পাহাড়ী জনগণ তাক করা বন্দুকের নলের মুখেই রয়ে গেছেন

Tribel-Women-Pic3

পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত শান্তি আলোচনা
পাহাড়ী জনগণ তাক করা বন্দুকের নলের মুখেই রয়ে গেছেন

(ফেব্রুয়ারি/’৯৩)

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ী জনগণ বিশ বছর যাবত রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনীর বুটের তলায় রয়েছেন।  পাহাড়ী জনগণের খাওয়া-পরা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন-যাপনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সামরিক কর্মকর্তাদের অনুমতিপত্র ছাড়া চলে না।  হাট-বাজার, কৃষি কাজের জন্য লাঙ্গল নিয়ে মঠে যাওয়া, স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার জন্য ভর্তি হতে যাওয়া, আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া- যে কোন ক্ষেত্রেই এই অনুমতি অবশ্য অবশ্যই লাগবে।  নচেৎ জেল বা মারপিট খেয়ে ‘দুষ্কৃতকারী’ হতে হয়।  এই হচ্ছে গত বিশ বছর যাবৎ পাহাড়ী জনগণের জীবন ব্যবস্থা। সেখানে এই জনগণ প্রতি পদে পদে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের সন্ত্রাসী শাসনে পদদলিত।  এই রাষ্ট্রীয় সামরিক সন্ত্রাসী শাসনের আওতায়ই খালেদার সরকার এখন নতুন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলছে।  এই জন্য সংসদীয় কমিটি গঠন করে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘শান্তিবাহিনী’র সাথে।  দু’দফা আলোচনা ইতিমধ্যে হয়েছেও। এই আলোচনা নাকি ওখানকার জনগণের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।  এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ থেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রচার চালানোও হচ্ছে।  কথিত এই ‘শান্তি’ আলোচনা পাহাড়ী জনগণের জীবনে কেমন ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করবে তা সহজেই বলে দেওয়া যায়, শুধুমাত্র একটি বাস্তবতাকেই বিচার করে। আলোচনায় দুই পক্ষই পাহাড়ী জনগণের জীবনকে সামরিক শাসকের অনুমোদনপত্রের শৃঙ্খলে রেখেই আলোচনা চালাচ্ছে।  এটা হচ্ছে পাহাড়ী জাতি ও জনগণকে বন্দুকের নলের মুখে রেখে আলোচনা চালানো।  কীভাবে এই আলোচনা সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হতে পারে?
পাহাড়ী জনগণের বুকে বন্দুকের নল তাক করে রেখে সরকারী পক্ষের এই আলোচনা তার বর্বর ফ্যাসিস্ট নিপীড়ক চরিত্রই পুনরায় প্রমাণ করছে।  অন্যদিকে শান্তিবাহিনীর নেতারা নির্লজ্জ আপোস ও জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার পথই অনুসরণ করছে।  এ আলোচনা যখন থেকে শুরু হয়েছে তারপর কয়েক মাস অতিবাহিত হয়েছে।  উভয় পক্ষের কিছু কিছু কূটনৈতিক কথাবার্তা ও ফাঁকা ‘আশাবাদ’ ছাড়া জনগণ কিছুই পায়নি।  অথচ এ ক’মাসেই আলোচনা চলাকালীনও এই জাতীয় নিপীড়ক সরকার রাডার, জুম্মকণ্ঠ ও স্যাটেলাইট নামে তিনটি পত্রিকা পরপর নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ পত্রিকাগুলো পাহাড়ী জনগণের উপর সেনাবাহিনী ও বাঙালী অত্যাচারীদের বর্বর নির্যাতনের অল্প কিছু সত্য চিত্র তুলে ধরেছিল মাত্র। এ সময়ই লোগাং গণহত্যার তথাকথিত তদন্ত রিপোর্ট এই ফ্যাসিস্ট সরকার প্রকাশ করে।  এতেও নিপীড়নকে আড়াল করা হয়েছে।  সুতরাং পাহাড়ী জনগণ কীভাবে এই সরকার ও শাসক শ্রেণীর সাথে এমন একটি আলোচনায় নিজেদের অধিকার পাবে আশা করতে পারেন?
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধানের যে কোন উদ্যোগের প্রাথমিক পূর্বশর্ত হতে পারে পাহাড় থেকে ফ্যাসিস্ট বাঙালী সেনাবাহিনীর অপসারণ এবং পাহাড়ে বাঙালী পুনর্বাসন বন্ধ।  এছাড়া সমস্ত আলোচনা ব্যর্থ হতে বাধ্য। পাহাড়ী জনগণের স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কিছু বেঈমান নিজেদের ভাগ্য হয়তো গড়তে পারবে, কিন্তু পাহাড়ী জনগণের জীবনে এক বিন্দু শান্তি বর্ষিত হবে না।  

সূত্রঃ পাহাড় ও সমতলে আদিবাসী জাতিসত্ত্বার সংগ্রাম সম্পর্কে নিবন্ধ সংকলন, আন্দোলন প্রকাশনা

 

Advertisements

নেপালের বিপ্লবী নারী: গোরখা জেল-পলাতক বাহিনী-প্রধান ‘ভূজেল (শীলু)’

নেপালের মাওবাদী নারী যোদ্ধা

নেপালের মাওবাদী নারী যোদ্ধা

নেপালের বিপ্লবী নারী

গোরখা জেল-পলাতক বাহিনী-প্রধান
উমা ভূজেল (শীলু)

নোট: উমা ভুজেল নেপাল গণযুদ্ধের এক বীর নারী। তিনি বিপ্লবী বাহিনীর একজন গেরিলা ছিলেন।  ’৯৯ সালে তিনি গ্রেফতার হন ও জেলে বন্দী ছিলেন।  কিন্তু আরো কিছু সহবন্দীসহ তিনি এক অসম সাহসী জেল-পালানো অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং পুনরায় বিপ্লবী বাহিনীতে যোগ দেন।  এই সাক্ষাতকারটি অনুবাদ করা হয়েছে ‘দিশাবোধ’ নামক একটি মাসিক পত্রিকা থেকে।  পত্রিকাটি নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডু থেকে প্রকাশিত হয়। এখানে যেসব তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে তা নেপালি ক্যালেন্ডারের।  অনুবাদের সময় নেপালি ও ইংরেজি ক্যালেন্ডার একত্রে পাওয়া যায়নি।  এ কারণে কাছাকাছি ইংরেজি তারিখ অনুমান করা হয়েছে।  যা ব্রাকেটে দেয়া আছে।

[প্রখ্যাত উমা ভূজেল ওরফে শিলু হলেন গোরখা জেলভাঙ্গা পলাতক দলের প্রধান।  ছয়জন নারী বিপ্লবীর জেল-পালানোর সাথে সাথেই উমা ভূজেলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।  তারা গোরখা জেল থেকে এক সুড়ঙ্গপথ খনন করে পালান এবং পার্টির লোকদের সাথে যোগাযোগ করেন। বিপ্লবীদলের সদস্য হিসেবে উমার নাম পূর্ব থেকেই সুপরিচিত।  তাছাড়া তিনি ছিলেন প্লাটুন কমান্ডার কমরেড ভীমসেন পোখরেলের স্ত্রী।  কমরেড ভীমসেন সিপিএন (মাওবাদী)-র পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড সুরেশ ওয়াগালের সাথে শহীদ হন।  তাদের মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যেই তেইশ বছর বয়স্কা উমা গ্রেফতার হন। ]

১নং প্রশ্ন: কখন ও কোথায় আপনি গ্রেফতার হলেন?
উত্তর: ১০ কার্তিক (২৫ অক্টোবর, ১৯৯৯) আরুঘাটে পুলিশ আমাকে আটক করে। সে সময় গোরখা জেলার টেন্ড্রাঙ্ক অঞ্চলের এক কৃষক বাড়িতে অবস্থান করছিলাম।
২৫ অক্টোবর আমাকে আম্বুখারানীতে এনে ২৫ জানুয়ারি, ২০০০ অবধি একাকী নির্জন অবস্থায় রাখা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ সালে আমাকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার মিথ্যে অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়।

২নং প্রশ্ন: জেল পালানোর ধারণা কখন থেকে আপনার মধ্যে কাজ করে?
উত্তরঃ গ্রেফতার হওয়ার মুহূর্ত থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমি একটা উপযোগী সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু পাইনি।  ১ মার্চ, ২০০০, সহযোদ্ধা কমরেড কমলা নাহাকারমিকেও জেলে আনা হয়।  আমরা (উভয়ে) একত্রে জেল-পালানোর সংকল্প করি।  কিন্তু সহায়ক ব্যক্তি-শক্তির অভাবে তা সম্ভব হয়নি। সমা, মীনা, রীতা এসে আমাদের সাথে একত্রিত হওয়ায় আমাদের প্রত্যেকের বুদ্ধি সমন্বিত হয়ে কিছু কৌশল নির্ধারিত হয়।  ওদের সকলকে ধন্যবাদ।
একটি সুড়ঙ্গ খনন করে তিন মাসের মধ্যে জেল-পালানোর একটি পরিকল্পনা করি।

৩নং প্রশ্নঃ তিন মাসের এ পরিকল্পনাটি কেমন ছিল?
উত্তরঃ খননের কাজ আরম্ভ করার পূর্বে যথাসাধ্য আলাপ-আলোচনার দ্বারা আমরা কিছু কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সিদ্ধান্তগুলো ছিল- সুড়ঙ্গ খনন আরম্ভ করার সময় নির্ধারণ, পরিকল্পিত কাজটিকে কয়েক অংশে ভাগ করা, আদর্শগত মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতি, শত্রুদের ব্যবহার করে তাদের কাজ-কর্মের মধ্যে জড়িয়ে পড়া ইত্যাদি ইত্যাদি।  এ সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা তিন মাস পরে পালানোর পরিকল্পনা করি।  ২৬ ডিসেম্বর থেকে সুড়ঙ্গ খনন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই; উপলক্ষ ছিল কমরেড মাওয়ের মৃত্যুবার্ষিকী।  আর তখনই পরিকল্পনা করি, গণযুদ্ধ-সূচনার বার্ষিকী উদযাপনকালে জেল থেকে পালাবো।  তেমনি মানসিক শক্তি ও উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি ও প্রস্তুতির জন্য বিশ্বের ও নেপালের কিছু সাহসিক ও গভীর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ওপর পড়াশুনা ও আলোচনা করি।  শারীরিক প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত কঠোর শরীরচর্চা করি।  খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হই।  শত্রুদের কাজে লাগানোর জন্য তাদের সাথে নমনীয় ও খাতির জমানোর কৌশল অবলম্বন করি- তাদের সন্দেহমুক্ত ও অনুগত করার জন্য পার্টির রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করি।

৪নং প্রশ্নঃ জেল পালানোর বিষয়ে বাহির থেকে পার্টির কোন অনুপ্রেরণা ছিল কি?
উত্তরঃ মোটেই না; এ উদ্দীপনা ও পরিকল্পনা একান্তই আমাদের।

৫নং প্রশ্নঃ সুড়ঙ্গ খনন করে পালানোর মত জটিল কাজের প্রারম্ভে কি আপনার মৃত্যুর ভয় হয়নি?
উত্তরঃ মৃত্যুভয় পরিহার করেই আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আমরা বাঁচি কিংবা মরি, আমরা মনে করি- এটা হবে একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। বিফল হব, সে ভয়ে কিছু না করে কিছু করতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া কি ভাল না?

৬নং প্রশ্নঃ পরিকল্পনা গ্রহণকালে কি সফলতার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন?
উত্তরঃ সম্পূর্ণ সফল হবো- এ বিবেচনায়ই আমরা পরিকল্পনা করি। আমরা সকলে মিলে রাজি হই যে, যদি আমরা ব্যর্থ হই এবং ঘটনাক্রমে আমাদের মরতেও হয় তবুও শত্রুর কাছে মাথা নত করে মরবো না; নির্ভীক মৃত্যুই আমাদের জন্য সুখের মৃত্যু, এবং তা হবে গৌরবের।

৭নং প্রশ্নঃ খনন-কাজ কি করে, কিভাবে আরম্ভ হয়?
উত্তরঃ সীমানা দেয়ালের কাছাকাছি, জেলখানার খোলা মাঠে মাও-এর মৃত্যু-দিবস পালন করে বিকেল সাড়ে তিনটায় সুড়ঙ্গ খননের কাজ আরম্ভ করি।

৮নং প্রশ্নঃ কাজের দায়িত্ব কিভাবে ভাগ করা হয়?
উত্তরঃ কাজের দায়িত্ব ভাগ ছিল- সুড়ঙ্গ খনন, পাথর ও মাটি সরানো, প্রহরী সংরক্ষণ (প্রবেশ-দ্বারে), অন্যান্য কয়েদী ও নিরাপত্তা প্রহরীদের কাজে লাগানো, বাহিরের অবস্থা বিষয়ে সতর্ক নজর দেয়া, এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা।

৯নং প্রশ্নঃ সুড়ঙ্গ খননকালে যে-সব সমস্যা দেখা দেয় সে-সব সমস্যার সমাধান কিভাবে করা হয়?
উত্তরঃ দেড়ফুট লম্বা লোহার দন্ড দিয়ে প্রায় অধিকাংশ সুড়ঙ্গ খননের কাজ চলে।  আশপাশ পরিষ্কার করতে গিয়ে রডটা পাওয়া যায়।  তিন তিনটি সিমেন্টের দেয়াল ভাঙ্গতে অনেক সময় লেগে যায়।  এ ছাড়াও বহু সমস্যা দেখা দেয়।  বেশ কয়েকবার জেলের নিরাপত্তা প্রহরীরা সুড়ঙ্গের খুব কাছাকাছি চলে আসে।  তাদের মনোযোগ পরিবর্তনের জন্য আমরা নানা কৌশলের আশ্রয় নিই।  সুড়ঙ্গের কাজ এগিয়ে গেলে আমরা কাঠ ও মাটি দিয়ে তা ঢেকে দিই এবং তার ওপর কিছু শাক-সবজি, ফল, ফুলের গাছ লাগাই।  তারপর, আরও নিরাপত্তার জন্য, তার ওপর একটা ক্যারমবোর্ড স্থাপন করি। সুড়ঙ্গ খননের প্রথম থেকেই আমরা প্রতিদিন সমস্যার সম্মুখীন হই, কিন্তু আমরা ধৈর্যচ্যুত হইনি।  শান্ত স্বাভাবিক থেকে সকলে মিলে সমস্যার সমাধান করি।  পুলিশদের সাথে ভাই-বন্ধুর মতো ব্যবহার করি।  পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসে।  খননের কাজ একমাস অগ্রসর না হতেই জেল প্রশাসন একটি টয়লেট নির্মাণ শুরু করে যা আমাদের ফাল্গুন মাস নাগাদ পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করে।

১০নং প্রশ্নঃ জেল পালানো দিনকার ঘটনাবলীর বিষয়ে কি কিছু বিষদ বিবরণ দেবেন?
উত্তরঃ সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ হলে আমরা ২০০১ সালের মার্চ মাসের ৩০ তাং রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে জেল-পালানোর সিদ্ধান্ত নিই।  সেদিন সন্ধ্যার দিকে খুব চড়া আওয়াজে টিভি চালাই এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানালার একটি রড কাটতে আরম্ভ করি।  একমাত্র একটি রড কাটতেই ৯টা বেজে গেল। পৌনে একটার দিকে সেই জানালার ফাঁকে মাথা গলিয়ে আমি বাইরে চলে আসি।  তারপর একে একে অন্যান্য কমরেডগণ বেরিয়ে আসেন। এ সফলতার জন্য আমরা পরস্পর করমর্দন করি এবং দু’দলে বিভক্ত হয়ে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করি।  সুড়ঙ্গের বাইরে এসে আবার সাফল্যের জন্য করমর্দন করি।  সুড়ঙ্গপথে হামাগুড়ি দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ দু’বার আমাদের দিকে গুলি ছোড়ে, আর দু’বার গুলি ছোঁড়ে উন্মুক্ত আকাশের দিকে।  আমি সকলকে সতর্ক করে দিলাম, “তোমরা ঘেরাও হয়ে পড়েছো, আশা ত্যাগ কর”! ওরা ইতস্তত করছিল, ঠিক সে মুহূর্তেই আমরা সফলভাবে পালিয়ে আসি।  সেদিন এক কৃষকের বাড়িতে আশ্রয় নিই।  দু’দিন পর পার্টির সংস্পর্শে চলে যাই।  

সূত্রঃ নারী মুক্তি/২নং সংখ্যায় প্রকাশিত ॥ ফেব্রুয়ারি, ’০৪


কল্পনা চাকমা অপহরণের বিশ বছরঃ ‘CHT Writers & Activist Forum’ এর প্রতিবাদ সমাবেশ

13441602_10209686776070609_2113410291_o

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

।।  কল্পনা চাকমা ও বিচারহীন রাষ্ট্র

কল্পনা চাকমা অপহরণের বিশ বছর পদাপর্ণে এবং এমেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের ফটো একশন কার্যক্রমের সমর্থনে গতকাল ১০ই জুন বিকেল ৪টায় শাহাবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের প্রাঙ্গনে “সিএইচটি রাইটারস এন্ড এক্টিভিষ্ট ফোরাম” এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।  সমাবেশে বিশ (২০) বছর আগে অপহরণ হওয়া কল্পনা চাকমার খোঁজ চেয়ে বক্তারা তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন।  বক্তাগণ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর কার্যকলাপের বিচারহীনতার দায়, অতীত এবং বর্তমানে বিরামহীন অরাজকতার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেন।  সমাবেশটি শুরু হয় আহ্বায়ক বুক্কু চাকমা ও সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকা জয় মারমার নেতৃত্বে।  সমাবেশে তরুণ ছাত্রনেতা ইকুবাবু চাকমা কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন- ১৯৯৬ সালে বাগাইছড়ির নাইল্যাগোনা গ্রাম থেকে আনুমানিক রাত তিনটার (৩টার) সময় সেনাবাহিনী কতৃক অপহৃত হওয়া কল্পনা চাকমা ছিলেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।  তাঁর মতন লড়াকু সৈনিককে সে সময় স্তব্ধ করার জন্য সেনাবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট কতৃক তিনি অপহৃত হন এবং এরপরে তাঁর কোনপ্রকার খোঁজ পাওয়া যায়নি।  উক্ত সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি .তাঁর বক্তব্য তিনি বলেন- আজ যে বিচারহীনতা সারাদেশজুড়ে শুরু হয়েছে এটি শুরু হয়েছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে, কল্পনা চাকমার মত এক সংগ্রামী নেত্রীর জীবনে কি ঘটেছিলো তা আজো আমরা জানি না অথচ প্রধানমন্ত্রী বলছেন তিনি নাকি চিফ অফ গর্ভমেন্ট, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, এই কল্পনা চাকমার বিচার আমরা কবে পাবো।  সেই সময়ের সহযোদ্ধা ইলিরা দেওয়ান বলেন-পুলিশের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে খুন হওয়া ইয়াসমিনের বিচার রাষ্ট্র তিনবছরের মাথায় করতে পারলেও কল্পনা চাকমা অপহরনের বিচার আজ বিশ বছরেও করা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র উগ্র জাতিগত আগ্রাসনের মনোভাবের কারনে। কয়েকদিন আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন, ওনার কাছে হত্যাকান্ডের যাবতীয় ঘটনার তথ্য আছে, তাহলে তনুর ধর্ষন ও হত্যার তথ্যও নিশ্চয় উনার কাছে আছে।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাহলে সেটা প্রকাশ করে ন্যায় বিচার করুন! বিশ বছর আগে অপহৃত হওয়া কল্পনা চাকমা হতে শুরু করে আজ ধর্ষিত হয়ে খুন হওয়া হতভাগী তনু, সেই একই রাষ্ট্রীয় দৈত্য আজ পাহাড় কিংবা সমতল সবাখানে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।

উক্ত সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন আনিস রায়হান, সমগীত সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের রেবেকা নীলা, হানা শামস আহমেদ, অজল দেওয়ান, আলোড়ন খীসা, ডিসেন্সি চাকমা, নিউটন চাকমাসহ আরো বিভিন্ন সংগঠনের বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।  শেষে “সিএইচটি রাইটার্স এন্ড এক্টিভিষ্ট ফোরাম”র মুখপাত্র ও সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকা জয় মারমা ভবিষ্যতে রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উক্ত সমাবেশের ইতি টানেন।


সাতক্ষীরায় আবারো কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’র সদস্য গুলিবিদ্ধ