারীবাদের বিরুদ্ধেও প্রচার অভিযান চালান। এবং কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে লুকিয়ে থাকা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করেন।
কল্লোনতাই নারীদের যৌনমুক্তির প্রশ্নে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক সংগ্রাম চালান।  নারী-পুরুষের অবাধ যৌন সম্পর্কের পক্ষে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করলেও তিনি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন যে, সমাজের আমূল রূপান্তর ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া অবাধ যৌন সম্পর্ক নারীর জন্য নিপীড়ন ডেকে আনতে বাধ্য।
তিনি নারী সমস্যার উপর বিশেষজ্ঞ হিসেবে কেন্দ্রীয় নারী বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে কল্লোনতাই প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত।  বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদীরা নারীমুক্তির নামে গলাবাজি করলেও তারা যা পারেনি তা মানব জাতির সামনে প্রথম দেখিয়ে দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়া। কল্লোনতাই-এর জীবনী ভিত্তিক দু’টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
রুশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ভ.ই. লেনিনের উন্নততর লাইন ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কল্লোনতাই-এর বিভিন্ন সময়ে মতবিরোধও সৃষ্টি হয়েছে।  যেমন- ১৯০৩ সালে বলশেভিক-মেনশেভিক বিভক্তি হওয়ার সময় বলশেভিকদের সঠিক লাইনে না দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেন।  অবশ্য ১৯০৪ সালে বলশেভিকদের সাথে যোগদান করেন। পুনরায় ১৯০৬ সালে ডুমায় (সংসদের নিম্নকক্ষ) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বলশেভিকদের ত্যাগ করেন।  অক্টোবর বিপ্লবের পর তিনি দ্বিতীয় সর্বরাশিয়া সোভিয়েতগুলির সম্মেলনে নতুন সোভিয়েত সরকারের সমাজ কল্যাণ কমিশার পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু ব্রেষ্টলিৎভস্ক চুক্তির বিরোধিতা ক’রে এবং ফিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র ক’রে তিনি আবারো পদত্যাগ করেন।  এমনকি তিনি ১৯০৫ সালে ট্রটস্কীপন্থীদের সাথেও যুক্ত হয়েছিলেন।
লেনিন তথা লেনিনবাদের সাথে কল্লোনতাই-এর বহু মতবিরোধ সত্ত্বেও রুশ কমিউনিস্ট পার্টিতে ও রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। কখনো-কখনো ভুল লাইনে গেলেও দ্রুতই আবার কমিউনিস্ট পার্টির সাথে একাত্ম হতে পেরেছেন। কারণ তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে তিনটি মৌলিক বিষয়কে আঁকড়ে ধরেছিলেন- মার্কসবাদ অনুসরণ করা, বুর্জোয়া সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধোন্মাদনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ও নারীমুক্তির জন্য সংগ্রাম করা। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে লেনিনবাদের পক্ষে টেনেছে। বিভিন্ন মতবিরোধ সত্ত্বেও কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা যায় তিনি তার এক দৃষ্টান্ত।
বিশ্বের সমস্ত প্রান্তের নিপীড়িত নারীদেরকে কল্লোনতাই-এর কমিউনিস্ট একাগ্রতা ও ত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বিপ্লবী সংগ্রামে সামিল হতে হবে।

সূত্রঃ [নারী মুক্তি/৫নং সংখ্যায় প্রকাশিত ॥ ফেব্রুয়ারি, ’০৭।


নানিয়ার চরে গণহত্যা ও খুনীদের সাথে জনসংহতি’র শান্তি আলোচনা

নানিয়ারচর উপজেলা

 নানিয়ার চরে গণহত্যা ও খুনীদের সাথে জনসংহতি’র শান্তি আলোচনা

(ডিসেম্বর/’৯৩)

উগ্র জাতীয়তাবাদী বাঙালী আমলা ও মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের সেনাবাহিনী ১৭ নভেম্বর, ’৯৩ আরেকবার রাঙামাটির নানিয়ার চরে পাহাড়ী জনগণের রক্তে ভাসিয়ে দিল পার্বত্য চট্টগ্রাম।  এটি হচ্ছে খালেদা সরকারের ‘গণতন্ত্র’ আমলের ২য় দফা পাহাড়ী গণহত্যা।  ’৯২ সালে রাঙামাটির লোগাং-এ আরেকটি গণহত্যা এই ‘গণতন্ত্রী’রা চালিয়েছিল।  তার আগে এরশাদ ও জিয়া আমলে ছোট-বড়, প্রকাশিত-অপ্রকাশিত এরকম গণহত্যা অনেকবার চালিয়েছে এদেশের শাসক বুর্জোয়া শ্রেণী।

নানিয়ারচর হত্যাকান্ডের বিবরণ
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ এদিন (১৭ নভেম্বর) পূর্ব ঘোষিত মিছিল, সমাবেশ শুরু করে নানিয়ারচরে অন্যায়ভাবে খবরদারি করা সেনাছাউনি প্রত্যাহারের ন্যায়সঙ্গত দাবিতে।  এ সময় পার্বত্য গণপরিষদ নামধারী স্বৈরাচারী খালেদা সরকারের লেলিয়ে দেয়া উগ্র বাঙালী কুত্তারা বর্বরভাবে পাহাড়ী ছাত্র-জনতার সমাবেশে হামলা করে সমাবেশ ভণ্ডুল করে। নানিয়ারচরে উগ্র বাঙালী বন্দুকধারী ওসি এ সময় ‘ডিসি এসপি আসছে ………….. আপনারা অপেক্ষা করুন’ এ ধরনের আশ্বাস দিয়ে সুকৌশলে পাহাড়ীদেরকে প্রতিরোধহীন করে রাখে।  উগ্র বাঙালী সশস্ত্র খুনীদের নানিয়ারচর হাসপাতালের দিকে জড়ো করে আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত করতে থাকে।  ৪০ ইবি বাঙালী সেনাবাহিনীর ল্যান্স নায়েক নাজিম হুইসেল বাজানোর সাথে সাথে খুনীরা পাহাড়ীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।  পাহাড়ী জনগণ সংগঠিত হবার চেষ্টা মাত্রই সেনাবাহিনী তাদের উপর এলোপাতাড়ি ব্রাশ ফায়ার করে।  এখানে তাৎক্ষণিকভাবে শহীদ হন ফনি ভূষণ চাকমা, শোভাপূর্ণ চাকমা, বীরেন্দ্র চাকমাসহ ৮ জন পাহাড়ী। যারা প্রাণ রক্ষার্থে পানিতে ঝাঁপ দেন।  তাদের উপর জেটবোট ও নৌকার উপর থেকে বর্বর সেনাবাহিনী ও অনুপ্রবেশকারী উগ্র জাতীয়তাবাদীরা বল্লম, বর্শা মেরে কুপিয়ে হত্যা করে।  ৪০ ইবি রেজিমেন্টের মেজর মোস্তাফিজের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন আর্মী বেয়নেট দিয়ে কোপায়।  আর দাঙ্গায় মারা গেছে দেখানোর জন্য লেলিয়ে দেয়া পার্বত্য গণপরিষদের জল্লাদরা সেই আহতদেরকে আহত অবস্থায়ই কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
এরা অনেক লাশ গুম করে বাকি লাশগুলো আত্মীয়-স্বজনকে ফেরত বা সৎকারের সুযোগ না দিয়ে একত্রে পুড়িয়ে ফেলে পাহাড়ীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রীতিকে অবমাননা করে। অথচ বাঙালী আমলা-মুৎসুদ্দি-বুর্জোয়াদের সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট পত্রিকা ইনকিলাব ১৮ তারিখে লিখলো- ‘২৫ জন আহত’।  সাম্রাজ্যবাদ ও বুর্জোয়াদের পত্রিকা ইত্তেফাক একই তারিখে বলল- ‘১ জন নিহত’। ইত্তেফাক, ইনকিলাব যে উগ্র বাঙালী বড় বুর্জোয়া শাসক খুনীদের পত্রিকা, মিথ্যুকদের পত্রিকা- এটাই তার প্রমাণ।  ইতিপূর্বেও সর্বদাই এরা এভাবে গণহত্যাকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছে।

এরপর পাহাড়ী জনগণের রক্ত মাড়িয়ে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ আলোচনা
পাহাড়ী জনতার রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই আমরা শুনলাম আরেক তামাশার কথা।  খুনী সরকারের পাঠানো প্রতিনিধি দলের সাথেই ‘শান্তি বৈঠক’ করল পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিবাহিনী সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জে.এস.এস.) গণহত্যার মাত্র এক সপ্তাহ পরে। এমনকি আরেকবার ‘অস্ত্রবিরতি’ চুক্তির মেয়াদও তারা বাড়াল। কিসের অস্ত্রবিরতি ! যে দুষ্কৃতিকারীরা মাত্র সাতদিন আগে অস্ত্র দিয়ে ব্রাশ ফায়ার, বন্দুকের বাঁট-বর্শা দিয়ে কুপিয়ে পিটিয়ে হত্যা করল ত্রিশজনের অধিক পাহাড়ীদের- তাদের সাথেই ‘অস্ত্র বিরতি’।  এটা কি নানিয়ারচরের ওসি’র মতোই ভূমিকা নয়? যদি ষষ্ঠ দফায় অস্ত্র বিরতিই হয়, তবে নানিয়ারচরে আর্মীদের গণহত্যার জবাব কি দেবেন জনসংহতি সমিতি নেতৃবৃন্দ? অস্ত্রবিরতি যদি হত্যা-নির্যাতন বন্ধের জন্য হয় তবে তার প্রথম শর্ত হতে হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এই সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, প্রতিবিপ্লবী উগ্র বাঙালী পার্বত্য গণপরিষদ নামধারী খুনী বাহিনীকে চট্টগ্রাম থেকে সরানো, তাদের নিষিদ্ধ করা।  সেটা হয়নি, বরং আমরা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ নানিয়ারচর থানা শাখার “জরুরী বিবৃতি” থেকে জানতে পারছি “যে যাত্রী ছাউনি নিয়ে সেনাবাহিনী ৪০ ইবি রেজিমেন্ট এত বড় হত্যাকা- সম্পন্ন করল, এতো লোকের রক্ত ঝড়িয়ে এখনও বীরদর্পে যাত্রী ছাউনি দখল করে রেখে চেকপোষ্ট বানিয়ে রেখেছে- এটাই প্রমাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনো সেনা অপশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট”।
এ অবস্থায় কথিত অস্ত্রবিরতির কেবল একটাই উদ্দেশ্য হতে পারে তা হচ্ছে সশস্ত্র হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পাহাড়ী জনগণকে তাদের সংগ্রাম-লড়াই থেকে বিরত করা। তাই এই “শান্তি আলোচনা”- তা “সৌহার্দ্যপূর্ণ” হয়েছে বলে জে.এস.এস. নেতার সন্তুষ্টি- এ সব হচ্ছে উগ্র বাঙালী শাসকশ্রেণীর গণহত্যা-নির্যাতনের প্রতিনিয়ত শিকার পাহাড়ী জনগণের স্বার্থের বিপরীত।  এটা হচ্ছে নানিয়ারচরের বিদ্রোহী পাহাড়ী তরুণদের স্বার্থের বিরোধী।  সেটা আমরা দেখি “বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটি ও জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দ পার্বত্য এলাকায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যে কোন জনগোষ্ঠীর উসকানিমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন” (দৈনিক বাংলা ২৫-১১-’৯৩)- এই রিপোর্ট থেকে।  এখানে খুনী সরকার-সেনাবাহিনী ও পার্বত্য গণপরিষদের নরপিশাচদের কাতারেই ফেলা হয়েছে পাহাড়ী জনগণ ও তাদের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে।  আরেক দিকে বাঙালী মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর বলির পাঁঠা পুনর্বাসিত বাঙালীদের সম্পর্কেও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে।  এই বাঙালী গরিব জনগণকে শোষণ নির্যাতন, জমি থেকে উচ্ছেদ, বস্তি-পেশা থেকে উচ্ছেদ করে যে খুনী শাসক শ্রেণী পাহাড়ীদের অধিকার হরণের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঠিয়েছে সেই জনগণকেই মূল অপরাধী প্রমাণ করতে বাঙালী বা পাহাড়ী কোন বুর্জোয়াদেরই আপত্তি নেই।

পাহাড়ীদের বন্ধু কারা, পাহাড়ীদের শত্রু কারা- 
কি হবে তাদের মুক্তির পথ (?)
পার্বত্য চট্টগ্রাম গণহত্যা কেবল খালেদার বিএনপি সরকারই করেনি খুনী ফ্যাসিস্ট ‘বাঙালী সমন্বয় পরিষদ’, ‘পার্বত্য গণপরিষদ’-এ পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় আঃ লীগ নেতৃবৃন্দই নেতৃত্ব দিচ্ছে (দেখুন ‘সময়’ পত্রিকা, ৩-১২-’৯৩)।
আঃ লীগ এমনকি যেনতেন কারণেই হরতাল-ধর্মঘট ডাকে, সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে- কিন্তু নানিয়ারচর গণহত্যার জন্য তারা একটা ধর্মঘট তো দূরে থাকুক, জোরালো কোন প্রতিবাদও করেনি।  এর কারণ হচ্ছে কোনভাবেই সেনাবাহিনীকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না, কারণ তাতে ক্ষমতায় যাবার আশা তাদের বানচাল হতে পারে।
এই আঃ লীগের মৃত নেতা শেখ মুজিব উগ্র বাঙালী বুর্জোয়াদের প্রতিনিধি হিসেবে পাহাড়ী সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহকে বাঙালী হতে বলেছিল এবং ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী বাহিনীর সহযোগিতায় ’৭২/’৭৩-এ পাহাড়ীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানও শুরু করেছিল। ফ্যাসিস্ট বুর্জোয়া জিয়া সরকার আমলে পাহাড়ে চালানো হয়েছিল কুখ্যাত ‘লংগদু হত্যাকান্ড’। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের আমলে অব্যাহত গণহত্যা-নির্যাতন অন্যায়ভাবে বাঙালী পুনর্বাসনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক পাহাড়ীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। জামাতের মুখপত্র ‘সংগ্রাম’ উপ-সম্পাদকীয় লিখে প্রমাণ করতে চায় পাহাড়ীরাই পার্বত্য চট্টগ্রামে বহিরাগত; শত শত বছর আগে বাঙালীরাই নাকি সেখানে ছিল।  পাহাড়ীদের উৎখাত-নির্যাতন-শোষণ করার কতখানি ফ্যাসিবাদী যুক্তি! ফিলিস্তিনিদের আবাসভূমি দখল করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পুলিশী রাষ্ট্র ইজরাইলী ইহুদীবাদীরা যুক্তি দেয়, তারাই এখানে আদি নাগরিক, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ইহুদীরাই এখানে ছিল। বাংলাদেশী মুসলমান সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী আর ইজরাইলী ইহুদীবাদীদের ফ্যাসিবাদ, আগ্রাসন, পররাজ্য গ্রাস-এর যুক্তি এখানে সম্পূর্ণ একই।  আর এই যুক্তিই পার্বত্য চট্টগ্রামে ফেরী করছে পার্বত্য গণপরিষদ, আঃ লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি, বাঙালী সেনা আমলাসহ পুরা শাসক শ্রেণী।  এই পুরা বাঙালী বড়-বুর্জোয়া ধনী সামন্ত শ্রেণীটাই পাহাড়ীদের শত্রু, পাহাড়ী জনগণ এটা ভালভাবেই বোঝেন। একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নির্যাতিত জাতি-শ্রেণী-জনগণের সাধারণ শত্রু ভারত আছে ওঁৎ পেতে পাহাড়ীদের গ্রাস করতে।  পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, পাহাড়ী জনগণের অধিকারের অর্থ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এই শত্রুগুলোকে উৎখাত করা।  এছাড়া ‘শান্তি আলোচনা’ যারা চালায় তারা পাহাড়ীদের স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারী ব্যতীত আর কিছুই নয়।
অন্যদিকে পাহাড়ী জনগণের বন্ধু হচ্ছে সারা দুনিয়ার নির্যাতিতরা।  আজ পাহাড় থেকে যে শত্রুদের পাহাড়ী জনগণকে উৎখাত করতে হবে, সমতল ভূমি থেকে বাঙালী শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তকে তার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যও উৎখাত করতে হবে সেই একই বাঙালী বড় বুর্জোয়া-বড় আমলা-জেনারেল ও তাদের প্রভু সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদকে।
শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ’৭১-এর পর যেমন রক্ষীবাহিনী দিয়ে হাজার হাজার মুক্তিকামী সংগ্রামী-বিপ্লবীদের হত্যা করা হয়েছে, বাঙালী জনগণের মুক্তি হয়নি, তেমনি শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্ব ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্যাতিত জাতিসত্তার প্রকৃত মুক্তি অসম্ভব।  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটির সাথে শান্তি আলোচনায় বসে জনসংহতির নেতারা আজ পাহাড়ী যুবকদের ন্যায্য সংগ্রামকে ‘উসকানিমূলক কর্মকান্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে পাহাড়ীদের উপর গণহত্যাকে ন্যায্য ও পাহাড়ীদের বিদ্রোহকে অপরাধের কাতারে ফেলেছে।  সংশোধনবাদীরা আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের এই বুর্জোয়া সমাধানেরই লেজুড়বৃত্তি করছে।  ৫ দল নেতা মেনন সাহেব নির্যাতক, হত্যাকারী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী অলি আহম্মদের নেতৃত্বের সাথী হয়ে বাঙালী বুর্জোয়াদেরই উলঙ্গ লেজুড়বৃত্তি করতে গেছে নির্লজ্জভাবে।  আর সংশোধনবাদীদের অন্যতম মুখপত্র ‘সময়’ পত্রিকা প্রেসক্রিপশন করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার প্রধান সমাধান নাকি ‘সরকার ও জনসংহতি সমিতি উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।’ এরা লুটেরা ও খুনীদের সাথে আপোষ, শত্রু শ্রেণীর ‘ভাল হয়ে যাওয়া’র ভুয়া আশার পেছনে জনগণকে ছুটাতে চায়।  পার্বত্য চট্টগ্রামের কথিত রাজনৈতিক সমাধান বলতে এরা এটাই বোঝায়।
কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমাধান একমাত্র বাঙালী সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, পুনর্বাসিত বাঙালীদের পাহাড় থেকে ফেরত আনা, বাঙালী বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উৎখাত এবং পাহাড়ীদের পরিপূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার। আর সেটার পথ আর কেউ বাতলাতে পারে না- একমাত্র মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের বিপ্লবী আদর্শ ছাড়া।

সূত্রঃ পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জাতিসত্ত্বার সংগ্রাম সম্পর্কে নিবন্ধ সংকলন, আন্দোলন প্রকাশনা